• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • দেশভ্রমণ

    জয়া মিত্র
    বিভাগ : গপ্পো | ১১ মার্চ ২০১২ | ১১৬ বার পঠিত
  • শুভ যোগ বলুন আর ত্রহ্যস্পর্শ মাইনাস ওয়ান, এমন কেলোর কীর্তি এর আগে হয়েছে কি? নারীদিবস আর দোল এবার পিঠোপিঠি। ওদিকে গালে রঙ কত জমেছে কে জানে, আমাদের লেখা জমে গেছে বিস্তর। টেকনিকাল টিমের হুড়কোয় এতদিন চুপচাপ থাকলেও এই মওকা আর ছাড়া গেলনা। জমে যাওয়া জিনিসপত্তর থেকে তুলে নিয়ে কিছু ছড়ানো-ছেটানো লেখা তোড়ায় বেঁধে হাজির করা হল এবারের স্পেশাল বুলবুলভাজায়। নতুন ভার্সানে নতুন গুরু এলে নতুন বুলবুলভাজা আবার বেরোবে। কিন্তু তার আগেই, এই সুযোগ, আর ছাড়াছাড়ি নেই।

    আমার বাবার ব্যান্ডপার্টি আছে। আমরা তো বাদ্যকর। মার যখন বিয়ে হয়েছিল মা তখন খুব ছোট ছিল, বাবার মা, আমার মা-কে ভালবাসতনা, খেতে দিত না। মায়ের একজন ননদ ছিল যে লুকিয়ে লুকিয়ে এনে মাকে খাওয়াত। আমরা তো আর দেখিনি কিন্তু মা বলে, শুনি। যেদিন মায়ের খুব মন খারাপ হয়, মা কাঁদে,তখন বলে আমর সারা জীবন দু:খে গেল। ছোট ভাইটা মরে যাবার পর থেকেই মায়ের খুব মন খারাপ হয়। খুব শরীর খারাপ হয়। আগে তো নি:শ্বাস আটকে যেত, অজ্ঞান হয়ে যেত। আনেক ওষুধ করে এখন একটু ভাল হয়েছে।

    ভাইটা খুব ছোট নয়, আট বছরের ছিল। মাথায় কি হয়েছিল, হাসপাতালে ছিল। ডাক্তার বলেছিল বেরেনে কি একটা হয়েছে, বাঁচা খুব কঠিন। তবু তো কাকারা গেল, বড় জামাইবাবু এসেছিল। মা যতগুলো বাড়িতে কাজ করে সব বাড়ি থেকে পয়সা এনেছিল। ভাই বাঁচলনা, এদিকে সব বাড়ি থেকে মায়ের পয়সা কাটা শুরু হয়ে গেল। তখন আমাদের খুব কষ্ট হল, খাবার থাকত না। মায়ের অসুখ। ছোড়দিদিকে তার শাশুড়ি আসতে দেয়নি তখন। নিজে নিজে বাসে উঠে সে চলে এসেছিল। ছোড়দি ভাইকে ছোট থেকে কোলে করে রাখত না দেখে কি থাকতে পরে! তাতে ওর শাশুড়ি ওকে আর ফিরে নিল না। বলল মিথ্যে কথা, ভাই মরেনি অন্য ছেলের সথে পালিয়েছে। দিদি শুনে বলল, যাবনা আর ওদের বাড়ি। বাবা কাকারা গেছিল ওর শাশুড়িকে বোঝাতে - তাতে বাবাকে গালাগাল করল। জামাইদাদা রেলে চাকরি করে, ওর মা ওর আবার বিয়ে দেবে। বাবা বলল, ঠিক আছে, মেয়ে যদি আমার ঘরে জন্মাতে পেরেছে, ঘরে দুটি নুন-ভাত জুটবে। শ্বশুরবাড়িতে ছোড়দিকে খুব মারত তবু জামাইবাবু আবার বিয়ে করতে ছোড়দি খুব কেঁদেছিল।

    এই রকম নিয়মটা যে কেন যে শ্বশুরবাড়িতে মারবে? আমার খুব ভয় করে, কী করে যে মার খাব! আমি তো সবার চেয়ে ছোট বোন, বাড়িতে কোনোদিন কেউ মারেনি। খালি দাদা দু একবার মেরেছে। বাইরের লোকের হাতে কী করে মার খাব ?

    যখন খুব ছোট ছিলাম তখন অন্যলোকের হাতে মার খেয়েছি অবশ্যি। মাইথনে এক বাড়িতে কাজ করতাম। বড়দিদির তো মাইথনে বিয়ে হয়েছে, আমি দিদির কাছে থাকতাম। আমরা ছয় বোন দুই ভাই। দাদা সবচেয়ে বড়, তারপর বড়দিদি, মেজদিদি ওদের বিয়ে হয়েছে। ওরা শ্বশুরবাড়িতেই থাকে। তারপর দুটো দিদি তাদের বিয়ে হয়েছিল, ফেরত দিয়ে গেছে , তারপর সুলতাদিদি, তারপর আমি। ভাই ছিল কিন্তু ভাই তো আর নেই।

    ছোটকালে আমাদের খুব কষ্ট ছিল । বড়দিদি আমাকে তার কাছে নিয়ে গেছিল। সেখানে একটা বাবুঘর আমাকে রেখেছিল মা গিয়ে টাকা নিয়ে আসত। আমি তখন বুঝতাম না একশো টাকা কি দুশো টাকা।

    ওদের বাড়িতে খুব কাজ ছিল । কয়লা ভাঙতাম একদিন আঙুলে হাতুড়ি পড়ে অনেক রক্ত পড়েছিল। বাসন মাজতাম, কাপড় ধুতাম, ছাদে মেলতাম। হাত পেতাম না, একটা জলচৌকিতে উঠে মেলতাম। ওরা সবসময় খুব বকত, গালে ঠোনা মারত। মা যখন মাইনে নিতে যেত মাকে কিছু বলতাম না। আমার টাকা না পেলে বাড়িতে কী খাবে? তখন বাবার ব্যান্ডপার্টি ছিলনা। বাঁশের ঝুড়ি বুনত, ঘুরে ঘুরে বিক্রি করত। আমাদের কী ক্ষিদে পেত সারাদিন জল খেয়ে থাকতাম। বিকেলে ভাত রান্না হত, তখন খেতাম। ফ্যানাভাত শুকনো ভাত হত না।

    মাইথনে একজনের বাড়িতেই আমি তোমাদের মতন কথা বলতে শিখেছি। না, এদের বাড়িতে নয়। এদের বাড়ি একদিন হাত থেকে নুন পড়ে গিছল তাইতে এত রেগে গেল একশিশি নুন ঢেলে দিল ভাতে সেই ভাত খেতে হল। খুব বমি করলাম পেটে কি যন্তোন্না। সে মাসে মা যখন মাইনে নিতে এল , ওরা বাড়িতে ছিলনা আমি একা ছিলাম। সেইদিন আমি মাকে বলি।

    মা আর পারছিনা , আমার বড় কষ্ট হচ্ছে।

    মা বল্ল দুটো দিন ধৈর্য্য ধর, নে'যাব। মাইনে নিয়ে মা চলে গেল। তার কদিন পর বাবা এল, বল্ল আমার মেজেমেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে ওকে নিয়ে যাব। ওমনি করে না বললে যদি না আসতে দেয়! সেই চলে এলাম, আর যাইনি । তারপর কত বাড়ি কাজ করলাম। তোমরা যেমন দেশে দেশে বেড়াতে যাও না, ঐ যে কত জায়গার ছবি দেখাচ্ছিলে, আমারও তেমনি মনে কর কত জায়গা দেখা হল। কত লোকেদের, কতরকম ঘর।

    তোমাদের বাড়িতে কতরকম জিনিষ থাকে, কেমন সুন্দর সুন্দর। আমার সবচেয়ে কোন বাড়িটা ভাল লাগে? আমাদের বাড়িটা! তোমাদের ঘরদোর কেমন পরিষ্কার রাখা যায়, আমাদের ঘরে জায়গা নেই, সব জায়গায় কাঁথা-কানি বাক্স বিছানা, কী করে পরিষ্কার রাখব? বিশেষ করে বর্ষার দিনে উঠোনে বারান্দায় জলকাদা ক্যাচ ক্যাচ। ঘরে সব ভিজা ভিজা। একটা খুব ভাল লাগে তোমাদের ঘরে কেমন বড় বড় আলো। রাত্তিরেও সবদিক দেখা যায় দিনের মতন। কিন্তু তোমাদের ঘরগুলো খুব ছাড়াছাড়া। মনে হয় বাড়িতে কোনো লোকই নেই। আমরা চারজন বোন থাকি দুটো দিদিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরত দিয়ে দিয়েছে। বিমলাদিদির একটা তিন বছরের মেয়ে আছে । দাদার একটা মেয়ে একটা ছেলে। মা রান্না করে আমরা সবাই থাকি। খালি দাদাকে খুব ভয় হয়। আমার দাদা কিন্তু খুব রাগি। কারো সঙ্গে বেশি কথা বলেনা । ব্যাটাছেলে তো বেশি কথা বললে লোকে মানবে না। বাবাও কম কথা বলে কিন্তু দাদার চেয়ে বেশি বলে। বাবার কাছে তো সারাদিন লোকজন আসে, কথা বলতেই হবে। ব্যান্ডপার্টি নিয়ে যাবার জন্য বায়নার পয়সা নিয়ে অনেক জায়গার লোক আসে। দুপুরবেলা লোক এলে তো না খাইয়ে ছাড়া যাবেনা, তখন আবার ভাত রান্না করতে হয়। মার একদিন খুব ঝগড়া লাগে বাবার সঙ্গে । বলে এত এত ভাতের চাল আমি কোথায় পাব? দাদা কিছু কাজ করেনা ঐ বাবার দলে মাঝে মাঝে বাজায়। তাই জন্যেও একদিন ঝগড়া হয়। মা বাবা দাদাকে বলে তুই কিছু কাজ কর। তোর সংসারে চারটে পেট । বোনেরা আর কতদিন খাওয়াবে?

    তখন দাদা রেগে যায়। মাঝে মাঝে বাজারে যায় মাল তোলে কিন্তু সব টাকা মদ খেয়ে নেয়। আর সেইদিন বাড়ি এসে খুব চিৎকার চেঁচামিচি। বাবা মদ খায়না। বাবা যদি মদ খেত তাহলে এত বড় সংসার চলত বলো? আমার বাবা খুব ভাল। কোনোদিন মাকে মারেনি, নেশা করেনি। বাবা অনেক কষ্ট করেছে ছোটতে। ছেঁড়া প্যান্ট পরে স্কুলে যেত, সবাই হাসত। আমাদের গ্রামের বাউরি বউরা বাবাকে ডেকে ভাত খাওয়াত তবু বাবা স্কুলে গেছিল। তাই পড়তে পরে লিখতে পারে। আমি পারিনা। কখন শিখব বলো? একটা বাড়িতে ছিলাম, তারা মাকে বলেছিল কেবল বাচ্চাকে খেলা দিতে হবে , যখন বাচ্চা পড়া শিখবে আমাকেও পড়াবে। ওদের বাচ্চাটা খুব মারত। খিমচে রক্ত বার করে দিত। কাকু কাকীমা দুজনেই চাকরি করত। ওরা অফিস যাবার সময় ছেলেটা খুব কাঁদত। কাঁদা হয়ে গেলে আমাকে মারত তাও আমি কিছু বলতামনা। কাকীমার সব কাজ করতাম বাসন ধোয়া গ্যাস মোছা ফ্রিজ পরিষ্কার করা এত এত কাপড় কাচা সব করতাম। কাকীমা বেরোবার আগে ঘর মোছা শেষ করতে হত। ওদের ঘরে তালা দিয়ে যেত তো! কিন্তু আমাকে রোজ ওদের পাতের এঁটো ভাত তরকারি বাচ্চার মুখ থেকে ফেলা ভাত খেতে দিত। কোনোদিন পরিস্কার ভাত তরকারি দিত না। অবশ্যি ওদের বাড়িতে বেশিদিন থাকিনি, ছমাস মতন করেছিলাম। ছেলেটা একদিন ঘরের মেঝেয় পিছলে পড়ে গিছল বলে কাকু আমায় জুতোয় করে মেরেছিল। ও যে কতদিন আমায় মেরে কালশিটে পরিয়ে দিয়েছে ওকে ওরা কক্ষনো বারণ করত না।

    আমার বাবা কোনোদিন গায়ে হাত তোলেনি আর - অমন করে কেন থাকব! কাজ করতে এসেছি, কিনে তো নেয় নি। খাটলে কাজ অনেক পাব। দাদার মেয়েটাকে স্কুলে দিয়েছে, ও যেতেই চায় না। এখন আর আমার পড়া হবে না এত বড় হয়ে গেছি। পনেরো বছর হয়ে গেল । মা বলে বিয়ের কথা আমি বলেছি এখন আমি বিয়ে করবই না। যাদের বাড়িতে আমি তোমাদের মতন কথা বলতে শিখেছি তাদের সঙ্গে দিল্লী গেছিলাম। দেখেছি কত বড় বড় মেয়ে বিয়ে হয়নি। আমাদের ছোটতেই বিয়ে না দিলে পাড়ায় নিন্দে হয়। হোক গে আমি তবু এখন বিয়ে করবই না। বিয়ে হলে কি আর ভাল? একটু হাসি গল্প করতে ভাল লাগে, সব শেষ। হয় দিদিদের মত মার খাব, নয় ফেরত দিয়ে যাবে আর নয় বৌদির মতন রোজ ঝগড়া করব। বৌদি সারাদিন ঝগড়া করে। বিয়ে হয়েছিল যখন তখন খালি কাঁদত, ভাত খেত না, মাথা ঠুকত। ফিট পড়ে যেত। খালি বাপের বাড়ি চলে যাবার জন্য অস্থির করত। দাদাকে বলেছিল ওর অন্য ছেলের সঙ্গে ভাব ছিল দাদার সঙ্গে ঘর করবেনা। না না মিছে কথা বাপের বাড়ি যাবে বলে ওমনি করত। এখন আর অমনি করেনা। কিন্তু বাড়িতে কোনো কাজ করেনা, বলে তোমরা বাইরে যাবে ঘর মুছে বাসন মেজে টাকা পাবে । আমি তো পাব না তবে আমি করব কেন? তবু আমার সঙ্গে গল্প করে। দাদার সঙ্গে বেশি ঝগড়া। মা বলে আমি কি করে সংসার চালাব? বৌদি দাদার সঙ্গে লাগে তুমি কেন কাজকর্ম কিছু করনা? যা পয়সা পাও নেশা করে বাবুগিরি করে ফুটাবে, ছেলেগুলোকে কি আমি বাপের বাড়ি থেকে এনেছি? ব্যাস দাদা রেগে গিয়ে মারে চিল্লাচিল্লি হয়। দাদা আমাদেরও মারে বড় হয়ে গেছি তবু মারে।

    যখন আমর জন্ডিস হয়েছিল তখন তো আমি ঘর থেকে বেরোতে পারতামনা তখন কে একজন দাদাকে বলেছে তোমার বোন রাস্তায় একজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসছিল-আর দাদা এসেই আমাকে ধরেছে তবু আমি বলেছি দাদা যদি লোকে বলে চিলে তোমার কান নিল তুমি কি কানে হাত দিয়ে দেখবে না চিলের পেছু ছুটবে?

    তাতে দাদার আরো রাগ হল আরও মারল।

    জন্ডিস হয়েছিল কিছুদিন আগে । তখন থেকেই তো আমি কাজ করতে পারছিলাম না বসেছিলাম, যাদের সঙ্গে দিল্লী গেছিলাম ওরা কি একটা দুর দেশে চলে গেল। সেখানে সবাইকে কেবল এরোপ্লেনে করে উড়ে উড়ে যেতে হয়। ওরা চলে যাবে বলে আমি ফিরে এলাম। তরপর একটা দুটো বাড়িতে কাজ করলাম আর তখনই তো জন্ডিস হল, গা হলুদ হয়ে গিছল। একটা ওষুধ করে সারল কিন্তু শরীর ঠিক হলনা। জন্ডিসের ওষুধ হয়। একটা শেকড়ের জিনিষ হাতে বেঁধে দেয় আর পনেরোদিন তেল ছাড়া সেদ্ধ খেতে বলে। সেই জিনিষটা আস্তে আস্তে হলুদ হয়ে ওঠে আর তোমার হলুদ নেমে যাবে শরীর থেকে। তোমরা বিশ্বস করনা তো? কিন্তু ওতে ঠিক সেরে যায়। তখনই তো দাদার শালীর বিয়ে ছিল। দাদা দশদিন আগে সবাইকে নিয়ে চলে গেল। একবার তো বৌদি ভাবতে পারত যে তমালী কি করে পারবে , দুটো দিন পরে যাই। সে নয় চলে গেল। বাবাও বোঝেনা। মা দিদিরা সকালে তোমাদের এই হাউসিং এ কাজ করতে চলে আসে ফিরতে সেই তিনটে । তাও বাবার সেই লোকজন খেয়ে যেতে বলা চাই। একদিন না হয়েছে কি আমার খুব গা কেমন করছে, উঠে দাঁড়াতেই পারছি না এদিকে বাবার পার্টির লোকেরা খাবে। তিনকিলো চাল বসিয়েছি কিন্তু কি করে যে হাঁড়িটা নামাব! মাথাটা হাতে ধরে বসে আছি আর ভাবছি যদি আমি না করি মাকে এসে করতে হবে। বাবা এক-দুবার ভেতরে এসে দেখেছে বলছে, তাই তো রে তোর তো শরীরটা আজ খুব খারাপ। ভাতের হাঁড়িটা আমি নামায়ে নিব। তো আমার এক জামাইদাদা এসেছিল বাবার সঙ্গে ব্যান্ডে বাঁশি বাজায় সে বল্ল, আমি ডাল বানাব আলুচোখা বানাব, তুমি যাও চুপচাপ শুয়ে থাক। সে অনেকবার বলতে আমি গিয়ে শুয়েছি আর আমি কিছুই জানিনা। সবাই নিজেরা খেয়ে নিয়ে বাসনও ধুয়েছে। কখন মা এসেছে তাও জানিনা। ঐ জামাইদদাকে আমার খুব ভাল লাগে, দিদি খুব খরখর করে। আমার বাবার কাছে রোজ আসে। এক একদিন ঝগড়া হলে আমি দেখেই বুঝে নিই জিজ্ঞেস করি কী হয়েছে, মন খারাপ করে থাকছ? তখন বলে তোমার দিদি ঝগড়া করে আর ভাত রান্না করেনা তুমি পয়সা আনো না বলেই তো রাগ করে। যেদিন আনি না সেদিন ঝগড়া করে, যেদিন আনি সেদিনও তো ঝগড়া করে। কোনোদিন বলে, আমাদের ঘরের কথা শুনে তুমি কি করবে?

    বল্লে মনটা হাল্কা হবে।

    তো আমি সবার সঙ্গে হাসি গল্প করলে বাবা মার রাগ। এই জামাইদাদার সঙ্গেও হাসি গল্প করি, বাবা মায়ের কি রাগ। কি করব আমার একে খুব ভাল লাগে। সেদিনের অসুখে সেই যে বেহুঁশ হয়েছিলাম তারপর চারপাঁচদিন ভাল মতন কথা বলিনি, খাইনি, সবাই খুব কেঁদেছিল। পাড়ার সকলে আমাদের বাড়ি।

    তারপর থেকে সেরে উঠেছি। এখন তো ভাল হয়েছি আমাকে আর কেউ বকাবকি করেনা। বিয়ের জন্যেও কেউ জোর করেনা। একটা বাড়ী কাজ নিয়েছিলাম ছেড়ে দিলাম। সে বাড়ির ছেলেটা কিরকম বিচ্ছিরি। উঁচু লম্বা ফর্সা মতন সারাদিন পড়াশোনা করে। বেশি কাজ নেই, ছেলেটা আর ওর বাবা মা। ছেলেটা বাড়ি থকে সারাদিন। ওরা মা রান্নাঘরে কাজ করে, আমি ঝাঁট দিই ঘর মুছি। হঠাৎ দেখি আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে, আমি চমকে উঠেচি। চান করে সব জামাকাপড় খুলে ন্যাংটো হয়ে আর দরজা খুলে রাখে। আমি অতো ভয় পাইনা। গিন্নীটাকে বল্লাম। ও বলছে না না, আমার ছেলে বাচ্চা। ও কিছু বোঝে না। আরো দুদিন দেখলাম। চট করে তো ছাড়তে পারি না, টাকা তো লাগবে বলো? কিন্তু তাও দেখি ওরকমই চান করে আমাকে দেখে হাসে। যে কাজ ঠিক করে দিয়েছিল তকে বল্লাম, সে বলল অসুবিধা হলে ছেড়ে দিবি।

    পরদিন গিন্নীটা বলছে, দুপুরবেলা আমি কালীমন্দিরে যাচ্ছি। তোর কাজ কর। শেষ হলে আমার ছেলেকে বলে চলে যাস। ওরে বাবা, আমি বলে দিলাম, আমি একা বাড়িতে কাজ করবনা। চলে এলাম সোজা। কিছু হলে তখন আমাকে কেউ বাঁচাবে না। ওর মা-টাও আমাকেই দোষ দেবে।

    কত বাড়ি দেখা হল। এখনও তো বেশি বড় হইনি। যখন মায়ের মতন হব তখন আরো কত বাড়ি দেখব। কত ভাল কত খারাপ। মায়ের মতন বড় হওয় অব্দি কি বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতেই থাকব? না আমি ভাবি যে বাবাকে বলব আমকে বিয়ে দিও না, আমাকে তোমার পার্টিতে নিয়ে নাও। দাদা আছে, আমিও থাকব। আমাকে ঐ চক্‌চকে সানাইএর মত বাঁশিগুলো বাজাতে দেবে। আমি তো বাজাতে পারি। যখন বাবা থাকে না, আমি একএকদিন বাজাই। জামাইদাদাও এগুলোই বাজায়। ওরা যা বাজাতে বলে সব বাজাতে পারি। আমি তো আর দাদার মতন নেশা খাব না, দুটো পয়সা পেলে ঘরেই আনব। বলব বাবাকে।

    সৌজন্যে: কলধ্বনি
    লেখিকার যোগাযোগ: [email protected]

  • বিভাগ : গপ্পো | ১১ মার্চ ২০১২ | ১১৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • তাতিন | 127.197.67.97 (*) | ৩০ এপ্রিল ২০১২ ০৪:২৯90310
  • েইটা খুব ভাল হয়েছে
  • সিকি | 132.177.16.128 (*) | ৩০ এপ্রিল ২০১২ ০৪:৩৭90311
  • টেস্টিং
  • Anirban Roy Choudhury | 60.83.245.86 (*) | ১৭ মে ২০১২ ০৩:৩৯90312
  • খুবই বাস্তবধর্মী লেখা - ভালো লাগল //
  • aloka sarkar | 24.139.222.67 (*) | ১৭ মে ২০১২ ০৮:৩১90313
  • ভালো লাগলো
  • কউ স্তব | 120.234.59.226 (*) | ১৭ মে ২০১২ ১১:২২90314
  • সাহস আছে মনে হয়
  • কউ স্তব | 120.234.59.226 (*) | ১৭ মে ২০১২ ১১:২২90315
  • সাহস আছে মনে হয়
  • Soham | 168.144.51.112 (*) | ২০ মে ২০১২ ১০:৩৬90316
  • অসাধারণ
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত