এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব

    pi
    অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ | ৮৭৮২৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Soumyadeep Bandyopadhyay | ২৪ মার্চ ২০১৫ ২১:০৬507364
  • সামনের বাড়ীতে দু দুটো বটগাছ থাকে
    সব কুশল তো ? ভয় পাওনি তো ঝড়ে?
    এই বলে জল হাওয়া বিনিময় করে

    এক আকাশে দুই সূর্য অসম্ভব হলেও
    গাছেদের সহাবস্থান এক চির প্রশ্নাতীত খেলা
    তবে এটাও জেনে রাখা ভালো একদিন এরাও প্রতিদ্বন্দী ছিল
    তখন ওর শিরা ছিঁড়লেই, এর ভাগে আরো রোদ
    এর হাপর থামলেই, শিকড়ে ও ইঁটে অধিকার বোধ
    মেঘেমেঘে এভাবেই গড়িয়েছে বেলা

    অবশেষে, ভবিতব্য মেনে যুদ্ধ অবকাশ
    দুজনের মুখো মুখি বসবাস
    একটি স্বাভাবিক মৃত্যু ও অবশ্যম্ভাবী একাকিত্ব
    কামনায় এক শীত থেকে অন্য শীতে
    সময়ের পাতা ঝুরো হয়ে আসে
    ছড়িয়ে পড়ে বাড়ীর পাঁজর জুড়ে, আর
    শ্যাওলা পাথর জমতে থাকে স্রোতের বিপরীতে
  • ফরিদা | ২৮ মার্চ ২০১৫ ০০:২৩507365
  • কখনো শোনাব তোমায় কীভাবে
    মেঘেরা জমেছে এতকাল;
    একে একে ধুলিকণা কিছু উড়ে উড়ে খেলা করেছিল - তার কিছু বাষ্প সওয়ারি হয়ে ভাসতে শিখেছে।
    একদিন হয়ত শোনাব নির্জন রাজপথে একা একা আলোগুলো ঠিক কোন কোন কথা বলাবলি করে।
    একদিন আরো, যদি অনুমতি করো, তোমাকে দেখাব আমি আকাশের দূরতম নক্ষত্রটির আলো কত কত বছর ধরে বেড়াতে এসেছে শুধু পৃথিবী দেখবে বলে। চিলের ডানায় বসে একদিন শিকারে বেরোব। একদিন ট্রামে। একদিন আরো একদিন (যদি পাই) চিড়িয়াখানায়, স্কুলে, বাজারে টাজারে নিয়ে যাবো।

    এইসব বলি, ভাবি, একদিন তোমায় বলবো।
  • Nina | ২৮ মার্চ ২০১৫ ০৭:১৩507366
  • দারুণ
  • শ্ব | ২৯ মার্চ ২০১৫ ০১:৫৫507367
  • রন্ধনপ্রণালী #৩
    __________

    মধ্যরাত্রে একডজন খোসাসুদ্ধু ডিম কুকারের জলে মিনিট পনের সেদ্ধ
    করুন ও কুকারটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে কমোডের পাশে রেখে টয়লেট
    শাওয়ার দিয়ে জল ঢেলে ঢেলে ডিমগুলি ঠান্ডা করে বাগদানের আংটি
    দিয়ে ঠুকে খোলা ভেঙ্গে নখ দিয়ে খুবলিয়ে ছাড়ান এবং ফ্রাই প্যানে হলুদ
    ও শুকনো লঙ্কার গুঁড় মাখানো ডিম ও খোসা ছাড়ানো অদ্ধেক করে কাটা
    দুটি মাধ্যমিক আলু বেশ বাদামী করে ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখে পেয়াঁজ
    গোটা গোলমরিচ গরম মশলা গোটা চোদ্দ নধর কাঁচালংকা চারটি টমেটো চিরে
    দিয়ে কম আঁচে ঢাকা দিয়ে দিলে জল বেড়িয়ে জল শুকিয়ে ভেজে উঠলেই
    আদা রসুন বাটা দিয়ে একটা সিগারেট ধরান ও শেষ হতেই ভাজা ডিম ও
    আলু তার ওপর ছেড়ে আরও গোটা পাঁচেক কাঁচালংকা চিড়ে দিয়ে উল্টেপাল্টে
    ঢাকা দিয়ে দিন ও মাত্র আরেকটি সিগারেট ধরিয়ে ব্যালকনি তে এসে দাঁড়ান।
    জল দিতে ভুলে যাওয়া গাছেদের বলুন কাল থেকে বেশ, ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে
    ফোন করে জানান ডিমেজ্ঝোল বানালুম তুই কী খেলি সে ঘুমচোখে জবাব দিক : ম্যাগি । ।
  • শ্ব | ৩০ মার্চ ২০১৫ ০৪:২৮507368
  • শূন্যমিদম
    ~~~~~~

    দাঁত দিয়ে বত্রিশ টা আঙ্গুলের নখ কেটে
    ঘরময় থুথু করে ফেলি আয়নায় গজাল ঠুকি চোখে
    চোখ রেখে দর্জায় লাথি মারি তোষকে আরশোলা ছেড়ে
    মজা দেখি শুয়ে শুয়ে বুকে উঠলেই খুব পিষে দিয়ে চিনিপোড়া
    গন্ধ নি ডাইনিং টেবিল তুলে ছাদে ছুঁড়ে মারি পাখার ব্লেড বেঁকিয়ে
    পদ্মফুল করে ঘ্যাঁক ঘ্যাঁক করে হাসি ওয়াশ বেসিন ধরে ঝুলে পরি খুলে
    ফেলি ড্রেনের পাইপ গ্যাসের সবুজ খুলে ঘরময় হুহু হুহু করি উদুম
    আগুন ওয়াশিং মেশিনে সব লেপ কাঁথা বালাপোষ ঢেলে বেদম প্রস্রাব
    করি আলু ও টম্যাটো ছুঁড়ে আলো ভাঙ্গি ব্যালকনি বেয়ে নেবে খুলে নি
    রেইনপাইপ সমস্ত পড়শী দের ধাওয়া করি সামনে এলে কেঁই খেঁই মার
    অন্ধকার গলি দিয়ে দেয়াল বাগান যত স্টোনচিপস বাম্পার দোকান
    ছ্যাতাক্কার করে ভাঙ্গি উপ্রে জ্বালিয়ে সব আমার চলার পথে ছাই কেন পথ ও থাকেনা
    অতঃপর ঘুম পেলে এককোনে ঘাড় গুঁজে একটু ঘুমুই, যেমন অলর্ক রাজা ঘুমে ছিলো অভিজ্ঞান ভুলে। ।
  • শ্ব | ৩০ মার্চ ২০১৫ ০৫:৫০507369
  • দ্বিতীয় হুহু অতিরিক্ত পরে গেছে। গলতি মাফ কোরবেন।
  • ফরিদা | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:৫৩507370
  • অনিচ্ছুক ইচ্ছে

    বৃষ্টি তোমার ইচ্ছে মতো
    ঝরছে যখন দু-হাত আকাশ
    হাতড়ে মরে হরেক ছুতো

    কখনো গাছ হতে ইচ্ছে করে, কখনো সাপ লুডোর ঘুটি। কখনো সন্ধে আসে, কখনো বৃষ্টি হয়। কখনো শুধু চুপ থাকতে ইচ্ছে করে। আকাশ থেকে যেমন আস্তে আস্তে রং মুছে যেতে যেতে যেতে যেতে সাদাকালো হতে থাকে চুপচাপ। ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে তুলোর বীজের মতো, হাওয়ায় হাওয়ায় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে আটকে থাকা অনিশ্চিতে।

    এমনিতে আরো আরো ইচ্ছেরা লাইন দিয়ে আসতে থাকে একে একে। বিনা পরম্পরায় বিনা কারণে হয়ত। তাদের সবকটা কে এখনো চিনি না। কোনো ইচ্ছেপুরণ হয়ে গেলে সেটায় ঠিকঠাক সেঁটে থাকব কিনা, কিম্বা কতদিনের জন্য সেটাও আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। ইচ্ছেরা গাড়ির লাইন লাগায় একে একে আসে – দ্যাখে - আমি উঠব কিনা সেই গাড়িতে – আর ফিরে যায়। সামনে এসে গেলে অত ভালো লাগে না তাদের প্রায়শই। দূর থেকে আসতে থাকা ইচ্ছে দেখতে বেশ লাগে। এক একটা ইচ্ছে আসে বাকি তার সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে – কেউ একা। যেন নেমন্তন্ন বাড়িতে এসে কাউকে তেমন চেনে না, অফিস থেকে সোজা এসে হাজির হয়েছে সাদামাটা কাপড়জামায়। কুন্ঠিত। কোনোমতে হাতের খামটা গুঁজে দিয়ে ফার্স্ট ব্যাচে খেয়ে নেবে অল্প দেঁতো হাসি খরচ করে। একা একা পেট ভরে খাবে। প্লেটে একেবারে নিয়ে নেবে একপিস মাছ, দুটো ফ্রাই, একটা বেবি নান, কিছু মটর পনীর আর বিরিয়ানি। ফ্রাইয়ের মাস্টার্ডে বিরিয়ানি মিশে গিয়ে খোলতাই ব্যাপার হবে খুব। তাও সব খেয়ে নেবে সে। তারপর আইসক্রিম নেবে। পান নেবে দুটো, একটা খাবে, একটা পেপার ন্যাপকিনে মুড়িয়ে অফিসের ব্যাগে ঢোকাবে রাতে ঘুমোনর আগে খাওয়ার জন্য (আর সময় কালে ভুলে যাবে)। নেমন্তন্ন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফাঁকা রাস্তায় বেড়িয়ে হুব ভালো লাগবে তার। এই সময়্টায় ঠিকঠাক খিদে পায় তার ভাবতে ভাবতে একটা স্টপ এমনি এমনি হেঁটে গিয়ে পরের স্টপ থেকে শাটল অটোতে স্টেশনে যাবে সে।

    এমন ইচ্ছে এলে – তার অনিচ্ছাতে পেয়ে বসতে ইচ্ছে হয় খুব।
  • শিবাংশু | ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ০০:২২507371
  • নিতল
    ----------

    যখন বৃষ্টি পড়ে, তখন শুধু ধুলোদের জন্য দুয়েক অক্ষর লিখে ফেলি। তুমি কি আমার মোরমপাতা শালবাংলোর জলভাসি আঁকাবাঁকা পাকদন্ডি পথ। রাজপথে বড়ো রোদ। ট্রামডিপোর পাশে কদমগাছের পাতায়, ট্র্যাফিকপুলিশের খুলে রাখা হেলমেটে, মর্মর মূর্তির ডানহাতে তলোয়ারের উপর রোদ ঝিমঝিম। ওখানে তোমার সঙ্গে দেখা হয়না। অথচ হলুদ ফুলিয়ার শাড়ি আর সবুজ পাড়ে মাথাঢেকে তুমি হেঁটে যাচ্ছো পার্কের ছায়ায় ছায়ায়। তোমায় দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু দেখা হওয়া? এপিসোডটি অপেক্ষা করবে উপন্যাসের পরবর্তী অধ্যায়ে। শেষরাতে শিশির এখনও চুপচাপ দু'চার ফোঁটা। ঘুম ভেঙে জানালার ওপারে গলফখেলার মাঠ। তুমি কি লালজামায়? তেষ্টা জাগে, ঘুমের মধ্যে কিছু অসহায় জেগে ওঠা। শেষ লোকালের ভাসা ভাসা হুটারের ডপলার এফেক্ট। রাত হলো।
  • Tim | ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ১২:১৩507372
  • পাহাড়
    ----------

    সেই ভিজে রাস্তায় পড়ে থাকা অর্ধস্বচ্ছ হলুদ পাতাটির জন্যে, বুটি বুটি পিচের দাগের মধ্যে জেগে থাকা। সেখানে নীলচে ফুলের মধ্যে কুয়াশা ঘন হয়ে ফুটে উঠছে, ভিজে জঙ্গল থেকে চুঁয়ে আসছে আলো, নীচে কয়েক ধাপ নামলেই ব্যাবিলনের ঝুলে থাকা বাগান আর মেঘ করে আসছে। যেখানে রাত বসে আছে দরকারে মশারি টাঙাবে বলে, যেখানে দিন ফুরিয়েই শুরু হয়, যেখানে নদীর মত হাওয়ার মত ছুটির মত সময় ...সেখান খুব বৃষ্টি পড়ছে এখন। জলে ধুয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিক আরো নোংরা হচ্ছে সিগারেটের ভেজা ফিল্টারে, অন্ধকার ঘুপচি কিন্তু সুন্দর পুরোনো গন্ধওয়ালা দোকানগুলোর বাইরে লোকেরা গল্প করছে আর ভেতরে মূর্তিগুলো এ ওর দিকে চেয়ে হাসি ঠাট্টা আর কেচ্ছা। কোথাও লম্ফো জ্বলে উঠলো আর কারেন্টটাও সময় বুঝে অফ, এর মধ্যেই সোয়েটার চাদর নিয়ে কি একটা চিবোতে চিবোতে বসেছে পসরা। উঁচু সিলিং এ নোনা ধরা ভেজা ভেজা দাগ, সেখান থেকে কেউ ঝুলে পড়েছিলো কিনা ভাবতে ভাবতেই মন ভালো করা আলো মেঘের থেকে নামে, আর বারান্দার একপাশ থেকে উঁকি দেয় ফোকলা মালি। তার সন্তান আজ প্রথম স্কুলে গেল। যে কাদাভরা ভাঙা রাস্তায় তার পায়ের ছাপ পড়েছে, যে চিলতে মাঠের মত পাথুরে জমিতে বন্ধুদের সাথে খেলে ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে যায় তার, সেই মেঘ কুয়াশা ভরা জল জমা অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে কিন্তু ছুটির মন ভালো করা রাস্তাটির দিকে চেয়ে বসে আছি। আর ঝাপসা বারান্দায় একে একে আলোর ফুটকি জেগে উঠছে।
  • ফরিদা | ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ১৯:১১507374
  • ছেঁড়া ঘুড়ি জুড়ছিল সে পোষা পায়রা দেখে

    ডেকে এনে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে পিঠে বুকে

    কিছু পরে উড়ছে ঘুড়ি সোজাসাপটা উড়ান

    পায়রাটি মুখ থুবড়িয়েছে পড়লে ডানায় টান

    আঠাতে কেউ ডানা মেলছে আটকে গেল কেউ

    বালির বাঁধে চাঁদ পড়লেই আছড়ে পড়বে ঢেউ।
  • শিবাংশু | ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৩১507375
  • ডাকনাম
    -----------

    ঝড়ের ডাকনাম তামাদি হয়ে গেছে। সে এখন তোমার নামেই সাড়া দেয়। ঐ দূর কাটজুড়ি নদীর পূর্বপারে ঘন হয়ে জল জমে। তার মেঘ, গলন্ত স্লেট। ঝিরঝির। তার একফোঁটা দু'ফোঁটা হয়ে তুমি পৌঁছে যাচ্ছো আমার বারান্দায়। সামনে নারকেল গাছে পাতা দোলে। অসংখ্য সবুজফলের উজ্জ্বলত্বকের মতো জেল্লা তোমার রোদবাঁচানো গাল ও চিবুক। একটা মন্দির আছে। একটা বটগাছ আর নিত্যদিন কর্পূরধুনোর গন্ধ। তোমার রুক্ষচুলে তার ধোঁয়া। বটের ঝুরির টানে কাঁসর ঘন্টা আর দেবীর অন্ধ চোখ। এখানে বলি'ও হয়। অমাবস্যা যেদিন, জল টানে না-দেখা চাঁদের তীব্র সাধ। সেই সব রাতে তুমিও হাত বাড়িয়ে খোঁজো, খুঁজে যাও বালিশের ওপারে ঘড়ি। কতো রাত হলো? ডাকনাম ভুলে যাওয়া তুমি অস্থির হয়ে খুঁজে যাচ্ছো পাসওয়র্ড। তোমার আকুল প্রার্থনা আর ধূসর কর্টেক্স। সব ছেঁড়া স্মৃতি, লাল টুকটুকে পাপড়ি, সারি বাঁধা কৃষ্ণচূড়া অ্যাভেনিউ। তুমি কি গ্রহণে ইচ্ছুক? ধুলোট কাগজে লেখা ডাকনাম। দিতে পারি? ইনবক্স ....আজ তো পূর্ণিমা ....
  • শিবাংশু | ১১ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৩২507376
  • চলো
    ---------------------

    ঘুম পেলে কৃষ্ণচূড়া পাখিদের পাশে শুয়ে পড়ে। অন্ধকারে কী সবুজ কী লাল সবই চাঁদঝরা শবনমগুঁড়ো। লোহাখাদান খুব দূরে নয়। তুমিও শুয়ে রয়েছো মেঘাতু বাংলোয়, ঠিক তার নীচে। পাহাড়ের খাই আঁকড়ে আরো দীর্ঘ হয়, বেড়ে ওঠে অথৈ শাল্মলী। রাত জেগে কখনও শুনেছো অন্ধকারে আর্থমুভারের ঘুমপাড়ানিয়া। সারাদিন মাটি কাটে। রমণে রমণে ধ্বস্ত মাটির লালিম টর্সো। যতো কথা শুধু রাতে মাটি আর লাল বুলডোজার। ক্লান্ত শোভেলের দাঁতে নাছোড় জড়িয়ে মাটি আধোয়া। ইহা কি বিবাহ? জানো, আজকাল দেশলাইগুলো ভেজা থাকে। অচেতন ফুলকির দল কী খোঁজে? লুটের বাতাসার মতো চাকরি না চই চই হাঁস। তুমি কি চাকরিতে আছো? এই নোনা হাওয়া, এই শীত কুয়াশার লেপকম্বল আর চুলের গন্ধ। এবার মৃত্যু হলে কী রকম চাকরি ভেবেছো নেক্স্ট বার্থ? কামাল হোসেন বলেছে কক্সবাজারের দিকে বহু দ্বীপ আছে। সুজলা নৌকো’ও যায় দু'বেলা। ওখানেও কৃষ্ণচূড়া গাছে বহু পাখি। ওখানেও চাঁদ, ওখানেও চাকরি, ওখানেও ভোর হলে সারি সারি ট্রাক ও ট্রেলার নিঃশব্দে সমুদ্রে নেমে যায়। পিছু ফেরা নেই। যাওয়া যায়, নিশ্চয় যাওয়া যায়। চলো....
  • ফরিদা | ১১ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৫২507377
  • এই সিঁড়িটা উঠছে নাকি নামছে আবার ডাঙায়
    এই রাস্তা ছোটায় যদি ঐটি আবার থামায়
    যেখান থেকে ইচ্ছে আসে, চাল গম ডাল বারোমেসে
    তার বাইরে কেউ একজন সূর্য ওঠায় নামায়
    ঘুরে ঘুরে উঠছে সিঁড়ি নিজের কাপড় জামায়।
  • sosen | ১১ এপ্রিল ২০১৫ ১৯:৩৯507378
  • কখনো সন্ধ্যা আসে কখনো বিনুনি খুলে
    বারান্দায় দাঁড়ায় স্বজন
    কখনো দূরের থেকে কখনো কানের পাশে
    তীব্র বাজে লাউড্স্পিকার
    শনিমন্দিরের সিঁড়ি জুড়ে
    একশো আট মোমবাতি পঞ্চবটি জ্বলে শেষ হয়
    মেঘলা হাওয়া দিলে কাপড় তুলতে এসে
    সন্ধ্যারানী মাথায় ঘোমটা টেনে মৃদু গুনগুন
    এখনো দূরদর্শনের খাদে দু একটা আগুনের মতো
    ছবি পোড়ে। কয়লার আঁচে
    বিকেলে গোছার পরে আরো গোছা গোছা রুটি সেঁকে
    অনন্ত হোটেল। আমার দেশের গন্ধ লাল আটা

    ঝোপের রাঙালু আর বাগুইআটির মোড়ে
    হঠাৎ কার্যহারা রোগা পাগলিনী
    ট্রাফিকের জট ছেড়ে গিয়ে উদ্ভ্রান্ত। বুকের পাঁজরে ধাক্কা দিয়ে
    মফস্বল বলে যায়,

    মরে যাচ্ছি, ওদেরকে কাইন্ডলি দেখো
  • শিবাংশু | ১২ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৪৩507379
  • চেনা
    ------------
    ফরাসডাঙা নামে একটা নদী ছিলো। তার পাশে ভাগীরথী শহর। নদী'তে বজরায় বেড়াতেন মহর্ষি নামের এক জমকালো হিরো। তাঁর পুত্র নয়ন শুনিয়ে পাঁচশো রাণীছাপ পার্চমেন্টের টুকরো, প্রযত্নে ব্যাংক অফ বেঙ্গল। আমি তাঁর গান মাঝে মাঝে গেয়ে থাকি। ঠিকঠাক হয় কিনা সেটা নিয়ে এখনও হল্লা গুমশুম।খজাঞ্চির খাতায় কোনও দাগ নেই। শোনো, তোমাকে একদিন নিয়ে যাবো মোরানসাহেবের বাংলো। বেশিদূর নয় সেই মেঘমহাফেজ। আমি প্রায়ই যাই। ঢালু লালটালি আর ফিরিঙ্গি ঘরদোর। একটা বাদামগাছ পিছনদুয়ারে। ব্রীড়াময় নবপত্রালিকা। সবুজ ঢালাই বেঞ্চি লতাপাতা কাটা। ছবিটা কেমন লাগলো পোস্টকার্ডে লিখো। আজকাল কেউ তো লেখেনা। আজকাল তুমিও শুনেছি স্ক্রিপ্ট দেখে পিয়ানো বাজাও। আমাকে শুনিও একদিন। নদীটির পাশে স্ট্র্যান্ড। চূড়াবাঁধা কৃষ্ণ ও রাধা সারে সারে মহালিমরুপ। জল আর ঢেউগুলি মাটি থেকে অন্তরীক্ষ পথে। এখানে মহর্ষির ছেলে কানে কানে একদিন। চিনিলে না আমারে কি? বহুদিন এইভাবে গেলো। আর নয়। তোমার নিসর্গ দাও প্রিয়ে। আমি ক্যামেরা এনেছি।
  • শিবাংশু | ১৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৪৪507380
  • চৈত্র'তমাম
    --------------------
    হে গতবছর, তুমি কি উৎসন্নে গেছো? তবে আমার নৌকোয় এসো। ঋণ নিয়ে অভাগীর স্বর্গ লিখেছো কখনো? বাসনায় ভস্ম লোশন দিয়ে আগুন মুছেচো গ্র্যানাইটে? যাবে, তাই অন্য চশমা পরেছিলে। যার কাচ কিছু ধূসর। আগুনে পোড়েনা। হঠাৎ মাচার থেকে একরাশ তমিস্রা, মানে অন্ধকার ঝরে আঁধার করেছে। কী ভেবেছো, জুড়িগাড়ি সওয়ার নিয়ে রেডি। ব্যথাবেদনার দিন শেষ। পূর্বমেঘ ভেবে দেখো। বিনিদ্র উৎসবরাতি কাটিবে বিরহ শয়নে। উৎসন্নে গিয়ে দেখো, তৃতীয় উল্লাসে শান্তিজল। যে অহং নিয়ে গুহাবন্দি হতে হলো প্রিয়তমে ডোম্বিনী আমার, তার কথা ভুলে যাবে? মনে রেখো বিকল্প খুব মাপা। সকালের কান্নারব বিকেলে স্তব্ধ মেঘমালা। এসব খেয়াল রেখো। আমার নৌকোয় আজ বহাল হয়েছে ঈশ্বর পাটনী। কমল ও কামিনী নিয়ে আমার সংসার। যদি যেতে চাও, তৈরি থেকো। শাকপাতা, ধানচাল, কাঁঠাল ও সিন্দুক। যাহা আছে নিয়ে যাবে উৎসন্নপুর। নয়তো সোনার ধানে ভরে যাবে সব খালি স্পেস। কূলে একা বসে রবে... শুধু নাহি নাহি।
  • Anupam Das Sharma | ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ১৮:১৭507381
  • দাগ....

    হঠাৎ ভেসে ওঠা ছিল কি দরকারি
    ডাকিনি একবারও করিনি হারাকিরি

    ধূলোয় ঢাকা নাম যা ছিল নীলখাম
    আনোতো এখনই দুহাতে দু'জনে ছিঁড়ি

    কাঁধের জরুলটা ওটা কি একই আছে
    কোমরের ফোস্কাটা ওটা তো বসে গেছে

    এখনও হাইকোর্টে বিকেলে আসো কি
    জানতে চাইলে না দুপুরে খাই কী?

    যে 'সই' দিয়েছিলে যত্নে আছে সে ও
    ওষুধপত্র কিন্তু ঠিকমত খেও

    ফেরী ঘাটের কাছে উঁচু জায়গাটা
    দাঁড়ায়না কেউ আর, বলেনা আসি টা টা

    এখন করি ভুল ভয়ও পড়েছে কেটে
    উড়নচন্ডী লেবেল দিয়েছে অনেকে সেঁটে

    তুমি কি এখনও শব্দে ভেসে থাকো?
    রাত্রে আজও কি অঘোরে কাউকে ডাকো

    দেখেছ, করছি একাই বকবক
    জানতো এটাতে নেই কোন ছক

    বল না এখনও গোলাপ দিবসে সাজো?
    কামড়ের দাগটা মুছতে পেরেছো আজও !
  • Anupam Das Sharma | ১৬ এপ্রিল ২০১৫ ২০:৩৯507382
  • বেওয়ারিশ লাশের মত পড়ে রয়েছে শহর
    না দেখে পেড়িয়ে যাচ্ছে বহু মণীষির ছায়া

    আমরা ঘুমোচ্ছি যে যার শামুকের খোলে
    মনুষ্যত্ব শব্দটাই আজ চরম বেহায়া

    রক্ত ঝরছে যাঁর জল খোঁজে না পানি
    বেয়াক্কেলে বাঙালিকে মহাজ্ঞানী মানি
  • মোহর | ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ০৫:২৪507383
  • আদ্যন্ত প্রস্তুতি ছিল তবু কিছু বিবর্ণ কাহিনী
    গড়ে উঠে এলোমেলো অকস্মাৎ ভেঙ্গে দিল খেলা
    অর্ধাঙ্গ মলিন হলো বাকি কায়া স্বপ্নসম বলি
    জানো তো কী উচ্চারণে অর্ধমাত্রা বাকি পড়ে থাকে

    অথচ বিবর্ণ দেশে আমি আর নামমাত্র আমি
    বাকি যা তা অন্য কিছু, অস্পৃশ্য, অচেনা, অপর
    আমার আঙ্গুল শেষে শুরু হয় মোহান্ধতামসী
    কালো বিস্মরণ শেষে, শেষ রাতে, একলা বৈশাখ
  • Tim | ২০ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:৩২507385
  • অবতার সিং পাশের কবিতা পড়তে পড়তে একটু অনুবাদ করতে ইচ্ছে হলো। খুবই চ্যালেঞ্জিং লাগলো কাজটা, কবিতার অনুবাদ তো হয়্না, সে যাহোক। এটা "সবসে খতরনাক হোতা হ্যায় হামারে সপনো কা মর যানা" কবিতাটার বেশ খানিকটা।
    ---------------

    মজুরির লুট হয়ে যাওয়া খুব হতাশার
    পুলিশের মার, বেইমানি, লোভের আঙুলগুলো। । মারাত্মক
    কিন্তু এসবের থেকেও অনেক বেশি খারাপ
    সবচেয়ে খতরনাক স্বপ্নের মরে যাওয়া

    আচমকা ধরা পড়ে যাওয়া,
    শীতল নৈঃশব্দ্যে জড়িয়ে যাওয়া-খতরনাক
    কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক না
    সবচেয়ে মারাত্মক শ্মশ্মানের প্রশান্তি নেমে আসা
    অস্থিরতাহীন, সয়ে নেওয়া সময়ে-
    রোজকার কাজে যাওয়া, ঘরে ফেরা নিয়ম মতন
    সবচেয়ে খতরনাক স্বপ্নের মরে যাওয়া।

    তোমার কবজি থেকে ফ্যালফ্যালে চেয়ে থাকা
    যে ঘড়িটা চলছে কিন্তু স্থির
    সব দেখেও না দেখার ভান করে-
    মরা তুষারের মত তোমার যে চোখ
    পাশ ফিরে শোয় পৃথিবীর মায়া ভুলে
    আর রোজকার জীবনের সুখে ভেসে যায়,
    সবচেয়ে মারাত্মক সেই চাঁদ, যা
    এক একটা খুনের পরেও নির্লজ্জ, শূন্য উঠোনে উঠে আসে
    আর তোমার চোখ জ্বালা করেনা
    সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেই লক্ষ্যহীন দিশা, যাতে
    ভেতরের মানুষটা নিভে যায় - সবচেয়ে খতরনাক
    স্বপ্নের, স্বপ্নদের মরে যাওয়া।
  • শিবাংশু | ২০ এপ্রিল ২০১৫ ২২:১৯507386
  • মাল্যপ্রভা
    --------------------
    একটা নদী ছিলো, দক্ষিণে। এখনও সে বেশ তন্বী, কামাখ্যার মতো মাংসময়ী। পরশুরাম কুঠারের রক্ত ধুতে সেই জল। লোকে বলে। লোকে কী না বলে? এমন নদীর নাম মাল্যপ্রভা। তুমি যাই বলো, কুঠার মানে বারুদের গুঁড়ো। মানে সাঁকো ভেঙে দেওয়া। তুমি যদি নদী হও কোনদিন, কুঠার ফিরিয়ে দিও। তা'কে যেন রামায়ণে বন্দি রাখে কৃত্তিবাস। নেকলেস বলে একটা রাস্তা সাঁঝবেলা দীঘির দক্ষিণ। হ্যালোজেন প্রভা আর লঞ্চভাসি। সেখানেই এসো। নদী নয়। খানিকটা জল অন্ধকারে। তোমার চুলের থেকে কিছু জুঁই উদ্বৃত্ত বিলাসে কণ্ঠহার। তুমি জল দ্যাখো, আমি দেখি পুরিয়া বন্দিশ।ওরকমই চোরা আলো ফোকাসিত, প্রোটিন ভাস্বর। রূপকন্যার শ্বাস নিঃশব্দ ফরাসি।না চেয়েও সুরভি ছড়াও। এমনই স্বভাব। প্রসাধনে তুমি মাল্যপ্রভা, আমি কি ছন্ন সাঁঝ। প্রতিদিন শুধু লাল হয়ে মরে যাওয়া,ঐ জলে.....
  • Nina | ২০ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:২০507387
  • বাহ! বড় সুন্দর---মাল্যপ্রভা নামটিও---
  • শ্ব | ২২ এপ্রিল ২০১৫ ১৫:৩৪507388
  • রুদ # ২
    `````````

    নানারকম শব্দ
    নানা রঙের রং
    তুমি রাস্তা পেরোচ্ছ ঝুঁকে
    আর ট্যাঙ্কার এসে ছুটে বেড়িয়ে
    যায় আমি দেখি আমি ছুটে যাই না আমি লোক ডাকিনা

    নানারঙের শব্দ
    কানফাটানো রং
    কেন কেন তুই দাঁড়িয়ে থাকিস কেন
    নাম ডাকলে একটা চুনি বসানো সাপ রিং
    টোন হয়ে বেজে বেজে বেজে বালিশের তলায় চলে যায়

    ও বধির ও বাঁশি কারিগরি ভাল্লাগেনা আর আরজন্মে শুধু হাওয়া হবো
  • Anupam Das Sharma | ২২ এপ্রিল ২০১৫ ২১:৩৫507389
  • আচমকা ঝড় উঠলে আপনা থেকেই
    জানলার কপাট বন্ধ হয়ে যায়
    তখন সারা ঘরে মায়ের গন্ধ ম ম করে

    অঝোর ঝরা বৃষ্টিতেও মা যখন বাসন
    মাজতো বারান্দায়

    উপরে ফাটা টালি আমাদের বড় হতে দেখছিল
  • Anupam Das Sharma | ২৩ এপ্রিল ২০১৫ ২২:২৫507390
  • ছাদের আলসেতে ঝুঁকে থেকো না
    নরম পিঠে জোৎস্না লেপ্টে যাচ্ছে
    বাঁকা রেখার সমস্ত জ্বালা নিভে যাক
    যুবতী সন্ধ্যায়,

    চেয়ে দেখো সাহসী আঙ্গুল তরতরিয়ে
    হিমালয় চূড়ায় ঘুরছে।
    স্বর্গের পাশপোর্ট কে আর কবে পেয়েছে

    অথচ আলতো চুমুতেই
    গালিবের আত্মা ভাসছে।

    পারবে...

    গভীর নাভিবৃন্তে সংজ্ঞাহীন মাথাটা ধরে রাখতে!
  • শিবাংশু | ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৪০507391
  • দেশ
    --------
    আমাদের দেশঘর মানে এখন গুগল ম্যাপ। আছে, কিন্তু তারা নশ্বর চৈত্রের পাতা। আমাদের গাঁও'ওয়ালা লোকজন মানে কাঁসার থালায় মুখ। দেখা যায়। বাঁকাচোরা মতো, তবু চেনা। ভালোবাসা ? তাও টের পাওয়া যায়, গ্রহণে যেমত সক্ষম। অফুরান আকাঙ্খা ছিলো একদিন। ঝামাপুকুরের বই, শারদীয়। রোমান অক্ষরে দ্যাখো ডুবে গেছে। বেঢব ওস্তাদ, তুমি ডোবো চতুর্থ গেলাসে। এমত এলেম। তাও ধ্রুপদ গাওয়ার জেদ করো? যেখানে যেখানে গাছ, সেখানে পতাকা ছেঁড়া হয়। যেখানে প্রমাণ নেই, সেখানে অযুত যুক্তির কনভয়। ইহা আমাদের শ্বাস, ঘোড়া বেচে ঘুম। আমাদের বৃষ্টিছেঁড়া কবিতার ফ্লেক্স আর দওয়া'দারু। বাঙালভাষায় বহু গান হয়, আমি মেদনিপুর। সুরগুলো মণিপদ্মে হ্রীং হয়ে থাকে। এবার বেড়াতে গেলে শুধু রাঙামাটি থেকে মনিহারি। রুখু ধুলো, শাল, কদম আর গিট্টিমেশিন। কুবো পাখি, লালশাড়ি, গগন মারান্ডি, তার বাড়ির লেডিজ। বোধ হয় যথেষ্ট হলো। দেশঘরে আর ভিড় না বাড়ানো'ই ভালো। আমানি কি মহুয়া, স্থির হয়ে পান। শাস্ত্রে বলে।
  • অনুপম | ২৯ এপ্রিল ২০১৫ ২০:৫৪507392
  • সাদা পাতা.....

    সমস্ত অপূর্ণতা কাটিয়ে তুমি
    স্বাভাবিক উচ্চতায়

    নির্দিষ্ট ঠিকানায় নও
    অযুত সংখ্যার 'দল' হয়ে
    খুলে দিচ্ছ ডানা
    আর সাতরঙা পাখি এসে পড়ছে
    পাতায় পাতায় আঙ্গুলের টোকায়

    তোমাকে সাদা রংয়ে না পেলে
    রঙিন হয় না কাব্য মন
  • mohor | ০৪ মে ২০১৫ ২০:০১507393
  • অন্ধকারে কৃষ্ণকমল
    #

    ঝুলির ভিতর কৃষ্ণকমল
    অন্ধকারে বাষট্টি দিন
    দৃষ্টিকৃপণ বিহঙ্গমন
    জলের দিকে ফাৎনাপ্রবণ
    সালংকারা বৈশাখী তিন
    কন্যে হাজির রাজার ঘরে
    এমন অচিন বসন্ত রে
    আধ-কপালে অমল ধবল
    পাল তুলেছে ক্ষুরস্য ধার
    পথটি গেছেন অতিথি-প্রায়
    রাজার ঘরে ফাঁদটি পাতা
    ফাঁদের চোখে বিষণ্ণতা
    বিষাদ কি তার অপাঙ্গে চায়?
    ঘর বাঁধিতে দুঃখ বোনা
    আবাদ করে যে কয়জনা
    শস্য কেবল পরস্ব তার

    অন্ধকারে কৃষ্ণকমল
    বন্ধ দ্বারে বাষট্টি দিন
  • শিবাংশু | ০৬ মে ২০১৫ ২৩:৫৩507394
  • আসোনি
    ---------------
    যে আঁখিতে এতো হাসি। যে আঁখিতে আখর সাজিয়ে চুপ সাঁঝ'সহকার। গ্যাসবাতি জ্বালা যেসব স্টেশনে পাড়াগাঁয়ে টুনটুন গাড়ি, অনেকটা।সেই টলমল লাইন ও ঝিঁঝিপথে বাড়ি ফেরে সুজন ভোটার। যে আঁখিতে নেশা আর জ্যোৎস্নার গন্ধ ঝরে টুপটাপ পথের পাতার, তুমিও কী? শুনেছি এ সব পাতা তুলে কোনোদিন পেজমার্ক করেছিলে শঙ্খের কবিতা।এখন বিবর্ণ, তবু আছে। সন্ধ্যা অনেক আসে, তবু তুমি চিলেকোঠা থেকে উৎসবে আসোনা। দ্যাখো, এভাবে তাকালে পাপড়ির মতো জল তরুমূলে। যে আঁখি অন্দরমহলে উঁকি, বসতবাড়ির বটছায়া, সেখানে রটনাসব, কষ্ট হয়। আর্জির কম্পাস নিয়ে চলে যাও। প্রবাসে এভাবে আমি, সিঁড়ির পাথর...
  • ফরিদা | ১২ মে ২০১৫ ২০:৫১507396
  • ১ সবুজ
    ভিড় হয়েছে খুব
    মেলায় মেলায় বিকোচ্ছে বই
    আকাশ থেকে দুলছিল মই
    হাত খোঁপাটি আলগা হলে
    দিচ্ছিল চাঁদ ডুব।

    ২ হলুদ

    চুন সুড়কি খসে
    বিল বাকি তাই বিজলি গেল
    শরিক ঘরে মাংস এল
    ফেরার পথেই রাত হয়ে যায়
    চাঁদের ঘরের পাশে

    ৩ লাল

    ভিড় হয়েছে খুব
    টিভির থেকে গাড়ির সারি
    মন্ত্রী সেপাই বাড়াবাড়ি
    সানাইটাকে বলছে না কেউ
    চাঁদ দিয়েছে ডুব।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন