• বস্টনে বংগে : ষষ্ঠ পর্ব (মেয়েলিপনা ও পৌরুষ)

    বর্ন ফ্রি লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্য যৌনতা | ১০ মার্চ ২০১৪ | ১১১ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • গত এক বছরে আমাদের চারপাশে হিংসা ও অসহিষ্ণুতার এক দুর্ভাগ্যজনক ঊত্থান লক্ষ্য করছি। জানি না, সেটা হয়ত সব সময়ই ছিল, হতে পারে আজকাল মিডিয়ার কল্যাণে সেটা বেশি করে নজরে পড়ছে। ধর্ষণ তো কখন যে গা সওয়া হয়ে গেছে, নিজেরাই বুঝতে পারি নি। এখন যেন ‘গন’ না হলে বিবেকে তেমন ধাক্কা লাগে না। তার ওপর যদি আক্রান্ত মানুষটি প্রানে বেঁচে যান, তাহলে এমনকি প্রাইম টাইমেও তাঁর বরাদ্দ কমে যায়। 

    শুধু মেয়েদের ওপরেই বা বলি কেন, যেকোনো রকম ‘অপর’-এর প্রতি আমাদের হিংসা যেন বেড়েই চলেছে। আর সব থেকে আতঙ্কের বিষয় হল কোন হিংস্রতা আমাদের মনকে নাড়া দেবে তা ঠিক করে দিচ্ছে কর্পোরেট মিডিয়া। কোন ‘অপর’ বেশি আপন আর কোন ‘অপর’-কে উপেক্ষা করা চলে, তা যেন কোনও এক অদৃশ্য সুতোয় নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলেছে। যে সময়ে আমাদের আরো ধৈর্য্যশীল, আরো মমতাময় হয়ে ওঠার কথা ছিল, সেই সময়েই আমরা আরো বেশি করে অসহিষ্ণুতার চর্চা করে চলেছি।

    আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই অসহিষ্ণুতার পেছনে এক পৌরুষ-সাধনার চালচিত্র রয়েছে। মানিয়ে নেওয়া, নরমভাবে সমাধানের পথ খোঁজা, ক্ষেত্র বিশেষে মেনে নেওয়া এইসব মিনমিনে ভাব আমরা সজ্ঞানে বর্জন করেছি। আমাদের সমাজজীবনে আমরা একটা সহজ সমীকরণ করে নিয়েছি, নমনীয়তা ইক্যুয়াল টু মেয়েলি ইক্যুয়াল টু দুর্বলতা। মেয়ে মাত্রই দুর্বল, তাই যা কিছু মেয়েলি তাই পরিত্যাজ্য। আমরা প্রথমে আবেগপ্রবণতা আর চোখের জলকে মেয়েলি বলে দাগিয়ে দিয়েছিলাম, ক্রমে মায়া-মমতা-সহানুভুতি এগুলোও আস্তে আস্তে সেই তালিকায় ঢুকে গেছে। সেই কারনেই আমরা নেতা হিসেবে দেখতে চাই এমন একজনকে যিনি নির্মম, কঠোর, বলদর্পী হয়ত বা হিংস্রও। তাই যখন ইন্দিরা গান্ধী দয়াহীন, কঠোর হন তখন তাঁকে তাঁর ক্যাবিনেটের “ওনলি ম্যান” বলে ভূষিত করা হয়, সাহসের বীরগাথা রচিত হয়। কিন্তু আমাদের শেখান হয় না সাহস মানে শুধুই আক্রমণ নয়, সাহস মানে সহিষ্ণুতাও। কিন্তু দেখুন, সহিষ্ণুতাও কখন যেন মেয়েলি তালিকায় ঢুকে গেছে।  আমরা ভুলে গেছি, সহিষ্ণুতা যদি মেয়েলি হয় তবে যীশু এবং গান্ধী দুই সর্বোত্তম মেয়েলি পুরুষ, যাদের সামনে পৌরুষের যাবতীয় দম্ভকে নতজানু হতে হয়। 

    এ লেখা পুরুষদের বিরুদ্ধে নয় এমনকি পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধেও নয়। এ লেখা পৌরুষের যে নিষ্ঠুর সামাজিক নির্মাণ তার বিরুদ্ধে। সমস্যা হল, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমরা সবাই সেই অকমনীয় পৌরুষকেই আমাদের আদর্শ বলে ধরে নিয়েছি। তাই শেয়ারিং আর কেয়ারিং-এর বদলে ফাইটিং স্পিরিট আমাদের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, সমাজটা যদি শুরু থেকে পুরুষতান্ত্রিক না হয়ে নারীতান্ত্রিক হত, তাহলে কি আমরা আরো একটু নমনীয়, কমনীয়, মায়াময় সমাজ-ব্যবস্থা দেখতাম, না কি সেই ব্যবস্থাতেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবীরত্বই আদর্শ নারীত্বের অভিজ্ঞান হয়ে উঠত? শুনেছি দিনের শেষে সব ক্ষমতাই একই ভাষায় কথা বলে।

    এই লেখাটা লিখতে লিখতে কেন জানিনা, বার বার করে ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা মনে হচ্ছে। নিখাদ মেয়েলিপনাও যে এমন নিরুচ্চার প্রতিবাদ হয়ে উঠতে পারে তা ঋতুকে না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। কোনও পাবলিক স্টেটমেন্ট নয়, এমনকি নিজের বিচরণভূমি চলচ্চিত্রেও বহুদিন পর্যন্ত কোনও বক্তব্য নয়, যাস্ট নিজের অদম্য মেয়েলিপনা দিয়ে সারাজীবন ধরে যাবতীয় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের প্রতিবাদ করে গেল। আমরা যত ওকে নিয়ে মশকরা করেছি, যত আকারে-ইঙ্গিতে ইশারা করেছি, যত মুচকি-মুখ ব্যাঁকানো-হা হা হেসেছি, ও তত বেশি করে আপন করে নিয়েছে মায়াবি কাজল, রঙ্গীন উত্তরীয়। আমরা যত ওর দোপাট্টার ফাঁক দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি, ঋতুপর্ণ ঘোষ ‘বুক বানাচ্ছে’ কি না, ও ততই আরো কমনীয়, আরো নির্ভীক হয়েছে, আরো বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে। ঋতু আমাদের শিখিয়ে গেছে গলার শিরা না ফুলিয়ে, হাতের আস্তিন না গুটিয়ে, কোনোরকম বাচিক বা শারীরিক হিংস্রতা ছাড়াও যুদ্ধ জেতা যায়। ঋতু আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেছে মেয়েলিপনা আর দুর্বলতা দুটি সম্পূর্ণ সম্পর্ক-বিযুক্ত শব্দ। 

    এই প্রসঙ্গে আরেকটি বহু আলোচিত শব্দের কথা মনে পড়ে গেল, অভিমান। পৌরুষের যে অভিমান তার সঙ্গে বলদর্পিতা এবং তার প্রদর্শন অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। পৌরুষ অভিমানাহত হলে কুরুক্ষেত্র বা লঙ্কাকান্ড হয়ে যায়। নারীর অভিমান হলে সে বড়জোর খাওয়ার থালা ঠেলে দেয় অথবা কথা বলা বন্ধ করে। পৌরুষের অভিমান দাবি করে নির্ণায়ক যুদ্ধ, মেয়েলি অভিমান চায় স্নেহ, আদর, নিরাপত্তা। আশ্চর্যভাবে, পুরুষের অহং-অভিমান আমাদের সম্ভ্রম আদায় করে নেয়, মেয়েলি আবেগ-অভিমান আমাদের কাছে হয় জোলো অথবা নিছক ন্যাকামি।

    এই যে আজকের দিনে যুক্তিনিষ্ঠ বিশ্লেষণের দাম আবেগজর্জরতার থেকে এত বেশি, তার কারন কি সামাজিক স্তরে পৌরুষের আরাধনা? ঐতিহাসিকভাবে, আমাদের দর্শন, ধর্ম, সমাজচেতনা, অর্থনীতি এমনকি বিজ্ঞানের পাঠনেও পুরুষদের আধিপত্য অনস্বীকার্য। আমাদের যাবতীয় জ্ঞানশাস্ত্র মূলতঃ পুরুষদের দ্বারা অধীত ও লিখিত। সেই কারনেই কি যুক্তির স্থান আবেগের ওপরে? সেই কারনেই কি আমাদের উন্নয়নের ভাবনায় কারখানার জায়গা চাষের জমির থেকে বেশি মুল্যবান? বহিঃশ্রম গৃহশ্রমের থেকে বেশি সম্মানের? বহুতলে থাকার স্বপ্ন, সন্তানের দুধেভাতে থাকার স্বপ্নের থেকে বেশি মনোলোভন? 

    এখন তো কর্পোরেট দুনিয়াই আমাদের সব কিছু শেখায়। কিছুকাল যাবত সেই দুনিয়াই হঠাৎ করে অনুধাবন করেছে যে আবেগাঙ্ক (ই-কিউ) বুদ্ধ্যাঙ্কের (আই কিউ) মতই সমান গুরুত্বপূর্ন। তাই এখন তারা হা রে রে রে করে চলেছে ই-কিউ শিক্ষার ক্লাসে। এই ই-কিউটাই খুব সহজে শিখে নেওয়া যেত নিজের চারপাশ থেকেই যদি আমরা তাকে যথাযথ সম্মান দিতাম। 

    তাই এই চতুর্দিকে ঘটে চলা অসহিষ্ণু হিংস্রতার মাঝে দাঁড়িয়ে মনে হয়, আমরা সবাই যদি আজ একটু মেয়েলি হই, তাহলে বোধ হয় এই পুরুষ-পরুষ সমাজটার উপকার-ই হয়। কিছু পুরুষ দোষ ছেড়ে চলুন না কিছু মেয়েলি গুণ রপ্ত করি, একটু অর্ধনারীশ্বর হই, একটু ‘ছক্কা’ হয়ে উঠি। 

  • বিভাগ : অন্য যৌনতা | ১০ মার্চ ২০১৪ | ১১১ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • nina | 22.149.39.84 (*) | ১০ মার্চ ২০১৪ ০৫:৪৪88704
  • দারুণ
  • dd | 132.167.9.117 (*) | ১০ মার্চ ২০১৪ ০৬:১৮88700
  • খুবই ফাসক্লাস লাগলো। এনার লেখা বরাবরই ভারী ভালো লাগে।এবারেও ব্যাত্যয় হয় নাই।

    কিন্তু ইথার বা ঈশ্বরের মতন সর্ব্যবাপী "কর্পোরেট মিডিয়া" মনে ধরলো না। সারা বিশ্বে (আচ্ছা, উগান্ডা বাদ্দিয়ে) সমস্তই কি এই ভুতুড়ে কঃ মিঃ নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে ? কিছু চলমান অশরীরি আমাদের ইংগিতে জানাচ্ছে এমনটি নাচো আর আমরাও ডিগবাজী খেয়ে অস্থির ? এটা জমে নি।
  • de | 190.149.51.68 (*) | ১০ মার্চ ২০১৪ ০৭:৪৩88701
  • বাঃ! খুব ভালো!
  • sosen | 24.139.199.11 (*) | ১০ মার্চ ২০১৪ ০৭:৫৬88702
  • খুব উপর উপর পড়েছি, কিন্তু খুব জরুরি লেখা
  • Pramit | 213.99.217.10 (*) | ১০ মার্চ ২০১৪ ১১:৩৭88703
  • খুব ভালো আর সময়োপযোগী লেখা।

    কতগুলো লাইন মন ঁছুয়ে গেল।

    "সহিষ্ণুতা যদি মেয়েলি হয় তবে যীশু এবং গান্ধী দুই সর্বোত্তম মেয়েলি পুরুষ" - অসাধারণ ভাবনা।

    তেমন-ই "পৌরুষের অভিমান দাবি করে নির্ণায়ক যুদ্ধ, মেয়েলি অভিমান চায় স্নেহ, আদর, নিরাপত্তা" - এটা যেন আমাদের মতো অনেক পুরুষের-ই নিজেদের জীবনের re-assessment করার প্রয়োজনীয়্তা অনুভব করায়।
  • | 127.194.85.205 (*) | ১১ মার্চ ২০১৪ ০৩:৩২88707
  • বেশ ভালো লাগলো।
  • রোবু | 213.147.88.10 (*) | ১১ মার্চ ২০১৪ ০৪:১৩88708
  • খুব ভালো লেখা। বরাবরের মতই।
  • Biplob Rahman | 212.164.212.61 (*) | ১১ মার্চ ২০১৪ ১২:২২88705
  • মানবিকতাটাই জরুরি। আর ঋতু'র প্রতিবাদ!
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ১১ মার্চ ২০১৪ ১২:২৭88706
  • "এই চতুর্দিকে ঘটে চলা অসহিষ্ণু হিংস্রতার মাঝে দাঁড়িয়ে...." এক্কেবারে ঠিক।
  • Chandan | 24.139.160.7 (*) | ১৩ মার্চ ২০১৪ ০৪:৩৫88709
  • খুব ভালো :) লেখার স্টাইল টা দারুন লাগলো !
  • নীতা বিশ্বাস | 127.200.86.147 (*) | ১৫ মার্চ ২০১৪ ০৪:২১88710
  • Re: বস্টনে বঙ্গে--পর্ব ছক্কা-- মেয়েলিপনা ও পৌরুষ
    comment from Neeta on 15th march
    এই লেখাটির প্রত্যেকটি অক্ষর, শব্দ, ধ্বনী, প্যারাগ্রাফ অত্যন্ত বিশুদ্ধ উচ্চারণ। কলমকাঠির জয় হোক। আর আশ্চর্য, লেখক লিখতে লিখতে ঋতুপর্ণর কথা মনে করেছেন আর আমি পড়তে পড়তেই ঋতু কে মনে করেছি।আশ্চর্য সমাপতন! ঋতু নীরবে আমাদের শিখিয়েছে, কিভাবে প্রতিবাদ করতে হয়। আসুন না ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে আমরা একটু মেয়েলি হই! তবে যদি আজকের বিশ্ব নতুন আলোয় বাঁচে!
  • Ekak | 132.167.110.162 (*) | ১৫ মার্চ ২০১৪ ০৪:৩১88711
  • পৃথিবী শুধ্ধু সবাই একরকম ,সে যে কোনো "লি" হয়ে গেলে সে বড় বেরঙীন আনপ্রদাক্তিভ জগত হবে :( শক্তি কা সন্তুলান জরুরি হায় :)
    পরস্পরের প্রতি ভয় থেকে যাওয়াটা জরুরি ।
  • chorki | 127.202.56.70 (*) | ১৫ মার্চ ২০১৪ ০৫:০৬88712
  • boddo purono ekghye "oti sorolikoron" bishleshan ....bole mone holo,
  • Kausik Bhaduri | 127.203.215.178 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৪ ০৩:৫০88713
  • একেবারে হক কথা। পুরুষগুলো মাত্র গুটিকয় ছেড়ে দিলে টোটাল প্রাণীজগতেই একেবারে অপদার্থ, প্রজনন ছাড়া কিছুতেই কাজে লাগে না, উলটে অকাজ করে। এখন সময় এয়েচে পৃথিবী নিস্পুরুষ হোক। মেয়েরা নিজেদের ক্লোন নিজ গর্ভে ধারণ করে অমর হোন। ইয়ারকি নয় মাইরি বলচি কাজের কাজ হবে। ইগোর থেকেও সুন্দর অধিক কাম্য।
  • Kausik Bhaduri | 127.203.215.178 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৪ ০৩:৫০88714
  • একেবারে হক কথা। পুরুষগুলো মাত্র গুটিকয় ছেড়ে দিলে টোটাল প্রাণীজগতেই একেবারে অপদার্থ, প্রজনন ছাড়া কিছুতেই কাজে লাগে না, উলটে অকাজ করে। এখন সময় এয়েচে পৃথিবী নিস্পুরুষ হোক। মেয়েরা নিজেদের ক্লোন নিজ গর্ভে ধারণ করে অমর হোন। ইয়ারকি নয় মাইরি বলচি কাজের কাজ হবে। ইগোর থেকেও সুন্দর অধিক কাম্য।
  • Kausik Bhaduri | 127.203.253.83 (*) | ১৯ মার্চ ২০১৪ ০২:০৩88716
  • আমি পুরোপুরি একমত আপনার সঙ্গে। পৃথিবী পুরুষ শূন্য হোক, ওটা আপনার নয়, আমার অভিমত। হলে ন্যূন এই শর্মার কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না, আমি ঘরপোড়া গরু!!!

    একটা বিষয়ে যেটাকে ইংরেজিতে বলে empathy , % পুরুষের বস্তুটা বেশ দুর্বল, এতটাই, প্রায়শই হার মেনে যায় টেস্টেটোরিয়াল ইগোর কাছে। নিজে পুরুষ হয়ে এটা হাড়ে হাড়ে বুঝি (কারণটা বয়োঃজনিত হলেও হতে পারে)।
  • Born Free | 113.21.127.83 (*) | ১৯ মার্চ ২০১৪ ১২:০৯88715
  • প্রথমে-ই যাদের ভালো লেগেছে বা লাগেনি, সব্বাইকে থাঙ্কু, লেখাটা পড়ার জন্য।
    এইবার কয়েকটা উত্তর। পৃথিবী পুরুষ-বিহীন হোক এমন কথা লিখিনি, লিখতে চাই-ও নি। পৃথিবীর সবাই এক রকম হয়ে যাক, একথাও বলতে চাই নি কোথাও। বলতে চেয়েছি যে গুনগুলোকে মেয়েলি বলা হয়, সেগুলোর একটু সম্মান হোক, একটু চায় পে চর্চা হোক। সেটা সন্তুলানের জন্যই জরুরি হায়। শক্তির দড়ি টানাটানি নয়, সহাবস্থান হোক। আমরা একটু শিখি যে আবেগের প্রকাশ মানেই দুর্বলতা নয়। তবে পরস্পরের প্রতি ভয়ের দরকার কি সেটা অবশ্য বুঝলাম না।
    এইবার কঠিন প্রশ্নের উত্তর। একঘেয়ে লাগলে দুক্ষিত:, আশা করি পরে আরো ভালো লিখব। বিষয়টা নিসন্দেহে পুরনো, এমনকি আমি নিজেই এক জায়গায় লিখেছি "বহু আলোচিত"। কিন্তু কি করব বলুন, দরকার তো এখনো ফুরোয় নি, তাই বার বার ঘ্যান ঘ্যান করে একই কথা বলতে হয়। আর হ্যা, আগেও বলেছি, বস্টনে বঙ্গে লিখছি সহজ ভাষায় দুটি গপ্পগাছা করব বলে। তাই সব কিছুই এখানে একে একে দুই করে লেখার চেষ্টা করি। এতে "অতি সরলীকরণ" হয়ে গেলে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে, ক্লাসের ভালো স্টুডেন্ট-এর কাছে যেটা সরল, আমার মত ব্যাক বেঞ্চআরের কাছে সেটাই কঠিন। তবে পরের বার থেকে আপনার পরামর্শ/সমালোচনা মনে রাখব।
    সব্বাইকে আবার থ্যাঙ্কু।
    ভালো থাকবেন, - বর্ণ ফ্রি।
  • অরুণাভ | 113.242.197.96 (*) | ২৭ মার্চ ২০১৪ ০৬:২৭88717
  • খুব ভাল। আসলে পুরুষের রোজকার যুদ্ধ, মানে তাঁকে রোজ সকালে বাইরে বেরিয়ে যে কাজটা করতে হয়, সেটার অর্থমূল্য আছে। অথচ, বাড়ির ভেতরে যে কাজ এতদিন পর্যন্ত মহিলারা করে আসতেন, সেটার অর্থমূল্য নেই। এটা হয়তো কোনও প্রভাব ফেলছে। অর্থমূল্য দিয়েই তো সব ঠিক হয়। তাই, নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দাপাদাপির মধ্যে ওইসব কাজ কখন বালের কাজ বা মেয়েলি কাজ হয়ে গিয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার, ওই কাজগুলোই এখন আবার বাজারের নিয়মে অর্থমূল্য সহ ফিরে আসছে। ওই ই কিউয়ের মত করেই।
    জানি না ঠিক বললাম কিনা, তবে কেন জানি না, এই সমস্যা শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকার বলেই মনে হয়। গ্রাম জীবনে অনেক কিছুই এখনও হাত ধরাধরি করে চলে। সেখানে তো দেখি, ধানচারা মহিলারাই মাঠে লাগায়, মানে ভাল পারে তাই। বাড়ির গরুর দেখভাল মহিলাদের হাতেই থাকে। বড় চাষী পরিবারেও ধান বাড়িতে আসার পর তার নজরদারি মহিলারাই করেন। এই সংঘাতটা বেঁচে থাকার স্টাইলের কারণেই অনেকটা কম বলে মনে হয়।
  • Abhijit | 113.21.126.60 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৪ ০৮:৪৫88718
  • "At its heart is a new form of misogyny that rejects everything remotely feminine, where even feminism becomes all about embracing the masculine as in the film Gulaab Gang. It celebrates the violence of the alpha predator who sits on top of the pecking order and dominates the pack. Not surprisingly, women are increasingly feeling increasingly unsafe in Indian cities. This new macho cult has no desire to be Ardha-Nareshwar, the half-woman God. It sees only cross-dressing television jesters embracing the female side. It is terrified of becoming Shikhandi, a constant pejorative term used in political arena nowadays. Implicitly we seem to agree with the British colonizer's gaze: effeminacy is a bad thing."

    https://in.news.yahoo.com/why-is-there-a-rising-machismo-of-the-mahadev-070142500.html?_e_pi_=7%2CPAGE_ID10%2C8381544678
  • Soumyadeep Bandyopadhyay | 127.194.26.196 (*) | ১২ এপ্রিল ২০১৪ ০৯:২৬88719
  • কুর্নিশ
  • mou | 151.0.10.77 (*) | ২১ মে ২০১৪ ০২:০৩88721
  • Bhalo laglo khub....
  • pi | 233.176.43.69 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৬ ০২:৩৬88723
  • হ্যাঁ। এইখানটা পড়ে তাই মনে হল।
    পটেলের যে অনুষঙ্গগুলি জাতীয়-স্মতিতে টিকিয়া আছে, সেগুলি পৌরুষের অভিজ্ঞান— বলিষ্ঠতা, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের ক্ষমতা, নিজের ইচ্ছা প্রতিষ্ঠা করিবার সামর্থ্য ইত্যাদি। অর্থাৎ, পটেল সেই ‘পুরুষ’, নরেন্দ্র মোদী নিজেকে যে ‘পুরুষ’ হিসাবে দেখাইতে চাহেন। পটেল নিজে তেমন ছিলেন কি না, নরেন্দ্র মোদীর নিকট সেই প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক। তাঁহার চরিত্রের অন্য সব দিকে ছাঁটিয়া তাঁহাকে একটি ‘সামরিক-রাষ্ট্রের’ উপাস্য মূর্তিতে পরিণত করাই এই প্রচারের লক্ষ্য। সেই দেবতার অবতার কে হইবেন, দেবতার জন্মের পূর্বেই তাহা স্থির হইয়া গিয়াছে।
    নরেন্দ্র মোদী তাঁহার স্বচ্ছ ভারত অভিযান-এর সূচনার জন্য ২ অক্টোবরকেই বাছিয়া লন, তিনি চরকার সম্মুখে বসিয়া ছবিও তোলান। কিন্তু যে ভঙ্গিতে পটেলকে আত্মসাৎ করা সম্ভব, প্রবীণতর গুজরাতিকে সেই ছকে দখল করিয়া লওয়া যায় না। কথাটি সম্ভবত স্বয়ং মোদীও জানেন। কারণ, তিনি নিজে যে যে ধারণার প্রতিনিধিত্ব করেন, গাঁধীর অবস্থান তাহার প্রতিটির বিপ্রতীপ। মোদী যে ‘পৌরুষ’-এর পূজারি, গাঁধী সেই অর্থে ছিলেন ‘নারী’— বাপু হইলেও মা। মুসলমানদের প্রতি, দলিতদের প্রতি, সর্বোপরি ‘শত্রু’র প্রতি গাঁধী যে অবস্থানে বিশ্বাসী ছিলেন, মোদীর রাজনীতি তাহার ছায়াও মা়ড়ায় না। এই অসম্ভাব্যতার কারণেই মোদী গাঁধীর চশমা লন, চরকা লন। বাহ্যিক গাঁধীকে আত্মসাৎ করা চলে। কিন্তু তাঁহার আত্মা, তাঁহার বিশ্বাস মোদীদের নাগালের বাহিরে। অতএব, পটেলই ভরসা।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত