এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রক্তিম বসন্ত , নববর্ষ ঃ-অধিকার অর্জনের অনমনীয় লড়াই

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪৯ বার পঠিত
  • বসন্ত উৎসব , রঙের উৎসব , ফাগুয়া -হোলী , বাঙ্গালীর দোল উৎসব এসে গেল । অদ্ভুত ভাবে ঠিক একই দিনে বছরের একই সময়ে সেই ঐতিহাসিক সময়ে থেকে কুর্দ জনতা রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু এবং গণহত্যা অগ্রাহ্য করে আজকের দিনে (২১সে মার্চ ) রাস্তায় , প্রকাশ্য স্থানে জমা হয় ‘নিউ রোজ ‘ মানাতে । 'নিউ রোজ' হোল কুর্দ নববর্ষ একই সাথে বসন্তের উৎসব । আগের কালে পাহাড়ে পাহাড়ে শীতের ঝরা পাতায় আগুণ লাগানো হত । সারা কুর্দিস্তান , ইরাক , ইরান , তুরস্ক , আর্মেনিয়া , সিরিয়া এমনকি আফগানিস্তানের পাহাড় আগুনে লাল হয়ে যেত আজকের দিনে । কাল থেকে যে বসন্ত । সাত দিন ধরে নাচ ,গান , খানা পিনা, উপহার বিনিময়ের বাঁধন ছাড়া উৎসব । এখনো শহরে গ্রামে প্রত্যেক বাড়ি থেকে কাঠ কুটো জমা করে আগুণ লাগানো হয় । সেই আগুণকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে নাচ গান উৎসব । ঠিক কোথায় যেন আমাদের হোলির পূর্বের ন্যাড়াপোড়া অথবা 'হোলিকা দহনের’ সাথে অদ্ভুত একটা মিল আছে । আমাদের দেশেও বেশ কিছুদিন পূর্বে প্রত্যেক বাড়ি থেকে এক টুকরো কাঠ জমা করে ‘ হোলিকা দহনের’ উৎসব পালন হত, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো হয় । আর ঠিক আমাদের হোলির দিনেই এই অনুষ্ঠান হয় সারা কুর্দিস্তান ,ইরান এমনকি আফগানিস্তান ,আর্মেনিয়াতে ।

    হয়ত’বা আমাদের এই হোলির পরম্পরার ইতিহাস , অদ্ভুত রকমের সাযুজ্য সম্পন্ন প্রথা এমনি হোলী কে ঘিরে যে মিথ তা কুর্দদের প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার এই উৎসব থেকেই ইরান আফগানিস্তানের পথ ধরেই এসেছে, কে জানে। কিন্তু চমকে ওঠার মত সাযুজ্য , একেবারে কার্বন কপি , বক রাক্ষসের মিথ এবং ভীমের হাতে তার মৃত্যু পর্যন্ত, প্রায় একই উৎসব একই মিথ ।

    কিন্তু কুর্দদের এই স্বাভাবিক হাজারো বছরের প্রাচীন বসন্ত উৎসব প্রায় ১০০ বছর ধরে আর উৎসব নেই - ক্রমে তা রক্তেরর্ নববর্ষ ,আত্মাভিমান পুনঃউদ্ধার , স্বাধীনতা এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিরোধের লড়াই এ পর্যবসিত । তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ,উগ্র জাতীয়তাবাদের হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনি । নিউ রোজ মানেই উৎসবের সাথে সাথে প্রতিরোধের প্রস্তুতি ।

    গত একশো বছরের মতো এই বছরেও তুরস্কের সরকার দেশ জুড়ে কুর্দ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে । গৃহযুদ্ধ চলছে সেই জুলাই থেকে পিকেকে’র সাথে । এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম বলি হয়েছেন ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি তে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কর্মরত এক ব্রিটিশ নাগরিক । কম্পিউটারের এই প্রফেসর কে 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানের নিমত্রন গ্রহণ করার কারনে পত্রপাঠ দেশত্যাগী করা হয়েছে তিনি নাকি সন্ত্রাস বাদীদের সমর্থক ,এক্ষেত্রে তুরস্কের সরকার আমাদের সরকারের বড় দাদা তুল্য । আমাদের দেশে পাকিস্তানে চলে যাও বলে ধমকি দেওয়া হলেও তুরস্ক ওইসব ফাঁকা আওয়াজে বিশ্বাস না করে কেবলমাত্র নিউ রোজের নিমত্রন গ্রহণ করার অপরাধে প্রফেসর কে সিধা প্লেনে তুলে দিয়েছে ।

    এই লেখা টি যখন আমি লিখছি তখন সারা তুরস্ক জুড়ে সাধারণ নাগরিকেদের নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে কোথাও কাঁদানে গ্যাস ,কোথাও জল কামান ছুঁড়ছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী । নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘নিউ রোজ ‘ এর আগুণ । অশ্বারোহী বাহিনী সাধারণ জনতার দঙ্গল ছত্রভঙ্গ করছে । ভাবা যায় আজকে এই একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের ২৫% নাগরিক তাঁদের চিরাচরিত 'নববর্ষ’ পালনের এক নির্বিষ অনুষ্ঠান পালন করবেন আর রাষ্ট্র সেই অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করবে , গুলি চালাবে এমনকি গন হত্যা ঘটাবে ? অথচ তুরস্কে ঠিক এমনটাই হয়ে আসছে কেমাল আতাতুর্কের সময় থেকে আর কুর্দরাও সেই সময়ে থেকে প্রতি বৎসর সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পথে নামছে , অগ্রাহ্য করছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ,তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে সরকারী চোখ রাঙ্গানি , রক্তাক্ত নববর্ষ পালিত হচ্ছে প্রতিটি বৎসর ।

    ঐতিহাসিক সময় থেকে কুর্দরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হলেও আমাদের আকবরের মত অটোম্যান শাসক রাও কুর্দদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ ,সংস্কৃতির স্বাধীনতা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান নি । তাই সাংস্কৃতিক আধিপত্য নিয়ে , ভাষার আধিপত্য নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ছিল অতীব নগণ্য । ঠিক যেমন দীর্ঘ মুসলমান শাসন কালে ভারতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার ঘটনা হাতে গোনা যায় । কিন্তু অটোম্যান সাম্রাজ্যের শেষের দিক থেকে ক্রমে ইউরোপের সংস্কৃতি , আধুনিকতার ধারনা ,খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং ইউরোপের সাথে সংস্পর্শ তুরস্কের অভিজাত সমাজের মানসিক গঠন বদলাতে থাকে । গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ অনুগামীগন এবং আর্মেনীয় খ্রিস্টান তুরস্কের ব্যবসা ,সম্পদ এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । কুর্দদের প্রথা , সংস্কৃতি ,ভাষা কেমন যেন ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখা শুরু হয় । তখন তুরস্কে তুর্কী জাত্যাভিমানের উদয়ের সময় । কুর্দ এবং অন্যান্য জনজাতির সাথে সংঘাতের বীজ বপনের সূত্রপাত ।

    অবস্থা চরমে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবশেষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তুরস্কে কেমাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী পার্টির উত্থানের সাথে সাথে । কেমাল আতাতুর্কের ধর্মের আধিপত্যহীন , আধুনিক , একতাবদ্ধ ,এক জাতী ,এক প্রাণ , এক ভাষা, এক গান এই তথাকথিত প্রগতিশীল সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন বিশ্বে বিশেষত পশ্চিমের দুনিয়ায় প্রভূত প্রশংসা কুড়ালেও স্থাপন করতে থাকে উগ্র তুর্কি জাতীয়তাবাদ । সমস্ত মাদ্রাসা তুলে দেওয়া হয় । ডিক্রী বলে তুর্কী ভাষা ছাড়া সমস্ত ভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । সমস্ত কুর্দ শহরের নাম তুর্কীয় নামে পরিবর্তিত হতে থাকে । প্রকাশ্য স্থানে কুর্দ ভাষায় কথা বলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । কুর্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক লহমায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় । আইন অমান্যে জেল এবং অত্যাচার নেমে আসে কুর্দ জনজাতির ওপর । জাতীয়তাবাদের নামে সংখ্যাগুরুর বুলডোজার চালানো হতে থাকে সংখ্যালঘু জনজাতির ওপর ।

    ঠিক এমনিটিই হয়ে থাকে আধুনিক সেকুলার 'নেসান স্টেটে’ । আমেরিকায় লিবার্টি সীমাবদ্ধ থাকে কেবল মাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য । ব্রিটেনে আইরিশ’রা হয়ে পড়ে উৎপাত । ইউরোপে ইহুদী এবং জিপসিদের দেখা হতে থাকে কৃমি কীটের থেকেও অধম হিসাবে । তুরস্কে কুর্দদের এক লহমায় অস্তিত্বই মিটিয়ে দেওয়া হয় । জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক হেজিমনি ।

    অসংগঠিত এবং সবল রাজনৈতিক পার্টির অনুপস্থিতিতে কুর্দরা নিজেদের মত প্রতিরোধ করতে থাকেন । রক্তাক্ত হতে থাকে প্রতিটি প্রতিরোধ । অবশেষে ১৯৩৮ -১৯৪০ সালের সময় থেকে কুর্দ প্রতিরোধ রাষ্ট্রের প্রবল শক্তির কাছে ক্রমশ হেরে যেতে থাকে । দীর্ঘ কাল প্রবাসে থাকার ফলে আমাদের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম যেমন নিজেদের ভাষা ,সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে থাকে, সম্পৃত হতে থাকে বৃহৎ আগ্রাসী সংস্কৃতির সাথে । গান , নাচ , পোশাক , ভঙ্গিমা যেমন আজকের দিনে বলিউড গ্রাস করে নেয় ঠিক তেমনই পরবর্তী কুর্দ প্রজন্ম ভুলে যেতে থাকে নিজেদের ভাষা , সংস্কৃতি , ঐতিহ্য এবং পরম্পরা । কিন্তু তুর্কী জনজাতি কুর্দদের ঠিক নিজের লোক বলে মানতে পারেনা -ঠিক যেমন আমরা নর্থ ইস্ট বাসিন্দাদের চিঙ্কি অথবা অন্যগ্রহের প্রাণী বলে মনে করি । আবার কুর্দরাও প্রাণপণ তুর্কী বনার প্রয়াসে ক্রমে নিজেদের সংস্কৃতি তুর্কীয় সংস্কৃতির সাথে মেলানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বিশাল তুর্কীয় জাতীয়তাবাদের সমুদ্রে ইতস্তত ভেসে থাকে ।

    ইতিমধ্যে আবদুল্লা অচালান ১৯৭০ এর দশকে কুর্দ স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করেন ( এ বিষয়ে আমি অন্য পোস্টে বিস্তারিত লিখেছি বলে সেই ইতিহাসের পুনারবৃত্তি আর করছিনা ) অচালান কুর্দ আইডেন্টিটি ,শ্রেণী নির্বিশেষে একতা এবং সংখ্যাগুরুর আইডিওলজিকাল হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনির আইডিওলজি গড়ে তুলতে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং এই হারিয়ে যাওয়া পরম্পরা 'নিও রোজ' প্রকাশ্যে পালন করতে কুর্দ জনতাকে উৎসাহিত করতে থাকেন । ভাষা এবং সংস্কৃতি এমন একটা রাজনৈতিক অস্ত্র যা ধর্ম এবং শ্রেণী নির্বিশেষে এক ছিন্ন বিচ্ছিন ক্ষুদ্র জনজাতিকে একতাবদ্ধ করতে পারে । পিকেকে অগ্রগামী হিসাবে নিজেরা প্রকাশ্যে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং নিও রোজ পালনের উৎসব পালন করতে শুরু করে । রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এতকাল লুকিয়ে লুকিয়ে নিজেদের নববর্ষ পালনের উৎসবে ধীরে ধীরে কুর্দ জনতা অংশগ্রহণ করতে শুরু করে । সাথে সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় দমনের ধারাবাহিকতা ।

    আবদুল্লা অচালান কুর্দ জনতার এই পরম্পরাকে 'কাউন্টার হেজিমনির ‘ আইডিওলজিতে পরিনত করতে থাকেন। 'নিউ রোজ' শ্রেণী এবং ধর্ম বিভেদ ভুলে আপামর কুর্দ জনতার রাষ্ট্র বিরোধী জমায়েতে পরিনত হতে থাকে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে । ‘ নিও রোজ ‘ কুর্দ জনতার সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠতে থাকে । নিউ রোজ এর পুন;উত্থান এবং এই উৎসব কে কেন্দ্র করে কুর্দ মবিলাইজেসান , তুরস্কের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ বিরোধী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সফলতা ।এ এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধী ক্ষুদ্র জনজাতির পাল্টা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত ।

    এক দিকে নিউ রোজের উৎসবকে কেন্দ্র করে ,তার সাথে জড়িত মিথ,অল্টারনেটিভ স্টোরি ,সাধারণ জ্ঞান ব্যবহারে কুর্দ সংস্কৃতি ,আইডেন্টিটির এক অভূতপূর্ব একতাবদ্ধতা অন্যদিকে তুরস্কের সরকারের এই একতাবদ্ধতার অনুষ্ঠানে বাধা প্রদানে বলপূর্বক রাষ্ট্রীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রয়াস । এই 'নিউ রোজের’ সাথে মিথ ,ইতিহাস এবং প্রতিবাদের সূত্র জড়িয়ে আছে - এ কোন সাধারণ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নয় - অত্যাচারী রাজার হাত থেকে হাজারো বছর পূর্বে কুর্দ জনজাতির মুক্তির সফলতার এবং বসন্ত আগমনের ইতিহাস বা লোককথা ভিত্তিক মিথ ।

    সেই কোন প্রাগৈতিহাসিক কালে এক আসিরিয়ান অত্যাচারী রাজা ছিল 'যুহাক’ । কোন এক সময়ে যুহাক ইরান এবং বর্তমান কুর্দিস্তান দখল করে । অত্যাচারী শাসন চলতে থাকে ১০০০ বছর ধরে । তার অত্যাচারের ফলে কুর্দিস্তানে বসন্তের আগমনই হতোনা । তার শক্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দিন দুই শক্ত সমর্থ যুবককে বলি দিয়ে তাঁদের ঘিলু এই রাজার কে খাদ্য হিসাবে দিতে হোত । কিন্তু যিনি এই কঠিন কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি দু জন যুবকের বদলে কেবলমাত্র একজনকে হত্যা করে তার ঘিলুর সাথে ভেড়ার ঘিলু মিশিয়ে রাজা 'যুহাক’ কে দিতেন । বেঁচে যেত একজন যুবক প্রত্যহ । কেমন যেন আমাদের বক রাক্ষসের গল্পের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা ? ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে অত্যাচারী রাজা 'যুহাক’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে শুরু করল । অবশেষে 'কাওয়া’ পেশায় কর্মকার , যার ৬ ছেলে ইতিমধ্যে রাজা 'যুহাক’ এর এই অত্যচারে বলিপ্রদত্ত হয়েছে -বলি থেকে বেঁচে ফিরে আসা কুর্দ যুবকদের নিয়ে এক অকুতভয় সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন । কোন এক ঐতিহাসিক সময়ে ২০সে মার্চ রাত্তিরের অন্ধকারে সেই সৈন্যবাহিনী রাজা যুহাকের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে , কাওয়া তার নিজের হাতে তৈরি এক বিশাল হাতুড়ীর ঘায়ে অত্যাচারী রাজা ’ যুহাক’ এর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে । কাওয়া ২১সে মার্চ পাহাড়ে আগুণ লাগিয়ে দেন দেশবাসী কে খবর দিতে যে অত্যাচার সমাপ্ত । ঠিক তার পরের দিন থেকে 'বসন্ত' প্রায় হাজার বছরের রাজা 'যুহাক’ এর অত্যাচারী শাসনের অবশেষে ফিরে এলো কুর্দিস্তানে ।

    এই যে শক্তিশালী মিথ । হাতুড়ীর আঘাতে অত্যাচারীর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে দেওয়ার প্রতীক । কুর্দ জাতীর স্বাতন্ত্রতা । প্রত্যেক দিন একজন সক্ষম যুবকের বলিদান স্বত্বেও অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে লড়াইয়ের ক্ষমতা । লোহা দিয়ে তৈরি জনজাতি । এই শক্তিশালী মিথ এবং তাকে ঘিরে উৎসবের পুন;উত্থান অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তার সাথে অচালান প্রোথিত করে দিলেন কুর্দ জনতার হৃদয়ে । এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিও রোজ' তুর্কী জাতীয়তাবাদের চাপে বিচ্ছিন্ন কুর্দ জনতাকে একতাবদ্ধ করে দিল । পুনরায় কুর্দ জনজাতি রাষ্ট্রীয় দমন অগ্রাহ্য করে আতসবাজি পুড়িয়ে ,নেচে , গেয়ে , উপহার বিনিময় করে তাঁদের হাজারো বছরের এক প্রথা নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান পালন করতে শুরু করে । একই সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ।

    ১৯৯০ সালের 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানে নুসাইবিন শহরে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে ৩ জনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় মৃত্যু মিছিল । ১৯৯১ সালের অনুষ্ঠানে যথারীতি নিষেধাজ্ঞা জারী হয়। ইস্তাম্বুল , আদানা , জিজরে , কুল্প ,হানি এবং দিয়ারবাকির শহরে নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে তুরস্কের সরকার নির্বিচারে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালালে ৩১ জন লোক প্রাণ হারান । ১৯৯২ সালে ২০শে মার্চ পুনরায় পুলিশের গুলি চালনায় ২ জন নিরস্ত্র ব্যক্তির মৃত্যু হলে মানুষ ক্ষেপে ওঠে ২১ সে মার্চ ৯৪ জন নিরস্ত্র জনতার মৃত্যু ঘটে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালেও যথারীতি তুরস্ক সরকারের এই কুর্দ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধকরনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে । কিন্তু ততদিনে কুর্দ প্রভাবিত গ্রামাঞ্চলে পিকেকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাই এই দমন নেমে আসে শহরাঞ্চলে ।

    ১৯৯৩ সালের নিউ রোজ অনুষ্ঠান ভঙ্গ করার প্রাথমিক টার্গেট ছিল আদানা শহর । তুরস্কের পুলিশ অফিসাররা তার সাথে আক্রমণ নামিয়ে আনে বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালে ২১সে মার্চ বসন্ত উৎসব গুঁড়িয়ে দিতে প্রথম ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয় । বাড়ি ঘরে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ চলতে থাকে । এই আক্রমণে এক ১৬ বছরের কিশোর এক ৬২ বছরের বৃদ্ধ সমেত ৬ জন প্রাণ হারান । তুরস্কের সরকার ২০০২ সাল পর্যন্ত এই আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ,কিন্তু অনমনীয় কুর্দ 'রাও এই নিউ রোজ অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে থাকেন । ১৯৯৯ সালে আবদুল্লা অছালান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক 'নিও রোজ' নববর্ষেরে সাথে সাথে অচালানের মুক্তির দাবীতে ম্যাসিভ কুর্দ জনতার সমাবেতে পরিবর্তিত হতে থাকে । ২০০০ সালে কমপক্ষে ১০ লাখের অধিক কুর্দ জনতা রাস্তায় নামে নিউ রোজ পালন করতে ।

    প্রত্যেক বছর ক্রমাগত বেড়ে চলা জনতার ঢল এবং বিপুল ঐক্যবদ্ধতার কাছে অবশেষে রাষ্ট্র পিছু হটে । প্রায় একশো বছরের অবশেষে কমপক্ষে ৩০০-৪০০ জনতার বলিদানে 'নিও রোজ' আজ এক সত্যিই দেখবার মত অনুষ্ঠান । পুনরায় এই বছর তুরস্কের সরকার 'নিউ রোজ’ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধ করেছে কিন্তু সমুদ্রের উচ্ছ্বাস বালির বাঁধ দিয়ে ঠেকানোর মত উড়ে গেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা । নিউ রোজ ‘ কাওয়ার ‘ বিজয়ের উৎসব , অত্যাচারের অবসানে বসন্ত আগমনের উৎসব ।

    প্রতীক ,মিথ অনেক দেশেই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সংগঠিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে । আমাদের আনন্দমঠ , ভারতমাতার কল্পনা ,পোঙ্গলে বলি রাজার ফিরে আসার মিথ ইত্যাদি কিন্তু এক শক্তিশালী মিথ ব্যবহার করে এক মৃতপ্রায় প্রথাকে জাতী ধর্ম শ্রেণী নির্বিশেষে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র জনজাতিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করার এত সফল দৃষ্টান্ত আধুনিক বিশ্বে অনুপস্থিত । অচালান সেই কারনেই কুর্দ জনতার হৃদয়ের নেতা । নিউ রোজ এক সত্যিই মনে রাখার মত বুদ্ধিদীপ্ত কাউন্টার হেজিমনি আইডিওলজি -রক্তাক্ত কিন্তু ঐক্যবদ্ধ অসাধারণ বসন্ত উৎসব ।

    সমস্ত কুর্দিস্তান জুড়ে , ইউরোপ জুড়ে এই বসন্তের উৎসব অশুভের পরাজয় এবং শুভর জয় ,পালিত হচ্ছে একই দিনে আমাদের হোলির সাথে সাথে — আপনাদের জন্য থাকলো এই উৎসবের কিছু চিত্র এবং ভিডিও । Here are the YPG & YPG fighters celebrating #Nowruz pic.twitter.com/iOXymhQ8HB
  • ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রৌহিন | 233.223.132.246 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৫:৩৬56624
  • কুর্দ জনজাতির কথা যত পড়ছি তত অবাক হচ্ছি। এবং কামাল আতাতুর্কের এই দিকটাও আগে সেভাবে জানতাম না। আরো লেখা আসুক।
  • সে | 198.155.168.109 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:১০56625
  • "নিউ রোজ"??? খ্যাঃ খ্যাঃ খ্যাঃ।
    নওরুজ কি নভরুজ বলুন অ্যাটলিস্ট।
    পুরোটা পড়িনি ঐ বানান দেখেই।
    নভরুজে আমরা প্রতি বছর নানান খাবার খেয়েছি উৎসবে অংশ নিয়েছি।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.72 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:১৫56626
  • যাক বেঁচে গেছেন পুরোটা পড়েন নি , পুরোটা পড়লে খাট থেকে পড়ে যেতেন আর এই বুড়ো বয়েসে কি অবস্থা হত ভেবেই চিন্তায় আছি ।
  • সে | 198.155.168.109 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:২২56627
  • আপনার এই ব্যক্তিগত আক্রমন খুবই নীচ মনোবৃত্তির পরিচায়ক।
  • ranjan roy | 24.99.226.1 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৫56629
  • নভরোজ নিয়ে নজরুলেরও কবিতা আছে, যতদূর মনে পড়ছে।
  • সে | 198.155.168.109 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:২৫56628
  • আপনার বয়স কত আমি জানিনা। জানবীর কৌতুহলও নেই।
    ভুল জিনিস লিখেছেন সেটা স্বীকার করতে তো পারলেনই না উপরন্তু আমাকে ব্যক্তি আক্রমন করে নিজের নীচ মনোভাবের পরিচয় দিলেন নখ দাঁত বের করে। ছিঃ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.72 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:৩৮56630
  • নিউ রোজ"??? খ্যাঃ খ্যাঃ খ্যাঃ।
    নওরুজ কি নভরুজ বলুন অ্যাটলিস্ট।
    পুরোটা পড়িনি ঐ বানান দেখেই।"
    এইবার একটি বিদেশী বানান যার ভিন্ন উচ্চারণ হতেই পারে সেই দেখেই যিনি খ্যাঃ খ্যাঃ খ্যাঃ। করতে পারেন তেনার কোন কিছুই গায়ে মাখার কথা নয় !
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.72 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:৪০56631
  • নভরোজ নিয়ে নজরুলেরও কবিতা আছে , নিশ্চয়ই আছে - ইরানীদের নববর্ষ কে সম্ভবত নভরোজ বলে , এটা তো সেই ইরানী /কুর্দি মিথ এবং পরম্পরা
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.72 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৬:৪৬56632
  • রৌহিন বাবু :- তুর্ক উগ্র জাতীয়তাবাদ বিষয়ে নেহেরু " The Turks, who had only recently been fighting for their own freedom, crushed the Kurds, who sought theirs. It is strange how a defensive nationalism develops into an aggressive one, and a fight for freedom becomes one for dominion over others”
    — Jawaharlal Nehru on the response to the Kurdish revolts in the early Turkish Republic
  • রৌহিন | 113.42.124.237 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:০০56633
  • এই বানানের এলিটিজম আর কতদিন? "নিউ রোজ" দেখেই আর বাকিটা পড়িনি - কৃতার্থ করেছেন। না পড়া আপনার অধিকার। কিন্তু যিনি ওরকম অসভ্য একটা প্রতিক্রিয়া লিখলেন, পরের কমেন্টেই "ভদ্রতা"র জন্য তারই কান্নাকাটি দেখে বেশ হাসিই পেল।
    প্রসঙ্গত "নভরোজ" আর "নিউরোজ" এর উৎস একই মনে হয়। তৎসম শব্দ উচ্চারণ করা মহাপাপ নাকি? "কমেডি অফ এররস" এর জায়গায় "ভ্রান্তিবিলাস" লেখা হলে লেখাটা পড়ার অযোগ্য হয়ে যায়?
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:০৩56634
  • যাঃ, এটা কী দেখালো ?

    Norouz (en persan: نوروز ; en kurde: Newroz; en turc: Nevruz)

    Nom officielNorouz, Norooz, Narooz, Nawruz, Newroz, Newruz, Nauruz, Nawroz, Noruz, Novruz, Nauroz, Navroz, Naw-Rúz, Nowroj, Navroj, Nevruz, Navruz, Navrez, Nooruz, Nauryz, Nevruz, Nowrouz

    কে যেন আবার ভুল স্বীকারের কথা লিখেছিলেন।
  • রৌহিন | 113.42.124.237 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:০৬56635
  • সেটা নিজের জন্য প্রযোজ্য নয় বোধ হয়। এলিটদের ব্যপার আলাদা।
  • avi | 113.252.164.223 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:১৪56636
  • ভালো লাগলো।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.72 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:৪১56638
  • en kurde: Newroz; তা আমি যখন কুর্দ বিষয়ে লিখছি তখন কুর্দ প্রতিশব্দই তো ব্যবহার করব । যাই হোক @সে আপনি আমার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া কে গণ্যের মধ্যে না রেখে প্লিস লেখাটি সময় পেলে পড়ুন । মন্তব্যও করুন ।

    avi ধন্যবাদ !
  • দ্রি | 89.134.255.200 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ০৭:৪১56637
  • আমার মনে হয়, নিউরোজের সাথে (এমনকি হোলির সাথে, বা ইভেন ইস্টারের সাথেও) স্প্রিং ইকুইনক্সের একটা যোগ আছে। নর্দার্ন হেমিস্ফিয়ারে শীত অফিশিয়ালি বিদায় নেবে। ফসলের মুখ দেখবে মানুষ। নতুন সাইক্‌লের শুরু, নতুন আশার আলো, এটসেট্রা। অধিকাংশ কালচারে নিউ ইয়ার এই সময়ের আশেপাশেই পালিত হয়। গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার একটি দুনিয়ার বাহার।
  • hu | 140.160.143.221 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ১১:১৯56639
  • নওরোজ মধ্যএশিয়ার অনেক দেশেই সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটা। একবার প্লেনে এক টার্কিশ ভদ্রলোকের পাশে বসেছিলাম। উনি বলেছিলেন ঐসময় টার্কিতে যেতে। জানি না ভদ্রলোক কুর্দ ছিলেন কিনা। টার্কিতে এটা জোর করে পালন করতে দেওয়া হয়না জানতাম না।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ২২ মার্চ ২০১৬ ১১:৩৫56640
  • ইরানীরা অনেকে (বা সবাই?) উচ্চারণ করেন, নোরুজ। এইজন্য আমি প্রথমে বুঝতেই পারতাম না কিসের কথা হচ্ছে। পরে বানানটা দেখে সন্দেহ হওয়ায় দেখি এই কেস। আবার দারাশুকোয় শ্যামলবাবু লিখেছেন নওরোজ, এবং নামেই বোঝা যাচ্ছে কি ব্যাপার। এইসব ছোট ছোট তফারেন্স আছে, খুব ইন্টারেস্টিং।
  • dc | 132.164.52.11 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০১:৪০56641
  • 'নিউ রোজ ফেস্টিভাল' কথাটা কিন্তু শুনতে বেশ ভালো, মানে একটু প্রেম প্রেম গন্ধ আছে।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৩:০৭56642
  • কিছুদিন আগে ইস্তান্বুলের আয়া সোফিয়া মিউজিয়ামটি ঘুরে আসার সৌভাগ্য হয়েছিল। দেড় হাজার বছরের পুরোনো মিউজিয়াম। ৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট জাস্টিনিয়ানের রাজত্বকালে আয়া সোফিয়া তৈরী হয়। তখন এটা ছিল একটা গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ। তারও আগে এখানে আরেকটি চার্চ ছিল - সেই চার্চের কিছু পিলার আমরা আয়া সোফিয়ার সামনে পড়ে থাকতে দেখেছি। যতদূর মনে পড়ে কোন ভূমিকম্পে সেই চার্চ নষ্ট হয়। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় আয়া সোফিয়ায় প্রচুর লুটপাট হয়। খ্রীষ্টানরাই লুটপাট করে। তখন গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ হয়ে যায় রোমান ক্যাথলিক চার্চ। আরো কিছুদিন পর আবার অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা ক্ষমতায় আসে এবং সেই সাথে চার্চেরও হস্তান্তর ঘটে। তারপর অটোমানরা ইস্তান্বুল দখল করে। অর্থোডক্স চার্চ এবার হয়ে যায় মসজিদ। চার্চের গায়ে মিনার বসে। গত শতাব্দির ফার্স্ট কোয়ার্টার পর্যন্ত আয়া সোফিয়া মসজিদ হিসেবেই ব্যাবহার হয়েছে। এখনও আয়া সোফিয়াতে গেলে খ্রীষ্টান এবং ইসলামিক দুই ধরনের রেলিকই দেখা যায়।

    কামাল আতাতুর্ক প্রেসিডেন্ট হয়ে এই মসজিদকে মিউজিয়াম করে দিলেন। গ্রীসের সাথে পপুলেশন এক্সচেঞ্জ করে তখন তুরস্কের বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম ধর্মাবলম্বি। তা সত্ত্বেও আতাতুর্ক এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন। আমি তো এখানে কোন সংখ্যাগুরুর বুলডোজার দেখি না। বরং আতাতুর্কের সেকুলারিজম না এলে ইস্তান্বুল-আঙ্কারার সুইসাইড বম্বিংগুলো আজ না হয়ে আরো দশ-কুড়ি বছর এগিয়ে আসত মনে হয়।
  • SS | 160.148.14.38 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৩:৩৪56643
  • একদম ঠিক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হয়েও টার্কি যেটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছে আর ডেমোক্র্যাসি বজায় রেখেছে তার কারণ কামাল আতাতুর্কের সাহসী সিদ্ধান্ত। আর দেবব্রত যে আবেগে গদগদ হয়ে কুর্দ আর পিকেকের কথা লেখেন, বাস্তব চিত্রটা অনেকটাই আলাদা। পিকেকে বস্তুত একটি জঙ্গি সংগঠন, যারা এক সপ্তাহ আগে আঙ্কারাতে সুইসাইড বম্বিং এর জন্যে দায়ী, যাতে প্রায় ৪০ জন সাধারণ মানুষ মারা গেছেন।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৩:৪০56644
  • hu এ বিষয়ে আমি কেবল নেহেরু কে উদ্ধৃত করছি ঃ- " The Turks, who had only recently been fighting for their own freedom, crushed the Kurds, who sought theirs. It is strange how a defensive nationalism develops into an aggressive one, and a fight for freedom becomes one for dominion over others ”
    — Jawaharlal Nehru on the response to the Kurdish revolts in the early Turkish রিপাবলিক

    এইবার দেখুন
    "Article 3 of the constitution declares Turkish to be the official language, while Article 42.9 goes further by stating that, “Aside from Turkish, no other language shall be studied by or taught to Turkish citizens as a mother tongue in any language, teaching, or learning institution.”5 While these strictures are, in theory, directed against all of the languages spoken by the different ethnic groups that live in Turkey, whether Circassians or Laz, the main targets are Kurds and Kurdish. "

    তুরস্কে ১৮-২৫ % কুর্দ অথচ সংবিধান সংশোধন করে তাঁদের ভাষা , সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হোল । ধরুন কালকে আমাদের দেশে সংবিধান সংশোধন করে যদি হিন্দি কে মান্যতা দেওয়া হয় এবং বলা হয় “Aside from HINDI, no other language shall be studied by or taught to INDIAN citizens " কি বলবেন ? কেমাল এইটাই করেছিলেন প্রথমে ডিক্রী বলে পড়ে সংবিধানের মাধ্যমে । এটাই সংখ্যাগুরুর কালচারাল হেজেমনি ।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:০৫56645
  • দেবব্রতবাবু, আমি আপনার "সেকুলার" রাষ্ট্রের প্রতি কটাক্ষকে কাউন্টার করেছি। একটি বিশেষ ভাষার একাধিপত্যকে আমি সমর্থন করিনা। এবং সেই সাথে সেকুলারিজমকেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। তুরস্কের সংবিধানে একটি রাষ্ট্রধর্মও জুড়ে দিলে কি ভালো হত বলে আপনি মনে করেন?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:০৯56658
  • ss
    ১ " কুর্দরা ধোয়া তুলসিপাতা, আর টার্কি তাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই" তা ঠিক কি কারনে টার্কি তাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে সেই ১৯২৩ সাল থেকে ? যদি একটু অবগত করেন । আর কি কারনেই বা ভাষা /সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা ? সেই সময় তো পিকেকে ছিলোনা ।
    2। " এখনো বোধহয় এক সপ্তাহ হয়নি, পিকেকে আঙ্কারাতে সুইসাইড বম্বিং করে একটা গোটা বাস উড়িয়ে দিল, প্রায় চল্লিশ জন সাধারণ মানুষ মরল।"তুরস্ক সরকার দাবী করেছিলএই বিস্ফোরণ পিকেকের কাজ । প্রমাণিত বিস্ফোরণ পিকেকে নয় TAK ঘটিয়েছে এবং তার দায় নিয়েছে । যে কোন সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় । কিন্তু রামের কাজ রহিমের নামে চালানো উচিৎ নয় বলে মনে হয় । এই একটা হাওয়ায় গড়া অভিযোগে কুর্দ এলাকায় বোমাবাজি সমর্থন যোগ্য ? তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ হলেও সরকার তৎক্ষণাৎ পিকেকে পিকেকে বলে প্রেসে চলে যান ।

    দ্বিতীয়ত বোমাবাজি সেই জুলাই ২০১৫ থেকে চলছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ম্যসাকার বলছে" " During yesterday’s plenary session on “the situation in Southeast Turkey” at the European Parliament, MEPs called attention to the “deliberate massacre” perpetrated by the Turkish state against civilians in the Kurdish region. " আর আপনি বলছেন গদগদে, একপেশে ? তাহলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্ট কে কি বলবেন ? সব পিকেকে পন্থী ?

    ৩ লেখাটি মূলত একটা উৎসব এবং সেই উৎসব কে কাউন্টার হেজিমনি হিসাবে ব্যবহার করার প্রয়োগ বিষয়ে । তুরস্কের রাজনীতি অন্তত বর্তমান লেখাটির অন্তর্গত নয় । তবে আমি আপনার সাথে একমত
    " রাজনৈতিক পোলারাজেশন ক্রমশ বাড়ছে আর তার সাথে আছে সিরিয়া থেকে আসা রিফিউজি, আইসিস, রাশিয়ার মত অ্যাড্ভার্সারি। সব মিলিয়ে টার্কির এখন নাজেহাল অবস্থা।" একমত ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:২৩56646

  • আইন করে একটা বহু ক্ষুদ্র জাতী ,ভাষা ,সাংস্কৃতিক বিশিষ্ট দেশের ঐতিহ্য কে সংখ্যাগুরুর ভাষা ,সংস্কৃতির আইনি বুলডোজার চালানো কে আধিপত্যই বলে । তুরস্কে কেমালের নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন করেন " Aside from Turkish, no other language shall be studied by or taught to Turkish citizens as a mother tongue in any language, teaching, or learning institution.” টার্কিশ ভাষা ছাড়া সমস্ত ভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় ।

    " The use of Kurdish—along with other languages—was prohibited in teaching as was its public use. By 1930, publishing in languages other than Turkish was prohibited by an act of parliament that was heralded under the slogan of “Citizen, Speak Turkish!” (Vatandas, Türkçe Konus!).16 The Kurdish names of towns and villages in southeastern Turkey were also changed to তুর্কিশ"

    তাহলে উন্নতির দোহাই দিয়ে কালকে যদি মোদী সাহেব সংবিধান সংশোধন করে হিন্দি কে একমাত্র ভাষা , শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে মান্যতা দেন আমাদের চুপ করে থাকা উচিৎ ? যদি আপনাকে নিজের ভাষায় কথা বলতে না দেওয়া হয় ?যদি আপনার রাস্তা ,গ্রাম , শহর কেবলমাত্র হিন্দি নামে পরিবর্তিত করে দেওয়া হয় ? বাংলা ভাষায় নির্বাচিত সাংসদ শপথ নিলে তাকে যদি দশ বছরের কারা বাস করতে হয় ? যদি তা মেনে নেন তাহলে বলব কুর্দ রা খুব অন্যায় করেছে ।

    আঙ্কারা ব্লাস্ট এর সাথে পিকেকে 'র সম্পর্ক নেই । রাষ্ট্র শত চেষ্টা সমেতও প্রমাণ করতে পারেন নি । এই ব্লাস্ট ঘটিয়েছে TAK । TAK- পিকেকে'র সাথে সম্পর্কিত নয় । আপনি আঙ্কারা ব্লাস্তের পরবর্তী খবরে চোখ রাখলে জেনে যাবেন ।

    তৃতীয়ত ১৯৯০ সাল থেকে 'নিউ রোজ ' অনুষ্ঠানে গুলি চালিয়ে গণহত্যার অভিযান কে কি বলবেন ? (আমি তাও সংক্ষেপ বিবরণ দিয়েছি) সেকুলারিজম ?

    চতুর্থত ঃ- গত জুলাই মাস থেকে তুরস্কের সরকারের কুর্দ অধ্যুষিত এলাকায় লাগাতার কারফিউ , গণহত্যা ,ট্যাঙ্ক ,কামান এবং ৩০০ জনের অধিক নিজের দেশবাসীর ওপর নিজেরই সরকারের অত্যাচার কে কি বলবেন ? ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কি বলছেন শুনুন :- " During yesterday’s plenary session on “the situation in Southeast Turkey” at the European Parliament, MEPs called attention to the “deliberate massacre” perpetrated by the Turkish state against civilians in the Kurdish region." লিংক Members of the European Parliament: We shouldn’t remain silent while Turkey massacres Kurds http://kurdishdailynews.org/2016/01/21/members-of-the-european-parliament-we-shouldnt-remain-silent-while-turkey-massacres-kurds/

    এইবার কেউ যদি সরকারী মিডিয়ার বাইরে চোখ রেখে অন্য খবরের ভিত্তিতে কোন নিবন্ধ লেখে তাকে " "আবেগে গদগদ হয়ে" বলাটা একটু বেশি অনুযোগ কিন্তু ।
  • Tim | 108.228.61.183 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:৩৭56647
  • দেবব্রতবাবু, পিকেকে সশস্ত্র আন্দোলন করে (জঙ্গী কথাটা ব্যবহার করলাম না)। এবার, হিংসার সাধারণ ধর্মই হলো, তাতে মানুষ মরে। সেই হিংসা কি জাস্টিফাই করা যায়? রাষ্ট্রের ভায়োলেন্স ভালো না বিপ্লবের ভায়োলেন্স ভালো? বুলেটে কার ছবি আছে, লাশের কি তাতে কিছু আসে যায়?

    কুর্দদের ইতিহাস খুবই কষ্টের, অত্যাচারের, সহানুভূতি না জানিয়ে উপায় নেই। কিন্তু সহিংস আন্দোলন হলে এই প্রশ্নগুলো আসবেই।
  • dc | 132.164.52.11 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:৪২56648
  • আন্কারায় কদিন আগে যে গাড়ি বোমা ফাটালো TAK তারাও কুর্দ না? ওরা নাকি অনেকদিন ধরে তুরস্কয় বোম টোম ফাটাচ্ছে।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:৪৪56649
  • আতাতুর্কের তুরস্ক সেকুলার রাষ্ট্র না হয়ে ইসলামিক হলে ভালো হত কিনা সে বিষয়েও জানতে চাই।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.94 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৪:৫৩56650
  • hu ' তুরস্কের সংবিধানে একটি রাষ্ট্রধর্মও জুড়ে দিলে কি ভালো হত বলে আপনি মনে করেন?' না করিনা ধর্ম জুড়ে দিলে বিশেষ কিছু লাভ হত বলে মনে হয়না , যেমন ইরানে হয়নি । সেখানে বিধর্মী ,সুন্নি এবং অন্যান্য মাইনরিটির ওপর সংখ্যাগুরুর বুলডোজার ।

    কিন্তু তুরস্কে ধর্ম না জুড়ে দিয়েও বিশেষ কোন পার্থক্য নেই । সেখানে আরও বেশি অন্যান্য মাইনরিটির ওপর সংখ্যাগুরুর বুলডোজার আমি পূর্বে উদাহরণ দিয়েছি সংবিধান উল্লেখ করে । আমার মতে কেমাল যদি এই তুর্কী জাতিয়তাবাদের একাধিপত্য চাপানোর পরিবর্তে অন্য ভাষা এবং সংস্কৃতির অধিকার মেনে নিতেন তাহলে কুর্দ এবং তুর্ক কনফ্লিক্টের উদ্ভবই হতোনা ।

    কেমাল অনেককিছুই ভালো করেছেন কিন্তু তার এই তুর্কী জাতিয়তাবাদের একাধিপত্য স্থাপনের প্রয়াস তুরস্কে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি উদ্ভব করেছে । ১৯২৩ সালের পূর্বে তুর্কী এবং কুর্দ একত্রে মিলে মিশে থাকতেন , যে রকম আমাদের দেশে হিন্দু এবং মুসলমানেরা । কারন অটোম্যান বা আমাদের দেশের মুসলমান শাসকেরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপাতে চাননি । আজকে তুরস্কে তুর্ক এবং কুর্দ একেবারে পোলারাইজড । একে ওপরের শত্রু আর এই শত্রুতার উদ্গাতা কেমাল এবং তার তথাকথিত সেকুলারিজম এর নামে তুর্কী জাতিয়তাবাদের একাধিপত্য স্থাপনের আইনি এবং জোর করে একজাতি বানানোর দমন মূলক প্রয়াস ।
  • hu | 78.63.145.192 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:০৬56651
  • ব্যস! এটাই জানার ছিল। দোষটা সেকুলারিজমের নয়, ন্যাশনালিজমের। আপনি নিজেও লিখছেন "তথাকথিত সেকুলারিজমের নামে তুর্কি জাতীয়তাবাদের একাধিপত্য"। সেকুলারিজম মানে আমি ধর্মনিরপেক্ষতা বুঝি। জাতীয়তাবাদ নয়।
  • দ্রি | 203.90.12.87 (*) | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০৫:১৪56659
  • পার্সিয়ান নওরোজ, কুর্দিশ নিউরোজ -- অর্থ নতুন দিন। সংস্কৃত 'নব', ফ্রেঞ্চ 'নুভো', ফারসী 'নও', কুর্দিশ 'নিউ', ইংরিজি 'নিউ' এই শব্দগুলো সবই এক সুতোয় গাঁথা।

    এই শব্দগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, কিভাবে একটা শব্দ মুখে মুখে একটু একটু করে বদলে যায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন