

ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, শহরতলীর মুসলমান পল্লী ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এসআইআর এর ভয়ে, সীমান্তে কোটি-কোটি লোকের ভিড়, সব এসআইআরের ভয়ে পালাচ্ছে, এর সবকটা ভিত্তিহীন। চ্যানেলে চ্যানেলে যাঁরা এই গুলবাজি করছিলেন, প্রত্যেককে চোখে চোখে রেখে কথাগুলো বলা দরকার। কারণ, দেখা যাচ্ছে, মুসলমানের মধ্যে নিখোঁজ বা স্থানান্তরিত নেই বললেই চলে। এই নিয়ে নাগাড়ে যাঁরা গুলবাজি করে চলেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেবার মানে নেই ... ...

অভিভাবকতা -- খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সন্তানকে গড়ে পিটে সবদিক থেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে। আমরা যে কালে এই সময়ের মধ্যদিয়ে গিয়েছি, সেই সময়ের সঙ্গে একালের বিস্তর ফারাক। এখন সময় হলো পরীক্ষা নিরীক্ষার। এখন অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন বা বলা ভালো এমনটা করতেই ভালোবাসেন। ছেলেমেয়ে চৌকস হোক, সর্বগুণে গুণান্বিত হোক এমনটা সব অভিভাবকই চান। এই চাওয়ার পেছনে এক গভীর উৎকন্ঠার তাড়না রয়েছে যাকে শিক্ষা মনোবিদরা চিহ্নিত করেছেন FOMO PARENTING হিসেবে। এই নিবন্ধ সেই উৎকন্ঠিত অভিভাবকতা নিয়ে। পড়ুন মনখুলে, মতামত দিন হাতখুলে। ... ...

অবধারিত ভাবেই প্রশ্ন আসে এখন কী বুঝতেছে তাঁরা? মুক্তিযুদ্ধকে যে খেয়ে ফেলছে তাঁদের ক্যামন লাগে? জানি রুঢ় হয়ে যায় কিন্তু তবুও জিজ্ঞাস করলাম। তাঁর মেয়ে বলল দেখেন ওই যে একটা স্মৃতিস্তম্ভ, সরকার এইখানের এই ঘটনার স্মরণে বানায় দিছিল। আমারে কন তো এইটা কার কী ক্ষতি করছিল? এইটা কেন ভাঙল? এইটা কী দোষ করছে? এইটা চোখের সামনে ভাঙল, আমাদের খারাপ লাগে না? তিনি বললেন কয়েকদিন আগে কে জানি ওই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দিয়ে জোরে জোরে বলতেছিল এগুলা সব চোর ডাকাত ছিল তাই মারছে সবগুলাকে! তিনি শেষ করলেন এই বলে যে এত বছর বুকটা এই বড় বলে দুই হাত প্রসারিত করে দেখালেন, এই বড় ছিল, বড় করে ঘুরছি, এখন হাতটা ছোট করে বললেন এখন এই ছোট হয়ে গেছে, সাহস পাই না, ডর করে! এবং আমিও উনার কথার সাথেই একমত! এইটাই প্রকৃত চেহারা বাংলাদেশের। মুক্তিযোদ্ধারা মাথা নিচু করেই টিকে আছেন এই দেশে। এই লজ্জা রাখার জায়গা আছে? কত বড় আহাম্মক হলে এইটা সম্ভব? ফিরতি পথে অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে ফিরলাম। উনার বাড়ি যাওয়ার আগে আমিও সেই ভাঙা স্মৃতিসৌধ দেখে গেছি। এইটা যখন উদ্বোধন হয় তখন পত্রিকায় পড়েছিলাম। এর নাম দিছিল ‘সৌরজায়া স্মৃতিসৌধ’। কার এত রাগ এই সৌরজায়া স্মৃতিসৌধের উপরে? কেন? ... ...

পেনাং-এর হকার সেন্টারগুলি সাধারণত বেশ ভিড় এবং কিছুটা কোলাহলপূর্ণ হয়। বড় রেস্তোরাঁর মতো নিজের স্পেস, সাজসজ্জা এখানে পাবেন না – তবে এটাই এখানকার বিশেষত্ব। ছোট প্লাস্টিকের টেবিল এবং চেয়ারগুলোতে বসে আপনি আপনার প্রিয়জনের সাথে সময় ভাগ করে নিচ্ছেন – সে এক রোমান্টিক জিনিস। আশেপাশের লোকজনের ভিড় থাকলেও যে নিজেরা চাইলে আলাদা হওয়া যায়, স্ট্রীট ফুডের স্টলগুলিতে খেতে বসলে তা টের পাওয়া যায়। কোনো কাঁচের দেওয়াল বা এসি-র ঠান্ডা বাতাস নেই - আপনি সরাসরি শহরের শব্দ, গন্ধ আর দৃশ্য — সবকিছুর অংশীদার। প্রিয়জনের সাথে বসে চারপাশের হকারদের ব্যস্ততা, স্থানীয়দের হাসি-ঠাট্টা দেখা, আর সেইসাথে সুস্বাদু খাবার উপভোগ করা — এটা এক রোমান্টিক সন্ধ্যা কাটানোর জবরদস্ত রেসিপি! ... ...

"... তোমার বিচার আসলে নিজের স্বার্থরক্ষা। তুমি দুর্বলের উপর অত্যাচারী এবং সবলের অনুগত। তুমি বিলক্ষণ জানো নটী বিদ্যুল্লতা যে রাজার পালিতা কন্যা ও যে রাজ্যের নাগরিকা, তার কিছু হলে, তাঁরা তোমার রাজত্ব বিপন্ন করে তুলবেন। আর সেই কারণেই তুমি এই দুশ্চরিত্রা নটীকে রক্ষা করবে, আর দুশ্চরিত্রা নয় বুঝেও তুমি দুর্বল ব্রাহ্মণকন্যার কোন বিচার করবে না ... ...

বাড়ির বড়রা শিশু সাইদুরকে একটি বড় ঘরে খাটের নীচে হাঁড়িকুড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখেন। তারপরেই ঘটে যায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি! রাজাকাররা ওই ঘরে সাইদুরের মা-বাবা, অন্যান্য ভাই-বোন, আত্নীয় – স্বজন সবাইকে ধরে এনে কসাইয়ের মতো জান্তব উল্লাসে রাম দা দিয়ে একে একে কুপিয়ে হত্যা করে! ... ...

দর্শনে এথেন্সের অবদান মাত্র দুটি নাম – সোক্রাতিস ও প্লেটো। প্লেটো অনেক পরবর্তী সময়ের মানুষ হলেও, সোক্রাতিস তাঁর যৌবন আর সাবালক জীবনের প্রথমদিকটি পেরিক্লিসের শাসনকালেই কাটিয়েছেন। দর্শনের প্রতি এথেনীয়দের উৎসাহ এতটাই ছিল, যে তাঁরা অন্য শহরের শিক্ষকদের কথাও সোৎসাহে শুনতেন। যে সব তরুণ বিতর্কের শিল্প শিখতে চাইতেন, তাঁদের কাছে সফিস্টদের বেশ কদর ছিল; প্রখ্যাত কোনো এক অতিথির কথা আকুল শিষ্যরা কেমন হাঁ করে শুনতেন – প্রোটাগোরাস বইয়ে প্লেটোর কল্পিত সোক্রাতিসের মুখে তার মজাদার বর্ণনা আছে। আমরা পরে দেখবো – পেরিক্লিস আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন দার্শনিক আনাক্সাগোরাসকে, আর সোক্রাতিসের মতে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে মনের প্রধান ভূমিকার কথা আনাক্সাগোরাসের থেকেই তিনি শিখেছিলেন। ... ...

এই প্রবন্ধটি লিখেছিলাম অ্যাডাম স্মিথকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ সংকলনের জন্য। সম্ভবত সেটি আর বেরোবে না। লিখতে বেশ কিছুটা পরিশ্রমই হয়েছিল। অথচ লেখার পরে কেউ পড়বে না এটা মেনে নেওয়া যেকোন লেখকের পক্ষেই কষ্টকর। তাই নিজের ব্লগেই দিয়ে দিলাম। বিষয়বস্তুটি এমন যে বেশি লোকের আগ্রহ থাকার কথা না। তবুও যদি কেউ পড়েন ভালো লাগবে। ... ...


দিনের কাজের শেষে ক্লিন ক্যাশ বুক সম্পূর্ণ করা একটি সাংবিধানিক কর্তব্য কিন্তু, জলপাইগুড়ি ব্রাঞ্চের ইতিহাসে সেদিন একটি দুর্ভাগ্যজনক রেকর্ড স্থাপিত হল। দুলালদার সৌম্য মুখে কোন বিরক্তির চিহ্ন নেই, বললেন, আজ আর নয় কাল সকাল সকাল অফিসে আসুন, আমি ঠিক করে দেব, আপনি দেখে নেবেন। আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ট্রেনিঙের সময় সকলেই ভুল ভ্রান্তি করে, তবে আপনার ভুলগুলির কোন লজিক খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মেঘনা মিলের ক্ষেত্রে আমি অঙ্কে গোলমাল করে ফেলায় তাদের ক্রেডিট লিমিট বা ড্রইং পাওয়ার নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। নিমাই বাবু যখন ভুলটা ধরিয়ে দিলেন কদিন বাদে, প্রথম চিন্তা হল কাজ যাবে না তো ? আমার হৃদয় বিদারক স্বীকারোক্তি শুনে বললেন, এ হে, কী যে করেন! একটু দেখবেন তো ? ওদের নতুন ক্রেডিট লিমিট অবধি অ্যাডভাইজ করা হয়ে গেছে। আচ্ছা, মেঘনার প্রাণকেষ্ট বাবুকে একবার আমার নাম করে অফিসে আসতে বলুন তো। ওঁকে বলে সেটা সামলে নেওয়া যাবে। তবে বম্বেতে আমাদের বোর্ডকে জানিয়ে তাদের পারমিশন নেওয়ার ব্যাপারও আছে। সেটা একটু শক্ত, তবে দেখছি। ... ...

চালুক্যদের সময় এই ছোট গ্রামের মন্দিরগোষ্ঠীগুলি ব্যবহার হত রাজ অভিষেকের সময়। টলেমির ভূগোলে এর নাম আছে - পেট্রিগাল। জায়গাটা বাসে বাদামি থেকে আধঘন্টা দূরে। গ্রামে আছে মূলত বাসস্টপ আর বড় জায়গা জুড়ে এএসআই ঘেরা এই মন্দিরগুলো। মন্দিরগুলোকে মূলত দুভাগে ভাগ করা যায় - প্রথমদিকে তৈরি পুরোনো শিখর স্টাইল আর পরের দিকে তৈরী দ্রাবিড় বিমান ঘরানা। ... ...


আইনের রক্ষাকবচ - কথাটা একালে খুব ক্লিশে হয়ে পড়েছে। সরকারি বক্তব্যকে অনুসরণ করে দেশের উচ্চতম আদালত পাহাড়ের এক নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন গতমাসে।যাকে নিয়ে এতো কথা, এতো হৈচৈ, এতো সওয়াল জবাব সেই আরাবল্লি পর্বত এখন চিরকালের জন্য লোপাট হয়ে যাবার অপেক্ষায়। ভাবছেন তো কেন? পড়েই ফেলুন ঝটপট। ... ...

দুই পাশে যুযুধান দুই পক্ষ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, এই বুঝি যুদ্ধ শুরু হয় হয় ! কিন্তু দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, শ্রীকৃষ্ণ আগের পর্বে সাংখ্যযোগ বুঝিয়েছিলেন অর্জুনকে, আর এই পর্বে বোঝাচ্ছেন কর্মযোগ। কী হবে এসব বুঝে? ... ...

'একেন বাবু ও ঢাকা রহস্য' সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে একটি দৃশ্যে ঢাকা মহানগরী ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে অনিবার্ন চক্রবর্তীকে অনেকটা এরকম বলতে শোনা যায়, 'এখানে (ঢাকায়) "প্যারা" কোনো মিষ্টি নয়, নানা ঝুট-ঝামেলাকে এখানে "প্যারা" বলা হয়'...। ... ...

মোট এই চারটিই গুহা। এবার পাহাড় থেকে নেমে উল্টোদিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম এই হ্রদের নাম অগস্ত্য হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জায়গার নাম বাতাপী। বাতাপী আর ইল্বল সেই দুই রাক্ষস ভাই ছিল। বাতাপী ছাগল হয়ে যেত আর ইল্বল পথিকদের তার মাংস রান্না করে খাওয়াত। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে বাতাপীর নাম ধরে ডাকলেই বাতাপী বেরিয়ে আসত পথিকদের পেট চিরে। একদিন অগস্ত্য যাচ্ছিলেন সে রাস্তায় [সম্ভবত বিন্ধ্য পেরিয়ে অগস্ত্য যাত্রায়]। বাতাপীকে খেয়ে হজম করে ফেললেন। দুই ভাইয়ের গল্পের ঐখানেই ইতি। ... ...

হালে দেশের রাজধানী তে হাওয়া বাতাসের গুণমান দেখে লোকজন বিশেষ করে সেখানকার বাসিন্দারা পরিবেশ দূষণ নিয়ে কথা বলছে, যদিও সত্যিটা হল, এই অবস্থা একদিনে হয়নি। এবং যদি এরকম চলতে থাকে পরিবেশের নামে, তাহলে এর আওতায় বাকী এলাকাও বিশেষ করে শহরগুলি এসে পড়বে। ... ...

আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় ঈশ্বরের কোন প্রত্যক্ষ ভূমিকা কোনদিনই ছিল না, আজও নেই। কিন্তু থাকে ব্যক্তিগত পরিসরে তাঁকে স্মরণ করার নিত্য-নৈমিত্তিক আচার ও আচরণ। সে আচরণ প্রথায় যখনই প্রবল বাধা আসে, বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ জনগণ - মনের মধ্যে জমতে থাকে বিদ্রোহ... ... ...
