ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • রুহানি -- সুরম্য সফর 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৫৭১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • রাজকার্য যে মূল্যহীন ব্যাপার-স্যাপার, এমন কথা লিখেছিলেন দারাশিকো, জাহানারার জ্যেষ্ঠভ্রাতা, আর এক সুফি শিষ্য। সংক্ষেপে--- '' সলতনত্ সহল অসত্ খুদ রা আশনাই ফকর কুন / কতরহ্ ই না দরিয়া তওয়ানদ শুদ চুরা গওহর শওয়াদ" --- 
                   
                   রাজত্ব তো সহজ বস্তু 
                   বরং ফকিরি শেখো ভাই 
                   জলবিন্দু সাগর জানুক 
                   মুকুতা হয়ে লাভটি নাই !

    আর এঁদেরই পূর্বপুরুষ, বাবর, তুর্কি ভাষায় লেখা তাঁরই এক কবিতায় বলেছেন---

                    অলীক ক্ষমতার ঘোর, মিথ্যা সবকিছু
                    অনিত্য সম্মান তরে কোরোনা মাথানীচু

    এইকারণেই বোধহয় মোগল আমলে সাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত, আধ্যাত্মবাদ এসব চরম উত্কর্ষে পৌঁছেছিল। জীবনপথপার্শ্বের এক একটি সরাই, ক্ষনিকের মঞ্জিল, গন্তব্যই তো এই শৈল্পিক মাধ্যমগুলি।

          বৈদিক যুগে চলে যাওয়া যাক। আর্যদের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র ছিল যজ্ঞভূমি। শুনে আশ্চর্য লাগবে, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি, লোকগাথা, নাটক এসব ওই যজ্ঞস্থলে পাঠ করে, গল্প বলে,অভিনয় করেও শেখানো হত। গাথা কিম্বা প্রেমের কাহিনিকাব্যও( যেমন ঊর্বশীর গল্প) আবৃত্তি আর গানের মাধ্যমে পরিবেশিত হত ছাত্রদের কাছে। সে কারণেই সে সময়ে সাংস্কৃতিক শিল্পীদের মূল্য ছিল অপরিসীম। না, ভুল বললাম বোধহয়। শুরুতে শিল্পীদের এমন কদর ছিল না। অন্ততঃ ; যতদিন পর্যন্ত অনার্যদের সঙ্গে ভালোমতো মিলমিশ হয়নি আর্যদের। সাংস্কৃতিক অনেক আঙ্গিক তো অনার্যদের থেকেই পাওয়া। এই মর্মে একটি সুন্দর গল্প আছে যে। যদি অনুমতি দেন, ইজাজত দেন তো বলি। 

         তখন ব্রাহ্মণ পুরুষের সঙ্গে অন্য ধর্মের নারীদের বিবাহ সামাজিকভাবে গৃহীত হয়েছে। এক ঋষির দুই পত্নী। একজন ব্রাহ্মণী, অন্যজন শূদ্রকুলজাতা। এক যজ্ঞ উপলক্ষ্যে তাঁরা দুজনেই তাঁদের সন্তানদের স্বামীর কাছে পাঠালেন শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে। ঋষি তাঁর ব্রাহ্মণী পত্নীর সন্তানকে কোলে বসিয়ে শিক্ষা দিলেও শূদ্রা স্ত্রীর সন্তানকে উপেক্ষা করলেন। সেই বালকটি তাঁর মায়ের কাছে এসে কেঁদে আকুল। তখন স্বয়ং পৃথিবী তাঁর শিক্ষার ভার নিলেন। মহীর অজানা কী-ই বা আছে। এককালের বালক ক্রমে সর্বশাস্ত্রে সুপণ্ডিত হয়ে তার মায়ের কাছে ফিরে এলেন এবং নিলেন এক মধুর প্রতিশোধ। ছেলেবেলার পিতাকৃত সেই অপমান তিনি ভুলতে পারেননি। তাই যখন ঋগ্বেদের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগ্রন্থ লিখলেন, সেটি লিখলেন 'ইতরার পুত্র' বা ঐতরেয় নামে। সে এমন বই, যে যেটি না পড়লে ঋগ্বেদে প্রবেশ করাই অসম্ভব। শোনা গেল শিল্পীদের সম্পর্কে এক অপূর্ব মন্তব্য --- শিল্পের দ্বারাই শিল্পীর উপাসনা, কিন্তু তাতে স্বর্গ বা মুক্তি মেলে না। শিল্পের মাধ্যমে শিল্পী আপন আত্মাকে সংস্কৃত করে তোলে। এবং ঐতরেয়ই বললেন, 'চলে চলে যে শ্রান্ত, তার শ্রীর অন্ত নেই.... যে চলতে চায় না, সে শ্রেষ্ঠ হলেও ক্রমে অধঃপতিত হয়। অতএব এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো। নানা শ্রান্তায় শ্রীরস্তি ...চরৈবেতি, চরৈবেতি।'

    এবং এটিই এই গ্রন্থের মূল কথা। এ উপমহাদেশের, ওই মহাদেশের বিস্তীর্ণ চরাচরে নানা সময়ে, নানা কালেবাঙ্মনসগোচর অভিজ্ঞতা, কতরকম চরিত্র, কে বাস্তবিক, কেই-বা কল্পনাজাত, কোথায় হকিকত বা বাস্তবতার শেষ , কোথায়ই বা আজগুবি ভাবনার শুরু, কেই বা বলতে পারে !

    লেখক সুপর্ণা দেব, তার জাদু কলমে ছবি এঁকেছেন একের পর এক। পাঠক ক্রমান্বয়ে প্রবেশ করবেন সেই অনাস্বাদিত জগতে, আবিষ্ট হবেন, মুগ্ধ হবেন, হয়ত ভুলে যাবেন পৃথিবীর লোভ-জটিল-বন্ধ আর নিত্য নিষ্ঠুর দ্বন্দ্বকে।

    -- রুহানির ভূমিকার অংশ বিশেষ। বইটির রচয়িতা সুপর্ণা দেব। সংগ্রহ অবশ্যই করবেন, আর দত্তক নিতে চাইলে, যোগাযোগ কাম্য। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৬ মার্চ ২০২২ ১৯:১২504749
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন