• খেরোর খাতা

  • দেবীপ্রসাদ স্মরণে~~

    abhijit majumdar লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৪৮ বার পঠিত
  • দেবীপ্রসাদ স্মরণে~~

    তিনি বলেছিলেন ~ “কর্মের কষ্টি পাথরে যে জ্ঞানকে যাচাই করা হয় নি, সে জ্ঞান জ্ঞানই নয়। তার কোন মূল্য নেই।’’

    দেবীপ্রসাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে কৃতিত্বের সাথে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর সেখানেই শিক্ষকতা করেন প্রায় দুই দশক। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, বিজ্ঞান ও প্রাচীন ভারতের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ইতিহাস সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তাঁর গবেষণা উল্লেখযোগ্য। তিনি তাঁর গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তুলে ধরেছেন ইতিহাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক তাঁর মৌলিক গ্রন্থসমূহে।

    গল্পের ছলে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সব বিষয় তরুণদের সামনে তুলে ধরেছেন যিনি, তিনি দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। নবীনদের বিজ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য তাঁর লেখা বই কম নয়।

    আদিম যুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোয় নারী ও পুরুষের প্রাধান্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে সে ধারাকে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘সে-যুগে মায়েরা বড়ো’ বইটিতে। বিজ্ঞানমনষ্ক ও যুক্তিনিষ্ঠ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর ‍‘আবিষ্কারের অভিযান’, ‘বিজ্ঞান কি ও কেন’, ‘যে গল্পের শেষ নেই’, ‘জানবার কথা’, ‘পৃথিবীর ইতিহাস’ গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমাজসচেতন পাঠকদের কাছে সমাজ ও তার চারপাশ নিয়ে চিন্তার খোরাক জুগিয়ে যাবে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়র এ সকল লেখাগুলো।

    আজকের দিনে তাঁকে স্মরণ করা একান্ত প্রয়োজন, কারণ, বহু পরিশ্রমে তিনি প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের বস্তুবাদী ধারার সাথে পরিচিত করার জন্য নিরলস গবেষণা লব্ধ জ্ঞান, সহজ করে আমাদের পরিবেশন করেছেন।

    পশ্চিমই দার্শনিকদের ভারতীয় দর্শনকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মবাদী ও রহস্যময় করে তোলার প্রয়াসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেখিয়েছেন, এদেশে বস্তুবাদী বা লোকায়ত চিন্তা-ভাবনা কতখানি প্রসারিত ছিল। চরক ও সুশ্রুত দর্শন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

    লোকায়ত মানে বস্তুবাদী দর্শন। ‘লোকেষু আয়ত’ লোকায়ত:। জনগণের মধ্যে পরিব্যাপ্ত বলেই তা লোকায়ত:। অর্থাৎ যা লোকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের প্রথম বেদ অর্থাৎ ‘ঋকবেদে’ ধর্মীয় সচেতনতার বিষয় একেবারেই অনুপস্থিত। ‘What in living and what in dead in Indian philosophy’ গ্রন্থে দেবীপ্রসাদ দেখিয়েছেন যে অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও ভাববাদী ও বস্তুবাদী দুটো ধারাই বহমান ছিল।

    মনু-বাদীদের রক্তচক্ষু এড়াতে বরাহ-মিহির ও ব্রহ্ম-গুপ্ত র মত অনেককেই ভাষার চাতুর্যে সত্যকে অর্থের আড়াল করে প্রকাশ করেছেন।

    অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের কাজকে মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত, তিনি ভাববাদী দর্শনকে খণ্ডন করেছেন যুক্তিবাদী দর্শনের পটভূমিতে। তাঁর মতে, শ্রেণিবিভক্ত সমাজের বৈষম্য, দৈন্য যতদিন থাকবে, ততদিন শুধুমাত্র যুক্তি দিয়ে ভাববাদী দর্শনকে খণ্ডন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, তিনি বস্তুবাদী দর্শনের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে অক্লান্ত চেষ্টা করে গেছেন নানা লেখার মধ্যে দিয়ে। এই প্রসঙ্গে তাঁর শেষ বয়সে অনবদ্য লেখা ‘ভারতে বস্তুবাদ প্রসঙ্গে’-র উল্লেখ করেন করা যায়,এছাড়া, সর্বোপরি উল্লেখযোগ্য যে কাজ অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায় করেছেন, তা হলও প্রাচীন ভারতের ইতিহাস’বিজ্ঞান ও সমাজ’ (History of Science and Society in Ancient India) নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। তিনি মনে করতেন, ভারতের প্রাচীন ইতিহাসকে নানারকম উপকথা, অতিকথা-মুক্ত করতে হবে, তাহলেই বিজ্ঞান মনস্কতার প্রসার গোটা দেশে যখন চিন্তার জগতে ভাববাদী দর্শনের তীব্র আক্রমণ নেমে আসছে, তখন মানুষের মধ্যে নিরন্তর থেকে এই আক্রমণকে খণ্ডন করে যুক্তিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করাটাই এই মুহূর্তে আমাদের কর্তব্য।

    দর্শন-চর্চায় তাঁর অবদানের জন্য অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় দেশে বিদেশে সারস্বত সমাজের কাছে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু শুধু দর্শনশাস্ত্রই নয়, তাঁর কাজের ব্যাপ্তি ছিল আরও অনেকদিকে। তিনি গল্প, কবিতাও লিখেছেন। সাম্প্রদায়িক শক্তি যেভাবে ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের হাতিয়ার অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের অসামান্য রচনাগুলি।

    অভিজিৎ মজুমদার

     

  • বিভাগ : অন্যান্য | ০৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৪৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৮ অক্টোবর ২০২১ ২৩:২১499322
  • ধন্যবাদ মনে করানোর জন্য।
  • বিপ্লব রহমান | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ০৮:৩৩499331
  • এপারে সেই সাতের দশক থেকে বাম ছাত্র রাজনীতির পাঠ্য তালিকায় "যে গল্পের শেষ নেই" একটি আবশ্যিক গ্রন্থ ছিল। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে আমরাও পড়েছি এই বই। 
     
    মহান লেখককে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ায় অনেক ধন্যবাদ। 
     
    আরেকটু বড় করে লিখলে পারতেন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন