বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সে এক বইপোকা !

    রজত দাস লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ জুন ২০২২ | ৩৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  •  
     
    'বইপ্রেমী’, ‘বইপোকা’ বিশেষণ গুলো ভীষণরকম পরিচিত। উপযুক্ত বিশেষ্য ব্যতীত বিশেষণগুলি অস্তিত্বহীন। পঞ্চ ইন্দ্রিয় খোলা রাখলে খোঁজ পাওয়া যায় এমন অনেক বইপ্রেমীদের যারা বই পড়া এবং সংগ্রহ করাকে একপ্রকার নেশার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন!
     
    আজ থেকে ১২-১৩ বছর আগে একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয় ছিল কলকাতার প্রাইভেট লাইব্রেরির সন্ধান। সেখানে মোট তিনজন ব্যক্তির কথা তারা উল্লেখ ছিল। উৎপল দত্ত, সুধীন চট্টোপাধ্যায় ও অঞ্জন চক্রবর্তী। এঁদের মধ্যে সেই সময় শুধুমাত্র অঞ্জন চক্রবর্তীর সংগৃহীত বইয়ের সংখ্যাই ছিল ৩৫ হাজার! এখন তো সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে কবে! অঞ্জন চক্রবর্তীর একজন বন্ধু ছিলেন যিনি জাতীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক। তিনি অঞ্জনবাবুর বই সংগ্রহের তালিকা দেখে রীতিমতো থ! বাড়িতে যতগুলো বই আছে সেসব ঠিকঠাকভাবে গুছিয়ে রাখতে কুড়ি খানা ঘরের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি সব বই কোনোরকমে দোতলার পাঁচটি ঘরে রেখেছেন! সেই ঘরগুলোতে হাঁটা চলা তো দূর অস্ত, সেখানে প্রবেশ করাও রীতিমতো এক কসরত! এমনই বইয়ের প্রতি নেশা ছিল অঞ্জনবাবুর।
     
    অঞ্জনবাবুর পরিচয়? পুরো নাম অঞ্জন চক্রবর্তী। জন্ম ১৯৪১-এর ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। বর্তমান ঠিকানা বিজয়গড়। একসময় নেতাজীনগর বিদ্যামন্দিরে ইতিহাস ও ইংরেজিতে শিক্ষকতা করেছেন। ব্যারাকপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজেও কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেছেন। তবে এই পরিচয় বাদ দিলেও বইপ্রেমীদের আখড়ায় তাঁর এক ভিন্ন পরিচয় আছে। একসময় গোলপার্কের বইয়ের দোকান আর কলেজ স্ট্রিটে তাঁর যাতায়াত ছিল অবাধ। এখন বয়সের ভারে যাতায়াত কমেছে ঠিকই। কিন্তু আজও অঞ্জন চক্রবর্তীর নাম বললে গোলপার্কে সকলে এক ডাকে চেনে। অঞ্জনবাবুর বই কেনা ও পড়ার এক মারাত্মক নেশা ছিল। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের খবরের কাগজ সংগ্রহ করা থেকে যে কোনো বিষয়ের দুলর্ভ বই, সবই তাঁর সংগ্রহে। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে তিনি বাড়ি থেকে বিজয়গড়ের বাজারে গিয়েছেন সাইকেল চেপে। কিন্তু বইকেনার নেশায় সাইকেল বাজারে ফেলে বাসে চেপে সোজা গোলপার্ক। ফিরে এসে দেখলেন সাইকেল উধাও! বই নিয়ে দোকানদারের সাথে দর কষাকষিকে তিনি একপ্রকার শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০০ টাকার বই কিনেছেন ২০ টাকায়! তবে হ্যাঁ, বই তিনি কাউকে দিতে চান না। বই দিলে ফেরত না দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁর এই প্রতিজ্ঞা।
     
    তবে এই বইয়ের প্রতি পাগলামিতে তিনি পাশে পেয়েছিলেন তাঁর পরিবারকেও। বেতনের অর্ধেক মাইনে যে বই কিনতেই খরচ হয়ে যায়। এই নিয়ে কোন দিনও আপত্তি করেননি তাঁর স্ত্রী অরুন্ধতী চক্রবর্তীও। মা-বাবার সহযোগিতাও পেয়েছেন চিরকাল। বলতে গেলে তাঁর পরিবারে ‘বইপ্রেমী’ ধারাটা যেন খানিক বংশানুক্রমিক। নাহ্, অঞ্জনবাবুর বাবা অমিয়ভূষণ চক্রবর্তীর হয়তো বইকে ঘিরে এত পাগলামি ছিল না। তবে তাঁর কীর্তিকলাপেও রয়েছে বইয়ের ছোঁয়া। বাচ্চাদের জন্য তৈরী করেছিলেন একটি স্কুল, নাম ‘শিশুর দেশ’। অঞ্জনবাবুর স্ত্রী অরুন্ধতী চক্রবর্তীর সম্পূর্ণ নিজস্ব চেষ্টায় এই স্কুলটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে সসম্মানে।
     
    হ্যাঁ, প্রসঙ্গে ফেরা যাক। বর্তমানে তাঁর বইয়ের তালিকা হার মানিয়ে দিতে পারে বইয়ের দোকানকেও। তাই তাঁর পরিবার বিজয়নগরের বাড়িতে ব্যবস্থা করেছে একটি লিভিং সেন্টারের। শর্ত একটাই বই পড়ে রেখে দিতে হবে যথাস্থানে। তবে অঞ্জনবাবুর বইয়ের প্রতি এই পাগলামি নিয়ে যে যাই বলুক। সৈয়দ মুজতবা আলী তো সেই কবেই বলেছেন, “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না।”
    __________________
    তথ্যসূত্র:- অন্তর্জাল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Emanul Haque | ১২ জুন ২০২২ ১২:৩৮508885
  • ভালো খবর
  • Bhudeb Sengupta | ১২ জুন ২০২২ ১৭:০৮508932
  • ভালো লাগল এমন মানুষেরা আজো আছেন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন