
তোমাকে বাড়ির পথে খুঁজি অনেক বেড়ার তার, অনেক জেলের গেট ঘুরে নোঙর পেতেছি এই চেনা বাসস্টপে, আছো তুমি সমান্তরাল এক গলি, তার অন্তঃপুরে? ... ...

তোমাদের গায়ে কি বারুদের গন্ধ আছে? নখের ফাঁকে রূপালি গুঁড়ো? ধুয়ে নিয়ে চাই আমি, নতুন করে বসতে চাই রঙীন কাঁচে ... ...

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যে পার্টির আসার কথা ছিল আসেনি। তাদের ফোন করে কোনো লাভ নেই। গরজটা আমার নয়। বায়নার আদ্ধেক টাকা পেয়ে গেছি। মৃগেলেকে ফোন করে জানতে পারলাম সে রাস্তায় বেরোয়ইনি। খবরে নাকি বলেছে নিম্নচাপের বৃষ্টি আসবে। স্টুডিও থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই বুঝতে পারি লোকটা আজকেও পিছন পিছন আসছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই খেয়াল করছি। রঙিন রিফ্লেক্টিভ রোদচশমা আঁটা অনুসরণকারী। খেলার মাঠে ক্রিকেটাররা যেরকম পরে। একদিন সোজা ঘুরে গিয়ে জিজ্ঞেস করব ভেবেছি - "আপনি প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর? তনয়ার বাড়ির লোক লাগিয়েছে?" কিন্তু এখন ওর দিকে সময় নষ্ট করে কাজ নেই। আসছে আসুক। নন্দন কাননে ঢুকতে পারবে না। ... ...

পাখিরাও উড়ে যায় একেবারে শূন্য হাতেই ... ...

কাজল লকলকে চোখে সুভাষের দিকে তাকায়। বলে, — মাস্টার হয়েছ! আর এটুকু জানো না? নাকি অযোগ্য তালিকার? সুভাষ প্রথমে কিছুই বুঝতে পারে না! সে কাজলের সঙ্গে বেশি কথা বাড়াতে চায় না সকাল সকাল। পুরো স্কুলের দায়িত্ব তার ঘাড়ে। মিড-ডে মিলের রান্না ঠিক করে বাচ্চাদের অ্যাটেন্ডেন্স রেডি করে তা আবার আপলোড করা। সে এসবে নজর না দিয়ে ভাবে মিড-ডে মিলের হিসেবটা করে ফেলা উচিত। সে ক্লাসরুমগুলোর দিকে চলে যায়। প্রতিটি ক্লাস থেকে টোটাল অ্যাটেন্ডেন্স জোগাড় করে। ছোট নোটবুকটায় লিখে রাখে। এবার তাকে কম্পিউটারে চাপাতে হবে টোটাল নাম্বার এবং মিড-ডে মিলের রান্নাকারীদের বলে দিতে হবে। আজ ডিমের দিন। টোটাল ৪৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী। মানে ৪৫৫টি মতো ডিমের অর্ডার যাবে। কোনও ডিম ভাঙা-ফাটা তো থাকতেই পারে। বাচ্চাদের জিনিস বাচ্চারা খাবে, কিন্তু সেখানে দু-চারজন টিচারও ভাগ বসাবেন। যাইহোক, সুভাষ এই সময়টা খুবই ব্যস্ত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না রান্না চেপে যায় ততক্ষণ সে আর কিছুতে মন দিতে পারে না। বাচ্চাদের খাওয়া বলে কথা। তাছাড়া শহরের মাঝখানে স্কুল। একটু এদিক ওদিক হলেই অভিভাবক থেকে পার্টির নেতা, রিপোর্টার থেকে টিকটকওয়ালা সবাই হাজির হবে। ... ...

— বিনা ইনজিশনে মিলন হবেক নাই ক্যানে! ইস্ত্রি মাছ আর পুরুষ মাছে মিলন ত জলের ভিতরে আকছার হচ্ছেই। ইখেনে বাঁধে মাছ চাষের কথা হচ্ছে। ত শুনেন! বাইরে থেকে ধরে আনা মাছগুলোকে পুখোরে মানে বাঁধে ছেড়ে দিয়া হলো। একদিন উয়ারা নিজের মনে ইদিক-উদিক খেলব্যাক, লাফালাফি করব্যাক, লিজেদের মদ্যে ভালোবাসাবাসি করব্যাক। এই ফাঁকে ওই ডাক্তারবাবু করব্যাক কি, যত্ত মাথার ঘিলু বা বিজ্জ জোগাড় করেছিল, সেগুলো একটা খল–নুড়িতে ঘষে ঘষে পেস্ট করে আবার শিশিতে ভরব্যাক। তার সঙ্গে আরও যা যা সব মিশায় সে ত আগেই বলেছি! ... ...

এখন তার স্টুডিওয় আলমারিতে সারি সারি ক্যানভাস। সিরিজ ভিত্তিক কাজ। “মাটির সোঁদা জ্যামিতি”, “রাতের মহুয়া দেহ”, “মেঠো রাস্তার চিলেকোঠা।” সে প্রতিদিন একটি করে ক্যানভাস তৈরি করে, রুটিনে বাঁধা। সকাল আটটা, জলখাবার, স্টুডিও, দুপুরে ডাল-ভাত-মাছ, আবার স্টুডিও। রাত্রে সাদা মদের সঙ্গে সামান্য বাদাম। কোনো শব্দ নেই, তাড়াহুড়ো নেই কেবল ক্যানভাসে রঙের শব্দ। আঁকতে আঁকতে তার হাত কাঁপে না, চোখও না। শুধু মাঝে মাঝে থেমে যায়। ব্রাশ থেমে যায় মাঝ-আঁকায়। টানা তিন মিনিট সে বসে থাকে একরঙা মেঝের দিকে তাকিয়ে। কি যেন মনে করার চেষ্টা করে। ঘাড়ের কাছে হাত বোলায়। মনে করতে পারে না। তারপর আবার। ... ...

লবণাক্ত দিনগুলি ঘরবন্দি থাকি, কখনও পুরানো দিনের কথা নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রের মত মনের ভিতর ঘুরে ফিরে আসে। ... ...

আমি কোনও নির্ভুল পূর্বাভাস মনে করতে পারছি না। সাধারণত দেখা যায় বিজয়ীরাই সব চেয়ে বেশি বিস্মিত বোধ করেন। ১৯৬৯এ আইরিশ নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেটকে যখন পুরস্কার প্রাপ্তির কথা জানান হয় তিনি ভয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন, “হায়, ঈশ্বর, এ কি সর্বনাশ হল!” ১৯৭১এ পাবলো নেরুদা সুইডিশ অ্যাকাডেমির গোপন সূত্র মারফত খবরটা প্রচারিত হওয়ার তিন দিন আগে সেটা জেনে গেছিলেন। পরের দিন রাতে তিনি প্যারিসে বন্ধুদের নৈশাহারে আমন্ত্রণ করলেন, যেখানে তিনি তখন চিলের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। আমরা বুঝেই উঠতে পারলাম না যে আয়োজনটা কিসের জন্য যতক্ষণ না সান্ধ্য পত্রিকায় খবরটা দেখলাম। “ছাপার অক্ষরে না দেখলে আমি কোনও কিছু বিশ্বাস করি না,”, অপরাজেয় হাসির ধুম তুলে তিনি পরে আমাদের ঘটনাটা জানান। ... ...

একটি বালক প্রায় প্রতিদিনই শ্রেণীকক্ষে নানারূপ উৎপাত করিত। সহপাঠীদের জিনিস ছুঁড়িয়া, তাহাদের ঠেলা মারিয়া, চিমটি কাটিয়া তাহার কী সন্তোষ হইতো সেই জানে! সে ইদানিং বালিকাকে ধরিল। তাহার কলম ইত্যাদি কাড়িয়া লইতে লাগিল, চিমটি কাটিতে লাগিল, অবশেষে জলপানের বিরতিতে তাহাকে সহসা এমনই ধাক্কা মারিল যে, সে মুখ থুবড়াইয়া পড়িল, তাহার চশমা ভাঙিল, রক্তপাতও ঘটিল। কী মত অবস্থায় সে গৃহে ফিরিল সেই জানে! কাহাকে নালিশ করা তাহার স্বভাবে ছিলোনা, বন্ধু তাহার হয় নাই তেমন। কাজেই ঘটনার গুরুত্ব পরবর্তী পাঠদানরত শিক্ষকের কাছে ততটা পৌঁছাইলোনা কেবল দু একটি শিশুর অগোছাল বক্তব্যের মধ্য দিয়া ছাড়া। তাহাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হইল মাত্র। মাতৃহৃদয় উদ্বেল হইল। পরবর্তী বিপদের আশংকায় মাতা দৌড়াইলেন। ... ...

মেনকা তোমার মেয়েটিও জানি ছেলেপুলে কোলে নিয়ে কৈলাস ছেড়ে পৌঁছুবে দূর, বন্ধুর পথ দিয়ে। ... ...

বরানগরে আমাদের স্কুলে ইংরেজির ক্লাসে সামারি এবং প্রেসি ( precis ) লিখতে হতো। একটা এসে পড়ে তার সারাংশ লেখাটার নাম সামারি, আর তার সারাংশের নাম প্রেসি। দুশ বছর আগে জার্মানির এসেন শহরে কার্ল বেডেকার সায়েব ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে প্রথম ট্রাভেল গাইড লেখেন, ক্রমে সেটি টুরিস্টের বাইবেলে পরিণত হয়েছিল। নরম্যানডি ল্যান্ডিঙের সময়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের ফ্রান্স ও ফরাসিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ফরেন অফিসের আমলারা খানিকটা তারই মডেলে যেন একটি প্রেসি লিখলেন। দশ হাজারেরও কম শব্দের এই বইতে আছে ফ্রান্সের ইতিহাস ভূগোল রাজনীতি ভাষা প্রশাসন বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য এবং তার সঙ্গে মিশে আছে টাং ইন চিক ব্রিটিশ হিউমর। কত কপি ছাপা হয়েছিল, ক্যান্টিনে খাবারের সঙ্গে এক কপি করে বন্টিত হতো কিনা তা জানা যায় না। কিন্তু এর ঐতিহাসিক মূল্য অনস্বীকার্য। তাই হয়তো এর রিপ্রিন্ট করেছে অক্সফোরডের বোদলেয়ান লাইব্রেরি। ... ...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পর্যন্ত খুনিসব্যাক অঞ্চলটা ছিল জার্মানদের অধীনে। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তাই মিত্রবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়তে হয় খুনিসব্যাক শহরকে। মূলত ইংলন্ড ও রাশিয়ার বোমারু বিমান বাহিনীর প্রধান লক্ষই ছিল জার্মানের বিভিন্ন শহরের রেলপথ, বিমানবন্দর, জাহাজঘাটা, সেতু ইত্যাদির উপর পরিকল্পিতভাবে বোমা বর্ষণ করা। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে খেপে খেপে, তিন চার বছর ধরে, ভারী বোমা বর্ষণ করা হয় কনাইপোফ দ্বীপের সেতুগুলোর উপর। এই বোমা বর্ষণের ফলে ধূলিসাৎ হয়ে যায় স্লটার ব্রিজ (b) ও ব্ল্যাকস্মিথস্ ব্রিজ (d)। নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেলসম্যানস্ ব্রিজ (c) ও গ্রিন ব্রিজ (a)। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাই ব্রিজ (f)। কিন্তু অক্ষত রয়ে যায় টিম্বার ব্রিজ (g) ও হানি ব্রিজ (e)। ... ...

শুধু অপেক্ষায় রয়েছি এখনও কারো ছায়া কুড়িয়ে নিতে অন্যজন আসেনা কখনও। ... ...

তাতে কিছু যায়-আসে না। মাচ অ্যাডো না পড়েও এম-এন-সির ম্যানেজারি দিব্যি করা যায়। ওগুলো আসলে শিং। শিং জানেন তো? চতুষ্পদের নয়, দ্বিপদের। শৃঙ্গী চতুষ্পদের পিঠে একটা কুঁজ থাকে। তীক্ষ্ণ ধারালো শৃঙ্গদ্বয় উপেক্ষা করে যে জড়িয়ে ধরতে পারে সেই পিঠের কুঁজ, তার পুরস্কার অন্য আর এক জোড়া! দ্বিপদ শৃঙ্গীর আহরিত জোড়া কুঁজ যদি কেউ চুরি করতে যায় তার শাস্তি জানেন? ... ...

হঠাৎ বাসটা ডান দিকে ঘুরে গেল! কি হল ব্যাপারটা? যাত্রীদের মধ্যে একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল। তমাল এতক্ষণ খেয়ালই করেনি যে গাড়ি পুরো ঠাসা, ঘাড়ের ওপর লোক ঝুঁকে পড়ছে। কিন্তু আনোয়ার শাহ রোডে বাসটা ঘুরে গেলো কেন? এরকমটা তো মহরমের দিন হয়। তমালের মাথায় চিন্তাটা আসতেই একজন বলে উঠলো, নিশ্চয়ই মুসলমানদের কোনও পরব! ... ...

‘’রো বনাম ওয়েড’’ মামলার পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্যভেদে গর্ভপাতের সুযোগের দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক রাজ্যের আইনসভাই নতুন নতুন গর্ভপাত বিধিনিষেধ তৈরি করেছে এবং অনেকে আবার বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর করতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, কিছু রাজ্য গর্ভপাত পুরোপুরি নিষিদ্ধ বা অত্যন্ত কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করেছে; আবার কিছু রাজ্যে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে (৬, ১২, ১৮ সপ্তাহ বা ভ্রূণের প্রায় কার্যকর হওয়ার মতো সময় অর্থাৎ ২৪ সপ্তাহের কাছাকাছি) গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অন্যরা আবার গর্ভপাতের সুযোগ বজায় রেখেছে বা প্রসারিত করেছে। মোদ্দা কথা গর্ভপাতের জন্য নির্দিষ্ট গর্ভকালীন বয়সসীমা সম্পূর্ণরূপে সেই রাজ্যের উপর নির্ভর করে যেখানে এই প্রক্রিয়াটি চাওয়া হচ্ছে। ... ...

বিরজু এখন আর তর্ক করে না। তর্ক করে লাভ নেই। সিদ্ধান্ত মানেই সিদ্ধান্ত। পাগলটাকে মারতেই হবে। তবুও তো তার ভাগ্য ভালো একটা পাগলকে মারবে সে। চাঁদুর ভাগ্য তার চাইতেও খারাপ ছিল। তাকে মারতে হয়েছিল ক্লাস টেনে পড়া ফুলকুমার মান্ডিকে। যখন মাওবাদীদের ভয়ে গ্রামের পর গ্রাম ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত তখন সে ব্যাটা সাইকেল চালিয়ে একা একা জঙ্গল পথে স্কুলে আসত। কমান্ডার বলেছিল। ও ব্যাটা নির্ঘাৎ পুলিশের চর। স্কুলে আসার নাম করে বেলপাহাড়ী আসে আমাদের গতিবিধির খবর দিতে। শালার কী ভয় ডর নাই? একজন সাহস দেখালেই অন্যরা সাহস পাবে। মাধ্যমিক সামনেই ছিল কিন্তু তার আগেই চাঁদু তাকে শুইয়ে দিল জঙ্গল ঘেরা পিচ ঢালা রাস্তায়। তারপর চাঁদু তিনদিন ঘুমায়নি। এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বিরজু দেখল, চাঁদু চাটাইয়ে উঠে বসে রয়েছে। সে ফিসফিস করে বলেছিল, কী হয়েছে চাঁদু? চাঁদু উদভ্রান্তের মত তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, আমি রাস্তার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ছিলাম। ছেলেটা আমাকে দেখে সাইকেল থামিয়ে নামল। তারপর জিজ্ঞেস করল, বাবা! চাঁদু কাকা কত্তদিন পরে দেখলাম গো। গাঁয়ে যাবে বুঝি। লও লও সাইকেলটো তুমহি চালাও। আমি তুমাকে বইতে পারব লাই। ... ...

বর্ধমান শহর স্বাস্থ্য উদ্ধারের শহর ছিল। বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এই শহরে এসেছেন স্বাস্থ্য ভালো করবার আশায়। স্বাস্থ্য শহর থেকে মশা মাছি ধানের শহর কবে হল বর্ধমান? দিনক্ষণ লেখা নেই। তবে হল, একদিকে সিপাহি মহাবিদ্রোহ দমনের জন্য ক্যাম্পিং গ্রাউন্ডে সেনা শিবির অন্যদিকে রেল লাইন নির্মাণের জন্য কৃষি জমি দখল করে মাটি উঁচু রেলপথ নির্মাণ। জল নিকাশীর সহজ বন্দোবস্ত গেল ধ্বংস হয়ে। ম্যালেরিয়া এল। পথের পাঁচালী-র ইন্দির ঠাকরুণের দল বেঘোরে মরতে লাগলেন। জল নিকাশী ব্যবস্থা গড়ে না তোলায়। ... ...

বাসব স্যার তখন সখা মাতলির সঙ্গে একহাত পাশা খেলবেন বলে মনে মনে ভাবছেন। গুটিগুলোকে শচীর তৈরি রেশমী পুঁটুলি থেকে বের করে সবে গোছাতে শুরু করেছেন,এমন সময় পাশে রাখা বাক্ যন্ত্রখানি সরব হয়ে ওঠে। যন্ত্রখানির দিকে নিতান্তই বিরক্তি নিয়ে তাকাতেই দেখে পজ্জন্যর তলব। “ কী ব্যাপার? হঠাৎ ফোন করেছো কেন?” “ফোন কি আর সাধে করেছি? চতুর্দিক তোলপাড় হয়ে গেল ভোলুরামের হাঁচির শব্দে, আর আপনি শুধোচ্ছেন কী ব্যাপার!” – পজ্জন্যর কথায় খানিকটা উষ্মা ঝরে পড়ে। ... ...