• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    দীপাংশু আচার্য
    বিভাগ : কাব্যি | ২৪ মে ২০২০ | ৩০৮ বার পঠিত
  • তুমি তো অন্যদের পেতে বারণ করেছ ভয়; স্টার্টিং প্রবলেম নো প্রবলেম; তুমি ভাবছিলে একটু আগে, "মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী"... তারপর তোমার মনে পড়ল, তুমি মদ সিগারেট বিড়ি ছেড়ে দিয়েছ প্রায় দুবছরের বেশি হতে চলল... তুমি খুব সস্তায় গাঁজা পাও আজকাল... কোলকাতায় বাইশ-পঁচিশ গ্রামের যে খামটা সবাই পাঁচশো-ছশো দিয়ে কেনে, সেম সাইজ সেম কোয়ালিটি তুমি স্কোর করো তিনশো টাকায়, বৈদ্যবাটি জিন্দাবাদ, বৌদির ঠেক - ঠিকানা ঠনঠনে ঠাকুরের গলি, সন্ধ্যের পাশের বাজার... আজ মুড়ি না গোলারুটি না উলের কফিন? মরিসন ঢেঁকুর তুলল হলিউডের মঞ্চে, ডানহাতে মাইক্রোফোনের টুঁটি... দেখতে দেখতে গড়িয়ে গেসলাম গতরাতে রবিবাবুর ব্যক্তিগত ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন বেধড়ক অনাদি উন্মাদনায়, আত্মসমর্পণে, ম্যানিয়ায় মেহনতে!; এখন সন্ধ্যে! শীতল, রুগ্ন, সুন্দর। যেখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় নাম্বার লেখা। একটি জয়েন্ট খেতে লাগে আনুমানিক সতেরোটি দেশলাই শলাকা।
    আমার যে কিছু মনে নেই, এটাই মংগলের। বিস্মৃতি আমার ত্রাতা। একটা অনন্ত পাতার লিগাল নোটিশ আমি লুকিয়ে রেখেছি ঘননীল অ্যারিস্টোক্র‍্যাট বস্তায়, মাজন ও জিভছোলার পাশে, পাণ্ডুলিপি আর আধারকার্ডের মাঝখানে, পিস্তলের মতো, মাদকের মতো, চটিবইএর মতো, মধুচন্দ্রিমার মতো, মৃত্যুসংবাদের আড়ালে, যেন ডেলিপ্যাসেঞ্জারের দোমড়ানো আত্মা;
    কোনও কারণ নেই আমার - লিখে থেমে যাই, খুঁজে পাইনা ক্রিয়াপদ সঠিক, ছোট ছোট 'কমা' ঘুরে বেড়ায় মাদুরে; কোনও রাগ নেই কারুর ওপর... নেই অভিযোগ, অভিমান, অভিসন্ধি। সিভিল ভূখণ্ডের যোজন দূরে হচ্ছি অভিযোজিত। ... এই দিকচক্রট্রাইবাল-বসতি ... ঝোপেঝাড়ে ঘেরা! আবেগে বিচ্যুত নয়, আগুনে সজাগ আজ অক্ষিগোলকের বারাণসী... হাতের লেখার কথা ভুলে যায় মানুষেরা, অভিভাবকহীনতার ফলে, আমিও বাঁদর পুনরায়...
    একটা তাৎক্ষণিক হাস্যকর অবসারভেশনাল বাক্যকে কুচি-কচি ক'রে কাটলাম আজ্ঞাবহ নিবের আনতাবড়ি খোঁচায়, আর থ্যাঁতলানো নেভি-ব্লু কেন্নোর মতো হিজিবিজির নীচে চাপা প'ড়ে মারা গ্যালো তিনজন দমবন্ধ ইউরোপিয়ান মহামনিষী! 'এখন' নিয়ে কেউই সন্তুষ্ট নয় সম্ভবত, পশুপাখীপোকামাকড়েরা ছাড়া; আর গাছপালা নদীনালা... পাহাড় পর্বত... অন্ধকার... শিশু দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে আর লাথি মারছে ডুগডুগিতে... ফোন আসছে বইমেলার অনুষ্ঠান থেকে, মফস্বল সাইলেন্ট হয়ে আছে, কেউ শুনতে পাচ্ছে না তলব ও পিংপং... কী অশ্লীল লাগে টাকা নিয়ে ভাবতে, আমায় ক্ষমা কোরো মা, হে কোজাগরী টাকাকড়ির আঁচল লক্ষ্মীমন্ত সপুষ্পক মায়া... আমার গ্রিল খুলে এইমাত্র এলেন ভেতরে জাগতিক জন্মদাত্রী; মাটির ভাঁড়ে এনেছেন গরম রসগোল্লা... বোনের ফোন, ট্রেন, চামচ এইসব শব্দগুলি উচ্চারিত হলো... প্রণাম সেই গোয়েন্দাকে যিনি ভেদ করেছিলেন প্রথম, স্বাদের রহস্য, রসের দুয়েন্দে। কোন যতিচিহ্ন আপনার সবচে' প্রিয় আর জন্মদিন কবে, বলুন আমায়, আমি পাঠাবো একপাতা...! আর কী-বা সেবা দিতে পারি ফ্রিতে, দুশমনের ঠাণ্ডাতম দিনে... একদিন ছন্দ মেলাতাম, একদিন অন্ত্যমিল দিতাম, একদিন প্রেম ভেঙে যাওয়ার ছমাস যেতে না যেতেই ছটফট করতাম নতুন প্রেমের জন্য, আর এখন হারপিকের ফাঁকা কৌটোর দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি সারাবসন্ত... আগের প্রজন্মের উন্মাদেরা সব কী করছেন এখন? নতুন বইটা তারা কি পড়লেন? কারুর হাতে কি জ্যান্ত হলো? কেঁপে উঠল কি কারও তালুর ওপর? কোথায় প্যাঁচাদের চিয়ার্স? আজ মাপবো হেমিস্ফিয়ারের জ্যামিতি-আকার-আয়তন... তার ব্যাপ্তি... একটা লোক অনর্গল হয়ে গ্যাছে বাংলাভাষার সাথে মিশে... এটা রোগ না নেশা না সিদ্ধি না অভিশাপ না চক্রান্ত না ভ্রান্তি না প্রতিভা না পরিশ্রম না নিউরোপ্রবাহ না প্রলাপ না পলায়ন না প্রারব্ধ না ট্রান্স না মোনোটনি...? বালকের অলংকার, কলঙ্ক, কঙ্কাল ইত্যাদি... শিশু খেলছে থুতু নিয়ে আর বিরক্ত হচ্ছে চোদ্দগুষ্টি... মরা বাবার জ্যান্ত জামা ঝুলছে হ্যাঙারে বাঙালী ম্যাজিকের মতো... অল্প কাচা অল্প ময়লা... মেগাসিরিয়াল, কান্নাকাটি, শাসন একসংগে চলছে.. পাশের ঘরে... আর এটা ঠিক ঘর না - যাতায়াতের রাস্তা - যেখানে আমি শুয়ে, টিভির ঘর থেকে আমায় পেরোলেই চিলতে বাথরুম, বাথরুম পেরোলেই ঘুপচি রান্নাঘর, রান্নাঘর পেরোলেই বাতাবিলেবুর উঠোন, উঠোন পেরোলেই বিরক্তিকর সমাজব্যবস্থা ও রাস্তা; পায়ের তলায় পিতামাতার পৃথিবী, মাথার ওপরে অসম্ভব আকাশ
  • বিভাগ : কাব্যি | ২৪ মে ২০২০ | ৩০৮ বার পঠিত
আরও পড়ুন
'The market...' - Jhuma Samadder
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • [email protected]#$%^&* | 2405:201:8805:37c0:6117:2ec6:7941:3c05 | ০১ জুন ২০২০ ১০:২০93865
  • এটা পড়লেন কেউ?

    দীপাংশুর লেখা আগে আমি পড়িইনি প্রায়, এবার বই বেরুনোর পর থেকে টুকটাক পড়ছি। দীপাংশুর লেখার ধরনধারন, বৈচিত্র, রেঞ্জ এইসব দেখে আমি অবাক হই। সুন্দর সুন্দর পদ্যও লেখে কখনো, বাণিজ্যসফল সিনেমার গানও লেখে, ক্ষুৎকাতরও বটে, আবার নাম করেছে মীরাক্কেল করে, আবার এইরকমও লেখে।
    পড়বো দীপাংশুর লেখা।
  • সম্বিৎ | 71.202.35.85 | ০১ জুন ২০২০ ১১:২০93868
  • মিরাক্কেল-কালে ছোকরার, তখন ছোকরাই ছিল, স্ক্রিপ্টের হাত দেখে ছিটকে গিয়েছিলাম। হিউমরের কথা আর কি বলব! যদিও অনেকটাই রিস্কে। গুরুতে লিখেওছিলাম বোধহয়।

    পরে খুঁজেপেতে ইউটিউবে পরিণত কাজ দেখে সেই প্রাপ্তি হয়নি।

  • সিএস | 103.99.156.98 | ০১ জুন ২০২০ ১৬:১৬93871
  • ছোট চৌকো ছ'-আট লাইনের লিরিকের থেকে এই কবিতাগুলো যেন তাক থেকে স্টীলের বাসন পড়ে গিয়ে কিছুক্ষণ ধরে ঝনঝন করে শব্দ করার পরে যেমন ক্রমশঃ থেমে যায় সেরকম অনুভূতি আনে। দীপাংশু আচার্যের বই কী গুরু থেকে বেরিয়েছে, লক্ষ্য করিনি, অনেক আগে একটা নোটবুকের আকারে বই ছিল এনার, 'উবু সব মাদারির ভিড়', হুডিনির তাঁবু নামে একটি প্রকাশনা থেকে, লাইকমাইন্ডেড বন্ধুরা মিলে তৈরী করেছিলেন মনে হয়, বইমেলায় মাটিতেই বসতেন তারা, তো সেই বইয়ের একটি কবিতায় একটি পংক্তি ছিল, "অতএব আমি শুধু আমি আমি লিখে যেতে পারি"; তো এই কবিতাটা সেরকম, তুমি-আমির খেলা খেলে সেই দিয়ে দিয়ে জগৎ দেখা !
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত