

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে গুলি খেয়ে মরে ফেলানি খাতুন। ফেলানির বয়স ছিল ১৫ বছর! ফেলানি খাতুন কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাবার সাথে ভারত থেকে ফিরছিল সেই সময় গুলি খেয়ে প্রাণ হারায়। দীর্ঘ সময় ফেলানির লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে! সেই সময় কাঁটাতারে ফেলানির লাশ খুব আলোড়ন তৈরি করে। দেশ বিদেশের গণমাধ্যমেও বেশ জায়গা পায় এই ছবি। তখন যে তীব্র ঘৃণার জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশীদের মনে তা ভারতবাসী কতখানি বুঝে ছিল জানি না। আমরা আশা করেছিলাম অন্তত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা প্রতিবাদ করবে এমন একটা ন্যকারজনক হত্যাকাণ্ডের জন্য। কিন্তু তা আর হয়নি। এরপরে কোথাও যে খুব বেশি কিছু হয়নি তা বুঝতে পারা গেছে সহজেই। কারণ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সব আগের মতোই। এবং ১৩ বছর পরে গত বছর ১ সেপ্টেম্বর রাতে ১৪ বছর বয়সই স্বর্ণা দাস মারা গেল গুলি খেয়ে! স্বর্ণা দাস মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে তার মায়ের সাথে ত্রিপুরায় থাকা ওর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। বেচারি মা নিজে বাঁচতে পারলে বাঁচাতে পারেনি ছোট্ট কিশোরী স্বর্ণা দাসকে! আত্মরক্ষায় গুলি কোন ক্ষেত্রেই খাটে না। স্বর্ণা দাস, ফেলানি খাতুন কেউই অস্ত্র তাক করেনি বিএসএফের দিকে যে তাকে গুলি করে মেরে ফেলতে হবে। ... ...

এই রাজ-সোনম কেসটা এবার মিডিয়ার চোটে যথারীতি পুরোটাই সার্কাসে পরিণত হয়ে গেছে। কেউ বলছে রামদা কেনা হয়েছিল ইন্টারনেটে, কেউ বলছে স্টেশন থেকে। কেউ বলছে গুন্ডাদের সঙ্গেই ট্রেনে ওঠে সোনম, কেউ বলছে না, ওরা পরে এসে পাশের হোটেলে ঢুকে পড়ে নেংটি ইঁদুরের মতো। একটা নিজস্ব সংবাদদাতার প্রতিবেদনে পড়লাম, "চেরাপুঞ্জিতে তিন খুনির সামনে দাঁড়ানো হতভম্ব স্বামী। স্ত্রীর নির্দেশ, মারো ওকে"। অসম্ভব কিছু না, কিন্তু পড়লেই জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে, স্ত্রী নাহয় সিনেমার মতো বলল, এবার মারো, কিন্তু আপনি জানলেন কীকরে? স্ত্রী নির্দেশ দিচ্ছিল, আর আপনি কি সোনামুখ করে পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন? ... ...

এই সময়ের সরকার পরিপোষিত শিক্ষায়তনের পঠনপাঠনের হাল রীতিমতো সঙ্গীন। অনেক অনেক সমস্যার সাথে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের গরহাজিরার মাত্রা। যে কোনো কর্মদিবসের দিন স্কুলে গেলেই এই শূন্যতা নজরে পড়বে। কেন এমন হাল এই সময়ের সরকার পরিপোষিত শিক্ষায়তনের। এই নিবন্ধ তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা। ... ...


ভাগ্যাহত ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে কোথাও যেন অদৃশ্য এক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ... ...

এমনেও বয়স একটা বড় ফ্যাক্ট। তবে আমার জন্য তারচেয়েও বড় ফ্যাক্ট আম্মা আব্বার না থাকা। শৈশবের সমস্ত কিছুই তো আম্মাকে ঘিরে। ইদ মানে তখন আম্মার হাতের নানান পদ। তখন এখনকার মত এত বৈচিত্র্য ছিল না আয়োজনে। ওই সেমাই, পায়েস, নুডলস, পাস্তা, পোলাও মাংস দইয়েই সব শেষ। এক লিটারের কাচের বোতলে পেপসি বা কোকাকোলা। খেয়ে ফিরত দিতে হবে বোতল! খুব বেশি হলে পোলারের কাপ আইসক্রিম। এই তো! আর কী চাওয়া? একটু বড় হওয়ার পরে ঘণ্টা চুক্তিতে রিকশায় ঘুরা। তারপরে কারো বাসায় ঢুকে পড়ে ইচ্ছামত খাওয়া। খাওয়া আর ইদ আনন্দ এইটা একে ওপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই করতে করতে কবে জানি দেখি আমি নতুন জামার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি, সারাদিন ঘর থেকে বের না হয়ে, কয়েকজন বন্ধু মিলে সিনেমা দেখে, ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি ইদের গোটা দিনটাই। ... ...

ইতিহাস আমরা বইয়ে পড়ি। কে যেন বলেছিলেন স্বর্ণযুগ বলতে আমরা সব সময়ে অতীতের গল্প বুঝি ( দি গোল্ডেন এজ অলওয়েজ, ’ওয়াজ ‘)। অনেক বছর কেটে গেলে মনে হয়েছে নিতান্ত ভাগ্যবলে আমরা একটা আশ্চর্য সময়ে কোন রঙ্গমঞ্চের উইংসের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম – সেখানে কোন নাটিকা অভিনীত হচ্ছিল তার খোঁজ রেখেছি কি ? আমরা সামান্য মানুষ, বোনাস ও বেতনেবাধিকারস্তু ; মা ফলেসু নয়, কেন না ফলটাই আমাদের একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের অবসানে এসেছে গণতন্ত্র। , নতুন রাজনীতিটা কি ? এখন কোন পার্টির শাসন? জানি না, জানবার প্রয়োজনটাই বা কি ? আমাদের সে সব দেশে আসা যাওয়ার কোন বাধা নেই, কমপিটিশন নেই, ব্যবসা চলে ভালো, কেউ কোথাও আটকায় না, ভিসা লাগে না ( রাশিয়া বাদে ), পশ্চিমি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের স্টাইলের পান্থশালায় রাত্রি যাপন করি, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কম তাই গুচ্ছের ক্যাশ নিয়ে ঘুরতে হয়, এই যা । সিটি ব্যাঙ্কের শাখা অফিস চলে লন্ডন ফ্রাঙ্কফুর্টের অভ্যস্ত কায়দায়। ওয়ারশ, প্রাগ, বুদাপেস্ট, ব্রাতিস্লাভার সহকর্মীরা দ্রুত পশ্চিমি স্টাইল শেখার চেষ্টা করছেন।মনে আছে ওয়ারশ অফিসে আমার অধস্তন সহযোগী ডানিয়েল আমাকে হীরেন বলে ডাকছে শুনে কয়েকজন রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। চোখে কি ঠুলি পরানো ছিল ? সিটি ব্যাঙ্ক যখন পূর্ব ইউরোপের আন্তর্জাতিক ঋণের বাজারে মত্ত সিংহের ধারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে সময়ে ড্রেসনার ব্যাঙ্ক এমন ম্যানডেট পেলো কি করে ? তিরিশ বছর আগে ভাবি নি, তখন ফিয়ের পরিমাণ হিসেব করেছি। এবার সেই রহস্যের উদ্ধার হলো। গাজপ্রম ডিলের পিছনে ড্রেসনার ব্যাঙ্কের কোনো তুখোড় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কারের মার্কেটিং এলেম ছিল না, ছিল স্তাসির এক ক্যাপ্টেনের হাত। তাঁর নাম মাথিয়াস ভারনিগ। ... ...


এক পাড়ায় হলেও দুই মেরুতে বাস করা দুই পড়শির ক্বচিৎ কখনো এভাবে দেখা হয়ে যেতে পারে এবং তখনই মেলে তাদের মনেরও সন্ধান। ... ...


বললে হবেনা, ছোটোবেলায় আমিও দাবা খেলতাম। ঘোড়াই আড়াই চাল, সিসিলিয়ান ডিফেন্সের নাজডর্ফ ভ্যারিয়েশন, সব জানি। হ্যাঁ, তারপর অনেকদিন ওসব ফলো করা হয়না। কিন্তু কাল দেখলাম গুকেশকে। নামটা যেন একটু কেমন মতো, কিন্তু কী চাউনি, বাপরে। ব্যস পুরো দাবা ব্যাপারটাই মনে পড়ে গেল, সাঁতার আর সাইকেল কী কেউ ভোলে রে ভাই। আঠারো বছর ধরে রগড়ানো, বোরিং গলা সাধা, ওসব কী আর লাগে রে ভাই। দাবা হল অ্যাটিটিউড। আসল কথা হল, ক্রিকেট খেলতে হলে লর্ডসের বারান্দায় জামা ওড়ানো আর দাবার বোর্ডে প্রতিপক্ষকে চাউনি দেওয়াটা শিখতে হবে। দৃষ্টিই হল সৃষ্টি। ঘোড়ার আড়াই চাল, সেসব নেহাৎই বা*। ... ...

কিভাবে যে কপাল পোড়ে - ছিঁড়েখুঁড়ে যায় জীবনের স্বপ্নজাল..... ... ...


কবে গিয়েছিলামঃ ২২ – ২৬ মে, ২০২৫ কারা গিয়েছিলামঃ মোট ৮ জন (পাঁচজন বড়, তিনজন ছোট; ছোটদের বয়স ৬ – ১৩র মধ্যে) ... ...

অতএব মনের মধ্যে তৈরী হয়ে ওঠে সুযোগের অপেক্ষায় থেকে আপাতত মিথ্যে ভান করে নেওয়া একটা চতুর মন। নিজের এই মনটাকে আমি নিজেও ঠিক পুরোটা বুঝে উঠতে পারি কি না কে জানে! এই মন আমাকে দিয়ে চন্নামিত্তি নিয়ে মাথায় ঠেকানোর মত একটা ভঙ্গী করায়, আমি দুধ-ঘী-মধুর সুস্বাদু তরল জিভ দিয়ে সুড়ুৎ করে টেনে নিয়ে হাতটা পায়ের তলায় মুছে ফেলি। নিজের মনে অবিরাম দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, সকলের চোখের আড়ালে এ আমার কেমন প্রতিবাদ? এ তো ভন্ডামি। মন বলে হ্যাঁ ভন্ডামিই তো, ইস্কুলে ইরাদি যখন বলেছিল ‘তোমায় তো মা দেখিয়ে দেন ট্র্যানশ্লেসান' ত্খনও তো বলে ওঠো নি ‘না না মা তো কিচ্ছু পড়া দেখায় না আমাকে' সেইটে ভন্ডামি ছিল না? আমি বলি আহা তখন ঐটে বললে মা তো ভীষণ রাগ করত। মন বলে আর এইটে বললে বুঝি ক্যাডবেরি কিনে দেবে? আরও অনেক বেশী রাগ করবে। আমি বলি কিন্তু সত্যি যদি সরস্বতী জ্যান্ত হয়ে কম নম্বর পাইয়ে দেয়? মন বলে তাহলে তো বুঝেই যাবে আমরা মানুষরা বানাই না, আর ঠাকুররা রাগ করলে নম্বর কম হয়। আমি ব্যাজার হয়ে বলি তখন বুঝে কি ঘন্টা হবে আমার? মন খুশী হয়ে বলে বলে ধ্যুৎ চল তো আজ তো আর পড়াশোনা নেই, কেউ খোঁজ করবে না, এখন চুপিচুপি ওপরে গিয়ে প্রসাদ আর নবকল্লোলের শারদীয়া সংখ্যার ছবিগুলো দেখি বরং। ... ...

গরম এক অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে।সমস্যাটি বৈশ্বিক। গরমের হাত থেকে সাময়িক রেহাই পেতে আমরা, বিশেষ করে নগরবাসী মানুষজন একটা চটজলদি সমাধানের পথে হাঁটতে চাইছি। আমাদের মনে হচ্ছে একটা এয়ার কন্ডিশনার কে হাতিয়ার করেই আমরা বাজিমাত করবো, জিতে যাব গরমের বিরুদ্ধে এই লড়াই। এয়ার কন্ডিশনার থেকেই আবার নতুন বিপদের সূচনা। এই নিবন্ধ সেই পরিণতির প্রসঙ্গ নিয়ে। ... ...


'মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ঘাতক বাহিনীর রক্তের হোলি খেলায় যে সব শহীদ পরিবার ‘'কষ্ট পেয়েছেন’' তারা জামায়াতকে সহজেই ভুলে যাবেন? জামায়াত আমিরের ‘'ভুল স্বীকারেই’' চুকেবুকে যাবে বধ্যভূমির সব ইতিহাস?' ... ...

"হে পাক পারওয়ার দিগার, হে বিশ্বপালক, আপনি আমাকে লহমায় একজন তুখোড় রাজাকার ক’রে দিন। তা’হলেই আমি দ্বীনের নামে দিনের পর দিন তেলা মাথায় তেল ঢালতে পারবো অবিরল, গরিবের গরিবী কায়েম রাখবো চিরদিন আর মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে নেচে বেড়াবো দিগ্ধিদিক আর সবার নাকের তলায় একনিষ্ঠ ঘুণপোকার মতো অহর্নিশ কুরে কুরে খাবো রাষ্ট্রের কাঠামো, অবকাঠামো।" (একটি মোনাজাতের খসড়া / শামসুর রাহমান) ... ...