এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা

  • ভালো দিন মন্দ দিন

    খাতাঞ্চী
    আলোচনা | ০৯ মে ২০২৬ | ৪১৬ বার পঠিত
  • শ্রাবনী | ০৮ মে ২০২৬ ১২:৫৮

    একটা জিনিস খুব অদ্ভুত লাগে, এতকিছুর মধ‍্যেও এই শিক্ষিত সোমি বাঙালীদের অনেকের মধ্যে দেখি সব কিছুকে জাস্টিফাই করার বা নিজেই সবচেয়ে ঠিক প্রমাণ করার একটা আপ্রাণ চেষ্টা। এবং সেই চক্করে তারা এখন এসে লিখছে তারা ইসলামোফোবিয়া থেকে এদের সমর্থন করে এটা নাকি সম্পূর্ণ ভুল, বাম আর সেকুলার দের মিথ‍্যে প্রচার। আসলে তারা উন্নয়ন ও বিগত সরকারের অপশাসনের বিরূদ্ধে ভোট দিয়ে সরকার পাল্টেছে।
    প্রথম কথা এটা সত‍্যি যে খালি এই টাইপস জনতার ভোটে সরকার উল্টোয় নি। সমস্ত ফ‍্যাক্টর গুলি এক হয়ে উল্টেছে। তার মধ‍্যে "SIR" আছে, দুই ফেজ ভোট আছে, সেন্ট্রাল ফোর্স আছে, অ‍্যান্টি ইনকাম্বেনসি আছে।
    কিন্ত কথা হচ্ছে এই সোশ‍্যাল মিডিয়া ও এত রকমের ইনফর্মেশনের যুগে শিক্ষিত লোকেরা যদি বলে শিক্ষা শিল্প চাকরি এসবের জন্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে তাহলে এদের কী বলতে হয়!
    কেন্দ্রে বারোবছরে কী হয়েছে কী হচ্ছে তা কি এদের চোখে পড়েনা? আমি এখন রায়পুরে। ২০১৪ তে যখন দেশ স্বাধীন হল তখন একমাত্র ছত্তিশগড় আর এম পি তে এদের সরকার অর্থাৎ ডাবল এঞ্জিন।
    রায়পুরের আশেপাশের কৃষিজমি সব নামমাত্র দামে নিয়ে নয়া রায়পুর গড়া হচ্ছে তখন, দিল্লির বিকল্প হবে সে। বড় বড় পাবলিক সেক্টর কে জমি ও নির্দেশ দেওয়া হল কর্পোরেট অফিস শিফট করতে। বেশীরভাগই গড়িমসি করতে লাগল,ইনফ্রা নেই, যোগাযোগ বাজে। দু একটি আংশিক শিফট করল। বলা হল প্রচুর শিল্প হবে, বড় বড প্রাইভেট কম্পানি আসবে। চারদিকের জমি এদের নেতারা কম দামে কিনে চড়া দামে রিয়েল এস্টেট কে বিক্রি করে রাতারাতি কোটি কোটি মুনাফা করল। এখন এত বছর পরে দেখছি বিশাল এলাকা মাইলের পর মাইল খালি। রাজ‍্যের সরকারী ‌অফিস তুলে এনেছে, প্রচুর পয়সা খরচ করে রাস্তা আলো ইত্যাদি কিন্ত মানুষের বসবাস নেই, ব‍্যবসা নেই অফিস নেই। যাদের জমি নিয়েছিল তারা এখন কোথায় কে জানে!

    একটু চাকরির কথা বলি। একটি মহারত্ন কম্পানি ২০১৪ সালে যাদের এমপ্লয়ি সংখ‍্যা ছিল ৩৩০০০, সেটি আজকে দাঁড়িয়েছে ১৭০০০। ব‍্যবসা কি কমেছে? না বরং বেড়েছে। তাহলে রাতারাতি সবাই কি দিগুন এফিশিয়েন্ট হয়ে গেছে? কী জানি ? তবে যা জানি তা হল, অন‍্যান‍্য অনেক কেন্দ্রীয় সরকারী এবং আধা সরকারী সংস্থার মত এখানেও এখন নানা স্কিলড জব শর্ট টার্ম বা কন্ট্র‍্যাক্ট স্টাফ দিয়ে করানো হয়। এটি কিন্ত বরাবরই প্রফিট মেকিং সংস্থা।
    এ হচ্ছে ২০১৪ র পরের মাস্টারস্ট্রোক। ইঞ্জিনিয়ারিং করা ছেলেপুলেদের দু বছর বা তিনবছরের কন্ট্র‍্যাক্টে নেওয়া হয়, কোনো সুবিধে দিতে হয়না, রেগুলার এমপ্লয়ীদের যা প্রাপ‍্য।
    নীচু লেভেলে ডিপ্লোমা ছেলেদেরও একই অবস্থা।
    ২০১৮ তে আমার কাছে স্কিলড জবের মজদুররা পেত পাঁচ হাজার, টেকনিশিয়ানরা দশ আর সুপারভাইজার রা পনেরো। এখনো টাকাটা খুব বেশী বাড়েনি। এদের অবস্থা কেমন বলে মনে হয়?
    আনএমপ্লয়মেন্টের যা সিন তাতে ভালো ভালো কলেজের ছেলেরা যাদের বাড়ি থেকে বিদেশে পাঠাবার সংস্থান নেই তারা তাই করে।
    এরা কাজ কম করে চাকরির চেষ্টাতেই থাকে রাতদিন, বাধ‍্য হয়ে তাই কম্পানিতে কাজের মানও পড়ে যাচ্ছে। তবে তাতে আর কী এসে যায়!
    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতেও তাই চলছে। নতুন রিক্রুটমেন্ট বন্ধই প্রায়। অ‍্যাড হক দিয়ে কাজ চালাতে বলা হয়। এখানে আবার প্রচুর পরিমানে রিটায়ার্ড লোকেদের পাওয়া যায় যারা অনেক অভিজ্ঞ এবং টাকারও বিশেষ চাহিদা নেই,তাই এখানে নতুনদের সেই কাজ পেতেও অসুবিধে।
    ভোট দিয়েছেন বেশ করেছেন, আবার দিন বার বার দিন, কিন্ত উন্নয়নের জন‍্যে, বাংলার ছেলেমেয়েদের ভবিষ‍্যতকে উজ্জ্বল করতে এগুলো বাদ দিন।
     
     
    শ্রাবণী | ০৮ মে ২০২৬ ১৬:৫৭

    আর একরকমের বয়ান দেখলাম মহিলাদের, এরা সব গুজরাট নয়ডা বাসী। এদের বক্তব‍্য হল কই আমরা তো এত বছর এই দলের শাসনে আছি, আমাদের তো মাছ মাংস খাওয়ায় বাধা নেই, মুসলমান রাও দিব‍্যি থাকে।
    এমনকি কালকে কলকাতার এক প্রতিবেশী আমাদের অভিজাত আবাসনের উচ্চ মিনারে যার বাস, এক গলা খুশী নিয়ে জানালো যে ওপাড়ায় নাকি শান্তি অপার। ওখান থেকে কোনো আমলেই কোনো অশান্তি টের পাওয়া যাওয়ার নয়।
    শুধু এরা নয়, আমরাও যারা অন‍্যরকম চিন্তা করি বলে নিজেদের সম্বন্ধে ভাবি, আমরাও এরকম এক একটা মিনারে বাস করি, একা বা আইসোলেটেড গোষ্ঠীতে যারা চিন্তায় ও মননে সংখ‍্যালঘু।
    তাই আমরা এদের দেখিনা বা এতদিন দেখতে পাইনি বা দেখলেও ভেবেছি এগুলো আইসোলেটেড ঘটনা। আমার প্রতিবেশীরা যে হঠাৎ আজানের শব্দে বিরক্ত হচ্ছে, মুসলমান ডেলিভারি বয় দেখে গোঁসা করছে, চারদিক মুসলমানে ভরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে। সমাজের এই ক্ষত, এরকম একটা discrepancy, এই অসুখ সারানো দরকার, তারপর ভোটের রাজনীতি, এটা কারুর মনে হল না।
    এটা তো এখানে থেমে থাকবে না। দাঙ্গার খবর প্রচার করা সরকারীভাবে বারণ। বড় কিছু না হলে বাইরে খবর আসে না। উত্তরপ্রদেশ মহারাষ্ট্র এসব জায়গায় কী হয় হচ্ছে তার খবর শুধু অ‍্যানেকডোটে শোনা যায়।
    মুর্শিদাবাদে কী হয়েছে হয় সব বাইরে আসে না, কিন্ত গত আড়াই বছরের বাসকালে আমাদের প্রায়ই বেশ কিছুদিন ইন্টারনেট অফ করে দেওয়া হত। তাতেই বুঝতাম কোথাও কিছু হয়েছে। শাসকদলের যা সংগঠন ছিল তাতে শুধু ভোটের রাজনীতির কথা না ভেবে এরকম একটা সমস‍্যার মোকাবিলা যদি চাইত তারা করতে পারত না?

    কাউন্টার কী? না মাছ মাংস খেতে পাবেনা। ২০১৪ তে নয়ডাতে প্রতিটা বাজার থেকে মাছওয়ালাদের মেরে উঠিয়ে দেওয়া হল, সম্ভবত গাজীপুর বা কোন্ডলি তে যে মাছের পাইকারি বাজার সেও তুলে দেওয়া। আমরা উচ্চমধ‍্যবিত্ত হাউসিং সোসাইটির লোকেরা তার কোনো আঁচও পেলাম না। আমার বাড়িতে যে মাছ দিত সে এক হপ্তা দিল না, পরের হপ্তা থেকে হপ্তা যা দেবার দিয়ে টিয়ে দোকান খুলল, মঙ্গল বৃহস্পতি দোকান বন্ধ রাখত নব রাত্রিতেও। একটু দাম বাড়ল, তবে সে নিয়ে আমাদের কিসের চিন্তা। যারা বাজারের এক কোণে প্লাস্টিক পেতে মাছ বিক্রি করত, সেক্টরে সেক্টরে তারা সবাই রইল না, অনেকে আবার চেষ্টা চরিত্র করে মাটি কামড়ে পড়ে রইল, এতটুকু জায়গাও জুটে গেল নোংরার ভ‍্যাটের ধারে।
    এর মধ‍্যে আবার বিফ এক্সপোর্টে কোন রাজ‍্য যেন প্রথম এবং কোন দলের নেতারা এর মালিক সেসব ফালতু যুক্তি তর্কের মধ‍্যে না আসে।

    ফরাক্কায় আমি জ্রাইভারকে নিয়ে মাছ কিনতে যেতাম। নিজে কিনে ওর বাড়ির জন‍্যেও একটু কিনে দিতাম। গত বছর একদিন ওকে মাছ নিতে বলাতে বলল ওরা নাকি মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কারণ জিজ্ঞেস করতে বলল, সরকারী স্কুলে পড়া হয়না মাস্টার নেই বলে ছেলেকে কী একটা সেবা স্কুল না আশ্রম স্কুলে ভর্তি করেছে, তা সেখানে আট বছরের ছেলের দীক্ষা হয়েছে। ছেলে মাছ খায় না বলে ওরাও আর মাছ খায় না।
     
    • রায়পুর সংক্রান্ত | ০৮ মে ২০২৬ ১৬:৩২
    • ... কিসের জোরে গত পাঁচটা স্টেট ইলেকসানের চারটে বিজেপি জেতে?
      ...
     
    শ্রাবণী | ০৮ মে ২০২৬ ১৭:৩৭

    আমি জানিনা, অনেক কারণ থাকতে পারে। কেউই জানেনা মনে হয়, কারণ রোগ জানলে তার ওষুধ ও বেরিয়েই যেত একদিন। তবে আর যাই হোক উন্নয়ন বা শিল্প বা ওয়েলফেয়ার এসব তো নয়। গুজরাটেও আছে দীর্ঘদিন। আমি এককালে রেগুলার যেতাম ভারুচ সুরাটে কাজের জন‍্যে, দারুন কিছু উন্নতি দেখিনি।
     
    রায়পুরে ছোট এবং মাঝারি ব‍্যবসায়ী গোষ্ঠীরা এদের বা আর এস এসের বড় প‍্যাট্রন। তার সাথে মিশেছে ছত্তিশগড়ের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কব্জা করতে চাওয়া শিল্পপতিদের দল।
    একটা বড় ফ‍্যাক্টর হচ্ছে দূর্বল বিরোধী। কংগ্রেসের গ্রাসরুটে সংগঠন তেমন ছিলনা সব জায়গায়। সে জায়গায় আর এস এসের যে সংগঠন তা এদের প্রচুর সাপোর্ট দেয়।
    একবার ইলেকশনের আশেপাশে সম্ভবত ২০১৯ শে আমি এয়ারপোর্টে একজনের সাথে কথা বলছিলাম। সেবারে ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকায় প্রতি বাড়ির ভোটার পিছু দশহাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলল। অনেক পরিবারে এই টাকাতে সারা বছর ভালোভাবে চলে যাবে।
    কংগ্রেস এরকম টাকা দেবেনা, তাদের এত টাকা নেই, আর থাকলেও তাদের নীচের লোকেরা বেশীরভাগ টাকাটাই পকেটে পুরত।
    বিজেপির ওপরের নেতাদের নীচের লেভেলের ওপর ভালো প্রভাব খাটে যেটা প্রধান বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসের নেই।

    আমাদের নয়ডার সোসাইটি গুলোতে ( দেখবেন রভিশ কুমার প্রায়ই বলেন হাউজিং সোসাইটি কে আংকেল লোগ) এখন একদল রিটায়ার্ড এককালে ভালো পজিশনে থাকা লোকজনকে খুব সুক্ষভাবে আর এস এস প্রচারক বানানো হয়েছে। এদের টুকটাক এখানে ওখানে অ‍্যাডভাইজর বা বোর্ডে পজিশন দেওয়া আছে। নানান সময়ে এরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুবই বিনীত ভাবে আর এস এসের পুস্তিকা লিফলেট বিলি করে। চেনা লোক,কেউ নাও করতে পারেনা। ভেতরে বসায় চা দেয়, তার ফাঁকে এরা কত ভালো ভালো কাজ হচ্ছে সেসব শোনায়, "আপনার ইচ্ছে হলে কিছু দেবেন, বই তো ফ্রি " বলে চাঁদা নিয়ে আসে।
    এরকম জনসংযোগ, যে লোকে ইমপ্রেসড না হয়ে পারেনা।
    মহিলাদের কাউকে কাউকে দেখা যায় যে বাচ্চাদের খেলা শেষ হলে মেয়েদের এক জায়গায় বসিয়ে, চা খাওয়া কত খারাপ, চা খেলে অসুখ করে, শর্টস বা হাফ প‍্যান্ট পরা খুব খারাপ, এসব বলতে। আমার এক পরিচিতার বাচ্চা মেয়ে হঠাৎ ছোট প‍্যান্ট ফ্রক এসব আর পরতে চাইছিল না। তার মা প্রথমে ভাবছিল খেয়াল, বেশ কিছুদিন এরকম হওয়ায় বিরক্ত হয়ে জেরা করে জানতে পারে অমুক আন্টি রোজ খেলার পরে তাদের প্রবচন শোনায়, সেই বলেছে।
    ...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • র২হ | ০৯ মে ২০২৬ ০৬:১৩747446
  • শ্রাবণীদির পোস্টগুলি নিয়ে টই করে দিলাম।
  • dc | ০৯ মে ২০২৬ ০৭:৩৬747447
  • মাছে-ভাতে বাঙালি আস্তে আস্তে পনির-ভাতে বাঙালি বা ঢোকলা-চাটনি বাঙালিতে রূপান্তরিত হবে, অন্তত পবতে।
     
    নট দ্যাট দেয়ার ইজ অনিথিং রং উইথ দ্যাট! laugh
  • X | ০৯ মে ২০২৬ ০৯:৩৮747449
  • এখন তো মনে হচ্ছে শত শত আঞ্চলিক পার্টির বদলে আমেরিকান বাইপার্টিশান সিস্টেম ই বোধহয় ভালো - সঙ্গে বাম থাকুক তৃতীয় বিকল্প। লোকাল পার্টি তো শুধু লোকাল সামন্ত শ্রেণী ছাড়া কারো খুব বেশি লাভ হয়েছে কি?
     
     
    শিবসেনা, পাওয়ার কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ - এছাড়া সপা, বসপা, হরেক জনতা দল - সবই আইডেন্টিটি পলিটিক্স দিয়ে শুরু হলেও মূলত ব‍্যক্তিগত ক‍্যারিশ্মা কেন্দ্রিক - ফলে নেতাদের দুর্নীতি ও পতন হলে কোন অ‍্যাজেন্ডা থাকে না হেজিমনি ছাড়া। এরা সবাই মোটামুটি নিজেদের ভাগ বুঝতে গেলে সংসদীয় বিরোধিতা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কিছু বদলাবে কি?
  • শ্রাবণী | ০৯ মে ২০২৬ ১০:৫৭747450
  • সময় করে লিখব পরে। ততখনে যদি সময় ও ইচ্ছে থাকে এটা দেখতে পারেন। আমার এনার লেখা ( বেশী পড়িনি যদিও) এনার কথা খুব পছন্দ।
    কলোনিয়ালাইজেশন এর কনস্ট্রাক্ট থেকে আইডিয়া নিয়ে যারা তাদের আদর্শ গড়েছে, তারা জনতার অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ডি-কলোনিয়ালাইজেশনের কথা বলছে, "অতঃপর কী আশ্চর্য আছে মহাশয়"।
    আর উনি প্রথম এন সি আর টি র বই লিখিয়েদের একজন। বাজপেয়ী সরকারের সময় আদবানী সংসদে দাঁড়িয়ে ওনাকে বা ওনাদের মতদের " অ‍্যাকাডেমিক টেররিস্ট" আখ‍্যা দিয়েছিল। সেটা শুনে ওনার নাকি খুব মজা লেগেছিল।
     
  • hutum | ০৯ মে ২০২৬ ১১:৪৯747451
  • শ্রাবণীর টুকরো-টুকরো অবজার্ভেশনগুলোয় একমত না হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ওভারঅল বক্তব্যটা ধরতে পারলাম না। শেষ পোস্টটায় রোমিলা থাপারের ভিডিও শেয়ার করাতে আরো ঘেঁটে গেলাম। মানে হিন্দুবীররা ইচ্ছেমতন ইতিহাস লিখছে এ তো জানিই। আবার স্টেট যেখানে মানুষের নূন্যতম শিক্ষাস্বাস্থ্যের অধিকার নিশিচত করতে ব্যর্থ, সেখানে আরএসএস ঢুকেছে। বিজেপির সঙ্গে বড়ো পুঁজির যেমন যোগ, হাউজিং সোসাইটির আঙ্কেলদের যেমন যোগ, তেমনি ভুললে চলবে না পিছড়েবর্গ শ্রেণীর মধ্যেও প্রচুর প্রভাব — ওই যারা টিভিতে চাকরি চাই না, মন্দির চাই বলে, একদম গরীবস্য গরীব। এছাড়া রইল বাঙালি, বিহারি, মাড়োয়ারি ভাগ-স্টিরিও। স্টিরিও দিয়ে তো ভোট হয়না, যা হবার হয়েছে। যেটা কূল পাওয়া যাচ্ছে না, তা হল অতঃকিম? রাহুল গান্ধীকে যা খুশি ভাবলেও তেনার ভারতজোড়ো যাত্রা সত্যি আশা জাগিয়েছিল। বিরোধীরা একদম কিচ্ছু করেনি তা নয়, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার রোগটা ছোঁয়াচে। ছাড়তে চাইছে না।
     
    প্লিজ লিখতে থাকুন। পড়ছি।
  • শ্রাবণী | ০৯ মে ২০২৬ ১৯:০৮747456
  • না, আমি ঠিক কোনো একটি বিষয়বস্ত ধরে এখানে লিখছি না, তাই ভাটেই পোস্ট করছিলাম। এমনকী কোনোরকম জুজুও দেখাচ্ছি না। কিন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা দিক থেকে যে নানা রকমের আশংকা উদ্বেগ আবার তার বিপরীতে যে সব যুক্তি উঠে আসছে সেগুলোকে আমার অভিজ্ঞতা, নানা ঘটনা যা দেখেছি শুনেছি বা একদম হালে যা দেখছি এসবের ভিত্তিতে কত কী যৌক্তিকতা আছে তা নিজের মত করে বুঝতে চেষ্টা করছি।
    আমার কলকাতা থেকে যাওয়া ও কাল রাতে আসার মাঝে এক ভোট, তার ফলাফল এবং পালাবদল ঘটে গেছে। আমারা যখন শুক্রবার রাতের ফ্লাইট বুক করেছিলাম তখন রাজ‍্যে পরিবর্তনের ডংকা ও তদজনিত ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের কোনো আভাস কোথাও ছিলনা। শুক্রবার রাতে এলে দুদিন পুরো পাওয়া যাবে কাজ সারতে, তাই এত রাতে আসা।
    রাত সাড়ে দশটায় কলকাতা এয়ারপোর্টের সন্ধ‍্যা মনে হচ্ছিল। লোকে লোকারণ্য, পুলিশ, প্রচুর টিভিতে দেখা চেনা মুখ দেখলাম, এমনকি যাদের আর তেমন দেখা যেতনা অনেকদিন তাদেরও। যারা বাইরে থেকে আসছিল তাদের অভ‍্যর্থনা করে ভি আই পি লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
    আমরা এক কোণে দাঁড়িয়ে এসব দেখতে বাধ্য হচ্ছিলাম, কারণ কিছুতেই ক‍্যাব বুক করতে পারছিলাম না। একটার পর একটা ক‍্যানসেল করতে হচ্ছিল কারণ ড্রাইভাররা ফোন করে বলছিল যে এয়ারপোর্টে ঢুকতে দিচ্ছে না। শেষকালে প্রিপেড কিছু পাওয়া যায় কিনা দেখব বলে বাইরে এসে দেখি, গাড়িতে গাড়িতে ছয়লাপ এয়ারপোর্ট চত্বর। তার মধ‍্যে এমনি গাড়ি, মাথায় বাতি লাগানো, অ‍্যাম্বুলেন্স এমনকি একটা পেট অ‍্যাম্বুলেন্সও দেখলাম। হয়ত ডগ স্কোয়াড এসেছে, তবে চোখে পড়ল না। যা চোখে পড়ল তা হল সাধারণ লোক ফোনের দিকে তাকিয়ে অসহায় ক‍্যাবের পথ চেয়ে।
    এর চেয়ে এরা তো কাল রাতের ফ্লাইট গুলো ক‍্যানসেল করে দিতে পারত, এত হয়রানি হত না!
     
    বলতে বলতে মনে পড়ছে ডাবল ইঞ্জিনে, কলকাতার কাছে আর একটা এয়ারপোর্ট হোক, যেটা সময় বিশেষে ভি আইপি চলাচলের জন‍্যে সংরক্ষিত হবে!
     
    আমি হাল না ছেড়ে ক্রমাগত এ ‌অ‍্যাপ ও অ‍্যাপ ঘুরে ঘুরে চেষ্টা জারি রেখেছিলাম। শেষকালে সোয়া এগারোটা নাগাদ একটি র‍্যাপিডো পেলা, দেখাচ্ছিল সাত মিনিট। ড্রাইভার তৎক্ষণাৎ ফোন করে জানালো যে সে এয়ারপোর্টের পার্কিং এ আছে তবে খুব স্লো মুভমেন্ট, আমরা যেন ধৈর্য্য ধরে একটু অপেক্ষা করি।
    আধঘণ্টা পরে তাও বুদ্ধি করে ও গাড়িটা প্রাইভেট গাড়ির লেনে ঢুকিয়ে দিয়েছিল বলে আমরা অবশেষে বেরোতে পারলাম।
     
    আমি অ‍্যাপে ড্রাইভারের নাম খেয়াল করে দেখিনি, গলা শুনে অল্পবয়সী মনে হল। কী ভিড় ঢোকার রাস্তা বন্ধ এসব জানিয়ে বলল, থ‍্যাঙ্ক ইউ ম‍্যাডাম, আপনারা এতক্ষণ অপেক্ষা করলেন। আমাদের আর উপায় ছিল না সেকথা না বলে আমি এমনিই মন্তব্য করলাম কাল সরকারের শপথগ্রহণ তো তাই এত লোক আসছে, এটুকু ভিড় তো হবেই।
     
    তারপর যা হল তার জন্যে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ছেলেটা একটা হাহাকারের গলায় বলে উঠল " আর সরকার, আমাদের কী হবে? কী করবে? ওরা তো বলছে ওরা মুসলমানের সরকার নয়। কী করবে আমাদের সাথে ? "
    ওই মুহূর্তে ওর কী হচ্ছে বা কেমন সে অনুভূতি তা আমাদের বোঝা সম্ভব নয়, তবু আর্তনাদ টা তীরের মত বিঁধল। এমনকি আমার সঙ্গী যে হয়ত বাংলায় বলা কথা পুরোপুরি বুঝল না, সেও একটু অপ্রস্তুত হাসি হেসে মাথাটা সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল, " আরে কুছ নহী হোগা, আপ চিন্তা মত করো, কুছ নহী হোতা"।
    ছেলেটি একটু সামলে নিয়ে হয়ত ওই সান্ত্বনার স্বরেই দ্রব হয়ে আবার শুরু করল, হয়ত আরো একটু আশ্বাসের আশায়।
     
    "দিদি, আপনার কী মনে হয়, পুরনো মুখ‍্যমন্ত্রী ( সে অবশ‍্য নাম নিয়েছিল) জেলে পুরে দেবে? "
    " না, তা কেন? সেরকম কিছু তো শুনিনি। "
    " না, সবাই বলছে। আমাদের ওখানে তো ওরা জিতেছে, কিন্ত কাউকে আর দেখা যাচ্ছে না। বিধায়ক তো বিজেপির সঙ্গে ছবি তুলছে।
    আমি জানেন তো সবাইকে বলেছিলাম বামেদের নাহলে আই এস এফ কে ভোট দিতে। আমাকে বাড়ির লোকেরা পাড়ার লোকেরা কী বকাবকি করল বলল দিদিকে না দিলে ওরা এসে পড়বে। সেই তো ওরা এসে গেল। কী হবে এবার?"
    বড় রাস্তায় বাঁক নিয়ে বলল,
    " আমি ভেবেছিলাম বাম আর আই এস এফ মিলে একশটা সিট পাবে। এরা কখনোই আসবে না। "
    বাড়ির প্রায় কাছে চলে এসেছে, আমি যদিও সবসময় ক্যাব ড্রাইভার যদি সেরকম গপ্পি হয় তার সাথে উৎসাহ সহকারেই গল্প করি কিন্ত এই আবহে, এত রাতে আর ইচ্ছে করছিল না। তবু একটু উৎকণ্ঠা নিয়েই বললাম,
    " বাবু, তুমি এইরকম কথাবার্তা আলাপ প‍্যাসেঞ্জারের সাথে করছ কেন? তুমি আমাদের চেন না জানো না, এরকম করে কথা বলে কেউ? আমরা তো যে কেউ হতে পারি। আমরা যে কট্টর অমুক দলের লোক বা সমর্থক নই তার কী গ‍্যারান্টি আছে। তোমার নাম ফোন নাম্বার সব আমাদের কাছে। এদিকে বলছ ভয়ে আছো, ওদিকে মিনিমাম সাবধানতা অবলম্বন করবে না? এত কথা এত মতামত তাও আবার অচেনা লোকের সাথে, বলতে নেই। "
    গেটে গাড়ি ঢুকছে, ছেলেটির চোখেমুখে দৃশ‍্যত আশংকা। বলল,
    " না, সে তো ঠিকই বলছেন। আমার এসব কথা বলা উচিত হয় নি। কিন্ত দিদি আপনার মুখ দেখে মনে হল আপনি খুব ভালো।"
    পিছনের সিটে তখন আমাদের দুজনের মাঝে কে ছেলেটাকে কত টাকা বেশী দেবে, মানে অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ, তার কম্পিটিশন চলছে। ওইটুকুই পারি, ওর কথার জবাব আমার জানা নেই।
    তবু একটু কড়া হয়েই বলি, " বাবা, তুমি বাম আর আই এস এফ একশ সিট পাবে ভেবেছিলে, এই বুদ্ধি নিয়ে কখনো ভেবোনা যে তুমি প‍্যাসেঞ্জারের মুখ দেখেই বুঝতে পারবে সে কেমন।
    তবে বেশী চিন্তা কোরোনা। কিছু হবে না। ওরকম রাজনীতিতে অনেক কথা নেতারা মুখে বলে, সব কথা ধরতে নেই। নিয়মকানুন আছে আইন আছে, তুমি ঠিক থাকলে সব ঠিক থাকবে।"
    ছেলেটার চোখদুটো কেমন দেখাচ্ছিল বাড়ির সামনের আলোয়, চকচকে গ্লাসের মত। গাড়ি স্টার্ট করে বলল, আপনারা খুব ভালো।
     
    খুব খুব গিল্ট ফিল হচ্ছিল। ভালো হবার মত কী আর করলাম, একটু কথা শুনেছি, দুটো টাকা বেশী দিয়েছি। আশাকরি ছেলেটা এইসব কথাবার্তা সামলে বলবে বা বলবেই না কখনো। ও যেরকম ভাবছে সেসব কিছুই হয়ত ও অন্তত ফেস করবে না, ওর ভয়টা অমূলক প্রমানিত হবে। কিন্ত ভয়টা আছে, একটা ভয় আপাতত এদের, এইসব সাধারণ সংখ‍্যালঘু মানুষদের মধ‍্যে চারিয়ে যাচ্ছে, নানাদিকে নানা বক্তব্য শুনে। এবং কোথাও কোনোদিকেই সম্ভবত এদের প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না, বিপদে পড়লে কাদের পাশে পাবে বিরোধীদের তরফে আশ্বাস নেই। সরকারের হেভিওয়েট রা প্রকাশ‍্যে যা বক্তব‍্য রাখছে তা চিন্তার।
    সংখ‍্যাগরিষ্ঠ সাধারণ নাগরিক সমাজ এবং আমাদের মত যারা তাদের পক্ষে এই বিপন্নতা সম‍্যক উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, অনেকেই এগুলো বাড়াবাড়ি অপপ্রচার মনে করছে, বাকীরা তো এই ভয় পাওয়ানোর এজেন্ডাকে সমর্থন করেই মতদান করেছে। মিডিয়া কিছু অন‍্যায় হলেও কোথাও দেখাবেনা। মেন মিডিয়া ভোট পরবর্তী গন্ডগোল, হিংসা দেখানোর ব‍্যাপারে যা দেখা যাচ্ছে টাইম ডিলে মোডে আছে। এতদিনে ২০১১ র সন্ত্রাস হিংসা নিয়ে দেখাচ্ছে কথা বলছে, ২০২৬ হয়ত আরো ১৫ বছর পরে দেখাবে।
    ন‍্যাশনাল লেভেলে যে ভালো একটা অল্টারনেট মিডিয়া তৈরি হয়েছে, সেটা বাংলায় অনুপস্থিত। ট্র‍্যাভেল আর ফুড ভ্লগ বাদ দিলে যেটুকু নিউজ বা পডকাস্ট দেখা যায় তা প্রত‍্যেকেই কমবেশী বায়াসড, বাম ডান মধ‍্য।
  • Bratin Das | ০৯ মে ২০২৬ ১৯:১৩747457
  • অরে শ্রাৱণী দি যে
     
    বহুকাল পরে। কেমন আছো গো ?
  • শ্রাবণী | ১০ মে ২০২৬ ১৭:৩২747476
  • আর একটা কথোপকথনের বর্ণনা দিয়ে ফলাফল পরবর্তী এই অ‍্যানেকডোটাল পর্ব শেষ করব। আবার অন্য কথায় আসব।

    সকালে বাড়ি পরিস্কার করতে ডাকলাম সোসাইটি হাউসকিপিং এর প্রধান, আমার একরকমের লোক‍্যাল গার্জিয়ান একজনকে। যবে থেকে এই সোসাইটি তবে থেকে এ আছে, এর আগে যখন বছরে একবার আসতাম তখন এরাই বাড়ির দেখাশোনা করত, মাঝেমধ্যে খুলে পরিস্কার করে রাখত। যখন আসতাম তখন অত অল্প সময়ের জন‍্যে রেগুলার কাজের লোক পাওয়া না গেলে ওই লাঞ্চ ব্রেকে পরিস্কার করত, এখনো সেই ব‍্যবস্থাই চলছে।
    ভাঙরের আদি বাসিন্দা। কালকে আমি আবার জিজ্ঞেস করে কনফার্ম করলাম, ওর বাড়ি কাছেপিঠের গ্রামে নয়, একেবারে খোদ ভাঙরেই।
    গত লোকসভা থেকেই বলছে ওরা অনেকে বিজেপিতে সুইচ করেছে, যদিও তখনো তিমূ র মিছিল মিটিং যাবার আদেশ এলে চুপচাপ যায় বড় বড় প্রোগ্রাম গুলিতে।
    “ওই কিছুদূর গেলাম বাসে উঠে, তারপর বাসের অন‍্য দরজা দিয়ে নেমে চলে আসি। “
    ইদানীং আর সেটাও করত না। এবারের ভোটে বলল তিমূ রা খুব ভালো ব‍্যবহার করেছে, বলেছে “ যাকে চাও ভোট দাও, কোনো বাধ‍্যবাধকতা নেই।”

    কিছুকাল আগে আমি যখন এসেছিলাম, তখন বলেছিলাম, “ দাদা, তুমি যতই বিজে দের ভোট দাও, জিতবে নৌ ই”। ও হেসে স্বীকার করে নিয়েছিল, “ হা, আমাদের ওইখানে মুসলিম ভোট সব ওরা পায়। “
    বিজেপি সম্বন্ধে খুব আলাদা আশা ভরসা নেই, তবে সংক্ষেপে যা যুক্তি দিয়েছিল তা হল ওদিকে এদের মানে তিমূ দের অত‍্যাচার খুব বেড়েছে বলে অন‍্য দলে ভোট। কিন্ত আই এস এফ মুসলিমদের পার্টি তাই তাদের দেবার প্রশ্নই নেই। বামেদের সম্বন্ধে আলাদা করে কিছুই বলেনা। ভাতা টাতা সব ঠিকঠাক পায়, মা বৃদ্ধভাতা, বউ মেয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার। ছেলে আজ এই ডেলিভারি কাল ওই ডেলিভারি তে কাজ করে।

    কাল ভেবেছিলাম খুব হাসিখুশি দেখব, যাকে ভোট দিয়েছে তাদের সরকার আসাতে তো বেশী করে খুশী হওয়ার কথা, আমার সেই প্রতিবেশী মহিলার মত।
    কিন্ত দেখলাম মুখ বেশ গম্ভীর, আমার সঙ্গে গল্পটা হয় আমি খালি বসে থাকলে কিন্ত আজ আমি অনেক ব‍্যস্ত ছিলাম। গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ পাচ্ছিল না। শেষকালে কাজ শেষে যাবার সময় দরজা দিচ্ছি যখন, তখন আর না থাকতে পেরে বলেই ফেলল,
    “দিদি, কী সব কান্ড শুরু হইছে আমাদের দিকে, কী আর বলব তোমায়। বিজেপির লোকেরা পত‍্যেকের ঘরে ঢুহে ঢুহে জিজ্ঞেস করছে কাকে ভোট দিয়েছে সবাই।
    আমাদের বাড়ি এলে আমার ভাইপো দোর আগলে দাঁড়িয়েছি, বলে যাকে খুশী ভোট দেছি, তোদের বলতে হবে কেন! তখন গজগজ করতে চলে গেছে। পাশের বাড়িতে ভাইপো তার পঁচাত্তর বছরের জেঠাকে ধরে কী মার মেরেছে।
    সামনে পুকুরের ওপর তিমূ ছেলেদের একটা মাচা বাঁধা ছিল, তারা সব বসত আড্ডা মারত। শাবল কাটারি নিয়ে এসে পাগলের মত ভাঙচুর করেছে।
    আমার বাড়ির সামনে কাল রাত অবধি বসে কী মদ খেয়েছে। রাতে একবার বেরিছি, দেকি হুঁশ নেই কারুর। একটা বড় থালা ভরে মদের চাট নিয়ে বসেছিল। একই থালায় কুকুরও খাচ্ছে আর ওরাও, কুকুরের এঁটো খাচ্ছে। সে ব‍্যাপার দেখে যে কী ঘেন্না করছিল, তোমাকে কী বলব। এখন থেকে এইসব হবে ভাবলেই কেমন লাগছে। “

    “আর তিমূ ? তারা কোথায় সব? মার খাচ্ছে?”
    “কেউ কেউ মার খাচ্ছে, বাকীরা এদিক ওদিক পালিয়ে গেছে মনে হয়। “
    “আই এস এফ? “
    “আমাদের পাড়ায় দেখিনি তবে তাদের সাথেও নাকি বিজে তিমূ সবার মারামারি হচ্ছে ! “
    আমার বেশী কথা বলার সময় ছিল না, তবু বললাম,
    “শোনো, আগের দিনে গ্রামদেশে এরকম হলে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হত। তোমার ভাইপোর মত অন‍্যদেরও তো রুখে দাঁড়ানো উচিত। তোমরা তো আর শহরে থাকো না, সবাই সবাইকে চেনো, কতকালের বাস, আপত্তি করো সবাই মিলে। ভোট পার্টি সব যার যার আছে, মিটে গেছে, এখনো হুজ্জুতি জুলুমবাজি সে যারাই করুক পাড়ার মাথারা মিলে এক হয়ে বন্ধ করতে বলো। আগে করোনি, এবার অন্তত প্রথম থেকেই করো, সবাই এককাট্টা হয়ে বলো পাড়ার মধ‍্যে এসব চলবেনা, কোনো দলকেই করতে দেবে না, নাহলে বদল হলেও সব এক থাকবে।”
    “কে বলবে দিদি, সবাই ভয় পায়। গ্রাম এখন শহরেরও বাড়া। কেউ অন্যদের ঝামেলায় জড়াতে চায়না। “
    “তবে আর কী করবে। আজ শপথগ্রহণ হল, আজ রাতে তো তাহলে তোমার বাড়ির সামনের মদের আসর আরো গুলজার হবে।
    তুমি বরং এক কাজ কোরো। সন্ধ‍্যে সন্ধ‍্যে আসরে গিয়ে চাট সব ভালো যা থাকবে সেগুলো আনন্দ করে চেয়ে নিও। আজ নির্ঘাত ভালো জিনিস থাকবে, বেশী বাজেটের। শুধু শুধু কুকুরে খেয়ে ছড়াবে কেন ! আর তুমি তো ওদেরই ভোট দিয়েছো, আনন্দ তো সত‍্যিকারের, মিথ‍্যে তো আর বলতে হবে না”
    হ‍্যা দিদি, ( হেসে, মজা করছি ভেবে) কী যে বলো তুমি, আমি যাব ওই মাতালদের ভিড়ে! আর গেলে বউ ছেলে গাল দিবেনি …… মদ খাওয়া লোককে দু চক্ষে যে দেখতে পারেনা আমার বাড়ির লোকে!
  • শ্রাবণী | ১১ মে ২০২৬ ১১:২২747486
  • দুদিন আগে এখানে রায়পুর নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিভাবে জমি কিনে, হাইপ করে, কমদামে কিনে চড়া দামে বেচা হয়েছে। এই যে খবরটা সম্প্রতি এক্সে ঘুরছে, ভূপালের খবর, সম্ভবত একই মডেলের অন্তর্গত।
     
    ৪ঠা এপ্রিল ২০২২ শে দেশের প্রায় পঞ্চাশ জন আই এ এস অফিসার মিলে সবাই একই দিনে মধ‍্য প্রদেশের গুড়ারীঘাট গ্রামে চাষের জমি কিনেছিল।
    এই সব অফিসার শুধু ওই রাজ্যের নয়, হরিয়াণা, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা এসব রাজ‍্যের ক‍্যাডাররা ও আছে।
    জমি কেনার এক বছরের মধ্যে ৩১ শে অগষ্ট ২০২৩ শে এই গ্রামের পাশ দিয়ে ৩২০০ কোটি টাকার ওয়েস্টার্ন বাইপাস প্রজেক্ট মঞ্জুর করা হয়। এর ঠিক দশ মাস বাদে জুন ২০২৪ শে এই সমস্ত চাষের জমির ল‍্যান্ড ইউজ পরিবর্তন করে এগুলিকে আবাসিক বা রেসিডেনশিয়াল জমি ঘোষণা করা হয় যার ফলে জমির দাম প্রায় এগারো গুণ বেড়ে যায়।
    এই নিয়ে দৈনিক ভাস্করে এই ইনভেস্টিগেটিভ লেখাটা বেরিয়েছে।
     
    এটা দেখে আমি একজনের কাছে ব‍্যাপারটা তুলতে গেলাম মানে রায়পুর যদিও অনেককাল আগের ঘটনা তবু এরকমই শুনেছিলাম মনে হওয়াতে প্রসঙ্গটা এল।
    কারণ, সেসময় দিল্লি নয়ডার বিশাল সেট আপ, নিজস্ব মালিকানার বিরাট সব অফিস কমপ্লেক্স খালি করে রায়পুরে ওরকম নির্বান্ধব এলাকায় শিফট করার আদেশ আসায় কম্পানিতে ওপর থেকে নীচে কেউই খুশী ছিলনা, এবং অনেকদিন গড়িমসি করে শেষে সংঘের লোক যখন মাথায় বসল তখন যেতেই হল, এসব জমি ঘোটালা নিয়ে নিজেদের মধ‍্যে অনেক কিছু শোনা যেত হাওয়ায়।.......
     
    তা তিনি বললেন এটা তো খুব চালু স্ক‍্যাম, এর আগেও হয়েছে, অন‍্য সরকারেও, তবে ইদানীং স্কেল খুব বেড়ে গেছে কারণ একাউন্টেবিলিটি একদম শূন্যের পর্যায়ে চলে গেছে সব স্তরেই।
    ওনার মতে এ ব‍্যাপারে ইদানীং কালের সবচেয়ে বড় উদাহরণ নাকি অমরাবতী। ওখানে যা হয়েছে তার কিছুই প্রায় খবরে আসেনি।
     
    উনিজী যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন তাঁর দুটি কথা যা তিনি সব ইন্টারভিউয়ে বলতেন, যা শুনে লোকে বিশেষত উপরের স্ট্রাটার এনলাইটেনড লোকেরা উল্লসিত হত তা হল,
    এক) সরকার কেন ব্যবসা করবে, সরকারের কাজ নয় ব্যবসা করা। সেই "বেসরকারি হলি পরিষেবা ভালা হবে" মন্ত্র। সব পাবলিক সেক্টর তুলে দাও।
    দুই) উনি বাবু কালচার সমাপ্ত করবেন। দেশটা আই এ এস বাবুরা আসলে চালাচ্ছে, ক্ষমতায় এসে এদের আধিপত‍্য শেষ করবেন।
     
    পরে দেখা গেল কেন্দ্র এবং বাংলা রাজ‍্যে দু জায়গায় সরকারেই আই এস দের রমরমা আরো বেড়ে গেছে, তারা সরাসরি মন্ত্রী হয়েছে এবং বেশীরভাগই ঠিক ভালোভাবে মন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছে তাও নয়। বিদেশমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী, আগে বিদ্যুৎমন্ত্রী ছিলেন যিনি।
    শুধু এই বাবুদের রমরমা কমাবার নাম করে বাবুদের ল্যাটেরাল এন্ট্রি র গল্প শুরু হয়েছিল। নিন্দুকেরা যা নিয়ে বলে যে এর মাধ‍্যমে দেশ বিদেশে যে সব সংঘের লোকেরা এদের উত্থানে সাহায্য করেছিল তাদের বা তাদের ছেলেপিলে ভাই বিরাদরীদের এই বুরোক্র‍্যাটিক লবিতে প্ল‍্যান্ট করার একটা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়নি !
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন