• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • সম্পর্ক সম্পর্কগুচ্ছ প্রসঙ্গে: একটি না-প্রিভিউ মাত্র

    অবন্তিকা
    বিভাগ : ব্লগ | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ | ৩৯ বার পঠিত
  • “তুমি গুছিয়ে ঠিক কথা বলতে পারো না/ শুধু সময় নিজের গল্প বলে যায়” (শ্রীজাত) l সময় গল্প বলে l সু-সময় আর দুঃ-সময়ের গল্প l প্রেম-বিচ্ছেদ-প্রেম বিচ্ছেদ-প্রেমের এক চক্রাকার আবর্তনের গল্প l এক? নাকি একাধিক? বৃত্তগুলো আঁকতে থাকি l হিজিবিজি l ক্লাস ইলেভেনের ফিজিক্স নোটের শেষ পাতায়- কলেজের থার্ড বেঞ্চে- ব্যালান্স শিটের নিচে, এককোণে- একাধিক বৃত্ত l কিছু সম্পূর্ণ হয় l কিছু হয়না l আসলে তো চাই অসম্পূর্ণ থাক l অতৃপ্তিটা থাকুক l চারিয়ে যাক ক্রমশ l বৃত্তগুলো জট পাকাক l একের ঘাড়ে অন্যে চাপুক l পরস্পর পৃথক হোক l স্বতন্ত্র অস্তিত্বের ছাড়া ছাড়া বৃত্ত l হোক l কলরব শেষে চুম্বন হোক l সিঁড়ি পেরিয়ে চেয়ার টেবিল, আবছায়া জানলা পেরিয়ে অর্কিডের বাগান হোক l সম্পর্ক আমাকে খাতার ভাঁজে গাছের পাতার নাম চেনায় l সম্পর্কগুচ্ছ আমাকে শেখায়, সব ফুলের নাম জানতে নেই l লাল-নীল-গোলাপি-বেগুনী-শীতফুল-বসন্তফুল-বর্ষাফুল-শরৎফুল-অণ্বেষা-শবনম-কমলিকা-শ্রেয়সী... জানতে নেই এসব l প্রশ্ন করতে নেই l বরং ঘুম না এলে কবিতাযাপনের পৃষ্ঠাগুলোকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াতে হয় l আলতো আলতো আঙুল বোলাতে হয় অক্ষরে l আশ্লেষটুকু পেলে ওরা জীবন্ত হয়ে ওঠে l সেসময় আমার নদী হয়ে যেতে ভাল্লাগে l অন্তত ওই নির্ঘুম রাতটুকুর নির্যাস বুকে নিয়ে l প্রত্যাশাহীন সম্পর্ক আর সম্পর্কগুচ্ছের কাছে আকাঙ্ক্ষা করতে ভাল্লাগে l জীবনকে বলতে ভালো লাগে, “ফিরিয়ে দাও এক জীবনে অঙ্কে যত শূন্য পেলে” (পিনাকী) l

    “আমি তো কষ্টই দিচ্ছি, আমিই তো দিচ্ছি হাহাকার” (সৌরভ):
    কবিদের বোধ হয় পদবী থাকতে নেই l কাব্যে তাদের গোত্রপরিচয় l অবশ্য, কিছু আদরের ডাকনাম থাকতে হয় l নাম-ডাক হলে সেসব আদর বদলে বদলে যায় প্রথম ঋতু থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ঋতুতে l ফুটপাথের দোকানে সারিবদ্ধ ঘুড়ি দেখতে দেখতে বেছে নিই ঝলমলে কাগজ সাঁটা কোনো একটাকে l ঈষৎ দরদামের পরে, তাকে নিয়ে ঘরে ফিরি l ঘুড়ি আমার হয় l তারপর ছাদে গিয়ে দেখি আকাশময় আরো আরো ঘুড়ি l রঙিন l বেপরোয়া l আমি আমারটা আকাশে ওড়াই l খুব একচোট হাড্ডাহাড্ডির পর অন্য কারো ঘুড়ি আমার চৌকাঠে মুখ থুবড়ে পড়ে l আর আমার ঘুড়ি অন্য কোনো চেনা-অচেনা কার্নিশে l প্রশ্ন করা হয়ে ওঠে না- ঘুড়ি, আমি কি তোমার হয়েছিলাম? অথচ আবার হেমন্তকাল আসে হইহই করে- আবার ফুটপাথে ইতিউতি- আবার সার দেওয়া দোকানপসরা- ছাদ কার্নিশ আকাশ উঠোন চৌকাঠ জানলা রান্নাঘর চিলেকোঠা- উড়ান উড়ান উড়ান...
    ধুর পাগল! কে বলেছে ঘুড়িদের কাঁদতে নেই!

    “দ্যাখো সে আলোর মধ্যে আলো, বোঝো সে নীলের মধ্যে নীল” (সৌরভ):
    শহর সন্নিকটে সমুদ্র কোনো l দুটি চন্দ্রাহত মানুষ মানুষী ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চাঁদের আলোয় হুশ করে উবে গেলো l মানে ঠিক মানুষ মানুষী না, ওইরকম দেখতে l দুটো হাত দুটো পা দুটো ঠোঁট l আদতেই হাতে গোনা কেউ কেউ জানল ওদের হাতগুলো আসলে ডানা l চিকচিকে বালির ওপর দাঁড়িয়ে ওরা ওদের খোলস ছুঁড়ে ফেলল l মেয়েটা ঠিক পরী পরী, ছেলেটা এক্কেবারে দেবদূত ! কত যেন শতাব্দীর ব্যবধানে এরা একেকবার পৃথিবীতে নেমে আসে ! ঠোঁটে ঠোঁটে ছুঁয়ে বিড়বিড় করে কী কথা বলে ! মন্ত্রের মতো l সেইসব শব্দের কুচি ঢেউয়ের শরীরে লেপ্টে হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়িয়ে যায় l একদল ছেলেমেয়ে বাতাসের কাছে গল্প শুনে সাদা কাগজে শব্দের জলছাপ নেয় l বাঁধাই করে l তোমরা তাকে বই বলে জানো, নাম দাও- সম্পর্ক সম্পর্কগুচ্ছ l

    “তুমিও আমার ছিলে, আমিও তোমার, অথচ পাইনি কোনোদিন” (সৌরভ):
    শুভাশিসদা সিগারেটে টান দিতে দিতে ঘনঘন পায়চারি করছে আর বলছে- ত্রিপিটক লিখে ফেলেছিস ত্রিপিটক লিখে ফেলেছিস l সত্যিই তো শরীর-মন-আত্মার ত্রিস্তর স্পর্শ করে লিখতে চাওয়া যাবতীয় জৈবনিক ও অপার্থিব l সেই পরিমলকাকু না স্বপ্নাভদা কে যেন একবার বলেছিল- তিতলি শোন্, প্রেমের যেমন একটা জার্নি থাকে তেমনি বিচ্ছেদেরও একটা নিজস্ব জার্নি থাকে l তখন বুঝিনি l আজকাল টের পাই, যখন দু’একটা বিট মিস ক’রে বুকের বাঁদিকে তার দাপুটে অস্তিত্ব জানান দেয় হৃদপিণ্ড l অথবা গলার কাছে কী একটা দলা পাকায় l শেষ ছ’ঘন্টা যাবৎ- আপ কে দোয়ারা ডায়াল কিয়া গ্যায়া নাম্বার সে অভি সমপর্ক্ নহী হো পা রাহা হ্যায় l অতর্কিত সম্পর্কহীনতা l দুম করে কোত্থাও কিচ্ছু নেই l যেন সব ফাঁকা ফাঁকা l ওদিকে অঘ্রাণের বেলা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে l অফিস ফেরত বাসের জানলায় হৃদয় দূরগামী l আজ সুকান্ত সদনে শ্রাবণী সেন l টিকিট দুটো ছিঁড়ে কুটিকুটি করে উড়িয়ে দেওয়া গেল সসঙ্কোচ হাত দুটির ভরসায়, যাদের আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল একজোড়া নিশ্চিন্ত হাতের মুঠোর ভেতরে l ঠিক এইভাবে সম্পর্ক সম্পর্কগুচ্ছর অনেকগুলো পংক্তি জন্ম নিল আজ l আজ- মানে এই মুঠোফোনের সম্পর্কিত না হতে পারা ধূসর সময়ের প্রায়চেনা মনোটনি জুড়ে l

    “আমাকে আশ্চর্য করো, আমিও করবো অনুপম” (সৌরভ):
    ‘সত্যি’ শব্দটা আসলে ভুয়ো l মেয়েভোলানো l সম্পর্ক ও সম্পর্কগুচ্ছের নিরিখে আমি সহস্রবার সহস্রাধিক সত্যের মুখোমুখি হয়েছি l সময়ের সান্নিধ্যে যা কোনো একদিন সত্য ছিল, সময়ান্তরে তাকে সত্যের অপলাপ হিসেবে সাব্যস্ত হতে দেখেছি l নাকি সেও এক ভিন্নতর সত্যি? আশরীর ঋদ্ধ করা আশাবরী রাগের আলাপ বা প্রলাপের মতো? অথচ সেই মুহূর্তটুকুকে ধরে থাকতে চাই l দু’হাজার বারোর বীতশোক দুপুরে, যেখানে দূর দূরান্তেও কোথাও আমার নামের আদ্যক্ষর ছিল না, তখনও কিন্তু আমি ছিলাম, সত্যির অন্য কোনো আদলে, অন্য এক শিরোনামের রোদ্দুর গায়ে মেখে l সেদিনও আমাকেই লেখা হয়েছিল, আর আজ কাল পরশু ও তদনুরূপ দিনগুলি রাতগুলি ধরে এক ও একমাত্র আমিই লিখিত হবো নিরন্তর l এই সমস্ত লেখা নিরবিচ্ছিন্ন স্বচ্ছতোয়া-স্রোতের মতো l ভাসতে ভাসতে এগিয়ে যাবে l এগিয়ে যেতে যেতে ভাসবে খড়কুটো আর কাঠপাতাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে l দু’ধারে জমবে পলিমাটি l কবির বুকে, কবিতার মুখে মুখ ডুবিয়ে আমি সেই মাটির আঘ্রাণ নেবো l এক কাব্যগ্রন্থের একক পাঠপ্রক্রিয়া শেষ হবে l সম্পর্ক, আর সম্পর্কগুচ্ছ, বইবে... বয়ে যাবে... বইতেই থাকবে... যুগপৎ...

    [কাব্যগ্রন্থ- সম্পর্ক সম্পর্কগুচ্ছ l সৌরভ মুখোপাধ্যায় l প্রকাশন- ধানসিড়ি l কোলকাতা বইমেলায় প্রাপ্তিস্থান- ২২১]
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ | ৩৯ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • h | 127.194.235.180 (*) | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:৫২69056
  • যা সালা। এটা কি গোটাটাই প্রিভিউ, মানে আমি অবন্তিকার লেখা পড়বো বলে এসছিলাম। চাপ হয়ে গেল। জদিও খারাপ লাগে নি, তবে বেশি ভালো লাগে নি।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত