
যুদ্ধ করাও এক সম্যক কর্ম - ধ্যান কর্মও বটে। ... ...

রাজাকে সরানোর আগেই ঠিক করে নেওয়া দরকার কে হবে পরবর্তী সঠিক নেতা - নচেৎ দেশ জুড়ে শুরু হবে মাৎস্যন্যায়। ... ...



বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মৌলবাদী আক্রমণ বিষয়ে প্রতিবাদী নিবন্ধ ... ...

খালেদা জিয়া ও বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জোট গঠন করা। এতে জামায়াতই রাজনীতিতে পুনর্বাসন হয়েছে, আর বিএনপি ভুলের মাশুল দিয়েছে অন্তত ২৫ বছর। এদেশের মানুষ কখোনই একাত্তরের ঘাতক জামায়াত-শিবিরকে ক্ষমা করেনি।... ... ...

গাড়ি পিছনে রেখে আমরা শুকনো ঘাসে ঢাকা মেঠো পথ দিয়ে এগিয়ে চললাম, সামনে সামান্য দূরে একটা বিরাট গাছ, যার নিচ থেকে নাকা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কাছে গিয়ে দেখলাম কিনারায় এসে গেছি, সামনে গভীর খাদ সোজা নেমে গেছে নিচের দিকে, আর তার ওপারে নীলাভ সবুজ পাহাড়ের সারি - ডাইনে, বাঁয়ে, সামনে যতদূর দৃষ্টি যায়। শৃঙ্খলাপরায়ন সেনাবাহিনীর মত তারা যেন অপেক্ষা করছে আদেশের অপেক্ষায়। এইবার বোঝা গেল কেন এর নাম ব্লু মাউন্টেন। মাথার ওপরে ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বাংলার শরৎ কালের মত কয়েক টুকরো সাদা মেঘ, যদিও এখন ডিসেম্বর মাস। সামনে পাহাড়ের কিনারায় একটা প্রশস্ত পাথরের চাতাল, তার পাশেই একটা লোহার বেঞ্চ। চাতালে বা বেঞ্চে বসে সামনের পাহাড়ের শোভা দেখতে দেখতে কাটিয়ে দেওয়া যায় দীর্ঘ সময়। ... ...

কেরানীগঞ্জের এক মাদ্রাসার দুইটা দেওয়াল উড়ে গেছে জাস্ট! শক্তিশালী বোমা বানাচ্ছিল সেখানে। ভাগ্যভাল যে কেউ মারা যায় নাই, চারজন আহত হয়েছে। বাংলাদেশের মিডিয়ার এখন সেই সাহস নাই যে প্রকাশ করবে যে মাদ্রাসায় বোমা ফুটেছে। প্রথম আলো এইটা প্রকাশ করার পরে আস্তেধিরে আরও কয়েকটা জায়গায় নিউজ হয়। এখন একবার ভাবুন এই সংবাদের তাৎপর্যটা। মাদ্রাসায় বোমা বানাচ্ছে কারা? কেন? তাদের উদ্দেশ কী? সুষ্ঠু তদন্ত হবে? গলায় আটকে যাওয়ার মত খবর না? অন্য কোথাও হলে না হয় লীগের ঘাড়ে ফেলে দেওয়া যেত দোষটা। এখন মাদ্রাসায় কে বোম বানাতে যাবে? এই খেলা বাংলাদেশ খেলে আসছে। যাকে বীরোচিত সম্বর্ধনা দেওয়া হল তার আমলেই হয়েছে। লীগের আমলে জঙ্গি ধরতে গেলেই বলা হয়েছে লীগের নাটক। তো সেই নাটকের অবস্থা এখন ক্যামন? ঢাকায় তালেবান নেতাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে প্রকাশ্যে। তারা মিটিং করছে, বিভিন্ন মাদ্রাসায় যাচ্ছে, নেতাদের সাথে দেখা করছে। এবং আমাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এ তো হতেই পারে, খুব স্বাভাবিক ঘটনা! ... ...

পেরিক্লিস যখন বার্ধক্যের মুখে, সেই সময় তাঁর বিরোধীরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়দের ওপর আক্রমণ করা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য আসলে ছিলেন পেরিক্লিস। ভাস্কর ফিদিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি মূর্তির জন্যে বরাদ্দ তহবিল তছরুপ করেছেন। যাঁরা ধর্মাচরণ করেন না এবং 'মাথার উপরের বিষয়' নিয়ে তত্ত্বশিক্ষা দেন, তাঁদের যাতে অভিশংসিত করার জন্যে এরা আইন পাশ করে। আনাক্সাগোরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি শেখাচ্ছেন, যে সূর্য এক আগুনে গরম পাথরের গোলা আর চাঁদ মাটি দিয়ে তৈরি। ঠিক কী কী যে ঘটেছিল, তা পরিষ্কার নয়, তবে আনাক্সাগোরাসকে এর ফলে এথেন্স ত্যাগ করতে হয়েছিল। সম্ভবত পেরিক্লিস তাঁকে কয়েদখানা থেকে মুক্ত করে নিরাপদে পালানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তিনি আয়োনিয়ায় ফিরে যান আর একটি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উইল অনুসারে, ইশকুলের পড়ুয়ারা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ছুটি পেত। ... ...


সিনেমার দৃশ্যটা মনে ধরে আছে। কারণ এখনো মাঝে মাঝেই যখন দেখতে পাই সেই খেলার ভিডিও হাইলাইটস। বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসেছিলেন এলিতেলি নয় বড় মাপের কৈলাস বিজয় বর্গী। তিনি দেখেই বুঝে যেতেন কে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা চিঁড়ে মুড়ি খায়। বুঝতে পারতেন, কারণ তার ওপরওয়ালা জমিদার মশাই মোদিজি লুঙ্গি পাজামা দেখে বুঝে যান কারা মুসলমান, অর্থাৎ জঙ্গি। সেবারে দুই বেলা জমিদার ও তার সর্দার অমিত শাহ এরোপ্লেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। তবুও বিশেষ ফল হলো না। মনে আছে জমিদার কলকাতা টিমের খেলোয়ারদের খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার খেলোয়াড়রা সব পেট খারাপ নিয়ে দিশেহারা। তাদের বাঁ হাতের জল কিছুতেই শুকাচ্ছে না। এ রাজ্যেও শত খানেক তৃণমূলের নেতা বিধায়ক এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সিবিআই ইডির ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে, বিজেপিতে আনা হলো। তারাও এলো, কারণ স্লোগান ছিল "অব কি বার, দোশো পার"। বলতে পারেন সরকারটা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শপথ নেওয়াই খালি বাকি ছিল। লাভের লাভ হয়নি কিছু, পৌনে একশোর গণ্ডিতে আটকে যেতেই দলছুট দল বদলুরা অনেকেই আবার ফিরে এলো। আর যারা দলে ঘাপটি মেরে ছিল, সময় সুযোগ মতো দল বদলাবে বলে, তারা সুবোধ বালক হয়ে ফের অনুগত "অনুপ্রাণিত" হয়ে থেকে গেল। ... ...


...আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক ভোটার শেষ পর্যন্ত আস্থায় নিয়ে বিএনপিকে বেছে নেন, না বিএনপিকে ঠেকাতে নেতিবাচক ভোট দেন জামায়াত-এনসিপির বাক্সে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এদিকে, খবরে প্রকাশ, জামায়াত সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টি আসন রেখেছে এনসিপির জন্য। অর্থাৎ এই ৩০টি আসনে জামায়াত কোনো নির্বাচনি প্রার্থী দেবে না, সে সব আসনে প্রার্থী দেবে এনসিপি, জামায়াত তাদের সমর্থন করবে। ... ...


সুধীরের সিভিতে আরও বড় বড় জিনিস আছে অবশ্য। তিনি বার দুই জেল খেটেছেন। একবার ফেক নিউজের জন্য। ২০০৮ সালে, তখনও সত্যযুগ আসেনি। কাজ করতেন লাইভ ইন্ডিয়া বলে একটা চ্যানেলে, বড়কর্তা হিসেবে। একটা 'স্টিং' অপারেশন করে সেই চ্যানেল। সেখানে দেখানো হয় উমা খুরানা নামের এক মহিলা স্কুলশিক্ষিকা দেহব্যবসার চক্র চালাচ্ছেন। মহিলার চাকরি যায়, হেনস্থা হতে হয়, তিনি পাল্টা মামলা করেন। সেখানে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়ো। যাকে দেহব্যবসা চক্রের শিকার বলে দেখানো হচ্ছিল, সে আসলে একজন সংবাদব্যবসায়ী (পুরোটাই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট থেকে লিখলাম)। তাঁর চ্যানেলের এই কান্ডের সুধীর চৌধুরি গ্রেপ্তার হন, এবং পরে ছাড়াও পান। ... ...


সাতসকালের এক খবরকে ঘিরে অনেক অনেক পেছনে ফিরে যাওয়া। নিছক অতীতচারিতা নয়, বরং স্মৃতিপটে অমলিন অক্ষয় হয়ে থাকা ছয় দশকের আগের এক আশ্চর্য নির্মিতির আখ্যান নতুন করে পরিবেশনের প্রচেষ্টা এক সাম্প্রতিক ফরমানের প্রেক্ষাপটে। দুটি পর্বে আলোচ্য। পড়ুন ও পড়ান। ... ...

সেখানেই দোতলার খোলা বারান্দায় বসে অলসচোখে রাস্তা দেখতে দেখতে খাওয়া সারা গেল। স্কুলফেরতা ছাত্রছাত্রীর দল, অফিসফেরতা মহিলা ফিরতিপথে এই রেস্টুরেন্টে ঢুকে হয় কিছু খেয়ে নিচ্ছেন নয়ত প্যাক করিয়ে। মোমো, থুকপা, চাউমিন খেয়ে পেট ঠান্ডা করে কল্পার দিকে ফেরা। দেখা যাক রওলা ক্লিফ হয় কিনা। আজকেই কল্পায় আমাদের শেষ দিন, যদি সূর্যাস্তের আগে হোটেল পৌঁছানো যায় তাহলে কৈলাসের উপরে অস্তগামী সূর্যের রঙের খেলাও দেখা হয়ে যাবে। আশায় আশায় আমনকে জিজ্ঞাসা করি, সেও আশ্বাস দেয় পৌঁছে যাবো। ... ...


কিছুদিন আগে আমার ব্লগে "ম্যাক্স ওয়েবার, প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতা এবং অ্যাড্যাম স্মিথ" শীর্ষক লেখা পোস্ট করেছিলাম। সেটি পড়ে পাঠকরা কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। এখানে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ... ...