চলে যাবআমরা সবাই চলে যাবযাঁর কাছ থেকে এসেছিলামতাঁর কাছে।কিছুই নিয়ে যাব না সবকিছুই রেখে যাব।শুধু এই পৃথিবীতেই আমাদের যত 'আমার আমার' ---অহংকারের প্রতিযোগিতা,কিন্তু তাঁর কাছে এসবের কোনো মূল্য নেইতাঁর কাছে একজন ভিখারি ও একজন ধনী দুজনেই সমান।পৃথিবীতে যাদের অহংকারে মাটিতে পা পড়ে নাতারাই সেখানে তাঁর সামনে মাথা নিচু করে থাকবে,পাশেই থাকবে ---সাদামাটা সহজ সরল কেউ ---সেও মাথা নিচু করে আছে।তফাৎটা হলো কোথায়?সেখানে কোনো তফাৎ নেইযত তফাৎ এই এখানে, পৃথিবীতে।---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী ২৭/২/২০২৬ ... ...
বরণের ভাষা: শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য ও বাংলার প্রথম আত্মসমর্পণ। অয়ন মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ভেতর ভক্তি আন্দোলনের যে স্রোত একদিন নীরবে ঢুকে পড়েছিল, তার একটি বড় ফলাফল মালাধর বসুর লেখা শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য। কাব্যগ্রন্থটি কে আমরা শুধুমাত্র অনুবাদ কাব্য বলবো না বরং বইটি ছিল সেই যুগের মানসিকতার দলিল বাংলা ভাষার বিবর্তনের এক নতুন অধ্যায়। এক সামাজিক পরিবর্তনের চিহ্ন। এক ধর্মীয় জাগরণের নতুন ভাষ্য। বলা যেতে পারে বাংলা ভাষা যখন নিজস্ব ভঙ্গিতে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে, সেই নতুন পরিবর্তনের বাঁকেই এই কাব্যর জন্ম। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্যগ্রন্থের একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্য আছে। পঞ্চদশ শতক। বাংলার সমাজ বদলাচ্ছে। গ্রাম বাড়ছে। বাজার তৈরি হচ্ছে। আঞ্চলিক ভাষা শক্ত হচ্ছে। সংস্কৃত পুঁথি ... ...
অন্ধকার ঘুচলো ঠিকই, কিন্তু যে ক্ষত রয়ে গেল তার দায় কার? অরবিন্দ কেজরীওয়াল ও মণীশ সিসৌদিয়ার এই আইনি নিষ্কৃতি আসলে ক্ষমতার দম্ভ বনাম ব্যক্তিগত সততার এক অসম লড়াইয়ের সমাপ্তি, যা আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। এটি কেবল একটি আইনি জয় নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্রের সেই সর্বগ্রাসী রূপের বিরুদ্ধে সত্যের প্রতিবাদ, যেখানে আইনি প্রক্রিয়াকেই প্রতিপক্ষ দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোন প্রমাণ ছাড়াই মাসের পর মাস নির্জন কারাবাস একজন ব্যক্তির আত্মপরিচয় ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর যে গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা অপূরণীয়। এটি ছিল তিলে তিলে গড়া একটি রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে জনমানসে ধূলিসাৎ করার এক সুক্ষ্ম মানসিক ষড়যন্ত্র। ... ...
লিলির মুদ্রা ছোঁড়াসেট থিওরি, বুলিয়ান বীজগণিত আর ফাজি লজিক শেখার পর লিলি আর মিমি এখন গণিতের ওস্তাদ হয়ে গেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, পৃথিবীর সবকিছুকে সুনির্দিষ্টভাবে মাপা যায় না — অনেক কিছুই অনিশ্চিত। রাজা এখন চান তারা সম্ভাবনা তত্ত্ব শিখুক — যে তত্ত্ব আমাদের অনিশ্চয়তা বুঝতে সাহায্য করে।গল্প শুরু করি লিলির ঘর থেকে।একদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি একটা মজার জিনিস লক্ষ্য করছি। মুদ্রা ছুঁড়লে কখনও মাথা পড়ে, কখনও লেজ পড়ে। আগে থেকে বলা যায় না কোনটা পড়বে। এর কোনো নিয়ম নেই?"মা বললেন, "নিয়ম আছে, কিন্তু সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এটা হলো সম্ভাবনার জগৎ।"মিমি তখন ঘরে ... ...
ফাজি লজিকের পুরো ছবিআগের নয়টা অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি — ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, ফাজি কন্ট্রোলার, নিউরো-ফাজি সিস্টেম, ফাজি ধাঁধা, আর ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা সবকিছু একসাথে করে দেখব — ফাজি লজিকের পুরো ছবি আঁকব।পরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বসল। লিলি বলল, "মা, আমরা নয়টা অধ্যায়ে ফাজি লজিকের অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু সবকিছু একটু এলোমেলো লাগছে। একটা বড় ছবি দেখলে ভালো হত।"মা বললেন, "ভালো কথা। আজ আমরা সবকিছু একসাথে করে দেখব — ফাজি লজিকের পুরো ছবি ... ...
আগের পর্বগুলো জানতে এখানে পড়ুন | পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪ | নাবলুস, সামারিয়া, প্যালেস্টাইন, আনুমানিক ১২৫ BCE. হাসমোনিয়ান সম্রাট জন হিরকানুস তখন যুদ্ধের ময়দানে l সামারিয়া প্রায় জয় করেই ফেলেছেন অতর্কিতে আক্রমণ করে l এর আগে যখন এসে ছিলেন গ্রীক বণিকের ছদ্মবেশে তখন অনেক খবরাখবর নিয়েই গেছিলেন l এবারে সেসব কাজে লেগেছে l যুদ্ধের বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই তার অনেক সেনারা কেউ বা বণিক কেউ বা কারীগর কেউ বা তীর্থযাত্রী এধরণের ছদ্মবেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো সামারিয়াতে ... ...
এক সময় পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতি দিয়ে পুরা বিশ্ব প্রভাবিত হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের ইয়াং জেনারেশন স্বেচ্ছায় পশ্চিমা লাইফ স্টাইল বেছে নিত। এখনো এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে খোদ আমেরিকাতেই এখন আরেকটি ভিন্ন ধারা ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (টিকটিক ও রেডনোট) তরুন আমেরিকানদের ভেতরে চায়না ম্যাক্সিং নামে একটি ট্রেন্ড ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।চায়না ম্যাক্সিং (Chinamaxxing) হলো ২০২৬ সালের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে TikTok-এ ভাইরাল হওয়া একটি নতুন ট্রেন্ড, যেখানে মূলত পশ্চিমা তরুণ তরুণীরা চীনের সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং পণ্যসমূহকে খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করছে। এতে গরম পানি খাওয়া, এশিয়ান স্কোয়াট, সি-ড্রামা, চা পান এবং স্থানীয় অভ্যাসগুলোর মতো চীনা ... ...
লিলির স্বপ্নের জগৎআগের আটটা অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি — ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, ফাজি কন্ট্রোলার, নিউরো-ফাজি সিস্টেম, আর ফাজি ধাঁধা। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা দেখব, ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ কোথায় — কী নতুন সম্ভাবনা আছে, কীভাবে ফাজি লজিক আগামী দিনের প্রযুক্তি বদলে দেবে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। পরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বসল। লিলি বলল, "মা, আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি। কিন্তু জানতে ইচ্ছে করছে — এরপর কী? ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ কোথায়?"মা বললেন, "ভালো ... ...
লিলির যুক্তির আসরআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি — ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, ফাজি কন্ট্রোলার, আর নিউরো-ফাজি সিস্টেম। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিক ব্যবহার করে কিছু মজার ধাঁধা সমাধান করব। এখানে দেখা যাবে, কীভাবে ফাজি লজিক বাস্তব জীবনের অস্পষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের বন্ধুদের নিয়ে একটা যুক্তির আসর বসানোর সিদ্ধান্ত নিল। তারা ঠিক করল, ফাজি লজিক ব্যবহার করে কিছু মজার ধাঁধা সমাধান করবে।লিলি বলল, "আমরা তো ফাজি লজিক ... ...
লিলির শেখা মেশিনআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছিলাম ফাজি লজিক, ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম আর ফাজি কন্ট্রোলার। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের মনে একটা প্রশ্ন — ফাজি সিস্টেম নিজে থেকে শিখতে পারে না, নিয়ম আগে থেকে ঠিক করে দিতে হয়। অন্যদিকে নিউরাল নেটওয়ার্ক শিখতে পারে, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন। যদি এই দুইয়ের মিশ্রণ ঘটানো যায়? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব নিউরো-ফাজি সিস্টেম — যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্কের শেখার ক্ষমতা আর ফাজি লজিকের বোধগম্যতা একসাথে কাজ করে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে ... ...
না, না – সে কাহিনি বা এ কাহিনির কোনোটারই কাহিনিকার আমি নই আমি আদৌ কাহিনিকারই নই কারণ গল্পের প্রোট্যাগনিস্ট এগারো বছর বয়সী শানু যে ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠবে সে যখন অসময়ে স্কুল থেকে প্রজাপতির ওড়ার সঙ্গে মিল রেখে উড়তে উড়তে এসে ওদের রংচটা প্লাস্টার খসা একতলা বাড়ির বাঁশের বাখারির গেট খুলে একচিলতে বাগান পেরিয়ে তিন ধাপ ওপরে সারা মুখ বসন্তের দাগে ভরা বারান্দায় উঠে ঘরে ঢুকতে যায় কারণ সে একটা প্রাইজ পেয়েছে শঙ্খ ঘোষের ‘মিথ্যে কথা’ আবৃত্তি করে আর স্কুলে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হওয়ার পর দুপুরেই ছুটি হয়ে গেছে তখন আমি কোথায় ? আমি তখন উর্দি গায়ে সকাল ... ...
( ৯ ) পৌনে একটা নাগাদ গৌরীশঙ্কর চক্রবর্তীর ফোন এল। অনিন্দ্যবাবু এই ফোনটার প্রতীক্ষাতেই উন্মুখ হয়ে বসেছিলেন। --- ' হ্যাঁ বল... ' --- ' খবর নিয়ে নিয়েছি স্যার। ঠিকই আছে... রবীন্দ্রনাথ দত্ত বাড়িটার একতলায় ভাড়া থাকে। বাড়িটা হচ্ছে গিয়ে তিনতলা। গলির মুখেই। নতুন রঙ করা হয়েছে। সোনালি কালার, নীল বর্ডার... ' --- ' আচ্ছা আচ্ছা... ঠিক আছে। মেয়ের খোঁজ নিয়েছ ? ' --- ' হ্যাঁ, একটা মেয়ে আছে। নাম মনোমিতা। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। ইংলিশে অনার্স। পড়াশোনায় ভাল বলে খবর পেলাম। আর ওই ইয়ে স্যার... দেখতে শুনতে নাকি ভাল। কায়দা করে খবর বার করেছি। যদি বলেন তো আগাম বাপ মায়ের সঙ্গে ... ...
( ৮ ) অনিন্দ্যবাবু শোয়ার ঘরে গেলেন এবং চুপচাপ শুয়ে পড়লেন। সহধর্মিণী শিঞ্জিনী একটা পেপার ব্যাক সংষ্করণের ইংরিজী থ্রিলার নভেলেট পড়ছিলেন। তার পড়ার নেশা এখনও বজায় আছে। তবে শিঞ্জিনী বাংলা বই পড়েন না বললেই হয়। আসলে একটু অন্যধরণের সামাজিক কাঠামোয় লালিত হওয়ার ফলে বাংলা লেখা পড়ার অভ্যাস তেমন গড়ে ওঠেনি। জন্ম হয়েছিল শিলং-এ, পরে তারা থেকেছেন পুনেতে। কলকাতায় যখন এসেছেন তখন তার বয়স সাতাশ। তার এক বছর পরে অনিন্দ্যবাবুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। খাটের একপাশে বসে থ্রিলার পড়তে পড়তে শিঞ্জিনী বললেন, ' ঘুম পেয়ে গেছে ? আরও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে পারতে। এতক্ষণ জেগে থাকার ... ...
ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি অধ্যায় ৬: ফাজি কন্ট্রোলার — লিলির অটোমেটিক ফ্যানআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম — কীভাবে ইনপুট নিয়ে, ফাজি নিয়ম ব্যবহার করে, আউটপুট বের করা যায়। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, ফাজি লজিক দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই সিস্টেম দিয়ে কীভাবে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি কন্ট্রোলার।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ছিল। গরম পড়েছে, কিন্তু ফ্যানের গতি ঠিক করছে না। সে ভাবল, "এই ফ্যান যদি নিজে থেকেই তাপমাত্রা বুঝে গতি বাড়াতে পারত!"সে ... ...
বাঙালি যখন কাউকে 'চাণক্য' বলে ডাকে, তখন বুঝতে হবে সে লোক হয় অত্যন্ত চালাক, নয়তো অত্যন্ত দুর্ভাগা। কারণ বাঙালির কাছে চাণক্য মানেই এমন কেউ, যিনি সারাজীবন অন্যের জন্য জাল বুনলেন, আর শেষমেশ সেই জালেই নিজে জড়িয়ে পড়লেন। মুকুল রায়ের জীবনটাও ঠিক এইরকম একটি অদ্ভুত বাঙালি গল্প — যেখানে চতুরতা আর ভাগ্য, দুটোই পাল্লা দিয়ে হেরেছে। ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মাসের শেষ দিন। বাঙালি সাধারণত মাসের শেষে বেতন পায়, কিন্তু মুকুল রায় সেদিন পেলেন পদচ্যুতির নোটিশ। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো — দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে, একটি ঘোষণার মাধ্যমে, অত্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। বাঙালি রাজনীতিতে 'গণতন্ত্র' মানে হলো, নেত্রী ... ...
বাজার অর্ধসমাপ্ত রেখে কেবল হালকা ব্যাগ হাতে বাড়ি ঢুকেছেন অজিতবাবু। থমথমে মুখ,একটা দুঃখের চিহ্ন অবসন্ন শরীরে।– “শুনছো, তপতী চলে গেল!”ক্ষীণ অথচ স্পষ্ট কন্ঠে কথাগুলো বলার আগেই ওনার স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী এসে দাঁড়িয়েছেন সামনে। ভাবছেন,কী হলো রে বাবা, এইমাত্র বাজার গেল মানুষটা এক্ষুণি আবার মুখ চুন করে ফেরার কারণটা কী? আজ রবিবার। সব মিলিয়ে বাজারটা বড় ব্যাগেই করার কথা ওনার। তাই চিন্তিত ও অবাক হওয়ার ভাবটা ছিল আগে থেকেই। এখন খবরটা শুনে ভ্রু কুঞ্চিত হলো পূর্ণিমার। বললেন,– “কী হয়েছিলো হঠাৎ?” অবসন্ন হাতে ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করেন অজিত। বললেন, – “জানি না ঠিক। শরীর ভালো ছিলো না বলে শুনেছিলাম কিছুদিন আগে। হঠাৎ যে কী করে ... ...
( ৭ ) অখিল অধিকারীর লাশ এখন লাশকাটা ঘরে। পুলিশ মিশিরডাঙার মাঠ থেকে বডি তুলেছে খটখটে দিনের আলোয়। সাদা চোখেই স্পষ্ট বোঝা গেছে দুটো মাথায়, একটা গলায় গুলির ছেঁদা হয়েছে। তবু সুরতহাল এবং শবব্যবচ্ছেদের রুটিন মানা জরুরি। নইলে তদন্ত হবে কী করে ! একটা কমিটি নাকি কাল পরশুর মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। জনা চারেক সন্দেহভাজন গা ঢাকা দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। এদিক সেদিকে নাকি ফাঁদ পেতেছে কিন্তু পাখি এখনও জালে পড়েনি। কেউ কেউ বলছে গুলির শব্দ পেয়েছে। বেশির ভাগই বলছে কিছু ... ...
লিলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার মেশিনআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম ফাজি লজিকের নিয়ম — কীভাবে 'যদি-তবে' আকারের নিয়মগুলো তৈরি করতে হয়। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, ফাজি লজিক দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই নিয়মগুলো একসাথে কীভাবে কাজ করে? কীভাবে ইনপুট থেকে আউটপুট বের করা যায়? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমরা গতকাল ফাজি নিয়ম শিখেছি। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না — এই নিয়মগুলো দিয়ে কীভাবে আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়? যেমন — আমি আজ বাইরে যাব ... ...
আমাদের মত গুরুবাদী এবং প্রথানুগামী দেশে প্রশ্ন করাকে খুব ভালো চোখে দেখা হত না কোনোকালেই। গুরুজনদের প্রশ্ন করাকে তো রীতিমতো গর্হিত অপরাধ ও ধৃষ্টতা হিসেবেই গণ্য করা হত। কার বক্তব্য সঠিক তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কার বয়স বেশি। কোনো প্রথা বা অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত ঐতিহ্যের প্রশ্নটি। পরিবারে, শিক্ষাঙ্গনে, সমাজে সর্বত্রই এই সংস্কৃতি পরিব্যাপ্ত ছিল এবং নতুন নতুন চেহারায় তা আজও ভালোমতই টিকে আছে। তার বাহ্যিক রূপের বদল হয়েছে মাত্র। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে, যেমন শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত, এমনকি চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে নোটমুখস্থ পড়া, অগভীর এম ... ...