একটি স্বপ্নাদ্য মাতালনামা প্রতি বছরই ৩১ ডিসেম্বরের রাত যতোই ঘনীভূত হতে থাকে, আমার ততোই মনে পড়তে থাকে, সেইসব জাঁহাবাজ মাতালদের কথা, যাদের কথা ছাপার অক্ষরে এবং মুখে মুখে ঘুরত এককালে। মাতালদের প্রতি সমাজ বরাবরই সহানুভূতিশীল। যারা খুবই নিষ্ঠাবান মাতাল এবং বিয়েও করেনি, তাদের সম্পর্কে একটা গল্প রটে যায়, যে তারা প্রণয়ঘটিত কারণে, তীব্রতম আঘাত পেয়েছিল। যেন ব্যর্থ প্রেমিক হলেই, তাকে নিষ্ঠাবেন মাতাল হতে হবে। এরকমই এক নিষ্ঠাবান মাতাল আমাকে বলেছিলেন – আরে ধুর মশাই, বিয়ে করলে শান্তিতে মদ্যপান করা যায় না। এটা আমার বংশগত অভিজ্ঞতা থেকে ... ...
প্রশ্ন উঠছে, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষ বা এমন উচ্চ মার্গের একজন গণ গায়ককেও এরা লোভী, সুবিধাবাদী বলতে ছাড়ছে না? এই গালি কেন? গায়ের জ্বালা মেটাতে? গায়ের জ্বালা মিটছে কিনা জানিনা, কিন্তু মানুষের চোখে এরা নিজেরা কি পরিমান নিচে নামছে, সেই বোধ বুদ্ধিও সম্ভবত হারিয়েছে। তৃণমূল শুধুমাত্র রাজ্যের গরীব মানুষ বিশেষত মহিলাদের ও ব্যাপকহারে সংখ্যালঘুদের সমর্থন পায়। শুধু তাই নয় বহু শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন মানুষেরও সমর্থন পায়। মমতা বস্তির মেয়ে, কথাবার্তার কোন ছিড়িছাঁদ নেই, মুখ্যমন্ত্রী কেন সামান্য কাউন্সিলর হবার যোগ্যতাও আছে কিনা সন্দেহ - এমনতরো মতামত বা সিদ্ধান্ত থেকেই মমতা বিরোধিতা বহু সচ্ছল বা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের। কিন্তু বাস্তবে তারা নিতান্তই সংখ্যালঘু এবং পরের পর ... ...
(১৯) কলতানকে দেখতে পেয়ে সহদেব এগিয়ে এল। --- ' বাবু আপনি কখন এলেন ? ' ---' এই কিছুক্ষণ আগে। আমাকে একটু সুরেশজির কাছে নিয়ে চল ...' ---' আচ্ছা চলুন বাবু ... দেখুন উনি কথা বলতে পারেন কিনা। শরীর ভাল না ... ' --- ' দেখা যাক ... না পারলে কথা হবে না ... আর কি ... ' সহজেই সুরেশজির সঙ্গেও দেখা হওয়ার ব্যবস্থা ... ...
কাল আনন্দবাজারে শম্ভাজিকে নিয়ে লেখাটা আমার ভালো লাগেনি। শিবাজি যে সামাজিক পরিস্থিতির ফসল তার কোন প্রতিফলন নেই। আর শম্ভাজিকে নিয়ে একান্ত ভাবে মারাঠা ব্রাহ্মণ ন্যারেটিভ নির্ভর। ওই ন্যারেটিভের সম্পূর্ণ বিপরীত একাধিক জনপ্রিয় নিম্নবর্ণের ন্যারেটিভ আছে। শিবাজির আদর্শায়িত প্রতিরূপ সর্বজনমান্য কিন্তু শম্ভাজিকে নিয়ে বিতর্ক আর তাঁর খ্রিস্টসুলভ রেসারেকশন এই দুই বিপরীত ন্যারেটিভের ফসল। মাহার-দলিত বা ওবিসি ন্যারেটিভ বলে তাদের স্ব স্ব প্রতিনিধিরা ব্রাক্ষ্মণ ষড়যন্ত্রে ধরা পড়া ও টুকরো করে কাটা শম্ভাজির দেহটাকে জুড়ে দাহ করেছিল। আসলি দাবীদার কে সে নিয়ে মাহার আর শিভালে পাতিলদের মধ্য দাঙ্গা ... ...
( ১৮ ) সেদিনটা কেটে গেল। কুলচা সন্ধেবেলা কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় বলে গেল, ' তানমামা আসলাম ... পরে আসব আবার। খবর দিও ... '---- ' হ্যাঁ রে ... কেস পাকলেই খবর দেব। হতাশ হোস না ... '----- ' ওকে ... বায় ... ' কুলচা বেরিয়ে যাবার পর সুকমল পালধিকে ফোনে ধরল কলতান। ----- ' কমলদা ডিসটার্ব করলাম না তো ? '----- ' নো ওয়ে... নো ওয়ে ... বল বল, কি খবর ? '---- ' খবর বলতে ... মালা গাঁথছি ... ...
আপনার নিজ জগতে কিছু মানুষকে পাবেন। যারা কিছু সংখ্যক মানুষকে অবহেলা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করায় পিএইচডি করেছে। হতে পারে সেই মানুষটি আপনার অত্যন্ত প্রিয়জন। ধরুন, আপনি খুব খেটেখুটে কোনো কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। বেশ কিছু মানুষ সেই কাজের জন্য আপনাকে প্রশংসাও করেছে। কিন্তু সেই তাচ্ছিল্যের পিএইচডি ডিগ্রিধারী লোকটি কোনো প্রশংসা তো করলই না। বরং এমন একটা ভাব করল, যেন আপনার কাজটি যেকোনো বাচ্চা ছেলে চুটকি মেরে করতে পারে। তাই কাজটা করে আপনি এমন কোনো তীরন্দাজ হননি। যেন আপনাকে ছোট দেখানোর জন্যই ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলার জন্ম ... ...
গত দশ বছরে গোটা পৃথিবীটাই আদ্যপান্ত বদলে গেছে। দ্রুততালে বদলে যাচ্ছে চারপাশটা। ক্রমশ বদলে যাচ্ছি আমরা। একটু খেয়াল করে দেখুন আমাদের চারপাশের মানুষগুলোও কেমন যেন একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে। মাঝে করোনা কাল দুনিয়ার খোল নলচে বদলাতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এবার একটু মনে করে দেখুন, তার আগের দশ বছর এত দ্রুততালে বদলে ছিল কি? তেমনি তারও আগের দশ বছর? তার আগের...না। এরকম ভাবে বদলায়নি। বদলে যেত না। আজকের মত মা মেয়ে মিলে স্যুটকেসে ভরে গঙ্গায় লাশ ফেলতে বের হত না। কোনো ব্যবসায়ীর পরিবার শুদ্ধ বিষ খেয়ে, হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করত না। ভাগাড়ের মাংস অক্লেশে রেস্তোরাঁতে খাইয়ে দিত ... ...
( ১৭ ) কুলচা ভিতরে চলে গেল। হয়ত ক্ষিধে পেয়েছে। ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা দেখতে গেল। সহদেবের কাছে একটা পুরোণ রঙ চটা বোতাম টেপা মোবাইল আছে। প্রথম দিন যেদিন কলতানের কাছে এসেছিল প্রকাশের সঙ্গে, নম্বরটা দিয়েছিল। কলতান সেই নম্বরে ডায়াল করল। অনেকক্ষণ ধরে ফোনটা বাজার পর ফোনটা তোলা হল। সহদেব হয়ত ... ...
( ১৬ ) সকাল আটটার মধ্যে তৈরি হয়ে এসে কুলচা দেখল কলতান তখনও বিছানা ছাড়েনি। কুলচা অবাক হয়ে বলল, ' কি হল ... এখনও শুয়ে আছ ! যাবে না ? ' কলতান আড়ামোড়া ভেঙে পাশ ফিরে শুল। বলল, ' নাঃ ... ক্যানসেল করলাম। আজ ভাবছি ওয়ার্ক ফ্রম হোম করব ... ' কুলচা খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল কলতানের দিকে। বলল, ' হাউ ডিসঅ্যাপয়েন্টিং ... ', বলে টাইমস অফ ইন্ডিয়া ... ...
খাঁদির একাত্তর হল এবছর। ওদের গেরামে মাসের বদলে বছর পেরোলে বয়স বাড়ে। শরীর বাড়লেও। খাঁদির শরীর যখন ওর বাপের কাঁধ ছুঁয়েছিল, তখন খাঁদি শুনেছিল ওটা তার ' বিয়া ' হবার বয়স। হয়েও ছিল। বুক বড় হবার আগেই ছানা কোলে চ্যাপ্টা বুকে শুনেছিল বিয়ার পর ম্যায়াছেনা দের বিয়ানোর সময়। আর একঘর ছাগল গরুর মাঝে হাজারটা খোশ প্যাচড়া গায়ে করে কবে থেকে এ সুখের জীবন কাটাচ্ছে, সে হিসেব ... ...
অন্য ভুবনের মেয়েরা.. গভীর রাতের অন্ধকারে, একলা উড়ে চলে বক। শ্রান্ত ঘুমন্ত চরাচরে কেবল নিশীথের নিশীথিনীরা অপেক্ষমান। ব্রিজের ওপরে ওদের রুজ মাখা গাল, রঙীন ঠোঁট আর দু চোখের নুইয়ে পড়া কাজলে ক্লান্তির ঢুলুনি। তবু, ক্লান্ত বিভঙ্গে অপেক্ষা করতে হয়। খদ্দেরের সাথে দর কষাকষিতে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে খানখান। 'চল যা ভাগ... শা....' রাতের নিয়ন বাতির নৃশংস আলোয় ওদের শাড়ির ঝলমল লুটিয়ে কাঁদে।শহরে, এক ব্রিজের নীচে ওদের এক অখণ্ড বাস।সেখানে বারো ঘরের মাঝে এক তুলসী ... ...
সুখের লাগিয়া যে ঘর বাঁধিনু….সাগরময় মন্ডলদুপুর থেকে শরীরটা ভালো নেই। মাথাটা ভারি ভারি ঠেকছে। তাই অন্য দিনের মতো বিকেল বেলা ব্যালকোনিতে না বসে ব্যালকোনি লাগোয়া ঘরের জানালটা খুলে দিয়ে বালিশে হেলান দিয়ে খাটের উপর আধশোয়া সঙ্গীতা। ডান পা-টা বালিশে হেলানো। সঙ্গীতা রায়। কমলেশ রায়ের সহধর্মিনী আর পিনাকশঙ্কর রায়ের মা। কমলেশ বেসরকারি অফিসের উচ্চ পদের মোটা মাইনের চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন। বাড়িতেই থাকেন। না থেকে উপায়ও নেই, বিশেষ করে মাস ছয়েক আগে সঙ্গীতার সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর। আধশোয়া অবস্থায় সঙ্গীতা ... ...
এক টুকরো রুটির নিরিবিলি ভোজ! তবুও নেই আয়োজন, গুছিয়ে বসে লিখি দুচার শব্দ, হে ক্ষুধা-খোদা কে ডাকিনি তবু ! বিশ্বাস করিনা, নাস্তিক আমি ! তবুও কখনো - আয়নার সমুখে থামি, নিজ মুখ দেখে ঘৃণা হয় বলে - ঈশ্বরে বিশ্বাস, এখনো আসেনি আমার ! অন্ন পাপ হয়েছিল আমার - সময় হয়নি থামার, স্বপ্নের খামার, গবাদি'র মতো অনেক কবিতা আমার - বেঁচে বেঁচে খাবো বহুদিন! আসেনি ... ...
https://imgur.com/a/4KXPyvHআজ সকাল থেকেই অনবরত লোকের ভিড়মিস্টার আর মিসেস পাকড়াশীর তিন কামরার ফ্ল্যাটে ....বেজে উঠছে প্রায়শই কলিং বেলদেখা করতে আসছে অনেকেইহাতে ফুল বা সৌহার্দ্য বিনিময় ..আজ যে ৮ ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।এই নারীর মুক্তির কথা রিনিতা পাকড়াশীর কলমে উঠে এসেছে বারবার ..লেখিকা হিসেবে পরিচিতি এখন প্রতিবাদী কলম বলে ..হতভাগ্য নারী, দুর্ভাগা নারীর ভাগ্যকেতাঁর কলম দেখিয়েছে আলোতাঁর প্রতিটি গল্প, কবিতা আর উপন্যাসেনারীর ক্ষমতায়ণ, নারীর উঠে দাঁড়ানোর গল্প ..কত সাধারণ মেয়ে অর্জন করেছে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।কয়েকটি বাচ্চা মেয়ে আর ছেলেদেখা করতে এসেছে'হাতে তাদের ফুল, মুখে স্মিত হাসিএপাড়ারই হবে..বোধহয় সদ্য কলেজ যোগ দিয়েছেপ্রণাম করে বললে, "আজ দুপুরে একটা জনসভা,আপনাকে কিন্তু বক্তব্য রাখতেই হবে।আপনার ... ...
( ১৫ ) বাড়ি ফিরে সবার আগে তমালকে ফোন লাগাল কলতান। --- ' হ্যাঁ বলুন... কলতানদা ... আপনার কথাই ভাবছিলাম। আপনার কেসটা এগিয়েছে কিছু ? ' --- ' এগিয়েছে খানিকটা। কিন্তু ফাইনাল ট্যাকল করার আগে কোন লুজ এন্ড রাখতে চাইছি না। সে যাই হোক, তুমি আজ একবার আসতে পারবে ? আরজেন্সি আছে ... আজই এলে ভাল হয় ... ' --- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... আজই যাব আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ ... ' --- ' ঠিক আছে ... চলে এস। ওয়েট ... ...
( ১৪ ) নীতিন এল বেশ দেরিতে। এসেই কলতানের কাছে গিয়ে বলল, ' ভাল আছেন স্যার ? ' --- ' আরে নীতিন যে ... তুমি ভাল আছ তো ? এত দেরি করলে ? ' --- ' কি করব বলুন ... দোকানে বসতে হয় ... এই দোকান বন্ধ করে এলাম ... ' --- ' আচ্ছা ঠিক আছে ... বস বস ... ' নীতিন একটা চেয়ারে বসে পড়ল। একবার হাঁক দিল, ' সহদেবদা ... একটু চা হবে নাকি ? ' সহদেব উত্তর দিল, ' বস একটু ... গরম করছি ... ' কলতান বলল, ' আমাকেও দিও ... ...
( ১৩ ) বেলা সাড়ে বারোটা। সহদেবের ঘরের একপাশে রান্নাবান্না হচ্ছে। মুগের ডাল চড়েছে। আলু ভাজা বেগুন ভাজা, ফুলের তরকারি হবে। ভাজার তরকারি কাটাকুটি করছে মানু। সকাল সকাল বেরিয়ে মুরগির মাংস কিনে এনেছে সহদেব। একটা গামলায় মশলা টশলা মাখিয়ে একটা গামলায় ঢেকে রেখেছে মান্ডবী। কয়েকটা গার্ডেন চেয়ার পাতা হয়েছে ওখানে। প্রকাশ একটা ফোল্ডিং টেবিলও আনিয়েছে তার ঘর থেকে। কলতান এদিকে ওদিকে ঘুরে ফিরে একটা চেয়ারে এসে বসল। আর কেউ আসেনি এখনও। প্রকাশও আসেনি এখনও। সকালে অবশ্য বেশ গরম পড়ে গেছে। জায়গাটায় গাছের ছায়া আছে ... ...
( ১২ ) কলতানের তন্দ্রা আসছিল। কিন্তু তার মনে হল আজ রাতটা ঘুমোনো উচিত হবে না। মোবাইলে ইউ টিউবে নানারকম রিল দেখতে লাগল। প্রকাশ আছে পাশের ঘরে। কোন আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘুমিয়ে পড়েছে হয়ত। তিনতলাও নিঃশব্দ। সুরেশজি অসুস্থ মানুষ। তিনিও নিশ্চয়ই এতক্ষণ জেগে নেই। দোতলায় আর কেউ নেই। এ ঘরটার দক্ষিণদিকে জানলা। খানিকক্ষণ পরে খোলা জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াল কলতান। এখান থেকে বাঁদিকে প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূরে সহদেবের ঘর দেখা যাচ্ছে। বাগানের মাঝামাঝি জায়গায় একটা পোস্টে আলো জ্বলে। সহদেবের ঘর পর্যন্ত আবছা আলো পৌঁছয়। এখান থেকে ভাল দেখা যাচ্ছে না অন্ধকারে, তবে বোঝা যাচ্ছে খাটিয়াটা বাইরেই রয়েছে। ওখানে একজন বসে আছে ... সহদেবই তো মনে হচ্ছে। রাত প্রায় বারোটা বাজে। মানু আর তার ছোট মেয়ে ... ...
( ১১ ) বাড়ির দিকে আসছিল কলতান আর প্রকাশ। একজন বছর তিরিশের যুবককে দেখতে পেল কলতান। ছিপছিপে কিন্তু আঁটোসাঁটো। বেশ খেলোয়াড়সুলভ চেহারা। সে ভিতরে ঢুকতে যাচ্ছিল। কলতানদের দেখে দাঁড়িয়ে গেল। মুখে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। গেটের মুখে পৌঁছে কলতান বলল, ' খুব ভুল যদি না করি নিশ্চয়ই মিস্টার মনোজ শ্রীবাস্তব ... ' মনোজ হেসে বলল, ' হ্যাঁ স্যার ... আমি আপনার ... ...