• বুলবুলভাজা  অন্যান্য  পুজো স্পেশাল ২০১০

  • পেশাগত কারণে যাযাবর যারা

    মুর্তাদা বুলবুল
    অন্যান্য | | ১০২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার

  • ১। শুয়োর চরাচ্ছেন রাখাল নির্মল চন্দ্র দাস। সেই ১৯৭২ সাল থেকে এই কাজে। তাঁর বাবার নিজের শুয়োরের পাল ছিলো, কিন্তু নির্মল এখন অন্যের রাখালি করে মাসে হাজার দুয়েক টাকা পান। জানুয়ারী ২১, ২০০৯।



    ২। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম। একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছেন রাখাল ভুবন চন্দ্র দাস। জুন ২৫, ২০০৯।


    ভারতীয় জাতি-ব্যবস্থায় শুদ্রের (দলিত) স্থান সবচেয়ে নিচে ও এঁরা সব থেকে কম সামাজিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বহু প্রাচীন এই সমস্যা। উচ্চবর্ণের মানুষের কাছে অশুচী এই মানুষরা ব্রাত্য ছিলেন বাড়ি বা মন্দির থেকে শুরু করে যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে। তার ওপর ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণ। ফলে সমাজের সবথেকে "ছোট' কাজগুলির দিকে ঠেলে দেওয়া হয় তাঁদের। আর সেই প্রথার ফলে আজও অনেক নিম্ন বর্ণের মানুষ যুক্ত আছেন শুয়োর চরানোর মত পেশায়। মুসলিম দলিতদের হিসেবে রাখলে বাংলাদেশে এই নিম্নবর্ণের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৫ লক্ষ। তবে সংখ্যালঘু বলে হিন্দু নিম্নবর্ণের মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয়। গাজীপুর ২৪, ২০০৯।



    ৩। বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় রাখাল সজল চন্দ্র দাস। এক ঘন্টা বৃষ্টি হলেই মাঠে জল জমে আর সজলের তাঁবু ভেসে যায়। এ পেশায় ঘর জোটে না, শুতে হয় মাঠে-ঘাটেই - আজকে শোবেন কোথায় সজল?



    ৪। "বাঁশের ছাউনি, কাদামাটিজল/ কাদামাটি মাখা মানুষের দল/ গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে' - ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, জুলাই ০৩, ২০০৯


    সেসময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার ও স্থানীয় জমিদারেরা এঁদের পূর্বপুরুষদের বিহার, কানপুর, হাসিরবাগ, জবালপুর ইত্যাদি নানা জায়গা থেকে নিয়ে আসে সস্তা মজুর হিসেবে। অছ্যুত বলে কাজ পেলেও গ্রামে জায়গা হয় না এঁদের। গ্রামের বেশ কিছুটা বাইরে তৈরী হতে থাকে মেথরপট্টি, হরিজনপাড়া, ডোমপাড়া ও এই ধরনের বিভিন্ন পেশার মানুষের বসতি। এইসব পাড়া এখনও রয়েছে, ব্যাপক নিরক্ষরতা ও অসম্ভব দারিদ্র ও আরও অনেক অভাব নিয়ে। আমাদের আধুনিক জীবনে নানা পরিবর্তন এলেও, পারিবারিক পেশায় পুরুষানুক্রমে থাকতে বাধ্য হওয়া এই মানুষগুলির জীবনে পরিবর্তন কবে আসবে?



    ৫। অবাধ্য পশুগুলোকে বশে রাখার চেষ্টা সজল চন্দ্র দাসের। নরসিংডি, বাংলাদেশ, মার্চ ২৮, ২০০৯।



    ৬। বিল পেরোচ্ছে শুয়োরের দল। গাজীপুর, বাংলাদেশ, জুন ২৫, ২০০৯।


    এ পেশা বাংলাদেশে বহু পুরনো। পরিবার পড়ে থাকে গাঁয়ে, আর পুরুষেরা শুয়োরের পাল নিয়ে ঘাসের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাযাবরের মত ঘুরে বেড়ায়। ভ্রাম্যমান জীবনে আস্তানা বলতে বাঁশ আর প্লাসটিক দিয়ে তৈরী অস্থায়ী তাঁবু। প্রতি জায়গায় গড়ে তিন কি চার রাত্রিবাস - তবে তা পশুদের খাবার কতটা পাওয়া যাচ্ছে তার ওপর। ভালো পাওয়া গেলে হয়তো বা এক সপ্তাহও কেটে যায় কোনও জায়গায়, আর কপাল খারাপ হলে এক দিনের বেশী নয়।



    ৭। কাকডাকা ভোরে উঠে পড়ে পশুদের দেখভালে ব্যস্ত হয়ে পড়েন লক্ষ্মন চন্দ্র দাস। লম্বা শীতের রাতের আশ্রয় বলতে এই তাঁবু। ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, জানুয়ারী ২১, ২০০৯।



    ৮। পশুদের মাঝে বসেই সকালের জলখাবার। এক সময় এটাই অভ্যেস হয়ে যায়। ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, জানুয়ারী ২০, ২০০৯।



    ৯। গুরু দয়াল দাস বাচ্চাদের আলাদা করছেন। মাঠে চরাতে নিয়ে যাওয়ার আগে বাচ্চাদের আলাদা করে দিতে হয়, নয়তো বাচ্চারা পরিনত পশুদের সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে পারে না। ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, জানুয়ারী ১৯, ২০০৯।



    ১০। চারিদিকে বর্ষার জলের মধ্যে ক'দিনের জন্য একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের খোঁজ। পশুর পাল সহ সঞ্জীব চন্দ্র দাস। গাজীপুর, বাংলাদেশ, জুন ২৫, ২০০৯।


    অনুবাদ- অনির্বাণ বসু
  • বিভাগ : অন্যান্য | | ১০২ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন