এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  গান

  • সুর কেন সাতটি 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | গান | ২৭ জুন ২০২৩ | ২৬৯৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য মতে, শুদ্ধ সুর সাতটি। কোমল ধরলে বারোটি। সুর এই বারোটিই কেন, এ নিয়ে ফেসবুকের একটি গ্রুপে একটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম। সেখানে সংক্ষেপে লিখেছি। পুরো জিনিসটি এখানে লিখে রাখলাম, যদি কারো আগ্রহ থাকে তো পড়বেন। আঁক-টাক কষা আছে। অঙ্ক অপছন্দ হলে এর পরে আর এগোবেননা।

    আরও একটি কথা এখানে বলে রাখা দরকার। এই পুরো জিনিসটিই মূলত পাশ্চাত্য সঙ্গীততত্ত্বের নানা জায়গায় টুকরো-টাকরা করে পড়েছি। কিন্তু সেখানে অঙ্ক ছিলনা। হয়তো উচ্চতর শাস্ত্রে আছে। কিন্তু আমার বিদ্যে ততদূর গড়ায়নি। এছাড়া সঙ্গীত প্রযুক্তিতেও থাকা উচিত, কিন্তু তার তত্ত্বও আমার খুব কিছু পড়া আছে এমন না। ফলে এখানে যে অঙ্ক কষা হয়েছে, সবটাই আমার নিজের কষা। নিশ্চয়ই এর আগে কেউ কষে ফেলেছেন, কিন্তু জানা না থাকায় কৃতিত্ব দেওয়া গেলনা। আর যদি বাইচান্স না কষে থাকেন, তো আমি নিউটন।


    পূর্বানুমান
    এই লেখায় অঙ্ক কষার জন্য দুটি পূর্বানুমান করা হয়েছে।
    ১। একটি সুরের ভিত্তিতে আরেকটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দকে 'সুরেলা' আমরা তখন বলি, যদি দ্বিতীয়টি সোজাসুজি প্রথমটির সরল গুণিতক হয়। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো এক x কম্পাঙ্কে 'সা' বলেন,  তাহলে, ২x, ৩x ... এই কম্পাঙ্কগুলিকে আপনার সুরেলা লাগবে। বাকি সবই বেসুরো। এটি আকাশ থেকে পাড়া পূর্বানুমান নয়। রেজোনেন্স বা অনুনাদের জন্য এরকম হয়। দরকারে পরে বিশদে বলা যাবে। 
    ২। একটি সুরের কম্পাঙ্ক, তার পরের সপ্তকে ওই সুরের কম্পাঙ্কের অর্ধেক। অর্থাৎ, 'সা'এর কম্পাঙ্ক মধ্যসপ্তকে যদি x হয়, তবে তারসপ্তকের 'সা' এর কম্পাঙ্ক ২x। এটি পরীক্ষামূলক ভাবে দেখা গেছে। ফলে এটিও আকাশ থেকে পড়া নয়। তবে এর একটি কৌতুহলোদ্দীপক দিক আছে। এর সঙ্গে আগের পূর্বানুমানটি যোগ করলে আমরা পাব, যে, 'সা' যদি x হয়, তবে সুরেলা শব্দ শুধু ৩x নয়, ৩x/২ ও। কারণ, পরের সপ্তকে যা ৩x, আগের সপ্তকে তাই ৩x/২। অন্য সমস্ত ভগ্নাংশ, যার বিভাজক ২, ৪, ৮... সপ্তকানুযায়ী তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এটি সত্য।
    ৩। পরপর দুটি সুর যেকোনো স্কেলে প্রতিস্থাপনযোগ্য। অর্থাৎ, একটি স্কেলে যা পা-ধা, অন্য স্কেলে সেটিই সা-রে হতে পারে। কম্পাঙ্কের কোনো বদল ছাড়াই। এটি সঙ্গীতের মূল সূত্র, আলাদা করে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। কিন্তু গাণিতিকভাবে, ব্যাপারটি দাঁড়ায় এই, যে, সা এবং রের কম্পাঙ্কের যা অনুপাত, পা এবং ধা এর কম্পাঙ্কের অনুপাত হুবহু এক। এবং সমদূরত্বের যেকোনো দুটি স্বরের ক্ষেত্রে এই সূত্র প্রযোজ্য। 

    সুরের খোঁজে
    আগের তিনটি সূত্র যদি হিংটিংছট না লাগে, তো বাকি অঙ্কটি ধাপে-ধাপে সহজেই করে ফেলা যায়।

    ধরা যাক, একটি 'সা'এর কম্পাঙ্ক ১ (এক)। (আমরা ভগ্নাংশ দিয়ে অঙ্কটি করব, তাই x না ধরে ১ ধরা হল)। আমরা জানি এটি একটি সুর, এবং আর কিছু জানিনা। সা-রে-গা-মা-পা, কিচ্ছু জানিনা। আমাদের চ্যালেঞ্জ হল, এই সা থেকে আমরা আস্ত একটি সপ্তক বানাতে পারি কিনা। যদি পারি, তবে সঙ্গীতের কিছু যৌক্তিক ভিত্তি আছে। যদি না পারি, তো নেই, বা থাকলেও আমরা জানিনা।

    তো, এই ১ থেকে সুর খুঁজতে কীকরে শুরু করব আমরা? পূর্বানুমান ১ থেকে। কোনো স্বরের কম্পাঙ্ক যদি ১ হয়, তার সরল গুণিতকগুলি সুরেলা, এটা আমাদের পূর্বানুমান। অর্থাৎ, এখানে সুরেলা স্বরের  একটি সারি পাব আমরা। কী সেই সারি?

    ১, ২, ৩, ৪, .... ৮ ... ১৬... ২৪ ... এইভাবে অনন্তকাল চলা যায়, কিন্তু এর মধ্যে ১,২,৪,৮,১৬ -- এই প্রতিটি স্তরেই ক্রমশ আমরা তার সপ্তকের দিকে চলেছি। বস্তুত সাড়ে-পাঁচ অক্টেভের চেয়ে বেশি উপরে উঠলে সুর আর শ্রুতিমধুর লাগেনা (কিবোর্ড-পিয়ানোও ওই অবধিই যায়)। সেটা মানুষের কানের সমস্যা। তাই আমরা সাড়ে-পাঁচ, অর্থাৎ ২৪ এ থামব।

    এবার, এতে করে আমরা কী স্বর পেলাম? ১ হল নিচের সা। ২ হল উপরের সা (পূর্বানুমান দুই)। নতুন কিছু লাভ হলনা। কিন্তু ৩? এটা কী জিনিস? একটা একটা নতুন সুর, যার কোনো নাম আমরা এখনও দিইনি। এটাই আমাদের প্রথম আবিষ্কৃত নতুন স্বর। যদিও এটা উপরের সপ্তকে। কিন্তু আমাদের পূর্বানুমান দুই অনুযায়ী আমরা এটিকে নিজেদের সপ্তকে নামিয়ে আনতে পারি, ২ দিয়ে ভাগ করে। সেটা করলে, আমরা সা এর পরে আরেকটি সুর পেলাম। সংখ্যা দিয়ে দেখলে, ১ এবং ৩/২। 

    এবার এই প্রক্রিয়াটা যদি চালাতে থাকি ২৪ পর্যন্ত, তাহলে কী পাব? একটা আস্ত সারি। সেটা লিখে ফেলা যাক।
    ১, ২/২, ৩/২, ৪/৪, ৫/৪, ৬/৪, ৭/৪, ৮/৮, ৯/৮, ১০/৮, ১১/৮, ১২/৮, ১৩/৮, ১৪/৮, ১৫/৮, ১৬/১৬, ১৭/১৬, ১৮/১৬, ১৯/১৬, ২০/১৬, ২১/১৬, ২২/১৬, ২৩/১৬, ২৪/১৬। 

    এবার দেখাই যাচ্ছে, এর মধ্যে থেকে কিছু জিনিস বাদ দিতে হবে। কারণ একই কম্পাঙ্ক বারবার চলে আসছে। এই বাদ দিয়ে সাজানোটা যে কেউ করে দেখতে পারেন। কিন্তু আমি পুরোটা একধাপে করে, এবং বিভাজককে ১৬তে পরিণত করে, পরপর সাজিয়ে একধাপে করছি। সেটা করলে ভারি চমৎকার একটা সারি পাওয়া যায়।
    ১, ১৭/১৬, ১৮/১৬, ১৯/১৬, ২০/১৬, ২১/১৬, ২২/১৬, ২৩/১৬, ২৪/১৬, ২৬/১৬, ২৮/১৬, ৩০/১৬।

    অর্থাৎ 'সুরেলা' স্বরসমষ্টির একটা সারি পেলাম আমরা, যা আবার একটি গাণিতিক ছন্দ মেনে চলে। প্রথম দিকে ১/১৬ করে বাড়ে, তারপর এক জায়গায় ২/১৬ করে বাড়তে থাকে। পরের সা পর্যন্ত। পরের সা টা এই সারিতে নেই। সেটা হবে ৩২/১৬। এবং আরও কৌতুহলোদ্দীপক যেটা, সেটা হল, এখানে মোট স্বরের সংখ্যা আছে ১২ টি। আমাদের সপ্তকেও সেই বারোটিই 'সুরেলা' সুর।

    সপ্তক
    এইটিই কি তবে সপ্তক, যা আমরা ব্যবহার করি? হলে খুবই ভালো হত, কারণ সংখ্যা বারোটিই, তাছাড়া দেখতে শুনতেও ভালো। কিন্তু তা হবার নয়। কারণ, এটি আমাদের পূর্বানুমান ৩ কে লঙ্ঘন করে। এখানে এক থেকে আট নং সংখ্যাগুলি দেখুন, এরা গাণিতিক সারি। কিন্তু আমাদের চাই জ্যামিতিক সারি। অর্থাৎ, এখানে একটির সঙ্গে ১/১৬ যোগ করে পরের স্বরটি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পরপর দুটি স্বরের অনুপাত ধ্রুবক নয়। আমাদের চাই, এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে যেকোনো একটি সংখ্যাকে গুণ করলেই পরেরটিতে পৌঁছনো যায়। 

    ফলে আমরা একটি কেলোর কীর্তিতে আটকে গেলাম। আমাদের চাই গাণিতিক সারি। নইলে সা-রে আর পা-ধার তফাত আলাদা এবড়োখেবড়ো হয়ে যাবে (এখনও আমরা সারেগামা জানিনা, কিন্তু বোঝানোর সুবিধের জন্য বললাম)। আর সেটা করতে গেলে ব্যাপারটা আর সুরেলা থাকবেনা। সুরেলা করতে গেলে আমরা পাচ্ছি, ১২ স্বরের একটি গাণিতিক সারি। 

    শ্যাম রাখি না কুল রাখি
    তাহলে গান কি সত্যিই হবেনা? নাও হতে পারে, কিন্তু তার আগে, ব্যাপারটা একটু পরীক্ষা করে দেখা দরকার, সত্যিই হবে কিনা। ১২ টা স্বর আমরা পেয়েছি। এবং ধরে নিয়েছি, যে, জ্যামিতিকভাবে সারি বানালে তা আর সুরেলা থাকবেনা। সত্যিই কি থাকবেনা? সেটা জানব কীকরে? তার জন্য আগে জ্যামিতিক সারিটি বার করা দরকার। সেটা করব কীকরে? অঙ্ক কষে। 

    ধরা যাক আমাদের জ্যামিতিক সারিতে একটি স্বরের কম্পাঙ্ককে c দিয়ে গুণ করলে পরেরটিতে যাওয়া যায়। এই c অনড়। আর আমাদের প্রথম কম্পাঙ্ক ১। পরেরটা কী হবে? c । তার পরেরটা? c এর দ্বিঘাত।  অর্থাৎ c-২ ( সিস্কোয়ার)। এইভাবে বারো নম্বর স্বরটা কী? c-১২( সি টুদি পাওয়ার ১২)। কিন্তু সেটা তো উপরের সা, অর্থাৎ ২। 

    সমীকরণ বানালে, পাই, c-১২ = ২। 
    অর্থাৎ, ১২logc = log ২ । 
    টেবল ফেবল দেখে, এটার সমাধান হল ১.০৫৯ । 

    এইটি যদি আমরা ব্যবহার করি, তাহলে কী ক্ষতি হয়? সেটা করেই ফেলা যাক।
    আমাদের সুরেলা গাণিতিক সারি, দশমিকেঃ ১, ১.০৬২, ১.১২৫, ১.১৮৭, ১.২৫, ১.৩১২, ১.৩৭৫, ১.৪৩৭, ১.৫ ...
    আর আমাদের জ্যামিতিক সারি, দশমিকেঃ  ১, ১.০৫৯, ১.১২১, ১.১৮৭, ১.২৫, ১.৩৩১, ১.৪১০,  ১.৪৯৩, ১.৫৮...

    এইটি থেকে কী দেখা যাচ্ছে? না, ১ থেকে ৫ দুইটি সারির মধ্যে দশমিকের পরের দ্বিতীয় ঘর পর্যন্ত তেমন তফাত নেই। মানে, সা যদি ৪৪০ হয় ( মিডল এ), তাহলে দুই সারির মধ্যে তফাত বড়জোর ৪ এর। মানুষের কান এইটুকু পার্থক্য ধরতে পারেনা। পার্থক্য বেড়েছে, তার পর থেকে। জ্যামিতিক সারির ৮ তো প্রায় গাণিতিক সারির ৯ (১.৪৯৩ এবং ১.৫ )।

    তাহলে আমরা যদি এরকম করি, যে, জ্যামিতিক সারিটিকেই মোটামুটি গাণিতিক সারি বলে চালিয়ে দিই? গাণিতিকের আট নং ধাপটা সেক্ষেত্রে বাদ দিতে হবে। ওই স্বরটা বাদ। কিন্তু সুরেলা একটা স্বর বাদ গেলে কী সমস্যা। ওটা বাদ থাক, বাকিগুলো তো থাকছে। 

    এ তো গেল ১ থেকে ৯। এখনও তিনটে বাকি, ২ ধরলে চারটে। তাদের কী হবে? দেখা যাকঃ 
    জ্যামিতিক সারির বাকিটাঃ ১.৫৮, ১.৬৭৫, ১.৭৭৪, ১.৮৭৮, ২
    সুরেলা সারির বাকিটাঃ    ১.৬২৫, ১.৭৫, ১.৮৭৫, ২
    সুরেলা সারিতে একটি সংখ্যা কম আছে। কারণ একটিকে আমরা বাদ দিয়েছি। শেষ তিনটি অবশ্য ভালই মিলছে। প্রথমটির সঙ্গে প্রথমটিও চলে যায়। তাহলে বাকি থেকে গেল দুই নং। সেটি কি বেসুরোই থেকে যাবে? থাকতেই হবে, তা না। আমাদের সুরেলা সারি, আমরা, মনে করে দেখুন, ২৪ পর্যন্ত নিয়েছিলাম। সেটি একটি মোটামুটি ভাবে ধরে নেওয়া সংখ্যা। তার এক ধাপ উপরে যদি যাই, মহাভারত অশুদ্ধ হয়না। সেটা করলে আমরা পেয়ে যাব আমাদের ফস্কে যাওয়া ভগ্নাংশটি। ২৭/১৬, অর্থাৎ কিনা ১.৬৮৭। এতে আমাদের সাধের সারিটি একটু নড়েচড়ে গেল, দেখতেও ততটা ভাল থাকলনা। কিন্তু সুরেলা তো হল। তাহলে আমাদের পুরো সারিদুটি দাঁড়াল এইঃ
    আমাদের সুরেলা গাণিতিক সারি, দশমিকেঃ ১, ১.০৬২, ১.১২৫, ১.১৮৭, ১.২৫, ১.৩১২, ১.৩৭৫, ১.৫, ১.৬২৫, ১.৬৮৭, ১.৭৫, ১.৮৭৫, ২
    আর আমাদের জ্যামিতিক সারি, দশমিকেঃ  ১, ১.০৫৯, ১.১২১, ১.১৮৭, ১.২৫, ১.৩৩১, ১.৪১০,১.৪৯৩, ১.৫৮, ১.৬৭৫, ১.৭৭৪, ১.৮৭৮, ২

    শ্রবণসীমার মধ্যে, ব্যাপারটা মোটামুটি একই রইল। যন্ত্র বাঁধার সময় আমরা জ্যামিতিক সারিটিই অনুসরণ করব। কিন্তু সেটা অন্যটির এত কাছে, যে, শুনতে সুরেলাই লাগবে। বাকি রইল নামকরণ। সে তো যে যা খুশি করতে পারে। কেবল একটি ষষ্ঠ স্বরকে আমরা পাঁচে এনে ফেলেছি, এটি আমাদের মনে রাখতে হবে। সেই জন্য ওই সুরটির নামকরণ করলাম পঞ্চম।

    পুঃ এই বর্ণনায় গাণিতিকভাবে কোনো গোলমাল থাকার সম্ভাবনা কম, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে এই বিবরণের কোনো যাথার্থ নেই। অঙ্ক কষে এসব কেউ বার করেছিলেন বলে মনে হয়না। এই সবকটি সমস্যাই স্বররচনার সময় সমাধান করতে হয়েছিল। কিন্তু তা ওস্তাদরা স্রেফ কানে শুনেও করে থাকতে পারেন। অথবা কে জানে, অঙ্ক টঙ্কও করে থাকতে পারেন। 

    আরেকটি ব্যাপার, বলে নেওয়া উচিত। এখানে যে ২৪ সংখ্যাটি ধরা হয়েছে, তার একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়াও হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাটি ওইটিই হতে হবে, তা নয়। একটু আধটু কম বেশি করে নিলে স্বরসংখ্যা, কমতে-বাড়তেই পারে। তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধা নেই।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২৭ জুন ২০২৩ | ২৬৯৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    বেনামী - Sarthak Das
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একক | ২৭ জুন ২০২৩ ১১:২৩520729
  • বাহ বেশ কৌতুহলোদ্দীপক আলোচনা। কিন্তু প্রাচীন মানুষ মানে গুহা ফুহার পাব্লিকরা ত লগারিদম জানত না। লগ টেবল অনেক পরের ব্যাপার তাই না?  
     
    সবচেয়ে পুরনো সুরযন্ত্র কী?  জানি না। তবে আন্দাযে মনে হয়, গঠনের দিক দিয়ে ভাবলে : বাঁশি। ওপেন বা ক্লোসড পাইপ। 
     
    এবার শব্দের গতিবেগ বের করা কিন্তু তুলনামূলক সহজ। ঘড়ি না থাকলেও মানুষের পালস রেট ধরে একটা মোটামুটি হিসেব বের করা যায়। এবার পাইপের ফ্রিকোয়েন্সী ল্যামরা ইকুয়াস টু ইন্টু লেংথ বের করতেও জগঝম্প টেকনলোজি কিছু লাগার কথা না। 
     
    তো এইভাবে,  জলে ডুবিয়ে ঘা দিয়ে দিয়ে একটা রড নিয়ে বা ফুঁ দিয়ে দিয়ে একটা বাঁশি নিয়ে নিয়ে তুমি মিডল ফ্রিকোয়েন্সী বের করতে পারবে।  যদি মিডল বেরিয়ে যায়,  তখন এপাশ ওপাশ করে করে সা ও বেরুবে। 
     
    মানে আমি আদিম মানুষ হিসেবে ভাবার চেষ্টা কচ্চি আর কী। ভুল ও হতে পারি। 
     
    দারুণ লেখা  এটা, চলুক :))  
  • PM | 45.251.234.22 | ২৭ জুন ২০২৩ ১৮:০৭520736
  • যাও  বা  গান টা একটু শান্তিতে শুনতাম সেটাতেও অঙ্ক ঢূকলো  ?devil
     
    যাই হোক বেশ কৌতূহল জাগানো লেখা 
  • আগ্রহী | 115.187.40.148 | ২৭ জুন ২০২৩ ২২:২৭520745
  • ভাল লাগল , অনেক ধন্যবাদ সৈকতবাবুকে।
    একটু অপ্রাসঙ্গিক অনুরোধ করব একটা। ভারতীয় রাগ রাগিনীর উৎপত্তি পাখিদের কলকাকলি থেকে ,এই বিষয়টা একটু ব্যাখা করবেন সময় পেলে? 
  • প্রত্যয় ভুক্ত | ২৮ জুন ২০২৩ ০০:১৫520753
  • ভারতীয় সঙ্গীতে কিন্তু স্বর ১২টিও নয়, সা-পা অচল স্বর ব্যতীত প্রতিটি সুরের অতিকোমল-অনুকোমল শ্রুতি বর্তমান(মধ্যম ব্যতীত) ও সর্বমোট জানা যায় ১টি সপ্তকে ২১টি‌ স্বর থাকতে পারে, এছাড়াও কন/কান/শ্রুতি স্বর প্রতিটি ঠাট, রাগ, কম্পোজিশন অনুযায়ী পাল্টাতে পারে।
  • পুরোনো পাপী | 195.181.168.70 | ২৯ জুন ২০২৩ ০৩:২২520804
  • 12 টা নোট, 
    সহজ অঙ্ক হল 
    সা x 2^(1/12) =ঋ
    সা x 2^(2/12)=র
    ........
    সা x 2^(7/12)=পা
    ...
    সা x 2^(11/12)= না
    এই হল আধুনিক যন্ত্রের হিসাব।
    ....
    ২২ শ্রূতির সহজ অঙ্ক হল
    সা x 2^(1/22) র১
     সা x 2^(2/22)  র২
    .................... র৩
    ............….....র৪
    ..................গ১
    ..........…....গ২
    ...........গ৩
    .........গ৪
    .......ম১
    ....ম২
    ...ম৩
    .........ম৪
    সা x 2^(13/22) = পা
    ...................ধ১
    ...............ধ২
    ..........ধ৩
    ........ধ৪
    ..........ন১
    .............ন২
    ..................ন৩
    সা x 2^(21/22) = ন৪
    ........এই হল ২২ শ্রুতির হারমোনিয়াম এর হিসাব।
    তবে ধ্রুপদী সঙ্গীতের হিসাব এত সরল নয়, রাগ ভেদে শ্রুতির হিসেব বদলে যাবে।
     
  • Rana | 165.225.28.46 | ২৯ জুন ২০২৩ ০৩:৩৬520805
  • বেড়ে লাগলো। এমনি ভাবে সত্যিই ভাবি নি। 
     
    ছোট্ট একটা জিনিস যা চোখে লাগলো 
     
    "বস্তুত সাড়ে-পাঁচ অক্টেভের চেয়ে বেশি উপরে উঠলে সুর আর শ্রুতিমধুর লাগেনা (কিবোর্ড-পিয়ানোও ওই অবধিই যায়)।"
     
    পিয়ানোতে সাধারণত ​​​​​​​সাড়ে ​​​​​​​সাত ​​​​​​​অক্টেভ ​​​​​​​থাকে (৮৮ ​​​​​​​কিজ)।বড় ​​​​​​​কনসার্ট ​​​​​​​গ্র্যান্ড নয় ​​​​​​​বা এগার অক্টেভও  হয়ে  ​​​​​​​থাকে . বেশিরভাগ ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল মিউজিক সাড়ে পাঁচ অক্টেভে আবদ্ধ নয় 
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ২৯ জুন ২০২৩ ২১:৪১520819
  • ঠিকই বলেছেন, কি-বোর্ড বলা উচিত ছিল। আর সাধারণভাবে যোগ করা উচিত ছিল। যাই হোক, ওইটুকু ভুলে প্রতিপাদ্যের কিছু হেরফের হয়না। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন