এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লেনিন মৃত্যু-শতবর্ষ এবং বাঙালি স্মৃতি

    Surajit Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ৩১৬ বার পঠিত
  • সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম নিয়ে আমাদের ভালো না লাগা থাকতে পারে, মনের কোণে ঘৃনা থাকতে পারে, পছন্দ না করতে পারি কমিউনিজমকে, কিন্তু কোনো এক জাদুবলে লেনিন আপামর পৃথিবীবাসীর মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছেন। যারা লেনিনকে বোঝেন তাদেরও আবার যারা লেনিনকে বোঝেন না তাদেরও। যারা 'লেনিন' বলেন তাদেরও আবার যারা 'লেলিন' বলেন তাদেরও। আজ থেকে একশো বছর আগে তিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মত নতুন পথের দিশারী, পৃথিবীবাসীকে নতুন পথের সন্ধান দেওয়ার মতো নেতার আজও জন্ম হয়নি। লেনিনের মৃত্যুর পরে সুদীর্ঘকাল স্টালিনের রাজত্বকাল চলেছিল। স্টালিনের একনায়কতন্ত্র এবং অত্যাচারের কাহিনীর কারণে হয়তো লেনিনও স্টালিনের পূর্বসুরী হিসেবে অনেকের কাছেই একনায়কতন্ত্রের ধ্বজাধারী ছিলেন বা অনেকেই পূর্বসুরী হওয়ার কারণে লেনিন সম্পর্কেও খারাপ ধারণা পোষণ করেন। ইতিহাস না জেনে কেউ সমালোচনা করলে সেই সমালোচনার কোনো মূল্য থাকে না। লেনিনের ক্ষেত্রেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাই, কমিউনিজমকে পছন্দ করি না বলে লেনিনকেও পছন্দ করি না।

    অবশ্য পৃথিবীর এককোণে কিছু বাঙালির পছন্দ বা অপছন্দের ওপর লেনিনের মত ব্যক্তিত্বের কোনো যায় আসে না। দিনের শেষে তিনি লেনিনই থেকে যান। তাঁর মরদেহ লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে যাওয়ার জন্য যতই কবর দিয়ে দেওয়া হোক বা লেনিনগ্রাদের নাম যতই পাল্টে দেওয়া হোক না কেনো, আজও পৃথিবীর সর্বোচ্চ আলোচিত ব্যক্তিদের একজন হলেন লেনিন।

    পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর কমিউনিস্ট পার্টির শাসন চলেছে কিন্তু আজ সেই পার্টিগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন। ১৯৪৭ এর পরে যে দলগুলোর রমরমা ছিল এই বঙ্গে এবং বলা হত বাঙালীর মেধা, সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে গেছে বামপন্থা। তাই আজকের অবস্থা অবশ্যই আশ্চর্যজনক। বাঙালির মানসপটের সেই সংস্কৃতি থেকে বামপন্থা বেড়িয়ে গিয়ে অতি ডানপন্থীদের স্থান হলো কি করে, নিশ্চয়ই ভেবে দেখার বিষয়। তবুও বামপন্থা এখনও একটি চর্চিত বিষয় এই বঙ্গ এবং সারা বিশ্বে।

    লেনিনের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা, তাঁর জীবনী বা তাঁর বামপন্থী বিপ্লব বহুচর্চিত বিষয়। লেনিন অপছন্দের জায়গায় থাকলেও তাঁর ইতিহাস কম বেশী সকলেই জানেন। ফলে তাঁর মৃত্যু-শতবর্ষে সেসব নিয়ে চর্বিতচর্বন করে শ্রদ্ধা বা সন্মান জানানোর চেয়ে বাঙালির সাথে লেনিনের বা ঘুরিয়ে বললে লেনিনের সাথে বাঙালির সম্পর্ক বা যোগাযোগের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করাই শ্রেয়। এ ইতিহাস খুব বেশী চর্চিত নয়। সেই বিষয়ে যাওয়ার আগে শুধু এইটুকু জানিয়ে রাখি যে, ২২শে এপ্রিল ১৮৭০ তারিখে লেনিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২১শে জানুয়ারী ১৯২৪ তারিখে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র ৫৪ বছরের জীবনে তিনি পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন, নতুন পথের দিশা দেখিয়েছিলেন। মার্ক্স-এঙ্গেলস যে তত্বের কথা শুনিয়েছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীতে, লেনিন সেই তত্বের বাস্তব প্রয়োগ করেছিলেন বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বাস্তবের সাথে তত্বের যে চিরকালীন দ্বন্দ্ব সেই দ্বন্দ্বকে নির্মূল করতে মার্ক্সবাদের পরিবর্ধন করেছিলেন। পৃথিবীবাসী নাম দিয়েছিল লেনিনবাদ। আমাদের দুর্ভাগ্য, রাশিয়ায় (সোভিয়েত ইউনিয়ন বললাম না কারণ সেই পূর্ণ চেহারা পায়নি লেনিনের জীবদ্দশায়) যখন কমিউনিজম পূর্ণ চেহারায় ক্রমে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তখনই তাঁর মৃত্যু হয়।

    ১৯০৭-এর অগস্টে সপ্তাহব্যাপী সপ্তম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস বসেছে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে। সেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত লেনিন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে তিনি ‘চট্টো’ বলেই পরিচিত ছিলেন)। লেনিন আদতে কে সে বিষয়ে তখনও কোনও ধারণা ছিল না সরোজিনী নায়ডুর ভাই বীরেন্দ্রনাথের। কিন্তু যেটা দাগ কাটল, লেনিন তাঁর রিপোর্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলেন ভারতের কথা। ‘চট্টো’-র লেনিন-প্রীতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ল। পাল্লা দিয়ে বাড়ল ব্রিটিশের সন্দেহও। ভারতীয় মহাফেজখানা ঘেঁটে লেখা গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ জানাচ্ছে, ১৯১৭-র গোড়ায় বার্লিন কমিটি জার্মানি থেকে সরে এল সুইডেনের স্টকহলমে। সুইডেনে ইংরেজ সরকারের রাষ্ট্রদূত লন্ডনে 'তার' করলেন, ‘এদের মূল উদ্দেশ্য, লেনিন ও অন্য ইংরেজ-বিরোধী চরমপন্থী রুশ বিপ্লবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করা।’

    অবশ্য এ খবরেও বিশেষ লাভ হয়নি ইংরেজের। লেনিন-চট্টো সাক্ষাৎও হয় পরে। লেনিনের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী নাদেঝদা ক্রুপস্কায়ার সঙ্গে পত্রালাপও ছিল চট্টো'র। তবে এই সোভিয়েট রাশিয়াতেই জোসেফ স্তালিনের আমলে চট্টো'র মৃত্যু হয়। চট্টো'র পাশাপাশি, ভারতবর্ষে বাম-মনীষার আদিপর্বের ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্রনাথ রায়, অবনী মুখোপাধ্যায় প্রমুখের সঙ্গেও লেনিনের যোগাযোগ তৈরি হয়। অবনীবাবুর বইও পড়েছিলেন লেনিন। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের কাছে লেনিন-সাক্ষাৎ তাঁর জীবনের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা’।

    লেনিন ও বাঙালির যোগাযোগের আরও একটি সূত্র ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁকে সোভিয়েট রাশিয়ায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গতিপ্রকৃতি আলোচনার জন্য আহ্বানও জানানো হয়। ভূপেন্দ্রনাথ ১৯২১-এর অগস্টের শেষ দিকে একটি গবেষণাপত্র ও একটি চিঠি পাঠান লেনিনকে। উত্তরে লেনিন জানান, সামজিক শ্রেণি নিয়ে আলোচনার সময় এ নয়। বরং, ভারতবর্ষে কোনও কৃষক সঙ্ঘ থাকলে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ ভূপেন্দ্রনাথকে দেন লেনিন।

    লেনিন ও বাঙালির যোগাযোগ মোটামুটি ভাবে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকেই শুরু হয়ে ক্রমে জোরদার হয়েছে। লেনিনের মৃত্যুর পরে শোকযাত্রাতেও বাঙালির পতাকা উড়েছে। সোভিয়েট সম্পর্কে খানিক সন্দিগ্ধ, কিন্তু লেনিনে গভীর ভাবে অনুরক্ত যুগান্তর দলের শিবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়ে তিনি-সহ দশ জন সোভিয়েট দেশে পৌঁছন। অন্যতম উদ্দেশ্য, লেনিনের সঙ্গে দেখা করা। তিনি তখন অসুস্থ, তাই দেখা হল না। কিন্তু ১৯২৪-এ লেনিনের মৃত্যুর পরে তাঁর শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ভিড়ে ছিলেন শিবনাথও।

    লেনিনকে বাঙালি কাছ থেকে দেখেছে, তাঁর পথের সহযাত্রীও হয়েছে। বাঙালির মনোজগতেও প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বলা যেতে পারে সুভাষচন্দ্র বসুর কথাও। ১৯৪০-এর ১৯-২০ মার্চ সাবেক বিহারের রামগড়ে আয়োজিত হয় ‘অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি কম্প্রোমাইজ় কনফারেন্স’। সেখানে সুভাষচন্দ্র পুরনো সামাজিক কাঠামোর ভেঙে পড়া কিন্তু তা থেকে নতুনের উত্থান না হওয়ার মতো সমাজ-ইতিহাসের এক কঠিন সময়পর্বে বিশ্বাস না হারানোর পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গেই তিনি সামনে আনেন ১৯১৭-র পূর্বের রাশিয়া ও লেনিনের ভূমিকার কথা। তাঁর মতে, সেই অস্থির সময়ে লেনিনের নেতৃত্বই রাশিয়াকে বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছিল।

    লেনিন ও বাংলা সাহিত্যের যোগাযোগও একটা সময় পর্যন্ত বড়ই নিবিড়। সেই সম্পর্কের জন্ম সম্ভবত ১৯২১-এ। মোটামুটি ভাবে ওই সময়পর্ব থেকেই মার্ক্সীয় ভাবধারার সঙ্গে শিক্ষিত বাঙালি পরিচিত হতে শুরু করল। ব্রিটিশের শত বাধা সত্ত্বেও মুজফ্ফর আহমেদের মতো কয়েক জন মার্ক্সীয় সাহিত্যের প্রচার শুরু করলেন। কিন্তু এই সময়ের সব থেকে চমকপ্রদ ঘটনা, ধর্মীয় পত্রিকা ‘সৎসঙ্গী’-তে পাঁচ কিস্তিতে এক অজ্ঞাতনামা লেখকের লেনিনের জীবনকাহিনি প্রকাশ। ওই বছরই প্রকাশিত হয় বাংলায় প্রথম লেনিন-জীবনী, লেখক ফণীভূষণ ঘোষ। লেনিন-জীবন প্রচারে ক্রমে বিশেষ ভূমিকা নেয় ‘বিজলী’, ‘ধুমকেতু’, ‘লাঙ্গল’, ‘প্রবাসী’, ‘পরিচয়’ পত্রিকা।

    বাঙালি সাহিত্যিকরাও লেনিনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সর্বাগ্রে যাঁর নাম আসে, তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৪৮-এর ১৮ জানুয়ারি ডায়েরির পাতায় দেখা যাচ্ছে, মানিকবাবু লেনিনের একটি বিখ্যাত চিন্তা লিখে রাখছেন: ‘লার্ন ফ্রম দ্য মাসেস, ট্রাই টু কম্প্রিহেন্ড দেয়ার অ্যাকশনস, কেয়ারফুলি স্টাডি দ্য প্র্যাকটিক্যাল এক্সপিরিয়েন্স অব দ্য স্ট্রাগল অব দ্য মাসেস।’ বামপন্থী লেখকদের লেখার যুক্তিকেও সমৃদ্ধ করেন লেনিন, যেমন দেখা যায় দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শোকমিছিল’ গল্পে। ১৯৬৪-তে সিপিএম-এর আত্মপ্রকাশ অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে গল্পে বলা হচ্ছে, ‘আলাদা পার্টি তো করিনি, সংশোধনবাদীদের বহিষ্কার করেছি। লেনিন যেমন মেনশেভিকদের দল থেকে বার করে দিয়েছিলেন। পরে বলশেভিক পার্টির মধ্যেও অনেক মতবিরোধ ঘটেছে, কিন্তু দল ভাঙেনি। যারা বেরিয়ে গেছে, বহিষ্কৃত হয়েছে— ইতিহাসের ডাস্টবিনেও তাদের ঠাঁই মেলেনি।’

    তবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মার্ক্সবাদে দীক্ষিত সাহিত্যিক ছিলেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের আর এক বন্দ্যোপাধ্যায় তারাশঙ্করের এ দর্শনে দীক্ষা না থাকার পরেও তিনি বিশেষ ভাবে লেনিন প্রভাবিত। তাই ‘লেনিন শতবার্ষিকী বক্তৃতা’য় তিনি জানান, জনজীবনে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত ‘একমাত্র লেনিনই ছিলেন আমার জীবনের নায়ক।’ একই ভাবে, দীক্ষিত না হয়েও লেনিন সম্পর্কে অত্যন্ত শ্রদ্ধার মনোভাব রেখে গিয়েছেন শিবরাম চক্রবর্তী। তবে সেটা খানিকটা ‘অন্ধ’ লেনিন-বিরোধিতার প্রতিবাদও বটে।

    কিন্তু বাংলা কথাসাহিত্য বা প্রবন্ধ, অনুবাদ নয়, লেনিনের সঙ্গে সাহিত্যিক বাঙালির হৃদয়ের যোগ কবিতার সূত্রে। যতীন্দ্রপ্রসাদ যে ধারাটির সূত্রপাত করেছিলেন, কাজি নজরুল ইসলাম, বিষ্ণু দে, অরুণ মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দিনেশ দাস, সুকান্ত ভট্টাচার্য-সহ বহু দিকপাল কবির হাতে তা পুষ্ট হয়। বাঙালি কবিরা তাই লেনিনের হাত ধরেই বলতে পারেন, ‘গঙ্গায় পাই ভলগার প্রতিমান’! এ ভাবেই বাংলা কবিতাও ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’ বলতে বলতে রচনা করে সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। ধর্মতলায় ‘দাঁড় করিয়ে রাখা’ লেনিনও বাঙালির কবিতায় তাই বড্ড বাঙালি।

    বাঙালির কথা যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, সেই রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গে শেষে ফিরতেই হয়। ‘রাশিয়ার চিঠি’ নিয়ে বাম-অবাম, সব পক্ষেরই স্ব-কারণ মাতামাতি আছে। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া যাত্রার নেপথ্যেও রয়েছেন এক লেনিনপ্রেমী বাঙালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথের নাতি, লেনিনের জীবনী রচয়িতা সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৩০-এ রবীন্দ্রনাথ বার্লিন পৌঁছলেন, নাতি সৌম্যেন্দ্রনাথও তখন সেখানেই। ‘রবিদা’কে সোভিয়েট সম্পর্কে আগ্রহী করে তুললেন তিনি। এমনকি, সোভিয়েটের প্রথম শিক্ষা বিভাগীয় ‘পিপলস কমিশনার’ আনাতোলি লুনাচারস্কির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎও করিয়ে দেন তিনি। এই লুনাচারস্কির আমন্ত্রণে নাতিকে সঙ্গে নিয়েই রাশিয়া পৌঁছন রবীন্দ্রনাথ। বাকিটা ইতিহাস। সেই ইতিহাসের ঐতিহ্যকে সঙ্গে করেই বুঝি বহু বাঙালি আজও বলে ওঠেন, ‘বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।’

    রথীন্দ্রনাথকে জমিদারি দেখতে পতিসরে পাঠিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। চণ্ডীমণ্ডপে তাঁকে ঘিরে গোল করে বসে গ্রামের মাথারা। এ-হাত ও-হাতে ঘুরতে থাকা হুঁকোয় টান দিচ্ছেন সকলে। এমন সময়ে সাদা দাড়িওয়ালা এক চাষি উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, ‘‘বাবুমশায়, স্বদেশি ছোঁড়ারা দেশের উন্নতি নিয়ে লম্বা-চওড়া বক্তৃতা দেয় শুধু। আসল কাজের বেলা কারও টিকিটুকু দেখবার জো নেই। হ্যাঁ, লেনিনের মতো একজন লোক দেশে জন্মাত, দেখতেন সব ঠিক হয়ে যেত।’’ চাষির কথা এক ঝটকায় ‘রূঢ় বাস্তবের মধ্যে’ ফেরাল রথীন্দ্রনাথকে।

    বাঙালির স্মৃতি সত্তায় ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ এবং ওই চাষির বলা ‘বাস্তব’, পাশাপাশি বহমান। সেই বহমানতার মধ্যেই বাঙালির লেনিন (বা উচ্চারণ বিভ্রমে ‘লেলিন’) তাই লোকায়ত। এই ‘লোক মন’-এর হদিস দেয় যাত্রা মাধ্যমটি। তা বুঝলেন এক ডাকসাইটে বাম নেতাও। কলকাতার বাগবাজারের বনেদি পরিবারের সন্তান শান্তিরাম পাল তথা শান্তিগোপাল করলেন যাত্রাপালা ‘লেনিন’। যাত্রা দেখলেন নেতা। অভিনয় শেষে বললেন, ‘‘আমাদের দু’শোটা বক্তৃতায় যা হয় না, আপনার একটা নাটকে এক দিনে তা হয়।’ বক্তার নাম, হরেকৃষ্ণ কোঙার। কৃষক সম্মেলনে বৃষ্টিতে ভিজে এই যাত্রা দেখেছেন জ্যোতি বসুও। এই পালার এগারোটি গান বাঙালির মুখে-মুখে ফিরতে শুরু করল। ১৯৭০-এ বারাসতের কাছারি ময়দানে সর্বভারতীয় কৃষক সম্মেলনে হয়েছিল ‘লেনিন’ যাত্রা। তা দেখতে তুমুল ভিড় হয়, মঞ্চস্থলের চারপাশের গাছেও লোকজন উঠে পড়েন। এই যাত্রার জনপ্রিয়তার খবর আগেই পৌঁছেছে সোভিয়েট দেশেও। দ্রুত ‘লেনিন’-এর কয়েক হাজার ‘এলপি রেকর্ড’ পৌঁছল লেনিন-ভূমে!

    যাত্রার পাশাপাশি, রমেন লাহিড়ীর ‘আমিই লেনিন’, উৎপল দত্তের ‘লেনিন কোথায়’, উমানাথ ভট্টাচার্যের ‘দিন বদলায়’ নাটকের মধ্য দিয়েও মঞ্চে লেনিন এসেছেন বার বার। মনে পড়বে ঋত্বিক ঘটকের তথ্যচিত্র ‘আমার লেনিন’।

    গোড়া থেকেই বাংলার সঙ্গে লেনিন-যোগ এমন মসৃণ নয়। তা হাড়ে-হাড়ে টের পান বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমিদারির সদর নায়েব যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য। নায়েবমশায়ের কাব্যচর্চার শখ, সেই সঙ্গে বিপ্লবী দলের সংস্পর্শে এসে লেনিন তাঁর কাছে মহামতি। ১৯২৪-এর এপ্রিল, কয়েক মাস আগে লেনিনের মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছেছে দেশে। শোকে অধীর যতীন্দ্রপ্রসাদ লিখলেন ‘লেনিন’ কবিতা। প্রকাশিত হল ‘বঙ্গবাণী’-তে। আচমকা এক দিন দরজায় কড়া নাড়া। দেখলেন, দাঁড়িয়ে থানার আধিকারিক পূর্ণচন্দ্র ঘোষাল। পূর্ণচন্দ্র সুহৃদ মানুষ। কিন্তু তাঁর মুখখানা থমথমে। যতীন্দ্রপ্রসাদকে দেখালেন জেলাশাসকের হুকুমনামা। সঙ্গে লেপ্টে থাকা ‘লেনিন’ কবিতায় লাল পেন্সিল দিয়ে দাগিয়েছেন জেলাশাসক। তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজনে কবিকে গারদে পুরতে হবে। খবর ছড়িয়ে গেল। কবির মা, স্ত্রী কান্নাকাটি করছেন। জমিদার তথা সম্পর্কিত কাকা ব্রজেন্দ্রকিশোর তীব্র ভর্ৎসনা করলেন ভাইপো যতীন্দ্রপ্রসাদকে। বন্ধু-বান্ধব এড়িয়ে চলতে থাকল। শেষে পূর্ণচন্দ্রেরই বুদ্ধিতে একটা উপায় হল। কবি লিখলেন ‘ব্রিটন বীর্য্য’ নামে এক কবিতা। ‘সংবর্তক’ লেনিন বিশেষ সংখ্যায় পুনর্মুদ্রিত সরোজ দত্তের প্রবন্ধ জানাচ্ছে, ‘রামধনু’ কাব্যগ্রন্থে এই কবিতাটি ও ‘লেনিন’ পাশাপাশি প্রকাশিত হল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রকাশকালের নিরিখে এগিয়ে ‘ব্রিটন বীর্য্য’। আসলে এ ছিল হাকিমকে ধাপ্পা দেওয়ার কৌশল।

    রুশ বিপ্লবেরও দশ বছর আগে বাংলার বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দেখা করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তাঁকে চিঠি লিখতেন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। আজও বাঙালির রাজনীতি থেকে কবিতা, নাটক, যাত্রা, সব কিছুতেই জড়িয়ে আছেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। কমিউনিজম হয়তো বাঙালীর মননে ফিকে হয়ে এসেছে, প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে, কিন্তু লেনিন আজও প্রাসঙ্গিক। বাঙালির মননে আজও ভাস্বর। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং সেই পর্বের বিভিন্ন নেতারা ভারতবাসীর মননে আজও প্রাসঙ্গিক কারণ পরাধীনতার জ্বালা, ইতিহাসের নিরিখে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সাথে জড়িত সেই নেতারা। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতি ঘটার পরের রাজনৈতিক নেতারা কিন্তু সেই পর্যায়ের উজ্জ্বল নন কোনোদিনই (গুটিকয়েক নেতা বা নেত্রী বাদ দিলে)। লেনিন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক নন, তিনি দেশীয় নেতাও নন, তবুও তাঁর জনপ্রিয়তা আজও বিদ্যমান। ইতিহাস খুঁজলে হয়তো পাওয়া যাবে, কট্টর ইংরেজ বিরোধী লেনিন কিভাবে এবং কতভাবে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশমুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে স্বশস্ত্র বিপ্লবের অধ্যায় রয়েছে তাতে বাঙালীর অবদানই সর্বোচ্চ এবং বাংলা বাদ দিলে সমগ্র ভারতবর্ষের স্বশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস আর সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না (পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র বাদ দিয়ে)। সেই স্বশস্ত্র সংগ্রামের সাথে লেনিনের নিবিড় যোগাযোগ ছিল এবং বিভিন্ন বিপ্লবীর লেখা বা চিঠিপত্র থেকে সেইরকমই জানা যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য সেই স্বশস্ত্র সংগ্রাম বিভিন্ন "গুপ্ত সমিতি" দ্বারা পরিচালিত ছিল বলে সেই নিবিড় যোগাযোগের ইতিহাস বেশিরভাগটাই দিনের আলো দেখেনি আজও। তবু আমাদের সাথে তাঁর যোগাযোগের ইতিহাস কিছুটা হলেও দিনের আলোয় এসেছে সেসব। 

    আজ সেই ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের মৃত্যুর একশো বছর পূর্ণ হলো। এক শতাব্দী কেটে গিয়েও, তাঁর দেশেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমিউনিজমের মৃত্যু ঘটলেও তিনি আজও কালজয়ী নায়কের আসনে অধিষ্ঠিত, আজও প্রাসঙ্গিক। সারা বিশ্বের কোথাও না কোথাও তিনি নিয়মিতভাবেই চর্চার বিষয় আজও। এই দিনটিতে তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, শ্রমিকের অধিকারকে, বঞ্চিত-সর্বহারাদের অধিকারকে বিশ্বে প্রথম সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনিই।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2401:4900:7b7c:5d09:4496:b6d4:ae51:e1a7 | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:০৩527862
  • কমরেড লেলিন অমর রহে! লালে লাল লাল সেলাম! 
  • Ranjan Roy | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:১৭527871
  • লেখাটি লেনিন- বন্দনা বটে! কিন্তুক বাংলাতে সশস্ত্র আন্দোলনে লেনিনের অবদান/ প্রভাব  কিছু বিচ্ছিন্ন রেফারেন্স থেকে পষ্ট হলনি। 
    বরং আইরিশ বিপ্লবী ডি ভ্যালেরা বেশি প্রভাবিত করেছিলেন। 
    কারণ 1917 সালের আগে বঙ্গে লেনিনের নাম কে শুনেছিলাম? উনি চলে গেলেন 1924 সালে।
     
    বীরেন্দ্র চট্টো  ও  ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সক্রিয় সাংগঠনিক রাজনীতি দেশের মাটিতে কতটুকু? সবটাই ইউরোপে, কম্যুনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের ছত্রছায়ায়।
     
    লেনিনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং  নিয়মিত যোগাযোগ ছিল একমাত্র মানবেন্দ্রনাথ রায়ের।
    শুধু রয়-লেনিন থিসিস প্রণয়নই নয়,  লেনিনের নির্দেশে উনি  লালফৌছের অভিযান চালিয়ে মেক্সিকো এবং তুরস্কে বিপ্লবী সরকার গঠন করেন।
    কিন্ত তাতে আমাদের  কী এল গেল!
     
    সেই এম এন রায় দেশে ফিরে সক্রিয়  রাজনীতি শুরু করতেই লেনিনবাদ ছেড়ে রাডিক্যাল হিউম্যানিজম শুরু করলেন।
     
    বল্লে হবে?  খচ্চা আছে।
     
    আজকে যখন দেখি তখন মনে হয় লেনিনের বলশেভিক  
    ক্ষমতায় এসেছিল গণবিপ্লবের মাধ্যমে নয়, মাইনরিটি হয়েও ক্যুদেতার মাধ্যমে।
    ফলে তাৎক্ষণিক সাফল্য এলেও তার মধ্যে বপন হল স্বৈরতন্ত্রের বীজ, সমাজতন্ত্র ধ্বংসের বীজ।
    সোভিয়েত শাসনে শ্রমিকরা পুঁজির  এবং রাষ্ট্রের মালিক হল না। সেই মজুরি-দাস হয়েই রইল।
    ক্ষমতা এল এক সুবিধাভোগী আমলাতন্ত্রের হাতে।
    আজ নাকে কাঁদলে  হবে?
     
  • উজ্জ্বল | 146.196.33.26 | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৫527882
  • কম্যুনিজম হয়ত প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে কিন্তু লেনিন প্রাসঙ্গিক। বুঝলাম না।
  • হরিদাস পাল | 59.99.79.205 | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:১০527889
  • রঞ্জন বাবুর সঙ্গে সহমত। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের শেষ জীবনের একটি লেখা আছে মেন আই মেট। লেখাটির মধ্যে লেনিন-বন্দনা নেই। শেষের দিকে রায় শুধু শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন যে তাঁর দীর্ঘ জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ বিপ্লবীর উদ্দেশ্যে। ব্যক্তিটি লেনিন নন--- বাঘা যতীন।
     
    তা লেনিন প্রসঙ্গে ফেলিক্স জারজেন্সকি আর 'চেকা'র উল্লেখ নেই কেন? বিপ্লবোত্তর রুশায় লেনিন ও জারজেন্সকির চেকা এবং পরবর্তীতে স্তালিনের এনকেভিডি কি-কি কীর্তি করেছিল,সেগুলোও তো একশ বছর পরে বিচার করতে হবে। 'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে আমিই লেনিন' ভাবনাটা শীতকালে স্মৃতির আঁচ পোহানোর জন্য ভালো, কিন্তু উল্লেখিত 'জাদুবল'টি যে রুশ প্রোপাগান্ডা আর ধর্মীয় আবেগ সৃষ্ট---ঐতিহাসিক বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্ক নেই---সেটা খেয়াল না করলে বিপদ।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন