• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • মনের টান থাকলেই ফোনে পেয়ে যাবি

    সুব্রত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৫ জুন ২০১৭ | ৫৩৫ বার পঠিত
  • মহীনের ঘোড়াগুলির গান প্রথম শুনেছিলাম সেই ১৯৮৬ সালে। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ছি তখন, দ্বিতীয় বর্ষ, আমরা তখন নিজেদের কিছু গান বানিয়েছি; চেনা মানুষদের শুনিয়েছিও। তবে সেই গান যে তখনকার বাংলাগানের শ্রোতাদের কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে সেই  বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। মহীনের ঘোড়াগুলির গান শুনে (কলেজের সিনিয়র দের মুখে শোনা) আমরা বেশ জোর পেলাম আমাদের গান তৈরির প্রয়াসে। মহীনের গানগুলির গানের অর্ডার ফার্স্ট EP রেকর্ড কপি করে একটা ক্যাসেট পেয়েছিলাম। যদিও তার রেকর্ডিং খুবই খারাপ ছিলো, তাই-ই শুনতাম। গানগুলোর কথা এবং সুর শুনে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম, একটা জোর পেয়েছিলাম যে হ্যাঁ এই রকম বাংলাগান ও হয়। যদিও সেই গান শুনতে তেমন ‘বাজারে’ শোনা যেতনা, মানে ক্যাসেট বাজানোর জলসা বা সিনেমা তে। মন বলছিলো এই ধরনের গানই আমরা (মানে আমাদের জেনারেশন) শুনতে এবং গাইতে চাই। এরপর একটা EP রেকর্ড ও পেয়ে গেলাম ওদের সেকেন্ড অ্যালবামের ‘চৈত্রের কাফন’এর ‘এই সুরে বহুদূরে’। গানগুলো কিন্তু শুনতে ভাল লাগলেও গাওয়া বেশ কঠিন লেগেছিল, আসলে পড়ে বুঝতে পারছিলাম ঐ গান গাওয়ার একটা আলাদা শিক্ষা এবং পারদর্শিতার দরকার ছিল…যাই হোক সিনিয়রদের জিজ্ঞেস করতে, ওরা বলল এগুলো একধরনের “এক্সপেরিমেন্টাল’ গান, আর সেই গানের দর নেই এখন…

    এরপর ছ’টা বছর কেটে গেল, আমরাও কিছু গান তৈরি করলাম নিজেদের, এখানে শেখানো লোকগীতির সাথে আর পাশ্চাত্য গানের অনুবাদ করা কিছু গানের সাথে আমাদের গানগুলো গেয়ে দিতাম।

    অবশেষে অদ্ভুত ভাবে গৌতমদার সাথে যোগাযোগ হয়ে গেল; গৌতমদা তখন চলচ্চিত্রকার এবং নিজের ছায়াছবির জন্যে গান তৈরি করতেন; লিখতেন, ‘ওয়ার্কশপ’ করতেন ফিল্ম বানানোর; মহীনের ঘোড়াগুলি’র আর নেই আছে কিছু স্মৃতি; গৌতমদা তখন মহীনের ঘোড়াগুলি’র দলনায়কের একটা পরিচয়ের বাইরেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে অন্য অনেক ভূমিকায়। মহীনের ঘোড়াগুলি’র অন্য সদস্যদের সাথে পরে আলাপ হয়েছিলো। একসাথে গান ও করেছি, সময় কাটিয়েছি, আলোচনা-আড্ডায় – ঐ গৌতমদার সূত্রেই। তবে সবচেয়ে সঙ্গ করেছি গৌতমদার, আপনার চেয়ে আপন মানুষ হয়ে আমাদের কে নাগরিক শিল্পের এক মায়াবী জগতের মধ্যে নিয়ে চলে গেছি। সেই নিয়েই লিখলাম নীচেরই লেখাটা।

    গৌতমদার সাথে আমার আলাপ ১৯৯২এর কোনো এক শীতকালের সকালবেলা। তখন আমাদের (আমার সুর করা ও জয়জিত লাহিড়ী ওরফে বাপ্তা’র কথায় লেখা) কয়েকটা গান তৈরি হয়েছে – “ঘেন্না কর”। গেছিলাম সেই গানগুলি শোনাতে আর আলাপ করতে এমন একজন মানুষের সাথে যে আমাদের মনের মত গানের খরা এ কথা ও সুরের নদীর স্রোত আনবে।

    যদিও মহীনের ঘোড়াগুলি’র গানের সাথে আমার তার আগে পরিচয় হয়েছে। প্রেসিডেন্সি কলেজের মাঠে বা ক্যান্টিন এ শুনতাম একদল সিনিয়র’রা গাইছে ‘হায় ভালবাসি” – খুব টেনেছিল সেই গানের রচনা – তার সুর এবং লেখা – তার হারমোনি। শুনে মনে হয়েছিল আহ রে, আমরাও তো এই ধরনের গান করতে চাই, যে গানে থাকবে পাশ্চাত্য সুরের কাঠামো অথচ বলছে আমাদের নিজস্ব জীবনের কথা… সে গানের সুর কোনো পাশ্চাত্য সুরের থেকে লিফট করা নয়… আমাদের অত্যন্ত গভীরে যে প্রাচ্যের সঙ্গীত এর ভিত তার-ই আথে এক আন্তরিক মেলবন্ধন। কথা হবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক অথচ তার বক্তব্য হবে অনন্তময়।

    এই ধরণের গান করার জন্যে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি (আমি, উপল, টিটু, বাপ্তা, সুমন) সেই ১৯৮৬ সাল থেকেই…কিছু গান করা হয়েছিলো পাশ্চাত্য গানের সুরে এবং বক্তব্যের ট্রান্সলেশন করে – ভাণ্ডারে ছিল গোটা কয়েক গান যা আমরা বিভিন্ন কলেজ ফেস্ট এ গেয়ে বেড়াতাম..আর পুজোয় গান করতাম বিভিন্ন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে। ঐ গানের সাথে জুড়ে দিতাম কিছু লোকগীতি, মানে বড়জোর পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট চালিয়ে নিতে পারব। এর ওপর সাউন্ড সেট করা – সে সময়ে সাউন্ড বড়জোর হারমোনিয়াম আর তবলার উপযোগী ছিল, আমাদের গিটার বাজিয়ে গান গাওয়ার চল ছিলোনা। অতএব বিশেষ সময় দিতে হত অরগানাইজার দের বোঝাতে কেন অন্য ধরনের সাউন্ড সিস্টেম লাগবে,এবং তা যদিও বা দেওয়া হত – আমাদের মিউজিকের সেই সাউন্ড অ্যাডজাস্ট করতে চলে যেত অনেক সময়, দর্শকদের পুরোপুরি বোর করে তারপর মাত্র কয়েকটা গান শেষ করে আমাদের অনুষ্ঠান শেষ! মনে আছে সেই গানের শ্রোতা যারা (আমাদেরই ক্লাবে বন্ধুবান্ধব) সামনে চেয়ার ফাঁকা থাকলেও দাঁড়াত একদম পেছনে – খুব হাততালি দিত বটে, তবে “আরো একটা” বলার মত সাহস ছিলোনা। বাকি যেসব বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রোতা থাকতো তাদের মধ্যে সেই উৎসাহ থাকতো কই ...

    তবুও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতাম। কলেজের ক্যান্টিনে, খেলার শেষে ক্লাবের ছাউনিতে, মাঠে প্রত্যেকদিন খেলার পরে, বা এর ওর বাড়িতে। আমাদের বাবা মায়েরাও ঠিক বুঝতোনা এই সব গানের আদৌ কোন ভবিষ্যৎ আছে কিনা! মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে লুকিয়ে চুরিয়েই এই সব গান করি ...

    কিন্তু সেই গান তৈরি করা হঠাৎ আর এগোচ্ছিল না। নতুন সুর নেই, নতুন কথা নেই। এই সব গানের তো সেভাবে আর থিওরি হয়না – কী সেই জিনিস, কীভাবে শিখব… হঠাৎই একদিন আলাপ হয়ে গেল জয়জিতদার পাড়ার একজন চলচ্চিত্রকার বন্ধুর সাথে। সে মাঝে মাঝে আমাদের সাথে আড্ডা দিত। আড্ডায় গানও হত – সে গান শুনত। আমাদের এই অবস্থা দেখে বলল যে সে আমাদের নিয়ে যাবে এমন একজন মানুষের কাছে যে এই ধরনের গান করেছে আগে। সে খুবই ভাল মানুষ, আমাদের সাহায্য করতে পারবে। তো এক শীতের সকালে আমরা গিটার বাগিয়ে গেলাম সেই মানুষের সাথে আলাপ করতে...

    সেই প্রথম দিনের আলাপেই আমার মন কেড়ে নিয়েছিল গৌতমদা। আমাদেরর গান শুনেছিল. আর আমাদের গান শুনে এতোটাই খুশি হয়েছিল যে নিজেও আমাদের একটা গান শুনিয়েছিল। সেই গানের তীব্রতা, সেই গানের সুরের অভিনব ছন্দ, তার মর্মস্পর্শী সুর – সত্যি কথা বলতে কী আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। মনে এক বিন্দুও সংশয় রইল না যে আমরা একজন অতীব গুণী এবং সঙ্গীত জগতের এক অনন্য প্রতিভা এবং পথপ্রদর্শকের সাক্ষাৎ পেয়েছি। 

    ব্যাস, এরপর আর আমার পিছনে তাকানোর কিছু ছিলোনা – শুরু হল গৌতমদার সঙ্গ করা। তখন টেলিফোন সার্ভিসের খুবই খারাপ অবস্থা, প্রায় আউট অফ সার্ভিস থাকত। ফোন না পেয়েও বহুবার গিয়েছি গৌতমদার বাড়িতে। শহরেরই এক প্রান্তের থেকে গেছি আবার না পেয়ে ফিরে এসেছি। কখনও বা পুটুদি জানিয়ে দিতো কোথায় গিয়েছেন, সেইখানে হানা দিতাম একলাই। কখনও বা গিয়ে পড়েছি কোন ফিল্ম ওয়ার্কশপের মাঝে; কখনও বা হয়ত কোন আর্টিস্ট (ছবি)এর স্টুডিওতে। সেখানেই একটু সময় পেলে হয়তো কর্ড জেনে নিয়েছি গৌতমদার কোন গানের।

    আস্তে আস্তে ফোনে পেতে শুরু করলাম। গৌতমদা বলতেন “দেখবি মন সে ভাবে চাইলে ঠিক ফোনের লাইন পেয়ে যাবি। খবর দিয়ে যেতাম, গেলেই বলত নতুন গান কই? রোজ তো আর নতুন গান হতোনা, তাই পুরনো গানই গাইতাম। কখনো কখনো অন্যভাবে পুরনো গানও করতাম, আবার কখনো নতুন গান – এই ভাবেই তৈরি হয়ে গেল হঠাৎ আমাদের (বাপ্তার লেখা আর আমার সুর করা) “বাড়লে বয়েস”... ১৯৯৩তে...

    গৌতমদার ঘরে বসত গানের আড্ডা – সেখানে বিভিন্ন আমাদের বয়সী প্রতিভারা আসত তাদের গান নিয়ে। আসত তাপস দাস (বাপিদা), আসত দেবজ্যোতি মিশ্র, আসত সুরজিত চ্যাটার্জি, রিতিকা সাহানি। বনি, নীলের সাথে আলাপ হল। আসত মিঞ্জিরি, চন্দ্রিমা, পরমা; আসত বিভিন্ন বাউল – আসত গৌর ক্ষ্যাপা। এ ছাড়া আসত গৌতমদার বিদেশি বন্ধুরা – সুইডেন, ফ্রান্স থেকে। চলত টানা গান। সেই মধ্য রাত পেরিয়ে – গানের ফাঁকে ফাঁকে চলত পুটুদির তৈরি ব্ল্যাক কফি, আর সব শেষে অনবদ্য খাওয়াদাওয়া। প্রথম প্রথম খুব রাত হলে ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে দিত গৌতমদা বাড়ি ফেরার জন্যে, পরের দিকে থেকেই যেতাম খাওয়াদাওয়া করে। আলাপ হল অরুণেন্দু দাসের সঙ্গে। তার গানের সঙ্গে পরিচয় হল। আসত অর্ণব চ্যাটার্জি, আলাপ হল টুকির সাথে। কখনো হয়তো মিউজিসিয়ান থাকতো না, হয়তো কোন ফিল্মমেকার বা চিত্রকার, তাদের সাথেও কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে আবার সেই গান। আমি থাকলে আমায় টানা গেয়ে যেতে হত।

    এছাড়াও মাঝে মাঝে সেই ফিল্মমেকার বন্ধুর বাড়ি দেখা হত – তখন আমি টুক করে আরও কিছু আমার না জানা গৌতমদার গান তুলে নিতাম। এইভাবেই তুলে ফেললাম “পড়াশোনায় জলাঞ্জলি”, “কথা দিয়া বন্ধু”, “ঠিক না বেঠিক সত্যি মিথ্যে তা জানিনা”। আবার গাইতামও; একটু হলেও অন্য ভাবেই গাইতাম গানগুলো – গৌতমদা কখনো ঠিক করিয়ে দিত না, বলতো – এই সব গান এইভাবে গাইলেই তার লংজিভিটি বাড়বে, গানে প্রাণ থাকবে। যাই হোক, এক রাতে অমিতাভর ছাদে শুনেছিলাম “এলো কি এ অসময়”, গৌতমদার গলায়। সেদিন কোন কারণে সবার মনই একটু ভারাক্রান্ত ছিল, সেই সময় ধরা পড়লো গৌতমদার হৃদয়বিদীর্ণ সেই রেন্ডিশন। মনে আছে, মনের গভীরে আজও শুনতে পাই – দুর্ভাগ্য আর কাউকে শোনাতে পারবোনা,আটকে রইলো আমারই মনে কেবল!

    ১৯৯৫এর বইমেলায় সেই সব যারা গৌতমদার ঘরে গানের আড্ডাতে আসত তাদের নিয়েই গৌতমদা বার করলেন মহীনের ঘোড়াগুলির সম্পাদিত গান অ্যালবাম। সেই অ্যালবামের সকলের গানের সঙ্গে রইল গৌতমদার রচনা করা “পৃথিবীটা নাকি”। অনবদ্য সুর, লক্ষ্যণীয় সেই গানের “হা হা হা হা হা হা” পাশ্চাত্য সুর নয়, অনেক টা প্রাচ্য সুরেরই প্রভাব। পরে লক্ষ্য করেছিলাম যে Bm – F#m –  F – Emএর কম্বিনেশন। এই কম্বিনেশন “কথা দিয়া বন্ধু” গানেও আছে, অথচ সুর আলাদা এবং কোন ভাবেই এদের মিল খোঁজা যায়না। আমায় এক দিন অফিস থেকে ডেকে হঠাৎই “পৃথিবী…” গানটা শুনিয়ে কর্ডসগুলো তুলে দিল।  সেই গান আমরা অনর্গল এবং টানা গেয়ে যেতাম। কী যেন একটা প্রাণের টান পেতাম সেই সুরে। আর বারবার গেয়ে যেতে ইচ্ছে করত। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম অন্য কোনো কর্ডেই এই কর্ড replace করা যেতনা ... যেমন অনেক সময় Am না বাজিয়ে C বাজানো যায় ... বা Dএর সাথে F#m লাগিয়ে দেওয়া যায়। না, গৌতমদার গানে কর্ডগুলোতে ঠিক ঐ ধরনের replacement therapy করা যেতো না ...

    ১৯৯৬ এ আমরা হঠাৎই “শহরের উষ্ণতম” গানটা তৈরি করে ফেললাম। মনে আছে, ভ্যাপসা এক আগস্টের দুপুরে গৌতমদার বাড়িতে পৌঁছনো মাত্রই গৌতমদা, বাপ্তা এবং আরো কয়েকজন খাবার কিনতে বেরিয়ে গেলো। আমি পুটুদি কে শুনিয়ে টেস্ট করছিলাম গানটা কীরকম। পুটুদি শুনে চুপ, আমি ভাবলাম গানটা বোধয় সেরকম হয়নি। তারপর পুটুদি একটু পরে বলল “অপূর্ব হয়েছে গানটা”।  ১৯৯৭ এ বেরোলো “ঝরা সময়ের গান। গৌতমদা এরই মধ্যে একবার USA ঘুরে এলো। Los Angeles-এ যে বাঙালি সংগঠন গৌতমদার অনুষ্ঠান করেছিলো কাকতালীয় ভাবে সেই একই জায়গায় আমি ২০১০ এ গান গাইলাম,এবং জানতে পারলাম যে আমি ঠিক যেই সোফাতে বসে আছি ঠিক সেই সোফাতেই গৌতমদা এসে বসেছিল – what a coincidence! 

    ১৯৯৬এ গৌতমদা চলে গেলো কার্বি আংলং-এ, সেখানে আদিবাসীদের নিয়ে করল ওপেন এয়ার অপেরা। এরই মধ্যে আবার কোলকাতায় এসে ঝরা সময়ের গানের ক্যাসেট রেকর্ড, মিক্স করে ঠিক যেদিন বইমেলায় রিলিজ হল সেইদিনই আবার চলে গেলো কার্বিতে। আমি মাঝে মাঝে ভোরে এসটিডি করতাম ঐ সুদূর কার্বিতে। সেই সময় তখন সেল ফোন ছিলোনা। কারবিতে কোন একটাই বাড়িতে ফোন করলে মিনিট পাঁচেক পরে গৌতমদা এসে ধরত। জানাতাম অ্যালবাম কেমন শুনছে লোকে। দশ দিনে ২০০০ কপি বিক্রি হয়েছিল সেই অ্যালবাম, কোন অ্যাডভারটাইসমেন্ট ছিলোনা, ঐ গৌতমদার পথ দেখানো বইয়ের স্টলের সামনে গান গাইতাম। তাই শুনেই হোক বা কৌতূহলবশেই হোক (আমার মনে হত দ্বিতীয়টাই) বেস্টসেলার হয়ে গেলো সেই অ্যালবাম এবং তার সাথে চটি বই। প্রথম বেরোল বাংলা গানের বই উইথ কর্ডস। আমি ভাবতাম কে যে কেনে আমাদের অ্যালবাম! ভাবতাম, গৌতমদাকে এত লোকে চেনে, তারাই হয়ত কিনছে। গৌতমদা বলত – এই যে অ্যালবামগুলো দেখবি বছরের পর বছর এগুলো থেকে যাবে। ভাবতাম গৌতমদা হয়তো আমাদের মন রাখার জন্যে বলছে। গৌতমদা এত মন দিয়ে আমাদের গান শুনত, সেটাই অনেক অনেক পাওয়া মনে হত – হাজার হাজার শ্রোতার করতালির সমান!

    এই অ্যালবামে রেকর্ড হল “রাবেয়া কি রুকসানা” standard balladএর মত শুরু, কিন্তু যেই “পদ্ম গোলাপ জুঁই” সুরটা এলো – সেটা কর্ড ওয়াইজ খুব সিম্পল, স্রেফ Am থেকে Dm এ চলে গেলো, ব্যাস; কিন্তু কী সুন্দর মেলোডি – প্রথম বার শুনেই বারবার করে যেতে মন চাইতো। একে বারে যেন খুব খুব গভীর কোনও অনুভূতিকে সুর দিয়ে বেঁধে দেওয়া। পাঠক, এখন একবার লেখাটা রেখে গেয়ে দেখলে পারো ঐ লাইনটা, তাহলে হয়তো আরও গভীরে উপলব্ধি করতে পারবে আমার কথাগুলো।

    এই সময়ে গৌতমদা “কত কী করার আছে বাকি” গানটা তৈরি করছিলো আর করছিলো “এই মুহূর্তে” গানটা। অনেক দিন গানগুলো দুটো স্ট্যাঞ্জা হয়ে আটকে ছিল। তারপর হঠাৎই একদিন “কত কী করার আছে বাকি”র ঐ স্ট্যাঞ্জা হয়ে এলো “ঠিক কী যে চাই... খুঁজে বেড়াই”। আমরা তখন বনিদের বাড়ির ছাদে আড্ডা চালাচ্ছি, অনেক রাত হয়েছে এবার খেতে যাবো, ক্লান্ত, শ্রান্ত, আড্ডা শেষ কেমন একটা মনে ফাঁকা ফাঁকা লাগে – সেই মুহূর্তে ঐ স্ট্যাঞ্জাটা শুনে মনে হয়েছিল। আরে এটাই তো বলতে চাইছে মন। হ্যাঁ, ঠিক এইভাবেই!

    গৌতমদা ফিরে এলো কলকাতাতে ১৯৯৬এর মাঝামাঝি। তারপর ক্রমে ক্রমে আসতে শুরু করল গান গাওয়ার নিমন্ত্রণ। একে একে গৌতমদা আমাকে নিয়ে প্রোগ্রাম করল কল্যাণী ইউনিভার্সিটি, ডানকুনির মত বিভিন্ন জায়গায়। অবাক হয়ে দেখতাম গৌতমদার সেই অপূর্ব স্ট্রামিং, বাঙালিদের না দেখা সেই পারফরম্যান্স, সেই বাউল এবং আবার অত্যাধুনিক গান “পৃথিবী”, “কাফে”! কখনই মনে হতনা যে বাউলগানের যে মেজাজ আর অন্য গানের যে মেজাজ তার মধ্যে মিল নেই। সে এক অদ্ভুত অনুভূতি – মনে আছে সেই সব কনসার্টের ছবি কখনো গৌতমদার কোন চিত্রকর বন্ধু তুললে যে ছবিটায় আমার মুখ দেখা যাচ্ছে সেটা নিজে রেখে দিত। যেটায় গৌতমদার মুখ দেখা যাচ্ছে সেটা আমায় দিয়ে দিত। আমার কাছে আছে এখনো সেই ছবি; একটু মলিন। কিন্তু এখনো দেখলেই মনে হয় এই তো সেদিনের কথা!

    গৌতমদা সুরকার হিসেবে আমার বিশেষণের অপেক্ষা রাখেনা। আসলে সেই সুরের মধ্যে আমার এবং আমার মত আরও অনেকের অত্যন্ত অন্তরঙ্গ জীবনস্মৃতি আছে যে। সেই সুরকে আমার সেই জীবনের সুরের থেকে ভিন্ন করে দেখিনি কোনদিন – as if it was our life! আমিও সেই মুহূর্তে যে সমস্ত সুর করেছি, মনে হত হঠাৎই সুরটা হয়ে গেলো, আমি কিছুই করিনি। পাঠক Welcome to lifestyle music… Part of life… দল বেঁধে গাওয়ার গান একসাথে জড়ো হয়ে সময় কাটানোর গান... Never ever thought we needed a stage to sing… it was with us always, in all ways…

    তো, ১৯৯৭এ গৌতমদা তৈরি করলো “টেলিফোন” গানটা। আগেই বলেছিলাম সেই মুহূর্তে টেলিফোন সার্ভিসের করুণ অবস্থা।  হঠাৎই মজা করতে করতে তৈরি হয়ে গেলো the legendary song- “কখন তোমার আসবে টেলিফোন”। আরেকটা জিনিস। যেমন যেমন গৌতমতদার গানের সুর চট করে আমি মুখস্থ করে নিতাম, তেমনই কথাগুলোও বাপ্তা মুখস্থ করে ফেলত। তারপর চলত সেই গান গাওয়া আমার – মাঠে. ঘাটে, অফিসে,... আর কোথায় নয়? সেই সময় আমি না দেখে চল্লিশটা ঐ ধরনের গান করতে পারতাম। গানগুলো বেরোলো “মায়া” অ্যালবামে। এই অ্যালবামে “ধোঁয়া মেঘে” গানটাও বেরোলো। কোনও এক কারণে আমার প্রথম গাওয়া গানটা খুব বাজে হয়েছি এবং আমি দ্বিতীয়বার গাইতেও চাইছিলাম না। তো গৌতমদা বলল আমার সাথে হারমোনি করবে। তখন আর লোভ সামলাতে পারলাম না – একদিন ভোর চারটেয় গৌতমদার বাড়ি থেকে ফিরে পরের দিন আবার ঠিক দশটায় হাজির স্টুডিও রেকর্ড করার জন্যে। কেমন হয়েছিল সেই গানটা জানিনা, তবে সেই গান আমি আজও গাইলে নিজেরই চোখ ছলছল করে ওঠে! কেন কে জানে ...

    এর পর গৌতমদা তৈরি করলো “চাঁদ ডুবে যায়”আর “বাঙালি করেছ ভগবান”গান দুটো। সেগুলো বেরোল ১৯৯৮-এ। আমার সে বছর বিয়ে হলো, বিয়ের পর দিন ই রেকর্ডিং হচ্ছিল, তখন আমাদের (বাপ্তার লেখা আর আমার সুর করা) “কেয়ার করিনা” গানটা তৈরি। ফোন করে গৌতমদা বলল – এক্ষুনি স্টুডিওতে চলে আয়, ঐ গানটা রেকর্ড করবি। বিভিন্ন কারণে যাওয়া হয়নি। পরে অবশ্য গাবুরা লক্ষ্মীছাড়ার ফার্স্ট অ্যালবামে করেছিলো ওদের মত করে। কিন্তু আমার দেওয়া সুরটা অন্যরকম, বেদনাময়। সত্যি বলতে কী ভাবতে পারিনি গৌতমদা কোনদিন চলে যাবে – দুম করে!

    গৌতমদার সুর আর গানের কথা অভিন্ন। আমি চেষ্টা করে দেখেছি কথাগুলো কবিতার মত পাঠ করলে সেই কথাগুলোর মর্ম উপলব্ধি হয়না, কিন্তু সুরে গাইলেই অনবদ্য হয়ে যায় তার ব্যাপ্তি, সহজেই স্পর্শ করে তার মন। পাঠক, এক্ষুনি চেষ্টা করে দেখতে পারো “কত কী করার আছে বাকি” পাঠ করে তারপর সুরে গেয়ে বা “আমি গাই ঘরে ফেরার গান” বা “চাঁদ ডুবে যায়” গানটা, কিম্বা আর যে কোন গান! অথচ আমি আরও অনেকের গান, এবং আমার নিজের সুর করা গান ও দেখেছি কর্ড বাজিয়ে সুরে না গেয়ে দিব্যি পাঠ করা যায়।

    তো এই ভাবেই চলছিলো। ভেবেছিলাম এই ভাবেই চলবে। হঠাৎই গলায় চলে আসত নতুন সুর, বা গিটারে নতুন কর্ড প্যাটার্ন। লেখে যারা তারা বলতে পারবে – তবে গৌতমদাকেও দেখেছি, দুম করে পুরো গান রাতারাতি তৈরি করে ফেলতো। সঙ্গই গানের উৎস, আর গান তৈরি just matter of time! এই গান দল বেঁধে করার গান – এই গানের উৎপত্তি সঙ্গ। এই গানগুলো হারমোনি করে গাওয়ার, রাত জেগে আনন্দ করে গাওয়ার গানপথ চলতে চাওয়ার গান। এক মুহূর্তও যেত না যখন আমরা ঐ সব গান গুনগুন করিনি। বেশ চলছিলো ...

    হঠাৎই অফিসের কাজে জাপান চলে গেলাম। গৌতমদা বলল – এই যে তুই জাপান চলে যাচ্ছিস ... আমিও ইউরোপ চলে যাবো ভাবছি। খুব ভালোবাসতো আমাকে, আর আমিও। জাপানে পৌঁছে একদিন ফোন করলাম। গৌতমদা প্রচণ্ড এক্সাইটেড আমার ফোন পেয়ে, বলল –  সুব্রত, উফফ তুই কীভাবে বরফের মধ্যে ঘুরছিস ভাবতে পারছিনা! আচ্ছা শোন, এপ্রিলের ১৭ তারিখে যাদবপুর এ কনসার্ট আছে। চলে আসিস”। আমার যাওয়ারও কথা ছিল সেই সময় দেশে, তা কোনও কারণে পিছিয়ে গেলো। মিস করলাম কনসার্টটা। একটু খটকা লেগেছিলো, কী ব্যপার, ছন্দপতন হচ্ছে নাকি! আগে গৌতমদা বললে শত বাধা সত্ত্বেও অফিস কাটিয়ে ঠিক হাজির হয়ে যেতাম। শুধু যেতাম বললে ভুল হবে, এরকম হতো যে, হঠাৎই খেয়াল করতাম গৌতমদার সাথে ট্যাক্সি করে কনসার্ট করতে যাচ্ছি,আর, ফিরতাম এক সপ্তাহ পর। যাই হোক, সেবার দেশে ফেরার পর, সল্ট লেকে BE park এ গান আড্ডা হল আবার।আমি জাপান থেকে গৌতমদার জন্য একটা Pan flute কিনে এনেছিলাম (সেটা আজ ও আছে গৌতমদার ঘরে সাজানো), বলল যে নেক্সট অ্যালবামে ওটা ইউজ করবে। গৌতমদা was gifted in such a way যে কোন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট প্রথম বার তুলে নিয়েই বাজাতে পারত। আর একসেট বিদেশি গিটারের স্ট্রিং। তা গৌতমদার তখন কোন গিটারই নেই! আসলে একটা করে গিটার কিনত আর গিটার শিখতে সদ্যআগ্রহী কাউকে দিয়ে দিত, তো বলল ঠিক আছে আরেকটা গিটার কিনবে কয়েকদিনের মধ্যেই, তারপর স্ট্রিংগুলো লাগাবে। সেই দিন আমাদের গান স্বাভাবিক ভাবেই চলল প্রায় রাত দুটো অবধি। যেমন চলত আর কী! তারপর আমরা আমদের এক বন্ধুর গাড়ি করে ট্যাক্সি ধরিয়ে দিলাম ফুলবাগান থেকে। বিদায় জানানোর আগে আমরা সেই প্রথম দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলাম। বোধ হয় আমি পরের দিনই জাপান চলে যাবো সেই জন্যেই হয়তো। বসন্তকালের সেই রাতে হুল্লোড় করতে করতে আমরা ফিরে এলাম, আর গৌতমদার ট্যাক্সি আস্তে আস্তে সেই ধূসর রাত্রে মিলিয়ে গেলো...

    ২০ই জানুয়ারি রবিবার টোকিওতে দুপুর বেলা ১টার সময় বব মার্লের লাইভ প্রোগ্রামের ভিডিও দেখছি। দেখতে দেখতে হঠাৎই রিয়ালাইজ করলাম – আরে! গৌতমদা তো ঠিক এইভাবেই গান গায়! যেন ডাইরেক্ট ভগবানের সাথে যোগ স্থাপন করেছে! টিভি স্ক্রিনে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম জলজ্যান্ত গৌতমদা বব মার্লে হয়ে গান গাইছে, আর দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ঠিক করলাম ফোন করি, বারবার ট্রাই করে গেলাম, অন্তত তেরোবার ট্রাই করেছিলাম মনে আছে। কোনভাবেই কানেকশন হলনা। জাপানে প্রায় দুপুর ১টা মানে কোলকাতায় সকাল ১১টা। নাহ! কিছুতেই কানেকশন হলনা। মনটা খুঁত খুঁত করতে লাগলো। ইশ এখনি কথা বললে বেশ ভাল লাগতো, জানানো যেত আমার উপলব্ধির কথা। কিন্তু, কী আর করা যাবে!

    পরের দিন অফিস গিয়ে ইমেল পেলাম – গৌতমদা দুম করে সব মায়া কাটিয়ে ২০শে জুন বেলা ১১টা নাগাদ ( ঠিক যে সময় আগের দিন আমি ফোন এ চেষ্টা করেও কানেকশন পেলাম না), বেরিয়ে পড়েছে। আমাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পাড়ি দিয়েছে, ঘরে ফিরে গেছে গৌতমদা! দৌড়ে এপার্টমেন্ট-এ ফিরে এলাম। ফিরে এসেই ফোন করলাম গৌতমদাকে। অদ্ভুত ভাবে রিং হল, ফোন কানেক্ট হলো – গাবু ধরলো। পেছনে শুনতে পাচ্ছি গৌর ক্ষ্যাপার গান; শুনলাম সেই খবর! ভেঙে পড়লাম কান্নায় আমিও পুটুদির সাথে ফোনে। না, আর পাবোনা গৌতমদাকে টেলিফোনে। কলকাতাকে শূন্য করে পাড়ি দিয়েছে সুদূরে, সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে। বা সেই নদীর তীরে, হাওয়া ঝির ঝির করে বয় যেখানে, মনের গভীরে পড়ে থাক স্মৃতির বৃষ্টি, কখনো কি  ভোলা যায় ...

    গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশিত 'অ(ন)ন্য মহীন (১) থেকে'

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৫ জুন ২০১৭ | ৫৩৫ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kallol | 213.99.211.132 (*) | ০৬ জুন ২০১৭ ১০:২০82484
  • এক দশক আগের আমার আমেরিকা প্রবাসের দিনগুলি মনে পড়ে গেল, বন্ধুরা একটা সময় আমার গাড়িতে ওঠা ছেড়ে দিয়েছিলেন - কারন আমার গাড়িতে সেসময় শুধু দুটি গান-ই বাজত - "আমার প্রিয়া কাফে" আর "টেলিফোন" ঃ-)
  • আয়নামতি | 89900.227.90012.5 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:৩০82485
  • স্মৃতি কথার ছলে একজন শিষ্য তাঁর গুরুর প্রতি শব্দ দিয়ে, আবেগ নিয়ে যে নৈবেদ্য নিবেদন করলেন এক কথায় তা অনবদ্য। গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গ লাভের জন্যে আপনার ভাগ্যকে ঈর্ষা হলো না এতটুকুও, বরং আপনার আনন্দ দিনের স্মৃতিকথা পড়ে ভারী ভালো লাগলো।

    লেখার ভেতরে মাঝে মধ্যে যেভাবে বলেছেন, সেভাবে বিরতি নিয়ে ইউটিউব থেকে গানগুলো শুনেছি। অসুর গোত্রীয় হবার কারণে সবটা হয়ত অনুভূত হয়নি, তবে ভালো লেগেছে জার্নিটা।

    এই চমৎকার স্মৃতিকথার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

    *২০ জানুয়ারি হয়ে গেছে ভুলবশত।।। জুন করে দিলে ভালো হয়।
  • | 2345.110.123412.139 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:০৭82487
  • ঈশ্বর কলকাতাকে ভালো বাসেন বেশি, নইলে সম্পূর্ণ বীরভূমের এক বাউল হবার কথা যার, তাকে কেউ কলকাতার লেজেন্ড করে দেয়
  • ন্যাড়া | 890112.217.782323.153 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:০৭82486
  • বিশেষ কেউ বলে না, কিন্তু "রাবেয়া কি রুকসানা" একটি অতীব ভাল গান। মহীনের ছাতার নীচে যত গান হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সেরা।
  • Tim | 013412.126.235612.57 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:০৪82488
  • বহুদিন অন্ধকার নির্জন হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে এই গানগুলো শুনতে শুনতে ভাবতাম, নেপথ্যের গল্পগুলো না জানি কী। সুব্রতবাবুকে ধন্যবাদ এই লেখার জন্য।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন