এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চীনের কাহিনী ১ : নিউলান ও চ্রিনুর কাহিনী :প্রথম পর্ব 

    Debanjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জুন ২০২৪ | ১৫৩ বার পঠিত
  • লকডাউনের সময় থেকেই খুব সামান্য চীনা ভাষার চর্চা শুরু করেছিলাম। যদিও ধৈর্য্যের ও সময়ের অভাববশতঃ খুব বেশিদূর এখনো এগুতে পারিনি। তবুও চীনের কিছু প্রাচীন উপকথা ভাবানুবাদের মাধ্যমে এখানে আমার গুরুর পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি। অনুবাদে ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য পাঠকদের কাছে অনুরোধ রইলো।

    নিউলান ও চ্রিনুর কাহিনী সম্বন্ধে বলা যায় এই কাহিনীটি চীনের অত্যন্ত পরিচিত এক প্রাচীন উপকথা। এটিকে "রাখালছেলে ও পরীর কাহিনী " বলেও উল্লেখ করা হয়। আমি ইন্টারনেট থেকেই এই কাহিনীটি পেয়েছি। অনুবাদে ও অন্যান্য ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।

    অনেক বছর আগে চীনের এক খুব সম্পন্ন কৃষক পরিবারে একটি ছেলে জন্মায়। তার নাম ছিল নিউলান। খুব ছোটবেলাতেই তার বাবা মায়ের মৃত্যু হয়। বাড়িতে সে তখন তার বড়দা ও বৌদির সংসারে মানুষ হতে থাকে। খুব ছোটবেলা থেকেই তাকে তার বাড়ির গরুটিকে মাঠে ঘাস খাওয়ার কাজে লাগানো হয়।তার বৌদি তাকে খুব অযত্ন করতো। নিজেদের অঢেল পয়সা থাকলেও ফেলে দেওয়া তিনদিনের বাসি পচা খাবার খেতে দিতো নিউলানকে, ছেঁড়া ন্যাকড়া কাপড় পড়তে দিতো, শুতে দিতো গোয়ালঘরে।এইভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।ছোট্ট নিউলান আস্তে আস্তে যুবক হয়ে উঠলো।

    এই পৃথিবীতে তখন তার নিজের আপন কেউ বলতে শুধু তার গরুটি। সে তার গরুটিকে ভীষণ যত্ন করতো সবসময়ে চেষ্টা করতো নরম কচি কচি ঘাস খাওয়াতে, পাহাড়ে কোনো ছায়া ছায়া ঠান্ডা জায়গাতে গরমের দিনে গরুটিকে রাখতে যাতে গরমে তার একদম কষ্ট না হয়। আসলে সে হয়তো এইভাবেই ভালোবাসার অভাবের জায়গাটি পূরণ করতে চাইতো। বেচারা ভালোবাসার এতো বড় কাঙাল ছিল যে মাঝেই মাঝেই পাহাড় জঙ্গলে সে তার গরুটিকে গান গেয়ে শোনাতো। গরু কি গান আবার বুঝতে পারে নাকি? তাহলে আর তাকে বোকা গরু বলে কেন? কিন্তু নিউলান ভাবতো যে গরুটি বোধায় তার বেসুরো গান ভালোবাসছে কেননা গরুটি গানের সময়ে মাথা দোলাতো আর চোখ পিটপিট করতো।

    আরো কিছুদিন পরে একদিন দাদা বৌদি নিউলানকে বললো যে তার বাবার উইল আছে যে বাবার সম্পত্তির মধ্যে শুধু গরুটি আর একটি গরুর গাড়ি নিউলান পাবে আর বাদবাকি সবই তার দাদা বৌদি পাবে। বেচারা নিউলান না জানতো পড়াশোনা না বুঝতো আইন সে বেচারা কোর্টে নালিশ করতে যাবার কিছুই জানতোনা। আসলে এতদিন ধরে দাদা বৌদির ভালোবাসা না পেয়ে সে আর ভালো কিছু আশাও করতোনা।হয়তো তাই সে কিছুটা স্বস্তিই পেলো দাদা বৌদির সংসার থেকে আলাদা হয়ে। গরুরগাড়িতে নিজের প্রিয় গরুটিকে জুতে সে এগোলো রাস্তাতে। এক পাহাড়ের নিচে এসে সে ডেরা বাঁধলো। একটি ছোট কুটির সে গড়ে তুললো সেখানে প্রচন্ড পরিশ্রম করে।আসলে এতো বছর ধরে গরু চড়িয়ে পরিশ্রম করতে সে ভয় পেতোনা আর বরঞ্চ ভালোই বাস্ত। সে পাহাড়ের জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে তার গরুর গাড়িতে বোঝাই করে সে নিচের গ্রামে বিক্রি করতো। এইভাবেই আরো কয়েকটা বছর কাটলো।

    একদিন নিউলান জঙ্গলে একমনে কাঠ কাটছে হটাৎ সে একটি কন্ঠস্বর শুনতে পেলো "নিউলান এই নিউলান" চমকে উঠে তাকালো নিউলান। কই কেউ তো কোথাও নেই শুধু তার প্রিয় বুড়ো গরুটি ছাড়া (গরুর তো বয়েস থেমে থাকেনা এতদিন ধরে ) তা সে তার গরুকে খুব ভালো বাসলেও গরু কি কথা বলতে পারে ? পাগল নাকি ? তাও কি হয় নাকি ? নিউলান আবার কাঠ কাটতে মন দিলো। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই আবার শুনতে পেলো "নিউলান এই নিউলান আরে শোনো না"। এইবার চোখ তুলে তাকালো নিউলান। তার প্রিয় গরুটি একদৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন