এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  ভ্রমণ   যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

  • মিশরের টই 

    যোষিতা
    ভ্রমণ | যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে | ১৫ আগস্ট ২০২৩ | ১১৭১ বার পঠিত
  • কদিন পরেই মিশর বেড়াতে যাব। গোটা সেপ্টেম্বর বেড়াব ঐ দেশে। এয়ার টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। ট্রেনের টিকিটও কিছু কাটা হয়েছে, বেড়ানোর প্ল্যান করতে করতেই হিমশিম খাচ্ছি। ইউটিউবে কিছু ভ্লগ দেখেও ধারণাটা ক্লীয়ার হচ্ছে না। যদিও আমরা প্ল্যান করে বেড়াতে যাবার পাবলিক নই। কিন্তু একটা মাস ভিনদেশে ঘুরে বেড়ানোর মজা যেমন আছে, তেমনি আছে নানান অসুবিধে। খরচ একটা বড়ো ফ্যাক্টর। ধীরে সুস্থে লিখব। তবে যেসব দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো সম্পর্কে ইন্টারনেট সার্চ করলেই খবর পাওয়া যায় বিশদে, তেমন জায়গায় গেলেও, সে নিয়ে চর্বিত চর্বন করবার ইচ্ছে আমার নেই। আমি প্রধাণত দেশ বিদেশে বেড়াতে যাই মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে বলে মনে হচ্ছে না। দেখি   
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৩:৩০740558
  • মিশর কোনওদিনও আমার বেড়ানোর লিস্টে প্রথম সারির তালিকায় ছিলো না। টুরিস্টরা যেসব দেশে হুড়মুড়িয়ে বেড়াতে যায়, বিশেষ করে লিস্ট মিলিয়ে মিলিয়ে পিরামিড, স্ফিংস, নীলনদ, দেখে ফোটো তুলে অ্যালবামে রেখে দেবার কি ফেসবুকে আপলোড করে লাইক গুনে গুনে তৃপ্তি পাবার পথ আমি বেছে নিই নি। কিন্তু  বাধ সাধল নিয়তি। 
    এই সেপ্টেম্বরের জন্য প্ল্যান ছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ। বিশেষ করে কউআই দ্বীপ, যে দ্বীপে জ্যান্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যখন তখন অগ্ন্যুৎপাত হয়। যদিও এই মুহূর্তে ধোঁয়া, লাভা, এসব বের হচ্ছে না, তবুও ইচ্ছে ছিল। ২০০১ সালে অ্যামেরিকায় যে সময়টুকু প্রচুর বেড়িয়েছি, তখন সবে হাউয়াই ফেরৎ এক দম্পতির ভিডিও দেখে মাথা ঘুরে গেছল। ঠিক করেছিলাম, ঐ জিনিষ স্বচক্ষে দেখতে হবে। কিন্তু কউআই এখন স্তিমিত, <ESTA> পর্যন্ত হাতে পেয়ে  গেছলাম সেই মার্চ এপ্রিলে। কিন্তু বিধি বাম। হাওয়াইয়ে বিচ্ছিরি বিপর্যয় ঘটে গেছে কদিন হলো। ভাগ্যিস টিকিট কাটা ছিল না! স্ট্যান্ডবাই প্ল্যান হিসেবে গোটা তিনেক জায়গা ছিল। চিলে (প্রথমে স্যানতিয়াগো, সেখান থেকে প্রশান্ত সাগরের কোস্ট ধরে সটান দক্ষিণতম প্রান্তে, অ্যান্টার্ক্টিকার থেকে নিকটতম দূরত্বে), পম্পেই (বেশি দূরে নয়, সিসিলি অবধি পৌঁছতে যতটুকি কসরৎ )আর  তিন নম্বরটা হচ্ছে মিশর। চিলে এখন হচ্ছে না, দূরত্বটাকে মাথায় রেখে। ইতালিতে ফের শুরু হয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, প্রচুর উড়ানের শিডিউল পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই হাতে রইল মিশর। 
    আমার জার্মান ভাষার শিক্ষক মিশরীয়। আহমেৎ আফিফি। মাস্টারমশাইকে মেসেজ করলাম। মিঃ আফিফি, আমরা সপরিবারে মিশরে বেড়াতে যাচ্ছি। আপনার কাছ থেকে মতামত পেলে সুবিধে হতো। দেখা করা যায় কি? 
    পাঁচ মিনিটের মধ্যে উত্তর এলো, অবশ্যই, কবে? কোথায়? 
    শেষমেষ ঠিক হলো ওঁকে ওঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাব একটা কাফেতে।  আগেও গেছি ওঁর বাড়িতে অন্ততঃ দুবার। একবার মনে হয়, মেয়ে যখন ইস্কুলে পড়ত, কী একটা শক্ত অঙ্ক পারছিলো না কষতে, উনি অঙ্ক বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। আরেকবার ঈদের দিন ঘরে তৈরি মিষ্টি নিয়ে গেছলাম। 
    বিকেলবেলায়, আফিফির বাড়িতে পৌঁছে গেলাম আমরা। 
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৪:১৯740559
  • বেশিদূর না, আমাদের বাড়ি থেকে মেরেকেটে সাতমিনিটের ড্রাইভ, পেছনের একটা পাহাড়ে আফিফির বাড়ি। কিন্তু প্রায় বছর বারো ঐদিকে যাওয়াই হয় নি। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলেও বাড়ির সামনেটায় যেতে পারছে না গাড়ি। উৎরাই বরাবর যাচ্ছেতাই করে খুঁড়ে রেখেছে জুরিখ মিউনিসিপালিটি। রাস্তা সারাই হচ্ছে। গরমকাল পড়লেই এদের কেবলই রাস্তা খুঁড়বার ইচ্ছে হয়! অতয়েব খানিকটা হেঁটে গিয়ে ভদ্রলোকটিকে ডেকে আনতে হবে। বাবুকে বললাম, তুমিই প্লিজ গিয়ে ডেকে আনো। 
    - সেকি! কেন? তোমার মাস্টারমশাই, তুমিই যাও। 
    - আরে না না, বুঝতে পারছো না, আমার মত সুন্দরী ওঁকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে দেখতে পেলে আফিফির বৌ কি আর ওঁকে আস্ত রাখবে? 
    যুক্তি দিয়ে বোঝালে জিনিস সহজ হয়ে যায়। বাবু তখুনি রাজি হয়ে আফিফিকে আনতে গেল। আমি অপেক্ষা করছি তো করছিই, আসেই না, আসেই না, কী হলো রে বাবা! প্রায় দশ মিনিট পরে ওদের দেখা গেল গলির মোড়ে। আফিফিকে দেখে আমার চক্ষু চড়কগাছ। দুহাতে লাঠি নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসছেন। গত বারো বছরে বয়স গিয়েছে অন্ততঃ তিরিশ বছর বেড়ে। টোটাল বৃদ্ধ অশীতিপর লুক। নামাজে বসেছিলেন, তাই অপেক্ষা করতে হয়েছিল, সেইসঙ্গে পায়ের ঐ অবস্থা। 
    আমরা একটা রেলস্টেশনের ধারে কাফেতে গিয়ে বসলাম। 
    আমার হাতে খাতা পেনসিল। মোটামুটি একটা খসড়া নোট করে এনেছি, টু দ্য পয়েন্ট কোশ্চেন করব। সঙ্গে মিশরের একটা মোটামুটি মানচিত্রের প্রিন্টাউট। 
    এক্সপ্লোরার শিবাজির মিশরভ্রমণের ভ্লগ দেখে সবকিছু পরিষ্কার হয় নি। ভারত থেকে বেড়াতে যাওয়া এবং পশ্চিম থেকে যাবার মধ্যে বেশ কিছু ফারাক আছে। প্রচুর ওয়েবসাইট আছে যেগুলো ভারতে চলে, এদিকে ব্লক করা থাকে। 
    উদাহরণস্বরূপ মেকমাইট্রিপ এবং আরও অনেক সাইট। আমার চাই সরাসরি গ্রাউন্ড লেভেলে চেনা লোক। টানা একমাসের প্ল্যান। দৌড়ে দৌড়ে দেখবার মত পাবলিকও নই মোরা। গুরু থেকে শুচিস্মিতার মিশরভ্রমণের ওপর লেখা পড়লাম। প্রত্যেকেই ইনফরমেশন দিচ্ছে, কিন্তু কেমন যেত খুঁত খুঁত করছে মন। ঠিক যেটা চাছি, সেটা পাচ্ছি না। 
    এবং আফিফি যেটা জানালেন, সেটা আরও মারাত্মক! ২০০৬ সালের পর উনি মিশরে যান নি। মানে লাস্ট ট্রিপ ছিল সতেরো বছর আগে! হে খোদা, হায় ভগোমান, ওগ্গড! অথচ আফিফির ধারণা মিশর উনি বেশ চেনেন। মানে আজকের মিশর। 
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৫০740560
  • কেসটা ঘুরে গেল উল্টোদিকে। আমি ওঁকে জানাচ্ছি সস্তায় টিকিট কোথা থেকে কিনবেন, উনি তেমন একটা নেটস্যাভি নন সেটা পরিষ্কার হলো। টিকিটের দাম যে ২০০৬ এর তুলনায় এখন অনেকটাই সস্তা সেটা জানতে পেরে খুশি হয়েছেন মনে হলো। কায়রো শহরে মেট্রো লাইনের নেটওয়ার্ক অনেকটাই বেড়ে গেছে, সেটাও তেমন জানেন না মনে হলো। মিশরের মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার থেকে শুরু করে, নানান দরকারি অ্যাপ, যেমন উবের অ্যাপ, কারিম অ্যাপ, ইত্যাদি যাবতীয় জ্ঞান আমিই হের আফিফিকে দিলাম।  হয়তো আশির দশকের গোড়ায় দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মাঝে কয়েকবার দেশে গেছেন। ইনি রাজনৈতিক অ্যাসাইলামপ্রাপ্ত যতদূর শুনেছি। প্রচণ্ড রকমের প্যালেস্তাইন সাপোর্টার। প্যালেস্টাইনের মুক্তি আন্দোলনের সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন, সম্ভবতঃ এখনও যোগাযোগ আছে। কিন্তু আমাদেরকে সাহায্য করবার ইচ্ছে থাকলেও, উনি আজকের মিশরকে চেনেন না। তবে ছেড়ে দেবার পাত্র উনি নন।
    পুরু চশমার কাঁচের ওপারে  ঘোলাটে চোখে কীসব ভাবছেন দেখলাম, নিজের মোবাইল ফোনের দিকে মনোযোগ দিয়ে একের পর এক ফোন কল করতে লাগলেন মাস্টারমশাই। আমরা কিছুই বুঝছিলাম না। কারণ, ভাষাটা তখন আর জারমান নয়, উত্তেজিতভাবে ফোনালাপ চলছে বিশুদ্ধ আরবীতে। 
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৪৯740562
  • হুইদিন ফিফটিন মিনিটস তিনখানা কনট্যাক্ট নম্বর হস্তগত হলো আমাদের। সঙ্গে টুকিটাকি নলেজবেসের আপগ্রেড। উত্তর থেকে দক্ষিণে তিনজন। উত্তরে আকেকসান্দ্রিয়ার বাসিন্দা হের আফিফির ছোটভাই, তিনিও আফিফি, নাসার আফিফি। কায়রোতেও একজন চেনা লোক। এবং দক্ষিণে আসওয়ান শহরে আফিফির বন্ধুপুত্র ইব্রাহীম, ব্যবসায়ী । তার আবার নিজস্ব নৌকোও  আছে নাসার লেকের ওপর। এই লোকটা তরুণ। চালাক চতুর হবে বলেও মনে হলো। বাড়ি ফিরেই ইব্রাহীমের সঙ্গে হোয়াটস্যাপে যোগাযোগ হলো। একটু পরে কথাও হলো। চমৎকার ইংরিজি বলে এবং বোঝে। নম্র ভদ্র স্বভাবের পরিচয় পেলাম। আফিফি আংকলের উদ্দাম প্যালেস্টাইন প্রীতি তাদের বাড়িতেও বেশ হাসির ব্যাপার। আজকের মিশরে প্যালেস্তাইন সিমপ্যাথাইজারের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। যে যার ব্যবসাপাতি, কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত। 
    ইব্রাহীম যেটা বলল, সেটা হচ্ছে যে যতটা সম্ভব বাস, ট্রেন, হোটেল, ইত্যাদির বুকিং আগে থেকে করে তবেই মিশরে আসাটা নিরাপদতম পদক্ষেপ। ওখানে গিয়ে এসব বুকিং টুকিং করা অনেক সমস্যার হতে পারে। প্রথমতঃ ডলারের সব পেমেন্ট করতে হয় বিদেশীদের (নন আরবদের বিশেষ করে) এবং প্রাইসট্যাগটাও বিশেষভাবে চড়া বিদেশীদের জন্য। এগুলো আগে থেকেই জানতাম, তবে ইব্রাহীমের কথায় কন্ফার্মড হওয়া গেল। 
    নাইল রিভার ক্রুজের ব্যাপারে ইব্রাহীম তেমন আগ্রহ দেখালো না। 
    শিবাজির ভ্লগে ঐ রিভারক্রুজ দেখে আমারও তেমন ইম্প্রেসিভ লাগে নি। ক্রুজের উদ্দেশ্য যদি আনন্দ মোচ্ছব হয়, তবে এর শতগুণ বিলাসবহুল  ক্রুজে আমরা চড়েছি বাল্টিক সাগরে। হুটোপুটি করে বুফে থেকে ঘাঁটা খাবার খাওয়া আমাদের পোষবে না। তা সে যত অমৃতের মত স্বাদই হোক না কেন। আরেক বাজে ব্যাপার হচ্ছে, স্বাধীনতা সংকুচিত। সকালে ব্রেকফাস্ট করিয়ে নৌকো (মতান্তরে জাহাজ ) থেকে ভেড়ার ​​​​​​​পালের ​​​​​​​মত ​​​​​​​বের ​​​​​​​করে ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​বাসে ​​​​​​​ভ্যানে ​​​​​​​চাপিয়ে ​​​​​​​কি ​​​​​​​হাঁটিয়ে ​​​​​​​একেকটা ঐতিহাসিক ​​​​​​​জায়গায় ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​যাবে। ​​​​​​​সেখানে ​​​​​​​গাইডের ​​​​​​​কচকচি ​​​​​​​(শুনতে ​​​​​​​না ​​​​​​​চাইবার অপশন ​​​​​​​থাকে ​​​​​​​যদিও), ​​​​​​​নিজের ​​​​​​​পছন্দমতো অ  নে ​​​​​​​ক ক্ষ ​​​​​​​ণ ​​​​​​​ধরে ​​​​​​​ঘুরবার ​​​​​​​অপশনও ​​​​​​​নেই, ​​​​​​​আবার ​​​​​​​স্কিপ ​​​​​​​করে যাবারও ​​​​​​​উপায় ​​​​​​​নেই। ​​​​​​​ফের ​​​​​​​টিপিনের ​​​​​​​সময় ​​​​​​​নৌকোয় ​​​​​​​ফিরে ​​​​​​​বুফে ​​​​​​​অর্থাৎ ​​​​​​​লুফে ​​​​​​​লুফে ​​​​​​​খাওয়া। ​​​​​​​টানা ​​​​​​​চার ​​​​​​​থেকে সাতদিন ​​​​​​​এরকম ​​​​​​​চলতে ​​​​​​​পারে, ​​​​​​​ক্রুজের ​​​​​​​সময়সীমা ​​​​​​​যেটার ​​​​​​​যেরকম। ​​​​​​​অবশ্যই ​​​​​​​জিনিসটা ​​​​​​​কম্প্যাক্ট। ​​​​​​​খরচে  ​​​​​​​হয়ত সাশ্রয়কর। ​​​​​​​হোটেল ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​করে ​​​​​​​ভাড়া ​​​​​​​নিতে ​​​​​​​হচ্ছে ​​​​​​​না, ​​​​​​​খাবারদাবারও ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​করে ​​​​​​​কিনবার ​​​​​​​ব্যাপার ​​​​​​​নেই, ​​​​​​​ট্রান্সপোর্টের ​​​​​​​খরচও ​​​​​​​ঐ। ​​​​​​​অক্টোবর নভেম্বর থেকে মে জুন মাসটাস অবধি টুরিস্টের ভিড় থাকে। মাথাপিছু ক্রুজের ​​​​​​​খরচ ​​​​​​​সেসময়ে ​​​​​​​সাড়ে ​​​​​​​তিনশো ​​​​​​​ডলার ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​সাতশো ​​​​​​​মোটামুটি। ​​​​​​​কোয়ালিটি ও  সময়সীমার ​​​​​​​ওপর ​​​​​​​নির্ভর ​​​​​​​করে। বছরের ​​​​​​​বাকি ​​​​​​​সময়টায় ক্রুজের ​​​​​​​ইয়েটা ​​​​​​​কম। ফ্রিকোএনসি। ​​​​​​​দামটাও ​​​​​​​পঞ্চাশ ​​​​​​​শতাংশ ​​​​​​​বেড়ে ​​​​​​​যায়। ​​​​​​​লোক ​​​​​​​কম ​​​​​​​হয় ​​​​​​​বলেই ​​​​​​​এরকম ব্যাপার। ​​​​​​​ওসব ​​​​​​​নৌকোয় ​​​​​​​খাবার ​​​​​​​দাবার ​​​​​​​দেয়, ​​​​​​​তবে ​​​​​​​পানীয় ​​​​​​​জল ​​​​​​​দেয় ​​​​​​​না ​​​​​​​বলে ​​​​​​​শুনলাম। ​​​​​​​কোনওরকম ​​​​​​​পানীয়ই ​​​​​​​দেয় ​​​​​​​না। ​​​​​​​ওটা ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​করে ​​​​​​​কিনতে ​​​​​​​হবে।  আরও ​​​​​​​যেটা ​​​​​​​জানলাম, ​​​​​​​সবকটা ​​​​​​​ক্রুজ ​​​​​​​কোম্পানীই ​​​​​​​দেশের ​​​​​​​বাইরে। ​​​​​​​মালিকেরা ​​​​​​​সব ​​​​​​​কেউ ​​​​​​​অ্যামেরিকায়, ​​​​​​​তো ​​​​​​​কেউ ​​​​​​​ক্যানাডায়, ​​​​​​​তো ​​​​​​​কেউ ​​​​​​​বিলেতে ​​​​​​​বা ​​​​​​​আয়ার্ল্যান্ডে।  আমাদের ​​​​​​​যদি ​​​​​​​নীলনদের ​​​​​​​বুকে ​​​​​​​নৌকো ​​​​​​​চড়তে ​​​​​​​ইচ্ছে ​​​​​​​হয়, ​​​​​​​অল্প ​​​​​​​সময়ের ​​​​​​​জন্য ফেলুকা ​​​​​​​করে ​​​​​​​ঘুরে ​​​​​​​নেবখন। ​​​​​​​
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৫৭740564
  • স্ট্রেইটএজরুলার অর্থাৎ স্কেল দিয়ে লাইন টেনে আফ্রিকার যেসব দেশের সীমারেখা আঁকা হয়েছে, মিশর তাদের মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণে শুধুই সরলরেখা দিয়ে লিবিয়ার সঙ্গে সীমানা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে সাহারা মরুভূমির ভেতর দিয়ে। 
    বোঝাই যাচ্ছে যে কলোনিয়ান দেশগুলোর কারসাজি। তুই ওদিকটা নে, আমি এদিকে ভাগ বসাই। ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান, সবারই লাভের বখরার হিসেব করতে করতে সরলরেখাগুলো আঁকা হয়ে যায়। আবার দক্ষিণে সুদান। সেটাও স্কেল পেন্সিল দিয়ে জ্যামিতির খাতায় আঁকার মতো ।  জলসঙ্কট হয় ঐ বৃহত্তম নদীর দেশেও। তাই হাতে তৈরী করা প্রকান্ড জলাধার হচ্ছে নাসার লেক । এটি আবার প্রায় সুদান মিশর সীমান্তে। এই নিয়ে কত মনকষাকষি মারপিট হয়েছে দুদেশের মধ্যে। নীলনদের মিষ্টি জল জমা করে রাখার জন্য এই নাসার লেক কেবল দৈর্ঘে প্রস্থেই বিশাল নয়, সংঘাতিক গভীর। হিপো নেই,  তবে ক্রোকো আছে। ঐ লেকের ঘাটেই  তো ইব্রাহীমের নৌকো বাঁধা আছে। 
    আমরা গোড়ায় ভেবেছিলাম উত্তর থেকে প্রবেশ করে, দক্ষিণ প্রান্ত অবধি পৌঁছে ফিরে আসব বাড়ি। কিংবা এর উল্টোটা। দক্ষিণ থেকে উত্তরে। মানে আলেকসান্দিয়ায় ল্যান্ড করে সব দেখতে দেখতে দক্ষিণে আসওয়ান অবধি গিয়ে ফিরবার ফ্লাইট। দুটোই ইন্টারন্যাশানাল এয়ারপোর্ট, দুটোতেই ভিসা অন অ্যারাইভাল আছে। কিন্তু টিকিট কাটতে গিয়ে দেখলাম, অঙ্ক অতটা সরল নহে। যেখানেই যাই না কেন, কায়রো হয়ে। মানে হয়ত ট্রানজিটে ঘন্টা তিনেক বসিয়ে রাখবে। তুলনায় টিকিটের দামটাও বেশি হয়ে যাচ্ছে। তার চেয়ে জুরিখ কায়রো রিটার্ণ টিকিট করে নিলে  হাংগাম কম। আমাদের জন্য কাছাকাছির দেশ বলে চেকইন লাগেজের জন্যেও গুছিয়ে ক্যাওড়ামি করে রেখেছে। একমাসের জন্যে তো আর ব্যাকপ্যাকার হওয়া যায় না। অতএব লোকস্ট এয়ারলাইন্সে টিকিট কেটে সুবিধে নেই। ধাঁ করে মনস্থির করে টিকিট কেটে ফেললাম। ব্যাস, এবার প্ল্যান পাল্টানোর উপায় নেই। কায়রোতে পৌঁছবো অন্ধকার থাকতে থাকতে ঊষাকালেরও আগে। প্ল্যানমাফিক ভিসা নিতে হবে, টাকা ভাঙিয়ে কিছু ইজিপশিয়ান পাউন্ড নিতে হবে হাতে, কায়রো মেট্রোর ওয়ালেট কিনতে  হবে ধরা যার শ দুশো পাউন্ডের মতো তাতে ভরা থাকবে। দিনের আলো ফুটলে আমরা বের হবো পূর্ব নির্ধারিত বাসস্থানের উদ্দেশ্যে। 
    এতসব করবার পরে খেয়াল হলো অফিস থেকে ছুটি নেওয়া হয় নি। মানে মৌখিক একটা কী যেন বলেছিলাম মাস তিনেক আগে মঙ্গোলিয়া থেকে ফিরবার পরে। কিন্তু লিখিত দরখাস্ত করা হয় নি। 
    ইন্টারনাল প্রজেক্ট ক্যালেন্ডারে উঁকি দিয়ে একটা শীতল অনুভূতি হলো। একটা জবরদস্ত প্রজেক্টের ইমপর্ট্যান্ট অংশটা কোন হতচ্ছাড়া ঐ সেপ্টেম্বরেই রেখেছে, দায়িত্বে আমার নাম। 
    এত রাগ হলো যে, ছুটি অথবা রিপ্লেসমেন্ট না পেলে আমি চাকরি ছাড়তেও প্রস্তুত। কিংবা আর্লি রিটায়ারমেন্ট হলেও মন্দ হবে না। তখন যখন-তখন বেড়াবো। 
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৪০740566
  • দক্ষিণে    পশ্চিমে শুধুই সরলরেখা দিয়ে লিবিয়ার সঙ্গে সীমানা তৈরি করে দেওয়া 
  • স্বাতী রায় | 117.194.36.60 | ১৯ আগস্ট ২০২৩ ২২:২৩740619
  • আগ্রহের সঙ্গে পড়ছি। 
  • :|: | 174.251.162.89 | ২০ আগস্ট ২০২৩ ১১:৩৮740625
  • মঙ্গোলিয়ার লেখাটা শেষ হলো? মবে হচ্ছে আরও একটা লেখাও শেষ হয়নি -- রোডেশিয়ারটা। এটারও কি একই গতি হবে? শরৎ চাটুজ্জে নাকি রঠা কেউ একটা বলেছিলেন বটে, বাঙ্গালীদের সম্পর্কেই, "আমরা আরম্ভ করি কিন্তু ..."
  • :|: | 174.251.162.89 | ২০ আগস্ট ২০২৩ ১১:৩৯740626
  • মবে মনে 
  • যোষিতা | ২০ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১১740627
  • কী আপদ!
  • যোষিতা | ২০ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৩740628
  • সম্ভবত মিশর যাওয়া ক্যানসেল করতে হবে। যিনি সঙ্গে যাবেন, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে একটু আগে।
  • দীমু | 182.69.179.140 | ২০ আগস্ট ২০২৩ ২০:১১740631
  • যোষিতা | ২০ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৩ sad​​
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২৩ ০০:১৪740633
  • প্রাণের চেয়ে দামী কিচ্ছু নয়। বেঁচে থাকলে তার পাশে থেকেই আমি সারা দুনিয়া ঘোরার চেয়ে বেশি আনন্দ পেতে পারি। চুলোয় যাক টিকিট বুকিং টাকা পয়সা। 
  • kk | 2607:fb91:149f:50ef:4360:e107:83c0:fd1c | ২১ আগস্ট ২০২৩ ০৩:০৮740634
  • তিনি সেরে উঠুন। তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে উঠুন।
  • শিবাংশু | ২১ আগস্ট ২০২৩ ১০:৪১740638
  • দ্রুত আরোগ্য হোন তিনি ...
  • | ২১ আগস্ট ২০২৩ ২১:৫৯740649
  • এহ! 
    দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন তিনি। শুভকামনা। 
  • b | 117.194.64.172 | ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫৯740656
  • তাড়াতাড়ি সুস্থ  হয়ে  হয়ে উঠুন উনি । 
  • ইন্দ্রাণী | ২৬ আগস্ট ২০২৩ ০৩:৩৬740658
  • ওঁর দ্রুত আরোগ‍্য কামনা করি।
  • Kuntala | ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১৮:০৮740660
  • ওহ, কি কান্ড 
  • Ranjan Roy | ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১৯:১৩740662
  • তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। 
  • π | ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১১:৩৩740669
  • আশা করি এখন ভাল আছেন।
  • যোষিতা | ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১১:৫০740670
  • সকলকে ধন্যবাদ। বাড়িতে নিয়ে এলাম। এখন বাড়িতে চিকিৎসা যত্ন থেরাপি চলবে।
  • | ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১২:১৫740671
  • যাক। 
  • kk | 2607:fb91:149f:50ef:cce2:7f79:3830:8897 | ২৭ আগস্ট ২০২৩ ২১:০৪740672
  • ভালো খবর। আস্তে আস্তে পুরোপুরি সেরে উঠবেন ঠিক।
  • জয় | ২৮ আগস্ট ২০২৩ ০৬:২৭740673
  • যোদি- ভালো খবর। দুজনেই ভালো থাকুন। সুস্হ থাকুন।
  • Bratin Das | ২৯ আগস্ট ২০২৩ ০২:৪০740674
  • যো দি ,চিন্তা করো না। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে , আজকে জামাইবাবুর সাথে কথা হল তো .
    দিব্য heartheart
  • Kishore Ghosal | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:০১740685
  • ভগমান যা করেন, ভক্তরা বলেন ভালর জন্যেই। ভাগ্যিস মিশরে যাওয়ার আগেই অসুস্থ হয়েছেন, ওখানে গিয়ে হলে বিস্তর সমস্যা হত। সেরে উঠুন - মিশর মিস হবে না, আর অন্য কোনদিকে সরতেও পারবে না - কাজেই  খুব শিগ্‌গিরি মিশর যাচ্ছেন সুস্থ হাসিখুশি মানুষটিকে সঙ্গে নিয়েই! শুভেচ্ছা রইল।   
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন