ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নীলকরের দালালী

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৫৮৪২ বার পঠিত
  • আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রেজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হতে চলেছে । চুক্তি চাষ কথাটি যেহেতু সিঙ্গুর ,নন্দীগ্রাম পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বিপদজনক সেহেতু এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পার্টিসিপেটারি ফার্মিং - অংশগ্রহণ মূলক চাষ । আনন্দবাজারের এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে শাসকের পালটি খাওয়া শুরু ,তাও এমন এক ভদ্রলোকের হাত ধরে যিনি বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত কৃষক বিরোধী কাজকর্মের পাণ্ডা ছিলেন । আদিবাসি জমি ,খাস জমির চরিত্র বদল করে হাজার হাজার একর জমি উনি উত্তর দিনাজপুর ,জলপাইগুড়ি এলাকায় চা বাগানের মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা বানিয়েছিলেন । ওদিকে যখন সিঙ্গুর নিয়ে ধুন্ধুমার হচ্ছে তখন চুপে চাপ হিন্দ মোটরের জমি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যান্ড থেকে ‘ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কমার্সিয়াল ‘ এই চরিত্রে পরিবর্তিত করবার কারিগর ইনি । মাত্র সাড়ে দশ কোটি টাকার বিনিময়ে হিন্দ মোটরের ৭৪৩ একর জমির রায়তি স্বত্ব বিড়লাদের হাতে তুলে দেওয়ার রূপকার ইনি । এনার চতুরতার ফলে হিন্দ মোটর বন্ধ করে দিয়ে হাউসিং করতে বিড়লাদের আজ আর কোন অসুবিধা নেই ।

    তবে বর্তমান শাসকের এই পালটি খাওয়ার চতুর প্ল্যান এবং ধারাবাহিকতা বুঝতে গেলে আমাদের একটু পেছনের দিকে যেতে হবে । ভারতের কৃষি পন্য’র মার্কেট নাকি বদ্ধ জলার মত যেখানে কৃষক এবং উপভোক্তার মধ্যে হাজারো স্তর । ফড়ে ,আড়তদার ,হোল সেলার ,রিটেলারের হাত ঘুরে একটি কৃষিপণ্য যখন প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছায় তখন তাতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মূল্য যুক্ত হয় কিন্তু সেই বর্ধিত মূল্যের অধিকাংশই মধ্যস্বত্ব ভোগীরা আত্মসাৎ করে, উৎপাদক চাষি এবং সাধারণ উপভোক্তা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তা চাষি এবং উপভোক্তার স্বার্থ রক্ষার এই মহান উদ্দ্যেশ্য কে সামনে রেখে,বিশ্বায়িত পুঁজির কাছে ভারতের কৃষিব্যবস্থার ক্রমাগত আত্মসমর্পণের সূত্রপাত হিসাবে ২০০৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রের এন ডি এ সরকার কৃষি ক্ষেত্রে রিফর্মের নামে কৃষি বিপণন সম্পর্কিত একটি মডেল আইন বা দিক নির্দেশিকা প্রস্তুত করে । সেই মডেল আইনের মুল তিনটে বিষয়গুলি ছিল ঃ-

    ১, মার্কেট কমিটি নিয়ন্ত্রিত কৃষক মান্ডি ছাড়াও প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি বা পাইকারি বাজার তৈরি করবার অধিকার দেওয়া দরকার - অর্থাৎ বর্তমান আড়ৎদার নিয়ন্ত্রিত কৃষক বাজার বৃহৎ এবং ব্যক্তিগত পুঁজির কাছেও উন্মুক্ত করা হোক ,এই বিপুল মধ্যস্বত্ত ভোগীদের মার্কেট শেয়ারে বৃহৎ পুঁজিকেও ভাগ বসাতে দেওয়া হোক ।
    ২, কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থা এবং যে কেউ যদি কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করতে চায় তাহলে সেই অধিকার প্রদান করা উচিৎ - যেহেতু কৃষক ফড়ে ,আড়ৎদার ইত্যাদির মাধ্যমে বাজারে ফসল বেচতে বাধ্য সেহেতু তারা উপযুক্ত মূল্য পায়না আর ফড়ে ,আড়ৎদারদের লাভের কারনে উপভোক্তাও বেশী দাম দিতে বাধ্য থাকে কিন্তু এই সমস্ত বৃহৎ রিটেল চেন বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি যদি কৃষকের থেকে সরাসরি কৃষি পণ্য কিনতে পারে তাহলে কৃষক ন্যায্য দাম পাবে এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের লাভের অংশ এড়িয়ে রিটেল চেন বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি সস্তায় উপভোক্তাকে কৃষিপণ্য সরবরাহ করতে পারবে । দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবেনা ইত্যাদি ।
    ৩, চুক্তি চাষের অধিকারের স্বার্থে আইন তৈরি করা বা অ্যামেন্ড করা জরুরী। মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত ভারত এখন উচ্চমানের কৃষিপণ্য কেনবার মত আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারী তাঁদের স্বার্থে যদি মোটা চালের বদলে সুগন্ধি বাসমতী চাল ,বা বিশেষ ধরনের আলু ,উৎকৃষ্ট হাইব্রিড টম্যাটো , লেটুস পাতা ইত্যাদি চাষি নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট গুনমান অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারে তাহলে কৃষক স্বাচ্ছ্যলের মুখ দেখতে পারে ইত্যাদি । সেক্ষেত্রে অবশ্য বীজ ,সার ,হরমোন, কি চাষ হবে এবং টেকনোলোজি প্রাইভেট কোম্পানিগুলিই নির্দিষ্ট করে দেবে ।

    আদতে এই দিকনির্দেশের মুল লক্ষ্য ছিল দেশের কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সরাসরি দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করা । আসলে কৃষি ক্ষেত্র দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে ডান -বাম নির্বিশেষে শাসকদলগুলির মধ্যে এক ধরনের ঐক্যমত বর্তমান যা মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও বিশ্বায়নবাদী নীতির দ্বারা নির্দেশিত । আর তাই বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে আত্মসমর্পণ করে ২০১৪ সালের পুর্বে ভারতের প্রায় ১৭টি রাজ্য এই মুল তিনটে বিষয়কেই তাঁদের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার মধ্যে ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে । যে সমস্ত রাজ্য ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দিকনির্দেশ গ্রহণ করেনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদন কারি রাজ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ ।

    আমাদের অনেকেরই মনে আছে বুদ্ধ বাবুর নেতৃত্বে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্য জুড়ে চুক্তি চাষ চালু করবার একটি প্রয়াস চালায় । কিন্তু সেই সময়ে ফরোয়ার্ড ব্লক যাদের হাতে রাজ্যের কৃষি বিভাগ এবং কৃষক মান্ডি গুলি পরিচালনার ক্ষমতা ছিল তারা এবং বিভিন্ন শরিকেরা চুক্তি চাষ চালু করবার বিপক্ষে তীব্র প্রতিবাদ করে । বিভিন্ন ছোট রাজনৈতিক দল ,অরাজনৈতিক সংগঠন এমনকি তৎকালীন তৃনমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে চুক্তি চাষের বিরোধিতায় রাস্তায় নামলে বুদ্ধ বাবু মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ,রিল্যায়েন্স ফ্রেস ,স্পেন্সার ,মোর , বিগ বাজার এই দু চারটি বৃহৎ কোম্পানিকে কৃষিপণ্য নিয়ে ব্যবসা করবার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি প্রদান করে চুক্তি চাষের প্রজেক্ট হিমঘরে পাঠাতে বাধ্য হন । তবে চুক্তি চাষ চালু করবার ক্ষেত্রে এইসব বিক্ষোভ মুল বাধা ছিলোনা ,পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের কোন কৃষক দরদী বিকল্প পন্থা বা বদান্যতাও ছিলোনা । সেই সময়ে যে আইনের বলে বাংলার কৃষি পণ্যের বাজার কর্পোরেট আগ্রাসন থেকে নিষ্কৃতি পায় তা হোল তৎকালীন APMC অ্যাক্ট । ১৯৭২ সালে পাস হওয়া এবং ১৯৮০ সালে সংশোধিত রাজ্যের কৃষক স্বার্থরক্ষার এই আইনের বলে APMC কে এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেনা বা ভিন্ন রাজ্য থেকে সস্তায় কিনে এ রাজ্যে বিক্রি করা সম্ভব ছিলোনা । আর সেই অ্যাক্ট সংশোধন না করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রস্তাব এবং চুক্তি চাষ আইনসংগত ভাবে পশ্চিমবঙ্গে চালূ করা অসম্ভব ছিল । তাই বুদ্ধ বাবুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিব্যবস্থা রিফর্মের নামে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সরাসরি দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় ।

    কিন্তু আধুনিক পুঁজির যুগে পুঁজি তো আর পশ্চিমবঙ্গের মত অন্যতম গুরুত্বপুর্ন এবং বিপুল কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী রাজ্যে কৃষিপণ্য বিপণনের মত লাভজনক ব্যবসা থেকে হাত গুটিয়ে থাকতে পারেনা । পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান পথ যদি "accumulation through expansion" হয় তাহলে পুঁজি বৃদ্ধির আরেক সহজ পথ "accumulation through encroachment" বটে । এখন পুঁজি সবসময়েই বিভিন্ন বৃহৎ এবং ক্ষদ্র ক্ষেত্রে বর্তমান যখন এই সমস্ত ক্ষেত্রে যেমন রাষ্ট্রীয় উৎপাদন এবং পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার ( আমাদের দেশের কৃষি /হস্তশিল্প যার অন্যতম ) বাইরের ক্ষেত্র গুলিকে বাদ দিয়ে বা তাদের অবস্থানে বিঘ্ন না ঘটিয়ে বিভিন্ন রেটে ,বিভিন্ন সেক্টরে পুঁজির বিকাশ হয় তখন মুল স্রোতের অর্থনীতিবিদেরা সেই ব্যবস্থা কে "accumulation through expansion" বলেন । কৃষি ক্ষেত্রে পুঁজির এই বিকাশ পেছনের দরজা দিয়ে বীজ ,সার ,ট্রাক্টর ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ,বিভিন্ন রাজ্যে বহুকাল ধরে প্রবেশ করছে । কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতদিন তা উৎপাদন ,বিপণন ক্ষেত্র অধিগ্রহণ করেনি । কিন্তু এর সাথে সাথে পুঁজি বৃদ্ধির একটা বিকল্প এবং সহজ রাস্তা আছে যাকে অনেক অর্থনীতিবিদেরা “accumulation through encroachment" বলছেন । সস্তায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি কিনে নেওয়া , দুর্বল ফ্যাক্টারি কিনে নেওয়া , অন্যের উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে আনা ,পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে থাকা জগতের দখল নেওয়া এবং এই পথে পুঁজির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম পথ । বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রে বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সরকারী ”সম্পত্তির disinvestment" এবং নগণ্য মূল্যে সরকারী সম্পত্তির “ privatization" পাবলিক ইউটিলিটি সমূহের দখল - হসপিটাল ,স্কুল ,জল ,বিদ্যুৎ,খনি ,পোর্ট ,টেলিকম এবং সর্বশেষে বীজ ,সার , কৃষিপণ্য বিপণন , চুক্তি চাষের মাধ্যমে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ ,কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আইন বাতিলের মাধ্যমে পুঁজির “accumulation through encroachment”এর ক্ল্যাসিক উদাহরণ ।

    এখন পশ্চিমবঙ্গে এই বাধা দূরীকরণের অন্যতম উপায় APMC অ্যাক্টের সংশোধন ,আর এই ক্ষেত্রে তৃনমূল সরকার দেশী -বিদেশী সংস্থাগুলির প্রতি দুই বাহু প্রসারিত করতে কার্পণ্য বোধ করেনি । তৃনমূল সরকার তাদের বাস্তব আভিজ্ঞতা থেকে বুদ্ধ বাবুর বা বামফ্রন্টের সময়ের APMC অ্যাক্টের দুর্বলতা বিষয়ে অবগত ছিল । মমতা দেবীর নেতৃত্বাধীন তৃনমূল সরকার জানত যে APMC অ্যাক্ট সংশোধন না করে পশ্চিমবঙ্গে চুক্তি চাষ , মার্কেট কমিটি নিয়ন্ত্রিত কৃষক মান্ডি ছাড়াও প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি তৈরি করবার অধিকার দেওয়া এবং কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থার কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করবার অধিকার প্রদান করা সম্ভব নয় । আর তাই ক্ষমতায় আসবার মাত্র তিন বছরের মাথায় ,বিভিন্ন দেশীয় এবং ভিনদেশী পুঁজিপতি সংস্থাদের মেসেজ দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন কৃষি বিপণন মন্ত্রী অরূপ রায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত তাড়াহুড়োয় ,অভুতপুর্ব দ্রুততায় ,পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার একটি এক বেলার বিশেষ অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে Agricultural Produce Marketing ( regulation) amendment Act ২০১৪ বিল পাস করা হয় । উল্লেখ্য এই বিল সমস্ত বিরোধী দল বিরোধিতা করলেও বিলটির সমর্থনকারী বিরোধী পক্ষের একমাত্র বিধায়ক ছিলেন বিজেপির শমিক ভট্টাচার্য মহাশয় । কেননা উভয়েরই স্বার্থ একী সূত্রে গাঁথা ।

    এই বিলে চুক্তি চাষের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সমস্ত প্রস্তাব যেমন প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি তৈরি করবার অধিকার ,কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থার কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করবার অধিকার মেনে নেওয়া হয় । এই আইনের বলে সরকার ব্লক পর্যায়ের কৃষিপণ্যের বাজারগুলির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে পারবে । বেসরকারি সংস্থাগুলি সরাসরিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে কোন সরকারী নিয়ন্ত্রন ছাড়াই যে কোন পরিমাণ কৃষিপণ্য কিনতে পারবে । বেসরকারি সংস্থাগুলি জেলাস্তরে বৃহৎ কৃষিবাজার খুলতে পারবে । বিনিয়োগকারীরা কমিশন এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে এবং সরকারকে একটি বাৎসরিক ফি’র পরিবর্তে যে কোন পরিমান কৃষিপণ্য কেনা , মজুত করা ,প্রক্রিয়াকরণ এবং বিক্রি করবার অধিকার পাবে । মাত্র অর্ধেক দিবসের এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার অবশেষে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে ‘ মা মাটি মানুষের সরকার ‘ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ক্ষেত্র দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ভিত্তি স্থাপিত করেছিলেন ।

    ২০১০ সালে বিধানসভায় দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে আমরা জানতে পারে যে সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ এবং মাঝারি কৃষিপণ্যের বাজার ছিল ৪৮৯টি ,এর মধ্যে APMC আইনের আওতায় বৃহৎ বাজার ছিল ৩৭টি এবং মাঝারি বাজার ছিল ১৮৪টি অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত বাজারের সংখ্যা ছিল ২৬৮টি ,তা ছাড়াও যেখানে কৃষকেরা সরাসরি কৃষিজাত পণ্য বিক্রি করে থাকেন এইরকম গ্রামীণ বাজারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০এর মত । এই নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিত দুই ধরনের বাজারেই বহু পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কেনাবেচা ,আদান প্রদান হয় ,অসংখ্য ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবনধারণ করে । তৃনমূল সরকারের আমলে এই নিয়ন্ত্রিত এবং অনিয়ন্ত্রিত বাজারের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনই APMC অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেওয়ার ভিত্তি ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে । ২০১৪ সালের APMC অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের বলে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশ পুঁজির “accumulation through encroachment” ক্ষুদ্র চাষি ,কৃষিপণ্য বিপননের ওপর নির্ভরশীল গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার রাস্তা ইতিমধ্যে তৈরি করেছে । যদিও তৃনমূল মন্ত্রী জানিয়েছেন যে কৃষিপণ্যের বাজার কেবলমাত্র দেশীয় পুঁজিপতিদের জন্য খোলা হচ্ছে রাজ্যে বিদেশী পুঁজিকে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা অথচ আমরা সকলেই জানি যে ওয়ালমার্ট ,টেস্কো ইত্যাদিরা এদেশীয় পুঁজিপতি রিলায়েন্স ,ভারতী ,আদানি ,টাটা ,বিড়লার হাত ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করবে । বাজারের সেরা অংশ ডিপ পকেটের ক্ষমতায় ঝাড়াই ,বাছাই ,প্যাকেটবন্দি হয়ে ঢুকে যাবে এয়ারকনডিশন্ড শপিংমলে বা রপ্তানির বাজারে । বিক্রি হবে চতুর্গুণ দামে ,কৃষকের এলাকা দখল করে লাভ করবে পুঁজি,বাজারে পড়ে থাকবে ঝরতি পরতি বাতিল কৃষিপণ্য । আর তাই ২০১৪ সালে এই আইন পাস হওয়ার সাথে সাথে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় রিলায়েন্স ১০ একর বা অধিক পরিমান জমি বৃহৎ কৃষিবাজার খোলবার জন্য কিনে রাখতে শুরু করে ।

    ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দল নেতা এবং বর্তমানের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ বাবু পশ্চিমবঙ্গে খুচরো ব্যবসায় দেশী -বিদেশী বৃহৎ পুঁজির অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব আনেন ,যাতে সমস্ত কর্পোরেট সংস্থার খুচরো এবং পাইকারি ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের দাবী তোলা হয় অথচ মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে তারই সরকার APMC অ্যাক্ট সংশোধন করে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজারে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশের রাস্তা সুগম করে তোলেন । মা মাটি সরকারের এই দ্বিচারিতা এবং কৃষক বিরোধী অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের হল্লাচিল্লা তো দূরের কথা -উন্নয়নের জোয়ারে ভেড়ার পালের মত দলত্যাগ দেখবার মত ।

    তা ২০১৪ সালে APMC অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজারে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশের রাস্তা সুগম করে দিলেও ,বা পিপিপি মডেলে ব্লকে ব্লকে হিমঘর তৈরি করে বৃহৎ পুঁজিকে প্রবেশের রাস্তা দেখালেও পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজার খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়নি । হয়ত তার অন্যতম কারন ছিল কেন্দ্রে এবং রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন , রাজ্যে বিরোধী দলের উপস্থিতি এবং তৃনমূল সরকারের কৃষক বন্ধু মুখোশ । আর তা ছাড়াও তৃনমূল সরকার বুদ্ধ বাবুর সরকারের তুলনায় যে যথেষ্ট বিচক্ষণ তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত । যদিও খুব ধীরে পরিকল্পিত উপায়ে এই নূতন আইনের বলে বর্তমানে পেপসিকো ,আই টি সি , ইউনিলিভার ইত্যাদি কোম্পানি চুক্তিচাষ বা মান্ডি থেকে ইতিমধ্যে কৃষকের ফসলের অনেকটাই তুলে নিয়ে যাচ্ছে । পেপসিকো’'লেজ’' পোট্যাটো চিপসের জন্য এক বিশেষ ধরনের আলু চুক্তি চাষের মাধ্যমে কৃষকদের থেকে ক্রয় করছে এবং কাঁচামালের সারাবছর সরবরাহ নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের হিমঘর গুলিতে বিপুল পরিমান জায়গা অগ্রিম লীজ নিয়ে রাখছে এর ফলে সাধারণ চাষি ফসল উঠলে হিমঘরে জায়গা না পেয়ে কম দামে তাদের ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । তৃনমূল সরকারের আইনে ভর করে ধীরে ,সকলের দৃষ্টির অগোচরে কিন্তু নিশ্চিত পন্থায় পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজার এই আইনের বলে ক্রমে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে ।

    পুঁজিপতিদের চাপে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় তৃনমূল সরকার তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত কাজ করবার জন্য জমি বিগত দফায় ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছেন । APMC অ্যাক্ট ইতিমধ্যে সংশোধিত । পেপসি ,আই টি সি ইত্যাদি কোম্পানির চুক্তি চাষের ট্রায়াল রান সমাপ্ত। মোদী সাহেবের প্রিয় পাত্র আদানি পশ্চিমবঙ্গে ফর্চউন কোম্পানিকে সামনে রেখে একের পর এক তেলের মিল আর ডাল ভাঙ্গার ফ্যাক্টারি কিনে নিচ্ছে । রাজ্য বিরোধী শূন্য । বিভিন্ন ডোল এবং প্রকল্পের মাধ্যমে জন দরদী ভাবমুর্তি প্রতিষ্ঠিত । সদ্য সিঙ্গুর রায় ভাবমুর্তিতে স্টেরয়েড যুক্ত করেছে । কেবল যা প্রয়োজন ছিল তা হল একজন দক্ষ ,চতুর এবং বিশ্বস্ত ম্যানেজার । যিনি অবলীলায় কেউটেও ধরতে পারেন । আর তাই সুপরিকল্পিত ভাবে রেজ্জাক মোল্লার নিযুক্তি । রেজ্জাক মোল্লা কে মন্ত্রী করবার উদ্দেশ্যও তাই -কৃষকের জমি কি করে এবং কিভাবে হাতাতে হবে এ বিষয়ে ইনি পোস্ট ডক্টরেট । বিগত সরকারের সময়ে তার প্রতিভা প্রমাণিত । আর রেজ্জাক মোল্লা এসেই কাজে নেমে পড়েছেন ,শুরু করেছেন চুক্তি চাষের পক্ষে ,নব্য নীলকরদের পক্ষে দালালী । মাঝে মাঝেই আওয়াজ দিচ্ছেন ,জনতার প্রতিক্রিয়া মাপছেন আর অত্যন্ত দ্রুততায় বৃহৎ কৃষকদের নিয়ে কৃষক গোষ্ঠী সৃষ্টি করছেন যাদের সঙ্গে বৃহৎ কোম্পানিগুলি চুক্তি চাষের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করবে । অতি শীঘ্র রিলায়েন্স যে সমস্ত জমি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কিনে রেখেছে সেই সমস্ত জমিতে পুঁজি নিবেশের ঘোষণা করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই ।

    চুক্তি চাষের ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে কৃষকের রক্ত নিংড়ে নেওয়ার যে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ,পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বাইরে থাকা ভারতের যে গ্রামীণ সমাজ , সেই সমাজের দখল এবং নিয়ন্ত্রণ বৃহৎ পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার যে চক্রান্ত তা আমাদের রাজ্যে রচিত হচ্ছে বিগত দুই বছর ধরে । মুখে কৃষক দরদী কথা কিন্তু অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি কৃষিজীবী ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন জীবিকা লুঠের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তৃনমূল সরকার । নীল চাষ ,তামাক চাষ , আফিম চাষের মত চুক্তি চাষের ধারাবাহিকতার গায়ে নূতন জোব্বা পড়িয়ে কঙ্কাল ঢাকবার প্রয়াস আজকে নূতন উদ্যমে শুরু হয়েছে সমস্ত রাজ্যগুলি জুড়ে । আর জি এস টি , শিশুশ্রম বিল সমর্থক সরকারের কাছ থেকে এই পন্থা অস্বাভাবিক নয় । বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিকে সম্পুর্ন আত্মসমর্পন করবার রাস্তা প্রায় সমাপ্ত ।

    একদিকে বিভিন্ন পন্থায় রাজ্য বিরোধী শূন্য করে দিয়ে গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে একছত্র আধিপত্য কায়েম ,অন্যদিকে কর্পোরেট জগতের কাছে কৃষিকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার এই এজেন্ডা এখন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের কাছে পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ আর এই পথ প্রশস্ত করবার ক্ষেত্রে মোদী এবং মমতা একজোট ।

    অবশেষে পুঁজিবাদ দীর্ঘজীবি হউক ।।
  • ব্লগ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৫৮৪২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ekak | 53.224.129.62 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ০৮:৩৩51538
  • যিনি বিটি কটনের রিসেন্ট প্রাইস ক্যাপ না জেনেই তথ্য দিচ্ছেন তাঁর তথ্যের ভুল ধরেই বা কী লাভ :):)

    এগুলো তো পেপার জড়ো করে লেখা পেপারের মতো । আমাদের মতো উনিও চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত নন । কাজেই সুচ -সুতো নিয়ে ফ্যাশনেবল ডেটা ডেটা খেলে এই ক্ষেত্র টায় লাভ নেই । যেখানে স্টিক করে ছিলুম বিটি চাষের প্রশ্নে , সেখানেই স্টিক করে আছি । বিদেশী কোম্পানি উদ্দাম শোষণ করছে সত্যি , তো আমাদের দেশে কৃষি গবেষণা পরিকাঠামো এতকাল ধরে কী অশ্বডিম্ব দিলো ?

    একচুয়ালি ওনার যতগুলো প্রবন্ধ পড়েছি সবই ঘুরেফিরে এই লাইনে । ভীষণ চতুর ভাবে স্টাটাস কুও মেন্টেন করেন যেটা এপারেন্টলি মনে হয় স্টাটাস কুয়োর এগেইনস্ট এ । যত দোষ বাইরের দেশের । অথচ আমাদের দেশের পরিকাঠামো কেন ফেইল করছে তাই নিয়ে কথা বললেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবার সেই বাইরের দেশ এই করছে সেই করছে গরু রচনায় ঢুকে পড়বেন ।

    কেসটা একটু হলেও জানি :) এটা রিসেন্ট শুরু হয়েছে .....দেশীয় শিল্পমহল ও সেই দলের লোকেরা এমন একটা হাওয়া তোলার চেষ্টা করছেন যে বাইরের দেশ সব খেয়ে নিয়ে বাজার -গরিব চাষি -শ্রমিক সবাইকে ঝাঁঝরা করে দিলো .....অতএব ওদের তাড়াও । কেও এটা নগ্ন ন্যাশনালিজম জুড়ে বলেন কেও বলেন বামদর্দ জুড়ে । গল্পটা একই :)

    এই দলের লোকেরা কিছুতেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়না যে কোন কোন কারণে দেশ এর প্রোডাক্ট বাইরের সঙ্গে প্রতিযোগিতাতে হেরে যাচ্ছে , কোথায় উন্নতি দরকার । কেন বারবার ভারতকে বিদেশী কোন্পানির অন্যায় দাবি মেনে নিতে হচ্ছে । এই পুরো গপ্পোটা ভেতরে রেখে বাইরে প্রবন্ধের ঢাকনা । ওয়াচিং দ্য প্যাটার্ন ফর কোয়াইট লং টাইম :) নাইস ।
  • দেবব্রত | 57.15.182.59 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০১51539
  • বাঃ - আপনি যদি চা বাগান নিয়ে লেখেন তবে আপনাকে চা শ্রমিক হতে হবে , পরিবেশ নিয়ে লেখেন তো পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং কৃষি নিয়ে লিখলে তো অবশ্যই কৃষক হতেই হবে । একে বলে যৌক্তিক ধ্যাস্টামো । BT কটনের প্রাইস ক্যাপ এই প্রবন্ধের অংশ নাকি ? তাহলে সেটাও থাক

    BT Cost per Packet :

    2002-2005 Rs 1600.00 Royalty Rs 1200.00
    2006 :- Rs 750.00 Royalty Rs 150.00
    2007:- Rs 750.00 Royalty Rs 150.00 Cost Per packet :- 925.00 Royalty Trait fee :- 225 .00
    2008 :- Rs 650.00 Royalty Rs 100.00 Cost Per packet :- 750.00 Royalty Trait fee :- 150 .00
    2011-2015 Rs 830.00 Royalty Rs 109.43 Cost Per packet:- 930.00 Royalty Trait fee :- 163.29
    2015-2016 Rs 830-1100
    বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন দাম ।

    তা একক বাবু সমস্ত কিছু বোঝেন । হয়ত একটু বেশীই বোঝেন । কে কি লেখে , কেন লেখে ,কোনটা গরুর রচনা এমনকি ঢাকনা খুলেও ট্যাঙ্কের জলের রঙ্গ দেখতে পান কিন্তু মূল প্রশ্নটি বোঝেন না যে পুঁজিবাদের এই নগ্ন ( প্রতিরোধ হীন ) বিস্তারের যুগে যে কোন তথাকথিত সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব কোন মতামত নেই আর তাই এদেশে এত কৃষিগবেষণা কেন্দ্র , কৃষি বিজ্ঞানী থাকা স্বত্বেও - বিদেশী বীজ , বিদেশী কৃষি ব্যবস্থা ,মনো ক্রপ কালচারের আশ্রয় নিতে হয় ।

    মূল প্রবন্ধের আশ্রয়ে " পুঁজি বৃদ্ধির একটা বিকল্প এবং সহজ রাস্তা আছে যাকে অনেক অর্থনীতিবিদেরা “accumulation through encroachment" বলছেন । সস্তায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি কিনে নেওয়া , দুর্বল ফ্যাক্টারি কিনে নেওয়া , অন্যের উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে আনা ,পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে থাকা জগতের দখল নেওয়া এবং এই পথে পুঁজির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম পথ । বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রে বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সরকারী ”সম্পত্তির disinvestment" এবং নগণ্য মূল্যে সরকারী সম্পত্তির “ privatization" পাবলিক ইউটিলিটি সমূহের দখল - হসপিটাল ,স্কুল ,জল ,বিদ্যুৎ,খনি ,পোর্ট ,টেলিকম এবং সর্বশেষে বীজ ,সার , কৃষিপণ্য বিপণন , চুক্তি চাষের মাধ্যমে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ ,কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আইন বাতিলের মাধ্যমে পুঁজির “accumulation through encroachment”এর ক্ল্যাসিক উদাহরণ ।"

    এখন এই সমস্ত বিষয় এড়িয়ে যদি কেউ প্রশ্ন করে " আমার দেশে আমি যদি বীজ-সার নিয়ে গবেষণা করে উন্নত বিকল্প বানাতে না পারি , বিদেশের ক্ষতিকে বিকল্পের কাছে হাত পাতা চেহারা গত্যন্তর নেই । দেশে কেন সেসব হলোনা বলুন । ? " তাহলে বলব প্রশ্নের মূলে সমস্যা আছে এবং তিনি মূল প্রশ্ন থেকে পালাতে চান বা দৃষ্টি ঘোরাতে চান আর তা " সাতকাহন প্রবন্ধ পড়েলেও " কাটবেনা । আর তাই কেউ কৃষি থেকে সমস্ত ক্ষেত্রে পুঁজির আগ্রাসন যথাযুক্ত মনে করেন গ্রোথ দরকার , বাকি তো " স্টাটাস কুও মেন্টেন" এর স্বপক্ষে গলাবাজি । আর কেউ বিগত সরকারের চুক্তি চাষের প্রয়াসে কোন দোষ দেখতে পাননা ডান /বাম গলাগলি । সুতরাং অস্বস্তিকর সমস্যা বিষয়ক প্রবন্ধ কে নস্যাৎ করতে দাঁড়ি ,কমা সেমিকোলন ইত্যাদি ভুল ধরা ছাড়া উপায় কি ? এই আপনি BT কটনের দামই জানেননা ধুর প্রশ্ন আবুল্লিস ।
  • দেবব্রত | 57.15.182.59 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৩২51540
  • PT " আমি বেশ কিছু লিং দিয়েছি যেখান থেকে মোট্টে প্রমাণিত হয়না যে চুক্তি চাষের কারণে কৃষক আত্মহত্যা করছে। এমনকি BT তুলোর জন্যেও আত্মহত্যা হচ্ছে এমনটাও সন্দেহাতীত সিদ্ধান্ত নয়। আঅর আগের দেওয়া লিং-এ চাষীদের লাভের হিসেবও পড়ে নেবেন।" না চাষিকে ভুতে গুঁতচ্ছে যে দলে দলে আত্মহত্যা করছে - এইরকম লিং হাজার খানেক আছে যা মনসান্টো লবি পয়সা দিয়ে দেশে দেশে বিক্রি করে তাতে বাস্তব চিত্র পাল্টায়না আবার উলটো টাও বর্তমান ।

    কে লেখা ! " বিশ্বায়ন যখন ছিল না তখন তেভাগা হয়েছে আর তারো আগে নীল বিদ্রোহ হয়েছে। " তেভাগা কি কারনে হয়েছে ? কৃষকের ন্যায্য পাওনা না দেওয়ার জন্য । আর নীল বিদ্রোহ ? চুক্তি চাষের কুফল - এদেশে নীল চাষ ১০০ বছর ধরে চলেছে, প্রথম দিকে নীল চাষি রা লাভই করত আর ঠিক এক পদ্ধতিতে জমিদারের জমি লীজ নিয়ে চুক্তি চাষ ।

    তা সেই সময় এই বাঙলায় যশোরের বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, দিগম্বর বিশ্বাস,( অমৃতবাজারের )শিশির কুমার ঘোষ, সাঠুহাটির জমিদার মথুরানাথ আচার্য ও চন্ডিপুরের জমিদার শ্রীহরি রায়ের নেতৃত্বে নীল বিদ্রোহ সশস্ত্র অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস কোন বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী নয় নীলকুঠির দেওয়ান ছিলেন কিন্তু প্রজাদের উপর অকথ্য অত্যাচার দেখে দেওয়ান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রজাদের উদ্বুদ্ধ করে তুলতে থাকেন ।

    সেই সময়ের ১৮ বছরের যুবা অমৃতবাজারের শিশির কুমার ঘোষ নীল কুঠিয়ালদের অত্যাচারের কাহিনী ধারাবাহিক ভাবে পেট্রিয়ট পত্রিকায় লিখতেন। যশোরের ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে কারাভয় দেখালেও লেখা পরিত্যাগ করেননি । হরিশচন্দ্র “পেট্রিয়ট” পত্রিকায় আগুন জ্বেলেছিলেন এবং শিশির কুমার ঘোষ তার ইন্ধন যোগাতেন। ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ ইন্সপেক্টর হওয়া সত্ত্বেও গিরীশচন্দ্র বসু যশোর থেকে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী লিখতেন এবং সেই অপরাধে চাকরী খোয়ান।

    অন্যদিকে নীল কমিশনের রিপোর্ট বের হতে না হতেই দীনবন্ধু মিত্রের “নীলদর্পন” নাটক ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। আর ‘নীলদর্পন ‘প্রকাশিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে পাদরী লর্ড সাহেবের তত্ত্বাবধানে মাইকেল মধুসুদন দত্তের নিপুন লেখনীর মাধ্যমে ইংরেজীতে অনুবাদ প্রকাশিত হলে নীলকর মহলে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল। নীলকর সম্প্রদায় পাদরী লর্ড সাহেবের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করেছিল। সুপ্রীম কোর্টের বিচারে পাদরী লর্ড এর একমাস কারদন্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা হয়েছিল। জরিমানার টাকা স্বনামধন্য কালী প্রসন্ন সিংহ তৎক্ষণাৎ কোর্টে দাখিল করেছিলেন। মধুসুদন নীলদর্পন নাটকের ইংরেজী অনুবাদ করায় তিরস্কৃত ও অপমানিত হয়ে সুপ্রীম কোর্টের চাকুরী ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

    একদা এই বাংলার বুদ্ধিজীবী ,কবি ,সাহিত্যিক ,পুলিশ অফিসার , নীলকুঠির দেওয়ান এমনকি বহু জমিদার নীলকর’দের বিরুদ্ধে চাষিদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন অথচ দেখুন বর্তমান তৃনমূল সরকার যখন ধীরে অথচ সংগঠিত ভাবে এই সুজলা সুফলা বাঙলা চুক্তি চাষ আইন সংগত করবার মাধ্যমে পুনরায় কর্পোরেট নীলকরদের হাতে তুলে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত করছে তখন তার প্রধান বিরোধী দল দিবানিদ্রায় মগ্ন উল্টে আমি দেখুন " লিং দিয়েছি দিয়েছি যেখান থেকে মোট্টে প্রমাণিত হয়না যে চুক্তি চাষের কারণে কৃষক আত্মহত্যা করছে। এমনকি BT তুলোর জন্যেও আত্মহত্যা হচ্ছে এমনটাও সন্দেহাতীত সিদ্ধান্ত নয়। " । হাস্যকর ।

    এ রাজ্য কেবল বিরোধী শূন্য তাই নয় ক্লীব এবং মেরুদণ্ড হীন চাটুকার বুদ্ধিজীবী পুর্ন । ২০১৪ সালে APMC অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে বাংলার কৃষিপণ্যের বাজার বৃহৎ পুঁজির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার যে চক্রান্তের সূত্রপাত তা পার্টিসিপেটারি ফার্মিং এর নামে চুক্তি চাষ প্রবর্তনের মাধ্যমে বৃত্ত সম্পুর্ন করবার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে প্রায় সমাপ্ত । রাজ্যে এত বড় ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষক বিরোধী অভিযান চলছে অথচ দেখুন চাটুকার বুদ্ধিজীবী কুলের কি হিরণ্ময় নীরবতা !

    চুক্তি চাষের উপকারিতা বিষয়ে থেসিস নামলো বলে !!
  • Ekak | 53.224.129.62 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৩৪51541
  • কদ্দিন এইসব ঢপের যুক্তি দিয়ে চালাবেন বলুন তো ? একক বাবু বেশি বঝেন না কম বোঝেন সেই রেটোরিক দিয়ে ঢপ ঢাকা পর্বে কি ?

    আপনার প্রবন্ধের ধাঁচ টা কলোনিয়াল অপ্রেস্ড কমপ্লেক্স এর আশ্রয় ছেড়ে বেরোতে পারেনা । অর্থাৎ , প্রথমেই ধরে নেওয়া যে ভারত হলো শোষিত নিপীড়িত বাকি বিশ্ব এসে তার পেছন মেরে যাচ্ছে আসুন তাকে রক্ষা করি । এবার কিভাবে রক্ষা করবেন প্রশ্ন করলে আপনার কাছে কোনো উত্তর নেই কারণ সিনিক হতে হতে নিয়তিবাদে পৌঁছে গেছেন যে বিশ্বজোড়া ক্যাপিটালিমের মধ্যে নিজের গবেষণাকেন্দ্র নিয়েও কিছু করার নেই । আবার এই নিয়তিবাদেও জল মেশানো আছে কারণ যেহেতু সেই কলোনিয়াল কমপ্লেক্স কাজ করছেঃ তাই ভাবার ক্ষমতা নেই যে সেই "বিদেশী আগ্রাসনকারী " টা ভারত নয় কেন ?? আমেরিকা তো পৃথিবীর দাদা , ভারত কেন পরের বা তার পরের দাদা টা হতে পারছেনা ? প্রতিবেশী দেশে ভারতের ব্র্যান্ড ভারতের ফুড চেন চলছেনা কেন ?? উত্তর মিলবেনা । কারণ নিজেদের দুর্বলতা ঢেকে বগল চেপে লড়াই করার প্রবণতা ধরা পরে যাবে তাহলে । এখানে শিল্পপতিরা সেফ খেলে অভ্যস্ত , গুজ্জুরা গান্ধীকে সমর্থন করেছিল এই ভেবে যে দেশীয় কাপড় কল চলবে, কিন্তু সস্তায় ভালো জিনিস বানাতে না পারলে অতি বড় দেশপ্রেমীও ম্যানচেস্টারই পোর্তো সে যতই কবি মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় বলে হাপুস কাঁদুন । আপনাদের প্রবন্ধের যুক্তিরাশি ও ঠিক ঐরকম ।

    যে সমস্ত বড় বড় দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদ দার্শনিক কে কোট করেন তারা নিজেরাই এক হাতে আগ্রাসন করে আর এক হাতে দর্শন লিখেছে । আর আমরা ছাগলের পাল সেই দর্শন পড়ে ভাবছি আগ্রাসন করা অপরাধ । একেই দার্শনিক কলোনিয়ালিজম বলে । কলোনিয়ালিজম মানে শুধু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি না । আপনার বিষয় কোনোভাবেই অস্বস্তিকর না , যতই দাবি করুন কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারেনা :) সরি টু সে ..... এই বগল বাঁচিয়ে আমেরিকা গাল দেওয়া প্রবন্ধ বহু বহু চোখে পড়ে .....কালেভদ্রে মন্তব্য করি , অস্বস্তি হলে রেগুলার করতুম :) এখন আর করবো না । নিন এবার অমুক দেশের তমুক বিদ কী বলেছেন সেই নিয়ে সবাই জাবর কাটুন ।
  • PT | 213.110.242.5 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৪৪51542
  • হে হে, আপনি যদি দাবী করেন যে ১৮৫০-এও বিশ্বায়ন-ভিত্তিক চুক্তি চাষ ছিল তাহলে আপনার সঙ্গে তক্ক করা বৃথা। ঘেঁটে চচ্চড়ি হয়ে যাচ্ছে সব।

    তো নীলকর সাহেবরা চলে যাওয়ার পরেও ১৯৪৬-১৯৪৭ সালেও তেভাগা কেন? তখন তো "আমরাই" দখল নিয়েছি সব কিছুর। আর এই দশকেই বা চুক্তি চাষের মধ্যে দিয়ে চাষীকে যেতে হচ্ছে কেন এখন তো ঐ চাষীরাই তাদের শাসক নির্বাচন করছে। অর্থাৎ কিনা "আমরাই" ক্ষমতায়!!

    আপনি ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডে গিয়ে রাস্তায় গাড়ীর কালো ধোঁয়া ছেড়ে দেখুন তো কি হয়!! তারাই তো ঐ সব পুঁজিপতিদের এ দেশে পাঠাচ্ছে এদেশের চাষীর সব্বোনাশ করতে। "আমরা" কেন করতে দিচ্ছি এমন কাজ তাদের?

    আর পব-তে প্রতি কাপ চা ও একজোড়া সিঙ্গাড়া পিছু কতজন করে শিশু শ্রমিক আছে সেই হিসেবটা পেলে ভাল হয়। শুধু সল্লেকেই কতজন শিশু শ্রমিক বড়িতে বাড়িতে কাজ করে সেটা জানলেও হবে। তার পরে নাহয় বিশ্বায়নের শিশু শ্রমিক খুঁজব।
  • Ekak | 53.224.129.62 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৪৭51543
  • আর শোনেন , লিখলুম যখন এবারের ইনস্টলমেন্ট এ আরেকটা পোস্ট করেই যাই ।

    "অস্বস্তি তৈরী করা " অত সহজ না । পাঠকের অস্বস্তি তখনি হয় যখন তার নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ...যে আমি বা আমরা কী করতে পারছি ? এর বাইরে পাঠক তথ্য -যুক্তি এসব নিয়ে তর্ক করেই থাকে অভ্যেসবশে , সেটা কোনো অস্বস্তি না ।

    আপনি যেটা লেখেন ওটা ক্যাথার্সিস । ক্রমাগত একটা হাওয়াকল খাড়া করে সবাইকে ক্যাথার্সিস যোগান যে ওই দেখো বিদেশী শত্রু এবং ক্যাপিটালিজম ওদেরই সব দোষ তোমরা আর নিজের যোগ্যতার কথা ভেবে কষ্ট পেয়োনা বাছাগণ । এতে অস্বস্তি না ঠিক উল্টোটা হয় :):):) ধা করে "অস্বস্তি " লিখে দিলেই হলো নাকি । অতো সোজা !
  • dc | 120.227.233.62 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০১:৩২51555
  • "আচ্ছা উৎপাদনের দায়িত্ব যদি চাষিরই থাকে তবে বিপণনের দায়িত্ব তাঁদের হাতে ছাড়তে অসুবিধা কোথায় ? চাষিরা না পারলে সরকারও কি ওই দায়িত্ব পালন করতে পারে না ? "

    আমি যদিও কৃষির বিষয়ে একেবারেই জানিনা, তবে এই প্রশ্ন দুটোর উত্তর দেবার চেষ্টা করতে পারি।

    প্রথম, চাষীদের স্পেশালাইজেশান চাষ, বিপণনের ব্যাপারে তাঁদের এক্সপার্টাইজ নাও থাকতে পারে। এখানে বরং এফডিআই এনে বা বড়ো প্রাইভেট প্লেয়ারদের এনে সুবিধে হওয়ার কথা, কারন ওয়ালমার্ট ইত্যাদিদের এক্সপার্টাইজ সাপ্লাই চেন বানানোয়। এরা ডিপ সাপ্লাই চেন বানাতে পারবে যেটা চাষীদের বানাতে পারার সম্ভাবনা কম কারন চাষীদের কাছে এই লেভেলের টেকনোলজি না থাকার সম্ভাবনা বেশী। অ্যামাজন বা ওয়ালমার্ট যেভাবে ন্যাশনাল ফুলফিলমেন্ট সেন্টার তৈরি করেছে, বা আমাদের দেশে বোধায় ফ্লিপকার্ট কিছুটা, সেটা বোধায় চাষীরা রেপ্লিকেট করতে পারবেন না।

    দ্বিতীয়, যে কোন সরকার অন অ্যাভারেজ প্রাইভেট প্লেয়ারদের থেকে কম এফিশিয়েন্ট আর কম অ্যাজাইল হয়। সরকারে বুরোক্রেসি বেশী থাকে। তাই অন্যান্য অনেক সেক্টরের মতো কৃষিতেও সরকারের আসার থেকে প্রাইভেট প্লেয়াররা এলে মনে হয় এফিসিয়েন্সি বাড়বে।
  • PT | 213.110.242.20 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০২:২৪51547
  • "এ রাজ্য কেবল বিরোধী শূন্য তাই নয় ক্লীব এবং মেরুদণ্ড হীন চাটুকার বুদ্ধিজীবী পুর্ন । ...... রাজ্যে এত বড় ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষক বিরোধী অভিযান চলছে অথচ দেখুন চাটুকার বুদ্ধিজীবী কুলের কি হিরণ্ময় নীরবতা !"

    "মানুষ কখন ভেড়া হবে তুমি জানতে পার না!!"
    তবে বিরোধী দল ও বুজীদের বিপ্লব-বিদ্রোহ করার জন্যে রাজ্যে একটি বাম সরকারের প্রয়োজন একথা এখন তো সর্বজনবিদিত।
  • দেবব্রত | 212.142.76.198 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০২:৫০51548
  • ১৮৭০-৮০ এর পুর্বে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরের বিশ্বব্যাপী ট্রেডের ইতিহাস ,ট্যারিফ ব্যারিয়ার ,বিভিন্ন দেশের প্রটেকসনিস্ট ট্রেন্ড পড়লেই হবে -যে বিশ্বায়ন ঠিক কবেকার ঘটনা -বেশি তত্ত্ব টত্ত্ব ঘাঁটতে হবেনা । আর কেউ বলেছে কিনা জানিনা আমি অন্তত বলিনি যে ৯০ দশকের পরের বিশ্বায়ন আর নীলকরদের সময়ের বিশ্বায়নের চরিত্র একই ধরনের । আর শুনুন একদা জুটের ম্যানচেস্টার স্কটল্যান্ডের জুটের ফ্যাকটারি সমূহ উঠেই গেল ,বা কলকাতার জুটের ফ্যাক্তারির কাছে হেরে গেল তার অন্যতম প্রধান কারন ইউরোপের ট্যারিফ ব্যারিয়ার । এখন কাউকে শিক্ষিত করবার দায় আমার নয় যে বিশ্বায়ন প্রকৃত অর্থে ট্রেডের সুত্রপাত্রের জমানা থেকে (২০০০ BC হতে পারে ) - ১৯১৪ এই সময় পর্যন্ত আজকের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাপক এবং প্রায় বাধাহীন ছিল ।

    আর নীল চাষের সময় কালের (প্রায় ১০০ বছর ) প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় ধরে জমি দখল করে নীল চাষ হোতোনা ১৭৯৫ সালে নীল চাষ শুরু হলেও ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানি নীলকরদের জমি ক্রয়ের অনুমতি দেয় তার পুর্বে জমিদারের জমি লীজ নিয়ে , যৌথ উদ্যোগ স্থাপন করে ,চাষিদের লাভের আশা দেখিয়ে নীলচাষ হত -আজকের চুক্তি চাষ বিষয়ক সরকারী আইন বা প্রচারের একেবারে কার্বন কপি ।

    আজ্ঞে হ্যাঁ চুক্তি চাষ এবং নিয়ো লিবারাল পলিসি প্রয়োগের ক্ষেত্রে " বিজেপি--মমতা-আর সিপিএমকে যে এক আসনে" বসানো ছাড়া উপায় নেই তা না হলে ভাবের ঘরে চুরি করা হয় । আপনি একটা উদাহরণ দেখান যেখানে সিপিএম -তৃনমূল -বিজেপি মূল অর্থনৈতিক বিষয়ে (লিপ সার্ভিস ছাড়া ) আলাদা ।

    দেখান সরকারী ”সম্পত্তির disinvestment" এবং নগণ্য মূল্যে সরকারী সম্পত্তির “ privatization" পাবলিক ইউটিলিটি সমূহ বেচে দেওয়া - হসপিটাল ,স্কুল ,জল ,বিদ্যুৎ,খনি ,পোর্ট ,টেলিকম এবং সর্বশেষে বীজ ,সার , কৃষিপণ্য বিপণন , চুক্তি চাষের স্বার্থে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ ,কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আইন বাতিল এর ঠিক কোনটা বিগত সরকার -বর্তমানসরকার - বিজেপি করেনি বা করছেনা ?

    PT বলছেন " তথ্যকে এত বাছাই আর বিকৃত করার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। " তা দেখান ওপরে উল্লেখিত ঠিক কোনটা বিগত সরকার করেনি -আর করেছে বলেই রাজ্য জুড়ে যে এত বড় ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষক বিরোধী অভিযান চলছে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা দূরের কথা বিতর্ক করবার ক্ষমতা সিপিএম এবং তস্য অনুগত ক্লীব বুদ্ধিজীবীদের নেই ।
  • dc | 120.227.230.12 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:০০51549
  • আজকের কাগজে দেখলাম সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুড সেক্টরে এফডিআই বাড়াবে। আমার মনে হয় এটা ভালো সিদ্ধান্ত, এর ফলে সাপ্লাই চেন আরো ভালো হবে আর ফুড সিকিওরিটিও হয়তো একটু বাড়বে। আগেও লিখেছি, পুরো ফুড সেক্টরেই এফডিআই নর্মস সহজ করা উচিত আর ম্যাসিভ ইনভেস্টমেন্ট দরকার। সেইমতোই পলিসি নেওয়া হচ্ছে।
  • PT | 213.110.242.20 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:২৬51550
  • এই শূন্যগর্ভ আলোচনাটা একটা অর্থহীন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। নিজের খুশীমত ১৮৫০ আর ১৯৯১ কে জুড়ে দিয়ে হাঁসজারু খাড়া করার প্রচেষ্টা সেই নাটকেরই শেষ অঙ্ক।

    সেই শূন্যগর্ভ পূর্ব নির্ধারিত রাজনৈতিক অন্ধত্বের কারণে একজন প্রাবন্ধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফারাক করতে পারে না। তাই একটি রাজ্যের সরকার আর কেন্দ্রের সরকারকে "একই" রকম দেখায়। আর এসবের মধ্যে আমি তিনোদের ধরিনা। তারা অর্থনীতি বোঝে না। বাম সরকারের কাজকম্মই অন্য নামে চালিয়ে যাচ্ছে আর ধ্যারাচ্ছে। আর না হলে লোকের করের পয়সা দিয়ে দানছ্ত্র খুলে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখছে।

    কিন্তু সেই বাড়িয়ে বলার প্রবণতা আবার সত্যকে আড়াল করছে। এ পর্যন্ত যা যা খবরে পড়েছি, অন্ততঃ পব-র ক্ষেত্রে, তাতে এমন সিদ্ধান্তে পোঁছনোর কোনই কারণ নেই যে "চুক্তি চাষের স্বার্থে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ "-এর কারণে কৃষক অল্লভজনক ব্যবসা করছে। আর অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে, বিশেষ্তঃ মহারাষ্ট্রের চাষীর আত্মহত্যার সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সেচের জলের সরবরাহের কি সম্পর্ক সেটা হৃদয়ের বদলে মস্তিষ্ক দিয়ে বিচার করা প্রয়োজন।
  • dc | 120.227.230.12 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:২৮51551
  • ১৮৫০ এর পর যা কিছু হয়েছে সবই সভ্যতার অভিশাপ। এদ্দিনে এটা বুঝে গেছি।
  • avi | 125.187.34.254 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:৩৩51552
  • ঃ))))))))))
  • ranjan roy | 120.227.159.229 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৪:১৩51556
  • ডিসি,
    ধরুন, ওয়ালমার্ট ও ফ্লিপকার্টের মত সেন্ট্রালাইজড কন্ট্রোলে খুব বড় বাজারকে কেটার করার জায়গায় যদি অসংখ্য ছোট ছোট বিকেন্দ্রীকৃত চাষিদের মার্কেটিং কো-অপারেটিভ?
    যারা লোক্যালাইজড এবং শুধু স্থানীয় বাজারের জন্যে সাপ্লাই চেন তোরি করবে? কম পুঁজি, কম ম্যানপাওয়ার ও কম লাভের জন্যে?
  • dc | 120.227.233.62 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৪:৪৮51557
  • রঞ্জনদা তাতে আমার এমনিতে কোন আপত্তি নেই। কমপিটিশান বাড়লে বায়ার আর সেলার দুজনেই আরো অপ্টিমাল প্রাইসও পাবে। তবে "বিকেন্দ্রীকৃত চাষিদের মার্কেটিং কো-অপারেটিভ", এরা যদ্দুর মনে হয় খুব ডিপ সাপ্লাই চেন বানাতে পারবেন না, কারন সেই টেকনিকাল নলেজ নেই। ওয়ালমার্ট আর ফ্লিপকার্টের যে লজিস্টিক্স মুভমেন্টের অভিজ্ঞতা আছে সেটা বোধায় এনাদের নেই। তবে এনিওয়ে, ওয়ালমার্ট, ফ্লিপকার্ট বা বিগ বাস্কেট ইত্যাদিদের পাশাপাশি যদি কো-অপারেটিভ রাও বাজারে প্রতিযোগিতা করেন তাহলে প্রোডিউসার আর কনসিউমার দুপক্ষেরই এখনকার থেকে লাভ বেশী হবে।
  • ranjan roy | 120.227.159.229 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৪:৫৭51558
  • ঠিক কথা। কি জানেন-- ভগবান সবার খুঁটে খাওয়ার জায়গা করে দিয়েছেন।ঃ))
    গাঁয়ের লোকজন মাসে দুমাসে শহরে বেড়াতে গিয়ে বড় চেন এর দোকান থেকে জিনিস কেনে। বাকি সময় ঘরের পাশের ছোট দোকান (মুদি ও শাকসব্জি) সামান্য বেশি দামে সাপ্লাই দেয়। দুপক্ষেরই পুষিয়ে যায়।
    গ্রাহকের সামান্য খরিদ্দারীর জন্যে খরচা করে শহরে মলে যাওয়া পোষায় না।
    দুধ ও মদ দুটোই বিক্কিরি হবে। কেউ ঝাঁপ ফেলবে না।
  • dc | 233.187.17.182 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৫:০৪51559
  • হ্যাঁ ইন্ডিয়ার মার্কেট এতো বড়ো আর এতো সেগমেন্টেদ যে এখানে সবার খেলার স্কোপ আছে।
  • amit | 69.102.68.134 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৫:৩৭51553
  • ডিসি কে,

    না না , যবে থেকে পাখি মারা শুরু হলো প্লেন উড়িয়ে, তবে থেকেই সব কি রকম ঘেটে গেলো :):)
  • এলেবেলে | 11.39.38.190 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৫:৫৯51560
  • যা ভেবেছিলাম ! গোটা বারো প্রশ্ন ছিল । খুউব দয়ালু দু-একজন দুটো প্রশ্ন নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন । আর বাকিরা বোধ হয় ঠাকুর দেখতে গেছেন !

    সাধে কি আর বলেছি গুরুতে আমার প্রশ্নের কোনও জবাব আসে না !!
  • এলেবেলে | 11.39.38.168 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৬:২৩51561
  • অ্যামাজন,ওয়ালমার্ট বা ফ্লিপকার্ট সবজান্তা এই টিপিক্যাল খোপ থেকে বেরোতে না চাইলে বিকল্প কিছু ভাবা সম্ভব নয় ।
    ‘যে কোন সরকার অন অ্যাভারেজ প্রাইভেট প্লেয়ারদের থেকে কম এফিশিয়েন্ট আর কম অ্যাজাইল হয়’ এই কম এফিশিয়েন্ট আর কম অ্যাজাইল হওয়ার অন্য কারণও থাকে । হলদিয়া পেট্রোর আগেই ধিরুভাই গুছিয়ে বসেছিলেন । আজকের কাগজেই আছে এ রাজ্যের ১০ হাজার এটিএমের সাড়ে তিন হাজার শুধু স্টেট ব্যাঙ্কের যার মাথায় হাত বুলিয়ে প্রাইভেট ব্যাঙ্ক চমৎকার খরচ বাঁচাচ্ছে । এ সরকারের আমলেই কিন্তু দীর্ঘদিন লোকসানে চলা তন্তুজ লাভের মুখ দেখেছে । সরকার বিদ্যুতের ব্যবসা চালাতে পারলে, মাদার ডেয়ারি চালাতে পারলে এবং লাভ করতে পারলে কৃষিপণ্য বিপণনে ধ্যাড়াবেই এমনটা তো নাও হতে পারে । রঞ্জনবাবু মফস্‌সলের লোকেদের মলে যাওয়ার অসুবিধা ও আলস্যের ব্যাপারটা দারুণ ধরেছেন । আমিও এটা বলতে চাইছি । সব সময় লুটি তো ভাণ্ডার মানসিকতা না থাকাই কাম্য ।
    আর ‘মাল্টি ক্রপ ফার্মিং-এর আদর্শ সুযোগ’ বিষয়ে কেউ দু’ পয়সা দেবেন নাকি ? কী নির্লজ্জ !!
  • এলেবেলে | 11.39.57.24 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০৫51554
  • যদিও বিশুদ্ধ আদার ব্যাপারী তবু ভবিষ্যৎ কিছুতেই পরিষ্কার হচ্ছেনা ।

    একদিকে দেখছি — ‘যদিও তৃনমূল মন্ত্রী জানিয়েছেন যে কৃষিপণ্যের বাজার কেবলমাত্র দেশীয় পুঁজিপতিদের জন্য খোলা হচ্ছে রাজ্যে বিদেশী পুঁজিকে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা অথচ আমরা সকলেই জানি যে ওয়ালমার্ট ,টেস্কো ইত্যাদিরা এদেশীয় পুঁজিপতি রিলায়েন্স ,ভারতী ,আদানি ,টাটা ,বিড়লার হাত ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করবে । বাজারের সেরা অংশ ডিপ পকেটের ক্ষমতায় ঝাড়াই ,বাছাই ,প্যাকেটবন্দি হয়ে ঢুকে যাবে এয়ারকনডিশন্ড শপিংমলে বা রপ্তানির বাজারে । বিক্রি হবে চতুর্গুণ দামে ,কৃষকের এলাকা দখল করে লাভ করবে পুঁজি,বাজারে পড়ে থাকবে ঝরতি পরতি বাতিল কৃষিপণ্য । আর তাই ২০১৪ সালে এই আইন পাস হওয়ার সাথে সাথে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় রিলায়েন্স ১০ একর বা অধিক পরিমান জমি বৃহৎ কৃষিবাজার খোলবার জন্য কিনে রাখতে শুরু করে’

    তো সত্যিই কি এ সুযোগে ওয়ালমার্ট ঢুকে যাবে আম্বানি-আদানির হাত ধরে ? তারাই বাজারের সেরা জিনিসগুলো কিনে চারগুণ দামে বেচবে ? সত্যিই রিলায়েন্স বেশিরভাগ জেলাতেই ১০ একরের ওপর জমি কিনছে ? যদি কেনে তবে কী উদ্দেশ্যে কিনছে ? আচ্ছা উৎপাদনের দায়িত্ব যদি চাষিরই থাকে তবে বিপণনের দায়িত্ব তাঁদের হাতে ছাড়তে অসুবিধা কোথায় ? চাষিরা না পারলে সরকারও কি ওই দায়িত্ব পালন করতে পারে না ? আমাদের রাজ্যে দু-দুটো পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিটি ব্লকে একজন এডিও (Agricultural Development Officer)।সেখানে চাষিদের টেকনিক্যাল নো হাউ পেতে, উন্নত বীজ পেতে অসুবিধা কোথায় ? যদি সমবায় গঠন হয়ে গিয়েই থাকে সেখানে তো মাল্টি ক্রপ ফার্মিং-এর আদর্শ সুযোগ যেখানে চাষি একসাথে পুকুর, হাঁস-মুরগি-ছাগল পালন, নার্সারি, লাভজনক সবজি ও ফলের চাষ, মাশরুম-কেঁচো সার ইত্যাদি দিব্যি করতে পারেন চিরাচরিত ধান-পাট-সরষের সঙ্গে । একটায় ক্ষতি হলেও অন্যটায় তা পুষিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আছে তাতে । সেসব আদৌ ভাবা হচ্ছে না কেন ? আচ্ছা ‘কর্ণাটকে টম্যাটো, পাঞ্জাবে ধান এবং আলু ,পশ্চিমবঙ্গে আলু’র চুক্তি চাষে একই চিত্র' তথ্য হিসেবে এটা কতদূর ঠিক ? যদি বাকি রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তার মঙ্গলময় দিকগুলো মানে ‘কৃষক দুবেলা দুধে ভাতে আছে’ টাইপের খবরগুলো পাচ্ছি না কেন ?

    অন্যদিকে — ‘তবে জেনে রাখুন চুক্তি চাষই হবে কেননা আমরা চাষীদের উৎপাদন বাঁচানোর জন্যে যথেষ্ট হিমঘর বানাইনি। BT কটন আসবেই কেননা আমরা চাষীদের জন্য উন্নতমানের তুলোর বীজ তৈরি করিনি। আর ইউরিয়া ইত্যাদি সারের ব্যবহার আরো বাড়বে কেননা এই বিপুল পরিমাণ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার অন্য কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করিনি। আর চাষের জমিতেই যে শিল্প হবে সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা কেননা চাষীর ছেলেপুলেদের বাঁচানোর জন্যে আমরা অন্য কোন রাস্তা খুঁজে দেখিনি’

    মানে সোওজা এই পথে আলো জ্বেলে এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে ।এই যে জন্ম ইস্তক শুনে এলাম ‘বিকল্প’ অর্থনীতি,কৃষিনীতি আর শিল্পনীতির সঠিক প্রয়োগের জন্য রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতার প্রয়োজন তো সেটা কি নিছকই ফাঁকা বুলি ছিল ? যথেষ্ট হিমঘর না বানানোর, উন্নতমানের বীজ না তৈরি করার,বিপুল পরিমাণ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার অন্য কোন পদ্ধতি আবিষ্কার না করার বা করলেও তা প্রয়োগের সদিচ্ছা না থাকার এই যে বিপুল অপদার্থতা, তা ঢাকার দায়িত্ব কেবল জান-মাল কবুল করা চাষিদের ? আর আমাদের ‘এয়ারকনডিশন্ড শপিংমলে’ সরেস জিনিসটি কিনেই সব দায়িত্ব শেষ ? তিনোরা যদি সত্যি সত্যিই অর্থনীতি না বোঝে এবং বাম সরকারের কাজকম্ম চালাতে গিয়ে ধ্যারায় সেক্ষেত্রেও তো সর্বস্বান্ত হবেন সেই চাষিরাই ? তাহলে সমাধান ?

    গুরুতে আমার প্রশ্নের কোনও জবাব আসে না ! সেটা প্রশ্নের দোষ না আমার সেটা ঠিক জানিনা অবশ্য !!
  • ranjan roy | 120.227.159.229 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:০৯51563
  • ভাঙছ প্রদেশ ভাঙছ জেলা জমিজমা ঘরবাড়ি,
    পাটের আড়ত ধানের গোলা কারখানা আর রেলগাড়ি;
    তার বেলা?

    এইখানেই sm এর কাছে স্বীকার করে নিই--উনি যখন গতবছর অন্য একটি টইয়ে ভারতের ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা নিয়ে জোরগলায় বলেছিলেন তখন অনেকের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমিও বিপদকে বাড়িয়ে দেখা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।
    এখন দেখা যাচ্ছে sm ঠিক।
    সরকারি ব্যাংকগুলোর এনপিএ লেভেল ক্রমশঃ বাড়ছে, নাটের গুরু স্টেট ব্যাংক।
    সমস্ত প্রথাসিদ্ধ দাওয়াই ব্যর্থ। এখন শুরু হয়েছে কার্পেটের তলায় নোংরা লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা। বর্তমান সরকারের থিংক ট্যাংক পরামর্শ দিয়েছিলেন একটা আলাদা ব্যাংক বানাতে( কনসেপ্চুয়ালি )যেখানে সমস্ত ব্যাড লোন ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শীট থেকে বের করে দিয়ে পার্ক করে রাখা হবে। যাতে ব্যালান্স শীট গুলো "স্বচ্ছ ভারত " হয়ে যায়।
    রঘুরাম রাজন এর বিরোধিতা করেছিলেন। এই ইন্ফ্লেশনারি বাজারে বিজনেস লবির স্বার্থে রেপো রেট ব্যাংক রেট কমানোর বিরোধিতা করেছিলেন। ওনাকে সরতে হল। উর্জিত প্যাটেল এসেই রেপো রেট অনেকখানি কমিয়েছেন ফলে শিগ্গিরই লোনের ব্যাজ কমবে। ই এম আই কমবে, কিন্তু সেভিংস ও ফিক্স্ড ডিপোজিটেও কমবে।
    ব্যাড লোন ব্যাংকও আসছে।
    সরি এস এম!
  • দেবব্রত | 57.15.124.220 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:৫৫51562
  • এলেবেলে - আপনি ভুল জায়গায় ভুল প্রশ্ন করছেন - আসলে উন্নতি /প্রগতি কাকে বলে এই বিষয়ে যে প্রোপ্যাগান্ডা গজাল দিয়ে মস্তিষ্কে গেঁথে দেওয়া সেই প্রোপ্যাগান্ডার বাইরে দাঁড়ানর জন্য যে বৌদ্ধিক কষ্ট স্বীকার ,বা অন্তত নেড়ে ঘেঁটে দেখবার প্রয়াস তা অবর্তমান - তাই প্রখর বামপন্থী -বুদ্ধ বাবুর চুক্তি চাষে বিন্দুমাত্র অন্যায় দেখেন না আর এক দল অ্যামাজন,ওয়ালমার্ট বা ফ্লিপকার্ট সবজান্তা এই টিপিক্যাল খোপ থেকে বেরোতে পারেন না ।

    আপনিও পারেন - কি নির্লজ্জ !! যেই আপনি প্রশ্ন করবেন " দেখান সরকারী ”সম্পত্তির disinvestment" এবং নগণ্য মূল্যে সরকারী সম্পত্তির “ privatization" পাবলিক ইউটিলিটি সমূহ বেচে দেওয়া - হসপিটাল ,স্কুল ,জল ,বিদ্যুৎ,খনি ,পোর্ট ,টেলিকম এবং সর্বশেষে বীজ ,সার , কৃষিপণ্য বিপণন , চুক্তি চাষের স্বার্থে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ ,কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আইন বাতিল এর ঠিক কোনটা বিগত সরকার -বর্তমানসরকার - বিজেপি করেনি বা করছেনা ?"

    দেখুন কেমন পালাচ্ছে - শালা ল্যাটা মাছ ধরা এর থেকে সহজ !
  • PT | 213.110.242.6 (*) | ১১ অক্টোবর ২০১৬ ১২:৩৮51564
  • চুক্তি চাষ আর চাষীর আত্মহত্যা প্রসঙ্গে "গেল গেল" রব তোলার আগে এই সব তথ্যও বিষদ ভাবে পর্যালোচনা করা দরকারঃ

    "Land Reforms Fail, 5% of India's Farmer Control 32% Land"
    "Five acts, gleaned from the 2011-12 agricultural census and 2011 socio-economic caste census and this correspondent’s data, summarise the failure of India’s land reforms:

    *No more than 4.9% of farmers control 32% of India’s farmland.
    #A “large” farmer in India has 45 times more land than the “marginal” farmer.
    #`101.4 million–or 56.4%–of rural households own no agricultural land.
    #`Only 12.9% of land marked–the size of Gujarat–for takeover from landlords was taken over by December 2015.
    #Five million acres—half the size of Haryana—was given to 5.78 million poor farmers by December 2015।

    আর পূর্ব-নির্ধারিত রাজনৈতিক অন্ধত্বের কারণে বাম-কং-বিজেপি-তিনো সব ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘেঁটে ঘ করে দেওয়ার আগে এই সব ফারাকও মনে রাখা দরকারঃ

    What has largely failed nationwide—with the exception of West Bengal—over 54 years since a land-redistribution law was passed is not likely to improve...........

    তবে যে দেশের চাষী নিজের স্বার্থ না বুঝে জাত-পাত-ধর্ম ইত্যাদির ভিত্তিতে সরকার নির্বাচন করে তাদের কপালে নীলকররাই জুটবে সে আর আশ্চর্য কি? মুষ্টিমেয় কয়েকজন সাহেব এই কোটি কোটি মানুষের দেশে ২০০ বছর ধরে লুঠে-পুটেই বা নিয়ে গেল কি করে?
    you get the governament you deserve-এতো বহু জানা প্রবচন!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন