• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • গণতন্ত্র = ভোটতন্ত্র এবং পুতুলনাচের ইতিকথা

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০১৬ | ২৭৫২ বার পঠিত
  • যথারীতি 'ভোট ‘ এসে গেলো । পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রে (!) পঞ্চায়েত ,জেলা পরিষদ ,মিউনিসিপ্যালিটি থেকে শুরু করে রাজ্য ,কেন্দ্র , বিভিন্ন উপ নির্বাচন ইত্যাদি মিলিয়ে ক্যালেন্ডারের প্রায় ৩৬৫ দিন ধরে কোথাও না কোথাও ‘ ভোট ‘ লেগেই রয়েছে । রয়টারের রিপোর্ট অনুযায়ী কেবল মাত্র গত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৩০০০০ কোটি টাকা সরকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিকদল মিলিয়ে খরচ করেছেন আমাদের মাননীয় সাংসদ নির্বাচনের স্বার্থে । আমরা যদি এর সাথে পঞ্চায়েত ,জেলা পরিষদ ,মিউনিসিপ্যালিটি থেকে শুরু করে রাজ্য ,কেন্দ্র ,উপ নির্বাচন ইত্যাদি খরচের পরিমাণ যোগ করি সম্ভবত অঙ্কটি দ্বিগুণ অথবা তিনগুন পরিমানে পৌঁছাতে পারে । তার সাথে ভোটার কার্ড ,ভোটার লিস্ট ,আধা সামরিকবাহিনীর নিযুক্ত করার প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষ এবং নানাবিধ খরচ খরচা মিলিয়ে অঙ্কের পরিমাণ যদি ১০০,০০০ কোটি’র মাত্রা অতিক্রম করে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই । পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের স্বার্থে এইটুকু অর্থ তো খরচ করাই যায় ।

    প্রত্যেক নির্বাচনের মতই এইবারেও গলি থেকে রাজপথ ,কুঁড়ে ঘরের দেওয়াল থেকে বিলবোর্ড এই দলের ক্যান্ডিডেট ওইদলের ক্যান্ডিডেটের নাম , নিশান, মুষ্টিবদ্ধ হাত, স্লোগান এবং প্রতিশ্রুতির বন্যায় মুখ ঢেকেছে । আমাদের ইতিমধ্যে গা'সওয়া এই পুতুলনাচের বিজ্ঞাপনে মূল নাটকের কাহিনী এক থাকলেও একঘেয়েমি কাটাতে নাটকের নাটকীয়তার টান টান উত্তেজনার প্রাথমিক শর্ত হিসাবে কিছু সময়ের ব্যবধানে পাত্র পাত্রী এবং চরিত্র বদলে যায়। গতবারের ভিলেন এইবার হয়ে যান পমেটম মাখা শয্যাসঙ্গী । কিছু বছর পূর্বের গণতন্ত্র হত্যাকারী এইবারে উইগ পাল্টে গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধার পালার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন ।

    এই বিপুল নির্বাচন প্রার্থী ,বিজ্ঞাপনের পাহাড়ের মধ্যে কখনো সখনো 'ভোট বয়কটের’ ডাক চোখে পড়ে বিশ্বজুড়ে । ভোট বয়কট ক্যাম্পের সদস্যদের মধ্যে প্রায় সকলেই বামপন্থী এবং এদের অধিকাংশই নিজেদের বিপ্লবীদল হিসাবে দাবী করেন । অনেকেই আবার ভোট বয়কটের ডাক দেন বিশুদ্ধ লজিস্টিকাল কারনে ,নিজেদের ক্যান্ডিডেটদের জমানত জব্দের অবমাননার হাত থেকে বাঁচতে । এদের এই ভোট বয়কটের ডাকের পেছনে না আছে কোন গভীর রাজনৈতিক কারন বা দর্শন , যেমন ধরুন স্পেনের ‘পডেমস’ একদা ’'নো ভোটের’' চ্যাম্পিয়ন সহসা নূতন রাজনৈতিক কোয়ালিশন করে ভোটের বাজারে নেমে পড়েন । কিন্তু তার মধ্যেও অনেকেরই ভোট বয়কটের’ ডাকের পেছনে লজিস্টিকাল কারনের সুবিধাবাদীত্ব নয় বরং বিভিন্ন গভীর রাজনৈতিক দর্শন বর্তমান যা আমাদের পুতুলনাচের অভস্ত্য জীবনে মাঝে মাঝে অনুরণন তোলে। ভাবতে বাধ্য করায় এই একঘেয়ে পুতুলনাচের বাইরে জীবনের কথা । এই ভোটতন্ত্রের অসাড়তার কথা । যেখানে দৃশ্য তৈরি হয় বাস্তবের পটভূমিতে ,কেন্দ্রীয় চরিত্র পেশাদার ঘাগু অভিনেতা’দের হাত থেকে বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় জনতার স্বতস্ফুর্ততায় ।

    আপাতত বর্ষার তুমুল বর্ষণে এই অনাবশ্যক জঞ্জালের পাহাড় না ধুয়ে যাওয়া পর্যন্ত এই দৃশ্য দূষণ , প্রতিশ্রুতির বন্যার হাত থেকে রেহাই নেই । রেসের ঘোড়ার ওপর বাজি লাগানোর অথবা লটারিতে জিতে যাওয়ার বিভিন্ন ফর্মুলা ,গবেষণা লব্ধ বিশদ জ্ঞান ,অনুমান , বিশেষজ্ঞ মতামত ,আশা ,হতাশা , নিরাশা ,উত্তেজনা’র ক্ষণিক অবসান হবে আমাদের রাজ্যে তুমুল বর্ষার মাঝামাঝি এবং পৃথিবীর সব থেকে বৃহৎ সংগঠিত পুতুলনাচের পালা আমেরিকায় তার কিছুদিন পরে । তার পর আবার কোথাও নূতন উদ্যমে পুতুলনাচের পালা ।

    আমেরিকার নির্বাচনী পুতুলনাচের এইবারের পালার অন্যতম বর্ণময় চরিত্র বার্নি “স্যান্ডার্স যখন উইংসের বাইরে খঞ্জনি বাজাতেন সেই ২০১০ সালে The Nation পত্রিকার এক প্রবন্ধে মতামত দিয়েছিলেন ‘ "upper-crust of extremely wealthy families are hell-bent on destroying the democratic vision of a strong middle-class … In its place they are determined to create an oligarchy in which a small number of families control the economic and political life of our country."

    ২০০৭ সালের প্রাপ্ত হিসাবে আমেরিকার মাত্র ১% জনতার হাতে দেশের ৮০% সম্পদ বর্তমান , মাত্র ৪০০জন উচ্চ পর্যায়ের ধনী ব্যাক্তির হাতে আমেরিকার অর্ধেকের বেশী সম্পদ আর এনারাই নির্বাচন নামক পুতুলনাচের 'বিগ ডোনার’ বর্তমানে এনাদেরই ডোনেশনে বার্নি এবং বাকি চরিত্রদের নাচন কোঁদন । বার্নি যখন পার্শ্ব চরিত্র অভিনেতা ছিলেন তখন ভুল করে এই সত্য বলে গেছেন ।

    তবে আমাদের রাজ্যে বিষয় টি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ,এক কথায় ইউনিক । এখানে নির্বাচনের খরচ মূলত দু ভাবে সংগৃহীত হয় । একদল উচ্চ পর্যায়ের শিল্প সংগ্রাহক উচিৎ মূল্যে ছবি কিনে থাকেন, অন্য খুচরো আমদানি বাদ দিলে মূলত সেই ছবি বিক্রির পয়সায় দল নির্বাচন লড়ে অন্যদিকে আরেক দল শেয়াল'দা স্টেসানে কৌটো ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে সারা দেশে আলিসান পার্টি অফিস বানান এবং সেখান থেকেই পুতুলনাচের পালা নির্দেশিত হয় ।

    গণতন্ত্র = “ Denial , Inequality , Cartel”

    পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম মাত্র কয়েক বছর হোল প্রায় প্রত্যেকেই নিজেকে ,নিজেদের আজকাল 'গণতান্ত্রিক' বলে ঘোষণা করতে ভালোবাসেন । অধ্যাপক গণতন্ত্র বিষয়ে লম্বা লেকচার দেন - ক্যাম্পাসের বাইরে গণতন্ত্র রেখে এসে । গণতন্ত্র শব্দটায় এমন অদ্ভুত যাদু তার যে কোন অর্থ হতে পারে যে কারনে উত্তর কোরিয়াও নিজেদের Democratic People’s Republic বলে ঘোষণা করে থাকেন । গণতন্ত্র প্রায় জলের মত । সব কিছুর সাথে খাপ খায় অদ্ভুত ভাবে, যে পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারণ করার অদ্ভুত ক্ষমতা । প্রবল ক্যাপিটালিস্টের কাছে ,গণতন্ত্র ক্যাপিটালিজমের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত । প্রবল সোশ্যালিজমের কাছে গণতন্ত্র সোশ্যালিজমের সাথে অচ্ছেদ্য। এমনকি গণতন্ত্র নাকি ডিক্টেটরশিপ ,অ্যানারকিজম ,ইসলাম ইত্যাদির সাথেও বিচ্ছেদ ঘটানোই যায়না । এরই মধ্যে চরম আধিপত্য কে 'গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা' বলে সুন্দর শব্দগুচ্ছ আমাদের উপহার দিয়ে গিয়েছেন মহামতি লেনিন ।

    গণতন্ত্র মানেই তা 'সত্য ,সুন্দর এবং শ্বাসত ' , এই গণতন্ত্রের বিভিন্ন রকমের রূপ ,গন্ধ এবং স্বাদ ঃ- কন্সটিটিউসনাল ডেমক্রাসি , লিবারেল ডেমক্রাসি , সোশ্যাল ডেমক্রাসি , খ্রিসচিয়ান ডেমোক্রাসি, উত্তর কোরিয়ান ডেমক্রাসি এমনকি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেমোক্রাসি পর্যন্ত । ঠিকে করা 'শ্রীজাতা' কবিরা গণতন্ত্রের মাহাত্ম্য গেয়ে থাকেন ( সবাই নন অবশ্যই ) অন্যদিকে গণতন্ত্রের প্রতি সন্ধিহান আরেক কবি Oscar Wilde, লিখেছিলেন “democracy means simply the bludgeoning of the people, by the people, and for the people. It has been found out."

    অথচ বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অতি নগণ্য হাতে গোনা দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা বজায় ছিল । উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অভিজ্ঞতা লব্ধ সাধারণ জ্ঞানে মানুষ গণতন্ত্রের চরম বিরোধিতা করে এসেছে । আমেরিকার কৃষকেরা গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন তার সাথে সাথে কৃষক বিরোধী অ্যান্টি ফেডারিলিস্টরাও । ১৯শতকের সময় থেকে যখন ইউরোপে গণতন্ত্র সন্মান পেতে শুরু করে ,ততদিনে তার এথেন্সিয় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে গেছে । এতদিনে তা 'প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র’। নাগরিক এখন ইলেক্টরেট কিন্তু এখনো সংখ্যালঘু। এই সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ কেবল পুরুষ সময়ে সময়ে তাঁদের শাসক নির্বাচিত করতে থাকলেন মেজরিটি ভোটের মাধ্যমে অথবা যে স্বল্পসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ছিল তাঁদের মধ্যে মেজরিটি ভোটের মাধ্যমে । নির্বাচিত শাসক এর পর বাকি শাসকদের মনোনীত করতে থাকবেন। যেরকমটি চিরকালটি হয়ে এসেছে - যে কেউ কেউ শাসন করবে আর বাকিরা শাসিত হবে ।

    ১৯শতকের এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যখন অতি অল্প সংখ্যক দেশে বর্তমান তখন তা বৌদ্ধিক সমর্থনে পেয়ে গেলো জন স্টুয়ারট মিল এর মত কিছু বুদ্ধিজীবীর কিন্তু সাথে সাথে সমপরিমাণ সক্ষম বুদ্ধিজীবী হার্বাট স্পেন্সার , নিৎসে , প্রুধো গণতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তির বিরোধিতা করতে থাকলেন , প্রশ্ন তুলতে থাকলেন গণতন্ত্রের কার্যকারিতা বিষয়ে । কিন্তু সেকুলারিজমের সাথে সাথে গণতন্ত্র সেই সময়ের উদীয়মান রাজনৈতিক দর্শন। ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদ , লিবারেলিজম ,সোশ্যালিজম এবং খ্রিস্টিয়ানিটি কে জায়গা করে দিতে থাকলো নিজের পরিসরে । অথবা গণতন্ত্রের আইডিয়া তে ভর করে জাতীয়তাবাদ , লিবারেলিজম ,সোশ্যালিজম এবং খ্রিস্টিয়ানিটি গণতন্ত্রে মিলে মিশে এক বিদঘুটে জগাখিচুড়ী । একে অপরকে স্বীকৃতি এবং বিপুল মাহাত্ম্য কির্তন প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র’ কে মান্যতা দিতে থাকলো দ্রুত ।

    এই সময় অ্যালবেরিকো জেন্টিলি নামক এক অক্সফোর্ডিয় সিভিল আইনের প্রফেসর যুক্তি সাজালেন - যে সমস্ত ফাঁকা জমি এখনো চাষ না করে ফেলে রাখা হয়েছে সেই সমস্ত জমি প্রকৃতির নিয়মে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বলে ধরতে হবে । সাধারণের সম্পত্তি ‘কমন’ এর সীমা সঙ্কুচিত হয়ে গেলো গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে। গণতন্ত্রের সেই প্রাথমিক যুগ ইউরোপের কলোনি বিস্তারের যুগ ,মার্কেট ইকনমি প্রতিষ্ঠার যুগ,দাস ব্যবসার ঘৃণ্যতার যুগ । জন লকে -ঘোষণা করলেন নেটিভ জনতার সম্পত্তি ,জীবন এবং স্বাধীনতার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই । আমেরিকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রাজাদের তাদের এলাকার জমির ওপর কোন আইনগত অধিকারই নেই এই মর্মে ডিক্রী ঘোষিত হোল । ঠিক এখনো এই ধরনের ডিক্রী বলে নিয়ামগিরি পাহাড় অথবা বস্তারের জঙ্গল দেশের উন্নতির স্বার্থে দখল হয়ে যায় ।

    জন লকে "Father of Liberalism" ক্রীতদাসের মালিকের ক্রীতদাসের ওপর অধিকার স্বীকার করে নিয়ে বললেন ‘ Absolute ,arbitrary, despotical power’ এই ক্ষমতার মধ্যে ‘ the power to kill him any time’ অন্যতম । সেকুলারিজম এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার অগ্রগামী ব্যবস্থাপকেরা তাদের পূর্বের পোপ তন্ত্র অথবা ধর্মীয় বিধানের পূরানো অভ্যাসে ফিরে গেলেন । গণতন্ত্র এবং সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হিসাবে বলা হয়েছিল -শান্তিপূর্ণ ,স্বাধীন ,ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক নূতন রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিন্তু এই ‘ Absolute ,arbitrary, despotical power’ এর বন্দুকের নলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রসার“"Liberty, Equality, Fraternity" ‘র নাটকীয় স্লোগান অচিরাৎ পরিবর্তিত হয়ে গেল ................................................... “ Denial , Inequality , Cartel” এর বাস্তবতায় ।

    গণতন্ত্র = সংখ্যালঘুর ভোটে নির্বাচিত শাসকের সংখ্যাগুরু শাসন

    ভারতের ১২০কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬৫% ভোট দানের অধিকারী , বাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক,মানসিক রুগী ইত্যাদি । গত পঞ্চাশ বছরের গড় ভোট দানের হিসাব আনুমানিক ৫৫% ভোট দাতা সাধারনত ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে উপস্থিত হন । আমরা এর মধ্যে ছাপ্পা ভোটের সত্যতা এবং মিলিটারি দিয়ে কাশ্মীরে বা ছত্তিসগড়ে ঘাড় ধরে ভোট দান হয়ে থাকে সেই সত্য তথ্যের খাতিরে হিসাবে আনছিনা । অর্থাৎ ভারতের ১২০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৪২কোটি লোক ভোট দিয়ে থাকেন যা মোট জনসংখ্যার ৩৫% কিছু কম বা কিছু বেশী । গত নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি এই ৩৫% ভোটদাতার মধ্যে থেকে ৩১% ভোট পেয়ে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে আমাদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছেন আগামী ৫ বছরের জন্য । অর্থাৎ সমস্ত ভারতবাসীর মাত্র ১৩% ভোটে আগামী ৫ বছরের নিরঙ্কুশ শাসকের অধিকার । সংখ্যাতত্ববিদেরা চুলচেরা হিসাব করে হয়ত দেখাতে পারেন যে বিভিন্ন কোয়ালিশন সরকার এর থেকে কম পরিমান ভোট পেয়েও দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বনেছেন।

    ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ঠিক যেন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি চালানোর পাটিগণিত । বাজারে শেয়ার ছাড়া আছে কয়েকশো কোটি কিন্তু মাত্র সামান্য পরিমান শেয়ারের বলে কতিপয় ব্যক্তি যুগ যুগ ধরে কোম্পানির মালিকানা দখল করে রাখার পাটিগণিতের খেলা চালাতে থাকেন । ভারতের সর্ববৃহৎ বিজনেস গ্রুপ টাটা তে রতন টাটার ব্যক্তিগত শেয়ার হোল্ডিং ছিল ১%এর কম , অথচ ১০৮.৭৮ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি এবং ৬০০,০০০ কর্মচারীর মাই বাপ ছিলেন রতন টাটা । অগণিত শেয়ার হোল্ডাররা কাগজে কলমে কোম্পানির মালিক হলেও আসল মালিকানা থেকে যায় কতিপয় ব্যক্তির হাতে যারা চতুরতার সাথে জনতার পয়সায় সাম্রাজ্য চালান বাকিদের জন্য পড়ে থাকে বৎসরান্তে ছিটে ফোঁটা ডিভিডেন্ট ।

    গণতন্ত্রের এই দুর্বলতা ,বিশেষ করে বললে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে’র এই সংখ্যালঘুর ভোটের জোরে দেশবাসীর ওপর শাসনের অগনতান্ত্রিক অধিকার গনতন্ত্রের সূতিকাগার ফ্রান্স এবং আমেরিকা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত । গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ১৩২ বছর পরে ১৯২০ সালে আমেরিকায় মহিলাদের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রথম স্বীকৃতি পায় । গণতান্ত্রিক আমেরিকা তার জনসংখ্যার ৫১% কে দেশের নীতিনির্ধারণের আওতার বাইরে কেবল শয্যা সঙ্গী করে রেখে দেয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ১৩২ বছর ধরে । আমেরিকার দক্ষিণের প্রদেশগুলীতে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকান আমেরিকানদের ভোটাধিকারই ছিলোনা । তার সাথে জেল বন্দী ,মানসিক রোগগ্রস্ত ,ইমিগ্রান্ট ,গৃহহীন এমনকি দরিদ্র শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের ভোটাধিকারের ক্ষমতা না থাকাকে আমরা যদি হিসাবের মধ্যে ধরি তাহলে দেখতে পাবো বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত মাত্র ১০% শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান নাগরিকের ভোটের ভিত্তিতে আপামর বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছেন আমেরিকার ৫২জন রাষ্ট্র প্রধান।আমেরিকার গণতন্ত্র ছিল কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান পুরুষদের হাতে ,কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের দ্বারা নির্বাচিত সংখ্যালঘু শাসকের মাধ্যমে দেশ এবং বিশ্ব শাসন ।

    অন্যদিকে সভ্যতার নামে নাক আকাশে তুলে রাখা ফ্রান্সের "Liberty, Equality, Fraternity" ঘোষণার অধিকারীরা মহিলাদের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন । মহিলাদের আবার লিবার্টি কিসের ? ফ্রান্সের মহিলারা প্রথম ভোটাধিকার পেলেন এই সবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবশেষে ১৯৪৪ সালে । দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা (নারী ),তার ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই প্রায় দুশো বছর ধরে গণতন্ত্রের রথ গড়গড়িয়ে চলে গেলো ফ্রান্সের মত দেশে । গণতন্ত্রের এই যে আধা পবিত্র স্ট্যাটাস তার বস্তুত কোন ভিত্তিই নেই । তাই আমরা যারা এই নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী 'ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ জাতী বিদ্বেষী প্রচার এবং তার ক্রমাগত বেড়ে চলা জনপ্রিয়তা বিষয়ে আশঙ্কিত তারা বোধ হয় ভুলে গেছি যে এই দুর্বলতা গণতন্ত্রের বর্তমান ব্যবস্থার রক্তের মধ্যে প্রোথিত। হিটলার থেকে মোদী ,বুশ থেকে ইন্দিরা গান্ধী ,লি প্যাঁ থেকে বেগম খালেদা জিয়া এই ‘প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে ‘ সংখ্যা লঘিষ্ঠের ভোটেই সংখ্যা গরিষ্ঠ হিসাবে জিতে এসেছেন, না হলে সম্পূর্ণ উল্টোমতের রাজনৈতিক দলের সাথে সুবিধাবাদী রামধনু জোট বানিয়েছেন অথবা সংখ্যালঘুর সরকার ।

    বামপন্থা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র

    পার্লামেন্ট যে পুঁজিবাদী সংস্থান এবং”প্রতিনিধিত্ব মূলক’ গণতন্ত্র যে প্রথম থেকেই সম্পদশালী ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা’র উদ্দেশ্যে গঠিত সেই বিশ্লেষণ মার্কসবাদী এবং বামপন্থীদের কাছে অজানা ছিলোনা । সময়ের দাবীতে , সমাজের সম্পদহীন সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবংসম্পদশালীদের সংখ্যালঘু অংশের দ্বন্দ্ব ,মহিলাদের ভোটাধিকারের দাবীতে আন্দোলন ,আফ্রিকান অ্যামেরিকানদের ভোটাধিকারের দাবীর আন্দোলন এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সার্বজনীন মান্যতার কথা মাথায় রেখে ধীরে অতি ধীরে ইউরোপের গণতন্ত্র ১৯৬৫ সালে এসে সার্বজনীন ভোটাধিকার স্বীকার করেছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রায় তিনশো বছর পড়ে । এর মধ্যে ঘটে যাওয়া ফরাসী বিপ্লব চিরতরে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে যে বংশপরম্পরায় অভিজাতদের শাসনের অধিকার সমাপ্ত । ঘটে গেছে প্যারিস কমিউনের শ্রমিক অভ্যুথানের মাধ্যমে ডাইরেক্ট গণতন্ত্রের বিকল্প ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত ।

    তারই মধ্যে জার্মানির পার্টির বুর্জুয়া পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ । মার্ক্সের মৃত্যুর পরের বছর জার্মান পার্টি ৫লাখে অধিক ভোট ,(১৮৮৪ ) ১৮৯০ এর মধ্যে দ্বিগুণ ভোট এবং ১৯১২ সালে ৪০ লক্ষ'র অধিক ভোটের প্রভাবে এঙ্গেলস ভাবতে থাকেন যে পার্লামেন্টারি ইলেকশন পার্টি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ব্রিলিয়ান্ট উপায় । কিন্তু পার্লামেন্ট যে পুঁজিবাদী সংস্থান ,ভেতর থেকে রিফর্ম যে অসাধ্য তা প্রমাণিত হতে শুরু করে দ্রুত । ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা জার্মানির বামপন্থীরা শ্রেণী সংগ্রাম বিসর্জন দিয়ে শ্রেণী সমঝোতা , সুবিধাবাদের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেন । রোজা লুক্সেমবার্গ লেখেন ‘The kind of parliamentarism we now have in France, Italy, and Germany provide the soil for such illusions of current opportunism as overvaluation of social reforms, class and party collaboration, the hope of pacific development toward socialism, etc.’

    এঙ্গেলস জার্মানিতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক ভোটে সফলতা দেখে ভেবেছিলেন যে পার্লামেন্টারি ইলেকশন পার্টি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ব্রিলিয়ান্ট উপায় কিন্তু সেই ভাবনায় কিঞ্চিৎ দুর্বলতা ছিল। তিনি ভাবেননি যে পার্লামেন্ট বিপ্লবীদের সুবিধাবাদিতে পরিনত করে । ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ততদিনে জার্মানির বৃহত্তম পার্টিতে পরিনত, ইতিমধ্যে রিফর্মিস্ট । ১৯১৪ সালে জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জার্মান পার্লামেন্ট রাইখস্ট্যাগে যুদ্ধের সপক্ষে ভোট দেয়। ব্রিলিয়ান্ট ই বটে । সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের পক্ষে মার্কসবাদী পার্টির নিরঙ্কুশ সমর্থন। পৃথিবীর সর্বত্র এই উধাহরন বর্তমান আমাদের দেশের কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙ্গে দু টুকরো হওয়ার কারণও এই । ভারত চীন যুদ্ধে সুবিধাবাদী অবস্থান।

    রোজা লুক্সেমবার্গের নেতৃত্বে জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী বিপ্লবী অংশ এই সুবিধাবাদী অবস্থানের বিরোধিতায় পার্টি ভেঙ্গে বেরিয়ে আসেন । গঠিত হয় USPD । ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় জনতা ক্ষমতা দখল করে । সশস্ত্র উপায়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে থাকে ইউরোপ এবং এশিয়ার বামপন্থী বিপ্লবী জনতা । বলশেভিক বিপ্লবের উধাহরনে ১৯১৮ সালের নভেম্বর মাসে জার্মানি জুড়ে শুরু হয় সশস্ত্র বিপ্লব ।১৯১৮ সালের ৩০সে ডিসেম্বর রোজা লুক্সেমবার্গের নেতৃত্বে গঠিত হয় জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি KPD। রাশিয়া ততদিনে লেনিনের নেতৃত্বে জার্মানির সাথে ব্রেস্ট -লিটভস্ক চুক্তি আবদ্ধ । রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ তখন ৫০-৫০ অবস্থানে । রোজা লুক্সেমবার্গের নেতৃত্বে সশস্ত্র আন্দোলনে বলশেভিক সমর্থন শূন্য । ১৯১৯ সালে রোজা লুক্সেমবার্গ কমিউনিস্ট বিরোধী শক্তির হাতে নিহত হন । KPD আশু বিপ্লবের পথ থেকে সরে এসে ভোটের রাজনীতিতে ফিরে যায় ।

    ১৯২০ সালের শেষের দিকে তৃতীয় আন্তর্জাতিকের মিটিং এর সময়ে বলশেভিক নেতৃত্ব রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ প্রায় জিতে আসার মত নির্ণায়ক অবস্থানে । রোজা লুক্সেমবার্গ -লেনিনের আন্তর্জাতিক তীক্ষ্ণ সমালোচক আততায়ীর হাতে ততদিনে নিহত হয়েছেন । লেনিনের আশু উদ্দেশ্য রাশিয়ার টালমাটাল সমাজতন্ত্র রক্ষা ,সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে আশ্বস্ত করা যে রাশিয়া বিশ্বজুড়ে বিপ্লবী যুদ্ধ বিস্তারে আগ্রহী নয় একই সাথে রাশিয়ার সমর্থনে বিশ্বের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির আনুগত্য আদায় । প্রকাশিত হয় সমঝোতার দলিল ‘ Left-Wing Communism: An Infantile Disorder,’ । বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র উপায়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প উপায়ে সেই থেকে পার্মানেন্ট তালা চাবি । KPD ১৯২৩ সালে জার্মানির ভোটে ১০% ভোট পায় তার পর হিটলারের হাতে কচুকাটা হওয়ার অপেক্ষা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী রাশিয়ার অঙ্গুলিহেলনে পূর্ব জার্মানির শাসন ভার সামলানোর মধ্যে দিয়ে এঙ্গেলেস কথিত ব্রিলিয়ান্ট উপায় সফলতার সাথে নির্বাহ করে ।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পুঁজিবাদী পার্লামেন্ট এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের তাত্বিক ঢাল হিসাবে পৃথিবীর সমস্ত বামপন্থী দল লেনিনের কম্প্রমাইস ফর্মুলা Left-Wing Communism: An Infantile Disorder,’ ব্যবহার করে এসেছে । তার পরবর্তীতে অবশ্য আর প্রয়োজন হয়নি কারণ ততদিনে ক্যাপিটালিজম সর্বগ্রাসী । কল্যাণকামী পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে সুবিধাবাদী কমিউনিস্ট নেতৃত্বের লাল পতাকার রং ফিকে হতে হতে প্রায় গেরুয়া তে পর্যবসিত । কমিউনিস্ট পার্টির দাবী দাওয়া পিএফ, গ্রাচিউটি অথবা মেডিক্যাল লিভ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ । কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ইন্দিরা গান্ধীর জরুরী অবস্থার সমর্থক ,মন্ত্রী সভার মাননীয় সদস্য । পরবর্তীতে বিভিন্ন বুর্জুয়া পার্টির মধস্ততায় তৃতীয় জোট গঠনের অনুঘটকের কর্মকাণ্ডই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সমার্থক হিসাবে আমাদের মেনে নিতে বলে ব্রিগ্রেড ভরানো । ইউনিয়নের নেতৃত্বের মালিকপক্ষের সাথে সহযোগিতার ভুরি ভুরি নিদর্শন, কৌটো ঝাঁকিয়ে তিন তোলা মহল — মমতা দেবী তো কেবল অনুঘটক মাত্র ঘুণে ধরা শুরু তো সেই কবেই ।

    সারা পৃথিবী জুড়ে বামপন্থা’র পানাপুকুরে পরিনত হওয়ার প্রধান এবং অন্যতম কারণ পার্লামেন্টের ভেতরে প্রবেশ করে পার্লামেন্ট সিস্টেম পরিবর্তিত করার দিবা স্বপ্ন দেখা এবং দেখানোর আত্মপ্রবঞ্চনা । তবুও মানুষ ভরসা করে , ঠকে ,উঠে দাঁড়ায় । হয়ত লাল পতাকাই শেষ ভরসা আর এই মজ্জাগত বিশ্বাসে ,অসংখ্য মানুষের আশার প্রতীক "আলেক্সিস সিপ্রাস " জানুয়ারি ২০১৫ তে এই সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাতে আসেন। গ্রিসবাসীর কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা "ক্রিচ্ছসাধন " মানিনা। ২০১৫ এর জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের শেষ অবধি"আলেক্সিস সিপ্রাস “এর শাসন কালে গ্রিসের জনতা সাক্ষী থেকেছেন ~ অনন্ত উন্মাদনা,আত্মাভিমান পুনঃরুধ্বারের উজ্বল আশা ,দেশব্যাপী রেফারেন্ডাম এবং অবশেষে লজ্জাজনক আরও কঠিন চুক্তি সম্পাদনের কঠিন হতাশার। "আলেক্সিস সিপ্রাস " পার্লামেন্ট ভঙ্গ করে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং আরও কঠিন ঋণ চুক্তি সম্পাদন করছেন । নূতন ঋণের চুক্তি হিসাবে গ্রিসের সমস্ত সরকারী সম্পত্তি এয়ারপোর্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ,হাসপাতাল থেকে পার্লামেন্ট ভবন বন্দক দেওয়া হয়েছে । আলেক্সিস সিপ্রাসের এই অসাধারণ Somersault সম্ভবত এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বামপন্থী বিশ্বাসঘাতকতার নজির হয়ে থাকলো ! সাথে পুনরায় প্রমাণিত হোল নির্বাচন ,পার্লামেন্ট ভিত্তিক সংসদীয় গণতন্ত্র বামপন্থার পথ নয়।

    গণতন্ত্র ভোট তন্ত্র এবং পুতুলনাচ ঃ-

    আজকের দিনে পুঁজিবাদী শক্তি সমস্ত উৎপাদন ,বণ্টন এবং অর্থনীতির চাবিকাঠির ঠিকাদার । রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনতার ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে । নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রত্যেক নির্বাচনের সময়ে তার নির্দিষ্ট ইলেক্টরেটের সাথে প্রতিশ্রুতি এবং ম্যানিফেস্তোর মাধ্যমে মূলত সুবিধাবাদী চুক্তি করে । খুব একটা কঠিন কাজ নয় -আমি রাস্তা দেব ,কলেজে ওয়াইফাই দেব , প্রতি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ,দু টাকা দামের চাল ,বিনি পয়সায় সাইকেল ,খুব বেশী হলে জাতের নামে আরক্ষণ এই ধরনের সামান্য প্রতিশ্রুতিতেই আজকাল ভোট সংগ্রহ করা সম্ভব । আমাদের সামনে অন্য কোন উন্নত বিকল্পই তো নেই চাইব টা কি ? চালাক ভোটার তার অঞ্চলে পার্টির পতাকার কি রং , কি উদ্দেশ্য ,কে প্রার্থী এইসব বিচারের পূর্বে প্রতিশ্রুতি ডেলিভারির সম্ভাবনা দেখে মনস্থির করে। তাই সাত খুনের আসামী ,দুর্নীতির দায়ে জেলখাটা প্রার্থী সহজেই নির্বাচিত হয় । সিস্টেম কে বাই পাস করে এই সব প্রফেশনাল দুর্নীতি গ্রস্ত আমাদের কাজ ঠিক আদায় করবে এই ভরসায়।প্রফেশনাল রাজনৈতিক নেতাদের কাজ এই ছোট ছোট প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট ভোটারদের যে কোন উপায়ে বুথে হাজির করানো। পৃথিবী জুড়ে ডেমক্র্যাট ,লেবার পার্টি ,কংগ্রেস ,তৃনমূল ,সিপিয়াইএম, বিজেপি ইত্যাদি সকলের এখন একই উপায় ‘আমার পার্টিকে ভোট দিন বিনিময়ে আমার পার্টি আপনাকে এই এই দেবে ‘ এলিটিস্ট পিতৃতান্ত্রিক অ্যাপ্রোচ । গন আন্দোলন ,গন অংশগ্রহণের বিন্দুমাত্র উত্তেজনা নেই ।

    এই রাজনীতি মেনেই নিয়েছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয় সুতরাং এই ব্যবস্থার মধ্যেই কাজ করো । রাজনীতি এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির মধ্যে বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আপাত শ্রেষ্ঠ ম্যানেজমেন্ট টিম খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ। রাজনীতি ক্রমশ সংখ্যালঘু প্রফেশনাল রাজনীতিজ্ঞর হাতে সীমাবদ্ধ । অধিকাংশ জনতার রাজনীতি এখন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ভোটের বুথে গিয়ে EVM মেশিনে চাবি টেপার ঘেরাটোপে বন্দী, বাকি কাজ নির্বাচিত প্রতিনিধির । কিন্তু পুঁজিবাদী শ্রেণীর কাছে এই সামান্য অংশগ্রহণ যথেষ্ট । তাদের উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা এবং শোষণের ধারাবাহিকতা আগামী পাঁচবছরের জন্য নিশ্চিন্ত, জনতার ভোটে এন্ডর্সড । তাই কে কার সঙ্গে জোট করলো ,কে স্টিং অপারেশনে মুখ দেখালো কিছুই যায় আসেনা ।

    ১৮৮২ সালে হার্বাট স্পেন্সারকে তার আমেরিকা ভ্রমণের সময় আমেরিকার স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন “ You retain the forms of freedom; but, so far as I can gather, there has been a considerable loss of the substance. It is true that those who rule you do not do it by means of retainers armed with swords; but they do it through regiments of men armed with voting papers, …………”Here it seems to me that “the sovereign people” is fast becoming a puppet which moves and speaks as wirepullers determine.”

    স্বাধীন ,শিক্ষিত জনতা কি করবে ? ভোটের উত্তেজনায় গা ভাসাবে না রাজনৈতিক দল বিশেষত বামপন্থী দলগুলিকে বাধ্য করবে এই সত্য মেনে নিতে যে ‘If voting changed anything they’d make it illegal.’

     

  • বিভাগ : ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০১৬ | ২৭৫২ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১১:৫২56254
  • বাংলাতে লিখেছিতো ঃ- সারা পৃথিবীতে দারিদ্রসীমা মাপার একটা মাপদন্ড আছে যদিও হাস্যকর তবুও সেই পরিমাপ হোল $1.95/person/Day অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি ১৩০-১৩২ /- প্রত্যহ আয় করে তাহলে সে আর গরীব নয় তার কম হলে সে গরীব বলে ধরা হবে । এইবার ভারতে “ In 2012, a new committee, headed by former Reserve Bank of India Governor C Rangarajan, recommended changes in the poverty line calculation to Rs 32 per person in rural areas and Rs 42 per person in urban areas. “ সেই মাপে ভারতে ৩০% দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে । একেতে বিশ্বের দরিদ্রসীমা মাপার মাপদন্ড টি হাস্যকর তার ওপর আমাদের দেশের মাপদন্ড । - আশা করি পরিষ্কার

    তাও এটা থাক ঃ- Poverty becomes cruel joke with planning panel http://indiatoday.intoday.in/story/planning-commission-rs-32-a-day-poverty/1/153245.html
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১১:৫৭56255
  • আচ্ছা। আসলে কোথায় একটা নতুন হিসাব দেখলাম। ঐ হিসাবে ১৭% এর আশেপাশে গরীব। আপনি লিখেছেন যে ঐ হিসেবে ৭০%। তাই বললাম।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১১:৫৯56256
  • ১৭৫০-১৮০০ ঠিকই পড়েছেন আমি ইউরোপে কথা বলেছি মানে পুঁজির প্রাথমিক পর্যায় , অসংখ্য ছোট ব্যবসাদার , প্রতিযোগী ইত্যাদি ।

    বার্নি নিজে কি লিখছে পড়েছেন - ?" upper-crust of extremely wealthy families are hell-bent on destroying the democratic vision of a strong middle-class … In its place they are determined to create an oligarchy in which a small number of families control the economic and political life of our country."

    আমেরিকার নির্বাচন কি কৌটো ঝাঁকিয়ে হয় ? লেখাটি বার্নি কি ভাবে পয়সা জোগাড় করে ভোটে নেমেছেন সেই বিষয়ে নয় আশা করি সেই টুকু লেখাতে পরিষ্কার ?
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:০৪56257
  • বার্ণি তো অমন কথা এখনো বলছেন - প্রায় রোজই।

    আর বার্ণী এইবারে প্রায় কৌটো ঝাঁকিয়েই ভোটে লড়েছেন - এভারেজ ডোনেশান ২৭। আমেরিকার ইলেকশনে ক্যান্ডিডেটকে ডাইরেক্ট বড় ডোনেশন করা যায়্না। কিন্তু সুপার প্যাক তৈরী করে সেইটা ইন্ডাইরেক্টলি করা যায় - কিন্তু বার্ণীর কোনো সুপার প্যাক নেই।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:০৬56258
  • আপনি যদি দারিদ্র সীমার পরিমাপ ১৩০-১৩২টাকা কে ৩২/- করে দেন তাহলে হিসাব নেমে তো আসবেই , আর ১৭% কোথায় দেখলেন , ৩২/- হিসাবেও 30%। আর যারা ধরুন ৩২টাকা থেকে বিশ্বের মাপদন্ড ১৩০-১৩২/- মধ্যে আছেন তারা কত % কোথায় একটা নতুন হিসাব নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন । অঙ্ক তা জুড়তে থাকুন ৭০% এ পৌঁছাতে খুব একটা কষ্ট হবেনা ।

    আশা করি এইটাও দেখে নিয়েছেন ইতিমধ্যে ?
    Poverty becomes cruel joke with planning panel http://indiatoday.intoday.in/story/planning-commission-rs-32-a-day-pov
    erty/1/153245.html
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:১৩56260
  • বার্ণি তো অমন কথা এখনো বলছেন - প্রায় রোজই। অর্থাৎ ' a small number of families control the economic and political life of our country' ঠিক বলছেন না মিথ্যা ? সুতরাং বার্নি নিজে কৌটো ঝাঁকিয়ে যদিওবা নির্বাচনে লড়েন তার বলা কথা যে অতি ক্ষুদ্র অংশ আমেরিকার অর্থনীতি এবং রাজনীতি নিয়ত্রন করে থাকে তা কি রাতারাতি পাল্টে গেলো ? আমিও তো বার্নি কে উল্লেখ করে সেই কথাই বলছি -যে নামে গণতন্ত্র কিন্তু সংখ্যালঘুর শাসন সেই প্রথম দিন থেকে ।
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:১৮56262
  • লিখতে ভুলে গেলাম। বার্ণীর পুরো ক্যাম্পেনটাই তো এই একটা ইস্যু - ইনকাম ইনিকুয়ালিটি - নিয়েই।
  • utopia | 24.99.14.178 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:৩৪56263
  • দেবব্রত বাবু অল্টারনেট বামপন্থার ভাবের ঘরে বাস করেন , এর আগেও রোজাভা নিয়ে লেখায় আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন আইসিস কে একাই তাড়িয়েছে কুর্দ রা , যেই রাশিয়া আমেরিকার অস্ত্র সাহায্য গ্রাউন্ড অপারেশন ছাড়া বম্বিং ছাড়া তাড়ানো সম্ভব কিনা জিগ্গেস করা হলো ব্যাস উনি কাটিয়ে দিলেন। ইউক্রেন সুতোয় বলেছেন সোভিয়েত নভেম্বর বিপ্লবের পর ইউরোপে বিশেষত স্কান্দিনেভিয়ান দেশ গুলোতে সশস্র বিপ্লবে প্রলেতারিয়েত ক্ষমতা লাভে সবচেয়ে কাঠি করেছেন লেনিন। ( যাইহোক যদি করেও থাকেন ভালো ই হয়েছে - স্কান্দিনেভিয়ান ওয়েলফেয়ার স্টেট গুলো তে মানুষের সোসাল সিকিউরিটি , হিউমান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স সব চেয়ে ভালো অন্তত কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গুলোর তুলনায়ও ভালো ) । মশাই আসল কথা হলো প্রাকটিক্যাল ইমপ্লিমেন্টেশন - বামপন্থী তত্ত্ব না আওড়ে কাজে করে দেখান একটা দেশে। উনি ইনোভেশন কে গুরুত্ব দেন না , জানেন না বোধ হয় একটা uber বা facebook বা apple কোনো ধনী শিল্পগোষ্ঠী করে নি করেছে নিতান্ত সাধারণ কলেজ স্টুডেন্ট রা এবং নিজেদের মেধার জোরে নতুন বিজনেস মডেল তৈরী করেছে , করছে । বাতিল পুরনো পেটেণ্ট যে নতুন করে হয় না উনি জানেন না । উনি যে ইনফরমেশন চেরি পিক করেন সেটা ধরা পরে গেছে (অবশ্য এটা দান বাম সব পন্থী দের ই বৈশিষ্ট ) ।
    এই স্বপ্ন টা মজার কিন্তু হাড় হিম করা - "বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র উপায়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার" ( সশস্ত্র শব্দ টা খেয়াল করবেন) , স্বপ্ন দেখবে একদল কিন্তু বন্দুক চালাতে হবে অন্য দের কে(অনেক টা সেই নন্দীগ্রামের সূর্যোদয় ) তারপর সেই হবু রাষ্ট্রে কল্পিত সমাজতন্ত্রের বৌদ্ধিক মাথা হয়ে ক্ষীর খাবে আরেক দল মুষ্টিমেয় ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:৩৭56264
  • আপনি বার্র্নি তে আটকে আছেন কেন , রেকর্ড তো ফাটা নয়- বার্নি একটা রেফারেন্স ' যে অতি ক্ষুদ্র অংশ আমেরিকার অর্থনীতি এবং রাজনীতি নিয়ত্রন করে থাকে' গণতন্ত্রের ইতিহাসে জনতার ভোট সংখালঘু সংখ্যাগুরু কে শাসন করে । লেখাটায় মহিলা ভোটাধিকার ইত্যাদির রেফারন্স ওই একই কারণে ।
    আর আপনি কি সত্যি মনে করেন ৩২/- প্রত্যেক দিন উপর্জন গরিবি মাপার মাপদন্ড হতে পারে অথবা ওই সংখ্যা তত্বের জালিয়াতিতে গরিবি নির্মূল হয়ে গেলো বলে ধরে নেওয়া ? ধরা যাক আমার ৭০% দরিদ্র এর হিসাব অতিরঞ্জিত সব দিক বিচার করলে ৫০-৫৫ হবে । এই পরিমান দারিদ্রতা স্বাধীনতার এত দিন বাদেও উচিৎ বলে মনে হয় ? তাহলে নির্বাচন কি ঘাস কাটল ?

    বার্নির ক্যাম্পেন এর কি ইস্যু কিছু যায় আসেনা - গ্রীসে সিপ্রাসের ওই একই ইস্যু ছিল । মেজরিটি পেয়েও সিপ্রাস কি করছে তার উদাহরণ বর্তমান - লেখাটি ভোটের অসাড়তা এবং আদপে ভোট যে কোন দেশে , যে কোন অবস্থায় সংখ্যালঘুর শাসন সেই পরিপ্রেক্ষিতে লেখা ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.167 (*) | ১৬ মার্চ ২০১৬ ১২:৫৭56265
  • utopia খানিকটা ঠিকই বলেছেন - বামপন্থার ভাবের ঘরে বাস করে ।

    1। রোজাভা সংগঠিত হয়েছে - ২০১২ সালে - আমেরিকা নিজের গরজে হাফ হার্টেড এয়ার সাপোর্ট দিয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ সালে - যখন বুঝেছে একমাত্র এরাই আইসিস ভাগাতে পারে । জর্ডন থেকে ব্রিটেন । ফ্রান্স থেকে আমেরিকা আজ পর্যন্ত কম বোমা মারেনি - আইসিস ভাগেনি কেন ?

    2। আপনি মনে হোল রোজাভা এবং ইউক্রেন দুটোই পড়েছেন। ধন্যবাদ । আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন দুটো অঞ্চলই " কল্পিত সমাজতন্ত্রের বৌদ্ধিক মাথা হয়ে ক্ষীর খাবে আরেক দল মুষ্টিমেয় "'র বিরোধী আন্দোলন - লেনিনের পলিতব্যুরর ১৪-১৫ জনের ক্ষীর খাবে আরেক দল মুষ্টিমেয় র সম্পূর্ণ উলটো -যেখানে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নামে পার্টির আধিপত্যবাদি বামপন্থা - যেখানে সংখ্যাগুরুর গণতন্ত্র , পার্টির একাধিপত্যও নয় , আবার নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘুর শাসন নয় । প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ।

    এই বামপন্থা লেনিনীয় আধিপত্য এবং নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘুর শাসন দুটোরই বিরোধী ।

    আর ইনোভেসন ? গুরুত্ব দেয়না কে বলল? হ্যাঁ তবে 'টেকনোলজি সাক ' এই ইনোভেসনে বিশ্বাসী নন যেমন বামপন্থার নামে লেনিনীয় আধিপত্য এবং নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘুর শাসনে বিশ্বাসী অবশ্যই নন
  • | 127.194.15.35 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৩:৪৯56269
  • দেবব্রত,
    আপনি কি 'মডার্ন রিভিউ' বলতে চাইছেন, না কি 'মান্থলি রিভিউ'?
    [দেবব্রত লিখেছেনঃ সিরিয়াস নোট ঃ- এ বিষয়ে মডার্ন রিভিউ অনেক আর্টিকেল ছেপেছে ।]
    রামানন্দর পরে 'মডার্ন রিভিউ'-এ কি আর সেই আনন্দ আছে?
  • dc | 15.2.64.125 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৪:০১56270
  • দেবব্রতদা আমি দেখছি গত কুড়ি তিরিশ বছরে প্রতিটা সার্ভিস মার্কেটে অনেক ডিসরাপশন এসেছে, প্রচুর ইনোভেশন হয়েছে, সার্ভিস লেভেল ইমপ্রুভ করেছে। স্টিভ জবসের মতো ইনোভেটর-কাম-অন্ত্রেপ্রেনেউর না থাকলে স্মার্ট ফোন জিনিসটা এতো পপুলার হতো না, আর গুগল ম্যাপের ন্যাভিগেশন অ্যাসিস্ট না থাকলে অচেনা জায়গায় গাড়ি চালানোও এখনকার মতো সোজা হতোনা। ফ্লিপকার্ট থেকে ওলা-উবের, বিগ বাস্কেট থেকে রিটেল স্টোর, নানারকম অনলাইন সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যান্কিং, কার্ড পেমেন্ট, এসব অনেক নতুন জিনিষ এসেছে বা আগের থেকে ভালো সার্ভিস হয়েছে। আর এগুলো সবই বিশ্বব্যাপি পুঁজিবাদি ব্যাবস্থার মধ্যেই হয়েছে, ইনোভেশনকে এনকারেজ করা হচ্ছে বলেই নতুন নতুন সুবিধেও আসছে। কাজেই আপাতত পুঁজিবাদি ব্যাবস্থায় আমি বেশ সতুষ্ট। ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু যদি আসে, যাতে এই ব্যাবস্থার ত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়া হবে, তাহলে তো ভালোই।
  • | 127.194.15.73 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৫:০৭56277
  • dc,
    আপনার কথা মানতেই হচ্ছে। সার্ভিস ভাল হয়েছে।
    "ফ্লিপকার্ট থেকে ওলা-উবের, বিগ বাস্কেট থেকে রিটেল স্টোর, নানারকম অনলাইন সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যান্কিং, কার্ড পেমেন্ট, এসব অনেক নতুন জিনিষ এসেছে বা আগের থেকে ভালো সার্ভিস হয়েছে। আর এগুলো সবই বিশ্বব্যাপি পুঁজিবাদি ব্যাবস্থার মধ্যেই হয়েছে"।

    আপনার মতো সকলেই সন্তুষ্ট হবার কথা। আমার সন্তুষ্ট হবার কথা, কেন না আমি এইসব সার্ভিস নিয়েছি, নিচ্ছি, নিতে পারি। দেবব্রত বা এরকম অনেকে আমার চাইতে হয়তো বেশি করে এইসব সার্ভিস নিয়েছে। অনেকের চাকরি বা ব্যবসা এসবের ওপর নির্ভর করছে। ফলে নতুন একদল এসেছেন, যাদের এই বিশ্বব্যবস্থা অনেক রকম সুবিধা দিচ্ছে, আর তাঁরা সেটাতে সন্তুষ্ট।

    ব্রিটিশ শাসনে যাঁরা রায়বাহাদুর ইত্যাদি হতেন, কি কোম্পানির নুনের ব্যবসা বা নীলের ব্যবসা বা তেজারতি বা জমিদারি করে ভালই কামাতেন, তাঁরাও সন্তুষ্ট থাকতেন।

    কথা হল, এরকম 'ভাল আছে ও তাই সন্তুষ্ট আছে', তা বাদেও মানুষ অনেক আছেন, তাঁরাই সংখ্যাগুরু। দারিদ্রসীমা নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে, কিন্তু ফ্লিপকার্ট থেকে ওলা-উবের, বিগ বাস্কেট থেকে রিটেল স্টোর, নানারকম অনলাইন সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যান্কিং, কার্ড পেমেন্ট -- এসব থেকে সরাসরি লাভ দারিদ্রসীমার কাছাকাছি থাকা মানুষজন পাচ্ছেন না, যদিও তাঁরা এইসব সংগঠনের দারোয়ান জাতীয় পোস্ট যে একেবারে পাচ্ছেন না, তা নয়।
    এই মুহুর্তে সন্তুষ্ট হয়তো তাঁরাও। কিন্তু তাতে দেবব্রতর এই কথাটার জবাব হয় না, অন্তত নৈতিক জবাব হয় বলে একেবারেই মনে হচ্ছে না-- "ধরা যাক আমার ৭০% দরিদ্র এর হিসাব অতিরঞ্জিত সব দিক বিচার করলে ৫০-৫৫ হবে । এই পরিমান দারিদ্র স্বাধীনতার এত দিন বাদেও উচিৎ বলে মনে হয়? তাহলে নির্বাচন কি ঘাস কাটল?"

    ইউটোপিয়া কোনটা যে, সেটা বলা মুশকিল। আপনি যে ফ্লিপকার্ট থেকে ওলা-উবের, বিগ বাস্কেট থেকে রিটেল স্টোর, নানারকম অনলাইন সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যান্কিং, কার্ড পেমেন্ট -- এসব বলছেন, ত্রিশ বছর আগে এগুলো ইউটোপিয়া ছিল। কোন ক্ষেত্র কীভাবে কোথায় প্রস্তুত হয়, সেটা আমাদের আগেভাগে জানা সম্ভবই হয় না। ক্যামেরাগুলো আর রেকর্ড প্লেয়ার কোথায় গেল? জানলে কি আর অত ইনভেস্ট করত কোডাক বা এইচএমভি-রা।

    সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও, কোথায় কী ঘটে যাবে তা তেমন জানা নেই। ২০০৪-এ কে ভেবেছিল সিপিএম ২০১১ তে ঐভাবে যাবে?

    অবশ্য, এই চালু গণতন্ত্র ছাড়া অন্যরকম কিছু আসা অনেক বেশি দুরূহ। কংগ্রেস-জনতা-সিপিএম-তৃণমূল পরিবর্তন অনেক সহজ। কাজেও সোজা, ভাবতেও তেমন অসম্ভব কিছু মনে হয় না। তবু, অন্যরকম পরিবর্তন তো একেবারে অসম্ভব নয়।
  • | 127.194.15.73 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৫:১৪56278
  • দেবব্রত,
    "While eugenic motives played a role in the sterilizations, economic aspects were also important. When child allowances - monthly payments to families for each child, administered by the tax-funded national social insurance scheme - were introduced in the 1950s, the number of forced sterilizations of the "undesirable" part of the population doubled. The Swedish concept of the "people’s home", formulated in the 1930s and the most influential vision in Swedish politics..."

    আপনি যেখান থেকে সুইডেনের forced sterilization policy of disabled people and others বিষয়ে কোট করেছেন, আমি সেখান থেকেই কোট করলাম।

    লক্ষ্য করুন, ব্যাপারটা কিন্ত ১৯২০-১৯৫০ সালের। এখন এটা করা যাবে কি? মনে হয় না। আর না করার জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই যথেষ্ট।
  • dc | 132.164.88.15 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৫:২৩56279
  • ভোটকেন্দ্রিক গণতন্ত্রকে বলা হয় বেশ কয়েকটা নিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সবথেকে কম নিকৃষ্ট। কাজেই ভোট নিয়ে শাসন করা ছাড়া এখনো অবধি আমাদের বেটার আর কোন সিস্টেম জানা নেই। যদি এর থেকে ভালো ব্যবস্থা যদি আর কিছু আসে তো অবশ্যই স্বাগত জানাব।

    পুঁজিবাদের সম্বন্ধেও প্রায় একই বক্তব্য, এর থেকে বেটার কোন সিস্টেম এলে স্বাগত। পুঁজিবাদের ভালো দিকও আছে, খারাপ দিকও আছে, যেমন আর সব সিস্টেমেরই আছে, আমি কয়েকটা ভালো দিক উল্লেখ করেছি মাত্র। আর গত তিরিশ-চল্লিশ বছরে পৃথিবীর বহু দেশে বহু লোক পভার্টি সীমার ওপরে উঠেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইন জেনারাল ভালো হয়েছে। এই মজার ভিডিওটা দেখতে পারেনঃ

    https://www.ted.com/talks/hans_rosling_shows_the_best_stats_you_ve_ever_seen/transcript?language=en

    সময় পেলে পুরোটা দেখবেন, বিশেষ করে শেষের দিকের ইন্টারনেট বিষয়ে প্রেডিকশানটা।
  • debabrata | 233.191.50.86 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৬:৪১56271
  • 'মান্থলি রিভিউ'
  • PCT | 24.96.96.6 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১০:১৭56272
  • বিভিন্ন দেশ গুলোর আইন এ খুচখাচ পার্থক্য থাকলেও মোটামুটি সব জায়গায় novelty , non obviousness , utility , inventive steps ,industrial applicability এবং adequate disclosure ডেসক্রিপশন দেখা হয় জিনিসটা patentable কিনা দেখার জন্যে ।পেটেণ্ট ড্রাফট এ লিখতে হয় কিভাবে এটা আগের prior art গুলোর থেকে আলাদা । পেটেণ্ট ফাইল করার পর গ্রান্ট হবার মধ্যে প্রচুর ফেজ থাকে , competitor চ্যালেঞ্জ করে অফিস অ্যাকশন হয় , উত্তরে পেটেণ্ট examiner সন্তুষ্ট না হলে পেটেণ্ট reject হয়ে যায় ।related innovation পেটেণ্ট অফ addition ও করা যায় । এগুলো যারা পেটেণ্ট ফাইল করেন তারা জানেন ।
    http://www.ipwatchdog.com/2012/06/02/patentability-overview-when-can-an-invention-be-patented/id=23863/
    তাহলে এক ই composition এর পুরনো কম্পাউন্ড নতুন patent পাবে কি করে?
  • 0 | 132.176.27.175 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১০:৪০56273
  • - কম্পাউন্ডের নতুন ফরমুলেশন হলে পেটেন্ট পাবে
    - এক কম্পাউন্ড, এক ফরমুলার নতুন "অ্যাপলিকেবল প্রপার্টি" হলে পেটেন্ট পাবে

    এ'নিয়ে প্রচুর কোর্ট কেস আছে। একটা লিং দিলাম।

    "...the court generously encouraged chemical patent applications as long as a claimed invention could demonstrate new properties even though the claimed compound shared a similar structure with a prior art compound..." - http://michaelguth.com/pharmaceuticaleconomics/ChemicalCompounds.htm
  • 0 | 132.176.27.175 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১০:৫৭56274
  • লেখাটা পড়লাম। বেশীর ভাগটা সংসদীয় ব্যবস্থার আর পাঁচটা বামপন্থী সমালোচনার মত হলেও কিছু কিছু জায়গায় একটু আলাদা। কিছু নতুন ইনফো পেলাম।

    কয়েকটা জায়গায় একটু খটকা লেগেছে। যেমন -

    ১) "...এই দুর্বলতা গণতন্ত্রের বর্তমান ব্যবস্থার রক্তের মধ্যে প্রোথিত..." , "...ভেতর থেকে রিফর্ম যে অসাধ্য তা প্রমাণিত..."

    - এ'কথার পাশাপাশি আবার এটাও লেখা হয়েছে -

    "...সময়ের দাবীতে , সমাজের সম্পদহীন সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবংসম্পদশালীদের সংখ্যালঘু অংশের দ্বন্দ্ব ,মহিলাদের ভোটাধিকারের দাবীতে আন্দোলন ,আফ্রিকান অ্যামেরিকানদের ভোটাধিকারের দাবীর আন্দোলন এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সার্বজনীন মান্যতার কথা মাথায় রেখে ধীরে অতি ধীরে ইউরোপের গণতন্ত্র ১৯৬৫ সালে এসে সার্বজনীন ভোটাধিকার স্বীকার করেছে..."

    - তার মানে, দুর্বলতা গণতন্ত্রের বর্তমান ব্যবস্থার রক্তের মধ্যে প্রোথিত নয়।
    ভেতর থেকে রিফর্ম যে অসাধ্য তা প্রমাণিত হয়নি। বরং ইতিহাসে এর উল্টোটাই প্রমাণিত হয়েছে।

    ২) কিছু কথা যেমন, "দণ্ডমুণ্ডের কর্তা" , "নিরঙ্কুশ শাসকের অধিকার" , "কোম্পানির আসল মালিকানা " , "মাই বাপ" , "আপামর বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছেন "

    - এ'ধরনের, মানে, স্ট্রং ফিগারেটিভ্‌ শব্দের ব্যবহার এই লেখাটার জন্যে, বা এরকমের লেখার জন্যে অদরকারী মনে হয়েছে। একটা কারণ হলো যে, এগুলো বক্তব্যের যুক্তির ধার/জোর বাড়ায় না।

    ৩) মূল লেখাটায় নানান জায়গায় ছড়িয়ে আছে, বিশেষতঃ পরের মন্তব্যে একসাথে একজায়গায় গুছিয়ে লেখা রয়েছে -

    "...ভোট দিয়েই প্যারী কমিউন ছিল , এমনকি রাশিয়ার ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সালের শেষ পর্যায় পর্যন্ত সোভিয়েত ছিল ভোটেই ,স্পেনের চার বছর ছিল ভোটেই ,২০ বছর ধরে মেক্সিকো তে যাপাতিস্তা আছে ভোটেই এবং গত ৪০ বছর ধরে PKK,এবং সেই সংগ্রামের ফল স্বরূপ বর্তমানে রোজাভা আছে যেখানে গণতন্ত্র নিচের স্তর থেকে ভোটের মাধ্যমেই উঠে আসে..."

    - এ'সবও তো প্রকারান্তরে ভোটতন্ত্রের নানান রূপ। মানে, শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকেই কেন ভোটতন্ত্র হিসেবে সমালোচিত হতে হচ্ছে?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.192 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১১:৩১56275
  • o ধন্যবাদ আপনি লেখাটি পড়েছেন লেখাটি সম্বন্ধে

    1। ভোট এথেন্সে ছিল - জনতার ভোট , কাউকে যদি দেশ থেকে তাড়াতে হয় তো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত দরকার , পরবর্তীতে হোল - ' প্রতিনিধিত্ব মূলক ' গণতন্ত্র অর্থাৎ ভোটে আমরা প্রতিনিধি নির্বাচন করব এবং তারা নির্ণয় নেবে - যেমন এখন নেয় । এইবার এই ব্যবস্থার প্রথম থেকেই নারী , অপ্রাপ্তবয়স্ক , আফ্রিকান অ্যামেরিকান , শ্বেতাঙ্গ অথচ সম্পদহীন , মানসিক অসুস্থ , জেলের কয়েদি দের বাদ দিয়ে যে নির্বাচক মণ্ডলী - তা দেশবাসীর অতি নগণ্য অংশ । এইবার এই নগণ্য অংশ প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আরো ক্ষুদ্র অংশের মাধ্যমে সারা দেশে শাসনের যা অধিকার তা আদতে সংখ্যালঘুর সংখ্যাগুরুর প্রতি শাসনের অধিকার । তা কিন্তু অল্পসংখ্যকের ভোটে দেশ শাসনের লেজীটিমিসি ।

    2। ভোটের আমি বিরোধিতা করিনি - এই 'প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র'' র নামে ভোট তন্ত্রের বিরোধিতা করেছি উপরে বর্ণিত কারনে , যেমন রোজাভার উদাহরণে - জনতার ভোট ,এবং সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে শাসন । যেখানে জনতার অধিকার আছে তাদের সিধান্ত যদি প্রতিনিধি পালন না করে প্রতিনিধি তাকে যে কোন সময়ে পাল্টে দেওয়ার । প্রত্যক্ষ ডাইরেক্ট গণতন্ত্র - এথন্সীয় মডেলের অধুনিক রূপ , ১৯১৮ এর শেষের দিক পর্যন্ত একই মডেল সোভিয়েত রাশিয়াতেও ছিল - কারখানার শ্রমিক এবং সোভিয়েত নিজেরা নিজেদের বিষয়ে সিধান্ত নেওয়ার অধিকারী ছিল , কোন ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিন্ধান্ত নয় ।

    3। ধরুন দেশ বাসী শান্তি চায় -কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি চায় যুদ্ধ - এথেন্স হলে - জনতার দরবারে সেই সিধান্ত পাস করাতে হোত কিন্তু বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে একা বুশ ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চলে যেতে পারে । আমরা তাকে ৫ বছরের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি ,এবং তাও স্বল্পসংখ্যকের ভোটে ।

    ' স্ট্রং ফিগারেটিভ্‌ শব্দের ব্যবহার এই লেখাটার জন্যে, বা এরকমের লেখার জন্যে অদরকারী মনে হয়েছে। একটা কারণ হলো যে, এগুলো বক্তব্যের যুক্তির ধার/জোর বাড়ায় না। ' আপনি ঠিক বলেছেন , লেখকের দুর্বলতা , ভবিষ্যতে সতর্ক থাকব ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.116.192 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১১:৫০56276
  • O ' The world was shocked by the recent news of a skeleton in Sweden’s closet, the country’s forced sterilization policy of disabled people and others who were not found to be worthy to have children." " The sterilizations were fully legal according to the laws of the time." সুইডেন এইরকম দেশবাসী কে ধরে sterilise করে দেওয়ার আইন প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কারনেই পার্লামেন্টে পাস করতে পেরেছে ।
  • রৌহিন | 113.42.126.227 (*) | ১৮ মার্চ ২০১৬ ০৫:৫৯56280
  • বেশ দেরী করে পার্টিসিপেট করায় আলোচনাটা পুরোটা পড়তে একটু সময় লাগলো। অনেক কথা উঠে এসেছে - যুক্তি এবং প্রতিযুক্তি। কিন্তু মাঝখানে dcদার একটা কথায় চোখ আটকে গেল - অথচ সেটা নিয়ে আর কোন আলোচনা দেখলাম না। কোট করি -
    ""আমি আমাদের দেশের জঙ্গল /পাহাড় দখলের উধাহরন দিয়েছি" - আমি ন্যাচারাল রিসোর্স মানুষের কাজে লাগানোর পক্ষে। তবে ভারতে ক্রোনি ক্যাপিটালিজম এ ভর্তি, এটা ঠিক বলেছেন। কম্পিটিটার বাড়ইয়ে এইসব রিসোর্স আরো বেশী এফিসিয়েন্টলি ইউটিলাইজ করতে পারলে আমি কোন আপত্তি করবনা।"
    কম্পিটিটর বাড়লে এই সব রিসোর্স আরো "এফিসিয়েন্টলি" কিভাবে কাজে লাগবে dcদা? ক্ষতিপুরণ বেশী আসবে? প্রাকৃতিক সম্পদ তোলার জন্য, বন জঙ্গল ধ্বংস করার জন্য আদিবাসী শ্রমিকেরা আরেকটু বেশী মজুরি পাবেন? তাদের বাসস্থান, পরিচিত রুজি হাওয়ায় মিলিয়ে দেবার জন্য আরো লিউক্রেটিভ প্যাকেজ আসবে? "দেশের কাজে লাগানোর"র জন্য আরো বেশী ট্যাক্স সংগ্রহ হবে? এবং এসবের সঙ্গে আরো এফিসিয়েন্টলি এই সব জঙ্গল, জলাভূমি, বাস্তুতন্ত্র একটু একটু করে, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে?
    ন্যাচারাল রিসোর্স কাজে লাগানোয় মানুষের এফিসিয়েন্সির অভাব আছে বলে শুনিনি। ওভার এফিশিয়েন্ট বলেই আমার ধারণা।
  • | 127.194.1.220 (*) | ২১ মার্চ ২০১৬ ০৪:৩৮56281
  • রৌহিনকে ক।
    "ন্যাচারাল রিসোর্স কাজে লাগানোয় মানুষের এফিসিয়েন্সির অভাব আছে বলে শুনিনি। ওভার এফিশিয়েন্ট বলেই আমার ধারণা।"
  • dc | 132.174.185.194 (*) | ২১ মার্চ ২০১৬ ০৪:৫৬56282
  • রৌহিনের পোস্ট আগে দেখিনি, দুঃখিত।

    "কম্পিটিটার বাড়ইয়ে এইসব রিসোর্স আরো বেশী এফিসিয়েন্টলি ইউটিলাইজ করতে পারলে আমি কোন আপত্তি করবনা"

    এটা বুঝতে, বা আমার লিখতে, বোধায় ভুল হয়েছে। কম্পিটিটর বাড়লে ন্যাচারাল রিসোর্স বেশী এফিসিয়েন্ট্লি ইউটিলাইজ হবে এটা বলতে চাইনি, মানে বাক্যের প্রথম আর দ্বিতীয় অংশের মধ্যে কসাল রিলেশন ইম্প্লাই করতে চাইনি। কোন ইন্ডাস্ট্রিতে কম্পিটিটর বাড়লে মনে হয় বেটার, আর রিসোর্স আরো এফিসিয়েন্টলি ব্যবহৃত হলে (বা অপটিমালি ব্যাবহৃত হলে) বেটার। এই দুটোর মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে রিলেশন থাকলেও (কম্পিটিটার বাড়লে কখনো কখনো রিসোর্স ইউটিলাইজেশন আরো অপটিমাল হলেও) সবসময়ে যে সেরকম হবে তা নয়।

    "ন্যাচারাল রিসোর্স কাজে লাগানোয় মানুষের এফিসিয়েন্সির অভাব আছে বলে শুনিনি। ওভার এফিশিয়েন্ট বলেই আমার ধারণা।"

    এটার কিন্তু বিরোধিতা করলাম। এনার্জির দিক থেকে দেখলে সব রিসোর্স ইউটইলাইজশনেই আমাদের ভয়ানক ইনএফিসিয়েন্সি। (কিন্তু আপনি বা জ বোধায় এই সেন্সে বলেনই, তাই না?) এফিসিয়েন্সি বাড়ানো আর ওয়েস্ট মিনিমাইজেশন, দুটোই ক্লোজড ইকনমির গোল। ভবিষ্যতে ক্লোজড ইকনমির দিকে এগোতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু সেখানেও ন্যাচারাল রিসোর্স এক্সপ্লয়েটেশন থাকবেই।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন