ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সুসি 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ মার্চ ২০২২ | ২৩৫ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ছোট্ট পাহাড়টার নীচে গিয়ে দাঁড়াল। মাথা ঘুরিয়ে চারপাশ দেখতে লাগল নীরব প্রত্যাশায়। কেউ নেই। কাউকে দেখতে পেল না সুসি। ওর নাম তো জানি না। তাই ধরে নেওয়া গেল ওর নাম সুসি। প্রবল প্রকান্ড স্থিতধী দাঁতাল। আপনমনে, বোধহয় নি:সঙ্গতার হতাশায় বাতাসে শুঁড় দোলাতে লাগল একনাগাড়ে। কি জানি কি ভেবে মাথা নাড়ালো বেশ কয়েকবার। তারপর টিলার ওপরে উঠতে লাগল। 

    টিলার ওপরে গিয়ে দাঁড়াল সুসি। একটু দূরে দেখা যাচ্ছে সমুদ্র। ভরা দুপুরবেলার রোদ্দুর ঝিকমিক করছে সাগরের জলে। হাল্কা ঢেউয়ের নাচে নিরন্তর খেলে চলেছে সাগরের রোদ মাখানো জল।

    চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল সুসি জলের দিকে তাকিয়ে। উদার অসীম আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে সমস্ত স্বজন হারাবার ব্যাথায় কাঁদতে লাগল। দলের সকলে গুলি খেয়ে পড়তে লাগল জঙ্গলের মধ্যে ফাঁকা জায়গায়। বড় বড় শরীরগুলো হুড়মুড়িয়ে পড়ে যেতে লাগল  মাটিতে। দলের কেউ বাঁচে নি। শুধু সে পালাতে পেরেছিল মানুষগুলোর চোখ এড়িয়ে। প্রতি বছর এমনি হামলা চলে। মারাত্মক সব অস্ত্র হাতে গাছপালা ঠেলে চুপিসাড়ে ঢুকে আসে ওরা। মাঝে মাঝেই আসে। একটু দূর থেকে গুলি চালাতে থাকে। ফুর্তিবাজ শান্ত নীরিহ ছেলেমেয়ে বুড়ো বাচ্চা হাতীরা সবাই হঠাৎ পড়ে যায়, আর ওঠে না। জঙ্গলের বাতাসে ভাসে গুলির ধোঁয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ। 

    কোনরকমে গা ঢাকা দিয়ে সুসি চলে গেল অনেক দূরে। আরো অনেকখানি জঙ্গল পেরিয়ে, স্তেপভূমি পেরিয়ে দুটো ছোট নদী পেরিয়ে একটা ছোট পাহাড়ের ধারে পৌঁছে তবে হাঁফ ছাড়ল।

    চারিদিকে কেউ কোথাও নেই। সূর্য ডুবছে তখন। পাশেই আবার শুরু হয়েছে জঙ্গলের সীমানা। সুসি এতক্ষণ প্রাণ বাঁচাবার তাগিদে একটানা ছুটে গেছে। এবার সন্ধের ঝোঁকে ছোট্ট পাহাড়টার পাশে দাঁড়িয়ে একে একে সবার কথা মনে পড়তে লাগল। ভীষণ কান্না পেল ওর। 

    মধ্য আফ্রিকার বন জঙ্গলে ভরা দেশ। প্রচুর গাছপালা। খাবারের অভাব নেই ওদের। তাই পিলপিল করে বাড়ছে ওদের দলবল, গোষ্ঠী। ছেলেপুলের সংখ্যা কম নয়। দূরে পাহাড়ের সারি। নীচে খেলছে সমুদ্রের জল। কারখানা বাড়াবার জন্য জমি দরকার। তাই সরকারের জঙ্গল সাফ করার দরকার। শুধু জঙ্গল সাফ নয়। মাঝেমাঝেই হাতির পালও সাফ করতে হয় কিছু কিছু। ওরা নাকি বিপজ্জনক হারে বেড়ে চলেছে। তাই মাঝে মাঝে সাফ করে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। বেশি বাড়তে দিলে তো লোকালয়ে ঢুকে বেসামাল করে দেবে একেবারে। মানুষ ভাবে পৃথিবীটা শুধু তাদের। বাকিরা সব বাড়তি। হয় তাদের বশ্য, নয় বধ্য। সুখ দু:খ কান্না হাসি শুধু তাদের জন্য। বাকিদের শুধু দেহ আছে, মন নেই, অনুভূতি নেই, ব্যথা নেই, বেদনা নেই।

    সুসি খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবল, তারপর আস্তে আস্তে জঙ্গলের ভেতরে যেতে লাগল। জঙ্গলের ভেতর ঘোর অন্ধকার। সুসি গন্ধ চিনে চিনে বনের ভেতর তাহার পাহাড়ের মতো দেহ নিয়ে ক্লান্ত দেহ নিয়ে টলমল করতে করতে হাঁটতে লাগল। তারপর একটা বার্চ গাছের তলায় এসে শরীর ফেলে দিল। তলিয়ে গেল অঘোর ঘুমে।

    সুসির যখন ঘুম ভাঙল, ঘন ডালপালার ফাঁক দিয়ে গ’লে সকালের রোদ এসে আঁকিবুকি কাটছে ঘাসের ওপর। ঘুমের ঘোরে সুসির একটু বিভ্রম হল, সে কোথায় এবং কেন। মুহুর্তেই মনে পড়ে গেল সবকিছু। সে ধড়মড় করে উঠে পড়ল। ভীষণ ক্ষিদে পাচ্ছে ওর। মাথা ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখল গাছের কচি ডাল পাওয়া যায় কিনা। চালতার মতো দেখতে  অনেক ফল ঝুলছে পাশাপাশি তিনটে গাছ থেকে। সুসি ফলসহ একটা গাছের ডাল শুঁড় দিয়ে ভেঙে নিয়ে মুখে চালান করল। আ : .... পরম তৃপ্তিতে চোখ বুজে আসল। কি অপূর্ব স্বাদ ! সুসির অভুক্ত পেটে গাছের কচি, রসালো, সুস্বাদু ডাল ঢুকতে লাগল লাগাতার। 

    সুসি ভাবল, তার মতো আর কি কেউ আছে এখানে, জানা দরকার। সে তার অতিসূক্ষ্ম অনুভূতিশীলতার ধারক দেড় লক্ষ পেশীবিশিষ্ট শুঁড় তুলে বাতাসে ছড়িয়ে দিল ইনফ্রাসোনিক শব্দতরঙ্গ। এই অতি সামান্য কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ আমরা মানুষেরা শুনতে পাই না। কিন্তু হাতিরা শুনতে পায়। 

    মানুষের অশ্রুত শব্দতরঙ্গ  বনের মধ্যে ছড়িয়ে গেল বহুদূর। সুসি অপেক্ষা করে রইল পাল্টা তরঙ্গের প্রত্যাশায়। কিন্তু না, কোন শব্দ ফিরে এল না।

    এ জঙ্গলে সে বোধহয় একা। না একা ঠিক না। কারন উঁচু উঁচু গাছের ডালে ডালে অনেক বাঁদর হনুমান  লম্ফঝম্ফ করছে। কেউ কেউ কৌতূহলী ভঙ্গীতে তাকে দেখছে। পরখ করতে চাইছে নতুন অতিথির চরিত্র এবং উদ্দেশ্য।

    সুসি ধীরে ধীরে বনের ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল একটু ফাঁকা জায়গা পাবার আশায়। এ জায়গাটা ভীষণ ঘন জঙ্গলে ভরা। 

    সুসির ইচ্ছে পূর্ণ হল। বনের মধ্যে প্রায় একটা ছোট মাঠের মতো জায়গা, ঘাসে ঢাকা। চারদিক ঘিরে ঠাসা গাছপালা। ওখানে পৌঁছে সুসি বেশ কিছু পায়ের ছাপ দেখতে পেল। মানে, এখানে ওদের আনাগোনা আছে। সুসির খুব চেনা জানা পায়ের ছাপ। সুসি বুঝতে পারল আশেপাশেই বাঘ আছে। 

    সুসির হঠাৎই মলত্যাগের বেগ এল। সে ওখানে দাঁড়িয়ে মল ও মূত্র ত্যাগ করল। ওখানে এলোমেলো চক্কর মারতে মারতে তার শুঁড় গিয়ে ঠেকল কিছু টুকরোয়। ওখানটায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু হাড়ের টুকরো। সুসি তার সহজাত ঘ্রাণশক্তি থেকে বুঝতে পারল এগুলো হাতির শরীরের হাড়গোড়। ঘুরে ঘুরে হাড়ের টুকরোগুলো এক জায়গায় জড়ো করল। তারপর পরম মমতায় সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল। সুসির মনে হল এখানেও কোন এক সময়ে ওই একইরকম খুনখারাপি হয়েছিল। এখানেও তা’লে ছিল, তাদের মতো অনেকে ছিল। ভয়ঙ্কর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদের শেষ করা হয়েছে। বুড়ো জোয়ান ছেলেমেয়ে সবাই মরেছে।

    আগের জঙ্গলে সে ছিল গোষ্ঠীজননী। অনেক বাচ্চার জন্ম সে দেখেছে। তার দলের স্বজন সঙ্গিনীদের নিয়ে ঘিরে রেখেছে মা আর বাচ্চাকে নিরাপত্তার বলয়ে। বাচ্চার দিদিমা, মাসীমা, বড় দিদিরা সকলে ঘিরে রাখত যতদিন না বাচ্চাটা পাকাপোক্ত হয়। 

    হায় রে ..... তারা সব কোথায় চলে গেল .....। সে শুধু পড়ে রইল একা।

    রাতটা জেগে জেগেই কাটল সুসির। বাঁদরগুলো কিচ কিচ করেছে সারা রাত ধরে। যেন একটা অসন্তোষের প্রকাশ। তার এখানে উপস্থিতিই কি ওদের আপত্তির কারণ। 

    সে যাই হোক রাত পোহালো একসময়ে। সুসি ভাবল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ছোট পাহাড়টার দিকে যাই। বেরোবার সময়ে দেখল দুটো চিতাবাঘ বসে আছে একটা গাছের তলায় তিনটে বাচ্চা নিয়ে। চোখেমুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। সুসিকে দেখেও একইভাবে নির্লিপ্ত মুখে বসে রইল। কোন হেলদোল হল না। জমাট পারিবারিক সুখের তাপ পোয়াচ্ছে। দেখে সুসির খুব ভাল লাগল। এই দুদিন আগে তারও তো এমন সুখের সংসার ছিল.... । সে আকাশের দিকে শুঁড় তুলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

    সুসি হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ের নীচে পৌঁছল। ঝড়ো হাওয়া বইছে এখানে সবসময়ে।পাহাড়ের ওপাশে সমুদ্র। ওখান থেকে বয়ে আসছে সাগরের হাওয়া। সুসি দেখল পাহাড়ের কোল ঘেঁসে একটা মোটাসোটা ভাল্লুক পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে। সুসি জানে ব্যাটারা যখন তখন ঘুমোয়। চারিদিক শুনশান, নিস্তব্ধ। হু হু করে বইছে হাওয়া। বনের মধ্যে দিয়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে সর সর করে। সুসি আস্তে আস্তে পাহাড়ের ওপর উঠতে লাগল। ভাবতে ভাবতে ওঠে— আহা সেও যদি এরকম শান্তির ঘুম ঘুমোতে পারত ......।

    পাহাড়ের ওপরে গিয়ে দাঁড়াল সুসি। রোদের তাপ বাড়ছে ক্রমশ:। নীচে একটু দূরে ছোট ছোট ঢেউ খেলছে সমুদ্রে । ওখানে সুসি তার শুঁড় তুলে মনের দু:খের সাগর উপুড় করে দিয়ে গোপন ইনফ্রাসোনিক শব্দতরঙ্গ ছড়িয়ে দিল বাতাসে।মানুষের শুনতে না পাওয়া  সামান্য কম্পাঙ্কের শব্দের সে দীর্ঘ স্রোত গেল ওই একটু দূরে সাগরের জলের দিকে।

    তীর থেকে অনেক দূরে সাগরের নীল জলে ভেসে উঠল এক অতিকায় প্রাণী। জলের জগতে সবচেয়ে বড় শরীর তার। বোধহয় স্থল জগতেও আর কেউ নেই তার মতো। একটা নীল তিমি। খালি সুসিরাই পাল্লা দিতে পারে ওর সঙ্গে। বহুদূর থেকে আসা মেঘের গুরু গুরু গর্জনের মতো ভেসে আসতে লাগল নীল তিমির উত্তর। বাতাস কেটে কেটে সুসির দিকে সাঁতরে আসতে লাগল সে শব্দতরঙ্গ। বেদনাপীড়িত সুসির মনে তা নরম বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরে পড়তে লাগল।

    বাঙ্গোয়া তার আটজনের স্কোয়াড নিয়ে জঙ্গলে ঢুকেছিল। মিশন ছিল মপিং এবং কালিং। হাতির কালিং। খুঁজে খুঁজে বার কর এবং মারো। বেআইনীভাবে বনে ঢোকেনি। রীতিমতো সরকারি আদেশনামা নিয়ে কাজে নেমেছে। গায়ে জংলা পোশাক গাছপালার রঙে শরীর মিশিয়ে রাখার জন্য, পায়ে গামবুট জোঁক আর বিষাক্ত পিঁপড়ের থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনে। প্রত্যেকের মাথায় জলপাই রঙা টুপি। হাতে ধরা দুরপাল্লায় গুলি ছোঁড়া ভয়ঙ্কর বন্দুক।খবর আছে এখানে হাতি বাড়ছে বিপজ্জনক হারে। কিন্তু খবরটা কি ভুল? সরকারি তথ্যসূত্র কি ভুলের ধাঁধায় পড়ল? 

    সরকারি খবর কিন্তু ভুল নয়।

    আসলে, হাতির দলগুলো দ্রুত সরে গেছে দক্ষিণ দিকে অনেক দূরে জলাশয়ের দিকে। হাতিরা আগেই খবর পেয়ে গেছে মানুষের বন্দুক দ্বারা আক্রান্ত মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া এক হাতির দলপতির পাঠানো ইনফ্রাসোনিক বার্তা থেকে। 

    হাত দিয়ে ঘন জঙ্গল সরিয়ে সরিয়ে অতি সন্তর্পনে ভেতরে ঢুকছিল আটজন মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভয় জঙ্গলের চিতাবাঘকে। কোথায় কোন গাছের ডালে ওৎ পেতে বসে আছে কে জানে। অসম্ভব ক্ষিপ্র ওদের লাফ এবং টুঁটি চেপে ধরার পারদর্শিতা। অবশ্য এত ঘন বনে ওরা থাকে না। থাকে সাধারণত: স্তেপ অঞ্চলে। 

    তবে জঙ্গলের ভেতর আরও কিছুটা ঢোকার পর ওরা ওই ফাঁকা জায়গাটা পেল, যেখানে সুসি কালকে রাত কাটিয়েছে। ঢুকে সকলেরই চোখে পড়ল সুসির পরিত্যাগ করা বিষ্ঠা। বাঙ্গোয়া চেঁচিয়ে উঠল, ‘সাবধান...... সবাই সাবধান। আশেপাশেই আছে ওরা। গাছে ওঠ..... গাছে উঠে পড় সবাই। বন্দুক তৈরি রাখ.... ’

    সকলেই ঝপাঝপ গাছে উঠতে লাগল কাঁধে বন্দুকগুলো ঝুলিয়ে।

    কিন্তু এই সময়ে একটা বিপজ্জনক ব্যাপার ঘটল। বাঙ্গোয়া যে ডালটার ওপরে ভর দিয়ে গাছটার আরও ওপর দিকে ওঠবার চেষ্টা করছিল সেটা কোন কারণে ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। বাঙ্গোয়াকে নিয়ে মড়মড় করে ভেঙে পড়ল নীচে। খুব একটা ওপরে ছিল না ডালটা। কিন্তু বাঙ্গোয়া নীচে পড়ল এক অদ্ভুত বেকায়দায়। তীব্র যন্ত্রনায় কুঁচকে গেল তার মুখ। সে পরিষ্কার বুঝতে পারল পা ভেঙেছে।

    বাঙ্গোয়ার লোকেরা ভেবেছিল অন্ধকার নেমে আসার আগেই হস্তীনিধনের কাজ সেরে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন তারা বিরাট বিপাকে পড়ে গেল। তাদের জিপ পড়ে আছে বহুদূরে। এতদূরে বাঙ্গোয়ার মতো একটা বিশাল শরীর তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এদিকে আঁধার ঘনিয়ে আসছে। অজস্র বাঁদর কিচিরমিচির শুরু করেছে। নরম মাটিতে বেশ কয়েকটা পাগমার্কও দেখতে পেয়েছে বাঙ্গোয়ার লোকেরা। তাদের হাবভাবে বোঝা যাচ্ছে তারা বনের ভেতর রাত কাটাতে রাজি নয়। বাঙ্গোয়ার এ অবস্থা দেখে তারা সব গাছ থেকে নেমে এসেছে। যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে বাঙ্গোয়া তার সঙ্গীদের বলল, ‘তোমরা এ জঙ্গল থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাও। কাল ভোরে জঙ্গলের বাইরে মাপাং পাহাড়ের নীচে জীপ নিয়ে আসবে। আমাকে একটু সাহায্য করলে এটুকু আমি যেতে পারব। আমার জন্য চিন্তা করো না। আমার পায়ে যত ব্যথাই হোক, যতক্ষণ আমার কাছে বন্দুক আর গুলি আছে ততক্ষণ আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। জঙ্গলে রাত কাটানো আমার অভ্যেস আছে। কাল সকালে এসে এখান থেকে আমাকে রেসকিউ করবে। যাও..... যাও..... আর হ্যাঁ, হেডকোয়ার্টারে কিছু খবর দেবার দরকার নেই ....’

    বাঙ্গোয়ার দলবল তার কাছে কিছু শুকনো খাবার আর জলের বোতল, গুলি বন্দুক রেখে দিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গেল। বলতে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল তারা।

    পাহাড়ের পেছন দিকে সূর্য ডুবে গেল টুপ করে। সাগরের জলে নীল তিমি গা ঝাড়া দিয়ে ভসস্ করে ভেসে উঠল একবার। কিছুক্ষণ ভেসে রইল কি যেন শোনার অপেক্ষায়। তারপর আবার তলিয়ে গেল জলের গভীরে। গাছের ডালে বাঁদর লেঙ্গুরের দল একটু ক্যাঁচর ম্যাচর করে এখন চুপ করে গেছে। ঘুমোবার সময় হল বোধ হয়।

    নিকষ কালো রাত। না, একটু ভুল হল। ছুঁচ ফোটানো যায় এত জমাট কালো নয়। কারণ, পরিষ্কার আকাশে পুরো থালার মতো গোল হয়ে চাঁদ উঠেছে। দুধের সরের মতো কোমল আলো বিছিয়ে পড়ছে জঙ্গলের ওপর। 

    বাঙ্গোয়া বোতলের জল মুখে দিয়ে একটা পেন কিলার গিলল। সে মাটিতে শুয়ে পড়ে আছে। বাঙ্গোয়া অনেক চেষ্টা করেও শরীর  তুলতে পারছে না। 
      
    এখন মাঝরাত। চাঁদের আলো গাছপালার ফাঁক দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে এসে পড়ছে। হঠাৎ গাছের ডালে ডালে অজস্র পাখির কিচির মিচির শুরু হল। ওরা বোধহয় গন্ধ পেল বিপজ্জনক কিছুর। পেনকিলারের প্রভাবে বাঙ্গোয়ার একটু ঝিমুনি এসেছিল। চটে গেল সে তন্দ্রা। সামনে তাকাতে ভয়ে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসল। প্রায় কুড়ি ফুট দূরে এক ভয়ঙ্কর পাইথন। সবুজে সাদাতে মেশানো বিশাল শরীর নিয়ে পড়ে  আছে তার দিকে মুখ করে। খুব সম্ভবত ক্ষুধার্ত। সামনে বাঙ্গোয়া — জলজ্যান্ত খাবার। বাঙ্গোয়ার উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। সে রাইফেলে হাত দিল। কিন্তু গুলি চালাল না, কারণ গুলিটা যদি জায়গায় না লাগে, পাইথনটা গা ঝাড়া দিয়ে এক ঝটকায় তার শরীরে উঠে আসতে পারে। শরীর যদি পেঁচিয়ে ধরতে পারে, একেবারে মৃত্যুর দরজায় পৌঁছে যাওয়ার সমান হবে। তাই সে গুলি চালাল না।কিন্তু রাইফেলটা হাতে রাখতে হবে। হাত বাড়াল বন্দুকের জন্য। কিন্তু কিছু ঠেকল না হাতে। সে মরীয়া হয়ে রাইফেল হাতড়াতে লাগল। পাওয়া গেল না। আশ্চর্যের ব্যাপার। এখানেই তো ছিল ! সে ভীষণ বিভ্রান্ত হয়ে গেল। সে ভাবল, তাহলে কি তার ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে কেউ তার রাইফেলটা সরিয়ে নিল !

    বাঙ্গোয়ার চোখ গেল তার বাঁ পাশে একটা গাছের ডালে। দেখল সেখানে ঝুলছে তার রাইফেল। কে যেন নিখুঁতভাবে বেল্টটা লটকে রেখেছে বেশ উঁচুতে একটা ভাঙা ডালে। বাঙ্গোয়া অসহায়ভাবে হাঁ করে তাকিয়ে রইল ওদিকে। সে তার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারল এটা বাঁদরের কীর্তি। 

    চাঁদের আলোয় পাইথনের হিমেল ক্রূর দুটো চোখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে বাঙ্গোয়া। ক্ষুধার্ত ময়াল শিকার ধরার উদ্দেশ্যে নি:সাড়ে এগোতে আরম্ভ করল।

    বাঙ্গোয়া পেছন দিকে গড়িয়ে যাবার চেষ্টা করল। কিন্তু ভাঙা পায়ের যন্ত্রনায় ককিয়ে উঠল। দানব সাপটা তার থেকে আর ফুট দশেক দূরে। পুরোপুরি হার মানার আগে কিভাবে শেষ চেষ্টা করা যায় মাথায় আসছে না কিছু।

    সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিতভাবে চমকপ্রদ ঘটনাটা ঘটল তখনই। বাঙ্গোয়া দেখল একটা বিপুল দাঁতালের পায়ের নীচে ছটফট করছে দানবীয় পাইথন। শরীর আছড়াতে আছড়াতে একসময়ে নিথর হয়ে গেল ওটা।

    নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বাঙ্গোয়া ভাবল, তার মরণ কি তবে লেখা আছে হাতির পায়ের তলায় ! 

    চাঁদের আলোয় ভরা জনমানবহীন বনভূমিতে একাকী অসহায়ভাবে পড়ে আছে বাঙ্গোয়া একটা বিশাল দাঁতালের সামনে। সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় দোলাচ্ছে। বোধহয় পরখ করতে চাইছে বাঙ্গোয়া শত্রু না মিত্র। প্রায় পাঁচ মিনিট পর সুসি কি জানি কি ভেবে পেছন ফিরে দাঁড়াল, আহত হয়ে অসহায় পড়ে থাকা একজন মানুষের সুরক্ষার ঢাল হয়ে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রইল। 

    সুসি শুঁড় নাড়ানো বন্ধ করে আধো আলো আধো অন্ধকারে এক মস্ত পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল উল্টোদিকে মুখ করে। 

    মাঝরাতে হঠাৎ কোথা থেকে এক পাল হায়না এসে উলুক সুলুক করতে লাগল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ক্ষুধার্ত ..... খাবারের খোঁজে বেরিয়েছে। বিশাল চেহারার সুসি এক নিমেষে শরীর ঘুরিয়ে কয়েক পা ছুটে গেল ওদের দিকে। ব্যস্ সঙ্গে সঙ্গে হায়নাগুলো পিঠটান দিল। বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে এদিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। 

    আর একটু পরে ওখানে হানা দিল একসঙ্গে তিনটে সিংহী। গাছের ডালে বাঁদর বেবুনেরা ক্যাঁচর ম্যাচর শুরু করল। একটা সিংহি গুঁড়ি মেরে এগোতে লাগল শিকার ধরার কায়দায়। বাকি দুটো দূর থেকে লক্ষ্য করছে বাঙ্গোয়াকে। কি গোত্রের শিকার আন্দাজ পাবার চেষ্টা করছে।

    এবারে কিন্তু লড়াইটা অত সোজা হল না। তিনটে সিংহী বনাম একটা হাতি। সুসি সিংহদের গতি প্রকৃতি জানে। সে বাঙ্গোয়ার চারদিকে গোল হয়ে ঘুরতে লাগল জোরে জোরে শূঁড় দোলাতে দোলাতে যাতে কোনদিক দিয়ে ওরা জায়গা না পায়। বাঙ্গোয়া এতক্ষণে বুঝে গেছে হাতিটা তার ঘাতক নয়, পরিত্রাতা। 

    যে সিংহীটা গুঁড়ি মেরে এগোচ্ছিল  সেটা বোধহয় পথের কাঁটা সরাবার উদ্দশ্যে বাঙ্গোয়াকে বাদ দিয়ে সুসিকে তাক করে ঝাঁপ মারল। সুসি ছিল গোষ্ঠীজননী। এসব জঙ্গুলে মোকাবিলায় সে বহুকাল ধরেই অভ্যস্ত।সে তার গোষ্ঠীকে রক্ষা করে এসেছে নিপুন দক্ষতায়। সুসি জানতই হামলাটা কোনদিক থেকে আসবে। সে খুব সতর্ক ছিল সিংহীটার আক্রমণ যেন সে সামনের দিকে পায়। 

    ঠিক তাই পেল। সুসি ইচ্ছে করেই পিছন দিক ফিরে ছিল। অপেক্ষা করছিল আক্রমণের। সিংহীটা যেই লাফ মারল সুসি বিদ্যুৎগতিতে ওর দিকে ঘুরে গেল। সিংহের লাফের দৈর্ঘ্য মাপা থাকে।আন্দাজে ভুল হয়ে গেল। সুসি মাপ করে ছ সাত পা পেছিয়ে গেল সহজাত জৈবিক দক্ষতায় এবং সিংহীর শরীরটা পড়ল ঠিক সুসির শুঁড়ের মুখে। সিংহী টাল সামলে উঠে পায়ে ভর দিয়ে ওঠার আগেই সুসি সিংহীটাকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে ওপর দিকে তুলল। তারপর তিনবার ওপরে নীচে দুলিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল অন্তত কুড়ি ফুট দূরে। সিংহীটা সাঙ্ঘাতিকভাবে আহত হল তাতে সন্দেহ নেই। মাটিতে পাক খেয়ে পড়ে ঘাঁ..উর ঘাঁক করে একটা যন্ত্রণাকাতর শব্দ তুলল, তারপর কোনমতে শরীরটা তুলে ভীত এবং আহত একটা কুকুরের ভঙ্গীমায় লেজ পেছনের দুপায়ের মাঝে গুঁজে টলমল করতে করতে পালাল। ব্যাপার দেখে শুনে বাকি দুটো সিংহীও আর উদ্যোগ নেবার ভরসা পেল না। কারণ হাতির মোকাবিলা করা কতটা বিপজ্জনক তারা তা ভালোরকম জানে। তারাও ধীর পায়ে দূরে চলে যেতে লাগল। 

    কৃতজ্ঞতায় বাঙ্গোয়ার চোখে জল এসে গেল। ভাবল, মানুষের মধ্যে এই অনুভূতিশীলতা থাকলে তারা সঙ্গীরা তাকে এরকম আহত অবস্থায় বনের মধ্যে একা রেখে চলে যেত না। সে যতই তাদের চলে যেতে বলুক, তাদের মধ্যে সহমর্মিতা থাকলে তারাও এখানে থেকে যেত। 

    সুসি বাঙ্গোয়ার দিকে এগিয়ে আসছে সামনের দিক দিয়ে। বাঙ্গোয়ার একটুও ভয় করছে না এখন সুসিকে। সে বুঝতে পারছে মানুষের মধ্যে তার এমন বন্ধু একটাও নেই। 

    সুসি বাঙ্গোয়ার একদম কাছে এসে দাঁড়াল পাহাড়ের মতো দেহ নিয়ে। এক হাতের ওপর ভর দিয়ে জমিতে কাত হয়ে পড়ে থাকা বাঙ্গোয়ার গায়ে আলতোভাবে শুঁড়টা রাখল। কেঁপে উঠল বাঙ্গোয়ার স্নায়ুকোষ। অপরাধবোধের গ্লানিতে ডুবে যেতে লাগল বাঙ্গোয়ার মস্তিষ্ক। চোখ থেকে অবারিত ধারায় জল বেরোতে থাকল।

    এর একটু পরেই জঙ্গলের ওপরে  পুব আকাশে সুয্যি উঁকি দিল। লালচে রঙ ধরল আকাশে।

    সুসি বোধহয় বনের বাইরে পাহাড়ের দিকে যেতে চাইছিল। কিন্তু বাঙ্গোয়াকে একা ছেড়ে যেতে পারছিল না। সে একটু দূরে সরে গিয়ে কাঁঠালের মতো দেখতে একটা ফলের গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতে লাগল গোগ্রাসে। 

    সে নিশ্চিতভাবে খুব ক্ষুধার্ত। একনাগাড়ে খেয়ে যেতে লাগল। 

    সুসির খাওয়া শেষ হল মিনিট পনের পরে। সে ওখান থেকে সরে এসে বাঙ্গোয়ার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল দূরে দাঁড়িয়ে, যেন তার অনুমতির অপেক্ষা করছে। বাঙ্গোয়া সায় না দিলে ও এখান থেকে যেতে পারছে না। বাঙ্গোয়ার পায়ের ব্যথা একটু কম মনে হচ্ছে। সেটা পেন কিলারের প্রভাবেও হতে পারে। আকাশ থেকে আলো ক্রমশ: ছড়িয়ে পড়ছে বনের মাথায়। সুসি হঠাৎ কি ভেবে কি জানি বাঁদিকে খানিকটা হেঁটে একটা লতাপাতার ঝোপের কাছে গিয়ে শুঁড় বাড়িয়ে টান দিল। ছিঁড়ে নিল একগোছা লতাপাতা। 

    হেলেদুলে বাঙ্গোয়ার কাছে এসে দাঁড়াল। লতাপাতাগুলো ফেলে দিল বাঙ্গোয়ার গায়ের ওপর। তারপর দূরে সরে গেল আবার। বাঙ্গোয়া একটা পাতা আঙুল দিয়ে চটকে নাকের কাছে এনে গন্ধ শুঁকে বুঝতে পারল এ গন্ধ তার চেনা। তাদের গ্রামেও এই লতাপাতা অনেক জন্মায়। চোটের জায়গায় বেটে লাগালে ব্যথা অনেক কমে যায়। জঙ্গলের বাসিন্দারাও তাহলে এগুলো চেনে। 

    ঠিক এই সময়ে দূর থেকে জিপের আওয়াজ পাওয়া গেল। নির্জন বিস্তীর্ণ চরাচরে হাওয়া বহুদূর টেনে নিয়ে যায় শব্দ। সে শব্দ এসে লাগল বাঙ্গোয়ার কানে।সে বুঝতে পারল তার রেসকিউ স্কোয়াড এসে গেছে দিনের আলো ফুটতে না ফুটতে।

    গাছের ডালে ডালে বাঁদর এবং পাখিরা কিচিরমিচির করছে। সুসি দূরে দাঁড়িয়ে বাঙ্গোয়ার দিকে নজর রাখছে ধৈর্য ধরে।

    প্রায় বারো জনের একটা দল হাতে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল। ওরা ঢুকল যেখানে সুসি দাঁড়িয়ে আছে তার উল্টোদিক দিয়ে।সুসিকে দেখতে পেল ওরা। ভাবল অতি বিপজ্জনক জানোয়ার । জঙ্গলের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে অন্তত পাঁচজন সুসির দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে। বাঙ্গোয়ার থেকে ওরা প্রায় পঁচাত্তর মিটার দূরে আছে। বাঙ্গোয়া ওদের স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছে। তীব্র আশংকায় কেঁপে উঠে ব্যথা সহ্য করেও অনেক কষ্টে দাঁড়িয়ে উঠল। ওদের যে করেই হোক থামাতেই হবে। তার মনে হল, এটা সুসির নয়, তার নিজের জীবন মরণ প্রশ্ন। একটা গুলি ছুটে গেলেও সর্বনাশ। ডিভাইন লর্ড তাকে মাফ করবে না।

    সে দু হাত ওপরে নাড়তে নাড়াতে  গলার যত জোর আছে তা দিয়ে চেঁচাতে লাগল— ‘ স্টপ ... স্টপ .. হে ...স্টপ ... ডোন্ট ফায়ার .... ডোন্ট.... স্টপ .... ’। সুসির দিকে হাত দেখিয়ে বোঝাতে লাগল যে সে তার কোন ক্ষতি করে নি। হাত নাড়তে নাড়তে আর চেঁচাতে চেঁচাতে সে ধপ করে মাটিতে বসে পড়ল। 

    না কোন গুলি ছুটে আসেনি সুসির দিকে। বাঙ্গোয়ার ইঙ্গিত রেসকিউ দলের  লোকেরা বুঝতে পেরেছিল। ওরা যখন বাঙ্গোয়াকে ধরে স্ট্রেচারে তুলছে সুসি নিশ্চিন্তমনে আস্তে আস্তে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পাহাড়ের দিকে হাঁটতে লাগল। বাঙ্গোয়ার লোকেদের হাতে তাকে তুলে দিতে পেরে যেন তার কর্ত্তব্য শেষ হল।

    সুসি ছোট্ট পাহাড়টার ওপরে গিয়ে দাঁড়াল। আকাশ এতক্ষণে আলোয় ভরে গেছে। সুসি দাঁড়িয়ে রইল সমুদ্রের জলের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎই সাগরের জলে তোলপাড় তুলে ভেসে উঠল বিশাল বিপুল নীল তিমি। মানুষের অশ্রুতযোগ্য অতি অল্প কম্পাঙ্কের দীর্ঘ শব্দ তরঙ্গ তুলল  বেদনাতুর, নি:সঙ্গ স্বজনহীন সুসিকে লক্ষ্য করে।
     
    বাঙ্গোয়াদের জিপ যখন সমুদ্রের ধার বরাবর রাস্তা দিয়ে ছুটছে, বাঙ্গোয়া স্ট্রেচারে শুয়ে শুয়ে শুনতে পেল পাশের পাহাড়ের ওপর থেকে মেঘের হাল্কা ডাকের মতো গুরুগুরু আওয়াজ উঠছে।

    বাঙ্গোয়া তার পনেরো বছরের জঙ্গুলে অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারল সুসি তার জলের বন্ধুর পাঠানো বন্ধুত্বের তরঙ্গ গ্রহণ করে প্রত্যুত্তর দিচ্ছে।

    জিপ গাড়ি ফাঁকা রাস্তায় মসৃন গতিতে চলে হাইওয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বাঙ্গোয়ার দুচোখ ছাপিয়ে জল উঠে আসছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন