গতকাল সিবিআই অভিজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ ঘোষকে শিয়ালদা কোর্টে হাজির করে। নজিরবিহীনভাবে আদালতেই বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের তরফে কেউ মামলা লড়বেন না। সেই ইস্যুতেই এদিন বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ। এরপর সিবিআই-এর আইনজীবী ‘ইন ক্যামেরা’ শুনানির আবেদন জানায়। সিবিআই-এর আইনজীবী বলেন, আদালতের ভিতরে যেভাবে বিক্ষোভ হচ্ছে, এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। অভিজিৎ মণ্ডলের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। তিনি সওয়াল করেন, পুলিশের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে গ্রেফতারের আগে অনুমতি চাওয়া হয়নি। সাতবার নোটিস পেয়েই হাজিরা দিয়েছেন তিনি, দুবার মৌখিকভাবে ডাকা হয়েছে, তখনও গিয়েছেন। কোন গ্রাউন্ডে গ্রেফতার, তা এখনও জানানো হয়নি। সিবিআইএর আইনজীবী জানান, তাঁরা সন্দেহ করছেন, টালা থানায় সাক্ষ্যপ্রমাণ বদলে দেওয়া হয়েছে, রেকর্ড নষ্ট করা হয়েছে ( রিমান্ড কপিতে কী লেখা আছে জানা যায়নি, এটা আইনজীবীর বক্তব্য)। তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন। ... ...
ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেমন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, তেমনই ভারতের এজেন্সিই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা। এতদিন দেখে-দেখে যা বুঝেছি, ওরা প্রথমে কাউকে গ্রেপ্তার করে। তারপর বলে ৯০ দিন বাদে চার্জশিট দেব। নব্বই দিন শেষ হলে আরও ছমাস চায়। ছমাস শেষ হলে কিছু একটা জমা করে বলে সাপ্লিমেন্ট দেব পরে। তারপর কোনো একদিন সপ্লিমেন্ট দিয়ে বলে, এতে কিছু বোঝা যাচ্ছেনা। আরও কাগজ চাই। সব শেষ হলে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রমাণটা কই, তখন তারা বলে, ওটা তো মিডিয়া থেকে টুকেছিলাম। ... ...
অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা। বিখ্যাত উক্তি চড়াম-চড়াম। নরমে গরমে বীরভূমকে কার্যত বিরোধীশূন্য করে ছেড়েছিলেন। রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে বলেছিলেন। খুব হইচই হয়েছিল সে সময়। খুনের চেষ্টার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, "খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।" অনুব্রত আবার বলেছিলেন, কে এই কবি? সেই নিয়ে প্রচুর লেখালিখি। এই অধমও লিখেছিল কিছু। তারপর এলো ইডি-সিবিআই যুগ। গরু পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার করা হল অনুব্রতকে। নতুন আইনের বলে। যাতে কোনো প্রমাণ লাগেনা। মিডিয়া হইচই করে লাফালেও আমি বলেছিলাম, সারা ভারতের মতো এটাও সম্পূর্ণ 'ফাঁসানো'র কেস। তার উপর গরু পাচার, সাম্প্রদায়িকতার তকমা লাগানো একদম। গুন্ডামি-জবরদখল, সবকটা ঠিক, তার বিরুদ্ধে জনসমাজে হইচই ফেলাও উচিত, কিন্তু এটা একেবারেই সেই কেস না। এর বিরোধিতা করা প্রয়োজন। তাতে অনেকেই খুব রেগে গিয়েছিলেন। মনীশ, কেজরি, প্রবীর সব কেসেই এজেন্সি ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালি অনুব্রতর কেসে নয়, এই ছিল বক্তব্য। ... ...
অভিজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ ঘোষকে কাল আবার তোলা হয় আদালতে। তাঁরা জামিন পাননি। শুনানির বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। যা পাওয় গেছে সেটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক। মোটামুটি এইঃ আদালতঃ এই মামলায় দু’টি দিক আছে। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সহ-যড়যন্ত্রকারী? না কি সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের সহ-ষড়যন্ত্রকারী? এমন কোনও প্রমাণ আছে? অভিযুক্তেরা কোনও অ্যালিবাই দিচ্ছেন? সিবিআইঃ হ্যাঁ, দিচ্ছেন। সিবিআইঃ টালা থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, উনি (অভিজিৎ মণ্ডল) ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৯ অগস্ট সকাল ১০টার সময় থানায় ছিলেন না। কোথায় ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার আগাম খবর কি সন্দীপ ঘোষদের কাছে ছিল? সিবিআইঃ এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। ... ...
কলতান দাশগুপ্ত দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন। বিচারক রায়ে বেশ কটি কারণ দেখিয়েছেন। মোটামুটি ভাবে এই, যে, গ্রেপ্তারটি পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। সর্বোচ্চ সাত বছরের কম সাজা হতে পারে, এরকম মামলায় জামিন দেওয়াই বৈধ। এছাড়াও অভিযুক্তের কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই। কাউকে হুমকি দেবার আশঙ্কা নেই, কারণ অভিযোগকারী পুলিশ। পালিয়ে যাবার আশঙ্কা নেই, কারণ তিনি একটি পত্রিকার সম্পাদক। এরকম অনেকগুলি কারণ দেখানো হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে, "বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এবং পুনরুদ্ধার করতে এফআইআরে নাম উল্লেখিত অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত।" কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, সঞ্জীব ওই একই অভিযোগে জামিন পাননি। কেউ তাঁর হয়ে বোধহয় সওয়ালও করেননি, বিচারকও মাথায় রাখেননি। আরও কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, কলতানের উকিলরা অডিওটেপ যে বানানো, বলেননি। শুধু বলেছেন, ওটা কলতান বা সঞ্জীবের রেকর্ড করা নয়। সরকারপক্ষের উকিল বলেছেন, কলতান স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন এবং তাঁর কল লিস্ট যাচাই করেই এগোনো হয়েছে। এটারও কেউ বিরুদ্ধতা করেননি। ... ...
সুপ্রিম কোর্ট এবং শিয়ালদা কোর্ট, সব মিলিয়ে দেখলে নানারকম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখনও একজনই অভিযুক্ত, তিনি যে নন কেউ বলছেনা। প্রমাণ লোপাটে জড়িত যাঁরা, তাঁদের সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার সেই অভিযুক্ত। তাহলে লোপাট হল কী? এই নিয়ে নানা জল্পনা বাজারে চলছে। সেসব এখানে উল্লেখ করা হলনা, তবে আন্দাজ করা যায়, হয় ভয়াবহতম কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা একেবারেই প্রকাশ করা যাচ্ছেনা, তেমন হলে সেটা প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেবে। অথবা এজেন্সি পরস্পরবিরোধী কথা বলছে, যেটা হলে এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকবে। কোনটা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ কোনো আপডেট নেই। ... ...
এই পর্যায়ে এইরকম অদ্ভুত শুনানি আমি শুনিনি। স্ট্রিমিং শুরু হয় দেরিতে, বিভিন্ন জায়গায় নানা টুকরো। শুনে, জুড়ে টুড়ে হয়তো করা যেত, কিন্তু অতটা চাপ নিলে অনেকদিন লাগবে, তাই লাইভ-ল এর উপরেই ভরসা করতে হল। তারা যদি এক আধটা কথা বাদ দিয়ে থাকে, তো সেটা অনুবাদেও নেই। দ্বিতীয় আরেকটা কথা না বললেই নয়, যে, এটা শুনতে, পড়তে এবং অনুবাদ করতে গিয়ে কীকরকম নেটফ্লিক্সের ওয়েব-সিরিজের কথা মনে হচ্ছিল। নির্যাতিতার বাবার চিঠি, তদন্তের কিছু গভীর ব্যাপার, যা কিছুতেই প্রকাশ করা যাবেনা, কিন্তু তার অদ্ভুত সব ইঙ্গিত দেওয়া হবে, যা থেকে সবরকম মানে করা যায়। জল্পনা, সূত্র কোনোকিছুরই কোনো আদি বা অন্ত নেই, সেটাকেই বস্তুত ধোঁয়া দেওয়া হল, এবং নানা জল্পনা আবার ছড়িয়েও পড়েছে। সিবিআই আজ অবধি কোনো আপডেট দেয়নি। কোর্টেও তদন্ত নিয়ে স্রেফ অদ্ভুত সব ইঙ্গিত, ঠিক যেন পরের এপিসোড পর্যন্ত আগ্রহ জিইয়ে রাখার জন্য। ... ...
সকাল থেকেই কুনাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি অবমাননাকর আলাপ নিয়ে ইন্টারনেট তোলপাড়। এক অভিনেত্রী এবং আন্দোলনকারীর ছবি বা ভিডিও দিয়ে ( জানা মুশকিল, কারণ পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে) কুনাল দেবাংশুকে জিজ্ঞাসা করেন, পাত্রী হিসেবে কেমন? দেবাংশু লেখেন, দজ্জাল, কাজ নেই, বদন বিগড়ে গেছে, ইত্যাদি। কী কারণে এই রসালাপ? কুনাল দাবী করেন, পরে মিলিয়েও দেখা গেছে, ওই অভিনেত্রী একটি চ্যানেলে অন ক্যামেরা এই দুজনকে গালিগালাজ করেন। দেবাংশুকে বলেন 'কালিঘাটের কুলি'। কুনাল এবং দেবাংশুকে গণধোলাই দিলে কে বাঁচায় তিনি দেখবেন। এবং ডাক্তারদেরও চিকিৎসা করতে বারণ করেন। এই বক্তব্যটা নিয়ে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ... ...
১। সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদালতে সিবিআইয়ের বক্তব্য থেকে। কার্যবিবরণী হাতে আসেনি। কিন্তু সংবাদপত্রের রিপোর্টে পাওয়া গেছে সাত দফা সন্দেহঃ ক। ওসি ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছেছিলেন। খ। দ্রুত ঘটনাস্থল ঘেরার কাজ করতে ব্যর্থ। গ। এফআইআরএ দেরি। ঘ। ভিডিওগ্রাফি ঠিকঠাক হয়নি। ঙ। পরিবারের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবী না শুনেই দাহ। চ। মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে দেরি। ছ। মৃত বুঝেও অভিযোগপত্রে ' অচৈতন্য' লেখা হয়েছে। ... ...
সকাল শুরু হল কলতান দিয়ে। আগেরদিন যে অডিও ক্লিপ 'ফাঁস' হয়েছিল, সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তকে তার একটি কণ্ঠস্বর হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেছে পঃবঃ পুলিশ। তারা একটা সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে, অভিযোগটা যথাযথ বলে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ক্লিপটিকে জাল, এবং পুরোটাকেই চক্রান্ত বলেছেন। মোসাদ, সিআইএ, এদের কাছ থেকে ট্রেনিং নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ, বলেও দাবী করেছেন (যদিও গ্রেপ্তারটা করেছে রাজ্য পুলিশ)। সেলিমের লিখিত বিবৃতিটি পুরো পাইনি। পেলে লিংক দিয়ে দেব। আপাতত মৌখিক বিবৃতিটি রইল। ... ...