ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • স্প্রিন্টার - ৫

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ জানুয়ারি ২০২২ | ১২৯ বার পঠিত
  • নিরুপমা বাইরে বেরিয়ে এসে গভীর স্নেহে সিক্ত কটি শীর্ণ আঙুল দিয়ে শুভর হাতটা ধরে স্পন্দনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হাতে যদি পাঁচ মিনিট সময় থাকে একটু ভেতরে এস বাবা।’
    স্পন্দন লজ্জায় মরে গিয়ে বলল, ‘এ কি বলছেন .... নিশ্চয়ই .... নিশ্চয়ই ....সময়টা কোন ব্যাপার না।’

    নিরুপমা শুভকে ট্র্যাক শ্যুট পরা দেখে বললেন, ‘তুমি বুঝি খেল?’
    — ‘হ্যাঁ ওই ... রেসে দৌড়াই। স্যার আমাকে শেখান।’

    নিরুপমা বোধহয় ঠিক বুঝতে পারলেন না। তিনি স্মিত মুখে তাকিয়ে শুভর মুখের দিকে রইলেন। ইতিমধ্যে মস্তিষ্কের সময়মাফিক অনুবর্তন প্রক্রিয়ায় মোহিনীমোহন ক্রমশ আবার স্বাভাবিক প্রকৃতিতে ফিরে এলেন আপাতত। তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে বললেন, ‘ও বুঝেছি ....অ্যাথলিট। আমার ছেলে বাবলুও ভাল ফুটবল খেলত। কলেজ টুর্নামেন্ট খেলেছে, অফিস টুর্নামেন্টও খেলত। তারপরে তো .... ’

    বলে স্বাভাবিক ভঙ্গীতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। শুভ ব্যাপারটা ঠিক ধরতে না পারলেও কোন কৌতূহল প্রকাশ করল না। স্পন্দন মৃদুস্বরে বলল, ‘ভেরি স্যাড ....’।
    মিনিট দশেক বসার পর স্পন্দন বলল, ‘আমরা তালে আজ উঠি মাসীমা .... মেশোমশাই .... আবার পরে একসময়ে আসব আমরা .... সাবধানে থাকবেন।’
    নিরুপমা কাকুতিভরা গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ আবার এস বাবা .... বাবুসোনা এস কিন্তু .... আমাদের তো কেউ নেই .... উনি কখন কিরকম থাকেন .... বড্ড দুশ্চিন্তায় থাকি ....’, বলে নিরুপমাদেবী আঁচলে চোখ চাপা দিলেন।
    এইসময়ে শুভ একটা অদ্ভুত কথা বলে উঠল — ‘না না কাঁদবেন না দিদা। আপনাদের মাঠে নিয়ে যাব .... জামশেদপুরে । ওখানে দৌড়ব আপনাদের জন্য। আপনারা ভাল হয়ে যাবেন দেখবেন .....’।
    স্পন্দন শুভর কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়ে গেল। কিন্তু কোন মন্তব্য করল না। মোহিনীমোহন এবং নিরুপমা তাকিয়ে রইলেন শুভর মুখের দিকে। কথাগুলো ঠিক বোধগম্য হল না।

    রাত্রে খাবার সময়ে স্পন্দন শুভকে বলল, ‘তুই কি ওদের জামশেদপুরে নিয়ে যেতে চাইছিস?’
    — ‘হ্যাঁগো .... ওদের খুব কষ্ট .... মাঠে গেলে, রেস ওদের খুব ভাল লাগবে? কেন স্যার, অসুবিধে আছে?’, শুভ বলে সহজ সরল ভঙ্গীতে।
    পায়েল সব শুনেছে। সে বলল, ‘শুভ যখন বলছে, নিশ্চয়ই কিছু ভেবে বলছে। সত্যিই তো ওদের খুব কষ্ট। আমরা যে সব জেনেও মুখ ফিরিয়ে থাকি সেটা বিরাট অন্যায়। শুভ ওদের ফার্স্ট টাইম দেখল তবু যে ব্যাপারটা ওকে স্ট্রাইক করেছে এটাই ইমপর্ট্যান্ট ব্যাপার।’
    — ‘ওক্কে ওক্কে ম্যাডাম .... দেখা যাক কি হয় .... ’, স্পন্দন বরাবরের মতো পায়েলের মতামতের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

    পরের দিন খবর পাওয়া গেল জামশেদপুরের প্রতিযোগিতা অনিবার্য কারণবশত: দু সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। স্পন্দন বলল, ‘ইভেন্ট তো পিছিয়ে গেল। চল তোকে এখন মধ্যমগ্রামে রেখে আসি। ওখানে তোর বাবা একা আছে।’
    শুভ কিন্তু বাবার কাছে যাবার কথায় আনন্দে নেচে উঠল না। মুখ গোঁজ করে চুপ করে রইল।
    — ‘কিরে কি হল, যাবি তো?’
    — ‘ হ্যাঁ ... বাবার কাছে তো খুব যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এখানে ওই দাদু দিদা .... আমি তো রোজ ওদের কাছে যাই .... আমি চলে গেলে ওদের মন খারাপ হবে না ?’
    পায়েল শুভর কথা কেড়ে নিয়ে বলে উঠল, ‘ও ঠিকই তো বলেছে শুভকে পেয়ে ওরা বেশ খানিকটা মেন্টাল সাপোর্ট পেয়েছে মনে হচ্ছে। এক্ষুণি শুভর চলে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সুরিন্দরজির সঙ্গে আর কনট্যাক্ট হয়েছে?’
    — ‘ হ্যাঁ কাল কথা হয়েছে ।আরও কটা দিন সময় লাগবে ফয়সালা হতে। ডিসুজার এগেনস্টে ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশান শুরু হবে শীগ্গির।’
    — ‘ আচ্ছা .... হ্যাঁ শোন বলছিলাম যে পরশুদিন সল্ট লেক স্টেডিয়ামে একটা অ্যাথলেটিক মিট আছে ।রাইজিং সান ক্লাব জয়েন্টলি রোটারি ক্লাবের সঙ্গে অরগানাইজ করছে । আজকের পেপারেই দেখলাম ..... এই যে এই দেখ ...’।
    স্পন্দন দেখল খেলার পাতার ডানদিকে বক্সের মধ্যে বিজ্ঞাপন হয়েছে। ইচ্ছুক প্রতিযোগীদের নাম আহ্বান করা হচ্ছে। এন্ট্রি ফি দুশো টাকা। ফোন নম্বর দেওয়া আছে নাম রেজিস্টার করার জন্য, টাকা পাঠাবার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরও দেওয়া আছে। রেজিস্ট্রেশনের আজকেই শেষ দিন। নিশ্চয়ই অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞাপনটা বেরোচ্ছে। তাদের কারো চোখে পড়েনি।
    স্পন্দন বলল , ‘যে অলিম্পিক স্কোয়াডে ঢোকার ইনকামবেন্ট তার পক্ষে কি এসব কম্পিটিশান সুটেবল কিংবা হেল্পফুল হবে ! ’
    পায়েল কথাটা মানল না। বলল, ‘জিতলে কনফিডেন্স বুস্টিং তো হবে। তাছাড়া টাইমিংটা দেখে নেওয়া যাবে।’
    স্পন্দন অগত্যা অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলল, ‘ওকে, তবে তাই হোক.... তবে শুধু ফোর হানড্রেড মিটারের জন্য।’
    — ‘হ্যাঁ হ্যাঁ তাই হোক না’, পায়েল তাতেই রাজি।
    স্পন্দন বলল, ‘কিরে শুভ নামবি তো .... অসুবিধে নেই তো ? ফোন করছি তালে ...’
    শুভ নির্দ্বিধায় ডানদিকে মাথা হেলিয়ে সায় দেয়। তারপর মনে মনে কি চিন্তা করতে থাকে।

    বিমলানন্দ মোহিনীবাবুর নিজের ভাইপো। কোন্নগরে থাকে। এতকাল কোন দেখাসাক্ষাৎ নেই। কোন খোঁজখবর নেওয়ার পাট নেই। প্রায় দশ বারো বছর বাদে বাড়ি খুঁজে খুঁজে হঠাৎ এসে হাজির। সামনের মাসে তার নাকি মেয়ের বিয়ে। নেমন্তন্ন করতে এসেছে। পৌলমি তার একমাত্র সন্তান, তার জীবনে বলতে গেলে একমাত্র বড় কাজ।তাই আত্মীয়স্বজন যে যেখানে আছে ঝেঁটিয়ে নেমন্তন্ন করছে।

    সকাল প্রায় এগারোটা বাজে। সেই সময় শুভ মোহিনীবাবুর ঘরে বসে ছিল। মোহিনীমোহন এখন একদম স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন। বিমলানন্দ ভালভাবেই জানে এই জবুথবু বুড়োবুড়ি তার মেয়ের বিয়েতে যেতে পারবে না এবং সেই ভরসাতেই বোধহয় চালাকি করে বারংবার বিয়েতে যাবার জন্য এবং পৌলমিকে আশীর্বাদ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগল। ঘরে চারটে রসগোল্লা ছিল ভাগ্যিস। না না না করে শেষ পর্যন্ত চারটেই খেয়ে নিল।

    আধগ্লাস জল খেয়ে রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে শুভর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একে তো ঠি ক চিনলাম না জেঠু ..... ’
    মোহিনীবাবু হেসে বললেন, ‘ ও: হো ... ও পাশের বাড়িতে থাকে। ও একজন স্পোর্টসম্যান। খুব ভাল ছেলে।’
    নিরুপমা সস্নেহে শুভর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
    বিমলানন্দ বলল, ‘স্পোর্টসম্যান ? মানে, কি খেলে ....ফুটবল না ক্রিকেট ?’
    মোহিনীবাবু বললেন , ‘ না .... ও একজন অ্যাথলিট .... মানে স্প্রিনটার .... বুঝলে কিনা .... দারুন ও .... ’
    বিমলানন্দ মুখে ভাঁজ ফেলে বলল, ‘ অ ... মানে ওই দৌড়য় টউড়োয় আর কি ..... বুঝতে পেরেছি .... আমার বোনের ছেলেটাও খুব দৌড়য়। স্কুলের স্পোর্টসে ফার্স্ট হয়। ফালতু ওসব করে লাভ কি .... কাজকম্ম কিস্যু না থাকলে ওইসব করে বেড়ায় লোকে ....’, বলে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত একটা উদ্ধৃতি দিল — ‘ .... ওই যাকে বলে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে বেড়ান .... হ্যা: হ্যা: হ্যা: .... ’। বিমলানন্দ রুমালটা ভাঁজ করে পকেটে ঢোকাল।
    শুভ চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল। নিরুপমা এবং মোহিনী এই ধরণের ভোঁতা কথাবার্তার মোকাবিলায় কি বলা যায় ভেবে পাচ্ছিলেন না।
    শুভ খুব শান্তভাবে বলল, ‘কাকু সামনের রবিবার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে আসুন না দুপুরবেলায়।’
    — ‘ কেন সেখানে কি ?’
    — ‘ একটা বড় অ্যাথলেটিক্স মিট আছে।’
    — ‘ আরে দূর দূর ... আমার বলে নিশ্বাস ফেলার সময় নেই এখন...আমি যাব ওই দৌড়দৌড়ি দেখতে .... হ্যা: ... ’
    শুভ শান্ত সরল গলায় হাসিমুখে বলল ‘আমার সঙ্গে আবার একবার দেখা হবে আপনার কাকু ...’
    বিমলানন্দ কি বুঝল কে জানে। বলল, ‘ আরে দূর দূর ..... যত্তসব.... নেই কাজ তো ....খেটে খেতে হয় .... আচ্ছা জেঠু জ্যাঠাইমা আজ তালে উঠি। খুব আশা করে থাকব আপনাদের জন্য’।

    মোহিনীবাবু এবং নিরুপমাদেবী কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলেন।

    মুষলধারায় চরাচর ভাসানো বর্ষণের বার্তা জানিয়ে শুভর দুটো অলৌকিক পায়ে বিধ্বংসী দামিনী প্রবাহিত হতে লাগল।

    .......... ......... ..........

    লাভলি রায়ের চকলেট রঙের গাড়িটা ভবানীপুর থানার সামনে এসে দাঁড়াল। জানলার মেঘলা কাঁচের ওপর হামলে পড়ল বেশ কিছু লোক। সেলিব্রিটির গন্ধ বড় মদীর, মন মাতানো। আর সেলিব্রিটি ফিল্ম বা টি ভি সিরিয়াল নক্ষত্র হলে তো সোনায় সোহাগা।

    লাভলি থানায় এসেছে একটা এফ আই আর দায়ের করতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। লাভলির একটা পাঁচ বছরের ছেলে আছে।

    এখনও পর্যন্ত কাগজে কলমে তার স্বামী অভ্র গোস্বামী নিউ টাউনে একটা ফ্ল্যাটে থাকে নীপবীথিকে নিয়ে।এখন পর্যন্ত লাভলির সঙ্গে তার বিয়ের বয়স ছ বছর। অভ্র একজন ফিল্ম প্রোডিউসার এবং ডিরেক্টর। ডিরেক্টর হিসেবে সে যথেষ্ট প্রতিভাবান বলেই ধারণা ইন্ডাস্ট্রির লোকের।

    নায়িকা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে লাভলির বাজার দর খুব উঁচু না হলেও মোটামুটি ভালই। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এখনও পায়ের নীচে নিরাপদ জমির খোঁজে।

    অভ্রর স্বভাব তার একেবারে জানা ছিল না তা নয়, কিন্তু আশাবাদী ছিল যে বিয়ের পর তার বহুগামী স্বভাবের বদল হবে। প্রেমের ফাঁদ পাতা আছে যে ভূবনে ..... সে জড়িয়ে গেল আষ্টেপৃষ্ঠে।
    বছরখানেক নিশ্চিন্ত সুখের দিন ছিল। তারপর কিছুদিনের মধ্যে সে সুখের প্রহর ধীরে ধীরে সরে যেতে লাগল। শুধু স্বভাবগত স্খলন নয়, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং গার্হস্থ্য হিংসার বিষময় আবহ তৈরি হল । কিন্তু তারপরেও লাভলি মানিয়ে নেবার চেষ্টা করেছিল এবং প্রাণপণে আশা করত অভ্র আবার আগের মতো তার কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে আশাব্যঞ্জক কিছু ঘটল না।

    নেশার ঘোরে যেদিন চার বছরের ছেলের গায়ে হাত তুলল, জিটোর তাকে জড়িয়ে ধরে ভয়ার্ত কান্না শুনে একেবারে ভেঙে পড়ল লাভলি। তার মানসিক প্রতিরোধ বলে কিছু আর অবশিষ্ট রইল না। সে পরদিন সকালেই জিটোকে সঙ্গে নিয়ে ভবানীপুরে তার ইন্ডাস্ট্রির এক বান্ধবীর বাড়িতে এসে উঠল। ওই বিল্ডিংয়েই একটা ফ্ল্যাট খালি ছিল। ছেলেকে নিয়ে লাভলি ওই ফ্ল্যাটে থাকছে এখন।বান্ধবী বিচিত্রা সেনগুপ্ত আপাতত: লাভলির ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে দিয়েছে। কিছু জামাকাপড়, দুটো এটিএম কার্ড এবং একটা চেকবুক ছাড়া লাভলি কিছুই নিয়ে আসতে পারেনি। হ্যাঁ, বুদ্ধি করে ব্যাঙ্কের লকারের চাবিটাও নিয়ে এসেছে। এখন তার বাবা মাও এই ফ্ল্যাটে এসে মেয়ের কাছে আছে। তারা নিতান্তই মধ্যবিত্ত ঘরাণার মানুষ। ভিন্ন জগতের এসব জটিল বিপত্তির মোকাবিলা করা তাদের ধ্যান ধারণার বাইরে।তবে ইন্ডাস্ট্রিতে লাভলির অন্তরঙ্গ শুভানুধ্যায়ীও তো কিছু আছে। তারা প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    এই পর্যন্ত ঠিক ছিল । কিন্তু ক্রমশ অভ্রর নানা কুৎসিত চারিত্রিক অভিমুখ প্রকাশিত হতে লাগল। সে হুমকি দিয়ে মোবাইলে মেসেজ করতে লাগল। ব্যাঙ্কের একটা অ্যাকাউন্ট তো জয়েন্ট আছেই । আর একটা শুধু লাভলির নামে। অভ্র দুটো এটিএম কার্ড এবং লকারের চাবিটা চাইতে লাগল । লাভলি কোন জবাব না দিয়ে চুপচাপ রইল। দুদিন পরে আবার অশ্লীল মেসেজসহ তাকে গনধর্ষণ এবং জিটোকে কিডন্যাপ করে পাচার করে দেবার হুমকি আসতে লাগল। লাভলির মনে হল, এত বেপরোয়া হবার দুটো কারণ হতে পারে। এক, খুব সম্ভবত অভ্রর বুদ্ধিবিভ্রম হয়েছে , আর নয়তো তার হাত এত লম্বা যে সে মনে করে পুলিশ বা প্রশাসন তার টিকিটি ও ছুঁতে পারবে না। তার তো অজানা থাকার কথা নয় যে,সব ফোন-কল এবং মেসেজ রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।
    ওসি কৌস্তভ লাহিড়ী নির্ভীক এবং বিচক্ষণ মানুষ। তিনি বললেন, আই পি সি ‘ফোর নাইন্টি এইটটাই ইজ দা রাইটলি ভায়াবল্ ইমপ্লিকেশান।তাছাড়া থ্রেটনিং এবং ইন্টিমিডেশানের চার্জও অ্যাপ্লিকেবল। কিন্তু সবই তো জানেন, ওর হাত অনেক লম্বা।কাজেই আইনি রাস্তায় এগোলেও এর বাইরেও অল্টারনেটিভ কিছু কানেকশান সেটিংয়ের দরকার পড়বে ।নইলে ইনডাস্ট্রিতে আপনার কাজ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে ....... গট ইট ? ‘
    — ‘ মানে ? ‘
    — ‘ অ্যাজ এ পুলিশ পার্সোনেল এটা আমার বলা উচিৎ নয় তবু বলছি অভ্র গোস্বামীকে কাউন্টার করতে গেলে অ্যাপার্ট ফ্রম লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট একজন ওজনদার লোকের সাপোর্ট দরকার হবে। আমি কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ড থেকে এগুলো বলছি। আমার নিজের বোনের সঙ্গেও এগুলো হয়েছিল। সে এখন একটা বাচ্চা ছেলে নিয়ে আমার বাড়িতে থেকে কেস চালাচ্ছে। আমি পুলিশের লোক ..... তাও কিছু করতে পারছি না। ইনফ্লুয়েন্স ইজ দা মোস্ট ভাইটাল পার্ট অফ দা প্রসিডিওর। সো সিক ফর অ্যান ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ওয়ান এনিওয়ে .....’
    লাভলি তার গ্ল্যামারের জগৎ থেকে এই মুহুর্তে সম্পূর্ণ বিচ্যূত এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে এক বিভ্রান্ত, অবসন্ন অসহায় এক সাধারণ প্রতিপত্তিহীন মহিলায় পরিণত হয়েছে। সে নির্বাকভাবে কৌস্তভ লাহিড়ির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। বাইরে গোটা চারটে টিভি চ্যানেলের ক্রুরা উসখুস করছে থানার বাইরে, লাভলি কতক্ষণে ওসির ঘর থেকে বাইরে বেরোবে আর তারা বাইটের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।
    এরকম গ্ল্যামার মোড়া কেচ্ছাকাহিনী চ্যানেলগুলোর সন্ধের স্লটে যে উপাদেয় খাদ্য হয়ে উঠবে তাতে সন্দেহ নেই।
    লাভলিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে কৌস্তভবাবু বললেন, ‘ আপনার ইনডাস্ট্রির কাউকে যদি তেমনভাবে পাশে না পান আমি আপনাকে একটা
    ক্লু দিতে পারি । সামনের রবিবার দুপুরবেলায় সল্ট লেক যুবভারতী স্টেডিয়ামে আসুন। ওখানে অল বেঙ্গল লেভেলে একটা অ্যাথলেটিক্স কম্পিটিশান আছে।আমার সেদিন ডিউটি পড়েছে ওখানে, ওখানকার লোকাল থানা ওখানকার পলিটিক্যাল একটা মিটিং নিয়ে বিজি থাকবে বলে .... ’
    লাভলির কাছে ব্যাপারটা ঠিক খোলসা হল না।
    সে বলল, ‘ কিন্তু.... ’
    — ‘ হ্যাঁ যেটা বলতে যাচ্ছিলাম।ওই প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি হিসেবে ইনভাইটেড হয়েছেন সত্যেন্দ্রনাথ মুখার্জি । তিনিই সেদিন পুরষ্কার বিতরণ করবেন।’
    —- ‘ সত্যেন্দ্রনাথ মানে ..... সেই .... ’
    — ‘ ইয়েস, ক্যালকাটা পুলিশের এক্স আই জি। হি ইজ এ গুড সামারিটান কাইন্ড অফ পার্সন, এ রেয়ার স্পেসিমেন ইন দিজ ডেজ। আই ওয় হিম এ গ্রেট ডিল ফর হিস সাপোর্ট ইন মাই ক্রাইসিস । আমি সেদিন আপনার সঙ্গে ইনট্রোডিউস করে দেব। উনি একজন খেলা পাগল লোক। একসময়ে নিজে খুব ভাল স্প্রিনটার ছিলেন। ন্যাশানাল লেভেলে পার্টিসিপেট করেছিলেন।’
    — ‘ কিন্তু উনি আমাকে হেল্প করবেন কেন ? ’
    — ‘ ওই যে বললাম না, হি ইজ এ গুড সামারিটান ..... তাছাড়া আমি তো ওখানে থাকব।’

    লাভলি বিচিত্রার ফ্ল্যাটে ফিরে দেখল জিটো বসে বসে কাঁদছে আর বিচিত্রা তাকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে। দুটো লোক তাকে স্কুলের গেটের কাছে মোবাইলে কি সব ভয়ের ছবি দেখিয়েছে। জিটোকে তারা বলেছে, ‘ তোর মা যদি আমাদের কথা না শোনে তোরও এরকম হাল করব ..... দেখছিস তো ছবিতে ছেলেটার কি হাল হয়েছে। হাতের আঙুলগুলো সব কেটে দেওয়া হয়েছে ....’। তারপর জিটো স্কুলের গাড়িতে উঠে যায়। ভয়ে আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে জিটো কোনরকমে বিচিত্রার ফ্ল্যাটে পৌঁছে বিচিত্রার নিবিড় ভরসা এবং উষ্ণ বাৎসল্যস্নেহের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে সব প্রকাশ করে।
    লাভলি ভাবতে থাকে কাকে সে ভালবেসে বিয়ে করেছিল ! লোক চিনতে এত ভুলও হয় ! নিজের কচি ছেলেকে এভাবে যন্ত্রণা দিতে পারে কেউ ! তার চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল।
    লাভলি একটু সামলে নিয়ে ওসি কৌস্তভ লাহিড়িকে ফোনে সব জানাল। কৌস্তভবাবু বললেন , ‘ হ্যাঁ .... বুঝতে পেরেছি .... দিজ আর প্রেডিক্টেবল .... ওরা এসব করতে থাকবে .... আপনি আমাদের থানায় সেল্ফ সিকিউরিটির জন্য প্রোটেকশন চেয়ে একটা অ্যাপ্লিকেশান করতে পারেন। আর রবিবারে যুবভারতীতে অবশ্যই আসবেন কিন্তু ..... ওকে, টেক কেয়ার .... ডোন্ট ওয়ারি .... ’।

    সত্যেন্দ্রনাথ খুবই নিয়মানুবর্তী এবং যুক্তিবাদী মানুষ। পুলিশবিভাগে অত উঁচু পদে বহাল ছিলেন কিন্তু জীবনে কারো বশংবদ হয়ে থাকেননি কখনও। প্রমোশন এবং অন্যান্য লাভ লোকশানের পরোয়া করেননি কখনও। এতে তার শত্রু তৈরি হয়েছে বেশ কিছু কিন্তু সাধারণ মানবমনের রীতি প্রকৃতি অনুযায়ী তার বিপুল সংখ্যক অনুরাগীও গড়ে উঠেছে । তাদের অনেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে উঁচু জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। সত্যেন্দ্রনাথের ওপর তাদের কোন সরকারি দায়বদ্ধতা নেই। যা আছে তা হল নির্ভেজাল শ্রদ্ধা এবং সম্মানের অকাট্য বাঁধন।
    সত্যেনবাবুর কাছে কেউ তার অ্যাথলেটিক্স জীবনের কাহিনী শুনতে চাইলে তার চোখমুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তখন আর তিনি কোন জাঁদরেল পুলিশকর্ত্তা থাকেন না। সরল অমল এক শিশুর মতো হয়ে যান । মহা উৎসাহে বর্ণনা করতে থাকেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ইভেন্টে তার কীর্তিকলাপের কথা। সমস্ত সার্টফিকেট ঘরের দেয়ালে বাঁধানো আছে, সমস্ত কাপ এবং ট্রফি ঘরে সাজানো আছে। তার কোন এক মিটের স্প্রিন্টিং-এর গতিছন্দময় একটা বড় আকারের ফটোগ্রাফ বাইরের ঘরে তার বসার চেয়ারের পিছনে টানানো আছে।ছুটন্ত হরিণের মতো অপূর্ব বিভঙ্গময় তীব্র গতিশীল এক স্প্রিন্টারের একটা মুহুর্ত ছবিতে আটকে আছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। ছবিটা কারো চোখে পড়লে তার মুখ দিয়ে অজান্তেই বেরিয়ে যায়, ‘ বা : .....’।

    সত্যেন্দ্রনাথ এখনও স্বপ্নের মধ্যে একশো মিটারের স্প্রিন্ট টানেন। সেই স্বপ্নের আবেশে বিহ্বল হয়ে থাকেন ঘুম ভাঙার পরও অনেকক্ষণ। এখনও ঘুরে বেড়ান মাঠে ময়দানে তার স্বপ্নের কোন স্প্রিনটারের দেখা পাওয়ার আশায়। কিন্তু তা মরীচিকা হয়েই থাকল। আজ অন্তত পঁচিশ বছর ধরে তেমন একজন স্প্রিন্টারের দেখা পেলেন না যার দৌড় দেখলে রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠবে। তার স্বপ্নপূরণ বোধহয় আর হল না।

    শনিবার সন্ধে সাড়ে ছটার সময় ওসি কৌস্তভ লাহিড়ির ফোন আসল ।
    —- ‘ হ্যালো..... আরে, কি খবর বল .... তোমার বোনের কেসটা কিছু এগিয়েছে ? অলোকানন্দকে সব বলা আছে। কোন চিন্তা নেই । অলোক খুব কম্পিটেন্ট লইয়ার।স্টেটাসটা ইনফর্ম করো আমাকে। আগে লিটিগেশানটা শেষ হোক তারপর আমি ওই বিচদের দফারফা করব । তুমি শুধু আমাকে ..... ‘
    — ‘ হ্যাঁ স্যার .... হিয়ারিং-এর ডেটটা পড়লে নিশ্চয়ই জানাব। স্যার.... বলছিলাম যে কাল আপনি যুবভারতীতে যাচ্ছেন তো ? মানে, কিছু যদি মনে না করেন..... আর একটা কেস ছিল..... মাঠে আসতে বলেছি ....’।

    মাঠ, যুবভারতী ইত্যাদি প্রসঙ্গ ওঠায় সত্যেনবাবু সহসা বদলে গেলেন। তিনি অল্পবয়স্ক কোন দুর্নিবার অবান্তর স্বপ্ন বুকে বেঁধে বেড়ান বালকের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন — ‘ হ্যাঁ হ্যাঁ শিওর শিওর ..... অবশ্যই যেতে হবে। আমাকে চিফ গেস্ট করেছে ওরা। ’

    তারপর তার গলার স্বরে কেমন যেন উদাসী সুর লাগল— ‘ না গিয়ে কি আমার কোন উপায় আছে ! আমি তো এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার স্বপ্নের স্প্রিন্টারটাকে ..... কোনদিন কি পাব ?’
    ওপার থেকে কৌস্তভ শুনতে পেল সত্যেন স্যারের একটা লম্বা গভীর শ্বাস পড়ল।

    নতুন একটা সিরিয়ালের অফার এল ফোনে। নামী প্রোডাকশন হাউস।রবিবারেই শুটিং শুরু। লোকেশান শঙ্করপুর। অনেক ভাবনাচিন্তা করে লাভলি অফারটা বাতিল করে দিল। সেদিন যে যুবভারতীতে অন্য আর এক শ্যুটিং আছে। তার ভাগ্যের চাকা কোনদিকে ঘুরতে চলেছে কিছুই আন্দাজ পাচ্ছে না সে।

    ............ ............. ..........

    শনিবার ঘড়ি ধরে বিকেল পাঁচটা থেকে নিরুপমার বুকে কাঁপন ধরিয়ে মোহিনীবাবুর আবার মনোবিকলন — যাকে বলে অবসেসিভ পার্সোনাল ডিসঅর্ডার .... দেখা দিল। নিরুপমা দেবী কটা দিন একটু নিশ্চিন্তে ছিলেন। সে সুখ কপালে সইল না। মোহিনীবাবু জানলার ধারে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে নাগাড়ে বলে যেতে লাগলেন , ‘পাঁচটা তো বেজে গেল ..... কই বাবলু তো এখনও এল না.....’। চোখের দৃষ্টি উদভ্রান্ত।

    নিরুপমা দেবী উৎকন্ঠায় দিশাহারা হয়ে স্পন্দনদের ফ্ল্যাটে ফোন করলেন। পায়েল ফোন ধরল। তিন মিনিটের মধ্যে শুভ নীচে নেমে এল।

    মোহিনীমোহনের কাছে গিয়ে তার গালে হাত দিয়ে বলল, ‘কাল তোমাকে বাবলু কাকুর কাছে নিয়ে যাব দাদু ....’। মোহিনীবাবু কি বুঝলেন কে জানে। তিনি ভ্যাবলা চোখে তাকিয়ে রইলেন শুভর মুখের দিকে । তারপর মাথা নামিয়ে চোখ বুজে বসে রইলেন শুভর বুকের কাছে।

    ( পরের অংশ পরের পর্বে )
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন