• বুলবুলভাজা  ভোটবাক্স  বিধানসভা-২০২১  ইলেকশন

  • শীতলকুচিঃ মাসুমের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং

    কিরীটি রায়
    ভোটবাক্স | বিধানসভা-২০২১ | ১৬ এপ্রিল ২০২১ | ৩৭৮৮ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সংযোজন ও অনুবাদ ঃ কল্লোল
    সভাপতি
    জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
    মানব অধিকার ভবন
    ব্লক – সিজিপিও কমপ্লেক্স, আইএনএ
    নিউ দিল্লী ১১০০২৩

    শ্রদ্ধেয় মহাশয়,

    আজ যে অভিযোগটি দায়ের করা হচ্ছে, তা এই দেশের গণতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে তছনছ করে দিয়েছে। সিআইএসএফ (কেন্দ্রীয় শিল্প নিরপত্তা বাহিনী) কর্মীরা বিনা কারণে তাদের খুশিমত প্রাণহানিকর অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১এ ভোট দিতে আসা নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যে ঘটনাটি নীচে বিবৃত করা হচ্ছে, তা পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের পক্ষে চূড়ান্ত অমর্যাদাকর এবং প্রমাণ করেছে যে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই জঘন্য মনোভাবের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারই দায়ী।

    আমাদের তথ্যানুসন্ধানকারী দল কর্তৃক তদন্তের মাধ্যমে পাওয়া বিশদ বিবরণ নীচে দেওয়া হলো।

    ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ৮ দফা নির্বাচন কার্যক্রম ঘোষনা করেন। ১০ এপ্রিল ২০২১এ। এটির ৪র্থ দফায় পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনের, শীতলকুচি ব্লকের জোরপট্টি গ্রামে আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র ভোটগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। সেই দিন শীতলকুচির আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ১২৬ নং বুথে শান্তিপূর্ণভাবে গ্রামবাসীরা ভোট দিচ্ছিলেন। ভোট চলাকালীন বিজেপির কিছু কর্মী ৫০-৬০জন মানুষকে নিয়ে সিআইএসএফের সহায়তায় ভোট দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

    তখন সকাল ৯টা ৩৫, সিআইএসএফের কর্মীরা ভরা বাজারের মধ্যে, শ্রী মজিদ মিয়াঁর ছেলে, শ্রীমান মৃণাল হক নামে একটি ১৪ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোরকে নির্দয়ভাবে মারতে শুরু করে। জায়গাটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে। কিশোরটি মার খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই সিআইএসএফ কর্মীরা আহত কিশোরটিকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিশোরটির দাদা মোবাইলে ঘটনাটির ভিডিও তুলতে থাকায়, সিআইএসএফের কর্মীরা তার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকেও মারতে শুরু করে। গ্রামের মানুষেরা এই অত্যাচারের ঘটনায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান।

    এই সময়, ওখানকার সেক্টর মোবাইল অফিসার কুইক রিয়্যাকশন টিমকে ঘটনাটি অবগত করেন। কুইক রিয়্যাকশন টিম সিআইএসএফের কর্মীদের নিয়ে একটি বোলেরো গাড়িতে ঘটনাস্থলে আসে । ৪/৫জন সিআইএসএফ কর্মী গাড়ি থেকে নেমেই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে বলে এবং সঙ্গে সঙ্গে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেশ কিছু মানুষের বুকে গুলি লাগে, অনেকে আহত হন। উপস্থিত থাকা কিছু মানুষ মোবাইলে এই ঘটনা ধরে রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, কারণ তাদের ফোনগুলি সিআইএসএফ কর্মীরা কেড়ে নেয় ও তাদের প্রচণ্ড মারধোর করে। তারপর সিআইএসএফ কর্মীরা সেই জায়গা ছেড়ে চলে যায়। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য, যে সিআইএসএফ কর্মীরা গুলি চালায় তারা বাইরে থেকে এসেছিলো। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যারা ডিউটিতে ছিলো তারা গুলি চালায় নি। যে সিআইএসএফের কর্মীরা ঘটনাটি ঘটায় তারা গাড়ি করে ঐ জায়গা ছেড়ে চলে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    শ্রী মঈনুল কামরান (২৪), শ্রী নূর ইসলাম মিয়াঁ (২০), শ্রী চাইমূল হক (২০), এবং শ্রী হামিদুল মিয়াঁ (২৫), এই চার ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীদের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায়, আরও ৭ জন মানুষ গুরুতর ভাবে আহত হন। শ্রী বিনয় বর্মনের (আনুমানিক ৫০ বছর) ডান পায়ের থাইয়ের উপরের দিকে গুলি লাগে। ওনাকে কুচবিহার এমজেএন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শ্রী আলমগীর আলম(আনুমানিক ৩৮ বছর) একাধিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, ও তাঁকে মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রী দেবব্রত দাসের (আনুমানিক ৩২ বছর) মাথায় ভারি কিছুর আঘাত লেগেছে। ওনাকেও মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রী মজিদ মিয়াঁর ছেলে, শ্রীমান মৃণাল হক ১৪ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোর, গুরুতর আহত অবস্থায় মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনাল হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়া, সরকারী বয়ান অনুযায়ী, শ্রী দিলীপ কুমার মজুমদার, থার্ড পোলিং অফিসার, শ্রী অভিজিৎ বর্ম্‌ন,ফার্স্ট পোলিং অফিসার এবং শ্রীমতি মিনতি রায় বর্মন, একজন আশা কর্মী, আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে সিআইএসএফের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয় যে, ১০ এপ্রিল ২০২১ সকাল ৯টা ৩৫ নাগাদ ১২৬ নং বুথের কাছে কুইক রিয়্যাকশন টিম এবং সিআইএসএফের একটি দল, ৫৬৭/সি, যার নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার সুনীল কুমার স্থানীয় পুলিশের সাথে টহল দিচ্ছিলেন। সেখানে দুষ্কৃতীরা কিছু মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছিলো। সিআইএসএফ বুথ কমান্ডার তাদের নিরস্ত করার চেষ্টা করলে, দুষ্কতীরা দলবেঁধে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে এবং কিছু দুষ্কৃতী সিআইএসএফ কর্মীদের থেকে হাতিয়ার ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে। তারা যখন হিংস্রভাবে এগিয়ে আসতে থাকে, তখন সেই মুহূর্তে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকির কথা ভেবে, সিআইএসএফ কর্মীরা, তাদের ওপর ৭ রাউন্ড গুলি চালায়।

    দুর্ভাগ্যবশতঃ জেলা পুলিশ সুপার, যিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বারা সদ্য নিয়োজিত, সিআইএসএফের বিবৃতিকেই সমর্থন করেন। তিনি সত্যকে তুলে ধরার কোন চেষ্টাই করেন নি।

    এই প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করে তখন তাকে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছুই পালন করা হয় নি। সিআইএসএসেফের বিবৃতিটি সত্যের অপলাপ মাত্র। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলি এই ঘটনায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক –

    -শ্রী মজিদ মিয়াঁর ছেলে, শ্রীমান মৃণাল হককে বাজারের মধ্যে নির্যাতন করা হলো কেন ?
    ·
    -নিরপরাধ মানুষের ওপর এই গুলি চালনায়, আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগের শর্তগুলি পূরণ করা হয়েছিলো কি ?
    ·
    -যে হামলার কথা বলা হচ্ছে তা এই ধরনের বলপ্রয়োগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি ?
    ·
    - কী এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো, যাতে নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর ৭ রাউন্ড গুলি চালাতে হয় ?
    ·
    -গ্রামবাসীদের হাতে অস্ত্র থাকার কোন অভিযোগ নেই, তারপরেও সিআইএসএফ কর্মীরা গুলি চালালো কেন ?
    ·
    -সিআইএসএফের যদি মনেই হয়েছিলো অবস্থা আয়ত্বের বাইরে যচ্ছে, তবে আগে জনতার উপর লাঠি চার্জ করা হলো না কেন ?

    - ভোটারদের ওপর গুলি চালানোর আগে দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে পরামর্শ করা হয় নি কেন?
    ·
    - জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাস ববহার করা হলো না কেন ?
    ·
    -কমান্ডিং অফিসার কে ছিলেন ? এবং তিনি কোন দিশায় গুলি চালানোর আদেশ দেন ?
    ·
    -সিআইএসএফের কর্মীরা কেন মানুষের কোমরের নীচে গুলি চালায় নি ?

    -দুষ্কৃতীদের যে হামলার কথা বলা হয়েছে তাতে কোনও সিআইএসএফ কর্মী আহত হয়েছেন কি ?

    আসলে এটি ট্রিগার হ্যাপি সিআইএসএফের অবিমৃষ্যকারী বলপ্রয়োগের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। যেখানে কোন কারণ ছাড়াই সিআইএসএফ কর্মীরা তাজা তরুণ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে, আত্মরক্ষার বাহানায়।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোর শ্রীমান মৃণাল হক বলেছে যে, স্থানীয় বাজারের মধ্যে তাকে টুঁটি চেপে ধরে সিআইএসএফ কর্মীরা লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। মারের চোটে সে মাটিতে পড়ে গেলে কিছু গ্রামবাসী প্রতিবাদ করায় সে সিআইএসএফ কর্মীদের হাত থেকে ছাড়া পায়।

    আমাদের জেলা মানবাধিকার আধিকারিক নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। জানা গেছে, শ্রী নূর ইসলাম তাঁর ৫ সদস্যের পরিবারের এমকমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রবাসী শ্রমিক। ৮ এপ্রিল ২০২১ তিনি দেশে ফেরেন ভোট দেওয়ার জন্য। বুকে গুলি লাগা অবস্থায় মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর, তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়।
    শ্রী মণিরুল জামাল তাঁর ৭ সদস্যের পরিবারের মুখ্য রোজগেরে ছিলেন। তিনিও একজন প্রবাসী শ্রমিক ছিলেন। ৯ এপ্রিল ২০২১ গ্যাংটক থেকে নিজের গ্রামে ফেরেন ভোট দেবার জন্য। শ্রী চাইমূলও তাঁর ৫ সদস্যের পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন। শ্রী হামিদুল মিয়াঁ তারঁ ৪ সদস্যের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। তাঁ স্ত্রী সন্তানসম্ভবা।

    এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ময়না তদন্ত করেন ডাঃ এন দাস। মাথাভাঙ্গা পুলিশ থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেস নং ২৬/২০২১।

    নিহত শ্রী মণিরুলের খুড়তুতো ভাইয়ের মতে বিজেপি নেতাদের উস্কানিতে সিআইএসএফের কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানেদের উপর গুলি চালায়। এই ঘটনা একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

    অভিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীরা ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের উল্লঙ্ঘন করেছে, যা জীবনের অধিকারকে সুনিশ্চিত করে। যাতে বলা হয়েছে - কোনও ব্যক্তি তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হবে না আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যতীত। সিআইএসএফ কর্মীদের এই কাজ জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (ভারত রাষ্ট্র যার অন্যতম সাক্ষরকারী) ৭ নং অনুচ্ছেদের বিরোধী। যাতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির সাথে অবমাননাকর ব্যবহার বা তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া যাবে না। এছাড়াও সিআইএসএফ কর্মীদের এই কাজ জাতিসংঘে ২০১৫ সালে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত মৌলিক উন্নয়নের লক্ষে ১৭ দফ কর্মসূচীর বিরোধী। সিআইএসএফ কর্মীদের এই কাজ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯সালে গৃহিত সিদ্ধান্ত নং ৩৪/১৬৯ “আইন প্রয়োগকারি আধিকারিকদের ব্যবহারবিধি”র ২য়,৩য়,৫ম,৬ষ্ঠ ও ৮ম অনুচ্ছেদেরও বিরোধী যা আইন প্রয়োগকারী আধিকারিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, হিংস্র ব্যবহার করা থেকে বিরত করে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে বলে, ও আইন মেনে বলপ্রয়োগ করতে বলে। সিআইএসএফ কর্মীরা জাতিসংঘের অষ্টম কংগ্রেসে গৃহীত, অপরাধ নিবৃত্তি ও অপরাধীদের সাথে ব্যবহারের বিধিরও উল্লঙ্ঘন করেছে।

    গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দিতে আসা এই চারটি নিরপরাধ প্রাণের লাশ হয়ে যাওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব বেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের বাহিনীর।

    এখানে অবশ্যই উল্লেখনীয় যে, এই ঘটনার পরের দিনই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শ্রী দিলীপ ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরের দফা নির্বাচনী প্রচারে বলেন যে, এরকম গুলি চালনা ও মানুষ মারার ঘটনা আরও ঘটবে। আজও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

    এই পরিরেক্ষিতে আমরা দাবি জানাচ্ছি -

    -নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব তদন্তকারী শাখা নিরপেক্ষভাবে গোটা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক।
    ·
    -অভিযুক্ত সি আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে সাধারণ আদালতে মামলা দায়ের করা হোক।

    -নিহতদের পরিবারদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

    -নিহতদের পরিবারগুলির জন্য যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক।

    -পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে, ঘৃণা উদ্রেককারী ভাষণ দেওয়ার অপরাধে মামলা রুজু করা হোক।

    -সংঘর্ষে মৃত্যু বিষয়ক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশনামা মানা হোক।

    -যথাশীঘ্র সম্ভব একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হোক।

    -কুচবিহারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশসহ অভিযুক্ত সি আইএসএফ কর্মীদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হোক।

    ধন্যবাদান্তে
    একান্ত আপনার

    কিরীটী রায়
    সেক্রেটারী, মাসুম

    জাতীয় আহ্বায়ক, প্রোগ্রাম এগেন্সট কাস্টোডিয়াল টর্চার অ্যান্ড ইমপিউনিটি

    ঘটনায় নিগৃহীত ব্যক্তিবর্গের সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি প্রত্যক্ষ করতে দেখুন –


    সংযোজন ও অনুবাদ ঃ কল্লোল
  • বিভাগ : ভোটবাক্স | ১৬ এপ্রিল ২০২১ | ৩৭৮৮ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:1c1c:e64b:7fa:365e | ১৬ এপ্রিল ২০২১ ২০:০৯104806
  • গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। 


    মূলধারার মিডিয়ায় এ নিয়ে আরও কভারেজ দরকার।

  • দু | 47.184.13.36 | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ০২:৪৬104813
  • কি করে যে এই ভয়ংকর দৈত্যের থেকে মুক্তি হবে । শেষ করে দিল দেশটাকে।

  • বিপ্লব রহমান | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ০৭:৪৮104815
  • একটি রোমহষর্ক হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 


    "যথাশীঘ্র সম্ভব একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হোক।"


    খবরে প্রকাশ, সিবিআই নাকি এই ঘটনার তদন্ত করবে!  আশংকা করি, এই মুর্দাফরাশে মাটিচাপা পড়বে প্রকৃত সত্য,  আর দোষীরা বরাবরই থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। 


    #


    লেখাটিতে প্রচুর টাইপো আছে,  শুধরানোর দাবি জানাই। 

  • সুশান্ত | 2409:4065:d89:4ea4:381b:c1f2:688a:d04b | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ১৫:৩৪104821
  • এহেন প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডালিকে ধন্যবাদ! 

  • পারমিতা | 2409:4060:283:b54b:5c50:a22c:e1b9:6b7d | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ১৬:৩৯104823
  • এই রিপোর্ট নিয়ে কোর্টে যাওয়া উচিত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের।

  • এফ এম | 2409:4065:494:cbe6::1cd1:c8b0 | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ২১:৪৫104829
  • নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করা হয়েছে । একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রয়াসের মধ্য দিয়ে । এই চক্রকে যারা সমর্থন করে তারা ঘৃণার পাত্র ।

  • DM | 103.42.175.101 | ১৭ এপ্রিল ২০২১ ২২:৪৭104830
  • গল্পটা জমেনি। বাজারে চলবে না। 

  • অরুণজ্যোতি দাশগুপ্ত | 103.240.98.252 | ১৮ এপ্রিল ২০২১ ২২:২৪104894
  • শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাণহানি এড়ানোর চেষ্টা করা উচিত ছিল। যতদিন না আরও সত্য প্রকাশিত হয় ততদিন এই লেখার প্রতিপাদ্য বিশ্বাসযোগ্য থাকবে আমার কাছে।

  • সায়ন | 2409:4060:2e81:c2eb:925f:69f3:bd4f:cbc6 | ২১ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৫১104986
  • কাড়ি সে কাড়ি নিন্দা। বাকি তিন দফায় পশ্চিমবঙ্গ আবার এরকম জিহাদীমুক্ত হলে আবার কাড়ি সে কাড়ি নিন্দা করবো।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন