• টইপত্তর  বাকিসব  মোচ্ছব

  • একটি রিকশা ও ল্যাটামাছের পুর

    রঞ্জন
    বাকিসব | মোচ্ছব | ১১ আগস্ট ২০২০ | ৬৭৫ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন

  • আজ বুধবার। আমার ব্যাংকে ক্লায়েন্টের ভীড় কমেছে। সোম-মঙ্গল আর শুক্র-শনি –মানে সপ্তাহের মুড়ো আর ল্যাজা—গ্রাহকের ভীড় উপচে পড়ে। বেলা সাড়ে তিনটে, ক্যাশিয়ার মেয়েটি ইশারায় জানায় আর স্টেট ব্যাংক থেকে ক্যাশ আনার দরকার নেই, যা আছে তা কালকের জন্যেও যথেষ্ট। তাহলে আর একবার চা হয়ে যাক। নিবেদিতা ঝা ক্যাশ গুণে সবরকম নোট মিলিয়ে আলাদা আলাদা করে রাখা শুরু করে। বাইরে গিয়ে একটা সিগ্রেট খেয়ে আসি? বসে বসে কোমর ধরে গেছে।
    উঠে আড়মোড়া ভেঙে হলঘর পেরিয়ে গেটের কাছে আসতেই যাত্রাভঙ্গ। হাসিমুখে একজন বিশিষ্ট গ্রাহক ঢুকছেন। হাতে একটা ঝোলা, চেহারায় একটা কিন্তু কিন্তু ভাব।
    --ক্যা ম্যায় অন্দর আ সকতা হুঁ? ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ হয়নি তো?
    খোনা খোনা গলার স্বর, চমকে উঠলাম। তাকিয়ে দেখি এই বিশিষ্ট গ্রাহকের নাক নেই বললেই চলে, সেখানে শুধু দুটো ফুটো। চোখের পাতা নেই।
    --আইয়ে।
    কাঁচের ঘেরা থেকে নিবেদিতা একটু রুক্ষ সুরে জানায়—আজকের মত লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে।
    গ্রাহকের হাসি একটু চওড়া হল।
    --আমি টাকা তুলতে আসিনি, জমা করব।
    নিবেদিতা কাউন্টারে ‘ক্লোজড’ লেখা প্লাইয়ের টুকরো লাগিয়ে দিয়েছে ।
    আমি একটু অবাক। ঘড়িতে এখনও চারটে বাজেনি। ও অমন করছে কেন ?
    খোনা স্বরে শোনা যায়—ম্যাডাম, আমি লোন একাউন্ট বন্ধ করতে এসেছি।
    নিবেদিতা আমার দিকে তাকায়।
    --বসুন। পাসবুক দিন । আমি দেখছি।
    আমি পাসবুক খুলে লোন একাউন্ট নম্বরে চোখ বোলাই। লেজার আমার টেবিলে এলে একাউন্ট খুলে দেখি—নাম মোহনদাস,ঠিকানা গান্ধী কুষ্ঠ আশ্রম, গোপালনগর। ব্যবসা—কিরানা স্টোর্স, মানে মুদি দোকান। চারবছর আগে লোন দেওয়া হয়েছিল দশ হাজার টাকা। কয়েক মাস আগে কিছু কিস্তি বকেয়া ছিল। সে এমন কিছু না।
    নিবেদিতার সমস্যাটা ঠিকই বুঝেছি। তাই আমি লোন ইন্টারেস্ট হিসেব করে মোহনদাসকে বলি—১৩১৭ টাকা।
    লোকটি ঝোলা খুলে আরেকটি থলি বার করে বের করে নতুন পুরনো আধময়লা কিছু নোট। গুণে ১৪০০ টাকা দেয় । আমি কোন কথা না বলে ভাউচার ফিল আপ করে ওকে পেনটা এগিয়ে দিই, ও হাসিমুখে তিন আঙুলে কলম ধরে সাইন করে। খেয়াল হয়, ওর বাকি দুটো আঙুল নেই।
    আমি একাউন্ট ক্লোজ করে বাকি টাকা এবং পাসবুক ফেরত দিলে ও নমস্কার করে উঠে দাঁড়ায়। দরজার দিকে এগোতে থাকে।
    --একমিনিট রুকিয়ে।
    ও থমকে দাঁড়ায়, পেছন ফেরে, তারপর আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়।আমি পালটা প্রশ্ন করি। ---
    --আপনার দোকানের স্টক কত , মানে মালপত্র যা আছে তার ভ্যালু বা কীমত কত হবে? চলতি বাজার দরে?
    --পনের হাজার হবে।
    --দৈনিক বিক্রিবাটা? গড়পড়তা?
    --এই সাত -আটশো মত, কোন দিন হাজার। আমাদের কুষ্ঠকলোনীতে একটাই দোকান। কেন জানতে চান?
    --ভাবছি আপনার লোন লিমিট বাড়িয়ে দেব। দশ ছিল , এবার পনের, কি রাজি তো? তাহলে আগামী সপ্তাহে আসুন, এই তিনটে নাগাদ। দুটো নতুন পাসপোর্ট সাইজ ফটো নিয়ে আসুন। আর হ্যাঁ, স্টক স্টেটমেন্ট, টাইপ করাতে হবে না । হাতে লিখে আনবেন।
    ওর মুখের শুকনো চামড়ায় সকাল আটটার ঝলমলে রোদ্দূর। পুরু ঠোঁট ফাঁক হয়ে দাঁতের পাটি দেখা যায়। আমাদের সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। তারপর ফের মেঘ ঘনায়। ও দুদিকে মাথা নাড়ে।
    আমি অবাক হই। মনে মনে চাইছিলাম ও খুশি হোক, আমাকে ধন্যবাদ দিক। ‘আপনার মত মানুষ আর দুটি দেখিনি’—এইসব বলুক। কিন্তু ওর হল কী? ওর ঠোঁট নড়ে।
    পলকহীন মঙ্গোল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে—না , এভাবে নেব না।আগে আপনি ইন্সপেকশন করতে আমার দোকানে আসবেন, স্টক চেক করবেন, আমার দোকানে বসে আমার সঙ্গে চা খাবেন, তারপর। নইলে এই শেষ , আপনার ব্যাংকে আর আসব না।
    সন্নাটা! সন্নাটা!
    সবাই আমাদের দুজনকে দেখছে। ক্যাশিয়ার নিবেদিতা ঝা, ফিল্ড অফিসার সোমশেখর রাও, চাপরাশি উম্মেদরাম।
    আমি চোখ নামাই না। বলি—ঠিক আছে, আপনাকে আসতে হবে না। আমিই যাব আপনার দোকান দেখতে, আগামী সপ্তাহে।
    ও চলে যাওয়া মাত্র নিবেদিতা ঝাঁঝিয়ে ওঠে—দেখলেন, কোঢ়হী কমিনে কী নৌটংকী? আপ কিঁউ জায়েঙ্গে উসকে দুকান তক? কর্জা চাহিয়ে তো খুদ আয়ে ।
    কুঠে বদমাসটার নাটক দেখলেন? আপনাকে ওর দোকানে যেতে হবে? আস্পদ্দা দেখুন। তোর লোন চাই তো তুই আয় ।
    --কিন্তু নিয়ম তো তাই বলে। লোন দেবার আগে প্রি-স্যাংশন সার্ভে, স্পট ভেরিফিকেশন এসব তো করাই উচিত। আগামী গুরুবার আমি আর সোমশেখর গিয়ে ওর দোকান দেখে আসব, স্টক চেক করাও হবে।
    কিন্তু আমাকে অবাক করে ফিল্ড অফিসার বলে ওঠে—আমি যাব না স্যার।
    --মানে? যেতে বলছি তো ‘যাব না?’ আরে আমিও তো সঙ্গে যাব। এত ভয় কিসের? প্রথম লোনটা দেবার সময় যাওনি? ঘরবাড়ি দোকান—এসব না দেখেই লোন দিয়েছ?
    -- তখন কি হয়েছিল আমি জানিনা; আমি এখানে ছিলাম না।
    --ঠিক আছে; কাউকে যেতে হবে না। আমি একাই যাব।
    -- যেতে পারেন। বঙ্গালী লোগোঁকো থোড়া হিরো অউর মহান বননে কা শৌক হ্যায়। কিন্তু ঐ কুষ্ঠরোগীর ছোঁয়া লাগা ভাউচার বা টাকা পয়সা আমরা কেউ ছোঁব না ।
    রাগে আমার গলায় কথা আটকে যায় ।
    এসব কি বলছে নিবেদিতা? একটা অসুস্থ মানুষের সঙ্গে এই ব্যবহার?
    --ছোড়িয়ে না স্যার। এসব হল পূর্বজন্মের পাপের ফল।
    মৎ যাইয়ে অগলা হফতা। ভুল যাইয়ে উস কোঢ়হী কয়ে বাত। উয়ো ভী ভুল জায়েগা।


    যাব যাব করে দুটো সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। গোপালনগরের গান্ধী কুষ্ঠ আশ্রমে আমার যাওয়া হয়নি। কিন্তু নিবেদিতার সঙ্গে আমার প্রায় দু’সপ্তাহ কথা বন্ধ হয়ে গেছল। গ্রামীণ ব্যাংক, বেশ ছোট ব্যাংক। কুল্লে চার-পাঁচজন স্টাফ। ফলে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই ইনফর্ম্যাল। লাঞ্চে সবাই ঘর থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসে। সোমশেখর রাও সেদিন সাম্ভার ও উত্তপম নিয়ে এসেছিল। মৈথিল মেয়ে নিবেদিতা একদিন আমাদের বিহারী খাবার লিট্টি-চোখা খাইয়ে ছিল। আমি আমার বাবার মত । বৌ-বাচ্চাকে রেখেছি রাজধানী রায়পুরে, ভালো স্কুলে পড়াতে হবে যে ! দু’সপ্তাহে একবার বাড়ি যাই। যেদিন ফিরি তখন টিফিন ক্যারিয়ারে থাকে কোন বাঙালী ডিশ। নিবেদিতার জন্যে মাছের কোন পদ, বিদ্যাপতির দেশের মেয়ে, মাছ খেতে ভালবাসে।
    কিন্তু গতকাল একটা ঘটনা ঘটেছে। বিকেলের ডাকে আমার ট্রান্সফার অর্ডার এসে পৌঁছেচে—হেড অফিসে অডিট সেকশনে পোস্টিং। আমার রিলিভার আসবে আগামী সপ্তাহে, তাকে চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে সাতদিনের মধ্যে হেড অফিস রায়পুরে রিপোর্ট করতে হবে। রাত্তিরে বাড়িতে ফোন করলাম। আমি খুশি, বৌ এবং ছেলেমেয়ে খুশি। কয়েকবছর পরে আমরা একসাথে থাকব, রোজ সকালে গিন্নির সঙ্গে চা খেতে খেতে গল্প করব, ইংরেজি খবরের কাগজ পড়ব। কোনদিন সন্ধ্যেয় একসঙ্গে সিনেমায় যাব; অউর ক্যা চাহিয়ে!
    আজ সমস্ত স্টাফ আমার সঙ্গে হাসিমুখে গল্প করছে, আমার ফেয়ারওয়েল পার্টি কবে হবে তার প্ল্যান করছে। নিবেদিতা হাসিমুখে বলে- স্যার, আজ আপনার জন্যে একটা সারপ্রাইজ আছে ,এখন না, লাঞ্চের সময় দেখবেন।
    চিমটি কাটতে ছাড়ি না। সারপ্রাইজ আমিও দিচ্ছি। ওই কুষ্ঠাশ্রমে ইন্সপেকশনে যাওয়াটা পেন্ডিং আছে। আজ বিকেলে সেরে নেব।
    সোমশেখর ঢোঁক গেলে।
    স্যার, ওটা ঠিক হবে না। ট্রান্সফার অর্ডার হাতে আসার পরে লোন স্যাংশন ব্যাংকিং কালচারে ভাল চোখে দেখা হয় না। অনেক কথা ওঠে, বিশেষ করে পরে ওই লোন অ্যাকাউন্ট ব্যাড হলে। আপনিই অডিট করতে এসে নোট দেবেন।
    সবাই হেসে ওঠে।
    কথাটা সত্যি, তবু মনটা খচখচ করে।
    লাঞ্চের সময় নিবেদিতা টিফিন ক্যারিয়ার খোলে।
    --পাশের বাড়ির বাঙালি আন্টিকে দিয়ে বানিয়ে এনেছি, আপনার জন্যে । একটা ল্যাটা না কি মাছের স্পেশাল ডিশ। বাঙালীদের নাকি খুব পছন্দ?
    আমি অবাক চোখে দেখতে থাকি। কত বছর পরে? কয় দশক? হ্যাঁ, কালো পাতলা চামড়া, তার নীচে হলদে লেয়ার, তারও ভেতরে সাদা অংশ , মশলাভরা। ল্যাটামাছের পুরই বটে। কিন্তু দাদু যেন কী বলতেন?

    --বুঝলি নাতি , কম জলের মাছে ঝাল ঝোল খাইয়া সুখ হয় না?
    দাদু আমাকে মাছ রান্নার প্রকরণ বোঝাচ্ছিলেন।
    --কম জলের মাছ? সে আবার কী? মাছ ত জলেই সাঁতার কাটে। কম জলে খাবি খেয়ে হাঁসফাঁস করবে না?
    -দূরঅ ব্যাডা প্যাট ব্যাক্কল! তর লগে কথা কইয়া সুখ নাই। একটা কথা বুঝাইতে বুঝাইতে বেলা কাবার হইয়া গেল। নে । এহন খাইয়া উঠ।
    সেদিন স্কুলের ছুটি হয়ে গেছল, রেনি ডে। শ্রাবণের ধারা অঝোরে ঝরছে। আমি পড়ি পাড়ার একটা গার্লস স্কুলের মর্নিং সেকশনে, ক্লাস ফোরে। হ্যাঁ, মেয়েদের স্কুল, তবে ছেলেদের ক্লাস ফাইভ অব্দি নেয় । ডে-সেকশনে ছেলেরা বাদ, গার্লস স্কুল যে। টিচাররা সব মাসিমা, কোন মেসো নেই। তবে স্কুলের দপ্তরি শ্যামভাই আছে। সে ক্লাসে কোন নোটিস নিয়ে এলে আমরা খুশি হয়ে উঠি। টিচারমাসিমা যখন নোটিসের বুক মন দিয়ে পড়ে সাইন করছেন ততক্ষণ শ্যামভাই শব্দ করে নাকঝাড়ার ভঙ্গি করে, তারপর আমাদের দিকে বাড়িয়ে দেয়। আমরা ঘেন্নায় শিউরে উঠি, কিন্তু অন্যেরা হেসে গড়িয়ে যায়। তারপরে তারস্বরে শ্যামভাইকে অনুরোধ করতে থাকি—আমাকে শ্যামভাই, আমাকে!
    শ্যামভাই অক্লান্ত ভাবে মিছিমিছি প্রসাদ বিতরণ করে চলে।
    দুদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় একটু একটু কালো জলের ধারা বইছে। আমি স্কুলে যাবো না বলে বায়না করছিলাম। মা প্রায় নিমরাজি। কিন্তু দাদু করা ডিসিপ্লিনারিয়ান।
    বৌমা, এইসব মাগনা কুয়ারা। তুমি কান দিওনা । মন শক্ত কর, নইলে ছেলে মানুষ হয়না।
    দাদুর সামনে মা ঘোমটা রাখে, রা কাড়ে না । পার্কসার্কাস পাড়ার একটা দু’কামরার ফ্ল্যাটে আমরা তিন প্রাণী। বাবা চাকরি করে অনেক দুরের কোন ছোট্ট শহরে একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে, জায়গাটা বিহার বলে ভিন রাজ্যে-- বোকারো না কি যেন। দু’মাসে একবার বাড়ি আসে। তবে প্রতিমাসের গোড়ায় আসে মানি -অর্ডার। তার নীচে দু’লাইন কুশল সংবাদ।
    সে যাকগে, আজ স্কুলে অংকমাসিমা আসেন নি। আমরা রাফখাতার পুরনো পাতা ছিঁড়ে ক্লাসের সামনে ছাতের অ্যাসবেটস শীট থেকে গড়িয়ে পড়া জলে নৌকো ভাসাচ্ছিলাম, পেছন থেকে কারও হাতের ধাক্কা খেয়ে জলে পড়ে জামা প্যান্ট ভিজল। একচোট হাতাহাতি শুরু হতে যাচ্ছিল এমন সময় শ্যামভাই এসে জানাল বড়মাসিমা মানে হেডমিস্ট্রেস ছুটি করে দিয়েছেন। রে-ই-নি ডে! কি সুন্দর শব্দ! জিভে কি আরাম!
    বাড়ি এলে মা মাথা মুছিয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্নান করিয়ে ছাড়ল—এতে নাকি গায়ে বৃষ্টির জল বসে না। তারপর চটপট আমাকে আর দাদুকে আসন পেতে ভাত বেড়ে দিল।
    আমাকে দিল ডাল আর আলুভাজা, দাদুকে একটা মাছের পদ। দাদুকে আগে ডাল তরকারি দিলে দাদু রেগে যায় । আমরা বাঙাল। দেশভাগের সময় দাদু ও বাবা এপারে এসেছে। কিন্তু বাবার বিয়ে হয়েছে এ পারে । মা গোকুল বড়াল স্ট্রিটের ঘটিবাড়ির মেয়ে। বুঝে গেছে কীভাবে খেতে দিলে দাদু খুশি হয় । একদিন আলু-বাঁধাকপির তরকারিটা ঠিকমত শুকোয়নি, একটু ভিজে ভিজে ছিল । দাদু কড়া চোখে মার দিকে তাকিয়ে বলল—ডাইল খাইতে হয় সিধা ডাইল খাইয়াম, এই বান্ধাকপির ডাইল ক্যারে?
    আজকে মা যে শুকনো তেলতেলে একটা মাছের পদ দিল সেটা খেয়ে দাদু বেজায় খুশি। এটা নাকি ঠিক হইসে, ঘটিবাড়ির মাইয়া মাছ রানতে শিখসে।
    আমার মুখে দিয়ে মন্দ লাগেনি, বড় টুকরো, কালো চামড়াটার নীচে হলদে হলদে স্তর, তার ভেতরে সাদা ভাগ। কিছু মশলা ভরা, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাখো মাখো করে রান্না।
    দাদুর দিকে তাকাতেই হাসিমুখে বললেন—এইডা হইল লাডিমাছের পুর।
    লাডিমাছ! মায়ের দিকে তাকালাম। মা নীচু গলায় বললেন—ল্যাটা মাছ।
    তারপর দাদু আমাকে উৎসাহের সঙ্গে কমজলের মাছ এবং তার রান্নার প্রণালী বোঝাতে লাগলেন।
    --শুন নাতি। শিং-মাগুর অইল রুগীর পইথ্য। কইমাছের সেরা পদ তেলকই। তাতে অনেকটা সরিষার ত্যালে ভাজা প্যাজ জড়াইয়া থাকে। আর হইল শোল মাছের পুড়া, বাইল্যরা মাছের ঝুরা, লাডি মাছের পুর।
    মা নীচু গলায় ফিসফিস করেন—শোলমাছ পোড়া, বেলেমাছের ঝুরঝুরে ও ল্যাটামাছের পুর।
    --এখন খাইতে আছ লাডি মাছের পুর! তর ঠাকুরমা আইজ বাইচ্যা থাকলে--।

    খেয়েদেয়ে উঠে একটা সিগ্রেট ধরাই। বৃষ্টি নেমেছে। আজ আর কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। সোমশেখরকে বলি লোন ডকুমেন্টগুলো একবার লেজারের সঙ্গে মিলিয়ে ফাইলে সাজিয়ে রাখতে, যাতে চার্জ হ্যান্ডওভার করার সময় কোন প্রব্লেম না হয় ।
    ল্যাটামাছের পুর! ভালই হয়েছিল, কিন্তু আমার মায়ের রান্নার মত না। একটু চোঁয়া ঢেকুর উঠছে। আর কোন লোনগুলো ব্যাড বা এনপিএ হতে পারে তার লিস্টটা আজ কমপ্লিট করতে হবে। চাপরাশিকে একটা দশটাকার নোট দিয়ে বলি—যা, সবার জন্যে অবধেশের ঠেলা থেকে পান নিয়ে আয়।
    নিবেদিতা রিজার্ভ ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বানাতে ব্যস্ত। সোমশেখরও আমি দ্বিতীয় সিন্দুকটা খুলে বন্ধকী সোনার ও রূপোর গয়নার থলিগুলোর সীল ও নম্বর মেলাতে থাকি। কাজ এগিয়ে রাখা যাক ।
    উম্মেদরাম পান নিয়ে ফিরে এসে সবাইকে একটা পুরিয়া ধরিয়ে দেয় । পানওলা অবধেশ আমাদের সবার পছন্দ জানে—মানে কার পানে জর্দা, কে সুপুরি কম খায়, কার পানে গুলকন্দ দিলে সে খাবে না, এইসব। তাই পুরিয়াগুলোর উপরে কালি দিয়ে নম্বর লেখা। এক মানে ম্যানেজার, দুই মানে ফিল্ড অফিসার , তিন মানে ক্যাশিয়ার ম্যাডাম। আমার পান হল কপুরী পাত্তি, পাতলা ছিমছাম বিনা সুপুরি, সামান্য চুণ আর কত্থা, মানে খয়ের। তাতে জর্দা-কিমাম--গুলকন্দ এসব নেই। হাত বাড়িয়ে পানের খিলি মুখে পুরি।
    উম্মেদরাম একটু কাছে এগিয়ে আসে। গলা নামিয়ে কোন গোপন কথা বলার ভঙ্গিতে ফিসফিস করে।
    --সাহাব, এক বাত বতানা হ্যায়।
    --বলে ফেল, সংকোচ কিসের?
    --সাহাব, মনরাখন উসকী রিকশা বেচ রহে হ্যায়, পাক্কি খবর।
    --কে তোর মনরাখন?
    --সাব , ও ভী এক কোঢ়হী রিকশাওলা হ্যায়,ওহী গান্ধি কুষ্ঠাশ্রমকে । আর ওই যে মোহনদাস, কুষ্ঠাশ্রমের মোড়ল, যে সেদিন আপনাকে ওর মুদিদোকান চেক করতে নেওতা দিয়ে গেল?
    --বুঝেছি, আগে বল।
    --মোহনদাসই ওর গ্যারান্টর স্যার। ডিফল্টার একাউন্ট, ব্যাটা মনরাখন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কেনা রিকশাটা চুপচাপ বেচে দিচ্ছে।
    --দাঁড়া, বিক্রি করা দেখাচ্ছি। বাপ কা মাল হ্যায় ক্যা? কোত্থেকে খবর পেলি?
    --পানওলা অবধেশের থেকে। ও ঝুঠ বলে না।
    --যা, জেনে আয় এখন কোথায় ওকে ধরা যাবে , আর কিনছেটা কে?
    আমি ইন্সপেকশন কার্ড রেডি করে ব্রিফকেস গুছিয়ে নিই। হ্যাঁ, ব্যাড লোন। প্রায় দশমাসের কিস্তি বকেয়া।
    নিবেদিতা কিন্তু কিন্তু করে। ফের কুষ্ঠাশ্রমে যাওয়া? ট্রান্সফার হবার পরেও ?
    আমি হেসে অভয় দিই। নতুন লোন দেয়া বারণ, ব্যাড লোনের রিকভারি করা নয় ।
    উম্মেদরাম ফিরে এসেছে। ওর চেহারায় উত্তেজনা।
    --সাহাব, প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের সামনে রাস্তার ওপর মনরাখনের রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কে কিনছে জানা যায়নি। জলদি চলিয়ে , ইঁহা সে সির্ফ দো কিলোমিটার।
    বৃষ্টি একটু ধরেছে। উম্মেদরাম মোটরবাইক স্টার্ট করে। আমি ওর পেছনে ব্রিফকেস হাতে সওয়ার হই। পাঁচমিনিটের মধ্যে প্রাইমারি হেলথ সেন্টার পৌঁছে যাই, আমার মধ্যেও উত্তেজনার ছোঁয়া। কিন্তু মিনি হাসপাতালের সামনে রাস্তাটা ফাঁকা। কোথায় মনরাখন?
    উম্মেদরাম বিভ্রান্ত চেহারায় এদিক ওদিক দেখে আর বিড়বিড় করে। এদিকে আবার ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দেরি হলে নিঘঘাৎ ভিজে যাব।
    আমার উৎসাহ নিভে গেছে।
    --শোন, এবার বাইক স্টার্ট কর। ফিরে চল। উম্মেদরাম রাজদূত মোটরবাইকে কিক মারতে থাকে। ব্যাংকের পুরনো গাড়ি, সরকারি মাল । তেমন যত্নআত্তি হয় না। জলে ভিজে স্টার্ট হতে সময় নিচ্ছে। হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে উম্মেদরাম।
    --স্যার ঐ দেখুন, একটা রিকশা দ্যাখা যাচ্ছে।
    হ্যাঁ, সত্যিই তো , প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের উলটো ফুটে প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূরে বটগাছের নীচে একটা রিকশা দাঁড়ানো, সম্ভবতঃ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে। আমার শরীরে বিদ্যুৎ খেলে যায়। ব্যাটা নিঘঘাৎ এখানে দাঁড়িয়ে ওর খরিদ্দারের জন্যে অপেক্ষা করছে। একলাফে বাইকের পেছনে চড়ে বসি। জলদি!
    রিকশার কাছে পৌঁছে আগে ওটার পশ্চাদদেশে চোখ বোলাই। রঙ ফিকে হয়ে এসেছে, তবু পড়া যাচ্ছে—‘ গ্রামীণ ব্যাংক সে সহায়তা প্রাপ্ত’।
    তাহলে এটাই সেই রিকশা--ব্যাংকের কাছে হাইপোথেকেটেড। কোন সন্দেহ নেই, পেছনে দেগে দেয়া আছে। কিন্তু রিকশাওলা কোথায়? আমাদের দেখে পালিয়েছে? এদিক ওদিক তাকাই। উম্মেদ খেয়াল করে রিকশার ভেতরে ময়লা কাঁথার পুঁটলির নীচে এক মানবশরীর। আমার হাসি পায়। গুটিশুটি মটকা মেরে পড়ে থাকলে আমরা টের পাব না?
    উম্মেদরাম একটা রুস্তমি হাঁক পাড়ে—মনরাখন! উতার বে, নীচে আ যা!
    কোন সাড়া শব্দ নেই।
    --আরে এ মনরাখন! সাহাব তোর সঙ্গ কুছু বাত করহি।
    পুঁটলি নড়ে ওঠে অজগরের মত অলস ভঙ্গিতে নোংরা কাঁথার ভেতর থেকে একটি মুখ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। জটপাকানো চুল আর কাঁচাপাকা দাড়ি। অজগর তেমনি অলস ভঙ্গিমায় চোখ খোলে—লালচে চোখে পলক নেই।
    আমার আর সহ্য হয় না। বৃষ্টির ফোঁটা বড় হচ্ছে। খেঁকিয়ে উঠি—লোন পটানোর নাম নেই, চোরিছুপে ব্যাংকের রিকশা বিক্রি করছ?
    --কা লা বেচু? ইয়ে রিকসা কৌন খরিদবে করি?
    কাকে বেচব? কে কিনবে?
    ভাল করে রিকশার আগাপাশতলা দেখি। ছই ভেঙে গেছে, কাপড় একেবারে কানি হয়ে ঝুলছে, টিনের বডিতে জং,-- মিনিমাগনায় কেউ নেবে কিনা সন্দেহ। তাহলে? একটু দমে যাই।
    --আচ্ছা? বেচছ না? তাহলে এই বৃষ্টির মধ্যে তুমি এখানে কী করছ?
    --তিনদিন সে তেজ বুখার। জ্বর নামছে না। হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছিলাম। ওরা ফিরিয়ে দিয়েছে । বলেছে আমার হয়ে এসেছে, কোন ওষুধ আর কাজ করবে না ।
    --মানে?
    লোকটা আধশোয়া অবস্থায় ওর ডান পায়ের ওপরের লুঙ্গিটা তোলে।
    উম্মেদরামের মুখ থেকে একটা অষ্পষ্ট শব্দ বেরোয়। পচামাংসের গন্ধে আমার গা গুলিয়ে ওঠে। হাঁটুর নীচ থেকে প্রায় পাতা অব্দি একটা গভীর ঘা। আমি চোখ ফেরাতে পারিনা।
    হ্যাঁ, কালো পাতলা চামড়া, তার নীচে হলদে লেয়ার, তারও ভেতরে সাদা অংশ , মশলাভরা। ল্যাটামাছের পুরই বটে। শুধু পুরের ভেতর কাঁটা থাকে না, এখানে শক্ত সাদা মোটা কাঁটা দ্যাখা যাচ্ছে।
    পাশেই একটা নালা আর বেশরমের ঝোপ। আমি পেট চেপে ধরে বমি করতে থাকি।
    =============================================================
  • বিভাগ : বাকিসব | ১১ আগস্ট ২০২০ | ৬৭৫ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রঞ্জন | 122.162.97.16 | ১১ আগস্ট ২০২০ ২০:২৩732499
  • @অ্যাডমিন,

              আমাকে বাঁচান। গল্পের টাইটেলে টেক্সট ঢুকে গেছে, আমারই ভুলে। শুধরে দিন বা উড়িয়ে দিন। যা তা হয়েছে, প্লীজ!

  • শিবাংশু | ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৩:২৩732505
  • 'প্রাগৈতিহাসিক' !
    মানিকবাবুকে মনে পড়লো...
  • lcm | 2600:1700:4540:5210:6590:9e13:18d5:d7e7 | ১৪ আগস্ট ২০২০ ০০:১০732506
  • রঞ্জনদা,
    এই লেখার টাইটেল কী?
  • রঞ্জন | 122.162.119.94 | ১৪ আগস্ট ২০২০ ০০:১৯732508
  • এটা মানে সত্যি অভিজ্ঞতা নিয়ে ভয়ে ভয়ে গল্প  লেখার চেষ্টা। আরও পরিমার্জন দরকার। নাম দিয়েছি " একটি রিকশা ও ল্যাটামাছের পুর"।

  • lcm | 2600:1700:4540:5210:6590:9e13:18d5:d7e7 | ১৪ আগস্ট ২০২০ ০০:২০732509
  • তাই তো দেখাচ্ছে, ঠিকই তো আছে। তাহলে কেউ নিশ্চয়ই ঠিক করে দিয়েছে। আমি এখন এলাম, এটাই দেখতে পাচ্ছি। অল ইজ ওয়েল :-)
  • মদন দাস | 42.110.129.24 | ১৭ আগস্ট ২০২০ ১২:০৩732518
  • কঠিন রুক্ষ এই বাস্তবের কথা এভাবে লেখার দক্ষতা বিরল,

  • সম্বিৎ | ১৭ আগস্ট ২০২০ ১২:১৮732519
  • অসম্ভব ভাল লাগল রঞ্জনদা।

  • Du | 47.184.29.20 | ১৭ আগস্ট ২০২০ ১৯:৩৮732520
  • কি বলব!!!
  • Prativa Sarker | ১৭ আগস্ট ২০২০ ২১:২৩732521
  • খুব নাড়া দেওয়া লেখা!!  সত্যি প্রাগৈতিহাসিককে মনে পড়ায়।

  • কুশান | 115.187.60.1 | ১৭ আগস্ট ২০২০ ২২:৩৪732522
  • লেখাটা খুব অস্বস্তিকর। অথচ টানা পড়তেই হলো।

    উফফ, মাঝে মধ্যে মনে হয় বেঁচে থাকাটাই কী ভয়াবহ!!!
  • রঞ্জন | 122.162.119.94 | ১৮ আগস্ট ২০২০ ১৩:১৮732524
  • সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করব আগামীতে লেখার শিল্পগত দিকে কোন ত্রুটি চোখে পড়লেও এমনই আন্তরিকতায় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। 

  • Sekhar Sengupta | ১৯ আগস্ট ২০২০ ২০:০৫732526
  • তোর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে এরকম আরও  কিছু কাহিনী বের কর, রঞ্জন।    

  • রঞ্জন | 182.69.51.147 | ২০ আগস্ট ২০২০ ০০:০৩732527
  • @শেখর, 

        ঠিক আছে। ক্রমশঃ আসিবে।

  • Anindya Thakur | 223.191.32.155 | ২১ আগস্ট ২০২০ ০০:৩৮732529
  • Nostalgic feeling.

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত