উপল মুখোপাধ্যায়ের 'গঙ্গা যামুনি তেহ্জিব হিন্দুস্থানের মিশ্র সংস্কৃতি' অজয় সেনাপতি দলিল দস্তাবেজ নির্ভর যুক্তিবাদী ইতিহাস রচনায় অগ্ৰদূতের ভূমিকা পালন করেছিলেন যিনি, তিনি অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়। ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাসে যে যে ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনাগুলিকে অবলম্বন করা হয়, সেই চরিত্র বা ঘটনাগুলির বিকৃতকরনে তাঁর ভীষণ আপত্তি ছিল। এ ব্যাপারে বন্ধু রবীন্দ্রনাথের তিনি যথার্থ সমর্থনও পেয়েছিলেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের তীব্র সমালোচনা ছুটে গিয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্র ও নবীনচন্দ্র লিখিত যথাক্রমে চন্দ্রশেখর উপন্যাসে ও পলাশীর যুদ্ধ কাব্যে মীরকাশিমের ও সিরাজদ্দৌলার চরিত্রের অন্যায় ও অনৈতিকহাসিকভাবে ... ...
যখনই আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তার পিছনে থাকে কিছু তথ্য। সে তথ্য - সত্যি, মিথ্যে বা সত্যি-মিথ্যে মিশ্রিত - হতে পারে। তথ্যের সূত্র - সমাজ মাধ্যম, খবরের কাগজ, টিভি আর অতি অবশ্যই লোকমুখে শোনা কথা। আমাদের সাধারণ ট্রেন্ড, একবার একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলে, তারপর শুধু সেই তথ্যই আমরা পড়ি, দেখি, যা ওই সিদ্ধান্তকে আরো পাকাপোক্ত করে। পরবর্তীতে যদি নতুন নতুন তথ্যের আলোকে দেখা যায়, প্রাথমিক ভাবে আমরা ... ...
গুল নয় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মুসলিম বিদ্বেষ প্রচারের তীক্ষ্ণ তীব্র অস্ত্র ছিল তিন 'মুসলিম' ডাক্তারের নাম এবং এক 'মুসলিম' তরুণী চিকিৎসকের হাত চেপে ধরে রাখার গপ্পো... মানুষের ক্ষোভ মানুষের ক্ষোভ বলে মধ্যবিত্ত মনন সন্তুষ্ট হতে পারে। কৃষক শ্রমিক এই আন্দোলনে কোথায়? মানুষের ক্ষোভ আছে। মানুষের ক্ষোভকে একটি নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। শুধু আর জি কর বলা হচ্ছে। ৯ আগস্ট আর জি কর হত্যা। এরপর ১০ আগস্ট ওড়িশার কটকে ডাক্তার কর্তৃক ... ...
খুব ভয়ে ভয়ে লিখি। একে লেখার বিষয়ে কুড়ে। কাজ ও পড়াশোনার বিষয়ে নয়। অনেকেই আজকাল অভিভূত ও দ্র বীভূত হতে ভালবাসেন। ফেসবুকে মাতামাতি আর হোয়াটসঅ্যাপের দাপাদাপিই ঠিক করে দিচ্ছে। মার্কসবাদ পড়ার আর দরকার নেই!!!!! টাটা ক্যান্সার হাসপাতাল গড়েছেন। এর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু টাটা বিপ্লবী নন। তাঁকে বামপন্থী বলে পরিচিত অনেকেই যেভাবে বিপ্লবী বানাচ্ছেন, ভয় পাচ্ছি। বামপন্থা এত বদলে গেছে নাকি? টাটা গোষ্ঠী বহু খুন ... ...
'পৃথিবীতে আমরা যাদের জানি সবাইকেই ফুটকি লাইনে জানি -- অর্থাৎ মাঝে মাঝে অনেকখানি ফাঁক; সেই ফাঁকগুলো নিজের মনে যেমন তেমন করে ভরিয়ে নিতে হয়।...কত জায়গায় ঐক্যধারা ছিন্ন হয়, পথচিহ্ন লুপ্ত হয়, অনিশ্চিত অস্পষ্ট অন্ধকার থেকে যায়', লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সেই কবে বাংলার কোন এক বিরামহীন নদিপথে ভেসে যেতে যেতে... আমরা যে আমাদের সর্বশক্তি উজাড় করে ভরিয়ে চলি, শুধু ভরিয়ে চলি চুন সুরকি বালি মশলা, বুজিয়ে গহ্বর প্রস্তুত করি দেওয়াল ... ...
সরকারি হাসপাতাল না থাকলে এত কম পয়সায় শেখার সুযোগ থাকবে না। চোরপোরেট হাসপাতালের স্বার্থে এত কিছু করছেন। হ্যাঁ। তাই। আর জি কর হাসপাতালের হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে লড়লে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে একবার হলেও গিয়ে লিখিত স্মারকলিপি দিতেন। বা এখন কিছু বলতেন। মনে রাখবেন, সরকারি হাসপাতাল ডোবালেসরকারি হাসপাতাল ডাক্তারদের দশাও হবে প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকদের মতো। কালিদাসের মতো নিজেদের ডাল কাটছেন। সরকারি স্কুলের ক্ষতি করে ... ...
তিন কন্যার কথাদুলালীভোরের আলো ফোটার আগেই আলতো করে মশারির ধারটা উঠিয়ে বাইরে আসে দুলালী। রোজ এমন সময়ে আলো আঁধারের মিশে থাকা মুহূর্তে উঠে পড়ে সে, আসলে এই সময়েই তাকে উঠতে হয়। ঠিক পাশে শুয়ে তার মেয়ে আল্হাদি, খানিকটা তফাতে সুদর্শন। পাশের ঝুপড়ি ঘরে দুলালীর শাউরি যমুনা শুয়ে আছে। দুলালী এখন গিয়ে তাকে ডেকে তুলবে। তারপর দুজনে মিলে বেরিয়ে পড়বে নীলগঞ্জের ফুল হাটের উদ্দেশ্যে। গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ শীতের কোনো বালাই নেই। এমনই তাদের বারমাস্যা। কখনো কখনো সুদর্শনও ওদের সঙ্গে যায়। দলে একজন মরদ মানুষ থাকলে চাষি কিংবা পাইকারদের সঙ্গে দরাদরি করতে খানিকটা সুবিধা হয় বটে, তবে এখন শাউরি আর বউ ... ...
বহুদিন ধরে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক ক্ষমতাহীনতা নিয়ে কিছু কথা চলে বাজারে যার মূল বক্তব্য হল যে এই অংশের সংখ্যার জোর কম আর সংখ্যাগরিষ্ঠতামূলক গণতন্ত্রে তো সংখ্যাই সব, অতএব ... ইত্যাদি। এই কথাগুলো নিতান্তই যে ফালতু, সেটা বলার ঠিক সুযোগ হচ্ছিল না। আজকে আরজি কর আন্দোলনে সিনিয়র ডাক্তারদের গণইস্তফার পরে রাজ্যের তড়িঘড়ি আলোচনায় বসার উদ্যোগ সেই সুযোগটা করে দিলো। কথা হচ্ছে প্রতিটা দেশ একটা হায়ারার্কি বেসড রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে ... ...
জুনিয়ার ডাক্তাররা এবার অনশন তুলে নিন। আমার উৎসব-টুৎসব নেই, পুজোয় গা চুলকোয়, কিন্তু তার পরেও, পুজোয় কেউ না খেয়ে-দেয়ে বসে আছে ভাবতে ভালো লাগেনা। এর কোনো মানেও নেই আর। সিবিআইয়ের প্রাথমিক চার্জশিট এখনও দেখিনি, ধরে নিচ্ছি সূত্র বলে মূল পয়েন্টগুলো যা লেখা হচ্ছে, সেগুলো বানানো নয়। সেগুলো সত্যি হলে, জুডাদের অনেকগুলো দাবীরই আর কোনো মানে নেই। স্বাস্থ্যসচিবের পদত্যাগের দাবী তো অবান্তর বটেই, পুলিশ কমিশনারেরটাও। সবই যদি ঠিকঠাক হয়ে ... ...
অনেকেরই জানা যে আন্দ্রেই তারকভস্কি (১৯৩২-১৯৮৬)-র প্রথম ছবি 'দা স্টিমরোলার এন্ড ভায়েলিন'(১৯৬১)। কিন্তু এর পূর্বেও তিনি যে দুটি ছবি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এটা হয়ত ততটা সুবিদিত নয়। Gerasimov Institute of Cinematography বা VGIK নামে সুপ্রসিদ্ধ চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্রের ছাত্র ছিলেন তারকভস্কি। বস্তুত প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান প্রতিভাবান মানুষ তৈরি করে না কি প্রতিভাবান মানুষদের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রসিদ্ধি পায় এ বলা খুবই মুশকিল। উল্লেখ থাকুক তারকভস্কি ছাড়াও ... ...
আরজি কর পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে সৈকতের এই দিনলিপি আমার ভালো লাগছিল না। আজকাল কেন, বরাবরই পরাবাস্তবে আমার ঝোঁক। কিন্তু ভিডিও দুটোতে দেখলাম এত দিনের ঘটনাবলী নিয়ে ভ্যাজর ভ্যাজর করে ও বা গুরুচণ্ডালী একটা ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওয়াটার টাইট পদ্ধতি ইভলভ করছে। যে কোন আন্দোলনে এখন পোস্ট ট্রুথকে কনফ্রন্ট করার জন্য একটা ওয়াচ ডগ দরকার। গুরু সেই ওয়াচ ডগ। ... ...
অনেকের মত আমার চোখেও একসময় একটা গাঢ় রঙ্গিন চশমা ছিল। তাতে দুনিয়াটা দেখতাম একমাত্রিক। সে দেখায় বড় আরাম থাকলেও, সেই চশমাটা খোলার একটা চেষ্টাও ছিল নিরন্তর, যাতে সাদা চোখে দুনিয়ার রূপ উপভোগ করতে পারি, দুনিয়ার কুৎসিত দিকগুলো দেখে যন্ত্রণা পেতে পারি। ভুল হতে পারে, কিন্তু আমার ধারণা পুরোপুরি চশমা খুলে ফেলতে না পারলেও (চশমা ছাড়া তো কিছুই দেখতে পাব না), ধীরে ধীরে চশমার কাঁচটার ... ...
আমারও তোমাদের আসরে সিল্ভার-চামচ, তৈজস মোমের মৃদু বেপথু সপ্ন বাসরে স্বচ্ছ স্বল্পালোকিত কোণ আধো অন্ধকার মন ছড়িয়ে পড়া মুক্ত সদৃশ রূপৌশ্বর্যশালীর অনুচ্চ স্পষ্ট হাস্যরোল মার্জিত ওই সব দেখে আজকে তারপরে কেবল কাঁদতে ইচ্ছে করে বিমুগ্ধকর নীলাচল দিগন্তরেখায় স্তব্ধমান ধূসর নিসচুপ নিশ্চল ঊর্মি ও মেখলা আসমুদ্র
পাঁচ অক্টোবর প্রসঙ্গে… কিছু কথা, কিছু ব্যথা। বেশ কিছুদিন ছাত্রদের সঙ্গে দিন কাটিয়েছি, হয়তো তাই ক্যালেন্ডারের পাতা ছাপিয়ে সেপ্টেম্বর / অক্টোবর মাস, পাঁচ তারিখ এখনও মনের মধ্যে নতুন স্পন্দন তোলার প্রতীক্ষায় থাকে। ওইদিন সকাল থেকেই ফোন আগলে বসে থাকতে হয় গুরু পূজারী মানুষজনের কথা শোনার বা লেখা দেখার জন্য। শুধু এই রাজ্য বা এই দেশ নয়, ছাত্রদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মানে মাস্টারমশাইরাও এখন গ্লোবাল হয়ে উঠেছি। ফলে বিদেশ থেকেও শিক্ষক দিবসের প্রণাম, শুভেচ্ছা এসে মুঠোফোনকে ... ...
সন্তানদের আমরা আমাদের মনের মতো করে গড়ে তুলতে চাই। পরের প্রজন্মকে ভালো ছাত্র ও সুচাকুরে হ'তে বলি আমরা, এই দু'টো লক্ষ্য পূরণ করতে ছোট্ট বয়স থেকে তাদের ওপর কতই না চাপ দিই! শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া হয়, ঠিক মতো খেলতে দেওয়া হয় না, খালি পড়া আর পড়া। তার কারণ পড়াশোনায় যত ভালো হ'বে, পরীক্ষার ফল তত ভালো হ'বে। ভবিষ্যতে চাকরিবাকরি করে আরামে থাকার সুব্যবস্থা হ'বে। হ্যাঁ, বেশিরভাগ মানুষ ... ...
(স্মরণে তারাপদ .......) ছেলেটার বয়স আন্দাজ করা কঠিন। একটু মোটাসোটা। হয়তো সবে কৈশোর অতিক্রম করেছে। হয়তো একটু বেশীই বা। ঘাটশিলা থেকেই তো উঠছিল মা বাবা আত্মীয় স্বজন নিয়ে। বড় দল। পাশের কামরাতেই সবাই। খরগপুরে জানালার ধারের সিটটা খালি হতেই আমার পাশে এসে বসেছে। অনেক্ষন কথাবার্তা বলার লোক না পেয়ে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। বললো কলকাতায় যাচ্ছে। ফিরছো না যাচ্ছ? তার মানে? না না। যাচ্ছি, যাচ্ছি। হাসলো ফিক করে। আপনি খুব মজা করে কথা বলেন। দরজার দিকে তাকালো। ভারি গোঁপ ওয়ালা মোটা করে লোকটা দরজায় দাঁড়িয়ে ধুম্র পান করছে। ছেলেটা লাজুক হেসে বললো, “বাবা”। চার পুরুষ ধরে ঘাটশিলার বাঙালি। নাম বললো তারা পীট রায়। এ ধরনের ... ...
বুকের ভেতরের হাহাকার গুলোকে ছোট্ট ঢোক গিলে খেতে খেতেআমি এখন একটা আগাগোড়া প্রস্তরের মন্যুমেন্ট।আমি ভাত ছড়াই না তবু অনাহুত পাখিরা আমার গায়ে বসেতথাকথিত মানুষেরা পাশ কাটিয়ে চলে যায়।কোনো কিছুতেই আমার চোখের পাতা নড়ে নাএক দৃষ্টে চেয়ে থাকি কোনো অশ্বত্থ চারার দিকেযে আমার গা বেয়ে উঠে শেকড় গেড়ে আমাকে ধ্বংস করেমুক্ত করবে আমার এই অস্তিত্বের অবয়বকে।আমি মাটিতে মিশে যাব, আমার গায়ে গজাবে সবুজ ঘাঁসতাদের বুকের ... ...
আপডেটে আসবে। কিন্তু অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কেসটা কী। তাই আলাদা করেই লেখা যাক । তিলোত্তমার ময়নাতদন্ত হয় আরজি করে। আদৌ সেটা ঠিকঠাক হয়েছে কিনা এই নিয়ে খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল ইত্যাদিতে অনেক 'খবর' বেরিয়েছে। দু-একদিন আগে এই 'খবর'ও বেরিয়েছে, যে, ময়নাতদন্তের সময় ম্যাজেস্ট্রেটকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগগুলো ভয়াবহ। বিচারব্যবস্থাও ঢুকে পড়ছে এর মধ্যে। তো, এর পরিপ্রেক্ষিতে জুনিয়ার ডাক্তারদের সই করা একাধিক ... ...
মহালয়ার এই গুরুত্ব আগে বুঝিনি। মেয়ে নিজে হাতে বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করার পরেও না। প্রতি বার মেয়ের ডিউটি থাকে। ভোরে মহালয়া শুনে বেরিয়ে যায়। কোনও কোনও বার মহালয়ার ভোরটা ওর হাসপাতালেই কাটে। কিন্তু এ বারের পুজো একেবারে আলাদা। মহালয়াও আলাদা। এত দিন মনে হচ্ছিল, আমার বাড়িতে আর কোনও দিন আলো জ্বলবে না। আমার দুর্গার বিসর্জন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজ বলছি, আমার দুর্গার বিচার এখনও ... ...