ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নৃবিজ্ঞানীর চোখে সভ্যতার সূচনা বিন্দু 

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মে ২০২২ | ১৪৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অনেকদিন আগে কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মীড’কে তার এক ছাত্র জিজ্ঞেস করেছিল -- একটা সংস্কৃতিতে সভ্যতার প্রথম চিহ্ন কি হতে পারে?
    .
    ছাত্র ভেবেছিল মীড পাথর ঘষে তৈরি শিকারের অস্ত্র , মাছ ধরার বড়শি , মাটির হাড়ি পাতিল কিম্বা রিলিজিয়াস আর্টিফ্যাক্ট আবিষ্কারের কথা বলবেন।
    .
    কিন্তু না। তাকে আশ্চর্য করে দিয়ে মীড বলেছিলেন, একটা প্রাচীন সংস্কৃতিতে সভ্যতার প্রথম চিহ্ন হচ্ছে মানুষের উরুর একটা ভাঙা হাড় যেটা আবার জোড়া লেগেছে।
    .
    উরুর হাড় হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে লম্বা ভারবাহি হাড়। জটিল ভাবে ভেঙে না থাকলে এটা ছয় সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
    .
    তবে এই সময়ে তাকে একটা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে যাতে বন্যপ্রাণী হামলা না করতে পারে। তার খাওয়ার ও পানীয় লাগবে।
    .
    মীডের ব্যাখ্যা হচ্ছে পশুদের জগতে কারো যদি এই হাড় ভেঙে যায় , সেই পশু আর বাঁচতে পারেনা। তাকে পালের অন্যান্য পশুরা একা ফেলে চলে যায়। তার যত্ন নেওয়ার মত কেউ থাকেনা।
    .
    সে আর বিপদ দেখলে পালাতে পারেনা , জলাধারে গিয়ে পানি খেতে পারেনা, শিকার করতে পারেনা , ঘাস পাতা খেতে পারে না বরং নিজেই অন্য পশুর শিকার হয়ে যায়। হাড় জোড়া লাগার মত লম্বা সময় একা আহত পশু বাঁচেনা।
    .
    কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয় ভিন্ন। মানুষের একটা জোড়া লাগা হাড় প্রমাণ করে যে কেউ একজন আহতের পাশে ছিল, তার যত্ন নিয়েছে , ব্যান্ডেজ করেছে , বয়ে বেড়িয়েছে , সেরে না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য-পানীয় জুগিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে।
    .
    অসহায় অবস্থায় দল তাকে পরিত্যাগ করেনি।
    কাজেই বিপর্যস্ত সময়ে বিপন্নকে বাঁচানোর চিহ্নই হচ্ছে সভ্যতার সূচনা বিন্দু। এই ধারা থেকেই সূচনা হয়েছে আদিম সভ্যতার।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Emanul Haque | ২৩ মে ২০২২ ২৩:২৮508019
  • অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
  • একক | 1.39.139.63 | ২৪ মে ২০২২ ০০:১৭508022
  • ira byok এর লেখা দ্য বেস্ট কেয়ার পসিবল - এ মারগারেট মীড এর ঘটনাটি বিবৃত আচে। হোয়াতে তার একটা টুকরো ঘোরে। প্যালিয়েটিভ কেয়ারের উপর অন্যতম সেরা বই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন