এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব

    pi
    অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ | ৮৭৯০৬ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • তাতিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০০:০০508537
  • কবির তেল

    ইমোশন দেখলেই তার উপচে পড়ছে কথকতা
    দৃশ্যকে পিঁড়ি পেতে ডাকে, বাবা বাছা করে
    আমদুধ মেখে দ্যায় কাঁসার থালায়
    অচেনা শব্দ এলে তার সঙ্গেই কত কথা;
    কেটে যাওয়া ঘুড়ি পেলে আর কোনো কথাই হবেনা
    সটান লেজটি ধরে ঝুলে পড়ে
    লাট খেতে খেতে টপ ভিউ, গুগল আর্থ
    ল্যাম্পপোস্ট থেকে শেষে ঝুলছে অথচ পড়ছেনা-
    চেনা পাড়া, রাস্তাটাস্তা ছেড়ে, এমন কি নেড়িকুত্তার দিকে
    তাকিয়ে নখ খাচ্ছে, চুল পাকাচ্ছে
    বিস্কুট বাড়িয়ে ডেকে আনছে ঘরে
    আর যা যা পেয়ে যাচ্ছে সব কিছু তুলে রাখছে শিকেয়-
    তারপর মাখন, গ্রিজ, গর্জন তেলের ড্রপ ফেলে
    ড্রিল চালিয়ে, উখো ঘসে, নখ দিয়ে মাটিতে আঁচড়ে,
    কবির প্রচুর তেল
    লাগিয়ে যাচ্ছে শব্দের পিঠে নতুন ফিটিং কিছু পেলে।
  • Tim | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১৬:৫৫508538
  • আমার আঙুল কাঁপে, বোবা স্বরযন্ত্রের মত
    আমার পায়ের পাতা, এতগুলো দিনের হিসেবে
    তোমার কাছেই আছে, যাতায়াত নশ্বর দেহে
    এই কথা, ছেঁড়া পাতা নৌকোর সুখ।

    আমার হাতের কাছে, ত্রুটিবিচ্যুতি যত জমা
    তোমার মাথার কাছে ওষুধের শিশি, আর ক্ষমা
    চেয়ে লেখা চিঠি, আঁশফল গাছে কোন ঘুড়ি
    পার পেয়ে মাঠ ছেড়ে উড়ে গেছে চোখের অতীতে

    আবছায়া ভালবাসা, হাত পেতে নেওয়া অনর্গল
    শেষ নাই, সীমা নাই, শুধু জল। অকুণ্ঠ নদীর চলনে
    আমার মনের কোনে রাখা আছে আকরিক কিছু শব্দের
    তোমার পায়ের কাছে বসেছে সে একচক্ষু,আবিল শরীরে।
  • swati | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০২:২৫508539
  • হাঁটছি তো হাঁটছি, হেঁটেই যাচ্ছি মসৃণ রানওয়ে বরাবর
    অস্ত অভিমুখে অফুরান পথ, দু'চোখে চাঁদের সম্ভাবনা আর
    ঠোঁটজোড়া শিস নিয়ে। তারপর দুধারে অজস্র কাঁটাঝোপ
    পার করে উড়ান ভরি মরীচিকার লক্ষ্যে, নতুন করে গড়ি
    কোন তাজমহল হয়ত গেরস্থালির হিসাব মেলাতে মেলাতে।
    টুকটাক চুরি করা খুচরো প্রহরের আলো সব্টুকু লেগে যায়
    জোড়াতালি দিতে সময়ের জীর্ণ পরিধানে, জমে না কিছুই,
    কি দিয়ে পারানি দেব তাই ভাবি! নীলক্ন্ঠী পাখা মেলে যখন
    হা হা করে ঝড় দশ দিগন্ত জুড়ে, ভোঁকাট্টা বোকা ঘুড়ির মত
    লাট খেতে থাকে রক্তাল্পতায় ভোগা ভাঙা ডানার বিধ্বস্ত
    উড়ানখানা, সুমুখের কাঁচে বিবর্ণ বিকেলের নিশ্চুপ ধূসরতা,
    চেনা রানওয়ে অচেনা গতিতে ধেয়ে আসে কাছে, আরো কাছে-
    এখন শুধু দাঁতে দাঁত চেপে ভেঙেচুরে মাটি ছোঁয়ার প্রতীক্ষায়।
  • swati | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৫:০২508540
  • এমন রিক্ত কখনো লাগে নি নিজেকে
    যেমন লাগছে আজ হেমন্ত বিকেলে,
    ধান কাটা সমাপনে ফিরে যেতে।
    এত দিন ধরে যা ছিল স্বপ্নে জড়িয়ে,
    সেই সোনারঙ তোকে সওগাত পাঠিয়ে
    খড়ো শূণ্যতা রাখি মাঠময় ছড়িয়ে।
    দিগন্ত ছুঁয়ে সন্ধ্যাতারাটি জাগে-
    তবুও রাত্রি একলাটি পথ হাঁটে,
    এতখানি একা কখনো লাগে নি আগে।
  • swati | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৬:০৯508541
  • শেষ লাইনটাতে একটা কারেকশন--

    এত একা আর কখনো লাগে নি আগে।
  • swati | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৪:৩৮508542
  • এখন ঝামা রোদ, তবু মেঘলা গন্ধ
    লেগে রয়েছে ঘরে, জানালা-দরজায়,
    স্যাঁতসেঁতে এলোমেলো ভাবনারা
    ইতস্তত আলনাময় অগোছালো।
    গোছানো শুরু করা দরকার-
    খুব দরকার, কিন্তু হচ্ছে না,
    কিছুই আর করে ওঠা হচ্ছে না,
    অবসন্ন জড়তা ঝিমঝিম করছে
    ঝিঁঝিলাগা মনের সবটুকু জুড়ে।
    কালকের বর্ষার কয়েক ফোঁটা জল
    ডাকবাক্সে ঝিলমিল, যত বার পড়ছি
    ভিজে যাচ্ছে বাইরের প্রখর রোদ।
    লিখতে গেলে ভেজে যদি লাইনগুলো
    তাই আর লেখা হচ্ছে না তোমাকে,
    শুধু এই একটা লাইনই লিখতে পারলাম-
    ভাল থেকো, খুব ভাল থেকো কিন্তু।
  • pharida | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৮:৫৭508543
  • না-কবিতা

    না কবিতার বেঢপ হাওয়াই ফাটা
    হাঁটু অবধি খড়ি দাগ আখ্যান
    না কবিতার ঘিনিঘিনে হাতা পাতা
    অবুঝ চাহনি শব্দেরা খান খান –

    টুকরো টুকরো ছিঁড়ে ছিঁড়ে গেল কথা
    ঘুমের ঘোড়ার টগবগ টগবগ
    না কবিতার নাছোড় হাতের পাতা
    কিশোর কপালে বলিরেখা অনুভব।

    মা কবিতার পথ চাওয়া দিন কালে
    রাস্তার আলো জ্বলার আগেই ফিরুক
    না কবিতারা কিছুমিছু নিয়ে এলে
    মিলে মিশে জ্বলে কাঠের আগুন ভীরু।

    আসলে তারা দুই বোন তিন ভাই
    বাপ সরে গেল ঘোলাজল স্রোত বুঝে
    না কবিতারা আঘাটায় পেল ঠাঁই
    শুধু বেঁচে থাকে নাক কান চোখ বুজে।

    না কবিতার প্যান্ট খসে খসে পড়ে
    হলদে পাতার জঞ্জাল ফুটপাথে
    মারামারি হল ফের পয়সারা চোট
    আঁচড়ের দাগ ঘাড়ে বুকে পেটে হাতে।

    এতক্ষণে না কবিতাটি গোঙায়
    মা কবিতার হাঁড়ি আজ খাঁ খাঁ
    যা কবিতারা যেদিক খুশি - যা ভাগ
    না কবিতারা ফিরে পাক দেশ গাঁ।
  • pharida | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২১:৫৮508544
  • তৃতীয় গেলাস

    তৃতীয় গেলাসে দেখি ঝাঁজ মরে যেতে থাকে
    ক্রমশঃ তলানি ঠেকে, চড় জাগে বুকে
    তৃতীয় গেলাসটি আমি বহুদিন ধরে রাখি কঠোর চিবুকে।

    তারও আগে মরে যেতে দেখেছি পাখিদের
    টুপটাপ আলো নিয়ে চলে গেল যারা
    তাদের শব্দশব বয়ে বয়ে কিচকিচানিতে
    চিনতে শিখেছে বুঝি মৃত্যুকে সাপের মণিতে।

    চাঁদের বদলে যাবে বাড়ি
    গাড়ি থামে প্রতিটি কোটরে
    ভুলে ভুলে যতটা হেঁটেছি আমি একা
    মাঝে মাঝে একলা দুপুরে
    যদি ভাবি পরের বাঁকেই নদী খুলে যাবে
    মোহনা ফেরাবে তুমি এক ফুঁয়ে নেহাৎই বিলাসে
    তখনি ডেকেছ তুমি জানি সেইখানে, তৃতীয় গেলাসে।
  • kumu | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ২৩:৫৪508545
  • !!!!!!!
  • Tim | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৯:২৮508547
  • শরৎ

    এখন যেখানে গাছ সেইখানে একদিন
    আদিম বুনোটে জমি, খয়েরি রঙের জল
    ধুলো গেলে উড়ে মাঝনদী বরাবর
    চিতার শয়ানে কাঠকুটো জেগেছিলো।

    সেই প্রত্যেক ধুলিকণা, লেখা নাম
    স্মৃতির গাহক সাবধানে ফেলে পা
    নদীতে শরণ, নদীর ধারেই বাড়ি
    নদীর ওপারে পেতেছে যন্ত্রণা

    আজ সেই নদী একলা বইছে যেন
    কুয়াশা ঢেকেছে মুখ তার, যত সুখ
    চোরা স্রোতে টানে পোড়ানো যুদ্ধক্ষত
    সেই পোড়াদাগ, বাষ্পখচিত চোখে
    এসেছে এখন শিউলিদিনের বেলা।
  • শ্ব | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৩:২৯508548
  • ক্লিশে
    ~~~~~

    বুঝলেন, ভালবাসা জিনিসটাই এমন।
    চেয়ে পেতে হয়, যেচে দিতে হয় ;
    আর পরস্পরকে বিকেলবেলায় এক ঝুরি করে
    পটল বেচতে চলেছে যে এই যে চটের ওপরে বসে
    আমরা এতক্ষণ ধরে বিক্রিবাটা কোর্লুম
    সেই ময়লা ছেঁড়া চট টা আসলে
    কিন্তু তোমার ;;
    এবং ঘটনা হচ্ছে তা উভয়ত :। ।
  • sosen | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১০:৪৫508549

  • স্বপ্নের মধ্যে ধারাকষ্ট মিশে থাকে
    এখনো বলা হয়নি তোকে
    যে সব গুজব ছিল একদিন অবান্তর
    তারা সত্য হয়ে ওঠে নীলাভ চাদর ঘিরে
    দ্যুতি মনে হয় সব। সব রক্ত
    রিরংসা, আলিঙ্গন দিব্যছায়াপথে
    বড় হলে একদিন
    হঠাত বাক্সের মধ্যে সব মুক্তো পেয়ে যাবি খুঁজে।


    এ তো সবই ছিল বাটোয়ারার গল্প।
    এখন অপেক্ষার শেষে
    ঝুলি নিয়ে হেঁটে যাই মহীয়ান পাহাড়ের দিকে
    গর্তের নিচে মুখ গুঁজরে পড়ে থাক
    পুঁতি বসানো একটা গোলাপি পার্স।
    তোর ছোট ছোট মুঠি
    আবছা মশারির নিচ থেকে
    ঘুমের ভাপ ছড়ায়। ঘুমো, মণি-মা
    আমাদের দেখা হবে ভাগাভাগি পোহালে আবার।


    তোর ইস্কুলের জামায় মুখ ডোবালে
    শিশু-ঘামের গন্ধ
    ভালো লাগে না। কেচে কেচে
    সাবানের ফেনায়, নোনা জলে
    কান্নার আবিরে আর মুখ ঘোরানোর ছলে
    আমি ধুতে থাকি তোকে
    মুখের ভিতরে অকস্মাৎ
    তেতো জল উঠে আসে। পলায়ন
    কোন দিকে? কোনো দিকে নয়।
  • san | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১২:৩১508550
  • বাঃ
  • swati | ০৫ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:২৬508551
  • দেখে নিও তুমি
    আমি ঠিক পৌঁছে যাব-
    উল্কাটা ঝাঁপ দেবে পৃথিবীর বুকে যেই,
    জ্বলে যাবে তেরো নদী-সাত সমুদ্দুর
    থমকে যাবে সময়, চলকে যাবে আকাশ
    কোন রিখটার স্কেলে মাপা যাবে না
    সেই কম্পন, ধরা যাবে না সেই জ্বর
    কোন থার্মোমিটারে, আমি আসছি।
  • Swati Mitra | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৫৪508552
  • শুধু বিসর্জনের জন্য

    ছেনেছো অনন্ত যৌবন
    খড়-বিচালি-মাটি-রঙে
    চোখ ফোটালে যত্ন করে-
    স্বপ্ন তো নয় আগুন ভরে
    শোলার মুকুট, রক্তাম্বরী
    হাতে আবার ত্রিশূলও দিলে!
    পাঁচ কুড়ি আট পদ্মঠোঁটে
    চুম্বন আঁকো দুই চরণে
    নিবেদনের অর্ঘ্য সাজাও
    ধূপ-দীপ আর হোমানলে,
    কাঁসর-ঘন্টা ঢাকের বোলে
    শুধুই বিসর্জনের ছলে
    সেই তো আবার দেবেই জলে-
    কি লাভ এত ভালবেসে?
  • শ্ব | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০২:১২508553
  • ~~~~~~
    ভয়
    ~~~~~~

    ভয়ের কঙ্কাল দেখলে ভয় হয় এই বুঝি
    আমার সমস্ত ভয়, ভয় পেয়ে কঙ্কাল হলো।

    ভয়ের শরীর নেই ভাবলেই কেঁপে ধরে অশরীরী ভয়।
    ভয়ের বিছানা নেই
    মহানেইপ্রলম্বিত ভয়ে,ভয়ে ভয়ে মিশে আছে ভয়।

    যদিও আমারি নখ ফ্রেটেড মাকড়সা হয়ে হেঁটে যাচ্ছে ভয়ানক ভয়ে
    গোপনে খবর আছে দুপাশের গলা বেয়ে নেবে আসছে আইভরি ব্রিজ ।

    ভয়ের নেশার সামনে কাকে আর ভয় করে ভয়
    ইদানীং আমার এই ভয়, শুধু নেশা কেটে যাওয়া। ।
  • শ্ব | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৪২508554
  • গ্লাব
    ~~~~~
    অযথা যতটুকু পার্থক্য
    বাস ও নিবাসে
    ততটাই দূরে পরে থাকা চ্যালাকাঠ
    ভিন্ন ভিন্ন বৃক্ষ জন্ম
    পার হয়ে শখের বল্মীক
    শেষমেষ একদিন প্রান খেয়ে ছিবড়ে করে ফেলে দেবে বলে ?

    গ্লুব
    ~~~~~~
    অন্ধকার যদিও শেষ এখানে দাঁড়ালে চলবে না
    কেননা রুপোলি আলো প্রতিটি শাদার মধ্যে ঢুকে
    কাঁচ ভেঙ্গে করে দিচ্ছে চিনি
    মাথার ভেতর ঢুকে মধু চূর্ণ খাবলে নিচ্ছে শখের উল্লুক !

    গ্লে
    ~~~~~~~
    হার্ট এটাকের মুহুর্তে বাঁদিক থেকে নেবে আসা
    ড্রাগন কার্টেইনটা একবার করে চোখে
    চোখ রাখছে আর দক্ষিনের বৃদ্ধ আঙ্গুলে ক্রমাগত এক মালী বসে
    প্রচন্ড দেহাতি সুরে ঘ্যানঘ্যান গেয়ে যাচ্ছে দেখো বাপু আমার বাগানের লাউ
    চাইলেও পাবেনা ফাউ, মাথার পেছনে তার আড়াই শো' ওয়াট। ।
  • শ্ব | ১৫ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৪৩508555
  • বিজয়া
    ----------

    চতুর্দিক চ্যাট চ্যাট
    দেবীর মোচন শেষ হলো।

    রসগোল্লা ল্যাংচায় শুকনো মল্টের ঘোরে
    হাঁকাহাঁকি মাখামাখি চটকানো নিউরনের
    থ্যাঁতলানো শোল মুণ্ড, তবে আপাতসাক্ষর।

    অজধর্ম অজকর্ম অজ নিত্য মংপু বাগান
    হয়ে সব সিংকোনা মাঝে এস, কাছে ; ক্যাকটাসে। ।
  • শ্ব | ১৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৫১508556
  • ইদানীম #৩
    ~~~~~~~

    আজকাল আর কেও হাগেনা
    সকলেই পটি করে থাকে।

    সময়ের ঘাসে, পরিপাটী পটি মুছে
    উত্স কুলুঙ্গির ঘরে উঠে যায় রাজভিখারিনি,

    এমত বিধানে। স্বয়ং ক্রিয় যার যার
    পটি চেম্বার বেছে নেওয়া যাকিনা বিপদক্রমে তড়িত বাহিত। ।
  • মোহর | ২৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:০৯508558
  • যাবনিক

    অপ্রতিম হাঁস এক
    জন্মমূহুর্তে,
    জায়্কালে,
    বীজের গোপন অংশে
    জরায়ুর বস্তিদেশে খাদ্যরসে স্বত:প্রাণ
    প্রথম ছন্দের বুকে অনিশ্চিত পা রাখতেই
    সামগ্রিক পূর্বস্মৃতি যন্ত্রণাবাহুল্য নিয়ে
    নীল থেকে নীলতর পদব্রজে
    স্থির হয়ে গেল।

    অপরিকল্পিতভাবে
    সমস্যাটি মূলতঃ আলাদা।

    আমিও গণিকা নই।গর্ভস্থ কন্যাভ্রুণ
    বাক্-দোষে দ্বিখন্ডিতা
    সে তবু গণিকা নয়। পৃথিবীর যাবতীয় অসতীত্ব ক্রমাণ্বয় বিবাহে ছেড়েছি।
    কেননা উদাহরণ ও সংজ্ঞাবশত:
    গণিকার স্বেচ্ছা থাকেনা |

    আমি জানকী। আমি অযোনিসম্ভবা, দেবান্গ্শী, দেবভাগা।
    আমি জন্মমুহুর্তে, জায়্কালে,
    সমস্ত পুর্বনারীদের স্মৃতির প্রবলতর
    আকস্মিক ভার নিয়ে
    নিজস্ব যোনিপথে দারুণ প্রসবদাহে অসহ্য যন্ত্রণাস্রোতে
    প্রবাহিত হতে হতে স্বয়ম্ভূ হয়েছি।

    আমার মাথা যখন অপ্রশস্ত সংকোচনশীল পিচ্ছিল জনন-পথ দিয়ে শ্বাসহীন অন্ধকারে প্রচন্ড প্রচন্ড চাপ সহ্য করতে করতে চলেছিল অজ্ঞাত অথচ অতি-পরিচিত উদ্দেশ্যে পা-দুটি ভেঙ্গে মুচড়ে যাচ্ছিল প্রবলতর ধাক্কায় যা আমাকে সবলে নিক্ষেপ করছিল ওই দুই মুহূর্তের আশ্রয় থেকে তখন আমি-ই আমার জননী আমি অকস্মাত্ গর্ভের আক্রমণে ত্রস্ত ক্ষুব্ধ ক্রোধী আহত বিধ্বস্ত বীভত্স চিত্কারময় অতিধ্বনি আমি-ই আমার কন্যা ভ্রুণ-গর্ভে ভীষণাকৃতি জ্বরাত্মিকা আমার শুরু নেই শেষ নেই আমি নির্মুক্ত রন্ধ্রকীট আমি ক্ষয় আমি রেচন আমি প্রাণ শব্দ প্রাণ জল জল স্বর বাক ইচ্ছা শ্রুতি স্বাদ ক্ষুধা দৃষ্টি ক্ষুধা ক্লেশ রমণ মরণ

    অতএব, হে বসুগণ, পৃথিবীও এমনই কোনো কারণে,
    ইদানীং যজ্ঞভাগে উদাসীন হয়েছেন
    পক্ষীমাতা বিকলাঙ্গী
    মৃত শিশু ভগ্নশাখ নির্বোধ বিবেশ

    কিম্বা, ইয়ে, চাকা-ভাঙ্গা,
    পিছনের ডান পা টা
    মোচড়ানো,
    প্লাস্টিকের হাঁস
  • Somnath Roy | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৩১508559
  • লক্ষ্মীপুজোর সনেট
    ===============
    ফকিরপাড়ার ভূত উঠে আসে আলো নিভে গেলে
    তখনও বাঁশের গায়ে টিউবের হোল্ডার, চোক
    পালক ঝরিয়ে পাখি ঢুকে যায় ক্রমশঃ বিকেলে
    এলানো ছায়ায় ডুবে, মাইকেরা নতমস্তক;
    ফকিরপাড়ার ভূত শালুকের থেকে ধানক্ষেতে
    হেঁটে যায়, চাঁদ যেই ভরে দ্যায় নিড়ানো উঠোন
    আদিম ধোঁয়ার ঘ্রাণে মাটির সমীপে হাত পেতে
    চেয়ে নেয় বেঁচে থাকা, শস্য ও কুয়াশার কোণ।
    ফকিরপাড়ার ভূত অচেনা সিমেন্টবাঁধা মেঝে
    দেখেছে কি, সেইখানে পুকুরের বাঁধাঘাট ছিল
    হয়তো বা নৌকোটি কোজাগর জ্যোৎস্নায় সেজে-
    বাঁধানো সড়কে গাড়ি হর্নে আকাশ ছিঁড়ে নিল-
    বিষাদ শিউরে ওঠে বিদেশের ফ্ল্যাটে, রাস্তাতে
    ফকিরপাড়ার ভূত মরে যায় ফকিরপাড়াতে।
  • Somnath Roy | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৩২508560
  • দেওয়ালি সনেট
    ==============
    এসো শ্যামা আজ তোমাকে আহার করি
    জিহ্বায়, দংশনে, ছুঁয়ে যাই বক্ষ তোমার
    শ্বাপদের ঈশ্বর জেগে আছে শিরোপরি
    সুইচে আলোর দ্যুতি ঘাতক বোমার-
    মৃৎপাত্রে ক্ষুধাসম খিচুড়ির ভোগ
    সকলে মেশাই তাতে মৃতদেহ, আঁচ-
    ভদকার জাম্বোপেগ, ক্ষত, মনোরোগ
    গিলে ফ্যালা পুকুর আর কেটে নেয়া গাছ।
    দেওয়ালে, প্রাচীর গাত্রে, উজ্জ্বল পথে
    আলোকসজ্জা জুড়ে পিশাচ গতিতে
    পোকার মৃত্যু; আর, পূর্ণ মনোরথে
    আহার্য মিশে যায় মাংসে, পেশীতে
    আহার্য, দ্যাখো শ্যামা, বেড়েছে অদ্যপি।
    আলোর উল্লাসে বাড়ো আলো, এনট্রপি...
  • শ্ব | ৩০ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:২৬508561
  • সইসব #২

    ~~~~~~~

    ভাল্লাগছে,
    চল আরও এগোই।

    এইত আমার ছোটবেলার মাঠ, মশাট অন্ধকারে
    একা একা হারিয়ে যাওয়া লাল রাবার ডিউস বল।

    কিন্তু মাথাটা ফেটে যাচ্ছে, তোকে আর পুরো গল্পটা
    বলা হলোনা তবে শেষ ঘটনাটা এই যে; ওই

    বিকেলের বারান্দায় বাঁদিকের মোরগ ফুলের টব টায়
    কেঁচ ভেবে যাকে তুলে ফেলে দিলুম আসলে কিন্তু ও শাঁখামুটির বাচ্চা। ।
  • শ্ব | ৩০ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:১৭508562
  • ক্ষ:
    ~~~~

    আমাদের সমস্ত পথ ভীষণ ঘ্রিয়াও

    আমরা কথা বলছি ঘো। ঘ্রিলঘ্রিল বাতাস বইছে আর
    উপত্যকায় ছায়া ফেলে ভাসছে বাহান্নশ বেগুনি সারস।

    সর্বক্ষণ কানের চারপাশ জুড়ে এই খ্রলোরখ্রলোর
    মাঝেমাঝে মনে হয় : ঘিউপ্পুশ ঘিপাস ঘ্যুইপ। ।
  • dd | ৩০ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:৪১508563
  • ব্রীভৎসো ভ্রালো।
  • শ্ব | ৩১ অক্টোবর ২০১৩ ০০:১৭508564
  • ইদানীম # ৫
    ~~~~~~~~~

    লোডশেডিং হতেই জেনেরেটর
    জ্বলে ওঠে এবং তা নিভতেই আলো
    আসে আবার।

    ক্রমশ ভুলে যাই কোনটা কখন
    এবং কবে কোথা থেকে,

    সাইন ওয়েভের ওপর দিয়ে
    চলকে যায় হোমমেড কাঠবেড়ালি।

    এবং আমি ছেনতাই এর ভয়ে কখনোই হাতে ঘড়ি পরিনা। ।
  • শ্ব | ০৫ নভেম্বর ২০১৩ ০২:১২508565
  • করণে(তৃতীয়া )
    ```````````````````

    ক্রমশঃ কেন্দ্রিক বৃত্তের মত
    এই যাচ্ছি যাবো যাবো করে
    কেন্দ্রীয় সরকারে আর
    যাওয়া হচ্ছেনা বলে
    দেশময় ছেয়ে গ্যালো ঘাসে, আর
    তারস্বরে ডেকে গ্যালো
    জেনীথ কোণের দিকে মুখ তোলা নাদির ছাগল।
  • dd | ০৫ নভেম্বর ২০১৩ ০৮:৫৯508566
  • নাদির ছাগল?

    আমি তো ছাগলের নাদি ই শুনে এসেছি এতোদিন।

    সিওর? শ্ব টাইপো করেন নি তো ?।
  • HHB | ০৫ নভেম্বর ২০১৩ ০৯:৫২508569
  • জেনীথ কোণের দিকে মুখ তোলা নাদি।
    তার মালিক যে ছাগল, অর্থাৎ সেটা যে দিয়েছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন