আমাকে তিন-চারদিন ফেবু লিখতে দেয়নি, এই ফাঁকতালে প্রত্যক্ষ জ্ঞানার্জন হয়ে গেল, গোদি-মিডিয়া কী বস্তু। ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর, তাই লম্বা হলেও পড়ুন। তিনদিন আগে সকালে উঠে মেলবাক্স খুলে দেখি, গুরুচণ্ডালির ইউটিউবে বেশ কটা ভিডিও কপিরাইট স্ট্রাইক খেয়েছে। কী হয়েছে? না, সেদিন ছিল "সীমান্তে নাকি বাংলাদেশীদের ভিড়" নামক মুখোশ খোলার ভিডিও। ক্ষেপে গিয়ে এবিপি আনন্দ, তার মিডিয়া এজেন্টকে (সেই কোম্পানির নাম markscan ) দিয়ে খুঁজে খুঁজে বার করেছে গুরুচণ্ডালির কোন কোন ভিডিওয় এবিপি আনন্দের ক্লিপ আছে। তারপর কপিরাইট ক্লেম করে অনেকগুলো নামিয়ে দিয়েছে। ইউটিউব জুড়ে। বেশি ভিউ যেগুলোর সেগুলো নামিয়েছে, সবকটা পারেনি, অত অধ্যবসায় থাকলে তো হয়েই যেত। আমরা কিন্তু ভয়াবহ কিছু করিনি। সুমন্দেকে সম্মান দিয়ে কর্নেল সুমন্দে বলেছি। আর ফেবুতে যেমন লিখি, "কর্নেল সুমন্দে বলেছেন", ভিডিওতে মুখে ... ...
রিঙ্কু তরফদার আত্মঘাতী হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিএলও। সমাজমাধ্যমে তাঁর সুইসাইড নোট ভাইরাল। খুব স্পষ্ট করে লিখেছেন, "আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী"। সুইসাইড নোটটা আমি যাচাই করে দেখিনি, কিন্তু বিএলওরা যে অমানুষিক চাপে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এদিক-ওদিক তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের আর্তনাদ. একমাসের জায়গায় সময়সীমা আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে অ্যাপ দেওয়া হয়েছে অর্ধেক সময় বন্ধ থাকে। মোবাইল দিয়ে হবে ডেটা-এনট্রি। এক কথায়, তাঁদের ঢাল-তরোয়াল ছাড়া নামিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্ফিথিয়েটারে। ঢাল-তরোয়াল পরে আসবে, আগে তো যুদ্ধটা করে নিন, এই বলে।আর গোদি মিডিয়া প্রচুর-চিয়ারলিডার সহ মাইক ফুঁকে বলিউডি গান বাজাচ্ছে "লড় লড়"। যাঁরা লড়ছেন তাঁরাই শুধু জানেন, ঢাক পিটিয়ে বড়কত্তাদের অপদার্থতা ঢাকার জন্য স্রেফ বলির পাঁঠা ... ...
গোদি মিডিয়া আপনাকে যেটা কিছুতেই দেখাবেনা, সেটা হল মতুয়া এবং দলিতদের একাংশ নিঃশর্ত এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের দাবী তুলেছেন এবং সেই দাবী ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। এই একই কথা আমি বহুবছর ধরে বলছি, কারণ, অনুপ্রবেশ নামক যে গল্পটা তৈরি করা হচ্ছে, সেটাই অলীক। বাংলা যখন ভাগ হয়, তখন অনুপ্রবেশ কথাটা কেউ শোনেনি, সীমান্তে চলাচলে কোনো বাধা ছিলনা। কারণ, স্বাধীনতা আর দেশভাগ ব্যাপারটাই ছিল উদ্বাস্তু তৈরির সযত্ননির্মিত কল। বাংলার বুকে একটা লাইন টেনেছিলেন একজন ইংরেজ, যিনি কী করছেন, সেটা নিয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিলনা। উঠোনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল লাইন, প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে হয়েছিল দাঙ্গা, স্থানচ্যুতি, মৃত্যু, হাহাকার। অনুপ্রবেশ কথাটাই হাস্যকর ছিল, কারণ, এই স্থানচ্যুতিটা পরিকল্পনামাফিক ঘটানোর জন্যই ... ...
রিল হল এই সময়ের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। দিনের শেষে ফেবু খুলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো খবর সামনে এল। দুটোই রিল মারফত। এক, অপরাজিতা আঢ্য বলেছেন, তিনি নিজেই তাঁর ঠাকুমা। সমস্যা কিছু নেই, ব্যাপারটায় জন্মান্তরের কলকাঠি আছে। দুই, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, অর্পিতা তাঁর বান্ধবী। কী ভাগ্যিস বললেন। কোনো সন্দেহ নেই, এই দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ খবর। পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরটা দেখলাম এবিপিতে। যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, তিনি আবার ধরিয়ে দিলেন, আপনি তাহলে সদর্পে বলছেন? কোনো ঝুঁকি নেবেন না আরকি। বাইচান্স যদি পাঞ্চ কম হয়, তাহলে রিলের কাটতি কম হবে। জবাবে উনিও বললেন, হ্যাঁ, সদর্পে বলছি। বীরের প্রতি বীরের যেরকম ব্যবহার। সেটা তারপর রিল হয়ে গেল। শ্রীজাত বোধহয় লিখেছিলেন, জয়সূর্য যখন খেলতে নেমেছিলেন, প্রথম দিকে লোকে বলত, এটা আবার ক্রিকেট নাকি? তারপর একদিন ওইটাই ক্রিকেট ... ...
দেখুন, শিক্ষক দিবস চলে গেছে, কিন্তু আমাকে কিছু কথা বলতে দিতেই হবে। আপনারা যারা মাস্টারমশাই-দিদিমণিদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁরা বিলকুল ভুল করেছেন। কারণ, আগে শিক্ষা বলতে ইশকুল-কলেজ এইসব ছিল, এখন কিন্তু কলেজের জায়গায় এসেছে গোদি মিডিয়া আর উচ্চশিক্ষা মানেই হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি। এখন ইশকুল মাস্টারদের ধড়াদ্ধড় চাকরি যায়, কিন্তু তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, কারণ গোদি মিডিয়া আর হোআ অজর অমর অক্ষয়। শিক্ষায় বিপ্লব এনে দিয়েছে প্রায়। গোদি-মিডিয়া আমাদের শিখিয়েছে, কীকরে বিনা যুদ্ধে করাচি-লাহোর সব দখল করে ফেলতে হয়, কীকরে হাসপাতালে মড়ার সঙ্গে সঙ্গম করে পর্নো বেচতে হয়, কীকরে মৃতার শরীরে বীর্য ইনজেক্ট করে দেওয়া যায়, কীকরে তিলকে তিলোত্তমা বানাতে হয়। এবং এর কোনোটাকে বলে দেশপ্রেম, কোনোটাকে সংবেদনশীলতা, কোনোটাকে প্রতিবাদ, কোনোটাকে মনশীলতা।এই ... ...
বাংলার সীমান্তবর্তী একটা গ্রামে বিএসএফ এর অত্যাচারের ব্যাপারে শুনানি হল পরশু দিন অমৃতা সিনহার এজলাসে। অভিযোগ ছিল অত্যাচারের, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু শুনানিতে যা হল শুনে আমি হতবাক। ভারতীয় আদালত খুব বড় ইংরাজ। সবই ইংরিজিতে হয়। সওয়ালে কথাবার্তা যা হল, তা মোটামুটি বাংলা অনুবাদে এরকমঃ উকিলঃ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের একটা গ্রাম। বিএসএফ এর লোকজন সমানে গ্রামের লোকজনকে অত্যাচার করছে।বিচারপতি অমৃতা সিনহাঃ কেন?উকিলঃ গ্রামটা সীমান্তবর্তী।বিচারপতিঃ না না, কেন অত্যাচার করছে?উকিলঃ কোনো কারণ ছাড়া।বিচারপতিঃ কোনো কারণ ছাড়া একজন গিয়ে অত্যাচার করবে?উকিলঃ আমার কাছে যা বার্তা আছে, সেই অনুযায়ী, ডাক্তারি পরিষেবা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। অবস্থা খুব খারাপ। দয়া করে...বিচারপতিঃ ওখানে কারা থাকে?উকিলঃ ভারতের লোকজন।বিচারপতিঃ ঠিক জানেন?উকিলঃ ... ...
আপনারা ভুলে গেছেন, বোধহয় বছর খানেক আগেই উনি বলেছিলেন, অপু-দুগ্গা যেমন ট্রেন দেখতে যেত, ছোটোবেলায় উনি কলকাতার মেট্রো দেখতে আসতেন। ওদিকে ওঁর জন্ম ১৯৫০ সালে, কলকাতা মেট্রো চালু হয় ১৯৮৪ তে। অপু-দুগ্গার ব্যাপারটা অবশ্য বলেননি, ওটা বিবেকের পরের সিনেমায় থাকবে। উনিজি হাপ্প্যান্ট পরে ধোকলা খেতে খেতে হাঁ করে পার্কস্ট্রিট মেট্রো স্টেশন দেখছেন। দূর থেকে কু-ঝিক-ঝিক করে ট্রেন আসছে। স্টেশনের দেয়ালে লাল অক্ষরে লেখা বামফ্রন্টের স্লোগান "বাংলাদেশী লাও, বাংলা বাঁচাও"। সেই লেখা মুছে "মা ভারতী"র ছবি আঁকছেন এক বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি অরিন্দম চ্যাটার্জি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাই। দূর থেকে দেখতে পেয়ে সিপিএম মোল্লাবাহিনী মার মার বলে দৌড়ে আসছে। ডায়রেক্ট অ্যাকশন। তাদের তাতে অস্ত্র, থুতনিতে লম্বা দাড়ি, লেনিনের মতো ... ...
২০২৬ সাল। বাংলার ইশকুলের খুব খারাপ অবস্থা। কোথাও কোনো মাস্টার নেই, সবার চাকরি গেছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদে কেউ কোনো ফাইল নড়ায়না, কারণ কম্পিউটারে দুর্নীতির ভাইরাস কখন ঢুকে পড়বে কেউ জানেনা। ছাত্রদের পড়াশুনো গোল্লায় গেছে। সবাই পরীক্ষায় গোল্লা পায়, মহানন্দে সাইকেল চালিয়ে ঘোরে, আর ট্যাব নিয়ে গেম খেলে। চারদিকে হাহাকার। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন খবর এল, গাঁয়ের ইশকুলে সবাই অঙ্কে একশয় একশ পেতে শুরু করেছে। সেই নিয়ে হুলুস্থুল, খবরের কাগজে খবর, হাইকোর্টে সওয়াল। আরও এক দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। ইশকুলের হেডমাস্টারকে তলব করা হল। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, আমাদের কোনো দোষ নেই ধর্মাবতার, আমরা যথাসাধ্য না পড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ... ...
শুভেন্দু অধিকারী জয় বাংলা স্লোগান শুনে কালকে রাস্তায় একজনকে মারতে গিয়েছিলেন। জয় শ্রীরাম বলে খানিকক্ষণ চেঁচামেচি করেন, তারপর রোহিঙ্গা বলে গাল দেন, এবং সবশেষে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে হিন্দিতে আদেশ দিয়ে ওই একলা বাঙালি যুবকটিকে ঠ্যাঙান। এই ভিডিও ভাইরাল (বিশদে জানতে হলে গুরুর ভিডিও চ্যানেল দেখুন দুপুর ১২টায়)। খিল্লি, ছিছিক্কার সবই হচ্ছে, কিন্তু দেখুন, যে যাই বলুন, শুভেন্দুর প্রতি আমার সম্পূর্ণ সমবেদনা আছে। কেউ কেউ বলবেন, উনি নিজের পার্টির পিছনেই বাঁশ দিয়েছেন। সেটা ঠিকই, কারণ ওঁর দলের নেতারা বাংলায় এসে বাঙালি হবার চেষ্টা করছেন, কেউ জয় মা কালী বলছেন, কেউ তো জয় বাংলাও বলছেন। শুনে যদিও ভারতীয় জেমিনি-সার্কাস পার্টির মতো লাগছে, কিন্তু চেষ্টায় কোনো খামতি নেই। কেন করছেন? না, বাংলায় জয় ... ...
জাত গোখরো চতুর্দিকে। জনৈক অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী গতকাল বললেন শুনলাম, বাঙালির উপর কোথাও কোনো আক্রমণ হচ্ছেনা। রাগ করে লাভ নেই, বলিউডি নায়করা মূলত অশিক্ষিত, এঁদেরকে আক্রমণের লিস্টি, এনআরসির ইতিহাস বলে লাভ নেই। তার আগের দিন শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ভিন-রাজ্যের বাঙালি আতঙ্কিত নাকি মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে। জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে হচ্ছিল, যে, আগে বাঙালি তাড়ানো শুরু হয়েছে, না আগে ভাষণ? কিন্তু সেটা করেও লাভ নেই, কার্যকারণ সম্পর্ক গুলিয়ে না ফেললে হিন্দু বীর হওয়া যায়না। তাছাড়া ওই অর্ধেক-হিন্দি, সবদিক-বাঁচিয়ে-খেলা ভাষণের কারণে যদি কেউ বিপদে পড়েন, তাহলে মানতে হয়, যে রাজ্যে বিপদে পড়ছেন, সে রাজ্যের সরকারই বর্বর। ওটাতে কারো উপর কোনো থ্রেট একেবারেই ছিলনা। সত্যিকারের আপত্তিকর ভাষণ দিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর উগ্র এবং চরম আপত্তিকর ভাষণে বাংলার অসমীয়ারা আতঙ্কে? এঁদের তবু একটা ... ...