• বুলবুলভাজা  গপ্পো  কুমুদির জন্য (খ)  kumudi

  • নীলু

    শ্রুতি চক্রবর্তী
    গপ্পো | কুমুদির জন্য (খ) | ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ১১৭ বার পঠিত
  • বয়স: ১৪, নবম শ্রেণী।
    একটা লম্বা গ্রীষ্মের দুপুর । পরিষ্কার নির্মল আকাশ এবং মৃদু বাতাস চারিপাশ উজ্জীবিত করে তুলেছে। স্কুলের ছুটির ঘন্টার ঢং ঢং আওয়াজে শান্ত পরিবেশের নীরবতা কেটে গেল । দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা স্কুলে থাকার একঘেয়েমি থেকে বাড়ি যাওয়ার আগ্রহে ছেলেমেয়েদের মুথে অন্যরকম আনন্দ দেখা যাচ্ছে। তারা সবাই ছুটে ছুটে মা-বাবার হাত ধরতে যায় । আকাশে ও দেখা যাচ্ছে সারি সারি পাখি বাড়ি ফিরে যাচ্ছে ।

    সাত বছরের টিনা তার মা রীতার হাত ধরে বাড়ি হাটছিল। এমন সময় তারা একটি পাখির বাসা দেখতে পায়। বাসাটি ছােট, বাদামী কৃষ্ণকায় রঙের কাঠি দিয়ে তৈরি। কিন্তু বাসাটি এমন করে মাটিতে পড়ে কেন? তার মধ্যে পাখির কি হলাে? টিনা এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে তার মায়ের হাত ছেড়ে বাসাটির কাছে এগিয়ে গেল । সে দেখল একটি বড় কুৎসিত ইট বাসাটির ওপর পড়ে আছে।

    “ওমা! একি? কে পাখির বাসার ওপর ইট ছুড়ে ফেলে দিয়েছে?” সে তাড়াতাড়ি ইট সরিয়ে যা দেখলাে তাতে হতাশ হয়ে পরলাে। ছ-সাতটি ডিমের মধ্যে একটিও আস্ত নেই। খেপলে যাওয়া ডিম থেকে মারাত্মক গন্ধ বেরােচ্ছে | কিছুক্ষন ডিমগুলির দিকে চেয়ে রইল তারা। এই ভয়ানক নিষ্ঠুরতায় তাদের গলা শুকিয়ে গেল। নিজেকে সামলাতে না পেরে টিনা কেঁদে উঠল “এমন ভয়াবহ কাজ কে করতে পারে? নির্দোষ অজাতের খুন?” রিতা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেবার চেষ্টা করলেন। তিনি ভাবলেন, “এদের মা কোথায় যেতে পারে? মা বাচ্চাদের এমন করে ছেড়ে যেতে পারে না।"

    হঠাৎ টিনা পাশে পড়ে থাকা একটি পাখির ছানা দেখতে পায়৷ ছােট ছানাটি পাতার তলায় ঢাকা ছিল বলে তারা আগে দেখতে পায় নি। সাবধানে ছানাটিকে হাতে তুলে নিরীক্ষণ করল রিতা | দেখে মনে হচ্ছে দু তিন দিন আগে জন্মেছিল। তার বুকের নড়াচড়া দেখে বােঝা গেলাে সে বেঁচে আছে । টিনা এবং রীতা হাঁফ ছেড়ে ভগবানকে ধন্যবাদ জানালাে। কি সুন্দর ছানাটি! এখনাে খুব ছােট, পালক গজায় নি, কিন্তু কি সুন্দর তার গায়ের রং! সন্ধের আকাশের মতাে ছিট ফুটে নীলের মতাে সে জ্বলজ্বল করছে।

    “মা-পাখিকে তাে আর দেখা যাচ্ছে না। ", টিনা কান্না ভরা চোখে মাকে জিজ্ঞাসা করল, “এই ছােট ছানাটিকে কে বড় করবে?” টিনার মাতৃভাব নীড়ের মতাে ঘিরে ফেলেছিল ছানাটিকে । সে তাকে তার পাশে রাখতে চায়, কিছুতেই মরতে দেবে না। ছানাটিকে সে হাতে তুলে নিল । শহরের বাড়িঘর-অট্টালিকার মধ্যে আলােআঁধারি রাস্তা দিয়ে হাতের মুঠোয় পাখিটিকে নিয়ে বাড়ি পৌঁছল। চারিদিকে অন্ধকার, শুধু চাঁদ-তারা চমকে উঠে জমকালাে আকাশে।

    বাড়ি এনে ছানাটির গা আলতাে করে তুলাে দিয়ে পরিস্কার করতে লাগল। টিনা ছানাটির জন্য যতটুকু পারে প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করল। তার পড়ার টেবিলের একপাশে যেখানে পেন পেন্সিল রাখা হত, সেখানে নরম কাপড় দিয়ে একটি বাসার তৈরি করার চেষ্টা করলাে সে। তার পশুচিকিৎসক দিদির থেকে পরামর্শ নিয়ে ছানাটি কে রােজ তুলাের পুঁতি দিয়ে জল ও খাবার খাওয়াতাে।

    এমনভাবে কয়েক গ্রীষ্ম শরৎ শীত কেটে গেল। টিনা বড় হয়েছে, তার বইয়ের বােঝাও বেড়েছে | কয়েক দিন আগে তার এগারােতম জন্মদিন সে উদযাপন করেছে। ছানাটি ও এখন খুব বড় হয়ে গেছে । তার অসাধারণ সুন্দর নীল পালকের কারণে টিনা তাকে আহ্বাদে নীলু বলে ডাকে। বাবার থেকে একটি বড় খাঁচা চেয়ে নীলুকে সেখানে রাখে | নীলু এবং টিনা কয়েক ঘন্টা একসাথে খেলা করতাে। মনে হতাে তাদের মধ্যে যেন অনেক কথা হচ্ছে। টিনার প্রশ্নে নীলু তাকে মৃদুস্বরে কিচিরমিচির করে উত্তর দিত।

    টিনা রােজ খাঁচা-বন্দি নীলুকে ওপরে ছাদে নিয়ে যেত । সন্ধের হলুদ-লাল আকাশ দেখতে দেখতে তাকে সব মনের কথা বলতাে। এক দিন টিনা নীলুর জল বদলানাের সময় খাঁচার দরজা ভালাে করে আটকাতে ভুলে গেছিল | স্যাট আওয়াজ শুনে দেখলাে নীলু বাইরে বেরিয়ে গেছে, টিনা তাকে ধরতে পারল না। নীলু স্বাধীন জীবনের কাছে উড়ে গেল। তারপরে নীলু যখন সামনের গাছের ডালের উপর বসে পরম উল্লাসে পাতার সাথে খেলা করছিল, টিনা বুঝলাে নীলু বন্দি থাকতে চাইছে না ।

    কয়েক দিন পরে টিনা স্কুলের পাশে মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলছিল | তার বন্ধু গােপালকে তার বাবা জন্মদিনের জন্য একটা নতুন ঘড়ি কিনে দিয়েছিলেন। অনেক দামি ঘড়ি! সবাই গােপালকে ঘিরে ঘড়িটির মুগ্ধ প্রশংসা করছিল। টিনার ব্যাপারটা একদম পছন্দ হলাে না । “নতুন দামি ঘড়ি বলে কি আর খেলাই হবে না? ফুটবলটা আনলাম যে! হ্যাঁ রে! কাল টিভিতে একটা নতুন মুভি দেখেছিলাম, আজকে তােদের দেখাবাে।”

    টিনার এইসব কথায় বাচ্চারা গােপালের ঘড়ির কথা ভুলে গেলাে। পরেরদিন টিনা স্কুলে পড়া শুরু হওয়ার আগে টেবিলে বসেছিল। এমন সময় গােপাল টেবিলে দুম করে মেরে
    তার দিকে হাত দেখিয়ে বলল “চোর!” । টিনা চমকে উঠে কি বলবে বুঝতে না পেরে গােপালের কাছে নিঃশব্দে চেয়ে রইল । ক্লাসের সবাই তার দিকে অভিযােগের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল । “আমার ঘড়িটা তুই নিয়েছিস না?”, গােপাল বলে উঠলাে । “আর মিথ্যে কথা না ।" অন্যদের কৌতুহলী মুখের কাছে দেখে বলল, “টিনাই তাে আমার ঘড়ির প্রতি হিংসুক ছিল! কাল খেলার পর ঘড়িটা কোথাও খুঁজে পাইনি, ও-ই নিয়েছে |

    টিনা অবাক হয়ে গেল । সে না বলে কিছু নিয়েছে, এমন কেউ ভাবতে পারে এটা ভেবে তার বুকে ঝড় উঠলাে। অপমানে তার গলা ভারী হয়ে এল এবং চোখ জ্বলজ্বল করতে লাগলাে। সারাদিন কারাে সাথে কোন কথা না বলে এক কোণে বসে রইলাে, স্কুল শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিঃশব্দে বাড়ি হাঁটতে লাগলাে। হাঁটতে হাঁটতে তার নীলুর কথা মনে পড়ল।

    চারবছর আগে এই পথেই, এই আলাে-আঁধার রাস্তায়, এই সন্ধের আলাের খেলাখেলি দেখতেই তাে তাকে খুঁজে পেয়েছিল। উপরে আকাশের নীল মেঘের কাছে দেখে সে মুচকি করে একটি হাসি হেসে উঠল। এই মেঘটা ওর মতােই দেখতে যে!

    হঠাৎ তার পাশের গাছে একটা পাখি শোঁ করে ডালের উপর এসে পড়ল। টিনা তাকে দেখে চমকে উঠলাে। কি সুন্দর নীল সেই পাখিটির রঙ!
    “নীলু?”

    টিনা আর নিজেকে সামলাতে পারল না | লাল হয়ে যাওয়া চোখ থেকে নিঃশব্দ গরম জলের ধারা গালে নেমে আসলাে । কেউ তাকে না বুঝতে পারলে ও নীলু চিরকাল তার সাথে থাকবে | দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে সে ভাবল কত যে নীল সেদিন। নীলু উড়ে যাওয়ার নীল, টিনার অপমানের নীল, সব একসাথে গুলিয়ে যেতে
    লাগলাে । একটি জোর শব্দে তার চিন্তাসূত্র ছিঁড়ে গেল ।

    সে দেখল নীলু স্কুলের দিকে উড়ে যাচ্ছে। না ভেবে তার পেছনে ছুটতে লাগলাে। স্কুলের পাশে মাঠের ভেতর থেকে নীলুর আওয়াজ শুনতে পেল । এই সেই একই আওয়াজ সে আগে রােজ বাড়ি ফিরে শুনত । নীলু কিসের পাশে দাঁড়িয়ে আছে? মাটি দিয়ে আধ ঢাকা, তবুও কেমন একটা ঝকমক করছে। হাতে তুলে দেখল এইতাে গােপালের ঘড়ি। এইতাে টিনার নির্দোষ হওয়ার প্রমান! কাল খেলার সময় গােপাল এখানেই হারিয়ে ফেলেছিলাে।

    টিনার মাথা থেকে মেঘগুলাে সব সরে গেল । যে ছানাটিকে সে বড় করেছিল, সেই কি আজ তার মা পাখি হলাে? তার কান্না থেমে গেল, তার হাসির রেখা যেন সন্ধ্যের সাথে মিলে গেল।
    “ওই দেখ নীলু ওই সন্ধ্যেতারা উঠেছে!”

     

  • বিভাগ : গপ্পো | ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ১১৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 68.184.245.97 | ২৩ নভেম্বর ২০২১ ২২:২০501394
  • কী সুন্দর বন্ধুত্বের গল্প! আমিও পাখীদের খুব ভালোবাসি। তাই গল্পটা খুব এন্জয় করলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন