এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রক্তিম বসন্ত , নববর্ষ ঃ-অধিকার অর্জনের অনমনীয় লড়াই

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪৫ বার পঠিত
  • বসন্ত উৎসব , রঙের উৎসব , ফাগুয়া -হোলী , বাঙ্গালীর দোল উৎসব এসে গেল । অদ্ভুত ভাবে ঠিক একই দিনে বছরের একই সময়ে সেই ঐতিহাসিক সময়ে থেকে কুর্দ জনতা রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু এবং গণহত্যা অগ্রাহ্য করে আজকের দিনে (২১সে মার্চ ) রাস্তায় , প্রকাশ্য স্থানে জমা হয় ‘নিউ রোজ ‘ মানাতে । 'নিউ রোজ' হোল কুর্দ নববর্ষ একই সাথে বসন্তের উৎসব । আগের কালে পাহাড়ে পাহাড়ে শীতের ঝরা পাতায় আগুণ লাগানো হত । সারা কুর্দিস্তান , ইরাক , ইরান , তুরস্ক , আর্মেনিয়া , সিরিয়া এমনকি আফগানিস্তানের পাহাড় আগুনে লাল হয়ে যেত আজকের দিনে । কাল থেকে যে বসন্ত । সাত দিন ধরে নাচ ,গান , খানা পিনা, উপহার বিনিময়ের বাঁধন ছাড়া উৎসব । এখনো শহরে গ্রামে প্রত্যেক বাড়ি থেকে কাঠ কুটো জমা করে আগুণ লাগানো হয় । সেই আগুণকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে নাচ গান উৎসব । ঠিক কোথায় যেন আমাদের হোলির পূর্বের ন্যাড়াপোড়া অথবা 'হোলিকা দহনের’ সাথে অদ্ভুত একটা মিল আছে । আমাদের দেশেও বেশ কিছুদিন পূর্বে প্রত্যেক বাড়ি থেকে এক টুকরো কাঠ জমা করে ‘ হোলিকা দহনের’ উৎসব পালন হত, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো হয় । আর ঠিক আমাদের হোলির দিনেই এই অনুষ্ঠান হয় সারা কুর্দিস্তান ,ইরান এমনকি আফগানিস্তান ,আর্মেনিয়াতে ।

    হয়ত’বা আমাদের এই হোলির পরম্পরার ইতিহাস , অদ্ভুত রকমের সাযুজ্য সম্পন্ন প্রথা এমনি হোলী কে ঘিরে যে মিথ তা কুর্দদের প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার এই উৎসব থেকেই ইরান আফগানিস্তানের পথ ধরেই এসেছে, কে জানে। কিন্তু চমকে ওঠার মত সাযুজ্য , একেবারে কার্বন কপি , বক রাক্ষসের মিথ এবং ভীমের হাতে তার মৃত্যু পর্যন্ত, প্রায় একই উৎসব একই মিথ ।

    কিন্তু কুর্দদের এই স্বাভাবিক হাজারো বছরের প্রাচীন বসন্ত উৎসব প্রায় ১০০ বছর ধরে আর উৎসব নেই - ক্রমে তা রক্তেরর্ নববর্ষ ,আত্মাভিমান পুনঃউদ্ধার , স্বাধীনতা এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিরোধের লড়াই এ পর্যবসিত । তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ,উগ্র জাতীয়তাবাদের হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনি । নিউ রোজ মানেই উৎসবের সাথে সাথে প্রতিরোধের প্রস্তুতি ।

    গত একশো বছরের মতো এই বছরেও তুরস্কের সরকার দেশ জুড়ে কুর্দ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে । গৃহযুদ্ধ চলছে সেই জুলাই থেকে পিকেকে’র সাথে । এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম বলি হয়েছেন ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি তে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কর্মরত এক ব্রিটিশ নাগরিক । কম্পিউটারের এই প্রফেসর কে 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানের নিমত্রন গ্রহণ করার কারনে পত্রপাঠ দেশত্যাগী করা হয়েছে তিনি নাকি সন্ত্রাস বাদীদের সমর্থক ,এক্ষেত্রে তুরস্কের সরকার আমাদের সরকারের বড় দাদা তুল্য । আমাদের দেশে পাকিস্তানে চলে যাও বলে ধমকি দেওয়া হলেও তুরস্ক ওইসব ফাঁকা আওয়াজে বিশ্বাস না করে কেবলমাত্র নিউ রোজের নিমত্রন গ্রহণ করার অপরাধে প্রফেসর কে সিধা প্লেনে তুলে দিয়েছে ।

    এই লেখা টি যখন আমি লিখছি তখন সারা তুরস্ক জুড়ে সাধারণ নাগরিকেদের নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে কোথাও কাঁদানে গ্যাস ,কোথাও জল কামান ছুঁড়ছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী । নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘নিউ রোজ ‘ এর আগুণ । অশ্বারোহী বাহিনী সাধারণ জনতার দঙ্গল ছত্রভঙ্গ করছে । ভাবা যায় আজকে এই একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের ২৫% নাগরিক তাঁদের চিরাচরিত 'নববর্ষ’ পালনের এক নির্বিষ অনুষ্ঠান পালন করবেন আর রাষ্ট্র সেই অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করবে , গুলি চালাবে এমনকি গন হত্যা ঘটাবে ? অথচ তুরস্কে ঠিক এমনটাই হয়ে আসছে কেমাল আতাতুর্কের সময় থেকে আর কুর্দরাও সেই সময়ে থেকে প্রতি বৎসর সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পথে নামছে , অগ্রাহ্য করছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ,তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে সরকারী চোখ রাঙ্গানি , রক্তাক্ত নববর্ষ পালিত হচ্ছে প্রতিটি বৎসর ।

    ঐতিহাসিক সময় থেকে কুর্দরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হলেও আমাদের আকবরের মত অটোম্যান শাসক রাও কুর্দদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ ,সংস্কৃতির স্বাধীনতা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান নি । তাই সাংস্কৃতিক আধিপত্য নিয়ে , ভাষার আধিপত্য নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ছিল অতীব নগণ্য । ঠিক যেমন দীর্ঘ মুসলমান শাসন কালে ভারতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার ঘটনা হাতে গোনা যায় । কিন্তু অটোম্যান সাম্রাজ্যের শেষের দিক থেকে ক্রমে ইউরোপের সংস্কৃতি , আধুনিকতার ধারনা ,খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং ইউরোপের সাথে সংস্পর্শ তুরস্কের অভিজাত সমাজের মানসিক গঠন বদলাতে থাকে । গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ অনুগামীগন এবং আর্মেনীয় খ্রিস্টান তুরস্কের ব্যবসা ,সম্পদ এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । কুর্দদের প্রথা , সংস্কৃতি ,ভাষা কেমন যেন ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখা শুরু হয় । তখন তুরস্কে তুর্কী জাত্যাভিমানের উদয়ের সময় । কুর্দ এবং অন্যান্য জনজাতির সাথে সংঘাতের বীজ বপনের সূত্রপাত ।

    অবস্থা চরমে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবশেষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তুরস্কে কেমাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী পার্টির উত্থানের সাথে সাথে । কেমাল আতাতুর্কের ধর্মের আধিপত্যহীন , আধুনিক , একতাবদ্ধ ,এক জাতী ,এক প্রাণ , এক ভাষা, এক গান এই তথাকথিত প্রগতিশীল সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন বিশ্বে বিশেষত পশ্চিমের দুনিয়ায় প্রভূত প্রশংসা কুড়ালেও স্থাপন করতে থাকে উগ্র তুর্কি জাতীয়তাবাদ । সমস্ত মাদ্রাসা তুলে দেওয়া হয় । ডিক্রী বলে তুর্কী ভাষা ছাড়া সমস্ত ভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । সমস্ত কুর্দ শহরের নাম তুর্কীয় নামে পরিবর্তিত হতে থাকে । প্রকাশ্য স্থানে কুর্দ ভাষায় কথা বলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । কুর্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক লহমায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় । আইন অমান্যে জেল এবং অত্যাচার নেমে আসে কুর্দ জনজাতির ওপর । জাতীয়তাবাদের নামে সংখ্যাগুরুর বুলডোজার চালানো হতে থাকে সংখ্যালঘু জনজাতির ওপর ।

    ঠিক এমনিটিই হয়ে থাকে আধুনিক সেকুলার 'নেসান স্টেটে’ । আমেরিকায় লিবার্টি সীমাবদ্ধ থাকে কেবল মাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য । ব্রিটেনে আইরিশ’রা হয়ে পড়ে উৎপাত । ইউরোপে ইহুদী এবং জিপসিদের দেখা হতে থাকে কৃমি কীটের থেকেও অধম হিসাবে । তুরস্কে কুর্দদের এক লহমায় অস্তিত্বই মিটিয়ে দেওয়া হয় । জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক হেজিমনি ।

    অসংগঠিত এবং সবল রাজনৈতিক পার্টির অনুপস্থিতিতে কুর্দরা নিজেদের মত প্রতিরোধ করতে থাকেন । রক্তাক্ত হতে থাকে প্রতিটি প্রতিরোধ । অবশেষে ১৯৩৮ -১৯৪০ সালের সময় থেকে কুর্দ প্রতিরোধ রাষ্ট্রের প্রবল শক্তির কাছে ক্রমশ হেরে যেতে থাকে । দীর্ঘ কাল প্রবাসে থাকার ফলে আমাদের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম যেমন নিজেদের ভাষা ,সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে থাকে, সম্পৃত হতে থাকে বৃহৎ আগ্রাসী সংস্কৃতির সাথে । গান , নাচ , পোশাক , ভঙ্গিমা যেমন আজকের দিনে বলিউড গ্রাস করে নেয় ঠিক তেমনই পরবর্তী কুর্দ প্রজন্ম ভুলে যেতে থাকে নিজেদের ভাষা , সংস্কৃতি , ঐতিহ্য এবং পরম্পরা । কিন্তু তুর্কী জনজাতি কুর্দদের ঠিক নিজের লোক বলে মানতে পারেনা -ঠিক যেমন আমরা নর্থ ইস্ট বাসিন্দাদের চিঙ্কি অথবা অন্যগ্রহের প্রাণী বলে মনে করি । আবার কুর্দরাও প্রাণপণ তুর্কী বনার প্রয়াসে ক্রমে নিজেদের সংস্কৃতি তুর্কীয় সংস্কৃতির সাথে মেলানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বিশাল তুর্কীয় জাতীয়তাবাদের সমুদ্রে ইতস্তত ভেসে থাকে ।

    ইতিমধ্যে আবদুল্লা অচালান ১৯৭০ এর দশকে কুর্দ স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করেন ( এ বিষয়ে আমি অন্য পোস্টে বিস্তারিত লিখেছি বলে সেই ইতিহাসের পুনারবৃত্তি আর করছিনা ) অচালান কুর্দ আইডেন্টিটি ,শ্রেণী নির্বিশেষে একতা এবং সংখ্যাগুরুর আইডিওলজিকাল হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনির আইডিওলজি গড়ে তুলতে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং এই হারিয়ে যাওয়া পরম্পরা 'নিও রোজ' প্রকাশ্যে পালন করতে কুর্দ জনতাকে উৎসাহিত করতে থাকেন । ভাষা এবং সংস্কৃতি এমন একটা রাজনৈতিক অস্ত্র যা ধর্ম এবং শ্রেণী নির্বিশেষে এক ছিন্ন বিচ্ছিন ক্ষুদ্র জনজাতিকে একতাবদ্ধ করতে পারে । পিকেকে অগ্রগামী হিসাবে নিজেরা প্রকাশ্যে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং নিও রোজ পালনের উৎসব পালন করতে শুরু করে । রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এতকাল লুকিয়ে লুকিয়ে নিজেদের নববর্ষ পালনের উৎসবে ধীরে ধীরে কুর্দ জনতা অংশগ্রহণ করতে শুরু করে । সাথে সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় দমনের ধারাবাহিকতা ।

    আবদুল্লা অচালান কুর্দ জনতার এই পরম্পরাকে 'কাউন্টার হেজিমনির ‘ আইডিওলজিতে পরিনত করতে থাকেন। 'নিউ রোজ' শ্রেণী এবং ধর্ম বিভেদ ভুলে আপামর কুর্দ জনতার রাষ্ট্র বিরোধী জমায়েতে পরিনত হতে থাকে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে । ‘ নিও রোজ ‘ কুর্দ জনতার সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠতে থাকে । নিউ রোজ এর পুন;উত্থান এবং এই উৎসব কে কেন্দ্র করে কুর্দ মবিলাইজেসান , তুরস্কের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ বিরোধী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সফলতা ।এ এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধী ক্ষুদ্র জনজাতির পাল্টা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত ।

    এক দিকে নিউ রোজের উৎসবকে কেন্দ্র করে ,তার সাথে জড়িত মিথ,অল্টারনেটিভ স্টোরি ,সাধারণ জ্ঞান ব্যবহারে কুর্দ সংস্কৃতি ,আইডেন্টিটির এক অভূতপূর্ব একতাবদ্ধতা অন্যদিকে তুরস্কের সরকারের এই একতাবদ্ধতার অনুষ্ঠানে বাধা প্রদানে বলপূর্বক রাষ্ট্রীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রয়াস । এই 'নিউ রোজের’ সাথে মিথ ,ইতিহাস এবং প্রতিবাদের সূত্র জড়িয়ে আছে - এ কোন সাধারণ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নয় - অত্যাচারী রাজার হাত থেকে হাজারো বছর পূর্বে কুর্দ জনজাতির মুক্তির সফলতার এবং বসন্ত আগমনের ইতিহাস বা লোককথা ভিত্তিক মিথ ।

    সেই কোন প্রাগৈতিহাসিক কালে এক আসিরিয়ান অত্যাচারী রাজা ছিল 'যুহাক’ । কোন এক সময়ে যুহাক ইরান এবং বর্তমান কুর্দিস্তান দখল করে । অত্যাচারী শাসন চলতে থাকে ১০০০ বছর ধরে । তার অত্যাচারের ফলে কুর্দিস্তানে বসন্তের আগমনই হতোনা । তার শক্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দিন দুই শক্ত সমর্থ যুবককে বলি দিয়ে তাঁদের ঘিলু এই রাজার কে খাদ্য হিসাবে দিতে হোত । কিন্তু যিনি এই কঠিন কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি দু জন যুবকের বদলে কেবলমাত্র একজনকে হত্যা করে তার ঘিলুর সাথে ভেড়ার ঘিলু মিশিয়ে রাজা 'যুহাক’ কে দিতেন । বেঁচে যেত একজন যুবক প্রত্যহ । কেমন যেন আমাদের বক রাক্ষসের গল্পের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা ? ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে অত্যাচারী রাজা 'যুহাক’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে শুরু করল । অবশেষে 'কাওয়া’ পেশায় কর্মকার , যার ৬ ছেলে ইতিমধ্যে রাজা 'যুহাক’ এর এই অত্যচারে বলিপ্রদত্ত হয়েছে -বলি থেকে বেঁচে ফিরে আসা কুর্দ যুবকদের নিয়ে এক অকুতভয় সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন । কোন এক ঐতিহাসিক সময়ে ২০সে মার্চ রাত্তিরের অন্ধকারে সেই সৈন্যবাহিনী রাজা যুহাকের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে , কাওয়া তার নিজের হাতে তৈরি এক বিশাল হাতুড়ীর ঘায়ে অত্যাচারী রাজা ’ যুহাক’ এর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে । কাওয়া ২১সে মার্চ পাহাড়ে আগুণ লাগিয়ে দেন দেশবাসী কে খবর দিতে যে অত্যাচার সমাপ্ত । ঠিক তার পরের দিন থেকে 'বসন্ত' প্রায় হাজার বছরের রাজা 'যুহাক’ এর অত্যাচারী শাসনের অবশেষে ফিরে এলো কুর্দিস্তানে ।

    এই যে শক্তিশালী মিথ । হাতুড়ীর আঘাতে অত্যাচারীর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে দেওয়ার প্রতীক । কুর্দ জাতীর স্বাতন্ত্রতা । প্রত্যেক দিন একজন সক্ষম যুবকের বলিদান স্বত্বেও অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে লড়াইয়ের ক্ষমতা । লোহা দিয়ে তৈরি জনজাতি । এই শক্তিশালী মিথ এবং তাকে ঘিরে উৎসবের পুন;উত্থান অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তার সাথে অচালান প্রোথিত করে দিলেন কুর্দ জনতার হৃদয়ে । এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিও রোজ' তুর্কী জাতীয়তাবাদের চাপে বিচ্ছিন্ন কুর্দ জনতাকে একতাবদ্ধ করে দিল । পুনরায় কুর্দ জনজাতি রাষ্ট্রীয় দমন অগ্রাহ্য করে আতসবাজি পুড়িয়ে ,নেচে , গেয়ে , উপহার বিনিময় করে তাঁদের হাজারো বছরের এক প্রথা নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান পালন করতে শুরু করে । একই সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ।

    ১৯৯০ সালের 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানে নুসাইবিন শহরে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে ৩ জনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় মৃত্যু মিছিল । ১৯৯১ সালের অনুষ্ঠানে যথারীতি নিষেধাজ্ঞা জারী হয়। ইস্তাম্বুল , আদানা , জিজরে , কুল্প ,হানি এবং দিয়ারবাকির শহরে নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে তুরস্কের সরকার নির্বিচারে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালালে ৩১ জন লোক প্রাণ হারান । ১৯৯২ সালে ২০শে মার্চ পুনরায় পুলিশের গুলি চালনায় ২ জন নিরস্ত্র ব্যক্তির মৃত্যু হলে মানুষ ক্ষেপে ওঠে ২১ সে মার্চ ৯৪ জন নিরস্ত্র জনতার মৃত্যু ঘটে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালেও যথারীতি তুরস্ক সরকারের এই কুর্দ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধকরনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে । কিন্তু ততদিনে কুর্দ প্রভাবিত গ্রামাঞ্চলে পিকেকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাই এই দমন নেমে আসে শহরাঞ্চলে ।

    ১৯৯৩ সালের নিউ রোজ অনুষ্ঠান ভঙ্গ করার প্রাথমিক টার্গেট ছিল আদানা শহর । তুরস্কের পুলিশ অফিসাররা তার সাথে আক্রমণ নামিয়ে আনে বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালে ২১সে মার্চ বসন্ত উৎসব গুঁড়িয়ে দিতে প্রথম ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয় । বাড়ি ঘরে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ চলতে থাকে । এই আক্রমণে এক ১৬ বছরের কিশোর এক ৬২ বছরের বৃদ্ধ সমেত ৬ জন প্রাণ হারান । তুরস্কের সরকার ২০০২ সাল পর্যন্ত এই আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ,কিন্তু অনমনীয় কুর্দ 'রাও এই নিউ রোজ অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে থাকেন । ১৯৯৯ সালে আবদুল্লা অছালান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক 'নিও রোজ' নববর্ষেরে সাথে সাথে অচালানের মুক্তির দাবীতে ম্যাসিভ কুর্দ জনতার সমাবেতে পরিবর্তিত হতে থাকে । ২০০০ সালে কমপক্ষে ১০ লাখের অধিক কুর্দ জনতা রাস্তায় নামে নিউ রোজ পালন করতে ।

    প্রত্যেক বছর ক্রমাগত বেড়ে চলা জনতার ঢল এবং বিপুল ঐক্যবদ্ধতার কাছে অবশেষে রাষ্ট্র পিছু হটে । প্রায় একশো বছরের অবশেষে কমপক্ষে ৩০০-৪০০ জনতার বলিদানে 'নিও রোজ' আজ এক সত্যিই দেখবার মত অনুষ্ঠান । পুনরায় এই বছর তুরস্কের সরকার 'নিউ রোজ’ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধ করেছে কিন্তু সমুদ্রের উচ্ছ্বাস বালির বাঁধ দিয়ে ঠেকানোর মত উড়ে গেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা । নিউ রোজ ‘ কাওয়ার ‘ বিজয়ের উৎসব , অত্যাচারের অবসানে বসন্ত আগমনের উৎসব ।

    প্রতীক ,মিথ অনেক দেশেই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সংগঠিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে । আমাদের আনন্দমঠ , ভারতমাতার কল্পনা ,পোঙ্গলে বলি রাজার ফিরে আসার মিথ ইত্যাদি কিন্তু এক শক্তিশালী মিথ ব্যবহার করে এক মৃতপ্রায় প্রথাকে জাতী ধর্ম শ্রেণী নির্বিশেষে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র জনজাতিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করার এত সফল দৃষ্টান্ত আধুনিক বিশ্বে অনুপস্থিত । অচালান সেই কারনেই কুর্দ জনতার হৃদয়ের নেতা । নিউ রোজ এক সত্যিই মনে রাখার মত বুদ্ধিদীপ্ত কাউন্টার হেজিমনি আইডিওলজি -রক্তাক্ত কিন্তু ঐক্যবদ্ধ অসাধারণ বসন্ত উৎসব ।

    সমস্ত কুর্দিস্তান জুড়ে , ইউরোপ জুড়ে এই বসন্তের উৎসব অশুভের পরাজয় এবং শুভর জয় ,পালিত হচ্ছে একই দিনে আমাদের হোলির সাথে সাথে — আপনাদের জন্য থাকলো এই উৎসবের কিছু চিত্র এবং ভিডিও । Here are the YPG & YPG fighters celebrating #Nowruz pic.twitter.com/iOXymhQ8HB
  • ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.20 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৩:৩৬56744
  • DC ঃ- " রোজাভা নামে একটা খুব ছোট্ট জায়গায় " খুব ছোট্ট জায়গা কিন্তু নয় বর্তমানে ১৮৭০০ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা এবং প্রত্যহ বেড়ে যাচ্ছে ( ইসরায়েল 20,770 km²) রাফ এস্টিমেট প্রায় ৫০ লক্ষ লোক বর্তমানে রোজাভায় বাস করেন ( ইস্রায়েল ৮০ লক্ষ লোকের বাস ) সুতরাং প্রায় ইসরায়েলের সমান একটি অতি উর্বর ভূখণ্ড , কমিটেড জনতা । ইসরায়েলের সাথে তুলনা করার কারন সেই দেশের অর্থনীতি এবং প্রভাব । সুতরাং রোজাভা যত বেশী দিন টিকে থাকবে তত দ্রুত এই মডেল পার্শ্ববর্তী দেশে , মধ্য প্রাচ্যে প্রভাব ফেলবে বলে আমার মনে হয় । যদিও খুব সহজ নয় । তবুও বিকল্প এক মডেল ।

    (খবরগুলো আপাতত ফেস ভ্যালুতেই নিচ্ছি,) এই সব খবরের অধিকাংশ সূত্র প্রথম বিশ্বের প্রথম সারির খবরের কাগজ ,ইলেকট্রনিক মিডিয়া -সোবিয়েত দেশ নামক প্রোপাগান্ডা ম্যাগ চালানোর মত অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই রোজাভার - আর যেহেতু PYD নিষিদ্ধ নয় তাই যে কেউ একটু চেষ্টা করলে নিজেই যেতে পারেন , অনেকেই যাচ্ছেন । আপনিও যেতে পারেন দু চারদিন আপনার এক্সপারটাইস শেয়ার করতে পারেন ( বিনা মাইনে অবশ্যই ) না সিরিয়াস । আপনি যেতে চাইলে আমি যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারি । ততক্ষণ প্রথম বিশ্বের এক প্রথম সারির কাগজের রিপোর্ট পড়ুন ঃ- A Dream of Secular Utopia in ISIS’ Backyard http://nyti.ms/1NpF6WD
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.20 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৩:৫৩56745
  • DC ঃ- আপনি যদি পূর্বে দেওয়া NY Times এর লিঙ্ক টা পড়েন তো দেখবেন ঃ- When I sent a message to the academy’s Facebook page, requesting more information, I received a reply from Yasin Duman "

    এই Yasin Duman আমাদের গুরুতে লিখেছেন ( আমি ওনার লেখা অনুবাদ করেছি ) গুরুর প্রথম পাতায় ওনার লেখা এখনো বর্তমান - রোজাভার শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে ।
  • dc | 15.2.64.118 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৩:৫৬56746
  • সিরিয়াসলি আমার যাওয়ার কোন চান্সই নেই। যদি কখনো রোজাভার মডেল সাক্সেসফুল হয় আর যদি কখনো ভারতেও চালু হয় তখন দেখা যাবে। তদ্দিনে অবশ্য বুড়ো হয়ে যাব ঃ)
  • dc | 15.2.64.118 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৪:০১56747
  • দেবব্রতদা, প্রোপাগান্ডা নানাভাবে নানান উদ্দেশ্যে করা যায়, সেসব আপনিও জানেন। আর কোন দেশের কোন মিডিয়াতেই যা খবর বেরোয় সেগুলো প্রায় কখনোই আমি ফেস ভ্যালুতে নিই না। সোশ্যাল মিডিয়ার খবর তো ফেস ভ্যালুতে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। কাজেই এই দুমান বাবু জল মিশিয়ে খবর সাপ্লাই করছেন কিনা, বা NYT জল মিশিয়ে পরিবেশন করছে কিনা, সেসব নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই। যদি রোজাভার মডেল সাক্সেসফুল হয় তো দছর তিরিশ চল্লিশ পরে অন্য দেশেও ইমপ্লিমেন্টেড হবে, তখন দেখা যাবে। আর যদি সাক্সেসফুল না হয় তো কবছর পর সবাই ভুলে যাবে। নো প্রব্লেম।
  • meghnad | 202.81.218.137 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৪:৪৩56748
  • এর সাথে যোগ না করে এমনি বলছি। আমেরিকার বাইরের খবরগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমস ঠিক রাখে না সব সময়। মমতাকে নিয়ে অনেক খবর বা পার্শ্ব সম্পাদকীয় ছেপেছিল এক সময় যেগুলো খুবই অতিরিক্ত রকম আশাবাদী ছিল।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.124.13 (*) | ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৪56749
  • মেঘনাদ বাবু ঃ-
    এই রিপোর্ট টা একটা প্রথম বিশ্বের এক প্রথম সারির কাগজের ফিল্ড রিপোর্ট , যেখানে রিপোর্টার বেশ কিছু দিন ছিলেন , ইউনিভার্সিটি তে পড়িয়েছেন এবং কিছুটা দেখেছেন - আপনি যদি রিপোর্ট টা পড়েন তো দেখবেন খুব গদগদে কিছু নয় - খানিক নিন্দা মন্দও আছে - কিন্তু অনেকেই লিখছেন এমনকি ফাইনান্সিয়াল টাইমস - এই সব থেকে একটা ধারনা সৃষ্টি করা যায় যে আদৌ হচ্ছে টা কি । আমার মনে হয়না আমেরিকা ইংল্যান্ড বা ইউরোপের প্রথম সারির কাগজকে /ইলেকট্রনিক মিডিয়া কে রোজাভা যা খাওয়াচ্ছে ওনারা টপাটপ খেয়ে নিচ্ছেন - তবে বিভিন্ন সূত্রের বিভিন্ন রিপোর্টের মধ্যে বেশ কিছু পয়েন্ট কমন ঃ- যেমন নারী স্বাধীনতা , প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র , বেসিক অর্থনীতি , আত্মনির্ভরতা , প্রকৃত সেকুলার অবস্থান ইত্যাদি এইটুকু হলেও কম কিছু নয় ।

    dc ঃ- ফেসভ্যালুতে নেবেন কেন , ছাঁকনি লাগিয়ে একটি নির্জাস তো খানিকটা পাওয়া যায় তাই আমি মেনস্ট্রিম মিডিয়ার কথা উল্লেখ করলাম । সহানুভূতিশীল পত্রিকা বা মিডিয়া কি লিখছে সেই বক্তব্য না হয় বাদ দিন বিভিন্ন মেন্সট্রিম মিডিয়া ছাঁকলে এক নির্জাস পাওয়া যাচ্ছে যা এই বিষণ্ণ সময়ে যথেষ্ট আশা উদ্রেক কারী ।
  • দ্রি | 104.31.53.203 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০১:০০56751
  • "যুদ্ধ না থাকলে সেই ৭০% সামাজিক খাতে বা ইন্ডাস্ট্রি খাতে ব্যয় হবে , অ্যাবজর্ব করার মত ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে সেই ৭০% অর্থে কি সমস্যা ?"

    ঠিক। যুদ্ধ থামলে অস্ত্র কেনার চাপ কমবে। কিছু পয়সা বাঁচবে। সেই দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি খুব সহজেই হত যদি এক্সপোর্টটা সহজ সরল হত। কিন্তু রোজাভা মডেলে ব্যাগড়া দিতে অনেকেই চাইবে। তাই রোজাভাকে প্রচুর ব্লকেড, এম্বার্গো ফেস করতে হবে। এইরকম সিচুয়েশানে ইন্ডাস্ট্রি বানিয়ে যে ৫০০০০ কুর্দ যুদ্ধ করছিল তাদের সবাইকে এনগেজ করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। দেখা যাক কি হয়। তবে, গুড লাক।
  • দ্রি | 104.31.53.203 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০১:১০56752
  • "বাংলা স্মাগলিং - তুরস্ক এম্বারগো করে রেখেছে তাই আইনত তুরস্কে এক্সপোর্ট করা যায়না কিন্তু " border crossings" করানো যায় বিপুল পরিমাণ খাদ্য শস্য , পশুজাত উৎপাদন , চিজ , দুধ এবং অলিভ অয়েল তুরস্কে যায় এবং মেশিনারি , ওষুধ , কন্সিউমার গুডস আসে ।"

    বর্ডার ক্রসিং মানে যে স্মাগলিং সেটা মাথায় ঢোকেনি। এবার ক্লিয়ার হল। তার মানে, যারা স্মাগলিং করে তাদের হাতে ক্যাশ টাকা আসে। সরকার তাদের তেল বেচে পয়সা রোজগার করে? এই স্মাগলিংএর টাকা কি সোজা সরকারের ঘরে যায়? নাকি ইন্ডিভিজুয়ালের কাছে? এরকম হয় না তো, যে যারা স্মাগলিং এ জড়িত শুধু তাদের কাছেই ক্যাশ টাকা আছে? আর চাষী আর সৈন্যদের শুধু রুটি? নাকি স্মাগলিং এও সমবায়?
  • দ্রি | 223.61.149.100 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০১:২১56753
  • কিন্তু দেবব্রতবাবু, গুরুজনদের আপনি এ কি মডেলের বুদ্ধি দিছেন? ডেমোক্রেটিক কনফেডারালিজ্‌ম বেস্‌ড অন যুদ্ধ আর স্মাগলিং?

    গুরু যেদিন রোজাভা হবে, আমার প্রোপোজাল হল ডিসিবাবু স্মাগলিং ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বটা নিক (ডিরেক্টার, বর্ডার ক্রসিং), ডিডিদা যুদ্ধবিগ্রহের সাইডটা দেখুক (সুপ্রীম কম্যান্ডার অফ আর্মি অ্যান্ড নেভি), অভ্যু ইউনিভার্সিটির দায়িত্বটা নিক (ডীন, অ্যাকাডেমিক্স)। তাহলে আমরা বাকিরা কিছুটা চাপমুক্তভাবে চাষবাসটা দেখে নেব, আর মাঝে মাঝে ইলেক্টেড অফিশিয়ালদের রিকল করব।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০১:২৪56754
  • আমি সব্জিবাগান আর কবিতা।
    ঃ-)
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০২:৫০56755
  • ডিরেক্টর-এর মত উচ্চ পদ চাই না, তবে গুরু-রোজাভা-র স্পোর্টস ডিপে ছোটখাট কিছু একটা দেবেন, এই অধম-কে
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:১৭56756
  • গুরোজাভা-তে নিশ্চয়ই জাভা প্রোগ্রামারের পজিশন থাকবে।
  • dc | 132.174.188.197 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:২৮56757
  • আরে রাম রাম আমায় দিয়েছেন স্মাগলিং ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব? চুরি করে ফাঁক করে দেব তো, আপনাদের রোজাভা দুদিনে লাটে উঠবে।

    তার থেকে ফিল্ড জার্নালিস্টের চাকরি দ্যান, দিব্যি এদিক ওদিক ঘুরে রিপোর্টিং করব আর কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন মতো কখনো জল বাড়িয়ে কখনো জল কমিয়ে একেকটা স্টোরি ছেপে দেবো :p
  • দ্রি | 11.39.84.139 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৭:২০56759
  • "বিভিন্ন কোঅপারেটিভ প্রত্যক্ষ এবং প্রশাসনের মাধ্যমে উইথ ইনভয়েস ট্রাকে করে সড়ক পথে ইরাকী কুর্দিস্তানের মাধ্যমে তুরস্কে বর্ডার ক্রসিং করায় ।"

    অথচ একটু আগেই বলেছিলেন 'বাংলা স্মাগলিং'। আরে এ তো নিয়ম মেনে এক্সপোর্ট উইথ প্রপার ডকুমেন্ট্স। মিছিমিছি কুর্দদের বদনাম হল। সে যাগ্গে। এই বিভিন্ন কোঅপারেটিভরা এক্সপোর্ট করে যে ক্যাশটা পায় সেটা কি প্রাইভেট মানি, নাকি সরকারী টাকা?

    "রোজাভায় তেল এবং গ্যাস আছে ভোলেন নি নিশ্চয় -সুতরাং যুদ্ধ না থাকলে ৫০০০০ সৈন্যকে কাজ দেওয়া খুব বৃহৎ কিছু সমস্যা নয় ।"

    কিন্তু একটু আগেই বলেছিলেন, 'রোজাভার ইকনমি তেল নির্ভর নয়, তেল এবং গ্যাস প্রচুর পরিমাণে আছে, কিন্তু রোজাভা তা এক্সপ্লয়েট করে না। ... কেন করেনা তার তাত্বিক ভিত্তি ইকলজি।' তাহলে কি আপনি বলছেন যুদ্ধের শেষে ইকলজির তত্বটা স্যাক্রিফাইজ করা হবে? এবং এই প্রসঙ্গে আরো যে কথা উঠে আসে, আগে অমি বলেছি, ডিসিও বলেছেন, যাদের তেল এবং গ্যাস নেই (বা অন্যান্য ভ্যাল্যুয়েব্‌ল রিসোর্স নেই), তাদের পক্ষে রোজাভা মডেল চালানো কতটা ফিজিব্‌ল।
  • দ্রি | 11.39.84.139 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৭:২৯56760
  • অনেকে তো বলাবলি করছে, এখন শুধু টার্কি কুর্দদের সাথে অসযোগিতা করছে। যুদ্ধ শেষ হলে (পালমিরা দখল হয়ে গেছে, এরপর বাকি রাকা, ঐটা দখল হলেই আইসিসের ফ্যান্টাসি রান খতম) হয়ত সিরিয়াও কুর্দদের সাথে অসহযোগিতা করবে। রোজাভা তো তৈরী হল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে। সেক্ষেত্রে আরো অসুবিধে হবে কুর্দদের।
  • দ্রি | 11.39.84.139 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৭:৪৫56761
  • পরিশেষে বলি, এই মাইনে না থাকা ব্যাপারটা আমার ঠিক সুবিধের লাগে না। মাইনে পেলে মানুষ সেভ করতে পারে। সেভ করার অর্থ হল আজ কাজের বিনিময়ে ভবিষ্যতের কোন এক দিন খেয়ে পরে থাকতে পারি। রোজাভার নিয়মে আমি আজ কাজ করলে আজ খেতে পাব। কাল খেতে পেতে গেলে আমায় কাল আবার কাজ করতে হবে। ধরুন রোজভার এক চাষীর কিছুদিন চাষ করার পর আর ভালো লাগলো না। তার ইচ্ছে হল সে অন্য কোথাও মাইগ্রেট করবে। এই কাজটা করা তার পক্ষে খুব শক্ত কারণ তার কোন সেভিংস নেই। তার পালানোর উপায় প্রায় নেই। এটা এক ধরণের বন্ডেজ কন্ডিশান।

    এখন আপনি বলতে পারেন, নামী দামী কোম্পানীতে চাকরী করাও এক ধরণের বন্ডেজ, এবং কথাটা ঠিকও। কিন্তু প্রথম ক্ষেত্রে বন্ডেজের কমপেনসেশানটা খুব খারাপ।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৭:৫৮56762
  • দ্রিদা, রোসো, আগে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স গুলো সেটলড হোক তারপর নাহয় ফরেন অ্যাফেয়ার্স নিয়ে কথা হবে।

    তেল ভিত্তিক ইকোনমি, অন্যান্য দেশের অসহযোগিতা এসব তো আছেই, কিন্তু এখন টিঁকে গেলেও ভবিষ্যতে চাপ হবে অনিচ্ছুক মানুষের মাইগ্রেশন, তাদের স্কিল ভ্যালিডেশন এইসব নিয়ে। বহির্বিশ্বের সংস্রব একেবারে বাদ দিয়ে তো চলবেনা। অন্য দেশ যারা রোজাভার প্রতি সহানিভূতিশীল নয় তাদের ভূমিকাও বড়ো হয়ে উঠবে, বিশেষত তারা যদি বড়ো প্লেয়ার হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকা দেশগুলো এখনও সেই ব্যাগেজ বয়ে চলেছে। কিন্তু সেসব পরের কথা।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.63 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ০৯:৫৫56758
  • দ্রি ঃ- দাঁড়াচ্ছেনা ! মামলা টা প্রথমে ছিল
    “ যুদ্ধ, বিগেস্ট এমপ্লয়ার, ৭০%” তার পর যখন দেখা গেলো সৈনিক মাইনে পায়না স্বেচ্ছা সেবক তখন এলো “ ওখনে যার সৈনিক তারা যুদ্ধ চলানোর জন্য খেতে পরতে পান… সুতরাং যুদ্ধ এই মানুষগুলোকে কাজ দিয়েছে, জীবনের পারপাস দিয়েচে” তার পরে যখন এলো “ খেতে পড়তে পাওয়ার জন্য কেউ যুদ্ধের ঝুঁকি নেন কিনা । যেখানে পেনসন নেই , বেতন নেই , বিধবা ভাতা নেই ,পরম বীর চক্র নেই , রাষ্ট্র থেকে এক লপ্তে যুদ্ধে নিহত হলে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই সেখানে লোকে স্রিফ খেতে পরতে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করছেন ? “ তখন এলো “ একবার যুদ্ধে জয়েন করার পর মানুষ বিভিন্ন ভাবে চেগে উঠতে পারে। স্তারপর 'দেশপ্রেম' জাতীয় সেন্টিমেন্ট তো কম্যান্ডাররা সবসময়ই ইনস্টিল করার চেষ্টা করেন, সব দেশেই। ওগুলো এক ধরণের ব্রেন ওয়াশিং…… সে সব ঠিক আছে। কিন্তু স্টিল কুর্দিস্তানে আপতত যুদ্ধের কমপেন্সেশান বলতে ঐ খেতে পরতে পাওয়া, ঐ টুকুই।”
    মারাত্মক ব্রেন ওয়াশিং বলতে হবে শুধু খেতে পড়তে দিয়ে গুলির সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া । পুঁজিবাদী রাষ্ট্র গুলি বা আমার আপনার মালিক এই টেকনোলজি শিখতে পারে তো ? প্রফিট কোথায় দাঁড়াবেন ভেবেছেন ? মজুরী নেই , পেনসন , গ্রাচিউটি কিছুই নেই শুধু ক্যান্টিনে খেতে দেওয়া তাও চব্য চোষ্য নয় । দ্রি ঃ- দাঁড়াচ্ছেনা , হাস্যকর রকমের গোল পোস্ট সরানো বল যখন মেরেইছি গোলে ঢোকাতেই হবে এমন কোন কথা নেই ।

    গুরু তো দেখছি প্রায় রোজাভা মডেল ফলো করছে বাঃ , একজন অন্যজন কে নমিনেট করছে , অন্যজন লঘু দায়িত্ব -জল টল মেশানোতে শিফট হতে চাচ্ছে এই বার ইলেকশন টা করে ফেললেই হয় ।

    তা বর্ডার ক্রসিং ,আর এক্সপোর্টে ঠিক কি তফাৎ ? ৭৫০ কিমির বর্ডারে এম্বারগো হাস্যকর প্রয়াস । আমাদের দেশে এইরকম তুরস্কের অর্থমন্ত্রীর মত বাস্তব্বুদ্ধিহীন এক অর্থমন্ত্রী ছিলেন যিনি মোবাইল ফোনের ওপর ২৫% ডিউটি লাগিয়ে রেখেছিলেন এদিকে দেশে মোবাইলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে আর সরকারের ভাঁড়ার শূন্য । চিদু বাবু এসে মোবাইলের ওপর ডিউটি ৫% করে দিলেন । সরকার রেভেনিউ পেল , লোকে সস্তায় বিল সমেত মোবাইল ফোন । এই এম্বারগো হাস্যকর । এইবার বর্ডার ক্রসিং - না এ কোন বাংলা দেশে গোরু পাচারের মত ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয় । ( তাই DC আগেভাগে কেটে পরেছে ) বিভিন্ন কোঅপারেটিভ প্রত্যক্ষ এবং প্রশাসনের মাধ্যমে উইথ ইনভয়েস ট্রাকে করে সড়ক পথে ইরাকী কুর্দিস্তানের মাধ্যমে তুরস্কে বর্ডার ক্রসিং করায় ।রোজাভা থেকে ইরাকী কুর্দিস্তানে এক্সপোর্ট আইনসংগত এবং ইরাকী কুর্দিস্তান থেকে তুরস্কে । তুরস্কের ইম্পোর্টার শুধু ইনভয়েস বদলি করে । পয়সা এবং ইম্পোর্ট এইপথেই আইনতই হয় । মধ্যেখান থেকে তুরস্কের হাস্যকর এম্বারগো প্রয়াস ।

    দ্রি ঃ- রোজাভায় তেল এবং গ্যাস আছে ভোলেন নি নিশ্চয় -সুতরাং যুদ্ধ না থাকলে ৫০০০০ সৈন্যকে কাজ দেওয়া খুব বৃহৎ কিছু সমস্যা নয় ।

    কি আশ্চর্য icm ,অরণ্য , dc এমনকি Atoz এর জন্যও রোজাভায় সুযোগ আছে দেখছি : বড় বড় বিজ্ঞাপন বিদেশের কাগজে ঃ-

    -Translation Work
    We need people who can help translate material into different languages.Please contact us if you are able to translate between languages.

    Specialist Advice and Help
    If you are a specialist in the fields of science, engineering, technology, media or anything then we need your knowledge. Please reach out to us to offer your help.

    Promotion, Networking and Street Campaigning ( এইটা বেস্ট সারা দিন ফেসবুক )
    Hit the streets, spread the Rojava Plan globally, get campaigning and promote us on social media. We want everyone to see what is happening in Rojava.
    If you know affinity groups, then make sure they know about us. Make the connection. We are looking for friends to link up with around the world who share our goals.

    চাগ্রি তে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলে বলবেন ( কেবল মাইনে নেই )
  • দ্রি | 87.247.181.165 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৬ ১২:৫২56750
  • "আমার জানা নেই খেতে পড়তে পাওয়ার জন্য কেউ যুদ্ধের ঝুঁকি নেন কিনা ।"

    যে কুর্দরা ওখানে আছেন, তাদের কি অন্য চয়েস আছে? মানে রোজাভায় থেকে কেউ কি এরকম বলতে পারে, আমি রোজাভা মডেলে বিশ্বাসী নই, প্লিজ আমায় ঘাঁটিও না, আমি আমার মত থাকব? সেটা হয় না। ওখানে থাকলে চাষবাস বা যুদ্ধবিগ্রহ কিছু একটা করতেই হবে। একবার যুদ্ধে জয়েন করার পর মানুষ বিভিন্ন ভাবে চেগে উঠতে পারে। স্রেফ সারভাইভাল ইনস্টিংটই অনেক সময় চাগিয়ে দেয়। তারপর 'দেশপ্রেম' জাতীয় সেন্টিমেন্ট তো কম্যান্ডাররা সবসময়ই ইনস্টিল করার চেষ্টা করেন, সব দেশেই। ওগুলো এক ধরণের ব্রেন ওয়াশিং। বিভিন সিচুয়েশানে ঐ ধরণের ব্রেনওয়াশিং একটু আধউ লাগে। সে সব ঠিক আছে। কিন্তু স্টিল কুর্দিস্তানে আপতত যুদ্ধের কমপেন্সেশান বলতে ঐ খেতে পরতে পাওয়া, ঐ টুকুই।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.169 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৩56763
  • হ্যা ঠিকই তো আপনি নূতন কিছু করবেন আর প্রতিষ্ঠিত দেশ আপনাকে লাল কার্পেট বিছিয়ে দেবে এমনটি ভাবাই তো আকাশ কুসুম কল্পনা - রোজাভা ইতিমধ্যে সিরিয়াতে অটোনোমাস ফেডেরাল সিস্টেম ঘোষণা করেছে এবং তুরস্ক এবং আসাদ উভয়েই বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আবার রাশিয়ে/ইউরোপে প্রতিনিধি অফিস খুলে অটোনোমাস ফেডেরাল সিস্টেমের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে ইত্যাদি । রাকা আইসিসের কব্জা থেকে উদ্ধার করতে কুর্দদের সাহায্য প্রয়োজন কুর্দ 'রা সেটা জানে আর এটাও জানে সিরিয়া আইসিস মুক্ত হলেও রাসিয়া/আমেরিকা তাদের প্রাধান্য বজায় রাখার প্রয়াস জারী রাখবে এবং কনফ্লিক্ট থাকবেই । এক কথায় কুর্দ দের অবস্থান ঃ- যুদ্ধ হলে যুদ্ধ , শান্তি হলে শান্তি কো অপারেশন হলে কো অপারেশান আর এই ফাঁকে নিজেদের সিস্টেম যতটা মজবুত করা যায় ।

    দ্রি ঃ- আপনি কতগুলো সম্ভাবিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করলেন তার ভিত্তিতে আমি কতগুলো সম্ভাবিত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলাম এই তেল/ গ্যাস ইত্যাদি -কিন্তু আদপে রোজাভা কি করবে সেটা ওনারা বেটার জানেন । আপাতত তেল ভিত্তিক ইকনোমি নয়, ঘোষিত অ্যাজেন্ডা - মহিলা স্বাধীনতা এবং ইকোলজি । এই তেল ইকনমি বিনা আত্মনির্ভর মডেলেও রোজাভা খুব খারাপ নেই সে আমরা পূর্বের কমেন্ট গুলীতে দেখে এসেছি ।

    মাইনে নেই কেন ? ওয়েজেস ফর্মুলা কি ? বন্ডেজ কন্ডিশান কিনা ? কেউ রোজাভায় থেকে রোজাভার সিস্টেমের বিরোধিতা করতে পারে কিনা ? হিউম্যান রাইটস কি হাল ? আইন ব্যবস্থা কি ? শিক্ষা কি ভাবছে ? এই সমস্ত প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক । আমাদের এতদিন ধরে দেখে আসা পলিটিক্যাল সিস্টেম থেকে স্বতন্ত্র একটা সিস্টেম কে বোঝার চেষ্টা গত তিন চার বছর থেকে সারা পৃথিবী করছে এবং অবাক হচ্ছে যে ওই একটা আপাত দুর্গম পিছিয়ে পরা অঞ্চলের মানুষ এই রকম একটা সামাজিক আন্দোলন চালাচ্ছে কিসের ক্ষমতায় ? আজ যেখানে দর্শন থেকে বিজ্ঞান রাজনৈতিক মডেল থেকে ফেমিনিজম সমস্ত কিছুতেই পশ্চিমের সুপিরিওরিটি প্রায় গৃহীত। সেখানে যখন একটা সিস্টেম এই সুপিরিওরিটি'র প্রতিটি পিলার কে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিকল্প হাতে কলমে প্রয়োগ করে দেখায় -বিশেষত গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তখন এই মডেলের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমিও আপনাদের মতই কৌতূহলী এবং সেই কৌতূহল থেকেই এই রোজাভা সিরিজের প্রবন্ধগুলি ।

    এই যুদ্ধকালীন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ,এম্বারগো এবং অসহযোগিতা স্বত্বেও যে একটা আত্মনির্ভর, গণতান্ত্রিক , জেন্ডার ইকুয়াল , মাল্টি কালচারাল,ইকোলজিকাল , শান্তিপূর্ণ সোসাইটি গড়ে তোলা যায় রোজাভা তার উজ্জ্বল উদাহরণ । গত ৪০ বছরের পৃথিবীর ইতিহাসে এই ধরনের সামাজিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলন অনুপস্থিত । এই মডেলটির বিভিন্ন দিক বিষয়ে আরও গভীরে লেখার ইচ্ছা থাকলো । সকলকে এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ।
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০১:৫৬56764
  • কেউ কোন কারণে কাজ করতে না পারলে এই মডেলে তার জন্য কী ব্যবস্থা ? হয়তো আগে এসেছে, মিস করে গেছি।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.169 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:১০56766
  • দ্রি " আপনি লিখেছেন " এই প্রসঙ্গে আরো যে কথা উঠে আসে, আগে অমি বলেছি, ডিসিও বলেছেন, যাদের তেল এবং গ্যাস নেই (বা অন্যান্য ভ্যাল্যুয়েব্‌ল রিসোর্স নেই), তাদের পক্ষে রোজাভা মডেল চালানো কতটা ফিজিব্‌ল।"
    পৃথিবীতে যে যে অঞ্চলে মানুষ বাস করে সেই সেই অঞ্চলে রিসোর্স আছে - মানুষ তা দেখেই বসতি স্থাপন করেছে । তেল নেই তো গম আছে , গম নেই তো আপেল আছে , আপেল নেই তো ভেড়া আছে এবং সেই অঞ্চলের মানুষ সেই রিসোর্সের ভিত্তিতেই তাদের জীবনযাত্রা এতকাল চালিয়ে এসেছে সাথে ট্রেড রুট বর্ডার ক্রসিংইত্যাদি - সমস্যা টা হয় তখন যখন সেই রিসোর্সের লোভে অন্যদেশ সেই দেশ আক্রমণ করে অথবা সেই রিসোর্সের অসম ডিস্ট্রিবিউশন । তাই ' রোজাভা মডেল চালানো কতটা ফিজিব্‌ল ' এই প্রশ্নের উত্তর ১০০% ফিজিবল - বস্তুত বর্তমানে রোজাভাতে তেল থাকলেও তেল তো ব্যবহৃত নয় , ল্যান্ড লকড ,এম্বারগো এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি । তাতে যদি মডেল ফিজিব্‌ল হয় অন্যত্র না হওয়ার তত্বগত কোন কারন তো আমি দেখছিনা ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.169 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:১০56765
  • দ্রি " আপনি লিখেছেন " এই প্রসঙ্গে আরো যে কথা উঠে আসে, আগে অমি বলেছি, ডিসিও বলেছেন, যাদের তেল এবং গ্যাস নেই (বা অন্যান্য ভ্যাল্যুয়েব্‌ল রিসোর্স নেই), তাদের পক্ষে রোজাভা মডেল চালানো কতটা ফিজিব্‌ল।"
    পৃথিবীতে যে যে অঞ্চলে মানুষ বাস করে সেই সেই অঞ্চলে রিসোর্স আছে - মানুষ তা দেখেই বসতি স্থাপন করেছে । তেল নেই তো গম আছে , গম নেই তো আপেল আছে , আপেল নেই তো ভেড়া আছে এবং সেই অঞ্চলের মানুষ সেই রিসোর্সের ভিত্তিতেই তাদের জীবনযাত্রা এতকাল চালিয়ে এসেছে সাথে ট্রেড রুট বর্ডার ক্রসিংইত্যাদি - সমস্যা টা হয় তখন যখন সেই রিসোর্সের লোভে অন্যদেশ সেই দেশ আক্রমণ করে অথবা সেই রিসোর্সের অসম ডিস্ট্রিবিউশন । তাই ' রোজাভা মডেল চালানো কতটা ফিজিব্‌ল ' এই প্রশ্নের উত্তর ১০০% ফিজিবল - বস্তুত বর্তমানে রোজাভাতে তেল থাকলেও তেল তো ব্যবহৃত নয় , ল্যান্ড লকড ,এম্বারগো এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি । তাতে যদি মডেল ফিজিব্‌ল হয় অন্যত্র না হওয়ার তত্বগত কোন কারন তো আমি দেখছিনা ।
  • dc | 132.164.126.17 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:২৩56767
  • কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একটা জায়গায় মেয়েদের বা অন্য জনজাতিদের ইকুয়াল রিপ্রেসেনটেশন দেওয়া হচ্ছে, এটা সত্যিই প্রশংসনীয় (ধরে নিচ্ছি সত্যি এরকমটা হচ্ছে)। এবার এটা আদৌ অন্য কোন মডেল কিনা, সে মডেল টিকবে কিনা, বা অন্যান্য জায়্গায় অ্যাপ্লাই করা যাবে কিনা, সে সময়ের প্রশ্ন। টাইল উইল টেল।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.169 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:২৫56768
  • পাই ঃ- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়েজেস নেই কিন্তু কো অপারেটিভ সিস্টেম বর্তমান । সবাই কোন না কোন কমিউন এবং কোঅপারেটিভ মেম্বার -তাই স্বভাবতই কোঅপারেটিভ শেয়ার প্রাপ্য । তাছাড়া জল /ইলেকট্রিক /শিক্ষা /স্বাস্থ্য /এবং পরিবার পিছু প্রত্যহ ৩ টে করে ব্রেড ( প্রায় ৪-৫ পাউন্ড ) প্রশাসন ফ্রি তে দেয় । ব্যক্তিগত সম্পত্তি , ছোট ব্যাবসা স্বীকৃত । ভিখারি ,দুর্ভিক্ষ, অনাহারে মৃত্যু আউট অফ কোশ্চেন ।
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:৪০56769
  • আচ্ছা, ভাল ব্যবস্থা।

    ছোট ব্যবসা স্বীকৃত বলতে কোন লিমিট আছে ?

    আর ওখানকার পুলিশ, আইনি ব্যবস্থাই বা কীরকম ? এটাও মনে হয় মিস করে গেছি।
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:৫৫56789
  • মেইন অভিযোগ হল -

    1) ক্রিমিনাল গ্রুপের সঙ্গে কানেক্শন - PKK is connected to Turkish mafia criminals.

    2) নিজেদের লোক খুন করা, যারা সহমত নয় - Due to the guerrilla war much of the countryside in the southeast was depopulated, with Kurdish civilians moving to local defensible centers. The causes of the depopulation included PKK atrocities against Kurdish clans they could not control.

    3) ড্রাগ ট্রাফিকিং

    ৪) সিভিলিয়ান খুন।

    টার্কি গভর্নমেন্ট ৮০১৫ মাইন্‌স উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে ২২৬৮ টা এসেছে রাশিয়া থেকে। তাছাড়াও, Between 1984 and 2006, Turkey confiscated a total of 40,045 PKK weapons.

    (তাহলেই বুঝুন, ওপরের রাশিয়ান মিডিয়ার নিউজ কেন ... )
    ---

    ...Frank Urbancic, deputy counterterrorism coordinator at the State Department, told CNN-Turk, "The PKK [Kurdistan Workers Party] is like the mafia all over Europe."

    He added that in addition to its terrorist presence in Europe, the PKK has an "octopus-like structure carrying out criminal activity, including drug and people smuggling" to raise funds, as well as "fronts that provide cover to the organization's criminal and terror activities."

    PKK Criminal Networks and Fronts in Europe
    http://www.washingtoninstitute.org/policy-analysis/view/pkk-criminal-networks-and-fronts-in-europe
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.169 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০২:৫৯56770
  • আইন নিয়ে লিখব একটি । পুলিস বিনা মাইনের , কমিউনিটি নির্বাচিত - প্রত্যেক ২০-২৫ পরিবার নিয়ে এক একটি কমিউন ।প্রত্যেক কমিউন তাদের মধ্যে থেকে পুলিস নির্বাচন করে পাঠায় । ৮ থেকে ১ বছরের মেয়াদ । এই কমিউন নির্বাচিত পুলিস সদস্যরা তাদের মধ্যে থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচন করে । রোজাভায় সরকার বা প্রশাসন ওপর থেকে পুলিশ নিয়োগ করেনা । এ হোল কমিউনিটি নির্বাচিত , মূলত কমিউনিটির কাছে জবাব দেহী , ১ বছরের ভলিন্তিয়ার পুলিশ বাহিনী । প্রশাসন কেবল ট্রেনিং , ইনফ্রাস্ত্রাকচার , আইন , গাইডেন্স এবং অস্ত্র দেয় ।

    ব্যবসার কোন স্বীকৃত লিমিট নেই , কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট গাইডেন্স আছে - মনপলি /হোর্ডিং ,কমিউনিটি কন্ট্রোল। ইকোলজি ইত্যাদি ।
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০৩:০৫56772
  • খুব ছোট পকেটে ঠিক আছে। রোজাভা-র জনসংখ্যা এখন - এস্টিমেটেড ৪০-৪২ লাখ। যাদব্পুর+দমদম - দুটি লোকসভা কেন্দ্রের জনসংখ্যা ৩০ লাখের মতন।
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৬ ০৩:০৫56771
  • এই পুলিশের সিস্টেমটা ইন্টারেস্টিং লাগছে। এটা আর আইন নিয়ে আলাদা লেখা করুন একটু।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন