• খেরোর খাতা

  • ইট স্টার্টস উইথ অ্যান ইমেইল – ঝর্না বিশ্বাস

    Jharna Biswas লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১৩৭ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  •  

     

    কদিন ধরেই একটা ইমেইল পাচ্ছে শরন্যা। প্রেরকের নাম যেখানে জলফড়িং সেখানে যে কেউ হতে পারে। প্রথম প্রথম শুধু হ্যালো হাই চলত, এখন সেখানে শব্দ সংখ্যা বাড়ছে। শরন্যা রোজ তাতে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় ও পরে যথারীতি ডিলিট করে দেয়। তবে প্রতিদিন মেইল খুললেই মনে হয়, আজ কি লিখতে পারে জলফড়িং...!

     

    ও নিজেও লেখালেখি করে ফেসবুকে। নেহাত শখ বশত। মা বাবা দুজনেই সাহিত্য অনুরাগী, তাই ছোটবেলা থেকেই গুচ্ছ বইয়ের ভেতর থাকতে থাকতে পড়ার একটা নেশা হয়ে গেছিল। পরে অবশ্য নানা কারণে এতে কিছু বিরতি হলেও লেখালেখি চলত।

     

    জিমেইলের এই অ্যাকাউন্টটা শুধু নিজের কাজের মেইলগুলো রাখার জন্য বানানো। কিন্তু সেদিন দেবারতি চাইতে এটাই দিয়েছিল শরন্যা। এখন গুচ্ছ কতগুলো বাংলা গ্রুপে ওর মেইল আইডিটা ঘুরে ফিরে বেরাচ্ছে। হয়তো জলফড়িংও সেখানকার কেউ। কিন্তু শিওর হওয়া মুশকিল।

     

    রেডিফ অ্যাকাউন্টটাও ইন্যাক্টিভ হয়ে পড়ে আছে সেই কবে থেকে। শরন্যার সবচেয়ে বড় দোষ, ও পাসওয়ার্ড ভুলে যায়। তবে জিমেইল-এ ভোলাভুলির কোনও চান্স নেই। বলেই একবার মুচকি হেসে নিল শরন্যা।

     

    দূরে দূরে থাকার জন্য বন্ধুদের সাথেও এতদিন তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে দেবারতি সেই স্কুল থেকেই খোঁজ খবর রেখেছে। শি ইজ আ নাইস গার্ল, অ্যান্ড হ্যাপিলি ম্যারেড নাও। মিসেস সেনগুপ্ত ট্যাগে ও এখন বেশ খুশি। কয়েকটা পত্রিকায় নিয়মিত লেখে, হ্যাশট্যাগ দিয়ে সারাদিন চর্চা করে, আবার বিকেলে সেজেগুজে আবৃত্তির পোস্ট দেয়। লাইক পায় প্রচুর, আর কমেন্টসও।

    রোহিতের সাথে আলাপ কলেজ ফেস্টে। জার্নালিজম নিয়ে পড়া শেষ করে ও এখন ইন-টুডে নামক এক ইংরেজি পত্রিকায় সদ্য কাজে ঢুকেছে। তবে কাজ সাংবাদিকতা হলে কি হবে, ভালোবাসা কুমার শানু। যখন তখন দু এক কলি গেয়ে শুনিয়ে দিতে পারে...

     

    আপাতত এই দুই বিএফএফ-এ বেশ ভালো আছে শরন্যা। অ্যান্ড শি ইজ নিয়ার্লি থার্টি। এটা শোনার পর থেকেই আত্মীয় স্বজন এমনকি পাড়া প্রতিবেশিও বাড়ি এসে কথা শুনিয়ে যায়। বাবা মা অবশ্য এতে কান দেন না। তাদেরও মনে হয় এই সময়টা মেয়ের ডিসিশনকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।  

     

    এজ ইজ জাস্ট আ নাম্বার, মেনি ডেজ টু গো...শরন্যার প্রোফাইল স্টোরিজ এভাবেই সেভ করা থাকে... এখন শুধু একটা চাকরি চাই যার শুরুটা এন ভি মিডিয়া দিয়েই হোক।

     

     

    অফিসে ঢুকতেই লোকে একবার কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে দেখে নিল শুধু। এত ফিটফাট চেহারার পাবলিক এখানে খুবই কম। বেশিরভাগই আতিপাতি, ভবঘুরে টাইপ।

     

    চ্যানেলটিরও বেশ নামডাক আছে। কয়েকটা সিরিয়ালের টিআরপিতে এটা ভালো দশের মধ্যে পড়ে। একটা কায়দা করা ওয়েবসাইটও আছে ওদের।

     

    মাস মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করা, ইংরেজিতে তুখোড়, ও বাংলায় লেখালেখির ভালোবাসায় ভরা শরন্যাকে ইর্ন্টাভিউতে তাই কেউই টপকাতে পারেনি সেদিন। মিসেস বাসু মানে চ্যানেল হেডের ধর্মপত্নী ও সিরিয়ালের সু লেখিকা তো প্রথম দর্শনেই কুপোকাত।

     

    তা এত চ্যানেল থাকতে এখানে কিভাবে?

    প্রশ্ন ছুঁড়েছিল অনন্ত ঘোষ। ক্রিয়েটিভ হেডের চাকরিতে এটা তার দশ বছর। ভালো লাগা এতটাই যে বেরোতে পারেনি এখান থেকে।

     

    শরন্যার উত্তরটা গোছানোই ছিল।

     

    আপনাদের গল্পগুলো ভালো হয়। বাকিতে সেই এক, চলছে তো চলছেই।

     

    বলেই আলতো হাসি দিয়েছিল মেয়েটা। ওর গালের দু পাশে দুটো খাদ তখনই ফোকাসে এলো, আর অনন্তও গর্তে পড়তে এতটুকুও সময় নিলো না।


    এরপর বাইরে বসতে হলো। পার্সোনাল ইন্টার্ভিউয়ের পর এবার  অপেক্ষা পরের রাউন্ডের। প্রত্যেককে একটা করে ছবি দেওয়া হবে আর তা দিয়ে স্ক্রিপ্ট লেখা এক মিনিটের দৃশ্যে। এবং সেটা শুরু হতে এখনও আধঘণ্টা। ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে একটা ফ্রুট স্যালাড নিলো শরন্যা, সাথে মাকেও জানিয়ে দিলেন ফার্স্ট রাউন্ড ওয়াজ ওকে। রোহিতকে ফোন করলেও ভালো হত। বাট হি মাস্ট বি বিজি দিস টাইম...

     

    পাশের টেবিলে বসা আরেকটি মেয়ে, তখন থেকে দেখে যাচ্ছিল শরন্যাকে। তাই ও নিজেই একটা হাসি দিল।

    কেমন হয়েছে ফার্স্ট রাউন্ড? মেয়েটা মাথা ঝাঁকাল শুধু।

     

    কনফারেন্স রুমে কোণের এক চেয়ারে বসতেই হাতে পেল এই চ্যানেলেরই নতুন ধারাবাহিক "পূবের আকাশ লাল" এর নায়ক সূর্য সেনগুপ্তকে। গল্পটায় কী হচ্ছে ও জানে। ছেলেটা ফ্রাস্টেটেড, আগের প্রেমিকার জন্য।

    শরন্যার মাথায় এলো গত রাতে পাওয়া জলফড়িংয়ের ইমেইলটা। হুবহু লিখে দিল তা।
     

    চিঠিটা অদরকারী ভেবে ডিলিট করতেই পারেন কিন্তু তার আগে জানাতে চাই, আপনার লেখা আমি পড়ি। খুব ভালো লাগে। একটু অনধিকার প্রবেশ চাইছি আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে।

    ফুটনোট: খুব ভয়ে ভয়ে লেখা এ চিঠি। করোনা কালে এমনিতেই আধমরা হয়ে আছি, বাকিটা নিরাশ করবেন না।

     

     

    অবশেষে সাময়িক ভাবে লকডাউন উঠল। নতুন অফিস, তাই এক্সাইটমেন্টও বেশি। গত রাতে ঠিকমত ঘুমোতে পারলনা শরন্যা। চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল ঘড়ির দিকেই। তারপর তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। মা টিফিন দিতে চাইলে বারন করে দিল। ওর মনে হলো, আজ ফার্স্ট ডে। দুদিন পর থেকে নেওয়া যাবে। মা আর না করেনি তাতে।

     

    এদিককার রাস্তাঘাট অত চেনা না। তাই একটা ক্যাব বুক করল শরন্যা, যা আধ ঘন্টার মধ্যেই নামিয়ে দিল স্টুডিওতে। রিসেপশনের মেয়েটার সাথে চোখের আলাপ ছিল সেদিনই, আজ কাগজ দেখাতেই বসতে বলল। একটু পর মিস্টার অনন্ত নিজেই এলেন।

     

    আররে চলুন, আপনারই তো অপেক্ষা চলছে।

     

    প্রথমে মাস্কে চেনা যায়নি, পরে চোখ দুটোতে স্পষ্ট হলো উনি সেই।

     

    মিসেস বাসু যেন খুব খুশি শরন্যাকে পেয়ে। আর শরন্যা নিজেও এই ড্রিম প্রজেক্টের একজন হতে পেরে গর্বিত। এমনটা শোনার পর অনন্তবাবুর চোখেও ঝিলিক দিয়ে গেল। মিসেস বাসু মানে শীনাদেবী অনন্তকে শরন্যার কেবিন দেখিয়ে দিতে বললেন ও সাথে নতুন কাজের জন্য একরাশ শুভেচ্ছাও দিলেন।

     

    শরন্যা বেরিয়ে এলো ওনার রুম থেকে। চলতে চলতে কল্পনা করছিল কেমন হতে পারে কেবিনটা! আর ঢুকে যা দেখল তা ওর প্রত্যাশার চাইতেও অনেক অনেক বেশি। চেয়ার ঘুরিয়ে অনন্ত বসতে বলল শরন্যাকে।

     

    মিস দত্তা, টেক ইওর চার্জ ফ্রম টুডে...

     

    কল মি শরন্যা...ফিলিং বেটার...

     

    বলে এক ঝলক হেসে নিল শরন্যা আর অনন্ত আবারও বেঢপ পড়তে গিয়ে সামলে নিলো...

     

     

    লোকটা সুবিধার না। খালি সুযোগ খুঁজছে কাছে আসার, গল্প করার। রোহিতকে সেদিন ফোনে এ কথা জানাতে তাঁর হাসি আর থামতেই চায়না। যথারীতি ফোন রাখার আগে রোহিত গুনগুনিয়ে গেল,

     

    “মে দুনিয়া ভুলা দুঙ্গা তেরি চাহত মে...”

     

    কিছু ইঙ্গিত শরন্যা বুঝেও বোঝে না। ওকে পথভ্রষ্ট হলে চলবেনা...ওর মনে হয়, ভেতরকার আমিটা যেন ওকে স্পষ্ট বলতে চাইছে - ফোকাস শরন্যা, ফোকাস...

     

    আজ বেরোতে গিয়ে লিফটে আরো কয়েকজনের সাথে অনন্ত দাঁড়িয়ে ছিল...শরন্যা দেখেও না দেখার ভান করল আর ফোন হাতে কুটকুট করতে করতে নেমে গেল নীচে। তিনটে ফ্লোর নামা কোনও ব্যাপার না!

     

    অফিসের নীচেই একটা কফিশপ...ভেতরে ঢুকে এক কাপ কফি অর্ডার করতেই মনে হলো মেইলটা চেক করা যাক...

     

    ঝুপ্পুস করে খুলল জিমেইলের বাক্স, কিন্তু জলফড়িং কোথাও নেই... একটা মিশ্র অনুভূতি ঘিরে ধরল শরন্যাকে...হয়তো বাঁচা গেল উটকো লোকের হাত থেকে, আবার এও মনে হলো, কেন চিঠি দিল না আজ ... কী এমন হতে পারে...

     

    ভাবতে ভাবতে কফি হাজির...এই 'জলফড়িং' খুঁজতে গিয়ে শরন্যার আজকাল একটা বাজে অভ্যাস হয়ে গেছে...সবাইকে সন্দেহ করতে শুরু করে দিয়েছে...এমনকি উল্টোদিকে বসা ছেলেটাও কি?

     

    একটানা কেউ তাকিয়ে থাকলেই ওর কৌতুহল হয়, অনন্তকেও জলফড়িং ভাবাটা কিছু ভুল হবেনা...ইমেইল তো ও জানে, সিভিতেই লেখা আছে...

     

     

    সেদিন ছাতা ছিল না ব্যাগে। এই আম্ফানের পর আবার কী যে বৃষ্টি শুরু হলো থামতেই চায়না। বাস স্ট্যান্ডে আর দাঁড়ানো যাচ্ছেনা...এদিক ওদিক থেকে ছাঁট আসছে...ক্যাবও ক্যানসেল হয়ে যাচ্ছে বারবার...সামনেই একটা মেডিকাল শপ, তার নীচে কিছু লোক দাঁড়িয়ে...শরন্যা সেদিকেই এগোল...

     

    বাসের অপেক্ষা চলছিল কিন্তু তাতে যা অবস্থা, ও কায়দা করতে পারবেনা, উঠতে তো নাইই...বেটার দাঁড়িয়ে থাকা। ওর পাশেই তখন একজন ভদ্রলোক এসে দাঁড়ালেন, অনেকটা গা ঘেঁষে...ওর ব্যাগে লোকটার শরীর এসে লাগল।

     

    ইরিটেটিং...

     

    কিন্তু সরবে কোথায়, ওদিকেও জায়গা নেই। তাই ও নিজেই পিছিয়ে গেল কিছুটা। এদের সাথে কথা বলতে যাওয়া মহা সমস্যার, দু চার কথা শুনিয়ে দেবে...

     

    কোনও রকমে পরের বাসে উঠে পড়ল শরন্যা...দেখল লোকটাও উঠেছে...একদম পেছনে দাঁড়িয়ে...শরন্যা তাকালো না আর... এমনিতেই একটা দিক পুরো ভিজে গেছে, ব্যাগ আগলে যতক্ষন থাকা যায়।  জানালার দিকে একটা সিট খালি হতেই বসে পড়ল। লোকটা তখন এগিয়ে গেল দরজার দিকে।

     

    শরন্যা দেখল লাল আর কালো চেকের হাফ হাতা জামায় লম্বা একটা লোক ভিড়ের মধ্যে ঢুকে গেল...

     

     

    যথারীতি মেইল। খুব ভোর ভোর মেইল করে জলফড়িং, সময় বলে দিচ্ছে।  তবে আজকের মেইল পড়ে চমকে উঠল শরন্যা।

    ওতে লেখা,

    এই সময়টা ভালো না। বৃষ্টিতে না ভেজাই ভালো। সাবধানে থাকবেন।

     

    মানে? কাল কী লোকটা ছিল কোথাও, দেখেছে কিছু?

     

    অনেক প্রশ্ন ঘিরে ধরছিল শরন্যাকে, কিন্তু অফিস যাবার তাড়া আছে...নতুন চাকরিতে লেট করে লাভ নেই।

     

    আজ শীনাদির ডাক পড়ল। ম্যাডাম শীনা অল্প কদিনেই শরন্যার খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে। সিরিয়ালে লেখা ওনার সব গল্পগুলোই এখন হিট যাচ্ছে। এই গল্প লেখার জন্য ওনার একটা আলাদা ঘর আছে। সবার সেখানে প্রবেশ নিষেধ, পেয়ারের কজন ছাড়া অন্য কারো যাওয়া মানা। তবে শরন্যাকে বেশি বেগ পেতে হলোনা। এক মাসের মধ্যেই এই অসাধ্য সাধন হলো।

     

    ঘরে ঢুকতেই শরন্যা মোটামুটি হতবাক...জানালার দিকে বড় একটা সোফা কাম বেডে কিছুটা এলিয়ে আছেন শীনাদেবী আর তাঁর ভক্তরা মানে দু জন দু সোফায়...আরো দুটো খালি। শরন্যা ঢুকেই তার একটাতে প্রায় শীনাদেবীর মুখোমুখি বসে পড়ল...দেখল  কলমটা তার আঙুলে ক্রমাগত ঘুরছে, আর চোখ বন্ধ।

     

    বোঝা গেল, গল্পের সরভাজা হচ্ছে। একটু পরেই পরিবেশিত হবে। শরন্যাও ওনার চোখ মেলার অপেক্ষায় বসে রইল কিছুক্ষণ...এদিকে আজ হাফডে-র কথাটা বোধহয় আদৌ বলা যাবেনা।

     

    শীনাদেবী চোখ খুলেই গড়গড়িয়ে কিছু লিখলেন। দেখে মনে হলো যা চাইছিলেন তেমনটাই খুঁজে খেয়েছেন। এরপর শরন্যার দিকে চোখ গেল, কিছু বলবে?

     

    হ্যাঁ, আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে চাই...ইনফ্যাক্ট হাফ ডে হলে ভালো হত।

     

    ওকে যেও। কিন্তু অনন্ত আজ আসেনি। একবার ওর কেবিন থেকে কালকের দেওয়া ফাইলটা রেখে যেও এখানে। একটা স্ক্রীপ্ট দিয়েছিলাম ফাইনালাইজ করতে। জানিয়েছিল, হয়ে গেছে। বাট সাবমিট করতে ভুলে গেছে বোধহয়...

     

    আচ্ছা, বলে শরন্যা বেরিয়ে গেল।

     

     

    লোকটা একতরফা লিখে যায় নিজের কথা...বিনিময়ে কখনও বলেনা চিঠি দেবেন বা উত্তরের প্রত্যাশায়...

     

    এই ব্যাপারটা অল্প হলেও শরন্যাকে ভাবায়। ওর মনে হয় কেউ যদি ওর সাথে দিনের পর দিন এমন করত, ও ব্লক করে দিত তাকে...কিন্তু এ এমন নয়... একটু অনধিকার চর্চা হয়তো প্রথমেই করে ফেলেছে, সরাসরি প্রবেশ চেয়েছিল ফ্রেন্ডলিস্টে...কিন্তু শরন্যার কাছে বন্ধু শব্দটা ভীষণ দামী...গোনাগুন্তি কজন মাত্র, বাকি ও নিজেই রাখেনা...

     

    আজকাল দিনের একবার ভাবনায় এসেই যায় জলফড়িং... আর এই জিমেইলটাও এমন, মোবাইল খুলতেই চোখে পড়বে।

     

    সেদিন ফাইল নিতে গিয়ে অনন্তর কেবিনে গেল শরন্যা। বেশ গুছানো ভদ্রলোক...যেখানে যেমনটি চাই, তেমনি আছে...

    ড্রয়ারে হাত দিতেই দেখল সযত্নে রাখা “শেষের কবিতা”... পৃষ্ঠা সংখ্যায় বুকমার্ক এঁটে ভাঁজ হয়ে আছে।

     

    যতটা কল্পনা করেছিল, অনন্ত যেন তার বিপরীত মানুষ...

     

    সেদিন দেরী করেনি শরন্যা। ফাইলটা দিয়েই বেরিয়ে গেছিল।

     

    একটা গেট টূগেদার রেখেছিল দেবারতি। ওরিয়ন মলের পাঁচতলায় যেতে হবে...এতগুলো লোক যাদের শুধু নামে এতদিন চিনত, আজ তাদের সাথে পরিচয় হবে।

     

    জায়গাটা অফিস থেকে বেশি দূরে না, তাও সময় মত যাওয়া চাই। ও যখন ঢুকছে তখনই দেবারতি জানালো বেশ কজন এসে গেছে, শুধু তুইই বাকি....

     

     

     

    মজলিশ হলো সেদিন মাত্র ছ জনের। সোশাল ডিস্টেন্সিং মানতে গিয়ে বাকি কজন এলো না। একদিক থেকে ভালোই হলো। যত কম লোক, আলাপ জমবে তত ভালো।

     

    দেবারতি সেদিন সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, যার মধ্যে একজনের নাম এই প্রথম শুনল শরন্যা। রূপায়ন নিয়োগী। খুব চুপচাপ মানুষ, কথা দু তিনটে বলছে শুধু, বাকি হ্যাঁ না দিয়েই কাজ সারছে। ওকে দেখে অল্প খটকা হলো শরন্যার। কোথায় দেখেছে ঠিক মনে করতে পারছেনা...

     

    দেবারতি জানালো, রূপায়ন চলে যাচ্ছে রবিবার...লকডাউন, আম্ফান সব মিলিয়ে আটকে থাকল বেশ কদিন এ শহরটায়...এবার ফেরার পালা...

     

    রূপায়ন ওর গত বইমেলায় প্রকাশিত বইটার কয়েকটা সংখ্যা দিল, তাতে শরন্যাও পেল একটা...রূপায়ন ফিডব্যাক দিতে বলল সবাইকে...বইটা পড়ে কিন্তু জানাতে হবে...

     

    এবার একে একে বিদায়ের পালা... একটু আগেই নম্বর আদান প্রদান হয়ে গেছে সকলের...তারপর যে যার মত গন্তব্যে ঘুরে গেল...

     

     

    বেশ কদিন জলফড়িংয়েরও কোনও ইমেইল নেই...সময় সব কিছু বুঝিয়ে দেয়...যা হয়েছে ভালোই হয়েছে...হয়তো একতরফা মেইল দিতে গিয়ে বোর হয়ে গেছিল লোকটা...

     

    আজ বাইরেও খুব বৃষ্টি... দু দুটো ছুটি জমে আছে শরন্যার...তাই ফোন করল অনন্তকে...অনন্ত এখন খুব ভালো বন্ধু।...

     

    আসলে বাইরের মানুষ ও ভেতরের মানুষের বিস্তর ফারাকটা চোখে পরে তখনই যখন ওই মানুষটাকে ঠিকমত জানা যায়।

    সে একেবারেই অন্য মানুষ, হ্যাঁ অল্প ইয়ার্কি ফাজলামি চলে, তবে মাত্রা রেখে। এন্ড হি ইজ সো কেয়ারিং...  

     

    ওকে একটা মেসেজ দিয়ে মোবাইল বন্ধ করল শরন্যা...আর মনে পড়ল একটা বই সেই কবে থেকে না পড়া হয়ে আছে.....

     

    আজ রোহিতেরও ফোন। ও জানতে চাইল এত চুপচাপ কেন...

     

    এর উত্তর এই মুহুর্তে শরন্যার কাছে নেই। তাই এদিক ওদিক একটু কথা বলে রেখে দিল...

     

    সময়টাও ভালো যাচ্ছেনা এখন। সব কাজেই উল্টোপাল্টা হচ্ছে। লেখালেখিতে প্রায় গুডবাই...তাই খুব কম যাওয়া আসা করে ফেসবুকেও।

     

    দেবারতিও ব্যস্ত থাকে ছেলেকে নিয়ে...মোবাইলও সারাক্ষণ বিজি...ছেলের অনলাইন ক্লাসে মা ও তিনি দুজনেই লেগে আছেন।

     

    এদিকে শীনাদেবীর একটা আধখানা গল্প লেখার ভার এখন শরন্যার ওপরে এসে পড়েছে যার এন্ডিং কিছুতেই হচ্ছেনা। এতে অনন্তর একটু হেল্প চাই।

     

    খুব সাফোকেশন লাগতে শুরু করেছে এই ঘরটাতে,শরন্যা তাই বারান্দায় এসে বসল...আর মোবাইলে এদিক ওদিক খুঁজছিল কিছু, তখনই চোখে পড়ল জলফড়িংয়ের ইমেইল...

     

    লিখছেন না কেন? রোজ আসি, আপনার লেখা খুঁজি তারপর নিরাশ হয়ে ফিরে যাই। আর আমার বইটা পড়া হলে জানাবেন। অপেক্ষায় আছি।

     

    ইতি,

    -          জলফড়িং

     

     


  • ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১৩৭ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
কবিতা  - Anamika Das
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ruru Taj | ৩০ জানুয়ারি ২০২১ ০০:২১102187
  • ভালো লাগলো।  শেষটা হয়েছে চমৎকারভাবে। 


    আহা! আমাকে যদি কেউ চিঠি লিখতো! 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন