• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • "৯০ ডেসিবল" যেখানে বুথের জয়

    Soumit Deb
    বিভাগ : ব্লগ | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | ৪১ বার পঠিত
  • "STD বুথ পেয়েছিস?" বর্তমানে এটা ব্যালেন্সওয়ালা বন্ধুর হতাশা প্রকাশের ভাষা হলেও এককালে ছিলো বেসিক নিডগুলোর একটা। ছোট্ট ঘর, হালকা কাঁচ আর, ডায়ালটোন। এখন যেমন প্রতি দু-ম্যানহোল-ঢাকনার দুরত্বে একটা করে টপআপ-মোমোর দোকান, তখন ছিলো STD বুথ। এখন যেমন কয়েন খোঁজা হয় কার্ড স্ক্র‍্যাচ করতে, তখন কয়েন খোঁজা হতো তা ফেলে মিনিটখানেক কথা বলবার জন্যে। কিন্তু এতেই বাগবানের রাজ মালহোত্রা সাতমিনিটের গান গেয়ে বিশ্বরের্কড করেছেন।

    একটা পাড়াকে কেন্দ্র করে এক বা একধিক বুথ গড়ে উঠতো। কোনোটা ছোট কোনোটা বড়। অফার ছিলো একটাই, রাত আটটা-নটার পর কলরেট কমে যাবে। ওই সময়টায় লাইন লেগে যেতো অপেক্ষার। এটিএমের লাইনে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ যেমন বুঝতে পারেনা ভেতরের লোকটা এতক্ষন কি করছে, সেইরকমই ফোন খুপরিতে ঢুকে কার সাথে এত বকছে তাই নিয়ে বিরক্তি-জল্পনা, দাদা আমি আপনার আগে, আমার ঠিক দুমিনিটের কথা আছে খুব জরুরি, এই সমস্ত লাইন-চরিত্রদের সব্বাইকেই প্রায় পাওয়া যেত ওই সময়টায়।

    পাড়ার আশেপাশের এই সমস্ত বুথগুলোর ভেতর কয়েকটা কিছু বিশেষ কারনে বেজায় জনপ্রিয় হতো। রিসেপশন+ক্যাশিয়ার সুন্দরী হলে সেখানে স্বাভাবিক নিয়মেই কোনো কাজ না থাকলেও সংসার সম্পর্কে উদাসীন যুবকবৃন্দ ইলেট্রিক-জল-পাইপ-আনন্দবাজার ইত্যাদির অফিসে ফোন করবার নাম করেও ইঁট পেতে আসত। বেশিরভাগ সময়ই বড় নোট। খুচরো দিতেও তো একটু বেশি সময় লাগে নাকি! এর উলটোটাও হতো অবশ্য। বন্ধুর বুথ হলে তা একরকম আড্ডারই জায়গা ছিলো। আর সেখানে বাঁধাধরা সুন্দরী নিয়মানুযায়ি এসে কোনোদিন একটু কম কথা বললে নাকি সেই বুথ-মালিক "কত হয়েছে?"-র উত্তরে হাসিমুখেই "কি হবে? কথাই তো বললেন", না বলে ফিরিয়ে দেয় বলে রটে যেতো।

    তবুও নিয়মবদল হতোনা, কারন নব্বই-দশকের প্রেম সম্পর্কে সবচাইতে ভালো যদি কেউ বলতে পারে তাহলে সে বুথ-খুপরি ছাড়া আর কেউ নয়। রিসিভারের চাইতে বেশি চুমু নব্বইদশকের কোনো প্রেমিক কখনও পেয়েছে কিনা কে জানে। বেশিরভাগ সময়ই কাঁচের এপারেও ভেসে আসতো গতকালকের জমে থাকা অভিমান। বেরিয়ে আসবার পর সেরকম রসিক মালিক হলে -"রাগটা ফোনের ওপর না দ্যাখালেই নয়?"- আসতো ফেরত পয়সার সাথে। আর রোজকার চেনা হয়ে গেলে তো কথাই নেই। চোখের জলে ভার সামলাতে না পারাদেরও সামলাতে দ্যাখা গেছে। ইয়ের আবার কলরেট হয় নাকি?

    তবে STD বুথের আসল ব্যাবহারটা হোতো প্র‍্যানক কল করতে। অপরাধ করেও ধরা না পড়বার এহেন নিশ্চয়তা ফোন বুথ ছাড়া আর কেউ দিতে পারেনি। সুন্দরী মেয়ের রাগি বাবা/পরিবার ছিলো এর সবচাইতে বড় ভিকটিম। এছাড়াও রাগ থাকা চেনা বা র‍্যান্ডম অচেনা নম্বরে যখন তখন শহীদ হয়ে যেত হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা। দু-একটা উদাহরন দি। আমার এক দাদা ও তার বন্ধুরা একবার বিভিন্ন বুথে থেকে একই নম্বরে ফোন করে আর রাহুল নামে কাউকে একটা বিভিন্ন খবর দিতে বলে। প্রথম প্রথম ওপার থেকে ভদ্রভাবে তারপর যত দিন বাড়ে তত বিরক্তি, শেষে শুধুমাত্র বাপ/মা তুলে গালাগাল সহযোগে বলতে থাকে ওখনে ও নামে কেউ থাকে না। তারপর বেশ রাতের দিকে সেই নম্বরে আবার ফোন করে দাদা গম্ভীর গলায় বলে "আমি রাহুল বলছি, কোনো ফোন এসেছিলো?"

    সেই মিনিয়নরাই একবার এইরকম একটা বাড়িতে বুথ থেকে ফোন করে, বেশ রাতের দিকে। বলে তারা কোনো এক সরকারি দপ্তর থেকে থেকে ফোন করছে। তারপর বেশ অনেকক্ষন কথা বলবার পর বলে একটা খাতা পেন নিয়ে আসতে। তারা সেটা জোগাড় করবার পর বলে, "ব্যাস এবার লিখুন, বেশ গোটা গোটা করে লিখুন, ইংরিজিতে বাটার বাংলায় মাখন, একেক শুয়োরের বাচ্চা একেক রকম"

    এক এক করেই আস্তে আস্তে চারপাশ বুথে ভরে গেছিলো, একদম সকলের প্রয়োজন মতই। টালিগঞ্জ মেট্রোর বাইরে যেরকম বিরিয়ানি আর টপআপ এক দোকানেই পাওয়া যায় সেই ভাবেই যে কোনো দোকানেই একটা ফোন রেখে এফোর পেজে এসটিডি লিখে রেখে দিলেও দিব্যি চলে যেতো। এই একপাশে একজন আড়াইশো চিনি নিচ্ছে এই একপাশে একজন আড়াইশো মাইল দূরের পিসিমার খবর। আর এক এক করেই সেসব হারিয়েও গ্যালো। একটাই ছিলো পাঁচবছর আগে অবদিও, ফটোকপি, বইখাতা, ডেন্ড্রাইট ইত্যাদির সাথে টিমটিম করে এলাকায় ওই একটাই। কলেজের সামনের সেই মরচে ধরা বুথ থেকেই একবার গলাটা শোনার জন্য একবার ফোন করেছিলাম। ওই শেষ বোকামো আর STD বুথ থেকে কল। চারবছর হলো, একটা শাড়ির দোকান হয়েছে সেখানে। সেদিন দেখলাম নাইন্টি পার্সেন্ট সেল দিচ্ছে। কার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তা আর জানা হয়নি।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | ৪১ বার পঠিত
আরও পড়ুন
Lookআচুপি - Soumit Deb
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • T | 190.255.241.93 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:৫২57483
  • :) বেড়ে হয়েছে।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত