• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • দক্ষিণের কড়চা

    Parthasarathi Giri
    বিভাগ : আলোচনা | ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | ৬৬৫ বার পঠিত
  • এবং শাকম্ভরী

    কাকভোরে এক ঝটকায় বলাইয়ের ঘুম ভেঙে গেল। কী যেন একটা স্বপ্ন দেখছিল সে।

    প্রতি রাতে নিয়মত বলাই স্বপ্ন দেখে। কোনোদিন শিশুর। কোনোদিন মরা মায়ের সঙ্গে ছোটোবেলার স্মৃতির স্বপ্নিল ভার্সান। কখনও সখনও প্রথম প্রেমিকা রুগ্ন কিশোরী লক্ষ্মীর। আজ সে কী দেখছিল মনে করার জন্য প্রথাগতভাবে ফের চোখ বুজে রইল কিছুক্ষণ। বিলীয়মান স্বপ্নের রেশ জোনাকির মতো দপ দপ জ্বলে জ্বলে ধরা দিল ধীরে ধীরে।

    পুরানো ভেঙে যাওয়া তলতা বাঁশের বঁড়শি নিয়ে বলাই ভরা ধানক্ষেতে ব্যাঙের ছানা হুকে গেঁথে নিপুণভাবে নাচিয়ে নাচিয়ে ভেটকি ছানা, শোল বোয়াল ধরত। তখন সদ্য বাসন্তীকে গাঙনাচক গাঁ থেকে বিয়ে করে এনেছে। নতুন সোমত্ত বউয়ের মাছের নোলায় বিভোর দিনকাল। নিজস্ব প্রতিভা প্রয়োগের মোক্ষম সুযোগ। আহা! বাসন্তীর পাতে দিনভর পরিশ্রমে আনা একটি মাছের ঝোলমাখা ভাত দেখার অপরিমেয় সুখ ছিল। আহা তার নাম সুখ।

    বাসন্তী যখন বাদামী কড়াপাক মাছভাজা কামড়ে ধরত দাঁতে, ঠোঁটের কোণে সাদা তিলের মতো সাজানো ভাতের দানাসহ, নাকের ডগায় ঘামবিন্দু এবং ক্ষুধার আশ্লেষে মাটিতে থেবড়ে বসা ষোড়শী বধূর ভরাট বুকজোড়া স্পন্দমান থাইয়ের ঘেরাটোপে, তখন বলাইয়ের ব্রহ্মে সমিধ জ্বলে যেত। ভাতটুকু নিঃশেষে উদরে গেল কি গেল না, বাসন্তীকে বিছানায় আছড়িয়ে ভরা পেটে, জবরদস্তি উদলা মন্থনে, কামড়ে কুমড়ে লাথি মেরে চটকে উল্টিয়ে ক্ষুধার অন্য সংস্থান। মাছভাজার শারীরিক দিনকাল। আহা! কোথা গেল! গেল যদি তবে দুর হ সেই সব অমূল্য অনর্থ দিন। দুর হ মারানির দল!

    আজ তার স্বপ্নে সেই বঁড়শিটা। নোয়াখুটি খালের ওপারে অথৈ সবুজে সে বঁড়শি নাচাচ্ছিল স্বপ্নে। পুরুষ্টু ধানের গোছের ফাঁকে ফাঁকে সুতোর ডগায় গাঁথা ব্যাঙ ছানা নাচছে একাগ্র সতর্কতায়। কোনো একটি মীন বাবাজি ছিপে ঠোঁট ছোঁয়ানো মাত্রই সেই ক্ষীণ বার্তা সুতো বেয়ে বাঁশ বেয়ে আঙুলের মুঠি বেয়ে বলাইয়ের শরীর বেয়ে মস্তিস্কে অব্যর্থ সিগনাল দেবেই। আর দেওয়া মাত্রই একটি নিপুণ ঝটকা। ব্যস। ছিপের ডগায় ছটফট করে উঠবে সুখ।

    আজ স্বপ্নে সেই এক ঝটকা। আচমকা ছিপের হুক যেন ছিটকে সটান তার চোখে গেঁথে গেছে। বলাই স্বপ্নে তার সেই চোখ দেখে চমকে উঠেছে। ছিপের ডগায় তার একটা চোখ খুবলে উঠে গেছে। সাদা ছোট জামরুলকুশির মতো বলটা থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত পড়ল মাটিতে। জামরুল বল টুপ টুপ করে নাচছে সুতোর ডগায়। বিষণ্ণ বিমূঢ় বলাইকে নস্যাৎ করে এক সময় খিলখিল করে হেসে উঠল ছিন্ন আঁখিগোলক। সেই হাসির শব্দ অবিকল কোনো শিশুর দেয়ালার মতো।

    বলাই ধড়ফড় করে উঠে বসে বিছানায়। নির্বাক হতভম্ব বলাই। পাশে ঘুমন্ত বাসন্তী। বলাই যেন বিছানায় বাসন্তী আর তার ফাঁকে হাত গলিয়ে গলিয়ে চোখের বলটাকে খুঁজে নিল এক লহমা। কিছু নেই কোথাও। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাত গেল চোখে। বলাই মোলায়েম করে চোখ কচলাল। বাইরে তখন কুয়াশাভেজা অঘ্রাণের ভোর। এখনও কিছু কিছু দেহে বড্ড গরম লাগে। বাসন্তীর আঁচল সরে যাওয়া আবছায়া বুকে কোনো নির্দিষ্ট কুয়াশা নেই। ঠা ঠা টাঁড়মাটির মতো ঢিবি। ঘাস নেই। পোকা নেই। ফড়িং নেই। পায়ের দাগও যেন নেই এমন টসটসে স্তন, বৃন্ত, উৎরাই। বলাই তেরো বছরের পরিচিত সে সব সম্বল দেখল নীরবে এবং বড়ো করে একটা শ্বাস ছেড়ে বিছানা থেকে নেমে বাইরে এল।
    বলাই এখন তেত্রিশ ছুঁই ছুঁই।



    পূবদিকে একটা বড় বাদাড় থাকার দরুন কলতলার মাঠে সকালের রোদদুর আসতে দেরী হয়। জোতদার বরেন মোদকের ধানকুটানি কল চলে। গাঁয়ের যতেক পরিবার সাইকেলের খাঁজে, গামছা-বাঁধা মাথায় ধানবস্তা, কোঁচড়ে রেশনের গম, ক্ষেতের সর্ষে, তিল নিয়ে দুপুর একটু গড়ালে লাইন দেয়। সে সময় কলতলার বাদাড় অত্যন্ত সরব হয়। সংসারের শতেক কাজ ফেলে আসা ঝি ঝিউড়ি সাংসারিক সংবাদ আদান প্রদানে কলকল করে। পোড় খাওয়া চাষীরা ওয়েদার নিয়ে গম্ভীর নিদান দেয়।

    বেশি কুয়াশায় পটলের লতায় গতর লাগবেনি দাসখুড়া। আগেভাগে কইথিলি না?
    হ কইথিলু বটে। পালং দিলে ভালা হইত না?
    হ খুড়া।
    তবে ঘনশ্যাম তোর আলু এবারে গেলা। ছিটা ফুঁটা জল পড়লানি। গোছ লাগবে?
    দেখা যাউ খুড়া। ললটে কী লিখা দেখা যাউ। কইথিলি কী, তুমার জমির পাট্টা কাগজ পাইল অফিস থিকা?
    না। দিবে কইছে। সে কাগজ আইসবে বটে সময়ে। মনটা ভালা নাই রে ঘনু। পটল লতাইলনি ঠিক করিয়া। কী যে করি এ মরসুমে!

    কলের লাইনে বেশ দূরে পালপাড়ার অবনী মুদির ছোট মেয়ে কমলা। সামনে রতন শিটের বউ দাঁড়িয়ে। মেশিনে পৌঁছতে ঢের দেরী। কথা হচ্ছিল রতনের মেজ মেয়ে পার্বতীর শ্বশুরবাড়ির ব্যাপারে।

    পাবু এবারে কী বিয়াইল খুড়ি? খবর কিছু পাইল?
    হ রে। ফের মায়াঝি বিইইছে। ঘরে অশান্তি।

    কমলা সদ্য বিবাহিতা মুখরা তরুণী। তৎক্ষণাৎ তার জবাব ছিটকে এল।
    অশান্তি? কেনি? মায়াঝি কি মানুষ হইলনি? তার কি গতর কম হবে? নাকি বুদ্ধিসুদ্ধি কুনদিন হবেনি? আর দশটা মানুষের মতন সে ভি ঠিক মানুষ হবে। তুমানে না আজব পেরাণী মাইরি।
    খুড়ি আনমনে মাথা নাড়ে মহিলার ভিড়ে কলরবে।

    জমি শস্য ক্রন্দসী প্রাণ ঘিরে এই সব চিরন্তন আশা উদ্বেগ নানাবিধে, পটল আলু পালং সজনে বরবটি লতায় কলতলার বাদাড় চার পাঁচ ঘন্টা মুখর থাকে প্রতিদিন। বাকি সারা দিনমান নিঃঝুম।

    বরেনের ভাতুয়া সন্তোষ কেবল তখন বাগানে ঘুরে দেখভাল করে। কদবেল ঢুপ ঢুপ করে পড়ে পড়ে জলের অতিরিক্ত অ্যাসিডিক প্রাবল্যের বিরক্তিতে পাঁকের ওপর নিরন্তর বিশ্রামরত ভ্যাদা, দুচারবার কানকো নেড়ে তীব্র প্রতিবাদ করে ফের আলস্যিতে ঘুমিয়ে পড়ে। পুকুরের জলে বৃদ্ধ শোল ঘুরে ঘুরে আনমনে নিঃশঙ্ক ঘাই দেয়। জল জুড়ে, বৃক্ষচূড়া ভরে, লতা গুল্মে, ঢেঁড়শ পুষ্পে নূপুর বাজে নীরবে।

    দুপুরের পর ঘেড়ো সন্তোষ কলে তেল ভরে। কাঁধ ঘাড় প্রশস্ত ও পেটাই বলে সন্তোষের নাম কবে থেকে যেন ঘেড়ো সন্তোষ হয়ে গেছে। কনভেয়র বেল্ট রেঞ্জ ঘুরিয়ে টাইট করে নেয়। সেই মেশিন অপারেটর, সেই ভাতুয়া, সেই মালঞ্চী। লোকজন আসা শুরু হলে মেশিন চালু করে হ্যান্ডেলে হাত রেখে টুলে ঠায় হয়ে বসে থাকে সেই সন্ধ্যা তক।
    আঃ দাসখুড়া ধান ভালা দো সিদ্ধ হইছে? দাঁতে কাটিয়া দেখছ?
    হ দেখছি ত। কেনি? আরো টিকে সিদ্ধ হইত নাকি?
    মনে তো লয়।

    দাসখুড়ার ধান শেষ হলে লাইনে বঙ্কিম মান্নার কিলো চারেক গম।
    ক কিলো বাঁকাদা?
    চার হবেনি। তিন কিলোর টিকে বেশি।
    পাল্লায় ফ্যাকো।
    বলামাত্র বঙ্কিম মান্না পাল্লায় গম রাখে। চার কিলো দুশ।
    চার কিলোর দাম দিব বাঁকাদা।
    পাল্লা ঠিক আছে সন্তোষ?
    মানে?
    না মানে...
    দুটি টাকার হেরফেরে বাদাড় মুখর হয়ে ওঠে। দুটি টাকা কোনোভাবে সটকাতে পারলে নিজেকে সফল মনে হয় দিনগত প্রভূত বঙ্কিমের।

    তারপর বিরক্ত আদ্যিকালের ডাবল চেম্বার ঢাউস কির্লোস্কার ইঞ্জিন ভকাস ভক ভকাস ভক উদ্গীরণ থেকে ক্ষান্ত হয়ে গোটা তল্লাটে আচমকা নৈঃশব্দ্য পেড়ে ফেলে। ঘেড়ো সন্তোষ হাত পা ধুয়ে আয়েশ করে বিড়ি ধরিয়ে গঞ্জের বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ঘন ক্বাথের মতো এক কাপ সান্ধ্য সাদা চা যেন প্রতিদিন প্রাণে বিনোদন দেয়।

    কলঘরের চারদিকে আট-দশ বিঘা বাগান পুকুর ঘিরে আছে ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া শিরিষ, গাব, আম, মুচকুন্দ, নারকেল, খেজুর, পিচিক, কদবেল গাছ। এই সব গাছের মাথা সকালের সব রোদ শুঁষে খায় আদেখলার মতো। তার লাগোয়া পূবের অফসলি পতিত মাঠে তখন ঘন স্যাঁতসেঁতে ছায়া। ছায়াময় রসস্থ মাটিতে নধর শ্যাম চিকনি শাকের দাম ছেয়েছে। সাবধানে পা ফেলে এগোতে হয়। ডুমো ডুমো নরম বেগুন, কুচি কুচি আলু, পাঁচফোড়ন, এক ছিটে তেল নুন হলুদে চিকনি শাকের সোয়াদ বড়ো খোলতাই হয় কিনা! বড়ো মায়া লাগে উদাসীন পায়ে পায়ে মাঠময় কচি শাক পিষতে।

    সনাতন গায়ে পাতলা পাতনিটা বেশ জুত করে জড়িয়ে একমনে লুঙ্গির কোঁচড়ে চিকনি শাক তুলছিল সেই ভোররাত থেকে। মাঝে মাঝে চোখ তুলে দেখছিল এই বুঝি রোদ আসে রোদ আসে। ঘন কুয়াশা মাঠের পরে তদবধি।

    সনাতনের ডানহাতে একটা ধারালো ঝিনুকের খোল। খোল আর বুড়ো আঙুলের ছাপে মোচড়ে নিখুঁতভাবে শাকের গোছ তুলে এনে লুঙ্গির মধ্যে রাখছে। অন্যদিন সঙ্গে দু একজন সঙ্গী থাকে। পুরুষ সঙ্গে বিড়ি টানা হয়। হাসি ফক্কুড়ি কথা হয় গাঁয়ের কোনো ঝিউড়ির বুক পাছা গতর নিয়ে। বেশ ফুরফুরে সময় কাটে। বউ ঝি কেউ থাকলে আড়চোখে বুকের খাঁজ, আঁচ ও ছোঁয়াচ। কাকি জেঠি দিদিমা থাকলে খোশগল্প। আজ কেউ নাই। সনাতন একা একটা বিড়ি ধরিয়ে কাজে মনোযোগ দিল। ঢিমেতালে কেজিটাক শাক হয়েছে মোটে এখনও।

    চিকনি শাকের বেশ খাতির শহুরে বাবু বিবিদের হেঁশেলে। সব শাকেরই স্বাদ গন্ধের নিজস্ব একটি মোক্ষম ঘরানা রয়েছে। চিকনি শাক মিঠে, ঈষৎ কষাটে। অদ্বিতীয় গন্ধের শাক বলে, যা বলাই তুলতে পারে সবটাই নিশিতার হাটে বিকিয়ে যায়। কেজি দুয়েক তুলতে পারলে বেলা বারোটার মধ্যে বেচাবুচি সেরে ষাটটি টাকা কড়াক্কড় হাতে পেয়ে যাবে। ক্যানিং বাজারে নিয়ে যেতে পারলে ডবল রোজগার হত। সময় নাই সনাতনের। সনাতনের মাথায় আকাশ চেপে থাকে ভারে ক্ষারে ধারে। এই টাকাতেই তাই সন্তুষ্টির প্রয়োজন।



    বলাই সনাতনের চেয়ে বছর তিনেকের ছোট। সনাতন এইট কেলাস অবধি টেনেছে। বলাই সেভেনের বাৎসরিকেই বসল না। বিবাহিত সংসারী দুই ভাইয়ের মধ্যে বনিবনা তেমন নেই। যেটুকু বাইরে বাইরে, ভিতরে তার কতটা কী, সেটা আঁচ করা দুরূহ। এমনও হতে পারে, বলাই সনাতনকে সহ্য করতে পারে না, সনাতন তার দুয়ার আগলে রেখেছে বলে। এমনও হতে পারে, সনাতন নিজের মৃত্যু কামনা করে না বলাইয়ের মৃত্যু অস্বীকার করতে।

    বলাই এবং সনাতনের বাবা নিত্যানন্দ ঘরামি যাত্রাদলে কাজ করতে করতে একসময় নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। সেও প্রায় চব্বিশ পঁচিশ বছর আগের কথা। তার নিরুদ্দেশ কারুর মনে দাগ কেটেছিল কিনা, ঈশ্বর জানেন অথবা জটিল আঁক কষে বলতে হবে। বাপ গেলে বলাইদের মা সনাতনের কাছে থাকত। দিন মাস বছর গেলে সনাতন ও বলাই দুজনের বউকেই ঘুনসি, আলতা, সিঁদুর, নোয়া, লোহার চাবিছড়া, গোবর দিয়ে বরণ করে গোয়ালে হেঁশেলে বিছানায় জুতে ছিল দুই সহোদরের জননী।

    কোনো এক কালান্তক রাতে কথা কাটাকুটিতে সনাতনের মা সনাতনের বউকে 'ছনকি, ঢলানি, ভাতারখুরি' বলে গাল পাড়ে। তীব্র রিফ্লেক্সে সনাতনের বউ নির্মলা সঙ্গে সঙ্গে 'আংরা খা আংরা খা' বলে উনুন থেকে নারকেল মালা ভরে সনাতনের মায়ের মুখে জ্বলন্ত কাঠকয়লা গুঁজে দেয়। তার একটি জ্বলন্ত পিন্ড সটান আলজিভে সেঁধিয়ে যায়। বিস্ফারিত মুখগহ্বরে সনাতনের মা দিন পনের পরে পচে যাওয়া খাদ্যনালী ফেলে, নির্মলাকে অঝোর কাঁদিয়ে সগ্গে যায়।

    সগ্গেই নিশ্চিত গমন, কেননা অমন শেতলতুল্য শাশুড়ির শোকে নাকি সনাতনের বউ এক মাস বোবা হয়ে গেছিল। দশ মাতব্বরের সম্মুখে সনাতনের মা আঙুল তুলে নির্মলাকে দেখিয়ে কিছু বলতে চাইলেও শেষ শ্বাসের আগে একটি শব্দ কিছু বলে যেতে পারেনি। ক্ষীণ অ্যাঁ অ্যাঁ শব্দের সঙ্গে বৃদ্ধার জ্বলন্ত আঁখিপটলের ঘূর্ণনকে সকলে ক্ষতের আতিশয্য ভেবেছিল।

    নির্মলা জানালার বাঁশের গরাদে মাথা ঠুকে ঠুকে শাশুড়ির জন্য নাকি কেঁদে ভাসিয়েছিল। আহা! তবে তো বুড়ি সগ্গে গেল! কপালগুণে যত্নআত্তির বউ পেয়েছিল গো! কেঁদেকেটে কালি যমুনে হয়ে গেল গা! আহা! সনাতন ভাইগ্য কইরেছে।
    লোকে আইকনাইজ করে ফেলেছিল সনাতনের পোষ্য পোষক বৃত্তান্ত।

    তারপর সনাতনের বউ কালের নিয়মে যথাবিধিমতে গর্ভবতী হয়। ঘনঘোর ভাদ্রের বানভাসি এক রাত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি নিঃসাড় মরা বাচ্চা জন্মদ্বারে উগরে দেয়। হপ্তাভর শোকার্ত সদ্যজননীকে পড়শি জ্ঞাতি গুষ্টি আহা আহা করেছিল সান্ত্বনায়। এমন নক্কি গুইণের বউয়ের এত শোক কি দ্যাবতার উচিত হল বটে? কেবল সনাতন জানে চুলার চারধারে, বিছানার চারপাশে, উঠোনে, শিরোপরে মাতৃশাপ।

    তারপর নির্মলা কখনও আর পেটে কিছু পেল না কেন, কেউ কিছু জানে না। বিরক্ত ধ্বস্ত পর্যুদস্ত নির্মলা কি সনাতনকে অছ্যুত করেছে, নাকি সনাতন মাতৃঘাতী নির্মলাকে বীজ দিতে নিস্পৃহ, কেউ অন্দরের খবর জানে না।

    তবে কিনা সেই থেকে সনাতন যেন বদলে গেছে কিছুটা, অনেকটা। উদাসীন ও এলোমেলো। অপত্যহীন যৌনসন্ধানী। এবং অভিনিবিষ্ট হিংস্র।



    সেই তবে মরা অঘ্রাণের ভোর আগত। কলতলা বাদাড়ের পশ্চিমপাশে বলাইর টালির দোচালা। বেড়ার আগল খোলার খটরখট শব্দ। স্বপ্নাহত বলাই মুখ তুলে দেখল টালির চালের ওপর তেঁতুল গাছটার ঝুপ্পুস মাথায় মেলা ভোরের কুচবকের বিশ্রম্ভালাপ। আলো ভালো করে ফুটলে বলাকারা পছন্দসই পুকুরপাড়ে যাবে। কোন পুকুরের মৌরলার আঁশ গন্ধ রসে মৌতাত, তাদের সে সব পঙ্খদর্পণে।

    বলাই সে সব দেখল বটে। কী দেখল, কেন দেখল রাতের রেশ জানে। পূবের ডোবার ধার দিয়ে পাড় ধরে বাঁশবন ডিঙিয়ে মাঠের ধারে এল। ঘেড়ো সন্তোষ জাল শুকোতে দিয়েছে বাঁশে। রাতের শিশির ভোরের কুয়াশায় সেই খেপলা জালখানি মসলিনের আকার ধারণ করেছে। বলাই আনমনে পায়ে পায়ে হেঁটে মাঠের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে চোখ তুলে দেখল, একটু দূরে মাঠের ওপর উবু হয়ে কেউ বসে রয়েছে। বসে বসেই অল্প অল্প করে সরে সরে যাচ্ছে। শাকতুলানি কেউ হবে তবে।

    বলাই কী যেন একটা ভাবার চেষ্টা করল। কাঁধের গামছাতে চোখ রগড়াতে মনে পড়ল। আজ দালানে পাখির খাঁচা থেকে ভোরের স্বাগতম ডাক আসেনি তো! বলাই ফের তড়িঘড়ি দৌড়োল বাড়ির দিকে। ডোবার ধার ঘেঁষে দ্রুত দৌড়োতে গিয়ে টালবেটাল হয়ে ডোবার জলে ঝপ্পাস করে হড়কে পড়ে গেল। কী নাকাল কী নাকাল! সাত সকালে ভিজে জেরবার। নিজের হাসি নিজে একটু উপভোগ করল।

    হাঁকুপাঁকু করে জল ছেড়ে উঠে বাড়ির দালানে উঠে দেখল পাখির খাঁচার দরজা হাট খোলা। শালিখটা নেই। বলাই অকারণ একবার বাঁ চোখে হাত দিল। চক্ষুগহ্বর নিয়মতঃ ভরাট। খাঁচা খোলা দরজাটায় তার স্বপ্নের চক্ষুগোলকটা যেন খাপে খাপ বসে যাবে। খাঁচার খোলা চোখে এখন দৃষ্টি নেই যেন। অন্ধ।

    বলাই চিৎকার করে উঠল না আদৌ। যদিও পাখিটা বাসন্তীর জান প্রাণ কলজে। বাসন্তী তাকে যতন করে রতন-কথা বলতে শিখিয়েছে। দু বছর আগে ঝড়ে পথে পড়ে থাকা পুঁচকে শাবকটাকে বাসন্তী কোঁচড়ে তুলে এনে ফড়িং উচ্চিংড়ে বুচকুড়া পোকা ধরে ধরে খাইয়ে বড় করেছে। সাপ বেড়াল ভামের উপদ্রবে পাখিটি কেবল রাত্রিতে খাঁচায় থাকে। সারা দিনমানে বাসন্তীর সঙ্গে সঙ্গে ওড়ে হাঁটে ঘোরে। ডোবার ঘাটে যায়। মাঠে গরু তুলতে যায়। হেঁশেলে নিভন্ত উনুনের ছাইতে পাখা ঝেড়ে ঝেড়ে থুবড়ে প্রসাধন সারে।

    শালিখ বাসন্তী বলে ডাকলে বলাই বেশ বুঝতে পারে। ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি...ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি...মানে ও বাসন্তী। ও টঁ টাঁ ই ও ক্রঁ ক্রা ই মানে ও বলাই ও বলাই। উরুর ওপর বসে কাপড়ে ঠোঁট ঘষে ঘষে সোহাগ করে।

    আরেকটি যেন কী বলে বলাই কিছুতেই বুঝতে পারেনি। কেউ অর্থও করে দেয়নি। অনেকবার বাসন্তীকে শুধিয়েছিল। বাসন্তী বলতে পারেনি বা বলেনি তাকে। কেবল ফিঁচেল হেসেছে। কোত্থেকে শিখল? কে কী শেখাল কে জানা বাবা!
    ও টঁ টাঁ ট্রঁ অঁ...ও টঁ টাঁ ট্রঁ অঁ...টেঁ টেঁ টাঁ অঅঁ...টেঁ টেঁ টাঁ অঅঁ..



    এক বছর আগেও বাহ্যি সারতে আলধারে বসতে হত। জনমনিষ্যি পথে বেরোবার আগেই কাকভোরে বাসন্তী আলধারে গিয়ে বসত। পুরুষেরা বেলা বাড়লেও আড়াল আবডালে পেট হালকা করে আসতে পারত। মেয়েদের শরম ভরম একটু বেশি।

    এখন সরকারি সাহায্যে ঘর লাগোয়া ছেনিটারি পাইখানা হয়েছে। চারপাশে দরমার আড়াল। এখন বেগ পেলে সুবিধে মতো নিরুদ্বেগে বাহ্যি সারা যায়।

    বাসন্তীর সে সব আজ মাথায় উঠেছে। পাখির শোকে আছাড়ি পিছাড়ি কাঁদছে পাইখানা ঘরের সামনে উঠোনের মাটিতে। কোথা গেলি রে ছুটকি...কে তোকে নিয়ে গেল রে ছুটকি...ফিরে আয় বাপ মোর...আয় রে ছুটকি...আঃ আঃ আঃ আয় আয় আঃ আঃ...

    এই সময় সমবেত কণ্ঠমিশ্রিত কিসের একটা শব্দ আসছে গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে। ঝনর ঝন ঝনর ঝন...



    সনাতনের পাশে পাশে ছুটকি ঘুরঘুর করছিল। সনাতন শাক তুলতে তুলতে মিটার পাঁচেক সরে এসেছে মাঠের কোণা থেকে। ছুটকি তার পাশে পাশে নানাবিধ শব্দে সম্ভাষণ আলাপন করেছে। সনাতনের নীরবতায় খুব বকেছেও। সনাতন আড়চোখে পাখিকে দেখেছে। পাখি উড়ে উড়ে খালি শাকের জায়গায় ঠোঁট ঘষে উল্টে পাল্টে বিবিধ মুদ্রা প্রদর্শন করেছে। এক নজরে দেখলে মনে হবে শূন্য ভূমির গন্ধ চাই পাখির।

    ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি...ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি...

    সনাতন বারকতক শুনল 'ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি'। কুয়াশামাখা মাঠের পরে, শাকের জাজিমে কেউ যেন ঝুমুর ছড়িয়ে দিচ্ছে থেকে থেকে। ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি...ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি।

    ও টঁ টাঁ ই...ও টঁ টাঁ ই। সনাতনের মাথার ভেতর পলাতক রোদ পড়ল যেন। ফের কুণ্ডলী পাকানো কুয়াশা পাক খায়। কিছু আসে কিছু হারায়। সনাতনের গা শিউরে ওঠে বাসন্তীর সংকেতে ও ট্যাঁ ক্রোঁ ক্রি। বাসন্তী বাসন্তী আহা! 'ছেলে দাও ছেলে দাও' শাকের দামে দামে নেচে নেচে ডাকে পাখি। ও টঁ টাঁ ট্রঁ অঁ...ও টঁ টাঁ ট্রঁ অঁ...টেঁ টেঁ টাঁ অঅঁ...টেঁ টেঁ টাঁ অঅঁ...ক্রে ক্রে ক্রা অঁ

    কোথা থেকে দূরাগত এক কোলাহলের মতো কিসের যেন অস্পষ্ট বিমিশ্র শব্দ ভেসে আসছে।

    কেউ একজন ঝটিতি পাতনি ছুঁড়ে ফেলে দেয় ভূমি পরে। এক খাবলায় পাখিটাকে ছোঁ মেরে নেয়। এক পল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে দাঁতে ছড়াৎ করে পলকে ছিঁড়ে ফেলে পাখির নরম বুক পালকের ওম-ঘ্রাণ-টুঁটি। সনাতনের কষ বেয়ে বেয়ে গরম রক্ত ঝরে। পাখিটা ট্রিঁইইই শব্দ করে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। আঃ আঃ! বাসন্তীর রক্ত, রস, চুল, বগল, পায়ের নখকুনি, মাংস।

    ঠিক সে সময় নবারুণ ললিতরাগে রাতুলাভায় প্রকাশিত হচ্ছে শিরিষ বকুলের পাতার শাখার ফাঁকে। নিহিত অংশুরাশি বিচ্ছুরিত কণককুন্তলের মতো। সংকীর্তনে রত বৈষ্ণব বাবাজিরা মত্ত তাথৈ শ্রীখোল কর্তাল কাঁসরে গাঁ প্রদক্ষিণে বেরিয়েছে।

    রাই জাগো রাই জাগো
    শুকসারি বলেএএএএএ...

    হরিৎস্নাত মাঠের দেহে তখন দুটি পুরুষদেহ কিল ঘুঁষি লাথিতে উলঙ্গপ্রায় এবং ক্ষতসন্ধানী। অগ্রজ নখর বিঁধিয়ে দিয়েছে অনুজের বাঁ চোখের ভিট্রেয়াস বডিতে। অনুজ করতলে মুচড়ে ধরেছে অগ্রজের জোড়া অণ্ড।

    ছেলে দিবনি দাদা? ছেলে দিবনি? ও বাসন্তী এই লও তোমার গুপ্তধন।
    আঃ ছাড়...ছাড় বলতেছি।
    পাখি খাও তুমি? বাসন্তীকে খাও তুমি দাদা। খাও। কেউ জানবেনি। শুধু মুই তিনজন জানব। বলে নরম করে প্রকাণ্ড এক ঘুঁষি মারে অগ্রজের উরুসন্ধিতে। এবং ভরা বাদল মেঘের মতো গলে গলে কাঁদতে থাকে বলাই ঘরামি। অশ্রু এবং রক্তের বুনন এখন আলাদা করা যায় না। সনাতন ঘরামি দমকে দমকে হাসে।

    ধ্বস্ত জোড়া দেহের সঘোষ কাতরানি উন্মুক্ত ব্যাপ্ত ভূদেহে এখন সকালের বসন পরছে। কীর্তনীয়ারা প্রবল মায়াগানে, ব্রুবান ঘূর্ণি শ্রীখোলে কর্তালে গৃহদ্বারে পাগলপারা, নৃত্যময়, বিভোর।

    প্রভাত সময়কালে শচীর আঙিনা মাঝে
    কার গৌর নাচিয়া বেড়ায় রে...

    বল ভাই গৌর নিতাই
    বল ভাই গৌর নিতাই

    মা দুটি চাল ভিক্ষা দিয় মা...
    মা...ধু...ক...রী...ই...ইইইইই...
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | ৬৬৫ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • Parthasarathi Giri | 172.69.135.51 | ১৬ জানুয়ারি ২০২০ ০২:৫৪45397
  • সম্পূর্ণ লেখা আসছে না। সাইট রিপেয়ারের কাজ চলছে। নিশ্চয়ই শেষ হয়নি। অসম্পূর্ণ লেখা ডিলিট করা যাচ্ছে না। ত্রুটি আপাতত মার্জনা করবেন।
    সাইট ঠিক হলে সম্পূর্ণ লেখা আসবে নিশ্চয়ই।
  • গুরুচণ্ডা৯ | 162.158.167.143 | ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:১৫45400
  • সম্পূর্ণ লেখা ফিরে এসেছে। এই অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।
  • $# | 172.69.135.219 | ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ১৫:৪৩90799
  • তুলে রাখি পড়বো
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত