এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রক্তিম বসন্ত , নববর্ষ ঃ-অধিকার অর্জনের অনমনীয় লড়াই

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৩৯ বার পঠিত
  • বসন্ত উৎসব , রঙের উৎসব , ফাগুয়া -হোলী , বাঙ্গালীর দোল উৎসব এসে গেল । অদ্ভুত ভাবে ঠিক একই দিনে বছরের একই সময়ে সেই ঐতিহাসিক সময়ে থেকে কুর্দ জনতা রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু এবং গণহত্যা অগ্রাহ্য করে আজকের দিনে (২১সে মার্চ ) রাস্তায় , প্রকাশ্য স্থানে জমা হয় ‘নিউ রোজ ‘ মানাতে । 'নিউ রোজ' হোল কুর্দ নববর্ষ একই সাথে বসন্তের উৎসব । আগের কালে পাহাড়ে পাহাড়ে শীতের ঝরা পাতায় আগুণ লাগানো হত । সারা কুর্দিস্তান , ইরাক , ইরান , তুরস্ক , আর্মেনিয়া , সিরিয়া এমনকি আফগানিস্তানের পাহাড় আগুনে লাল হয়ে যেত আজকের দিনে । কাল থেকে যে বসন্ত । সাত দিন ধরে নাচ ,গান , খানা পিনা, উপহার বিনিময়ের বাঁধন ছাড়া উৎসব । এখনো শহরে গ্রামে প্রত্যেক বাড়ি থেকে কাঠ কুটো জমা করে আগুণ লাগানো হয় । সেই আগুণকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে নাচ গান উৎসব । ঠিক কোথায় যেন আমাদের হোলির পূর্বের ন্যাড়াপোড়া অথবা 'হোলিকা দহনের’ সাথে অদ্ভুত একটা মিল আছে । আমাদের দেশেও বেশ কিছুদিন পূর্বে প্রত্যেক বাড়ি থেকে এক টুকরো কাঠ জমা করে ‘ হোলিকা দহনের’ উৎসব পালন হত, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো হয় । আর ঠিক আমাদের হোলির দিনেই এই অনুষ্ঠান হয় সারা কুর্দিস্তান ,ইরান এমনকি আফগানিস্তান ,আর্মেনিয়াতে ।

    হয়ত’বা আমাদের এই হোলির পরম্পরার ইতিহাস , অদ্ভুত রকমের সাযুজ্য সম্পন্ন প্রথা এমনি হোলী কে ঘিরে যে মিথ তা কুর্দদের প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার এই উৎসব থেকেই ইরান আফগানিস্তানের পথ ধরেই এসেছে, কে জানে। কিন্তু চমকে ওঠার মত সাযুজ্য , একেবারে কার্বন কপি , বক রাক্ষসের মিথ এবং ভীমের হাতে তার মৃত্যু পর্যন্ত, প্রায় একই উৎসব একই মিথ ।

    কিন্তু কুর্দদের এই স্বাভাবিক হাজারো বছরের প্রাচীন বসন্ত উৎসব প্রায় ১০০ বছর ধরে আর উৎসব নেই - ক্রমে তা রক্তেরর্ নববর্ষ ,আত্মাভিমান পুনঃউদ্ধার , স্বাধীনতা এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিরোধের লড়াই এ পর্যবসিত । তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ,উগ্র জাতীয়তাবাদের হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনি । নিউ রোজ মানেই উৎসবের সাথে সাথে প্রতিরোধের প্রস্তুতি ।

    গত একশো বছরের মতো এই বছরেও তুরস্কের সরকার দেশ জুড়ে কুর্দ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে । গৃহযুদ্ধ চলছে সেই জুলাই থেকে পিকেকে’র সাথে । এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম বলি হয়েছেন ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি তে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কর্মরত এক ব্রিটিশ নাগরিক । কম্পিউটারের এই প্রফেসর কে 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানের নিমত্রন গ্রহণ করার কারনে পত্রপাঠ দেশত্যাগী করা হয়েছে তিনি নাকি সন্ত্রাস বাদীদের সমর্থক ,এক্ষেত্রে তুরস্কের সরকার আমাদের সরকারের বড় দাদা তুল্য । আমাদের দেশে পাকিস্তানে চলে যাও বলে ধমকি দেওয়া হলেও তুরস্ক ওইসব ফাঁকা আওয়াজে বিশ্বাস না করে কেবলমাত্র নিউ রোজের নিমত্রন গ্রহণ করার অপরাধে প্রফেসর কে সিধা প্লেনে তুলে দিয়েছে ।

    এই লেখা টি যখন আমি লিখছি তখন সারা তুরস্ক জুড়ে সাধারণ নাগরিকেদের নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে কোথাও কাঁদানে গ্যাস ,কোথাও জল কামান ছুঁড়ছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী । নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘নিউ রোজ ‘ এর আগুণ । অশ্বারোহী বাহিনী সাধারণ জনতার দঙ্গল ছত্রভঙ্গ করছে । ভাবা যায় আজকে এই একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের ২৫% নাগরিক তাঁদের চিরাচরিত 'নববর্ষ’ পালনের এক নির্বিষ অনুষ্ঠান পালন করবেন আর রাষ্ট্র সেই অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করবে , গুলি চালাবে এমনকি গন হত্যা ঘটাবে ? অথচ তুরস্কে ঠিক এমনটাই হয়ে আসছে কেমাল আতাতুর্কের সময় থেকে আর কুর্দরাও সেই সময়ে থেকে প্রতি বৎসর সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পথে নামছে , অগ্রাহ্য করছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ,তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে সরকারী চোখ রাঙ্গানি , রক্তাক্ত নববর্ষ পালিত হচ্ছে প্রতিটি বৎসর ।

    ঐতিহাসিক সময় থেকে কুর্দরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হলেও আমাদের আকবরের মত অটোম্যান শাসক রাও কুর্দদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ ,সংস্কৃতির স্বাধীনতা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান নি । তাই সাংস্কৃতিক আধিপত্য নিয়ে , ভাষার আধিপত্য নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ছিল অতীব নগণ্য । ঠিক যেমন দীর্ঘ মুসলমান শাসন কালে ভারতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার ঘটনা হাতে গোনা যায় । কিন্তু অটোম্যান সাম্রাজ্যের শেষের দিক থেকে ক্রমে ইউরোপের সংস্কৃতি , আধুনিকতার ধারনা ,খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং ইউরোপের সাথে সংস্পর্শ তুরস্কের অভিজাত সমাজের মানসিক গঠন বদলাতে থাকে । গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ অনুগামীগন এবং আর্মেনীয় খ্রিস্টান তুরস্কের ব্যবসা ,সম্পদ এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । কুর্দদের প্রথা , সংস্কৃতি ,ভাষা কেমন যেন ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখা শুরু হয় । তখন তুরস্কে তুর্কী জাত্যাভিমানের উদয়ের সময় । কুর্দ এবং অন্যান্য জনজাতির সাথে সংঘাতের বীজ বপনের সূত্রপাত ।

    অবস্থা চরমে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবশেষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তুরস্কে কেমাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী পার্টির উত্থানের সাথে সাথে । কেমাল আতাতুর্কের ধর্মের আধিপত্যহীন , আধুনিক , একতাবদ্ধ ,এক জাতী ,এক প্রাণ , এক ভাষা, এক গান এই তথাকথিত প্রগতিশীল সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন বিশ্বে বিশেষত পশ্চিমের দুনিয়ায় প্রভূত প্রশংসা কুড়ালেও স্থাপন করতে থাকে উগ্র তুর্কি জাতীয়তাবাদ । সমস্ত মাদ্রাসা তুলে দেওয়া হয় । ডিক্রী বলে তুর্কী ভাষা ছাড়া সমস্ত ভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । সমস্ত কুর্দ শহরের নাম তুর্কীয় নামে পরিবর্তিত হতে থাকে । প্রকাশ্য স্থানে কুর্দ ভাষায় কথা বলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । কুর্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক লহমায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় । আইন অমান্যে জেল এবং অত্যাচার নেমে আসে কুর্দ জনজাতির ওপর । জাতীয়তাবাদের নামে সংখ্যাগুরুর বুলডোজার চালানো হতে থাকে সংখ্যালঘু জনজাতির ওপর ।

    ঠিক এমনিটিই হয়ে থাকে আধুনিক সেকুলার 'নেসান স্টেটে’ । আমেরিকায় লিবার্টি সীমাবদ্ধ থাকে কেবল মাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য । ব্রিটেনে আইরিশ’রা হয়ে পড়ে উৎপাত । ইউরোপে ইহুদী এবং জিপসিদের দেখা হতে থাকে কৃমি কীটের থেকেও অধম হিসাবে । তুরস্কে কুর্দদের এক লহমায় অস্তিত্বই মিটিয়ে দেওয়া হয় । জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক হেজিমনি ।

    অসংগঠিত এবং সবল রাজনৈতিক পার্টির অনুপস্থিতিতে কুর্দরা নিজেদের মত প্রতিরোধ করতে থাকেন । রক্তাক্ত হতে থাকে প্রতিটি প্রতিরোধ । অবশেষে ১৯৩৮ -১৯৪০ সালের সময় থেকে কুর্দ প্রতিরোধ রাষ্ট্রের প্রবল শক্তির কাছে ক্রমশ হেরে যেতে থাকে । দীর্ঘ কাল প্রবাসে থাকার ফলে আমাদের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম যেমন নিজেদের ভাষা ,সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে থাকে, সম্পৃত হতে থাকে বৃহৎ আগ্রাসী সংস্কৃতির সাথে । গান , নাচ , পোশাক , ভঙ্গিমা যেমন আজকের দিনে বলিউড গ্রাস করে নেয় ঠিক তেমনই পরবর্তী কুর্দ প্রজন্ম ভুলে যেতে থাকে নিজেদের ভাষা , সংস্কৃতি , ঐতিহ্য এবং পরম্পরা । কিন্তু তুর্কী জনজাতি কুর্দদের ঠিক নিজের লোক বলে মানতে পারেনা -ঠিক যেমন আমরা নর্থ ইস্ট বাসিন্দাদের চিঙ্কি অথবা অন্যগ্রহের প্রাণী বলে মনে করি । আবার কুর্দরাও প্রাণপণ তুর্কী বনার প্রয়াসে ক্রমে নিজেদের সংস্কৃতি তুর্কীয় সংস্কৃতির সাথে মেলানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বিশাল তুর্কীয় জাতীয়তাবাদের সমুদ্রে ইতস্তত ভেসে থাকে ।

    ইতিমধ্যে আবদুল্লা অচালান ১৯৭০ এর দশকে কুর্দ স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করেন ( এ বিষয়ে আমি অন্য পোস্টে বিস্তারিত লিখেছি বলে সেই ইতিহাসের পুনারবৃত্তি আর করছিনা ) অচালান কুর্দ আইডেন্টিটি ,শ্রেণী নির্বিশেষে একতা এবং সংখ্যাগুরুর আইডিওলজিকাল হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনির আইডিওলজি গড়ে তুলতে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং এই হারিয়ে যাওয়া পরম্পরা 'নিও রোজ' প্রকাশ্যে পালন করতে কুর্দ জনতাকে উৎসাহিত করতে থাকেন । ভাষা এবং সংস্কৃতি এমন একটা রাজনৈতিক অস্ত্র যা ধর্ম এবং শ্রেণী নির্বিশেষে এক ছিন্ন বিচ্ছিন ক্ষুদ্র জনজাতিকে একতাবদ্ধ করতে পারে । পিকেকে অগ্রগামী হিসাবে নিজেরা প্রকাশ্যে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং নিও রোজ পালনের উৎসব পালন করতে শুরু করে । রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এতকাল লুকিয়ে লুকিয়ে নিজেদের নববর্ষ পালনের উৎসবে ধীরে ধীরে কুর্দ জনতা অংশগ্রহণ করতে শুরু করে । সাথে সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় দমনের ধারাবাহিকতা ।

    আবদুল্লা অচালান কুর্দ জনতার এই পরম্পরাকে 'কাউন্টার হেজিমনির ‘ আইডিওলজিতে পরিনত করতে থাকেন। 'নিউ রোজ' শ্রেণী এবং ধর্ম বিভেদ ভুলে আপামর কুর্দ জনতার রাষ্ট্র বিরোধী জমায়েতে পরিনত হতে থাকে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে । ‘ নিও রোজ ‘ কুর্দ জনতার সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠতে থাকে । নিউ রোজ এর পুন;উত্থান এবং এই উৎসব কে কেন্দ্র করে কুর্দ মবিলাইজেসান , তুরস্কের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ বিরোধী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সফলতা ।এ এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধী ক্ষুদ্র জনজাতির পাল্টা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত ।

    এক দিকে নিউ রোজের উৎসবকে কেন্দ্র করে ,তার সাথে জড়িত মিথ,অল্টারনেটিভ স্টোরি ,সাধারণ জ্ঞান ব্যবহারে কুর্দ সংস্কৃতি ,আইডেন্টিটির এক অভূতপূর্ব একতাবদ্ধতা অন্যদিকে তুরস্কের সরকারের এই একতাবদ্ধতার অনুষ্ঠানে বাধা প্রদানে বলপূর্বক রাষ্ট্রীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রয়াস । এই 'নিউ রোজের’ সাথে মিথ ,ইতিহাস এবং প্রতিবাদের সূত্র জড়িয়ে আছে - এ কোন সাধারণ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নয় - অত্যাচারী রাজার হাত থেকে হাজারো বছর পূর্বে কুর্দ জনজাতির মুক্তির সফলতার এবং বসন্ত আগমনের ইতিহাস বা লোককথা ভিত্তিক মিথ ।

    সেই কোন প্রাগৈতিহাসিক কালে এক আসিরিয়ান অত্যাচারী রাজা ছিল 'যুহাক’ । কোন এক সময়ে যুহাক ইরান এবং বর্তমান কুর্দিস্তান দখল করে । অত্যাচারী শাসন চলতে থাকে ১০০০ বছর ধরে । তার অত্যাচারের ফলে কুর্দিস্তানে বসন্তের আগমনই হতোনা । তার শক্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দিন দুই শক্ত সমর্থ যুবককে বলি দিয়ে তাঁদের ঘিলু এই রাজার কে খাদ্য হিসাবে দিতে হোত । কিন্তু যিনি এই কঠিন কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি দু জন যুবকের বদলে কেবলমাত্র একজনকে হত্যা করে তার ঘিলুর সাথে ভেড়ার ঘিলু মিশিয়ে রাজা 'যুহাক’ কে দিতেন । বেঁচে যেত একজন যুবক প্রত্যহ । কেমন যেন আমাদের বক রাক্ষসের গল্পের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা ? ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে অত্যাচারী রাজা 'যুহাক’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে শুরু করল । অবশেষে 'কাওয়া’ পেশায় কর্মকার , যার ৬ ছেলে ইতিমধ্যে রাজা 'যুহাক’ এর এই অত্যচারে বলিপ্রদত্ত হয়েছে -বলি থেকে বেঁচে ফিরে আসা কুর্দ যুবকদের নিয়ে এক অকুতভয় সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন । কোন এক ঐতিহাসিক সময়ে ২০সে মার্চ রাত্তিরের অন্ধকারে সেই সৈন্যবাহিনী রাজা যুহাকের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে , কাওয়া তার নিজের হাতে তৈরি এক বিশাল হাতুড়ীর ঘায়ে অত্যাচারী রাজা ’ যুহাক’ এর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে । কাওয়া ২১সে মার্চ পাহাড়ে আগুণ লাগিয়ে দেন দেশবাসী কে খবর দিতে যে অত্যাচার সমাপ্ত । ঠিক তার পরের দিন থেকে 'বসন্ত' প্রায় হাজার বছরের রাজা 'যুহাক’ এর অত্যাচারী শাসনের অবশেষে ফিরে এলো কুর্দিস্তানে ।

    এই যে শক্তিশালী মিথ । হাতুড়ীর আঘাতে অত্যাচারীর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে দেওয়ার প্রতীক । কুর্দ জাতীর স্বাতন্ত্রতা । প্রত্যেক দিন একজন সক্ষম যুবকের বলিদান স্বত্বেও অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে লড়াইয়ের ক্ষমতা । লোহা দিয়ে তৈরি জনজাতি । এই শক্তিশালী মিথ এবং তাকে ঘিরে উৎসবের পুন;উত্থান অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তার সাথে অচালান প্রোথিত করে দিলেন কুর্দ জনতার হৃদয়ে । এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিও রোজ' তুর্কী জাতীয়তাবাদের চাপে বিচ্ছিন্ন কুর্দ জনতাকে একতাবদ্ধ করে দিল । পুনরায় কুর্দ জনজাতি রাষ্ট্রীয় দমন অগ্রাহ্য করে আতসবাজি পুড়িয়ে ,নেচে , গেয়ে , উপহার বিনিময় করে তাঁদের হাজারো বছরের এক প্রথা নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান পালন করতে শুরু করে । একই সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ।

    ১৯৯০ সালের 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানে নুসাইবিন শহরে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে ৩ জনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় মৃত্যু মিছিল । ১৯৯১ সালের অনুষ্ঠানে যথারীতি নিষেধাজ্ঞা জারী হয়। ইস্তাম্বুল , আদানা , জিজরে , কুল্প ,হানি এবং দিয়ারবাকির শহরে নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে তুরস্কের সরকার নির্বিচারে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালালে ৩১ জন লোক প্রাণ হারান । ১৯৯২ সালে ২০শে মার্চ পুনরায় পুলিশের গুলি চালনায় ২ জন নিরস্ত্র ব্যক্তির মৃত্যু হলে মানুষ ক্ষেপে ওঠে ২১ সে মার্চ ৯৪ জন নিরস্ত্র জনতার মৃত্যু ঘটে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালেও যথারীতি তুরস্ক সরকারের এই কুর্দ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধকরনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে । কিন্তু ততদিনে কুর্দ প্রভাবিত গ্রামাঞ্চলে পিকেকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাই এই দমন নেমে আসে শহরাঞ্চলে ।

    ১৯৯৩ সালের নিউ রোজ অনুষ্ঠান ভঙ্গ করার প্রাথমিক টার্গেট ছিল আদানা শহর । তুরস্কের পুলিশ অফিসাররা তার সাথে আক্রমণ নামিয়ে আনে বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালে ২১সে মার্চ বসন্ত উৎসব গুঁড়িয়ে দিতে প্রথম ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয় । বাড়ি ঘরে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ চলতে থাকে । এই আক্রমণে এক ১৬ বছরের কিশোর এক ৬২ বছরের বৃদ্ধ সমেত ৬ জন প্রাণ হারান । তুরস্কের সরকার ২০০২ সাল পর্যন্ত এই আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ,কিন্তু অনমনীয় কুর্দ 'রাও এই নিউ রোজ অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে থাকেন । ১৯৯৯ সালে আবদুল্লা অছালান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক 'নিও রোজ' নববর্ষেরে সাথে সাথে অচালানের মুক্তির দাবীতে ম্যাসিভ কুর্দ জনতার সমাবেতে পরিবর্তিত হতে থাকে । ২০০০ সালে কমপক্ষে ১০ লাখের অধিক কুর্দ জনতা রাস্তায় নামে নিউ রোজ পালন করতে ।

    প্রত্যেক বছর ক্রমাগত বেড়ে চলা জনতার ঢল এবং বিপুল ঐক্যবদ্ধতার কাছে অবশেষে রাষ্ট্র পিছু হটে । প্রায় একশো বছরের অবশেষে কমপক্ষে ৩০০-৪০০ জনতার বলিদানে 'নিও রোজ' আজ এক সত্যিই দেখবার মত অনুষ্ঠান । পুনরায় এই বছর তুরস্কের সরকার 'নিউ রোজ’ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধ করেছে কিন্তু সমুদ্রের উচ্ছ্বাস বালির বাঁধ দিয়ে ঠেকানোর মত উড়ে গেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা । নিউ রোজ ‘ কাওয়ার ‘ বিজয়ের উৎসব , অত্যাচারের অবসানে বসন্ত আগমনের উৎসব ।

    প্রতীক ,মিথ অনেক দেশেই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সংগঠিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে । আমাদের আনন্দমঠ , ভারতমাতার কল্পনা ,পোঙ্গলে বলি রাজার ফিরে আসার মিথ ইত্যাদি কিন্তু এক শক্তিশালী মিথ ব্যবহার করে এক মৃতপ্রায় প্রথাকে জাতী ধর্ম শ্রেণী নির্বিশেষে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র জনজাতিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করার এত সফল দৃষ্টান্ত আধুনিক বিশ্বে অনুপস্থিত । অচালান সেই কারনেই কুর্দ জনতার হৃদয়ের নেতা । নিউ রোজ এক সত্যিই মনে রাখার মত বুদ্ধিদীপ্ত কাউন্টার হেজিমনি আইডিওলজি -রক্তাক্ত কিন্তু ঐক্যবদ্ধ অসাধারণ বসন্ত উৎসব ।

    সমস্ত কুর্দিস্তান জুড়ে , ইউরোপ জুড়ে এই বসন্তের উৎসব অশুভের পরাজয় এবং শুভর জয় ,পালিত হচ্ছে একই দিনে আমাদের হোলির সাথে সাথে — আপনাদের জন্য থাকলো এই উৎসবের কিছু চিত্র এবং ভিডিও । Here are the YPG & YPG fighters celebrating #Nowruz pic.twitter.com/iOXymhQ8HB
  • ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৩৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:৩৫56660
  • দেবব্রতবাবু, আপনার পয়েন্টটা বুঝলাম। এই লেখার উদ্দেশ্য হিসেবে আপনি যেটা বলছেন, সেই কাউন্টার হেজিমনি কি কন্টেক্সটবিহীন ভাবে দেখা সম্ভব? মানে টার্কির রাজনৈতিক পরিস্থিতি তো এই লেখার শিকড়, সেটা এড়াবেন কিকরে?

    অটোমান রাজত্বে কুর্দরা খুব ভালো ছিলো এটা পুরো ঠিক না। অটোমান সুলতান মাহমুদ (মেহমেত-২) এর আগে অবধি কুর্দরা অটোনোমি ভোগ করতো, তাদের ঘাঁটানো হয়নি, কিন্তু তার কারণ ছিলো তারা দরকারে সৈন্য দিত, আর সীমা সুরক্ষিত রাখতো। সেটা তাদের ভালো সময়ই বলবো। পরে দুটো দরকারি পরিবর্তন আসে মেহমেত-২ এর আমলে। এক, তানজিনাত ফর্মান জারি করে অ-মুসলমানদের নাগরিক সুযোগ সুবিধে সুরক্ষিত করা হয় এবং একইসঙ্গে পশ্চিমী প্রভাবে সালতানাত অনেকটা গণতন্ত্রের দিকে এগোয়। দুই, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা মাথাচাড়া দেয়, এবং মেহমেত এগজ্যাক্টলি সেটাই করেন যা কাশ্মীরে ভারত সরকার করেছে/করছে, অর্থাৎ দমন নীতি। সুতরাং কেমাল আতাতুর্কের আমলের আগেও কুর্দদের সাথে খুবই ঘাঁটানো হয়েছে, এবং এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ধর্ম ও নন-সেকুলার এন্টিটি মিশে আছে।

    অটোমানরা এমনিতে কেমন দয়ালু ছিলো সেটার জন্য অবশ্য আমরা আর্মেনিয়ান জেনোসাইড দিয়েই বুঝে নিতে পারি। আর কুর্দদের সম্পর্কে মনে রাখতে হবে ইতিহাসে সবথেকে প্রমিনেন্ট কুর্দ হলেন সলাহদীন, যাঁকে মুসলমানেরা প্রফেটের ঠিক পরেই রাখেন, এবং নানান গুণের পাশাপাশি তিনি একজন দুর্ধর্ষ ও নির্মম ওয়ারলর্ড ছিলেন। এইসব এবং ৬০০ বছরের অটোমান রাজত্বে মাইনরিটির অবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে কেমাল আতাতুর্কের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্যে।
  • দ্রি | 47.187.129.166 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:৫৫56661
  • সে আমাদের মুস্তাফা কেমাল পাশাও দুর্ধর্ষ, নির্মম মিলিটারী ছিলেন।
  • hu | 140.160.143.133 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:৫৬56662
  • টিমের সাথে একেবারেই একমত। টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরিতে কুর্দদের দুর্দশার কারন যতদূর বুঝি দায়িত্বজ্ঞানহীন মানচিত্র বন্টন। যে কারনে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, টার্কি সব দেশেই কুর্দরা মাইনরিটি, যদিও এই চারটি দেশের কুর্দরা মিলে যদি একটি দেশ হত তাহলে তার আয়তন নেহাত কম হত না। সেই দাবী কুর্দরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। আমার মূল আপত্তি দেবব্রতবাবুর "তথাকথিত সেকুলার রাষ্ট্র" জাতীয় জেনারাইলেজশনে। সেকুলারিটি ও তীব্র জাতীয়তাবাদ হাত ধরাধরি করে চলতে পরে। সেই জাতীয়তাবাদের জন্য সেকুলারিজমকে দায়ী করার মানে হয় না। বাকি কুর্দরা যে দেশগুলোতে আছেন সেই দেশগুলো সেকুলার নয়। সেইসব দেশে কুর্দদের অবস্থা কি টার্কির কুর্দদের চেয়ে ভালো? আমার তো বরং উল্টোটা মনে হয়।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:৫৭56663
  • tim ঃ- আপনি আমার লেখাটায় দেখবেন " কিন্তু অটোম্যান সাম্রাজ্যের শেষের দিক থেকে ক্রমে ইউরোপের সংস্কৃতি , আধুনিকতার ধারনা ,খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং ইউরোপের সাথে সংস্পর্শ তুরস্কের অভিজাত সমাজের মানসিক গঠন বদলাতে থাকে । গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ অনুগামীগন এবং আর্মেনীয় খ্রিস্টান তুরস্কের ব্যবসা ,সম্পদ এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । কুর্দদের প্রথা , সংস্কৃতি ,ভাষা কেমন যেন ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখা শুরু হয় । তখন তুরস্কে তুর্কী জাত্যাভিমানের উদয়ের সময় । কুর্দ এবং অন্যান্য জনজাতির সাথে সংঘাতের বীজ বপনের সূত্রপাত ।" আমি আপনি যেটা বলছেন " কেমাল আতাতুর্কের আমলের আগেও কুর্দদের সাথে খুবই ঘাঁটানো হয়েছে, এবং এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ধর্ম ও নন-সেকুলার এন্টিটি মিশে আছে।" সেটা ছুঁয়ে গেছি বিশদে যাইনি । আপনি যদি আমার রোজাভা বিষয়ক প্রথম পোস্ট এবং সেই পোস্টের কমেন্ট গুলি পড়েন দেখবেন আপনি যেটি বলছেন ' দুই, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা মাথাচাড়া দেয়, এবং মেহমেত এগজ্যাক্টলি সেটাই করেন যা কাশ্মীরে ভারত সরকার করেছে/করছে, অর্থাৎ দমন নীতি।' সেটা এবং আর্মেনীয় জেনসাইড এর বিস্তারিত উল্লেখ আছে । কুর্দ দের সিরিয়াতে একই কাজে অর্থাৎ সৈন্য বাহিনী তে সৈন্য জোগান বিনিময়ে ট্রাইবাল গোষ্ঠীপতিদের কিছুটা স্বশাসনের অধিকার ফ্রান্স অধীন সিরিয়াও দিত , এমনকি আর্মেনীয় গণহত্যায় এক দল কুর্দ গোষ্ঠীপতির সমর্থন ছিল যদিও অন্যদিকে কুর্দদের ও একই সাথে ভীটে মাটি উচ্ছেদ করা হচ্ছিল - কিন্তু এতদ স্বত্বেও তাঁদের ভাষা /সংস্কৃতি মূলত আন টাচড ছিল যা কেমাল এসে আমূল পাল্টে দিলেন । লেখাটা এই পরিপ্রেক্ষিতে কারণ ১৯২৩ সাল থেকে তুরস্কে তুর্কী ছাড়া সব ভাষা নিষিদ্ধ হয়ে গেল । এবং সাথে সাথে নিউ রোজ । আপনি মনে হয় আমার রোজাভা বিষয়ক লেখাটি পূর্বে পড়েছেন ।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:০৭56664
  • হ্যাঁ পড়েছি। আমি একেবারেই কুর্দ আইডেন্টিটি ক্রাইসিসকে বা তাদের ওপর অপ্রেশনের গুরুত্ব কমাতে চাইছি না। আমি শুধু বলছি, একজন রাজনীতিকের ব্যর্থতা আলোচনা করার সময় প্রেক্ষিত দেখা উচিত, নইলে তাকে ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়। আতাতুর্ক যখন তুরস্কের দায়িত্ব নিচ্ছেন তখন সেখানে কুর্দদের পাশাপাশি বাকি মানুষের অবস্থা কেমন ছিলো এইটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট। আজ যখন আমি কাশ্মীর নিয়ে পড়ি তখ দেখি একই সময়ে বাকি ভারতের সাথে কাশ্মীরীদের অবস্থার মিল অমিল। সেই একই হিসেবটা তুরস্কের ক্ষেত্রেও খাটে। কনফ্লিক্টটা তো তুর্ক আর কুর্দ আইডেন্টিটির, একটা থাকলে অন্যটা থাকতে পারেনা এই অ্যাজাম্পশনের। এটা আতাতুর্ক কিন্তু সমর্থন করেন্নি, বরং ভাষণে, চিঠিপত্রে দেখা যাচ্ছে অটোনমি ও আইডেন্টিতি অক্ষুন্ন রাখার কথা ছিলো। হয়নি, এলিট জাতীয়তাবাদীরা মাথা চাড়া দেওয়ায়। এটা কেমালের ব্যর্থতা তো বটেই।
  • hu | 140.160.143.133 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:০৮56665
  • বিভিন্ন জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ব্যাপারে ভারত ছাড়া আর কোন আধুনিক রাষ্ট্রই কি সফল হয়েছে? এই বিষয়ে আমি খুব ভালো জানি না, তাই জানতে ইচ্ছে করে। আমি তো দেখতে পাই উত্তর আমেরিকায় নেটিভরা সম্পূর্ণ মুছে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকায় নেটিভদের সাথে কলোনী কর্তাদের মিশ্রণ হয়েছে - তাই তাদের চেহারায় নেটিভ ছাপ আছে - কিন্তু ভাষা আর ধর্ম মুছে গেছে। ইউরোপে ভাষা সংস্কৃতি রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু তারা আলাদা আলাদা দেশ। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভাষা সম্পূর্ণ মুছে গেছিল। ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর আবার কিছু কিছু ভাষা উদ্ধার হচ্ছে। চায়নাতে ডায়লেক্ট আলাদা হলেও ভাষার স্ক্রিপ্ট এক - ওগুলো কোনদিন আলাদা ছিল কিনা জানি না। সেদিক দিয়ে দেখলে ভারতই একমাত্র দেশ দেখি যেখানে এত ভাষা, এত স্ক্রিপ্ট, এত আলাদা আলাদা উৎসব। দেখে ভালো লাগে। কিন্তু এ রক্ষা করা যে কি কঠিন তা তো রোজই বুঝতে পারছি আমরা। এটা কোন কৈফিয়ত হিসেবে লিখলাম না। রেফারেন্স হিসেবে রাখলাম শুধু।
  • দ্রি | 15.249.145.164 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:১৭56666
  • "সুতরাং কেমাল আতাতুর্কের আমলের আগেও কুর্দদের সাথে খুবই ঘাঁটানো হয়েছে, এবং এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ধর্ম ও নন-সেকুলার এন্টিটি মিশে আছে।"

    এই কথার মানে কী? কুর্দরা তো ম্যাক্সিমামই সুন্নি মুসলমান। কুর্দদের ঘাঁটানোয় নন-সেকুলারিজ্‌মের কী আছে?
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:২০56667
  • হ্যাঁ এইতা খুব দরকারি প্রশ্ন। এর একটাই উত্তর হয়, বর্ডারহীন রাষ্ট্র, বা ইউনিয়ন। কিন্তু সে সোনার পাথরবাটি অসম্ভব, অতএব অন্য সমাধানের দিকে এগোতে হয়। নইলে ধর্মীয় রাজনীতি ক্রমশ বিস্তৃত হয় সেটা আরো খারাপ।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৪56668
  • দ্রিদা সরি, ছোট করে বলতে গিয়ে ঘেঁটে গেছে। বলতে চেয়েছি যে অটোমান আমলেও কুর্দ অসন্তোষ আর মাইনরিটির রাইট বেড়ে যাওয়াটা একই সময়ে হয়েছে। তাই কেমালের সমস্ত দেশেই ইসলামিক আইডেন্টিটির গুরুত্ব কমিয়ে সেকুলারিজম আনতে চাওয়ার সাথে এর সম্পর্ক আছে কিনা আমি শিওর নই।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৬56652
  • hu আপনি ঠিকই বলেছেন সেকুলারিজম মানে আমিও ধর্মনিরপেক্ষতা বুঝি কিন্তু তার মধ্যেও এক সূক্ষ্ম জাতীয়তাবাদী ,সংখ্যাগুরুর আধিপত্যের ট্রেন্ড থাকে । রাজনৈতিক দলের অবস্থান অনুযায়ী এই ট্রেন্ড সূক্ষ্মতা স্থূলতায় পরিবর্তিতই হতে থাকে, হেজিমনি এক চলমান প্রসেস । যেমন আমাদের দেশের বর্তমান শাসকদের ট্রেন্ড স্থূলতার দিকে । রাষ্ট্রের সেকুলার ক্যারেকটার বজায় রাখতে তাই আমাদেরও কাউন্টার হেজমনি আইডিওলজির চলমান প্রসেস চালাতে হয় জ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে নতুবা সেকুলার ক্যারেকটার বিপন্ন হয়ে পড়ে ।

    বর্তমান লেখাটি সেই কাউন্টার হেজমনি আইডিওলজির সচেতন প্রয়াসের সফল প্রয়োগের গল্প । প্রায় ৯০ বছর পরে তুরস্ক বর্তমানে সীমিত ক্ষেত্রে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং কুর্দ সংস্কৃতির অনুমতি দানে বাধ্য হয়েছে । অনেক রক্ত ঝরেছে কিন্তু অবশেষে কিছুটা হলেও হয়েছে ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৯56669
  • hu ঃ- আপনি ঠিক ধরেছেন "তথাকথিত সেকুলার রাষ্ট্র" বলে সেকুলারিজমকে একটু ইচ্ছাকৃত খোঁচা মারা আছে সাথে আমাদের দেশে আকবরের উদাহরণ দিয়ে যে সেই সময়ে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা নগণ্য এই উদাহরণে আমাদের দেশের বর্তমান সেকুলার রাষ্ট্রকেও খোঁচা মারা আছে - কারণ এই ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দাঙ্গা এবং সংখ্যালঘু দমনের ইতিহাস খুব নগণ্য নয় । অথচ দীর্ঘ মুসলমান শাসনে নগণ্য ।

    সেকুলারিজম এর ইতিহাস খুব বেশি হলে ৪০০-৫০০ বছর এবং সেই ব্যবস্থা ইউরোপের এক বিশেষ ঐতিহাসিক সময়ে বিশেষ কারনে উদ্ভূত তার রক্তের মধ্যে খ্রিসচিয়ান মরালিটি বর্তমান । সাথে পরবর্তীতে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র ,নেসান স্টেট , জাতীয়তাবাদ এবং পুঁজিবাদের মিশ্রণ - সব দেশে সব পরিস্থিতিতে এই ফর্মুলা যে সফল নয় তার অন্যতম উদাহরণ তুরস্ক - বুলডোজ করার ফল পরবর্তীতে বর্তমান তুরস্ক সেই ১৯৭০এর দশক থেকে ভুগছে । কেমাল আতাতুর্কের সেকুলার তুরস্ক ফিরে যাচ্ছে মুসলিম প্রাধান্যের দিকে ।

    ইরানে ,ইরাকে ,সিরিয়াতে কুর্দ দের একই হাল ছিল - কিন্তু বর্তমানে ইরাকে কুর্দ দের একধরনের স্বাতন্ত্র্য আছে -সিরিয়াতে বর্তমানে কুর্দরা স্বাতন্ত্র্য আদায় করে নিয়েছে । ইরানে তাছাড়া ধর্মীয় বিভাজন শিয়া এবং সুন্নি ( কুর্দ রা অধিকাংশ সুন্নি ) বর্তমান - কিন্তু আমাদের তো সেকুলার কান্ট্রির কাছে দাবী যে সেই রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং বাকি অধিকার দেবে - এইখানেই কেমাল আতাতুর্কের সেকুলার তুরস্কের ব্যর্থতা ।

    সেকুলারিজম খুব গভীর বিশ্লেষণে ' একমাত্র ,মহান , উন্নত ' এই দাবী টেকেনা । যে রকম প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্র'র ব্যবস্থাপনার দাবীও উন্নত এমন দাবীও নয় । তার মানে এই নয় যে আমি ধর্মের ইনক্লুসন চাচ্ছি ।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৩৮56671
  • রাষ্ট্রের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব না, যদিও সেইটা একটা সমাধান হতে পারতো। কিন্তু হবেনা, কারণ সব সময়েই কয়েকজন লোক থাকবে যারা সবটা খেতে চায়, অসম্ভব অ্যাম্বিশাস তারা। সুতরাং রাষ্ট্রের দমননীতি উঠে গেলেও যুদ্ধ হবে, টেরিটোরি দখলের লড়াই হবে, শুভবুদ্ধি এমনি এমনি সাস্টেন করবেনা। পুরোনো পৃথিবী যেরকম ছিলো আরকি। সুতরাং সবার আইডেন্টিটি বজায় রেখে, আলাদা আলাদা অটোনোমি করে দিয়েও কাজের কিছু হবে কিনা জানিনা।
  • hu | 140.160.143.133 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৩৮56670
  • "সেকুলারিজম খুব গভীর বিশ্লেষণে ' একমাত্র ,মহান , উন্নত ' এই দাবী টেকেনা । যে রকম প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্র'র ব্যবস্থাপনার দাবীও উন্নত এমন দাবীও নয় । তার মানে এই নয় যে আমি ধর্মের ইনক্লুসন চাচ্ছি ।"

    এর মনে যদি এই হয় যে আপনি উন্নততর সেকুলার রাষ্ট্র চাইছেন তাহলে আপনার সাথে কোন তর্ক নেই ঃ-)
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫২56672
  • ' এর মনে যদি এই হয় যে আপনি উন্নততর সেকুলার রাষ্ট্র চাইছেন তাহলে আপনার সাথে কোন তর্ক নেই'

    একটু ফারাক আছে - আমি উন্নততর সেকুলার ব্যবস্থা চাইছি রাষ্ট্র নয় অথবা রাষ্ট্রের বর্তমান ফরম্যাট নয় । যদি রাষ্ট্র থাকে তাহলে জাতীয়তাবাদ বা আধিপত্যবাদ থাকবে , এবং জাতীয়তাবাদ অন্য দুর্বল জনজাতি বা গোষ্ঠীকে দমন করবেই ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫৩56653
  • Tim লিখছেন " হিংসা কি জাস্টিফাই করা যায়? আমি মনে করি না আদর্শগত ভাবে যায়না । সরকারী বুলেট এবং বিপ্লবী বুলেটের উদ্দেশ্য একই ।

    কিন্তু বাস্তব ভিন্ন । একটি বিপুল সংখ্যক জনজাতিকে যদি রাতারাতি তাঁদের ভাষা , সংস্কৃতি , সম্পত্তি এবং নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় । সাধারণ সাংস্কৃতিক নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে নির্বিচারে গুলি বর্ষিত হয় । মাতৃ ভাষায় পাবলিক প্লেসে কথা বললেও জেল বাস করতে হয় । দশ বছর দেশের নির্বাচিত সাংসদ কে জেল খাটতে হয় কেবল মাত্র কুর্দ ভাষায় শপথ বাক্যের শেষ কয়েকটি লাইন উচ্চারণ করার জন্য । গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি আলোচনার রাস্তাই না রাখে তাহলে সেই ব্যবস্থাই জনজাতিকে তাঁদের দাবীর স্বপক্ষে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করে ।
  • দ্রি | 47.187.129.166 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫৬56674
  • সেকুলারিজ্‌ম টার্মটা ভারত আর টার্কির ক্ষেত্রে একটু আলাদা মানে বহন করে মনে হয়। ভারতে এটা সর্বধর্ম সমন্বয় সেন্সে ব্যবহার করে। আমি ধর্মমতে আমার মত করব। তুমিও তাই করবে। ভারতে ধর্মের পাইচার্টটা যথেষ্ট ডাইভার্স। এফেক্টিভ শাসনের জন্য এই স্ট্র্যাটেজি ভালো মনে করা হয়েছিল। অন্যদিকে টার্কিতে ধর্মীয় ডাইভার্সিটি কতটুকু? খুব সামান্য কিছু গ্রীক অর্থোডক্স, আর জু আছে, এছাড়া বাকি তো মুসলিম। সর্বধর্ম সমন্বয়ের (বা ইভেন সর্ব এথনিক গ্রুপ সমন্বয়ের) চেষ্টা কেমাল আতাতুর্ক করেন নি। যেটা করেছিলেন, সরকারী শিক্ষায় ইসলামের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছিলেন। টেক্সটবুকে ইসলাম থাকত না, কোরান পড়তে হত না কেমালের সময়। এটাই ছিল আতাতুর্কের মূল সেকুলারিজ্‌ম। বায় দা ওয়ে, এখন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। কনজার্ভেটিভরা ফাইট ব্যাক করছে। ২০০২ এর পর থেকে স্কুলে কোরান পড়ানো হচ্ছে, ইসলাম ঢোকানো হয়েছে। কেমালের আইডিয়াল থেকে অনেকটাই সরে এসেছে টর্কি। ভারত, অন দা আদার হ্যান্ড কখনোই সেকুলারিজ্‌মের এই ইন্টারপ্রিটেশান করে নি। মাদ্রাসায় কোরান পড়ানোয় কোন বাধা নেই।

    আতাতুর্ক দৈনন্দিক জীবনে ইসলামের প্রভাব কমাতে চেয়েছিলেন মাত্র। সর্ব এথনিসিটি সমন্বয় কখনোই তাঁর মূল অ্যাজেন্ডা ছিল না। মাইনরিটি সংক্রান্ত পলিটিক্স তার নিজের মতই চলেছিল।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫৬56673
  • এইতো, এবার ঠিক হয়েছে। আমি জানতে আগ্রহী এই ফরম্যাটটা কিরকম। আর তাতে অ্যাম্বিশাস যুদ্ধবাজ এবং যুদ্ধরাজনীতি বোঝা লোকজনকে কিভাবে ট্যাকল করা হবে? ধরে নিচ্ছি দমন হবেনা, কিন্তু কি হবে?
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫৭56654
  • সে তো দু পক্ষেই আছে। এই যে -

    - In the early 1990s, the PKK executed bakers that delivered bread to army bases, burnt down and killed the owners of fuel stations that served the authorities in the areas they were active in.

    - They forbid the distribution of Turkish newspapers and the watching of Turkish television channels, forcing the inhabitants to remove their antennae.

    - The inhabitants were banned from joining any Turkish political party and were forced to get the approval of the PKK if they were to run for local offices.

    - The PKK attacked schools as they were seen as "emblems of Turkish imperialism" that belonged to the "colonial assimilation system"; 47 teachers were killed in 1993 alone. A justification for the killing of teachers was that they taught Turkish to Kurdish children.

    - According to Amnesty International reports in 1997, the PKK has killed and tortured Kurdish peasants and its own members that were against them in the 1980s. Dozens of Kurdish civilians have been abducted and killed because they were suspected of being collaborators or informers.

    গাজোয়ারি, সন্ত্রাস দিয়ে মানুষের সাপোর্ট পাওয়ার উপায় তো সারা পৃথিবী জুড়েই চলছে।
  • দ্রি | 195.17.184.228 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৭:২৮56675
  • আতাতুর্কের লেগাসীর একটা প্রবলেম্যাটিক অ্যাসপেক্ট হল মিলিটারী ডিক্টেটরশিপ। কেমাল নিজে মিলিটারী ম্যান ছিলেন। তিনি কনস্টিটিউশানে লিখে গিয়েছিলেন টার্কিশ আর্মি ইজ সাপোজ্‌ড টু অ্যাক্ট অ্যাজ 'দা গার্ডিয়ান অফ টার্কি'জ সেকুলারিজ্‌ম'। এই বার্ডেন বইতে গিয়ে টার্কিতে বেশ কয়েক বার মিলিটারী ক্যু হয়েছে। ডেমোক্রেসিতে ঘনঘন মিলিটারী ক্যু বড্ড বেমানান। যদিও কিছু সিচুয়েশানে, ইট ক্যান বি আর্গুড দ্যাট ইট ইজ বেটার দ্যান আদার অল্টার্নেটিভস।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৭:৫৯56655
  • Tim আপনি ঠিকই লিখেছেন এই ভাওলেন্স এবং কাউন্টার ভাওলেন্সের প্রথম বলি নিরীহ জনতা -৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকে এই মাইন্ডলেস ভাওলেন্সের কারনেই দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে পিকেকের জনসমর্থন কমতে থাকে - অচালান লেখেন Prison Writings: The PKK and the Kurdish Question in the 21st সেঞ্চুরি , এই পুস্তকে নিজেদের মাইন্ডলেস ভাওলেন্সের নিন্দা এবং আত্মসমালচনা ছাড়াও ভবিষ্যতের কুর্দ প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধানের রোড ম্যাপ বর্তমান । পিকেকে ২০০২ এর সময়ে থেকে তুরস্ক ভেঙ্গে স্বতন্ত্র কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবী থেকে সরে আসতে থাকে । অবশেষে ২০১৩ তে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয় । পিকেকের বর্তমান অবস্থান আর ১৯৯০ এর অবস্থানের মধ্যে ১৮০ ডিগ্রীর ফারাক । সে বিষয়ে আমি এই ব্লগে এবং অন্যত্র লিখেছি । আর এই কেবলমাত্র ভাওলেন্স নির্ভরতা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের দাবী আদায়ের প্রাধান্য পিকেকে কে এখনো কুর্দ আন্দোলনে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে নতুবা তাঁদের এই বর্তমান যুগে গুহা বা জঙ্গলে আশ্রয় নিতে হত ।

    আমি মনে করি না আদর্শগত ভাবে হিংসা কে সমর্থন করা যায় । কারণ সরকারী বুলেট এবং বিপ্লবী বুলেটের উদ্দেশ্য একই। মানুষ মারা । কিন্তু সাথে সাথে এটাও মনে করিনা যে অস্ত্র রাখার অধিকার ,আইন প্রণয়নের অধিকার ,শিক্ষা কি পথে চলবে তার দিক নির্দেশের অধিকার , সংস্কৃতি র মানদণ্ড এবং স্বাধীনতার অধিকার এবং নাগরিকের সমস্ত বিষয়ে রাষ্ট্রের অধিকারের একাধিপত্য বজায় থাকবে আর জনতা তাঁদের আন্দোলন কেবল মাত্র পিটিশন ,মোমবাতি মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে ।

    মানুষের রক্তের মধ্যে বিদ্রোহ আছে সেটা মেনে নিয়ে সমঝোতাই রাষ্ট্র চালকদের আদর্শ পন্থা হওয়া উচিৎ নতুবা হেজিমিনির বিরুদ্ধে কাউন্টার হেজিমনি হবেই - কিন্তু তা যদি ক্ষেত্র বিশেষে আইসিসের মত শক্তির হাত ধরে সে বড় ভয়ঙ্কর দিন । আমাদের দায়িত্ব কোন হেজিমনিকেই বাড়তে না দেওয়া । তা সে সরকারই হউক বা পিকেকে ।
  • de | 69.185.236.54 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৮:০৬56656
  • দেবব্রতবাবুর লেখাগুলো পড়ে কুর্দদের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানছি -

    সাথে হুচি-তিমির সঙ্গতও ভালো লাগলো!
  • SS | 160.148.14.3 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ১২:২৮56657
  • দেবব্রত,
    আবেগে গদগদ লিখেছি আপনার একপেশে পরিবেশনের জন্যে। আপনার লেখা পড়লে মনে হবে কুর্দরা ধোয়া তুলসিপাতা, আর টার্কি তাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই। পিকেকে বা কুর্দিস্ট সেপারিটিস্টরা এমন অনেক কিছু করেছে যাতে টার্কি দেশবাসীর সিকিওরিটি বজায় রাখতে দমনমূলক নীতি নিয়েছে। lcm বেশ কিছু উদাহরণ দিয়েছেন। এখনো বোধহয় এক সপ্তাহ হয়নি, পিকেকে আঙ্কারাতে সুইসাইড বম্বিং করে একটা গোটা বাস উড়িয়ে দিল, প্রায় চল্লিশ জন সাধারণ মানুষ মরল। তারপর টার্কির ফাইটার জেট কুর্দ এরিয়াতে বম্বিং শুরু করেছে। কিন্তু আপনি শুধু টার্কির বম্বিং এর কথা লিখবেন, বাস উড়িয়ে দেবার কনটেক্স্ট বিন্দুমাত্র উল্লেখ না করে। আমি নিশ্চিৎ আপনি নওরোজ পালনের জন্যে কুর্দদের উপর অত্যাচারের কথাও একপেশে। খুঁজলে ওখানেও বেশ কিছু অপ্রিয় সত্য পাওয়া যাবে।
    আর সত্যি কথা বলতে কি, টার্কির প্রায় দশ মিলয়ন কার্ড জনতার বেশিরভাগ পিকেকের মত ভায়োলেন্সে সাব্স্ক্রাইব করে না। তাই এতদিন কুর্দিশ ফ্যাকশন পলিটিকালি খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি। কিন্তু গত বছর ইলেক্শনে বিরাট একটা পরিবর্তন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এর্ডোগানের কনসার্ভেটিভ স্টান্সে বিরক্ত হয়ে লিবেরাল আর কুর্দিশ ফ্যাকশন অ্যালায়েন্স করেছে। এর ফলে বর্তমান সরকার আরো দমনমূলক নীতি নিচ্চে। রাজনৈতিক পোলারাজেশন ক্রমশ বাড়ছে আর তার সাথে আছে সিরিয়া থেকে আসা রিফিউজি, আইসিস, রাশিয়ার মত অ্যাড্ভার্সারি। সব মিলিয়ে টার্কির এখন নাজেহাল অবস্থা।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৪ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৯56676
  • দেবব্রতবাবু, রাষ্ট্রহীনতার ফরম্যাটটা বুঝতে আমিও আগ্রহী। ছোট পকেটে নয়। ধরা যাক - ভারতের মত বড় দেশে। কি ভাবে সেটা কাজ করবে বলে ভাবেন আপনারা?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.100 (*) | ২৪ মার্চ ২০১৬ ০৪:১২56677
  • Tim আমি আপনার কাশ্মীর নিয়ে লেখা পড়েছি এবং এই কারণেই হয়ত সঙ্গত প্রশ্ন " আমি জানতে আগ্রহী এই ফরম্যাটটা কিরকম। আর তাতে অ্যাম্বিশাস যুদ্ধবাজ এবং যুদ্ধরাজনীতি বোঝা লোকজনকে কিভাবে ট্যাকল করা হবে? " বা hu'র " রাষ্ট্রহীনতার ফরম্যাটটা বুঝতে আমিও আগ্রহী"

    এই ফরম্যাটের বিভিন্ন তত্ত্ব গত উপায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের লেখাতে থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ সীমিত । কিন্তু তাও সোভিয়েত রাশিয়ার প্রথম চার বছর , স্পেনের বিপ্লবের সময়ের কিছুদিন , মেক্সিকো তে জাপাতিস্তাদের প্রায় ২০ বছর এই ফরম্যাটের অসম্পূর্ণ বিক্ষিপ্ত কিছু সফল প্রয়োগের নমুনা ।
    আধুনিক ফরম্যাটের সফল প্রয়োগ ২০০৫ পরবর্তী তুরস্ক -কুর্দ প্রভাবিত অঞ্চল এবং ২০১২ পরবর্তী রোজাভা । রোজাভায় এই ফরম্যাট প্রয়োগ করার বেশকিছু সুবিধা ছিল , প্রথমত গৃহযুদ্ধে আসাদ দামাস্কাস সামলাতে ব্যস্ত কুর্দদের বেশি ঘাটায়নি । কিন্তু তুরস্কে আধিপত্যবাদি রাস্ট্র বর্তমান তাই কনফ্লিক্ট চরমে । কিন্তু তাও ঠিক 'নিওরোজ' অনুষ্ঠানের মতই কুর্দরা আদায় করে নিচ্ছেন স্বাতন্ত্র্যতা । কুর্দ প্রভাবিত ১৭ টি জেলায় রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ক্রমশ নগণ্য ।

    এই মডেল তার তাত্বিক দিক এবং বাস্তব প্রয়োগ একটা লেখায় ধরা সম্ভব নয় , Tim এর মত আমিও জানতে আগ্রহী এই ফরম্যাট টা ঠিক কেমন হওয়া দরকার আর এই আগ্রহতেই এই ধরনের ফরম্যাট এবং তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখে একটি অবয়ব তৈরি করার চেষ্টা । এমনকি ইউক্রেন ,নেস্টর মাখনো কে নিয়ে লেখাটির প্রথম পর্বও তাই। আলোচনা চলুক । এই বিষয়ক আরও লেখা আসবে ।

    দ্রী ঃ- অচালানের কেমাল আতাতুর্কের বিষয়ক আলোচনা তে দেখেছি উনি কিন্তু আতাতুর্ক কে অনেক বিষয়ে উচ্চ স্থানে বসিয়েছেন ,প্রথম দিকের আতাতুর্কের ' নন রেসিস্ট " অবস্থান বিষয়ে পসিটিভ বক্তব্য তার সাথে কিভাবে এই প্রগ্রেসিভ আতাতুর্ক ধীরে ধীরে উগ্রজাতীয়তাবাদি হয়ে উঠলেন তার এক বিস্তৃত বিবরণ আছে ওনার বিভিন্ন লেখায় ।
  • SS | 160.148.14.38 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৩:১১56678
  • TAK হল পিকেকের অফশুট।

    আর এই রোজাভা ব্যাপরটা যদি রাষ্ট্রহীনতার সফল প্রয়োগ ইত্যাদি হয়, তাহলে ঘরের পাশেই সিরিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ বিপন্ন করে ইওরোপে পাড়ি দিচ্ছে কেন? রোজাভা নামক স্বর্গে তাদের ঠাঁই হচ্ছে না?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.4 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৩:৫৪56679
  • ভারতের মাওবাদীরা একদা সিপিএম থেকেই বেরিয়েছেন( অফশুট) কিন্তু উভয়ের অবস্থান সম্পূর্ণ রূপে ভিন্ন , এখন যদি কেউ সিপিএমের সাম্প্রতিক কংগ্রেস জোটের রাজনীতি অথবা মাওবাদী রাজনীতি একই বলে উল্লেখ করে তাহলে সেই অজ্ঞতা বিষয়ে মুগ্ধ হওয়া ব্যতীত অন্য কোন উপায় নেই । আমিও তাই মুগ্ধ হলাম !

    রোজাভা সিরিয়াতেই , ঘরের পাশে ন্য় - আর আছেতো অসংখ্য সংখ্যালঘু ,ক্রিশ্চান , ইয়েযেদি ,আরব , কুর্দ উদ্বাস্তু রোজাভায় আছে এবং রোজাভার সংবিধান কোন আশ্রয় গ্রহণ কারী নাগরিক কে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশত্যাগ করাতে পারেনা । বিদেশের ৪ ফুট বাই ৪ ফুটের, ভয়ঙ্কর শীতে প্লাস্টিকের তাঁবুর নিচে অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকার পরিবর্তে নিজের যুদ্ধ বিধ্বস্ত কুটিরে মৃত্যু বেশি কাম্য এই বিশ্বাসে ভর করে কোবানে আইসিসের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পড়ে বিধ্বস্ত শহরে বাসিন্দারা ফিরে আসছে তো ।

    উল্টে ইউরোপ নামক মহান মানবিকতার ধোঁয়া ধরা রাষ্ট্রগন সীমান্তে কাঁটাতার লাগাচ্ছেন , তুরস্কের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে উদ্বাস্তু ফেরত পাঠানোর ন্যক্কারজনক প্রয়াস চালাচ্ছেন । কিন্তু ইউরোপের অধিকাংশ সাধারণ জনতা বিশ্বের অন্যপ্রান্তের অসহায় নাগরিকদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত । এইটাই নিয়ম ,প্রতিবেশী বিপদে পড়লে নিজে আয়েসে মুরগীর ঠ্যাং চেবানো অনেকেরই গলা দিয়ে নামেনা কিনা ।
  • SS | 110.36.244.127 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৩:৫৮56680
  • কতজন সিরিয়ান রিফিউজি এখনো পর্যন্ত রোজাভায় আশ্রয় নিয়েছে? গদগদ আবেগ নয়, সংখ্যা চাই। আপনার সংখ্যাটা শোনার পর তারপর ইউরোপের সংখ্যা দেব।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৪:৪৪56681
  • দুই বছর- চার বছরের সীমিত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবস্থার সাফল্য সম্পর্কে আমি খুব একটা আশাবাদী নই। রোজাভা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার টই আমি পড়েছি। তাতে এটা একটা কমিউনিটি ধাঁচের ব্যবস্থা মনে হয়েছে। আমার কিছু পরিচিত আছেন যাঁরা সোভিয়েত ইউনিয়নে বড় হয়েছেন। কমিউনিটি ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের একটা বড় অভিযোগ হল - যেহেতু এক্সেলেন্সের জন্য কোন প্রাইজ নেই, তাই এই ব্যবস্থায় এক্সেলেন্সের ইন্সেন্টিভও নেই। প্রাণের ভয় দেখিয়ে কাউকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হল তো ঠিক আছে। কিন্তু আদারওয়াইজ যেখানে মুড়ি-মিছরির একদর সেখানে কেন কেউ কষ্ট করে মিছরি হতে চাইবে? আরো একটা ব্যপার দেখছি - আপনি রোজাভা প্রসঙ্গে প্রতিটা কথাতেই আবদুল্লা অচালানের কথা বলছেন। তাতে আমার এই ব্যবস্থাটাকে কিছুটা ব্যক্তিকেন্দ্রিকও মনে হচ্ছে। হতে পারে অচালান খুব ভালো লোক - তাঁর জীবদ্দশায় রোজাভা একটি আদর্শ রাষ্ট্রহীনতার মডেল সৃষ্টি করল (যদিও সেই মডেলটি কি সেটা এখনও বুঝতে পারছি না), কিন্তু তার পরে কি হবে? এই রাষ্ট্রহীন কাঠামোয় এমন কি আছে যাতে ক্ষমতালোভী মানুষকে প্রতিহত করা যাবে? আর সর্বোপরি, এই মডেল আমাদের কি দেবে যা একটি জনদরদী রাষ্ট্র দিতে পারবে না?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.125.44 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৬:১৩56682
  • " দুই বছর- চার বছরের সীমিত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবস্থার সাফল্য সম্পর্কে আমি খুব একটা আশাবাদী নই।"

    আমি এবং অনেকেই আশাবাদী কারন বিগত ৩০০-৪০০ বছরের পুঁজিবাদী মডেলের ব্যর্থতা এবং তার দরুন ক্রমশ বেড়ে চলা অসাম্য আমাদের তার বিকল্প বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করায়। যুদ্ধের মাঝে একটা বিকল্প মডেল -প্রায় সব বিষয়ে , অর্থনীতি , সমাজনীতি , আইন ব্যবস্থা , নারী স্বাধীনতা , ক্ষুদ্র এবং অন্যান্য জনজাতির একে ওপরের হাত ধরে চলা , শিক্ষানীতি এবং গণতন্ত্র 'র যে মডেল রোজাভা প্রয়োগ করে দেখাচ্ছে সেই মডেলের বিস্তার সমর্থন দাবী করে । ওনারা করে দেখিয়েছেন বাকিরা নিজেরা নিজেদের দেশ অনুযায়ী প্রয়োগ করুন ।

    " আপনি রোজাভা প্রসঙ্গে প্রতিটা কথাতেই আবদুল্লা অচালানের কথা বলছেন।" আবদুল্লা অচালান বিগত ১৭ বছর ধরে তুরস্কের কারাগারে বন্দী। বিগত ১৮ মাস ধরে তার সাথে বাইরের কারো যোগাযোগ নেই । তবে হ্যা তার তত্ব এবং পথনির্দেশ আছে কিন্তু বাইরে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী তার প্রয়োগ হচ্ছে । কিন্তু অচালান ১৯৭৮ সাল থেকে কুর্দ আন্দোলনের প্রধান মুখ , বর্তমানে ১৭ বছর কারাগারে বন্দী । তাই কুর্দ দের কথা এলে অচালান আসবেই যেমন ভারতের কথা এলে মহাত্মা গান্ধী ।

    " আমার কিছু পরিচিত আছেন যাঁরা সোভিয়েত ইউনিয়নে বড় হয়েছেন। কমিউনিটি ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের একটা বড় অভিযোগ হল - যেহেতু এক্সেলেন্সের জন্য কোন প্রাইজ নেই, তাই এই ব্যবস্থায় এক্সেলেন্সের ইন্সেন্টিভও নেই" আপনি লক্ষ করবেন আমি সোভিয়েত রাশিয়ার প্রথম চার বছরের কথা বলেছি -তার পরের কথা নয় -কারন পরবর্তীতে সোভিয়েত রাশিয়া " আমলাতন্ত্র নির্ভর , আধিপত্যকামি, ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্র হীন রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদে পরিনত হয়েছিল রোজাভা সেই মডেল নয় ।

    পুঁজিবাদের অন্যতম গুন বা দোষ যাই বলুন না কেন তা হোল সমাজ থেকে ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তির সুখ ,স্বার্থপরতার দৈন্যতার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার ইঁদুর দৌড় -যাকে ক্যাপিতালিস্ট মর্দানিটি বলে - এই বিষয়ে অনেক গুনি জনের লেখাপত্ত্রর আছে -কিন্তু সেই মর্দানিটির ইঁদুর দৌড়ের ফল আজকের চরম বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় দমন - ক্যাপিতালিস্ট মর্দানিটি 'র বিকল্প ডেমোক্র্যাটিক মর্দানিটি ( প্রলেতারিয়েত ডিক্টেটরশিপের নামে এক দলীয় রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদী দমন মূলক রাষ্ট্র ন্য় ) এই বিকল্প ডেমোক্র্যাটিক মর্দানিটি'র তত্ব অচালানের এবং তার প্রয়োগ রোজাভা ।

    আপনি আগ্রহী এমনকি আমিও তাই বিস্তারিত এই মডেল বিষয়ে লেখা আসবে ।
  • দ্রি | 95.248.227.163 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৬ ০১:০০56685
  • রোজাভা মডেলে একটা কমিউনের প্রতিরক্ষার দায় সেই কমিউনের মেম্বারদেরই নিতে হয়। তারা রাষ্ট্রীয় পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। সেটা এক দিক দিয়ে ভালো। কিন্তু এর অর্থ হল কমিউন মেম্বারদের টু সাম এক্সটেন্ট মিলিটারাইজ্‌ড হতে হয়। অস্ত্রশিক্ষা করতে হয়। অস্ত্র কাছে রাখতে হয়। পালা করে নিজেদেরই কমিউনিটি পাহারা দিতে হয়। কিন্তু এখনকার লার্জলি নন-মিলিটারাইজ্‌ড জনজাতি এটাকে ভালো চোখে দেখবে কিনা সন্দেহ আছে। আমেরিকার সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্টের মূল ফিলসফি ছিল এটাই। প্রতিরক্ষা স্টেটের হাতে তুলে না দিয়ে নিজের হাতে রাখা। এবং সম্ভাব্য স্টেট টেররিজ্‌মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা মেকানিজ্‌ম রাখা। কিন্তু এখনকার দিনের অনেক পুলিশনির্ভর সুখী মানুষ এটাকে ভালো চোখে দেখে না। এই ব্যাপারটা আরামে আয়েসে অভ্যস্ত মানুষদের খাওয়াতে একটু অসুবিধে হবে। কিন্তু আবার আক্রান্ত জনজাতির ক্ষেত্রে, কিংবা চুড়ান্ত অস্থিরতার জায়গায় এটা ন্যাচারালি আসবে। যেটা এখন কুর্দিস্তানে এসেছে। সেখানে মেয়েরাও হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। যে পলিটিকাল কন্ডিশানে রোজাভা হয়েছে, সেই পলিটিকাল কন্ডিশান না থকলে রোজাভা হওয়ায় অনেক রেজিস্ট্যান্স আসবে। একজন সফ্‌টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সারাদিন খেটে বাড়ি ফেরার পর রাতে কমিউন পাহারা দিতে বেরোতে চাইবে না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন