ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নীলকরের দালালী

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১৫২১ বার পঠিত
  • আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রেজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হতে চলেছে । চুক্তি চাষ কথাটি যেহেতু সিঙ্গুর ,নন্দীগ্রাম পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বিপদজনক সেহেতু এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পার্টিসিপেটারি ফার্মিং - অংশগ্রহণ মূলক চাষ । আনন্দবাজারের এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে শাসকের পালটি খাওয়া শুরু ,তাও এমন এক ভদ্রলোকের হাত ধরে যিনি বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত কৃষক বিরোধী কাজকর্মের পাণ্ডা ছিলেন । আদিবাসি জমি ,খাস জমির চরিত্র বদল করে হাজার হাজার একর জমি উনি উত্তর দিনাজপুর ,জলপাইগুড়ি এলাকায় চা বাগানের মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা বানিয়েছেন । ওদিকে যখন সিঙ্গুর নিয়ে ধুন্ধুমার হচ্ছে তখন চুপে চাপ হিন্দ মোটরের জমি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যান্ড থেকে ‘ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কমার্সিয়াল ‘ এই চরিত্রে পরিবর্তিত করবার কারিগর ইনি । মাত্র সাড়ে দশ কোটি টাকার বিনিময়ে হিন্দ মোটরের ৭৪৩ একর জমির রায়তি স্বত্ব বিড়লাদের হাতে তুলে দেওয়ার রূপকার ইনি । এনার চতুরতার ফলে হিন্দ মোটর বন্ধ করে দিয়ে হাউসিং করতে বিড়লাদের আজ আর কোন অসুবিধা নেই ।

    তবে বর্তমান শাসকের এই পালটি খাওয়ার চতুর প্ল্যান এবং ধারাবাহিকতা বুঝতে গেলে আমাদের একটু পেছনের দিকে যেতে হবে । ভারতের কৃষি পন্য’র মার্কেট নাকি বদ্ধ জলার মত যেখানে কৃষক এবং উপভোক্তার মধ্যে হাজারো স্তর । ফড়ে ,আড়তদার ,হোল সেলার ,রিটেলারের হাত ঘুরে একটি কৃষিপণ্য যখন প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছায় তখন তাতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মূল্য যুক্ত হয় কিন্তু সেই বর্ধিত মূল্যের অধিকাংশই মধ্যস্বত্ব ভোগীরা আত্মসাৎ করে, উৎপাদক চাষি এবং সাধারণ উপভোক্তা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তা চাষি এবং উপভোক্তার স্বার্থ রক্ষার এই মহান উদ্দ্যেশ্য কে সামনে রেখে,বিশ্বায়িত পুঁজির কাছে ভারতের কৃষিব্যবস্থার ক্রমাগত আত্মসমর্পণের সূত্রপাত হিসাবে ২০০৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রের এন ডি এ সরকার কৃষি ক্ষেত্রে রিফর্মের নামে কৃষি বিপণন সম্পর্কিত একটি মডেল আইন বা দিক নির্দেশিকা প্রস্তুত করে । সেই মডেল আইনের মুল তিনটে বিষয়গুলি ছিল ঃ-

    ১, মার্কেট কমিটি নিয়ন্ত্রিত কৃষক মান্ডি ছাড়াও প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি বা পাইকারি বাজার তৈরি করবার অধিকার দেওয়া দরকার - অর্থাৎ বর্তমান আড়ৎদার নিয়ন্ত্রিত কৃষক বাজার বৃহৎ এবং ব্যক্তিগত পুঁজির কাছেও উন্মুক্ত করা হোক ,এই বিপুল মধ্যস্বত্ত ভোগীদের মার্কেট শেয়ারে বৃহৎ পুঁজিকেও ভাগ বসাতে দেওয়া হোক ।

    ২, কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থা এবং যে কেউ যদি কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করতে চায় তাহলে সেই অধিকার প্রদান করা উচিৎ - যেহেতু কৃষক ফড়ে ,আড়ৎদার ইত্যাদির মাধ্যমে বাজারে ফসল বেচতে বাধ্য সেহেতু তারা উপযুক্ত মূল্য পায়না আর ফড়ে ,আড়ৎদারদের লাভের কারনে উপভোক্তাও বেশী দাম দিতে বাধ্য থাকে কিন্তু এই সমস্ত বৃহৎ রিটেল চেন বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি যদি কৃষকের থেকে সরাসরি কৃষি পণ্য কিনতে পারে তাহলে কৃষক ন্যায্য দাম পাবে এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের লাভের অংশ এড়িয়ে রিটেল চেন বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি সস্তায় উপভোক্তাকে কৃষিপণ্য সরবরাহ করতে পারবে । দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবেনা ইত্যাদি ।

    ৩, চুক্তি চাষের অধিকারের স্বার্থে আইন তৈরি করা বা অ্যামেন্ড করা জরুরী। মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত ভারত এখন উচ্চমানের কৃষিপণ্য কেনবার মত আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারী তাঁদের স্বার্থে যদি মোটা চালের বদলে সুগন্ধি বাসমতী চাল ,বা বিশেষ ধরনের আলু ,উৎকৃষ্ট হাইব্রিড টম্যাটো , লেটুস পাতা ইত্যাদি চাষি নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট গুনমান অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারে তাহলে কৃষক স্বাচ্ছ্যলের মুখ দেখতে পারে ইত্যাদি । সেক্ষেত্রে অবশ্য বীজ ,সার ,হরমোন, কি চাষ হবে এবং টেকনোলোজি প্রাইভেট কোম্পানিগুলিই নির্দিষ্ট করে দেবে ।

    আদতে এই দিকনির্দেশের মুল লক্ষ্য ছিল দেশের কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সরাসরি দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করা । আসলে কৃষি ক্ষেত্র দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে ডান -বাম নির্বিশেষে শাসকদলগুলির মধ্যে এক ধরনের ঐক্যমত বর্তমান যা মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও বিশ্বায়নবাদী নীতির দ্বারা নির্দেশিত । আর তাই বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে আত্মসমর্পণ করে ২০১৪ সালের পুর্বে ভারতের প্রায় ১৭টি রাজ্য এই মুল তিনটে বিষয়কেই তাঁদের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার মধ্যে ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে -যে সমস্ত রাজ্য ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দিকনির্দেশ গ্রহণ করেনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদন কারি রাজ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ ।

    আমাদের অনেকেরই মনে আছে বুদ্ধ বাবুর নেতৃত্বে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্য জুড়ে চুক্তি চাষ চালু করবার একটি প্রয়াস চালায় । কিন্তু সেই সময়ে ফরোয়ার্ড ব্লক যাঁদের হাতে রাজ্যের কৃষি বিভাগ এবং কৃষক মান্ডি গুলি পরিচালনার ক্ষমতা ছিল তারা এবং বিভিন্ন শরিকেরা চুক্তি চাষ চালু করবার বিপক্ষে তীব্র প্রতিবাদ করে । বিভিন্ন ছোট রাজনৈতিক দল ,অরাজনৈতিক সংগঠন এমনকি তৎকালীন তৃনমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে চুক্তি চাষের বিরোধিতায় রাস্তায় নামলে বুদ্ধ বাবু মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ,রিল্যায়েন্স ফ্রেস ,স্পেন্সার ,মোর , বিগ বাজার এই দু চারটি বৃহৎ কোম্পানিকে কৃষিপণ্য নিয়ে ব্যবসা করবার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি প্রদান করে চুক্তি চাষের প্রজেক্ট হিমঘরে পাঠাতে বাধ্য হন ।

    তবে চুক্তি চাষ চালু করবার ক্ষেত্রে এইসব বিক্ষোভ মুল বাধা ছিলোনা ,পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের কোন কৃষক দরদী বিকল্প পন্থা বা বদান্যতাও ছিলোনা । সেই সময়ে যে আইনের বলে বাংলার কৃষি পণ্যের বাজার কর্পোরেট আগ্রাসন থেকে নিষ্কৃতি পায় তা হোল তৎকালীন APMC অ্যাক্ট । ১৯৭২ সালে পাস হওয়া এবং ১৯৮০ সালে সংশোধিত রাজ্যের কৃষক স্বার্থরক্ষার এই আইনের বলে APMC কে এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেনা বা ভিন্ন রাজ্য থেকে সস্তায় কিনে এ রাজ্যে বিক্রি করা সম্ভব ছিলোনা । আর সেই অ্যাক্ট সংশোধন না করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রস্তাব এবং চুক্তি চাষ আইনসংগত ভাবে পশ্চিমবঙ্গে চালূ করা অসম্ভব ছিল । তাই বাধ্য হয়ে বুদ্ধ বাবুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিব্যবস্থা রিফর্মের নামে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সরাসরি দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় ।

    কিন্তু আধুনিক পুঁজির যুগে পুঁজি তো আর পশ্চিমবঙ্গের মত অন্যতম গুরুত্বপুর্ন এবং বিপুল কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী রাজ্যে কৃষিপণ্য বিপণনের মত লাভজনক ব্যবসা থেকে হাত গুটিয়ে থাকতে পারেনা । পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান পথ যদি "accumulation through expansion" হয় তাহলে পুঁজি বৃদ্ধির আরেক সহজ পথ "accumulation through encroachment" বটে । এখন পুঁজি সবসময়েই বিভিন্ন বৃহৎ এবং ক্ষদ্র ক্ষেত্রে বর্তমান যখন এই সমস্ত ক্ষেত্রে যেমন রাষ্ট্রীয় উৎপাদন এবং পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার ( আমাদের দেশের কৃষি /হস্তশিল্প যার অন্যতম ) বাইরের ক্ষেত্র গুলিকে বাদ দিয়ে বা তাদের অবস্থানে বিঘ্ন না ঘটিয়ে বিভিন্ন রেটে ,বিভিন্ন সেক্টরে পুঁজির বিকাশ হয় তখন মুল স্রোতের অর্থনীতিবিদেরা সেই ব্যবস্থা কে "accumulation through expansion" বলেন ।

    কৃষি ক্ষেত্রে পুঁজির এই বিকাশ পেছনের দরজা দিয়ে বীজ ,সার ,ট্রাক্টর ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ,বিভিন্ন রাজ্যে বহুকাল ধরে প্রবেশ করছে । কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন ,বিপণন ক্ষেত্র তা অধিগ্রহণ করেনি । কিন্তু এর সাথে সাথে পুঁজি বৃদ্ধির একটা বিকল্প এবং সহজ রাস্তা আছে যাকে অনেক অর্থনীতিবিদেরা “accumulation through encroachment" বলছেন । সস্তায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি কিনে নেওয়া , দুর্বল ফ্যাক্টারি কিনে নেওয়া , অন্যের উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে আনা ,পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে থাকা জগতের দখল নেওয়া এবং এই পথে পুঁজির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম পথ । বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রে বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সরকারী ”সম্পত্তির disinvestment" এবং নগণ্য মূল্যে সরকারী সম্পত্তির “ privatization" পাবলিক ইউটিলিটি সমূহের দখল - হসপিটাল ,স্কুল ,জল ,বিদ্যুৎ,খনি ,পোর্ট ,টেলিকম এবং সর্বশেষে বীজ ,সার , কৃষিপণ্য বিপণন , চুক্তি চাষের মাধ্যমে নগণ্য মূল্যে বিপুল জমি অধিগ্রহণ ,কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আইন বাতিলের মাধ্যমে পুঁজির “accumulation through encroachment”এর ক্ল্যাসিক উদাহরণ ।

    এখন পশ্চিমবঙ্গে এই বাধা দূরীকরণের অন্যতম উপায় ছিল APMC অ্যাক্টের সংশোধন ,আর এই ক্ষেত্রে তৃনমূল সরকার দেশী -বিদেশী সংস্থাগুলির প্রতি দুই বাহু প্রসারিত করতে কার্পণ্য করেনি । তৃনমূল সরকার তাঁদের বাস্তব আভিজ্ঞতা থেকে বুদ্ধ বাবুর বা বামফ্রন্টের সময়ের APMC অ্যাক্টের দুর্বলতা বিষয়ে অবগত ছিল । মমতা দেবীর নেতৃত্বাধীন তৃনমূল সরকার জানত যে APMC অ্যাক্ট সংশোধন না করে পশ্চিমবঙ্গে চুক্তি চাষ , মার্কেট কমিটি নিয়ন্ত্রিত কৃষক মান্ডি ছাড়াও প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি তৈরি করবার অধিকার দেওয়া এবং কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থার কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করবার অধিকার প্রদান করা সম্ভব নয় । আর তাই ক্ষমতায় আসবার মাত্র তিন বছরের মাথায় ,বিভিন্ন দেশীয় এবং ভিনদেশী পুঁজিপতি সংস্থাদের মেসেজ দেওয়ার উদ্দ্যেশে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন কৃষি বিপণন মন্ত্রী অরূপ রায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত তাড়াহুড়োয় ,অভুতপুর্ব দ্রুততায় ,পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার একটি এক বেলার বিশেষ অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে Agricultural Produce Marketing ( regulation) amendment Act ২০১৪ বিল পাস করা হয় । উল্লেখ্য এই বিল সমস্ত বিরোধী দল বিরোধিতা করলেও বিলটির সমর্থনকারী বিরোধী পক্ষের একমাত্র বিধায়ক ছিলেন বিজেপির শমিক ভট্টাচার্য মহাশয় । কেননা উভয়েরই স্বার্থ এক ।

    এই বিল চুক্তি চাষের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সমস্ত প্রস্তাব যেমন প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে কৃষক মান্ডি তৈরি করবার অধিকার ,কৃষকের থেকে দেশীয় ,বিদেশীয় সংস্থার কৃষি পণ্য প্রত্যক্ষ ক্রয় করবার অধিকার মেনে নেওয়া হয় । এই আইনের বলে সরকার ব্লক পর্যায়ের কৃষিপণ্যের বাজারগুলির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে পারবে । বেসরকারি সংস্থাগুলি সরাসরিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে কোন সরকারী নিয়ন্ত্রন ছাড়াই যে কোন পরিমাণ কৃষিপণ্য কিনতে পারবে । বেসরকারি সংস্থাগুলি জেলাস্তরে বৃহৎ কৃষিবাজার খুলতে পারবে । বিনিয়োগকারীরা কমিশন এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে এবং সরকারকে একটি বাৎসরিক ফি’র পরিবর্তে যে কোন পরিমান কৃষিপণ্য কেনা , মজুত করা ,প্রক্রিয়াকরণ এবং বিক্রি করবার অধিকার পাবে । মাত্র অর্ধেক দিবসের এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার অবশেষে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে ‘ মা মাটি মানুষের সরকার ‘ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ক্ষেত্র দেশী এবং বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ভিত্তি স্থাপিত করেছিলেন ।

    ২০১০ সালে বিধানসভায় দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে আমরা জানতে পারে যে সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ এবং মাঝারি কৃষিপণ্যের বাজার ছিল ৪৮৯টি ,এর মধ্যে APMC আইনের আওতায় বৃহৎ বাজার ছিল ৩৭টি এবং মাঝারি বাজার ছিল ১৮৪টি অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত বাজারের সংখ্যা ছিল ২৬৮টি ,তা ছাড়াও যেখানে কৃষকেরা সরাসরি কৃষিজাত পণ্য বিক্রি করে থাকেন এইরকম গ্রামীণ বাজারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০এর মত । এই নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিত দুই ধরনের বাজারেই বহু পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কেনাবেচা ,আদান প্রদান হয় ,অসংখ্য ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবনধারণ করে । তৃনমূল সরকারের আমলে এই নিয়ন্ত্রিত এবং অনিয়ন্ত্রিত বাজারের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনই APMC অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেওয়ার ভিত্তি ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে । ২০১৪ সালের APMC অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের বলে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশ পুঁজির “accumulation through encroachment” ক্ষুদ্র চাষি ,কৃষিপণ্য বিপননের ওপর নির্ভরশীল গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার রাস্তা ইতিমধ্যে তৈরি করেছে ।

    যদিও তৃনমূল মন্ত্রী জানিয়েছেন যে কৃষিপণ্যের বাজার কেবলমাত্র দেশীয় পুঁজিপতিদের জন্য খোলা হচ্ছে রাজ্যে বিদেশী পুঁজিকে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা অথচ আমরা সকলেই জানি যে ওয়ালমার্ট ,টেস্কো ইত্যাদিরা এদেশীয় পুঁজিপতি রিলায়েন্স ,ভারতী ,আদানি ,টাটা ,বিড়লার হাত ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ করবে । বাজারের সেরা অংশ ডিপ পকেটের জোড়ে ঝাড়াই ,বাছাই ,প্যাকেটবন্দি হয়ে ঢুকে যাবে এয়ারকনডিশন্ড শপিংমলে ,রপ্তানির বাজারে , বিক্রি হবে চতুর্গুণ দামে ,কৃষকের ডোমেন দখল করে লাভ করবে পুঁজি,বাজারে পড়ে থাকবে ঝরতি পরতি বাতিল কৃষিপণ্য । আর তাই ২০১৪ সালে এই আইন পাস হওয়ার সাথে সাথে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় রিলায়েন্স ১০ একর বা অধিক পরিমান জমি বৃহৎ কৃষিবাজার খোলবার জন্য কিনে রাখতে শুরু করে ।

    ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দল নেতা এবং বর্তমানের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ বাবু পশ্চিমবঙ্গে খুচরো ব্যবসায় দেশী -বিদেশী বৃহৎ পুঁজির অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব আনেন ,যাতে সমস্ত কর্পোরেট সংস্থার খুচরো এবং পাইকারি ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের দাবী তোলা হয় অথচ মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে তারই সরকার APMC অ্যাক্ট সংশোধন করে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজারে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশের রাস্তা সুগম করে তোলেন । মা মাটি সরকারের এই দ্বিচারিতা এবং কৃষক বিরোধী অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের হল্লাচিল্লা দূরের কথা -উন্নয়নের জোয়ারে ভেড়ার পালের মত দলত্যাগ দেখবার মত ।

    তা ২০১৪ সালে APMC অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজারে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির অনুপ্রবেশের রাস্তা সুগম করে দিলেও ,বা পিপিপি মডেলে ব্লকে ব্লকে হিমঘর তৈরি করে বৃহৎ পুঁজিকে প্রবেশের রাস্তা দেখালেও পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজার খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়নি । তার অন্যতম কারন ছিল কেন্দ্রে এবং রাজ্যে নির্বাচন ,বিরোধী দলের উপস্থিতি এবং তৃনমূল সরকারের কৃষক বন্ধু মুখোশ । আর তা ছাড়াও তৃনমূল সরকার বুদ্ধ বাবুর সরকারের তুলনায় বিচক্ষণ । যদিও খুব ধীরে পরিকল্পিত উপায়ে এই নূতন আইনের বলে বর্তমানে পেপসিকো ,আই টি সি , ইউনিলিভার ইত্যাদি কোম্পানি চুক্তিচাষ বা মান্ডি থেকে ইতিমধ্যে কৃষকের ফসলের অনেকটাই তুলে নিয়ে যাচ্ছে । পেপসিকো’'লেজ’' পোট্যাটো চিপসের জন্য এক বিশেষ ধরনের আলু চুক্তি চাষের মাধ্যমে কৃষকদের থেকে ক্রয় করছে এবং কাঁচামালের সারাবছর সরবরাহ নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের হিমঘর গুলিতে বিপুল পরিমান জায়গা অগ্রিম লীজ নিয়ে রাখছে এর ফলে সাধারণ চাষি ফসল উঠলে হিমঘরে জায়গা না পেয়ে কম দামে তাঁদের ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । ধীরে ,সকলের দৃষ্টির অগোচরে কিন্তু নিশ্চিত পন্থায় পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্যের বাজার এই আইনের বলে ক্রমে মুনাফালোভি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে ।

    পুঁজিপতিদের চাপে এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় তৃনমূল সরকার তাঁদের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত কাজ করবার জমি বিগত দফায় ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছেন । APMC অ্যাক্ট ইতিমধ্যে সংশোধিত । পেপসি ,আই টি সি ইত্যাদি কোম্পানির চুক্তি চাষের ট্রায়াল রান সমাপ্ত। মোদী সাহেবের প্রিয় পাত্র আদানি পশ্চিমবঙ্গে ফর্চউন কোম্পানিকে সামনে রেখে একের পর এক তেলের মিল আর ডাল ভাঙ্গার ফ্যাক্টারি কিনে নিচ্ছে । রাজ্য বিরোধী শূন্য । বিভিন্ন ডোল এবং প্রকল্পের মাধ্যমে জন দরদী ভাবমুর্তি প্রতিষ্ঠিত । কেবল যা প্রয়োজন ছিল তা হল একজন দক্ষ ,চতুর এবং বিশ্বস্ত ম্যানেজার । আর তাই সুপরিকল্পিত ভাবে রেজ্জাক মোল্লার নিযুক্তি । রেজ্জাক মোল্লা কে মন্ত্রী করবার উদ্দেশ্যও তাই -কৃষকের জমি কি করে এবং কিভাবে হাতাতে হবে এ বিষয়ে ইনি পোস্ট ডক্টরেট । বিগত সরকারের সময়ে তাঁর প্রতিভা প্রমাণিত । আর রেজ্জাক মোল্লা এসেই কাজে নেমে পড়েছেন ,শুরু করেছেন চুক্তি চাষের পক্ষে ,নব্য নীলকরদের পক্ষে দালালী । মাঝে মাঝেই আওয়াজ দিচ্ছেন ,জনতার প্রতিক্রিয়া মাপছেন আর অত্যন্ত দ্রুততায় বৃহৎ কৃষকদের নিয়ে কৃষক গোষ্ঠী সৃষ্টি করছেন যাঁদের সঙ্গে বৃহৎ কোম্পানি চুক্তি চাষের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করবে । অতি শীঘ্র রিলায়েন্স যে সমস্ত জমি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কিনে রেখেছে সেই সমস্ত জমিতে পুঁজি নিবেশের ঘোষণা করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই ।

    চুক্তি চাষের ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে কৃষকের রক্ত নিংড়ে নেওয়ার যে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ,পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বাইরে থাকা যে গ্রামীণ সমাজ সেই সমাজের দখল এবং নিয়ন্ত্রণ বৃহৎ পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার যে চক্রান্ত তা আমাদের রাজ্যে রচিত হচ্ছে বিগত দুই বছর ধরে । মুখে কৃষক দরদী কথা কিন্তু অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি কৃষিজীবী ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন জীবিকা লুঠের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তৃনমূল সরকার । নীল চাষ ,তামাক চাষ , আফিম চাষের মত চুক্তি চাষের ধারবাহিকতার গায়ে নূতন জোব্বা পড়িয়ে কঙ্কাল ঢাকবার প্রয়াস আজকে নূতন নয় । আর জি এস টি , শিশুশ্রম বিল সমর্থক সরকারের কাছ থেকে আশ্চর্যএরও নয় । বিদেশী বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা গুলির কাছে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিকে সম্পুর্ন আত্মসমর্পনের রাস্তা প্রায় সমাপ্ত । একদিকে বিভিন্ন পন্থায় রাজ্য বিরোধী শূন্য করে দিয়ে গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে একছত্র আধিপত্য কায়েম ,অন্যদিকে কর্পোরেট জগতের কাছে কৃষি উন্মুক্ত করে দেওয়া এই এজেন্ডা এখন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের কাছে পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ আর এই পথ প্রশস্ত করবার ক্ষেত্রে মোদী ,মমতা এবং বাকি রাজ্যসরকার গুলি একজোট ।

    অবশেষে পুঁজিবাদ দীর্ঘজীবি হউক ।।
  • ব্লগ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১৫২১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন