ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অনন্যা নারী

    Sayanti Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৮৪ বার পঠিত
  • পর্ব  ১ 

    কলেজ থেকে বেড়নোর ঠিক মুখেই বৃষ্টি নামল। খুব জোরে। সারাদিন যা গুমোট ধরেছিল। বৃষ্টি নামারই কথা। জয়িতা ছাতা আনতে ভুলে গেছে। বাস স্টপেজ পর্যন্তও যাওয়া যাবে না এই বৃষ্টিতে। জয়িতা করিডরে বৃষ্টির ছাঁট বাঁচিয়ে দাঁড়াল। আরও অনেকেই এদিক ওদিক জটলা করে দাঁড়িয়ে । কেউই বেরতে পারেনি। আসলে এস আর এর ক্লাসটা না করেও যেতে ইচ্ছে করে না ,আবার এস আর বেছে বেছে এই সময়টায নেন ক্লাসের। আগে থাকলেও উনি চেঞ্জ করে নেন। জয়িতাও এটা মিস করে না । আসলে এস আর এর কি একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে । ছেলে মেয়েরা সব মোহিত হয়ে থাকে। বলতে গেলে তাদের  ডিপআর্টমেনটে এরকম স্যার কম আছে।
    জয়িতা ইংরাজি সাহিত্যের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। জয়িতার বাবা মা দুজনেই ডাক্তার। বাড়ি ভাবানিপুর।বাবা মা র ব্যস্ত জীবন ,জয়িতা কোনোদিন সেভাবে তাদের সঙ্গ পায়নি। তাই ঠিক করেই নিয়েছিল নিজে কোনোদিন অন্তত ডাক্তারি পড়বেনা। মা একটু আপত্তি করেছিল, বাবা বলেছিল “ যেটা তোমার ভালো লাগবে তুমি সেটা পড়বে। তবে নিজের পায়ে যেন দাড়াতে পারো সেটা  খেয়াল রাখবে। " জয়িতার একটু ভয় হয়েছিল প্রথমে। তার সব বন্ধুরা যেখানে টুএলভের পর হয় মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং এ ঢুকেছিল জয়িতা তখন আর্টস নিয়ে ভর্তি হল। তারপর গ্র্যাজুয়েশন করে , এম এ তে ভর্তি হল এখানে।
    বৃষ্টিটা আরও জোরে এলো।বৃষ্টির একটা আলাদ সুর আছে। একটুক্ষণ স্থির হয়ে খেয়াল করলেই বোঝা যায়। কলেজের বাঁধানো উঠোনটাতে বৃষ্টির ফোঁটা গুলো যেনো দ্রুত কোন তাল সৃষ্টি করছে। জয়িতা একমনে সেটা দেখছিল।বৃষ্টি জয়িতার ভালই লাগে। পিছন থেকে ডাক শুনল," এই জয়ি এদিকে আয়না, কি একা একা হাঁদার মতো দাঁড়িয়ে আছিস”। তনিমা,জয়িতার ক্লাসের। জয়িতা একা একা একটু বৃষ্টি টা দেখছিল। নিঃশ্বাস ফেলে জয়িতা জটলাটার দিকে এগিয়ে গেলো।
    -কি বল? জয়িতা জটলার একপাশে দাঁড়াল।
    -এখানে একটা প্ল্যান হচ্ছে। তুই কি তাতে পার্ট নিবি? এবারের বক্তা জয়।
    -কি প্ল্যান?
    -ময়দান যাবি?
    -এখন?এই বৃষ্টিতে?
    - না যখন ভাদ্র মাসের রোদ উঠবে তখন যাব, আজ প্ল্যান করছি।জয় ভেংচি কাটে।জয়িতা মুখ কাচু মুচু করে।
     -এই রকম বৃষ্টিতে জল থই থই ময়দান, দারুন তাই না?তনিমার চোখে মুখে উৎসাহ।
    -কাউকে জোর করা ঠিক না।  হয়ত বাড়িতে ওনার কোন কাজ আছে।
    গলার স্বর অনুসরণ করে জয়িতা সেদিকে তাকাল।দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছেলেটা। রোগাটে গড়ন।রঙটা ফরসা। চোখে মোটা চশমা। পাওয়ার আছে মনে হয়। জয়িতাদের  ডিপার্টমেন্টের নয়,তবে জয়ের সাথে মাঝে মাঝে ক্যান্টিনে দেখেছে মনে হল। জয়িতার অবাক  ভাবটা জয় কাটিয়ে দিল।
    -ও অর্ণব। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট। আমার রুমমেট। আমাদের মতো ফ্যা ফ্যা নয়। ব্রাইট ফিউচার।তারপর  একটু থেমে আবার বলল,আর এই বনলতা সেন ,থুরি জয়িতা দাস, কবিদের ইন্সপিরেশন।
    জয়িতা রাগে কটমট করে জয়ের দিকে তাকায়। তারপর ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলে
    -না মানে । বাড়িতে কিছু তো বলে আসিনি।
    -আমরাই বা কে বাড়ির অনুমতি নিয়ে এসেছি। জয় ফুট কাটে। যাবি তো চল। একটা ট্যাক্সি করব । ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ফিরে আসব।
    -চল না জয়ি। রোজই তো সেই বাড়ি যাই। তনিমার কাতর স্বর।
    ট্যাক্সিটা যখন ময়দানের ধারে দাঁড়াল,সন্ধ্যে প্রায় হয় হয়। বৃষ্টি একটু ধরেছে। জয়িতারা নেমে পড়ল। ময়দানের গাছগুলো বৃষ্টির জল পেয়ে আরও সজীব হয়ে উঠেছে। দুএকজন লোক,  ইতস্তত গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। একটা ফুচকাঅলাও আছে। মাঠে বেশ জল জমেছে। পা ডুবে যাচ্ছে। এদিকে মাথার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পরছে।ঠাণ্ডা না লাগে। কেন যে এদের কথায় রাজি হল।কপালে আজ কি আছে কে জানে। তবু মনটা যেন ফুটে উঠেছে বর্ষার জল পেয়ে।শিরশিরে ভিজে আবহাওয়া।জয়িতার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।
    -কি ঠাণ্ডা লাগছে?
    অর্ণবের গলা পিছন থেকে। জয়িতা ঘুরে দেখতে গেলো। পা টা অসাবধানে একটু পিছলে গেল।জয়িতা পড়েই যেত। অর্ণব পিছন থেকে শক্ত হাতে জয়িতার হাতটা ধরে নিল। মুহূর্তের ঘটনা। যদিও কারো নজর এড়াল না। তনিমা বলে উঠল
    -কি রোম্যান্টিক ।
    ওদিক থেকে জয় বলে উঠল
    -তোমারি হস্তে স্বপিনু মম হৃদয়খানি।রবীন্দ্রনাথ হলে এটাই বলত বুঝলি জয়ি।
    অর্ণব ততক্ষণে হাত ছেড়ে দিয়েছে।জয়িতাও নিজেকে সামলে নিয়েছে।ময়দানে ততক্ষণে অন্ধকার নেমে এসেছে। বৃষ্টিটাও ধরে গেছে।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন