প্রথম পর্ব দুপুরের চড়া রোদে আত্রাই নদীর পারের বালুচর একেবারে গরমের তাওয়া হয়ে আছে। চৈত্র মাসের ভরা দুপুর। বাতাস নেই, যেন আকাশের নীলচে আগুন সরাসরি বালুর উপর নেমে এসেছে। সেই উত্তপ্ত বালুর উপর পায়ের ছাপ পড়ছে, আর মুহূর্তেই মুছে যাচ্ছে—যেন সময় নিজেই হাঁপিয়ে উঠেছে। এই বালুচরের সঙ্গে পরেশ মাঝির চেনাজানা বহু দিনের। বছরভর সে এই নদীতেই নৌকা বায়, জাল ফেলে, মাছ ধরে। কিন্তু গাজনের এই পনেরো দিন সে আর শুধু মাঝি থাকে না—সে হয়ে ওঠে শিবের বাহক। পাট ঠাকুর কাঁধে নেওয়ার পর মানুষ বদলে যায়—এ কথা সে বহুবার শুনেছে তার বাবার কাছে। আজ সে নিজেই সেই কথার প্রমাণ। পাট ঠাকুর সারা বছর ... ...
চাঁদের পায়েস দিয়ে সূর্যরুটি খেতে চাইত নীলাক্ষী। মাথায় হেঁটে যেত বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা কুকুরের আবছা ডাক। বাড়িতে মনসা ঠাকুর ছিল। সন্ধেবেলায় মা যখন প্রদীপ জ্বালাতো, নীলাক্ষী পাশে ব’সে দেখত। চিরুনি। সামান্য একটা চিরুনির সঙ্গেই নীলাক্ষী ভাব জমিয়ে ফেলেছিল। নীলাক্ষী তখনও পায়ে আলতা প’রতে শেখেনি। মা প’রিয়ে দিতো দুপুরের শেষদিকে। দু’চারটে বেড়াল মাছের কাঁটা খাওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যেই মারপিট বাঁধিয়ে দিতো। মায়ের মন ছিল নীলাক্ষীর পায়ের দিকে, নীলাক্ষীর মন ছিল হিংসুটে বেড়ালগুলোর দিকে। একটা কাক উড়ে যেত ডাকতে ডাকতে। মা বলত, ‘এই অসময়ে আবার মরণ এলো!’ নীলাক্ষী মনে মনে ভাবত, কাকেরা বুঝি বোবা হ’লেই ভাল হতো? কাককে চুপ করাতে পারলেই ... ...
টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা ঝংকার তুলে বেজে উঠতেই সেটা ধরে নির্মাল্যবাবু প্রায় একনিঃশ্বাসে বলে গেলেন, – “হ্যালো, হ্যাঁ, তোমাদের পাগলাটে বাংলা কাগজের খবর আমি বিশ্বাস করি না। এমনটা হলো, আর একটা খবরে আজকে সবার ঘুম ভাঙলো! সেটাই আবার ফলাও করে ছেপে দিয়েছে, আশ্চর্য!”অন্যপ্রান্তের একটি যুবক কন্ঠ এতোক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমতা-আমতা করে বললো, “হ্যাঁ…মানে স্যার, ওই পথ দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তো সামনে এলো ব্যাপারটা। নাহলে কে আর জানতো বলুন! একটা পাগল,ভবঘুরে লোক বাসচাপা পড়েছে এটা কোনো কলামে ছোট্ট করে জাস্ট লেখা থাকতো। অ্যাতোবড়ো কেসহিস্ট্রি বেরোবে কে জানে!”নির্মাল্যবাবু একটি ইংরেজি দৈনিকের অ্যাসিট্যান্ট চিফ এডিটর। তাই বাংলা ‘মুক্তবার্তা দৈনিক’-এর তরুণ ... ...
বিজ্ঞান জিতেছে নাকি কুসংস্কার ? পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সন্নিকটে মায়ের মৃতদেহ থেকে চক্ষুদান (কর্নিয়া) করানোর অপরাধে আমীরচাঁদ শেখকে ( যিনি একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবী ) তিন দিন জেল খাটতে হয়েছে। আজ এই নিয়ে এক গভীর বিষাদ ও বিচলন নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই (যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ)। মরণোত্তর দেহদানের মতো একটি নিঃস্বার্থ ও মহৎ কাজ যখন আমাদের সমাজে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং একটি শোকাতুর পরিবারকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার বদলে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক কাঠামো কতটা গভীর সংকটে নিমজ্জিত। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই বিড়ম্বনাটি কেবল কিছু মানুষের উন্মাদনা নয়, বরং সামষ্টিক বিশ্বাস বনাম ব্যক্তিগত আধুনিকতার ... ...
রোবটের দ্বিধা আর জাদুর পথপ্রথম অধ্যায়ে আমরা বাইনারি বনের কথা বলেছিলাম। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা রোবট বানিয়েছিলাম, যে ডিটারমিনিস্টিক ফিনাইট অটোমেটন হয়ে রাজার ভাষা চিনত। সেই রোবট কাজ করত নিশ্চিতভাবে। প্রতিটি অবস্থা থেকে প্রতিটি ইনপুটের জন্য তার একটা নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল। সে কখনো দ্বিধায় পড়ত না, কখনো দুই পথে যেত না।কিন্তু একদিন বনে এক জাদুকর এল। জাদুকর রাজাকে বলল, রাজা, আপনার রোবটটি ভালো, কিন্তু আমি তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারি। আমি তাকে জাদু দিতে পারি, যাতে সে একই সময়ে একাধিক পথে যেতে পারে।রাজা আশ্চর্য হয়ে বললেন, একই সময়ে একাধিক ... ...
রোবটের মনে নিয়মের শৃঙ্খলপ্রথম অধ্যায়ে আমরা বাইনারি বনে গিয়েছিলাম। সেখানে ছিল শুধু দুইটি বাসিন্দা, ০ আর ১। ছিল রাজা, ছিল রাজার ভাষা, আর ছিল একটি রোবট যে সেই ভাষা চিনতে পারত। আজ আমরা সেই রোবটকেই আরও গভীরভাবে জানব। আজকের গল্প ডিটারমিনিস্টিক ফিনাইট অটোমেটন নিয়ে, যার মানে হলো নিশ্চিত স্বভাবের সসীম অবস্থার যন্ত্র।মনে করো, সেই বাইনারি বনের রাজা তাঁর রোবটটিকে ডেকে বললেন, রোবট, তুমি তো ভালো কাজ করছ, কিন্তু আমি চাই তোমার কাজের নিয়মগুলো আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি। তুমি কীভাবে সিদ্ধান্ত নাও, সেটা কি আমি আগে থেকেই বলে দিতে পারি?রোবট বলল, হ্যাঁ রাজা, আপনি আগে থেকেই বলে দিতে পারবেন। আমার প্রতিটি ... ...
প্রাপক: মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান ও নবগঠিত সরকারের সদস্যগণতারিখ: [১4 ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]প্রিয় তারিক রহমান সাহেব এবং আপনার সরকারের সদস্যবৃন্দ,আমি একজন নাস্তিক লিখছি। শুধু একজন নাস্তিক হিসেবে নই, বরং সেই বাংলাদেশীর পক্ষ থেকে লিখছি, যার জন্ম ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, যে বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এই নীতিতে বিশ্বাস করে বড় হয়েছে। আমি লিখছি সেই জুলাই বিপ্লবের একজন সাক্ষীর পক্ষ থেকে, যে ২০২৪-এর রাস্তায় দেখেছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত সোনার বাংলার স্বপ্ন। আজ, ২০২৬ সালের প্রথম প্রহরে, আপনাদের সরকার গঠনের কয়েক মাসের মাথায়, আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করছি: সেই স্বপ্নটার কী করলেন আপনারা?আপনারা হয়তো এই চিঠি পড়বেন না, পড়লেও আমলে আনবেন না। ... ...
কলকাতার পেটে একটা বাচ্চা ঢুকে পড়েছে, কী বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা! কলকাতার স্তনের দিকে একমুহূর্ত তাকিয়ে থাকা যাচ্ছে না। কী ভয়ংকর! কলকাতার কোমর অব্দি চুল! আমারটা দাঁড়িয়ে গিয়েছে! জাঙ্গিয়ার দোকান দিয়েছিলাম। কোথায় দিয়েছিলাম? সে যাগ্গে... যখন রাত বাড়ে, তখন আমার খাট কাঁপতে থাকে। ভূমিকম্প! কাকে যেন ডাক্তার বলেছিল, ‘আপনার মাথায় কি বীর্য উঠে গেছে?’ কে যেন প্রশ্ন করে: ‘ও শালিখ! শালিখ তুই শুনতে পারছিস?’ জবাব আসে: ‘হ্যাঁ, পারছি! তবে আমি আর শালিখ নই, আমার নাম এখন থেকে পুঁদু!’ছেলেটা মেয়েটাকে বিরাট ভালবেসেছিল! এত্তটাই ভালবেসেছিল যে, ছেলেটা শেষমেশ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করল! বুঝুন তাহলে... ওই যেন কে বলছে: ‘তুই খ এর ছেলে! তোকে ... ...
বয়ে চলা স্রোত ও নোনা জলের আখ্যান সমুদ্রের জলমাত্রই নোনতা ; অবশ্য এই লবণতার পরিমাণে রকমফের আছে। পৃথিবীর দুই মেরুর দিকে গেলে এই লবণের মাত্রা অনেকটাই কম, আবার ক্রান্তীয় অঞ্চলের নিম্ন আক্ষাংশিক পরিসরে সমুদ্রের জল অনেক বেশি লবণাক্ত। উষ্ণতার সঙ্গে এই লবণতার একটা ধনাত্মক সম্পর্ক আছে – উষ্ণতা বাড়লে জলের লবণতার পরিমাণ বাড়ে, উষ্ণতা কমলে জলের লবণাক্ততা কমে যায়। এই নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে,সমুদ্রের জলে প্রায় ৪০ রকমের লবণ মিশে আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মেলে NaCl বা সোডিয়াম ক্লোরাইড। এই লবণই আমাদের খাবার পাতে, রান্নাঘরে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর চারভাগের তিন ভাগ জুড়ে থাকা ... ...
একটাই বাতাস। তার মধ্যেই কেউ বলছে, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’, কেউ বলছে, ‘শুয়োরের বাচ্চা তোকে ক্যালাব’, কেউ বলছে, ‘আপনার শরীর কেমন আছে এখন?’ কেউ বলছে, ‘কালকে রাতেও হ্যাণ্ডেল মেরেছিস?’ কেউ বলছে, ‘তুই ছেড়ে গেলেও দুপুরে ভাত খাব, তুই থেকে গেলেও দুপুরে ভাত খাব– তোর যাওয়া আসায় আমার কোনও যায় আসে না।’ কেউ বলছে, ‘দে দে আরও দে... বাবা গো! দে দিতে থাক... বাবা গো! আঃ! আঃ! আঃ!’ কেউ বলছে, ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেলাম। ভীষণ দরকার ছিল। মায়ের শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।’একটাই মন। তারও আবার নানারকম আবদার। কারও কাছে পাঁচটা টাকা পর্যন্ত নেই। পাঁচটা টাকা... খিদের কষ্ট! কারও বাড়িতে একইদিনে তিনরকমের মাছ ... ...
আর্টিকল #: 34240বিজ্ঞানী, নৈতিকতা ও আত্মপ্রবঞ্চনা: চমস্কি বিতর্ক ভূমিকা বিজ্ঞান ব্যক্তিগত অনুভূতি বা সুবিধাজনক নীরবতার ঊর্ধ্বে—এটাই আধুনিক জ্ঞানচর্চার মৌলিক নীতি। বিশেষত যখন কোনো বিজ্ঞানীর গবেষণার বিষয়ই মানবমন, অবচেতন কাঠামো ও নৈতিক বিচার, তখন তাঁর নিজের আচরণও বিশ্লেষণের বাইরে থাকতে পারে না। এই প্রবন্ধের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয়; লক্ষ্য হলো বুদ্ধিজীবীর নৈতিক দায়, আত্মপ্রবঞ্চনার কৌশল এবং ক্ষমতার নিকটবর্তী হলে জ্ঞানচর্চায় যে ঝুঁকি তৈরি হয়—তার উন্মোচন। এই আলোচনায় নোয়াম চমস্কি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। চমস্কির তাত্ত্বিক অবস্থান চমস্কি ভাষাবিজ্ঞানকে মানবমনের কেন্দ্রে স্থাপন করেন। তাঁর রূপান্তরমূলক উৎপাদনশীল ব্যাকরণ ও সার্বজনীন ব্যাকরণের ধারণা মানুষের সহজাত মানসিক কাঠামোর কথা বলে। এই যুক্তিবাদী অবস্থান অনুযায়ী ভাষা, চিন্তা ও বিচার ... ...
যুদ্ধ। যুদ্ধের শুরু। আগেই যুদ্ধ। রক্ত ঝরার আগে, তীর উড়ানোর আগে, শঙ্খধ্বনির আগে। এটি একটি নিঃশব্দ বিস্ফোরণ, যা ঘটে ভিতরে, হাড়ের মজ্জায়, হৃৎপিণ্ডের গহীনে। এটি শুরু হয় যখন আমি প্রথম তাকে দেখি। না, দেখি না, পর্যবেক্ষণ করি। দূর থেকে, এক প্রান্তরে, সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ছে, তাকে ঘিরে আলো একটি করোলা তৈরি করেছে, একটি স্বর্ণিম রেখান্তর, যেন সে নিজেই আলোর উৎস, একটি মানবাকৃতির সূর্য।সে দাঁড়িয়ে আছে। সহজভাবে, অনায়াসে, যেন পৃথিবী তার পায়ের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়েছে। তার কাঁধ চওড়া, কিন্তু কোমর সরু, একটি ধনুকের মতো নমনীয়তা আছে শরীরে। তার চুল কালো, ঘন, যা হালকা বাতাসে নড়ে, কিন্তু অগোছালো হয় না, ... ...
জুলাইয়ের হাসিনা-আওয়ামী লিগ বিরোধী ন্যারেটিভকে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ন্যারেটিভে। দেখা গেল দেড় বছরে, নির্বাচনের পর, সেটা বহুলাংশে ঘুরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে রক্ষার ন্যারেটিভে রূপান্তরিত হয়েছে।
কোমরের কাছটায় মাছবাজার আর ঘাড়ের কাছটায় গুজব ঘুরে বেড়ায় ফুলটুসির। ফুলটুসির বুকের দিকে তাকালে আমাদের মতো ছেলেরাও লজ্জায় ঘামতে থাকে। ফুলটুসি হেসে উঠলেই শহরে উৎসব লেগে যায়। এত চকচকে ওর দাঁতগুলো! এই শহরে এমন কোনও মিষ্টির দোকান নেই, যেখানে ফুলটুসির ঠোঁটের মতোই নরম আর আঠালো মিষ্টি পাওয়া যায়। নেই এমন কোনও মিষ্টির দোকান। ফুলটুসি আমাদের শরীর দেয়নি, আমরাও কেউ ওর কাছে শরীর চাইনি– কিন্তু দু’চোখ দিয়ে আমরা ফুলটুসির গোপন বিছানায় অর্ধেক ঘুমিয়ে এসেছি।ফুলটুসিকে নিয়ে আমরা যারা জেন জ়ি, তারা একটা মজার কোবতে লিখেছি। আপনাদেরকে শোনাই—পাঁউরুটি ভেবে তাকে খেয়ে নেব একদিনঘুমোব না সাতরাত, মুছে যাব একদিনআমাদের নেই দোষ, বেকার যুবক তিন—মুছে ... ...
শুরুটা এক বনের গল্প দিয়ে করি। এই বনের নাম বাইনারি বন। বনের প্রতিটি বাসিন্দা হয় ০ নয় ১। তাদের কখনো অন্য রূপ নেই, অন্য কোনো পরিচয় নেই। তারা শুধু ০ আর ১-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই বনের প্রধান বিধান হলো, বনের প্রতিটি প্রাণীই এই দুই সংখ্যার কোনো না কোনো রূপ ধারণ করে।বনের এই দুই বাসিন্দাকে একসাথে বলা হয় অ্যালফাবেট। আর বনের পুরো নামটি হলো Σ, সিগমা। সিগমা হচ্ছে একটি সেট, যার ভেতর আছে মোট দুইটি উপাদান। যেমনটি লিখি:Σ = {০, ১}এটাই বাইনারি বনের বর্ণমালা। এই বর্ণমালার বাইরে আর কিছু নেই এখানে। কোনো ২ নেই, কোনো A নেই, কোনো ক নেই। শুধু ... ...
এ কাহিনী এক অন্য ইস্রায়েলের | যে ইস্রাঈলের এখন আর অস্তিত্ব নেই পৃথিবীর ভূরাজনীতির মানচিত্রে | কিন্তু তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় এখনো ইতিহাসের ভুলে যাওয়া আর ফেলে আসা পাতায়, প্যালেস্টাইনের কোন অজানা অচেনা শহরের গলিতে, পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে গুহায় গুহায়, ধূসর মরুভুমি আর সবুজ অলিভ বাগিচার প্রান্তরে, পূর্ণিমার আকাশে আর অমাবস্যার রাতে | আজকে সেই ইস্রাঈলের গল্পই আপনাদের শোনাবার চেষ্টা করছি পাঠক | মেসায়ার আগমণ ইহুদীদের তৈরী জেরুসালেমের প্রথম মন্দিরের পতন হলো আসিরীয় সম্রাট নেবুচাদনেজারের হাতে | সেটি ৫৮৬ BCE | এর পরে আরো সত্তর বছরের জন্যে ইহুদী ধর্মের ব্যাবিলনে নির্বাসন ও শেষ পর্যন্ত পারস্য সম্রাট সাইরাসের হাত ধরে ইহুদীদের আবার জেরুসালেমে ফিরে আসা ... ...
আলবার্ট সিরাজ ব্যানার্জী ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫4.45 AMআজ, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর, যখন আমি এই শব্দগুলো লিখছি, মানবজাতি একটি চরম সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। একদিকে, বৈশ্বিক পুঁজিবাদ তার গভীরতম সংকটে নিমজ্জিত, অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে। ভারত—এই বিশাল উপমহাদেশ যেখানে মানবজাতির এক-ষষ্ঠাংশ বাস করে—সেখানে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের উত্থান কেবল ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক কাঠামোকেই হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের জন্য একটি বিপদ সংকেত।ইতিহাসের শিক্ষা হলো যে ফ্যাসিবাদ কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের অপরিহার্য ফল। যখন পুঁজিবাদ তার অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানে অক্ষম ... ...
ভাবো তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠলে। অ্যালার্ম নিজে নিজে বেজে উঠল। তুমি “Hey Google” বললে, সে আবহাওয়া জানিয়ে দিল। ইউটিউব তোমার পছন্দের ভিডিও সাজিয়ে দিল। গেম খেলতে গেলে কম্পিউটার তোমার বিরুদ্ধে বুদ্ধি খাটাল। প্রশ্ন হলো—এরা সবাই এত “বুদ্ধিমান” হলো কীভাবে?এর উত্তর লুকিয়ে আছে একটি রহস্যময় ধারণায়—অটোমাটা। অটোমাটা মানে কী?ধরো তুমি একটি গেম খেলছ। গেমের ভেতরে একটি দরজা আছে। দরজা খুলবে যদি তুমি তিনটি চাবি পাও।এখন গেমের নিয়ম এমন:চাবি নেই → দরজা বন্ধ১টা চাবি → দরজা এখনো বন্ধ২টা চাবি → দরজা এখনো বন্ধ৩টা চাবি → দরজা খুলে যাবেএই “অবস্থা ... ...
ইমন এখনও চেষ্টা করছে। আজকাল সে ভিডিও বানায়। বলে, "এই ভিডিওতে ভূত আছে।" লোকেরা দেখে, কিছুই দেখতে পায় না। কিন্তু কেউ কেউ বলে, "হ্যাঁ, আমি অনুভব করছি!" তারা কি সত্যিই অনুভব করে, নাকি মজা করে? তা কে জানে!তৃতীয় পর্ব: ছবি উঠবে না উঠবে না?
আগমীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। রোজ বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংগঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন এখানে যেন ঈদের ছুটির আমেজ নিয়ে এসেছে। নির্বাচনকে এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ৪ দিনের টানা ছুটি হস্তগত হয়। সকল শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরছে। মানুষগুলো ভোট দেয়ার তাগিদে গ্রামে ফিরছে নাকি ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে ফিরছে, তা উনারাই ভালো জানেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে আমি নিজের এবং অন্য মানুষের থেকে শোনা ৪টা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরবো। এবং এই নির্বাচন ঠিক কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, সে সম্পর্কে নিজস্ব ধারণার কথা উল্লেখ করবো। ঘটনা ১সেদিন ময়মনসিংহ থেকে সিএনজি করে ফিরছি। ... ...