Surajit Dasgupta কে? যৌবনে একটি একাঙ্ক নাটক দেখেছিলাম, "ক্ষেতু বাগদি ও গোপাল কাহার"। নাটকের বিষয়বস্তু বা বিভিন্ন চরিত্রগুলো মানসপটে আবছা হয়ে গেলেও আজও ক্ষেতু বাগদির একটি সংলাপ "স্বাধীনতা মানে ওই পেতাকা ফরফর করে উর্তিছে, না ওই লাঠিটা, না ওই দড়িটা, কোনটা?" মনের মধ্যে গেঁথে আছে। স্বাধীনতার মানে আমরা কি আজও বুঝি? আমরা গোমূর্খ, অশিক্ষিত দেশবাসীরা স্বাধীনতা মানে বুঝি, ১৫ই আগস্টে একটি তেরঙা পতাকা তুলতে হয়, রবি ঠাকুরের "জনগণ মন অধিনায়ক" গাইতে হয় আর স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বিস্কুট-লজেন্স দেয়। আগে ইংরেজরা আমাদের শাসন করতো, এখন আমরাই দেশের নেতা, মন্ত্রী তৈরী করি ভোট দিয়ে। এর চেয়ে একবর্ণ বেশী কি কিছু বুঝি? স্বাধীনতা মানে যদি অন্যের গোলামী ... ...
হায়দ্রাবাদের ইতিহাস বলতে হায়দ্রাবাদ রাজ্যের, হায়দ্রাবাদ শহরের কথা বলতে চাইছি। কুতুবশাহী রাজবংশের পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ ১৫৯১ সালে হায়দ্রাবাদ নগরীর পত্তন করেন। কথিত আছে যে, কুলি কুতুব শাহ স্থানীয় একজন নাচনেওয়ালি ভাগমতির প্রেমে পড়েছিলেন। প্রেমের পরিণতি দিতে গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং "হায়দার মহল" উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর সন্মানেই নগরের নামকরণ হয় হায়দ্রাবাদ। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী শহরের খলিফা আলী ইবনে আবী তালিবকে সন্মান জানিয়ে শহরের নামকরণ হয়েছে হায়দ্রাবাদ। আলী ইবনে যুদ্ধে সিংহের বিক্রম প্রদর্শন করেছিলেন বলে হায়দার নামেও পরিচিত ছিলেন। হায়দার অর্থ সিংহ আর আবাদ অর্থ শহর এবং এইভাবেই নামকরণ হয় হায়দ্রাবাদ।মোঘল সলতনতের ... ...
বেলা বসু ১৯২০ সালে বর্তমান দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোদালিয়া গ্রামের বিখ্যাত বসু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেলা বসু। বাবা সুরেশ চন্দ্র বসু অর্থাৎ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সেজদা এবং মাতা সুধা বসু। নেতাজী ছিলেন বেলা বসুর আদরের রাঙ্গাকাকা। ১৯৪০ সালে রামগড়ে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন বয়কট করেন সুভাষ চন্দ্র বসু এবং আপোস বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন। রামগড়েই নেতাজী আপোস বিরোধী সম্মেলন করেন এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাহিনী তৈরী করে দেন। এইখানেই যে নারী বাহিনী তৈরী ... ...
পারুলবালা মুখোপাধ্যায় আসল নাম পারুলবালা মুখোপাধ্যায় হলেও ১৯১৫ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এবং কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা শ্রী গুরুপ্রসন্ন মুখার্জী ও শ্রীমতী মনোরমা দেবীর সন্তান, বিপ্লবী অমূল্য মুখার্জীর বোন এবং ঊষা মুখার্জীর দিদিকে বিপ্লবীদলের সদস্যরা ওই নামে চিনতো না। বিপ্লবী পূর্ণনন্দ দাশগুপ্তের হাত ধরে তাঁর বিপ্লবী দলে যোগ দেওয়া। শান্তি, নীহার, আরতি, খুকি শোভারানী, রানী, সুরমাদেবী ইত্যাদি অসংখ্য ছদ্মনামে তিনি বিপ্লবী কাজে সক্রিয় ছিলেন। পূর্নানন্দ দাশগুপ্ত আর শ্যামবিনোদ রায়চৌধুরী ছাড়া তার আসল নাম কেউই জানতেন না। ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ পুলিশ আন্তঃ প্রাদেশিক ষড়যন্ত্র মামলা বিষয়ে তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি ফেরার হয়ে যান। এই প্রথম তিনি শিরোনামে আসেন, কারণ তিনি ... ...
প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম ১৯১৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কুমিল্লা জেলায় (ত্রিপুরাভূক্ত) জন্মগ্রহণ করেন প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম। পিতা শ্রী রজনীকান্ত ব্রহ্ম এবং মাতা শ্রীমতী রঙ্গবাসী ব্রহ্ম। তাঁর পিতা ছিলেন মোক্তার। কিন্তু তিনি কোর্টের পেশা ত্যাগ করে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং এইরকম স্বদেশী ভাবাপন্ন পরিবেশেই প্রফুল্লর বেড়ে ওঠা। পিতার কাছ থেকেই প্রফুল্ল স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পেয়েছিলেন। তৎকালীন কুমিল্লা জেলায় সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের জোয়ার এসেছিল সেই জোয়ারে অনেক পুরুষ বিপ্লবীর পাশাপাশি যে কতিপয় নির্ভীক কিশোর-কিশোরী পা রেখেছিলেন প্রফুল্ল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন 'যুগান্তর' দলের প্রথম নেত্রী। তিনিও শান্তি ঘোষ এবং সুনীতি চৌধুরীর মতো কুমিল্লার ফৈজুন্নেসা চৌধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের ... ...
সুনীতি চৌধুরী ১৯১৭ সালের ২২শে মে (১লা জৈষ্ঠ্য) তদানীন্তন বাংলার কুমিল্লা জেলায় শ্রী উমাচরণ চৌধুরী এবং শ্রীমতী সুরসুন্দরী দেবীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন সুনীতি চৌধুরী। আদি পিতৃভূমি ছিল ত্রিপুরা জেলার নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। তিনি কুমিল্লার ফৈজুন্নেসা চৌধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং শান্তি ঘোষ, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম প্রমুখ তাঁর সহপাঠী ছিলেন। বাবা সরকারী কর্মী হলেও সুনীতি ও তাঁর দুই দাদা বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং 'যুগান্তর' দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা জেলার আর এক স্বনামধন্য বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তকে আদর্শ করেই তাঁদের বেড়ে ওঠা। লাঠিখেলা, ছোৱাখেলা, রিভলভার চালানো ইত্যাদিতে সুনীতি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। কুমিল্লা জেলার অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস জিওফ্রে বাকল্যান্ড স্টিভেন্স ... ...
আমাদের পরাধীনতার ইতিহাস যত বড় তেমনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও দীর্ঘ। কত শত, সহস্র ভারতবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তার কোনো হিসেব নেই আমাদের ইতিহাসে। প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ছিল পরাধীন মাতৃভূমিকে শৃঙ্খলামুক্ত করা। প্রত্যেকেই তাঁদের নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী অবদান রেখে গেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। আমাদের মানে প্রতিটি ভারতবাসীর অতীব লজ্জার বিষয় যে, এঁদের বেশীরভাগেরই নাম ইতিহাসের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে। ইতিহাসের পাতায় তাঁদের নামটুকুও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা যখন আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তি পালন করছি বিগত এক বছর ধরে, তখন কিছু কিছু স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম ও পরিচয় সামনে আনছি "অজ্ঞাত স্বাধীনতা সংগ্রামী" শিরোনাম দিয়ে। এটাও এক ধরণের অসম্মান বলেই মনে হয়। ... ...
শিরোনামটা দেখেই সকলের দুটো শব্দের কথা মাথায় আসবে, দ্বান্দিকতা আর প্যারাডক্স। দ্বান্দ্বিকতার অর্থ হল, দুটি পরস্পর বিরোধী সংঘাতজনিত প্রক্রিয়া। আর প্যারাডক্স কথার অর্থ হলো, যে উক্তি আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী মনে হলেও সত্য বর্জিত নয়। এককথায় সভ্যতা শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে বলতে হয়, সভ্যতার ইংরেজি শব্দ হল civilization যা ল্যাটিন শব্দ civis থেকে এসেছে এবং যার অর্থ হলো, নগরে বসবাসরত কোন ব্যক্তি। অর্থাৎ মানব ক্রমবিকাশের যে ইতিহাস আমরা জানি, আদিম থেকে ক্রমশঃ গোষ্ঠীবদ্ধ জীব, খোলা আকাশ থেকে ক্রমশঃ বাসস্থান তৈরী, উলঙ্গ থেকে ক্রমশঃ নিজের লজ্জা নিবারণ করা, গাছের ফল আর কাঁচা মাংস খাওয়া থেকে ক্রমশঃ চাষ-আবাদ করে খাদ্যদ্রব্য তৈরী ও ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ, গোষ্ঠী থেকে ... ...
নতুন প্রজন্ম, দিশাহীন গড্ডালিকা প্রবাহে প্রবাহিত নতুন সমাজের প্রায় সব সদস্যই দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব স্পেস চেয়ে আসছে। সংসারে বাবা, মা, ছেলে, মেয়ে প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে স্পেস চাইছে। সংসারের অংশ বলেই বাকী জীবনটা সংসারের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হতে হবে, এ দর্শন আমরা মানতে পারি না, আমাদের নিজস্ব স্পেস দরকার। সংসারের কর্তার নিজস্ব স্পেস চাই, কত্রীর নিজস্ব স্পেস চাই, পুচকে-পুচকে ছেলে-মেয়েগুলোরও নিজস্ব স্পেস চাই। ফলতঃ একই সংসারের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চারটে সংসার। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে কাউরির চিন্তা-ভাবনা বা মতামত মেলে না। কেউই অন্যজনের মত মেনে নিতে রাজী নয়, অন্যজনকে স্পেস ছেড়ে দিতে রাজী নয়। এ সমস্যা যে আগে ছিল না, তা একেবারেই নয়, কিন্তু ... ...
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এযাবৎকালের বাংলা সাহিত্যের অগ্রণী মনীষীদের অন্যতম এক ঋষি। যিনি, বাংলা সাহিত্যকে যাঁরা আঁতুরঘর থেকে টেনে এনে নিজেদের চেষ্টায় প্রাপ্তবয়স্করূপে রূপান্তরিত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তিনি সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন আজীবন। বারুইপুরের প্রশাসনিক দিকের কথা বলতে গেলে বলা যায় যে, ১৮৫৮ সালে প্রথম বারুইপুর মহকুমা গঠিত হয়। আবার ১৮৮৩ সালে সেই মহকুমা মিশে যায় আলিপুর মহকুমার সঙ্গে ... ...