ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ছেঁড়া ডাইরির পাতা

    Manab Mondal লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ মে ২০২২ | ১৩০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আজ সকাল থেকে শরীরটা ভালো ছিলো না। তাই কিছু লিখবো না বলেই ঠিক করেছিলাম কিন্তু সেটা হলো না। আজ রুমে মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত ঝগড়া ঝাটি হয়ে গেলো। পশ্চিম বঙ্গের এবং  বাংলাদেশের থেকে আসা  দশ জন বাঙালির  বসবাস এখানে। তবে এর মধ্যে দুই তিন জন ভেজাল বাঙালি মানে আধা বাঙালি।  অথচ অদ্ভুত ভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের সরকারের অন্ধভক্ত। হিন্দুবাদীর বলবেন। ওরা মুসলিম বলেই ঐ সরকারকে সমর্থন করে। আমি একা হিন্দু তাই এই সরকারের বিরোধিতা করি।
    " স্বাধীনতা" নেই আজ আমাদের চিন্তাভাবনায় ও।
    ঝগড়া প্রসঙ্গ ছিলো বাংলার শিল্প বন্ধ । কিন্তু আলোচনা শেষে হলো কেন আজান বন্ধ হয়েছে মসজিদে সেটাতে। আলোচনা বন্ধ করতে বাধ্য হলাম কারন স্বাধীন চিন্তা ভাবনা আমরা হারিয়ে ফেলেছি , ধর্মীয় আফিমের নেশায় ‌। আমি তথ্য যুক্তি দিয়ে বোঝানো চেষ্টা করছিলাম কিভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ গুলো বাংলার শিল্পকে ক্ষতি করেছে। যেমন ধরুন কলকাতা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পারাদ্বীপের জন্য। ফারাক্কা বেরজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলো। পাটশিল্প ক্ষতি হওয়ার কারণে ভাঙা স্বাধীনতা। বাংলাদেশ তৈরি হওয়ায় পাটশিল্প  মূল কাঁচামাল শুরু আমরা হারিয়ে ফেলেছি সেটা নয়।  আমাদের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে তৈরি হয়েছিল অনেক গুলো পাট কল সে খবর রেখেছে কেউ?
    সব আলোচনা শেষ হলো , হিন্দু মুসলিম বিবাদে। বিশ্বজিৎ দার চিঠি টা মনে পড়লো আমার।
    ও লিখেছিলো বিশয় ছিলো "ভারতের চৈতন্য কবে হবে ? "
    মৃত্যু মিছিলে -মৃতের সংখ্যা শুধু গুণি ! 
    দেখ রাষ্টটা তো সবচেয়ে বড় খুনি।
     
    সরস্বতী নদী মজে গেল যখন , বন্দর সপ্তগ্রামেরও তখন পতন হল । তাম্রলিপ্তের পর সপ্তগ্রাম , সপ্তগ্রামের পর হুগলি , হুগলির পর কলকাতা । বন্দর কেন্দ্র করে নগর গড়ে ওঠে , মধ্যযুগের বন্দর- নগরের মতো । বন্দরের অবনতির সঙ্গে নগরও ধ্বংস হয়ে যায় । আকবর বাদশাহের রাজত্বকালেই পর্তূগীজরা হুগলিতে বন্দর ও বাণিজ্যকুঠি স্হাপন করল । হুগলির পর্তূগীজ-নায়ক পেড্রো তাভারেশ উদারচিও আকবরের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে ধর্মপ্রচারের অনুমতি নিয়ে এলেন । ব্যান্ডেলের গির্জা স্হাপিত হল ১৫৯৯ সালে । শ্রীচৈতন্য ও নিত্যানন্দের মৃত্যুর পর ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে বৈষ্ণবদের কোনো ধর্মমঠ গড়ে উঠেছিল কিনা বলা যায় না । 
    ইতিহাসের গতি সত্যিই অদ্ভুত ! ইসলামের প্রথম সংস্পর্শে দক্ষিণভারতে শঙ্করাচার্য এসেছিলেন অদ্বৈতবাদের বাণী নিয়ে । ইসলামের একেশ্বরবাদ ও শঙ্করের অদ্বৈতবাদের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিক। মধ্যযুগের কোন ধর্মই শাসক শ্রেণীর প্রত্যক্ষ পোষকতা ভিন্ন জনসমাজে প্রসারলাভ করেনি । ইসলামধর্মেরও তাই খ্রীস্টধর্মেরও তাই । 
    'চৈতন্য-মঙ্গল'এ বলা হয়েছে পুরীর রথযাএা উপলক্ষ্যে চৈতন্যদেব সংকীর্তন করার সময় তাঁর পায়ে পাথরের টুকরোতে হঠাৎ আঘাত লাগে এবং ক্ষতস্হান থেকে ক্রমশ রোগের প্রকোপ ঘটে এবং ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে জুলাই মাসে তিনি অপ্রকট মৃত্যু ঘটে , মৃত্যুর নিদিষ্ট তারিখ লোপাট হয়ে যায় কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ? 
    বিদ্যাসাগরের কোন ' সমাধিমন্দির ' নেই । না থাকাই বোধহয় বাঞ্ছনীয় । ভবিষ্যতের মানবসমাজে কোনো মানুষের কীর্তিকলাপ সমাধিমন্দিরের নিশ্চল স্হাপত্যে মূর্তি হয়ে উঠবে না , 
    নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এর মৃত্যু রহস্য কোন রাজনৈতিক জাদুজালে আবদ্ধ এটা ইতিহাস জানে কি ? 
    তবুও বাঙালীর চৈতন্য হয়না ! ভারতবর্ষের চৈতন্য কবে হবে ? 
    চাইনা সংকীর্ণ রাজনৈতিক কোনো  আচার , মৃত্যু রহস্য কোনো  কাল্পনিক উপন্যাস সংকীর্ণ ধর্মের কোন মৌলবাদ ।
    সমাধিমন্দির , মৃত্যু তারিখের পরিবর্তে আধুনিক মানুষের মননে আপনারা বেঁচে থাকুন ,কর্মে চিন্তায়।
     
    বিশ্বজিৎ দার চিঠি টা বোধহয় সব সাধারণ মানুষের কথা। কিন্তু আমাদের চৈতন্য চিন্তা ভাবনা কোনটাই স্বাধীন নয়। সংবাদ মাধ্যম , সোশ্যাল নেটওয়ার্কস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই আজ বোধহয় আমরা কেউ মানুষ নাই বড়ো বেশি হিন্দু মুসলিম।হয়ে গেছি।
    স্বাধীনতা পর আজ বাংলায় তিনটি সরকারকে পেয়েছিলাম। প্রথম সরকার বাংলার সব সম্পদ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন দেশের উন্নয়নের জন্য, নিজে দেউলিয়া হয়। দ্বিতীয় সরকার চেয়েছিল ভিত্তি স্থাপন করতে। আমুল ভুমি সংস্কার  করে কৃষি স্বনির্ভর বাংলা গঠন তারা করে শিল্পায়নের পথে হাঁটতে গিয়ে, স্ববিরোধিতা মুখে পরে তাদের পরাজয়। সাধারণ মানুষের জয় ছিলো সেইদিন যেদিন সরকার এলো মমতার সরকার। কিন্তু আজ যে সরকার বাংলা চলাছে সে সরকার তো সাধারণ মানুষের সরকার নয়। এ সরকার গড়া হয়েছে হিন্দু উগ্রবাদীদের ভয়ে মুসলিম ভোটের সরকার। হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের ভয়ে আতঙ্কিত বাঙালির সরকার। স্বাধীন চিন্তা ভাবনা নেই এখানে শুধু কিছু ভয় কাজ করছে এখানে। দুই অশুভ শক্তির গোপন আঁতাত ভোটদানের স্বাধীনতাটাও করে নিয়েছে। অন্যের চিন্তা ভাবনা আমাদের এতো প্রভাবিত করেছে স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে ভুলে গেছি আমরা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন