• খেরোর খাতা

  • স্বেচ্ছাশ্রম এবং লোকে যাকে "কালো কালো বলে"

    bodhisattvagc dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৮৭ বার পঠিত
  • #redvolunteershaltu 
    #rebuildbengalleft 
    স্বেচ্ছাশ্রম, এই বিষয়টাই যথেষ্ট  বিতর্কিত এবং বৈপরীত্যে ভরা।
    লোকের, সমাজের, দেশের সত্যিকারের উপকার, উপকারের ভড়ং আর ভড়ং করতে গিয়ে খানিকটা উপকার ও বাকিটা স্বার্থসিদ্ধি সবকিছুরই নানা মাত্রার মিশ্রণ,  জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে উদাহরণ কম না। 
    ব্যক্তিগত ভাবে আমি সামাজিক বা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকেছি, সবসময়েই। এটা একটা অভ্যেস। মতান্তরে বদভ্যাস। ছাড়তে পারিনি। 
    রাজনীতির ক্ষেত্রে একটু বিচিত্র অবস্থা, সকলেই মনে করেন রাজনৈতিক সংগঠন খুব খারাপ জিনিস, এমনকি নিজেরা যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরাও তাই মনে করেন অনেকাংশে, এবং অর্থপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন রাজনৈতিক সংগঠন এখনকার সময়ে আর পারবে কিনা তাই নিয়ে বিতর্ক আছে। তাই দয়ালু মিলিয়নেয়ার বিলিয়নেয়ারদের বাজার এখন ভালো।
     
    সংস্কৃতির জগতে, একেবারে দলবদ্ধ আর্ট ফর্ম ছাড়া আর কোন বড় কাজ সঙ্ঘে করা সম্ভব কিনা, তাই নিয়ে চিরকালের বিতর্ক রয়েছে।  
    কিন্তু যেটা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই, একেবারেই নেই, সেটা হচ্ছে, প্রতিটি সব ধরণের সঙ্ঘে স্বেচ্ছাশ্রম বা তার দাবীর একটা বিচিত্র এবং মূলতঃ নিরর্থক প্রতিযোগিতা আছে। এর মানে কোন ব্যতিক্রম নেই। ছাত্র সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ক্লাব, সাহিত্য সভা, লিটল ম্যাগাজিন, মায় সাংস্কৃতিক ওয়েবসাইট, স্টাডি সারকল, সেবা সমিতি, রাজনৈতিক সংগঠন, যা যা জীবনে করলাম, সংঘবদ্ধ এবং যথেষ্ট সিরিয়াস মানুষের মধ্যেও পরিস্থিতি অনুযায়ী চাপা বা উন্মুক্ত রেষারেষি থাকে কে কত স্বেচ্ছাশ্রম করলেন, কে কোন‌ কর্মসূচীতে নেতৃত্ত্ব দিলেন তাই নিয়ে। এটা আমার খুব সংক্ষেপে বোকা বোকা  লাগে।
     
    আপাতত সিপিএম সমর্থক হিসেবে গত দুই বছর নানা কমিউনিটি কিচেন বা শ্রমজীবি ক্যান্টিন উদ্যোগে যুক্ত আছি ব্যক্তিগত ভাবে। অনেক কে চাঁদা চেয়ে বিরক্ত করেছি হয়তো।
     
     এখানে উচ্চকিত, কাজের বাধা না হলেও স্বেচ্ছাশ্রমের প্রতিযোগিতা একটা তরুন বয়স্ক দের মধ্যে বিশেষতঃ আছে, হয়্তো মানুষের হিতার্থে সচেতন শ্রমের একটা প্রতিযোগিতা থাকাই ভালো, কিন্তু আমি ভাবছিলাম কালোদার কথা। আমাদের কালো দার পুরো নাম আমি জানতে চাই নি।  তবে দখনেদের মধ্যে একটা রীতি হল পাড়ার বা গাঁয়ের মুটেমজুর কলিমুদ্দিনরা হিন্দু বাবুদের নাম বলার সময়ে 'কালো' নামে পরিচয় দেন। গরীব মানুষ পেয়ে পেয়ে যে সততঃ মাথায় চড়েন , এ হয়তো তার চমৎকার উদাহরণ!
    কালোদা পূর্ব কলকাতার একটা সবুজের সমস্ত ছায়া আর অসংখ্য প্রকৃতির রঙ আর কাদার ছড়াছড়ি‌তে ভরা ঠিক যেমন‌ হয় তেমন গড়পড়তা একটা বাজারে মোট বাহকের কাজ করেন।
     
    তরকারি গাড়িতে তুলে দিতে সাহায্য করেন। বড় গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখেন। চল্লিশ কেজির বস্তা হেলায় কাঁধে তোলেন। কিছুতেই বখশিশ নেন না, আর গর্ব করেই বলেন, এটা চাকরি, আমি বাড়তি নিতে পারি না। যে দোকানে তিনি কাজ করেন, সেই ব্যবসায়ী আমাদের হালতু শ্রমজীবি ক্যান্টিনের শুভানুধ্যায়ী। পাঁচটা তরকারী কিনে -টিনে ঘর্মাক্ত হয়ে, যেই একটু, কত খাটলাম বলে ফিরে এসে ফ্যান চালিয়ে অহংকার করতে যাব ভাবি, অমনি আবিষ্কার করি ষষ্ঠ তরকারিটি যেটা কিনিই নি, সেটি রয়েছে একটি ঢাকা বোরায়।
     
     অপ্রস্তুত হয়ে একটু হাত পা ছড়াবো, পাড়ার চাল ব্যবসায়ী ভাই উপস্থিত হন। উনি, হ্যাঁ শুনে রাখুন হাজার হাজার টাকার চাল আমাদের একটা সময়ে বাকিতে দিয়েছেন, নিজে গাড়িতে তুলে দিয়েছেন, নামাতেও সাহায্য করেছেন কখনো কখনো, কতটা জল দিয়ে কতক্ষন কোন বস্তার চাল রাঁধাই ভালো সে ব্যাপারে আলোচনা করে গেছেন রাঁধুনী দার সঙ্গে। কোন দরকার ছিল না। স্বেচ্ছায়। 
    একজন ভ্যান চালক, তরকারীটা বিরাট পরিশ্রম করে নিয়ে এসে, আবার রসদ-ঘরে সাজিয়ে দিয়ে গেলেন, আমাদের একটু অগোছালো ছিল ঘরটা, সেটাও গুছিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনটে অল্প বয়সী ছেলে, হ্যাঁ সামান্য ভাতার বিনিময়ে খাবার রান্নার পরে বিতরন করার আগে ঠান্ডা করে প্যাকেট করে দেয়, আরো দুজন রাঁধুনি দাকে সাহায্য করেন, মাঝেই মাঝেই তাদের সামান্য ভাতা দিতেও আমাদের কমিটি দেরি করে ফ্যালে, নুন আনতে পান্তা ফুরোয় বলে। 
     
    যিনি রান্না করে দেন, তিনি শুধু রান্নাই করেন না, ত্রিপুরার কোন জেলায় কোন শহরে ঠিক কোন পার্টি অফিসে কি আক্রমণ হয়েছে খবর রাখেন, এবং আমরা অনেকে  রাখি না বলে বকা দেন, আর মন দিয়ে লেখাপড়াটা করতে বলেন। টাকা একটা পান বটে, সেটা কাজের শ্রমের তুলনায় খুব বেশি হবার কথা না। 
    চা দেন যে দাদা, তিনি যদি বোঝেন, আমরা টানাটানিতে আছি, চায়ের দামের কথা তোলেন না। স্বেচ্ছা নীরবতাটাই তাঁর শুধু সহনশক্তি না তাঁর শ্রম ও বটে।
     
    তো সব জায়গার অল্পবয়সী ভলান্টিয়ারদের কেই বলছিলাম, কোন অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগে কাজে লাগার, স্বেচ্ছাশ্রমের প্রতিযোগিতা হয়তো বিশেষত অল্পবয়সীদের উদ্ভুদ্ধ করে উৎসাহিত করে। তবে আমার বয়সীদের হয়তো আর করে না, হয়তো তাদেরও আর কদিন বাদেই করবে না।
     
    কারণ বাজারে যাদের লোকে 'কালো কালো বলে ডাকে' , সেই তাঁদের প্রকৃত মজুরিহীন‌, জীবনের সামঞ্জস্যহীন  অনন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে, গায়ে বল থাকতে হাত পাতবেন না, এই দৃঢ়তার উপরে দাঁড়িয়েই আমাদের পাড়ার কমরেডরা সংকট কালে ছেষট্টি দিনে হাজার তিরিশেক দুপুরের খাবারের প্যাকেট দিতে পেরেছে, এই প্রতিযোগিতায় কালোদা, সুবলদা রাই প্রকৃত উসেন বোল্ট। এইটে খেয়াল রেখে ক্রীড়া কিংবা প্রতিযোগিতা, বার্ষিক কিংবা সম্বৎসর কোনটাতেই আপত্তি নেই। বুড়ো হাড়েও, কহ কে লেংগে!!!
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৮৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন