বোমা পড়ে সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে বাড়িটা। সেখানে সবাই ধ্বংসস্তূপ দেখে, তবে জলিল আর ফারাহ্ কিন্তু এখনো তাদের ঘরগুলো ঠিকঠাক দেখতে পায়। কত ঝগড়া আর অনেকটা ভালোবাসা জমিয়ে তৈরি বাসা, তা কি এত সহজে হারিয়ে ফেলা যায়! বলা তো যায় না? রাত পোহালেই যার জন্মদিন, তেমন আরো একটা বিপ্লবী হয়তো আবার জন্ম নেবে এই অস্থায়ী তাঁবুগুলো থেকেই। আরো কটা তাঁবু আর কম্বল ঝোলায় ঢুকিয়ে নিলো। রেডক্রসের গাড়িটির থেকে বাঁদিকে ঘুরে, আগের বছরের মতোই এবারেও পথ চিনতে পারলো না সে। কোনটা রাস্তা আর কোনটা ঘর, কিচ্ছু বোঝার উপায় রাখে না ইজরায়েলি প্লেন। হতাশ হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে যেতে হলো অগত্যা। ... ...
নব্বইতে রবিশঙ্কর আর নবারুণ টাইম স্পেসকে নিয়ে নানা রকম করে খেলিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমার একটা সন্দেহ আছে, ওনারা বেশি করে স্পেস নির্ভর হয়ে পড়েননি তো? রবিশঙ্কর একটু বেশি ডিলিরিয়াস আর নবারুণের ফাজলামি সময়কে ছাপায় না তো? আজকাল মনে হচ্ছে মহাশ্বেতার রাস্তাই ঠিক। ওই খরখরে একটা গদ্য যার ফাঁক দিয়ে উপনিবেশ উত্তর ইতিহাস আর নিম্নবর্গের বারোমাস্যা। অবশ্য বেশি নিম্নবর্গ করতে গিয়ে এলিট ডিসকোর্স একটু নজর এড়িয়েছে ফলে হিন্দুত্বের সংস্কৃত জ্ঞান পদ্ধতি নির্ভর আক্রমণের মহড়া নেওয়া কঠিন। আসলে আমাদের এলিট চর্চাও যথেষ্ট মিশ্র তেহজিবের ফসল, সংস্কৃত আর ফার্সি জ্ঞান পদ্ধতি মিলেমিশে আছে গঙ্গা যামুনি তেহজিবে। তা হলে কি সতীনাথই ঠিক ... ...
একটা চায়ের দোকান, প্রবীনের ভিড়! শুধুমাত্র একটা গল্পই তো! তারই গলিখুজিতে হন্যে হয়ে হয়ে, শব্দ কল্প দ্রুম!! মহানন্দার তীরটা ঘোলাটে ঠেকছে। চা ফুটছে এবং তার একটা অলস ঘ্রাণ আছে। জগাদা এসে বসে প্রায়ই! এসে বসা,খানিক গুজবস্নানে ধরা শুচি হয় কিনা জানিনা,তবে এইসময় গাঁজা ধরায় জগাদা। তারপর ডার্ক কথাবার্তা বলে। ডিমেনশিয়া নিয়ে ভাবছি। এ ভাবনার কারণ নেই! শুধু জানলার চৌকো খোপ দিয়ে পাশের বাড়ির ব্যালকনিতে এসে পড়া রোদ আর রোদের ওপর একটা চেয়ার, চেয়ারের ছায়া, গোটা একটা মানুষ,বৃদ্ধ! স্মৃতিভ্রষ্ট। চোখে পড়লে ডিমেনশিয়া নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে। বৃদ্ধের নব্বই শতাংশ স্মৃতি বিলুপ্ত! বাকি দশের ওপর স্ক্রিবলিং করছে মহাকাল! অর্থাৎ, বিগত বিহানের কোনো ... ...
বাংলা মাধ্যম না বাঁচলে তিন লাখ শিক্ষকের চাকরি থাকবে না। সবমিলিয়ে ৩৬ লাখ মানুষ কাজ হারাবেন। অঙ্গনওয়াড়ি থেকে এস এস কে, এম এস কে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ৩৬ লাখ।বাংলার বেশিরভাগ শিক্ষক এই বাস্তবতা বুঝতে চাইছেন না। করোনার পর একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, মোবাইল এবং মানসিকতার বদল। সবাই প্রায় অস্থির। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে শুধু নয়, শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যেও বই পড়া কমেছে। অভিভাবক অভিভাবিকাদের মধ্যেও। ছাত্র ছাত্রীদের ফেল চালু করা দরকার? চালু করবেন!!! ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ থেকে নম্বর দিতে বলা হলে কতজন শিক্ষক শিক্ষিকা অধ্যাপক অধ্যাপিকা পাশ করবেন? নরওয়ের অভিজ্ঞতা সবজায়গায় দরকার। ছেলে মেয়ে খারাপ ফল করলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কৈফিয়ত দাবি করে সরকার। সেখানে অবশ্য কুড়িজন পিছু একজন শিক্ষক আছেন। ছাত্র ছাত্রীদের ... ...
পাশ তো আছেই। ফেল ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভুল। গণশিক্ষার নীতি আর এলিটিজম এক নয়। গণশিক্ষা সমাজ বিকাশে খুব জরুরি। মধ্যবিত্ত উচ্চ মধ্যবিত্তদের ভাবনাই সব নয়। সুবিধাবঞ্চিতদের কী হবে? দু চারজন এলিট বা এলিটপেশার লোক তৈরি সরকারের একমাত্র কাজ হতে পারে না। নিজের নাম সই এবং মিথ্যা কাগজে সই না করতে শেখাও একটা বিরাট বিষয়। লাখ লাখ মানুষ ১৯৭৭ এর আগে এই পড়তে না পেরে টিপ সই দিয়ে জমি বাড়ি ঘটি হারিয়েছেন। আমি গ্রামের ছেলে। আমাদের বাড়িতে ভাত ছিল। আটকে গেলে দেখিয়ে দেওয়ার লোক ছিল। যাঁদের এ-রকম অবস্থা নয়, তাঁদের কথাও ভাবা দরকার। নাম সই আর যাতে সই করছেন সেটুকু পড়তে শেখানো খুব জরুরি। ভুল জায়গায় টিপ ছাপ দিয়ে ৫০ টাকা ... ...
সংবাদ মূলত কাব্য! সংবাদ সাহিত্য নয়। সংবাদের ভাষা হতে হয় স্পষ্ট ঋজু। আমাদের সাংবাদিক জীবনে গদ্যের দুটি ধারা। এক. অশোক দাশগুপ্ত। দুই. বরুণ সেনগুপ্ত। অশোকদার গদ্য অনবদ্য। অনুকরণীয়। অনেকেই অক্ষম চেষ্টায় ব্যর্থ। অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী, এখন সিপিএমের সাহিত্য মুখপত্রের সম্পাদক, বললেন, অন্য কথা।বললেন, বাংলা গদ্য দেখো বরুণ সেনগুপ্তের।আমরা যখন লিখছি মানুষ কংগ্রেসকে ঘৃণা করছে।উনি নিজের লেখার শিরোনাম করছেন, লোকে কংগ্রেসকে ছ্যা ছ্যা করছে।এইটা মানুষ সহজে নেবেন ও বুঝবেন।#পার্টি করার সময়, বিশেষ করে, বর্ধমান জেলায়, জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে নানা কথা হতো। বিশেষ করে ওর বক্তৃতা করার ধরন নিয়ে ব্যঙ্গ হতো।'কী বলেন! একটা বাক্য শেষ করেন না'।অনেকেই বিশ্বাস করতেন, জ্যোতি বাবু পার্টিটাকে শেষ করে ... ...
ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ। বহুল প্রচলিত একটি বাক্যবন্ধ। ফুর্তির সঙ্গে গড়ের মাঠের কি সম্পর্ক? আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কিনা! থাকলে কবে থেকে সেই সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বা এখনও তা টিকে আছে কিনা! এসব বিজাতীয় প্রশ্নের ধার কাছ দিয়ে এখন না যাওয়াই শ্রেয়। তবে এটুকু বলতেই পারি ফুর্তিবাজ মানুষদের ফুর্তি করতে গড়ের কেন, কোনো মাঠেরই প্রয়োজন পড়ে না। যেকোনও স্থানে, যেকোনও অবস্থায়, যেকোনও কালে তাঁরা ফুর্তি করতে একটুও কাঁপেন না। বরং তাঁদের ফুর্তির ঠ্যালায় আশপাশের মানুষজন কেঁপে উঠলেও উঠতে পারেন। সে ছাব্বিশে জানুয়ারি কিংবা চোদ্দই ফেব্রুয়ারি হোক, রাস্তার ধারে ঢেয়ো ঢাকনা স্টোভ ইত্যাদির সঙ্গে তারস্বরে দুটো ঢাউস বক্সে ঝাঁপড় ঝ্যাং গান ... ...
আজ জাতীয় গণিত দিবস। ছেলেটির বয়স তখন মাত্র ১৪, শৈশবের চৌকাঠ পেরিয়ে সবে কৈশোরের উঠোনে পা রেখেছে। রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে। তাই পুজো আচ্চায় মতিগতি থাকাটাই স্বাভাবিক বলে ভেবেছিলেন বাড়ির অভিভাবকেরা। টানাটানির সংসারে তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে। ছেলেটিকে সে সব টানে না, তার মন পড়ে থাকে গণিতের নানান ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান খোঁজার কাজে। গণিতের রসে মজে থাকার দরুণ অন্যান্য বিষয়গুলো সেভাবে পড়া হয়ে ওঠেনা। ফলে স্কুলের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়না। ঐ বয়সেই গণিতের প্রতি জন্মেছে প্রবল আগ্রহ। আরও জানতে হবে, আরও শিখতে হবে এই আকুতি থেকেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ছেলেটি। এমন বোহেমিয়ান স্বভাবের জন্য প্রথাগত ... ...
আমাকে এমন একদিন দুপুরে ডেকেছিল। সেদিন জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ, আমি ঘর্মাক্ত কলেবরে পৌঁছেছিলাম। নদীর ধারে পরিত্যক্ত চাঁচের ঘরটাতে।ও খানে হিমু কাকা দোকান করেছিল। সে মরে গেছে বাসে কাটা হয়ে। আমি যেতেই সে আমার ঠোঁটে তার ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছিল। পুরো তিন সেকেন্ড আমি আমার অধর খুঁজে পাইনি। আমার চুল ওর হাতের মুঠোয় ধরা ছিল, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুখ সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিলাম। সুরঙ্গনা আমায় সাবালক করেছিল সেদিন। তারপর তিনটা মাস আমি ওর শরীর আবিষ্কার করেছিলাম ক্রমে। প্রতিটা পাহাড়, উপত্যকা, খাদ, মিয়েন্ডার, সমভূমি -- সব জানতাম আমি। আমি ওকে বলেছিলাম একদিন, "আমি তোমার স্বামীকে তোমার শরীরের ভূগোল পড়াব।" ও হেসে বলেছিল, "হারামজাদা, তুই কি তবে?" আমি বলেছিলাম, "আমি তো নাং। ভাতার হলে কি এত মজা আর হবে?" তারপর সে অনেকদিন কেটে গেছে। আমি এখন নিপাট ভদ্রলোক। সুরঙ্গনা এখনো ... ...
( ২৯ ) হরি হরায় নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নম ... যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ .... মানিকতলা মেন রোডে কোন উপলক্ষ্যে অষ্টপ্রহর নামগানের আসর বসিয়েছে হরিমোহন বোসের বাড়িতে। মাইক লাগিয়েছে বাড়ির দুদিকে দুটো। কোন পারিবারিক পূজা পার্বণ বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হচ্ছে নিশ্চয়ই বোস বাড়িতে। সদানন্দ সরখেল বোস বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সার্কুলার রোডের দিকে। ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন ভিতরে দালানের ওখানে বেশ ব্যস্ততা। রান্নাবান্নার তোড়জোড় চলছে। ভাজাভুজির গন্ধ ভেসে আসছে। তা শ'পাঁচেক লোক খাবে বলে মনে হয়। বাড়ির গেটে সাদা কাপড় কুঁচি করে ... ...
আমার ডানায় অনেক ঝুলকালি লেগে আছে।অনেকদিন ব্যবহার করিনি,অন্ধকারে পড়ে ছিল। আজকে যখন দেখলাম, এখনো কিছু মানুষ ওড়ে, আমারও ইচ্ছে হল - ডানা বের করলাম, একটু উড়ে আসি। এখন আমি সপ্তম আকাশের একটু নিচে, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। আমার ঘর নিচে পড়ে আছে, আমি তার কঙ্কালসার দেহ দেখতে পাচ্ছি, সেখান থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে, আরও দূষিত হচ্ছে বাতাস। আমার ফিরতে মন চাইছে না, এখানে আমি থেকে যেতে পারি অসীম কাল অবধি। আমি ভালোবাসি উড়তে। এখনও- আমার পায়ে নিম্নগামী টান, ডানাগুলো ওর সাথে পাল্লা দিতে পারছে না। নিচে দেখতে পাচ্ছি ঘরের স্বস্তির নিঃশ্বাস, আমার সিংহাসন এখনো খালি। হালকা নীল শ্বাস আমাকে আচ্ছন্ন করছে, আমার আবার দায়িত্ববোধ ফিরে এসেছে, আমি ডানা খুলে ফেললাম, পায়ের জোরালো চাপে ভেঙে ফেললাম একেবারে, গুঁড়োগুলো কালো বাতাসে মিশে গেল, হাহাকার শুনলাম ... ...
গতকাল রাত্তিরে নন্দিনী সুন্দরের লেখা দ্য বার্ণিং ফরেস্ট বইটি পড়ছিলাম। বাস্তারের সেই ভয়াবহ যুদ্ধ,নকশাল বনাম সরকারের। শয়ে শয়ে সাধারন মানুষের মৃত্যু, ঘরে ঢুকে মেয়েদের ধর্ষণ,আরো কত কী! ঘন জঙ্গল যেখানে আর্মি টেরিটরি। বছরে প্রতি চারজন আদিবাসীর একজনকে ডিসপ্লেস করে দেওয়া, গ্রাম ঘিরে রাখা গুন্ডাবাহিনী দিয়ে। নকশালের বউ সন্দেহে এক মহিলার স্তন কেটে দেওয়া ইত্যাদি। হঠাৎ মনে পড়ল ঋত্বিক ঘটকের ১০০ বছর চলছে। কী সমাপতন! ঋত্বিক ঘটক, যাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেললে কপালে অশেষ দুঃখ! যাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেললে আপনাকে এক অন্য অক্ষরেখা নির্বাচন করতেই হবে। পুড়তে পুড়তে পোড়ানো, ভুগতে ভুগতে ভোগানোর মতো সুইসাইডিয়াল! এদিকে নন্দিনী লিখছেন, "Either we should not suffer at ... ...
আমার শরীরে এখন আমি আমার দাদির গন্ধ পাচ্ছি। আমি কি তার মতোই হয়ে যাচ্ছি? আমি তো হতে চাইনি কোনোদিন! তবে!----- আমি তাকে ভালবাসি না তা নয়, তবে এতও নয়, যে আমার হৃদয় তার পায়ে সমর্পণ করব। সত্যি কথা বলতে যতটা ভালো না বাসলেই নয়, ততোটাই বাসি। আমার তার জন্য ভালোবাসা, শুধু কর্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়। সে আমার আত্মীয়া, উপেক্ষা তো করতে পারি না! চারিদিকে যে এত পশু, পাখি, গাছপালা, ফুল আছে, আমি কি তাদের বেশি ভালোবাসি, তাও নয়। তাহলে আমি কেন মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছি? আমি বোধহয় এইসবকে একত্রে ভালবাসি, সমষ্টি হিসেবে। আমি নিশ্চিত নই এখনো। ততদিন আমি বাঁচতে চাই। এখন বুঝতে পারছি, আমি অনিশ্চয়তাকে ভয় পাই। মানুষ সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করেছে। ফসল চক্র থেকে শুরু করে সাইকেলের চাকা, জলচক্র থেকে শুরু করে অদৃশ্য কার্বন চক্র। সব। আমরা কমবেশি ... ...
ইনস্টাগ্রাম অতি বিষম ভার্চুয়াল স্পেস। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফিড মারফত এক বাঙালি তন্বী, তরুণীর থ্রেড এল। খুলে দেখি সারা প্রোফাইল জুড়ে ঈষৎ স্থূল পতিদেবের সঙ্গে তার অজস্র চলচ্ছবি। আর সবগুলোতেই তারা বিছানায় শায়িত। কখনো পাশাপাশি, কখনো একজনের গায়ের ওপর আরেকজন। গণ্ডে গণ্ড, ওষ্ঠে ওষ্ঠ, অধরসুধা পান এমনকি বক্ষে হস্তাবলেপ – সবই চলছে। এরকম অজস্র বাঙালি তথা ভারতীয় মহিলার প্রোফাইলে এরকমই যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া চলচ্ছবি রয়েছে। যে প্রোফাইলটি বললাম, তার ফলোয়ার সাড়ে চার হাজার। নিশ্চয়ই এখান থেকে তাদের অর্থোপার্জন হয়। কী পেশা রে, মাইরি। সারাদিন বিছানায় দুটিতে শুয়ে থাকা। ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, শতাধিক চলচ্ছবির মধ্যে একটি আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ঐ দম্পতি দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে পুজো দিচ্ছেন। নাউ, অন আ সিরিয়াস নোট ... ...
সাংসদ এবং তারকা দেবকেও নাকি হল পেতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। হবারই কথা, কারণ, বাংলা সিনেমা ব্যাপারটাই উঠে যেতে বসেছে। কাগজে পড়লাম, ২০২২ এ বাংলা সিনেমা রিলিজ করেছিল ১৭০ টা। ২০২৩ এ ১৩৭। আর ২০২৪ এ শুটিং হয়েছে মাত্র ৩৪ টার। রিলিজ তো পরের কথা। এর একটা কারণ বলা হচ্ছে ফেডারেশনের দাদাগিরি। আর একটা কারণ সম্পূর্ণ উহ্য থাকছে, সেটা হল বঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযোজক যে সংস্থা এসভিএফ, যারা একই সঙ্গে ডিসট্রিবিউটর এবং মালটিপ্লেক্স-মালিকও বটে, হাতে আবার হাতের-পাঁচ ওটিটিও আছে, তাদের বাংলা সিনেমা নিয়ে বিশেষ হেলদোল তো নেইই, বরং বাংলা সিনেমাকে হল না দেওয়াটাই তাদের ব্যবসার পক্ষে ভালো। কারণ, তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাই পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ডিসট্রিবিউটর। ... ...
মহাভারতের নাট্যরূপের জন্য আমাদের কাছে সুপরিজ্ঞাত পরিচালক পিটার ব্রুক তাঁর থিয়েটার বিষয়ক বই ‘The Empty Space’ শুরুই করেছিলেন একটা চমৎকার উদাহরণ দিয়ে। একটা খালি স্পেস, একজন লোক সেখানে পায়চারি করছে আর আরেকজন তাকে দেখছে – এটাই একটা থিয়েটারের সূত্রপাত হতে পারে। লক্ষ্য করার বিষয় এই উদাহরণে, দর্শকের ভূমিকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানে সে না দেখলে এটা থিয়েটারই হয় না। বলা হয় যে নাটক লেখাই হয় দর্শকের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে, শুধু পঠিত হবে বলে কেউ নাটক লেখেন না। অর্থাৎ নাটকের টেক্সট পূর্ণাঙ্গ পরিণতি পায় থিয়েটার হয়ে ওঠায় আর সেখানে দর্শক আছে কেন্দ্রীয় চরিত্রে। থিয়েটার বা নাটক দর্শকের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া ... ...
সকালে রামবাবু ঠিক করলেন তিনি আজ ছানার ডালনা আর গোবিন্দভোগ পায়েস বানাবেন। সাত সকালে আনন্দ নাড়ুর উত্তেজনায় হাত গরম করে গেলেন রান্না ঘরে। এক ডেকচি দুধ, পাতি লেবু, চিনি, গোবিন্দভোগ চাল, কিসমিস কড়াই, মশলা আর তেল - সব উপকরণ সাজিয়ে ফেলে, জামার হাত গুটিয়ে নেমে পড়লেন ময়দানে। অল্প আঁচে পুরো দুধ বসিয়ে, ইসদুষ্ণ দুধে দিলেন লেবু চটকে। আনন্দ নাড়ুর জ্ঞানে উদ্ভাসিত, উত্তেজিত রামবাবুর বিশ্বাস ছিল, অর্ধেক দুধ কেটে ছানা হবে ছানার ডালনার জন্য, আর বাকি অধ্যেক ভালো থাকবে যা ঘন করে উনি পায়েস বানাবেন। এদিকে পুরো দুধ তো গেছে ছানা হয়ে। রামবাবু পুরো ভ্যাবাচ্যাকা। এবার পায়েস কি করে হবে? রামবাবু আবার ... ...
চলে গেলেন অরণ্যের জীবন্ত বিশ্বকোষ তুলসী গৌড়া কিংবদন্তি শ্রীমতী তুলসী গৌড়া - অরণ্যের জীবন্ত বিশ্বকোষ বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারণে প্রয়াত হলেন ৮৬ বছর বয়সে। এইতো মাত্র সেদিনের কথা। ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কৃতীদের বার্ষিক রাষ্ট্রীয় পদ্ম পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ঘোষক ঘোষণা করলেন পদ্মশ্রী তুলসী গৌড়ার নাম। দরবার হলে উপস্থিত নামীদামী অতিথি অভ্যাগতদের পোষাকের খসখসানি, ফিসফিসিয়ে কথা বলাকে এক লহমায় থামিয়ে দিয়ে নগ্নপদে দৃঢ় অথচ বিনম্র পদক্ষেপে প্রথাগত হালাক্কি উপজাতীয় রমণীর শালীন পোশাকে রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দের সামনে এসে দাঁড়ালেন এক অসাধারণ মানুষী – তুলসী গৌড়া দেবী। দরবার হল তখন মুখরিত হয়ে ওঠে অতিথি অভ্যাগতদের সম্মিলিত ... ...
গত কয়েকদিনে কর্পোরেট যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যান্টিহিরো হিসেবে উদয় হয়েছেন ছাব্বিশ বছরের লুইজি ম্যানজিওনি। যিনি সাইলেন্সার লাগানো একটি ত্রিমাত্রিক প্রিন্ট করা ভুতুড়ে বন্দুক দিয়ে নিউ ইয়র্কের হোটেলের বাইরে গুলি করে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার বলে একটি মার্কিন স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানির সিইও ব্রায়ান থমসনকে সেই কোম্পানির ইনভেস্টরদের বার্ষিক আলোচনাসভাতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মেরে ফেলেন। লুইজি এক আইভী লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে মাস্টার্স, মেধাবী নিশ্চয়। তার মা একবছর আগে পুলিশে তাকে নিখোঁজ বলে ডায়েরিও করেছিলেন। তার সঙ্গে ইউনাবম্বারের বহু মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ইউনাবম্বার আসলে পুঁজিবাদ বিরোধী "শিল্পনির্ভর সমাজ এবং তার ভবিষ্যৎ" বলে এক ইশতেহারের লেখক টেড কাসিনস্কি। তিনিও অংকে বিস্ময়বালক ছিলেন, আইভি লীগের ছাত্র। বহুদিন ... ...