তথাকথিত ভালোবাসা। তার বিশ্রামে অবশেষ। বিপদে আঁখিভাসা। ভবঘুরের নেই কোনও দেশ। চেনা সীমান্তমেঘ। ফরাসি মেয়ে লাস্যময়ী। মোছে কে আবেগ? সততা এমনিতে বিবক্ষয়ী। শোয়ানো পুতুল। খ্যালেনা ফুটফুটে হাত। বিরহে আকুল। মিনারের পতনে প্রভাত। তারকা বিচ্ছেদ। যায় মুক্তি আকাঙ্ক্ষা থেমে। দ্যাখো এই ছেদ—ধারাবাহিকতা থেকে নামে... ... ...
খোলামেলা পাখি তুমি। বন্ধ জানলা। আমাকে ভাবিয়ে তুমি, কিনে আনলা। খোলামেলা মনে আজ, ডেকে আনলা। তোমাকে শনাক্ত করি, ঘাসে আর ফুলে। জীবন বন্ধ। তবু, মেঘ নামে স্কুলে।খোলামেলা মন তুমি। রূপমুগ্ধ চুলে... আমাকে শনাক্ত ক’রে, গিয়েছ না-ব’লে—আমার তফাত নেই জলে আর স্থলে। ... ...
অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা। রান্নায় স্বাদ হয়নি তেমন। অভিজ্ঞতা। বদলে যাবেই—মেঘপিয়ানোআকাশবাতাস, তোমারকথা। সমস্তটাই অভিজ্ঞতা। মলিনস্রোতা। Automatic backups। সবই অভিজ্ঞতা। ধর্ষক আর দস্যু ভাল। অভিজ্ঞতা। রক্ত ভাল। সময় ভাল। বন্ধু খারাপ। এবার্থেকে আলাপ কেবল দূরত্বতেই। অভিজ্ঞতা। অসীম। হঠাৎ। অভিজ্ঞতা। ... ...
খাবে আর হাগবে আর প’ড়ে প’ড়ে ঘুমোবে— এমন মেয়েকে আমি বউ হিসেবে চাই না আমার। আমি শুধু তেমন মেয়েরই স্বপ্ন দেখি, যে স্বনির্ভর। যে সকাল সকাল অফিসে বেরিয়ে যাবে। আর রাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলবে— ‘একটু আদর কর আমাকে... অনেকক্ষণ অনাদরে আছি...’ আমিও চাই, কোনও মেয়ে তেমন স্বামীর স্বপ্ন দেখুক, যে সকাল সকাল অফিস বা কবিতা সংক্রান্ত কোনও কাজে অনেকদূরে বেরিয়ে পড়বে। রাতে যখন বাড়ি ফিরে আসবে, তখন যেন দেখতে পায়, বউ খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে প’ড়েছে। স্বামীর কাছে যে আদর চেয়েছিল, তা স্বামী দিতে পারেনি। স্বামীর খাবার স্বামী নিজেই বেড়ে যেন খেয়ে নিতে পারে। বউয়ের সকালে অফিস। স্বামীর আরেকটু পরে। এইভাবে তো সম্পর্ক থাকতে পারে ... ...
যে ঔদার্য তোমাকে শিল্প শেখায়, তার পায়ের কাছেই গ্রামের ঘরবাড়ি, আরমেঘে মেঘে অশান্তি। তিক্ততার রং যেন মিঠেলাজুক। যে ঔদার্য তোমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়,তার গহনসম্ভাবনায় হাওয়াদের বাতিল মন, এবংঘটনার গতি আরও, আরও বেশিই—সত্যধী। মগজে বারুদ রাখো, শহর আজন্ম ফালতু। শুনছ তো? প্রশ্নের ঔদার্যে, আমরাওঅলসপ্রবণ। ... ...
জল থইথইঝুপ্পুস ঘুমডাক শুনবই‘aaj indoor’থাক বিন্দাসআন নিন্দেসব ঠিকঠাকতোর মন নেই‘ধুস্ সর তো!’প্রেমনিশ্বাস...‘ডাক শুনবই, এই বিশ্বাস...’ ... ...
দেখা করব ব’লেআমি যাচ্ছি চ’লেহেরে হাঁটছি একাজিতে যাচ্ছি একামেঘ হাসছে দূরেছায়া চাইলে ওড়েরেখে যাচ্ছি লেখাহেরে হাঁটছি একাচ’লে যাচ্ছি দূরেদেখা করব ব’লেত্যাগে চলছে জীবন,ত্যাগে চলতে পারে...চ’লে যাচ্ছি দূরেআমি যাচ্ছি উড়ে...জিতে যাচ্ছি পুড়ে ... ...
আমি ছিলেম তোমার খেলার সাথীতুমি ছিলে দহন অনুভাবকঘুড়ির মতোই এখন আকাশ কাটিসবাই বলে এসব আমার নাটকআমি ছিলেম তোমার খেলার সাথীতুমি ছিলে অন্ধ অনুভাবকআমায় তুমি করতে পারো বাতিলআমরা তবু এই সময়ের চাকর ... ...
ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। যখন খুব দুষ্টুমি করতাম, ঠাম্মি তখন গুড়ের নাড়ু বের ক’রে আনতো প্রাচীনবয়স্ক সে কোন এক কৌটো থেকে।মা থাকতো দূরে। দূরে মানে কলেজে৷ মা’কে সেভাবে কাছে পাইনি। বাবা তখন আরও ভাল চাকরির নেশায়,আরও ভাল প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই বাবাকেও পাইনি, কাছে। মা কলেজ ছাড়াও নিজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সে কী এক ভীষণ ব্যস্ততায় রাখত নিজেকে...! যেমন রাখে, আজও। মায়ের যে নিজের একটা ছেলে আছে, সে কথামা ভুলেই যেত...! হয়তো, হয়তো কেন? আজও ভুলেই থাকে।এতসবের পরে, মা’বাবা যখন ঠোঁটে ঠোঁট রেখেচুমু খায়—আমি তখন আমার রাতের খাবার ফেলে রেখে,চোখ নামিয়ে নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ ক’রে, আলো নিভিয়ে দিই। আমার ঘরের। মা’বাবা সেদিকে তাকিয়েও দ্যাখে না। ... ...
উড়িছাদএরই মধ্যে ঢুকে গ্যাছে,গোপনগন্ধকিছু।গোপনই আমার ভাল। গোপনেই, উড়িছাদ।ঘনিষ্ঠজড়াবসেকথা আমি ভুলতে পারব না।ভুলতে চাইও না।যখন পড়বে মনে–তখন একটিবার, ঘনিষ্ঠজড়াব!এখন বড় হ’য়ে গেছিবাজারমুদিখানাসাইকেল—যেতে আসতে হাসিবিনিময়।এখন বড় হ’য়ে গেছি, পারব না ছোট হতে তাই।ধ্বংস, ধ্বংসইজলের ছাপ। কালরাতে ধ্বংস এসেছিল।ধ্বংস যখনই আসে,আমরাও ভাবি লড়ে জিতব।ধ্বংস একাই পারে–ক’রে দিতে আমাদের ধ্বংস!বিপদপ্রস্তুতিআকাশছাদ, আকাশলোক।বারান্দা, পুজোর ঘর।মাথায় ছাদ,আচমকা আচমকা আচমকা! ~ গুরুচণ্ডা৯ তে ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে প্রকাশ করা আমার প্রথম কবিতাগুলো! কবিতাগুলো একসময়ে আমারই লেখা। অথচ কবিতাগুলোকে আজকে দেখলে, কত যে বেশি একাবোকা দেখায়! ... ...