• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ  গুরুচন্ডা৯ বারো

  • অর্ধেক আকাশ

    প্রগতি চট্টোপাধ্যায়
    আলোচনা | বিবিধ | ০৩ জুন ২০০৮ | ৫১৬ বার পঠিত
  • অর্ধেক আকাশ ঠিক কতটা, জানা বেশ মুশকিল।
    তবু তাকে অর্ধেক আকাশের মালিকানা দেওয়া হলো।

    যেমন ইন-ইয়াং চক্রটিতে দেখা যায়, আধাআধি কালো রঙের ইন-এর পাশে আধাআধি সাদা রঙের ইয়াং--দু'জনে সমতাবদ্ধ-- তেমন বলা হলো তাকে, 'তোমরাই তো ধরে রাখো অর্ধেক আকাশ'।

    যখন আকাশে লাল তারা উঠল,আর সাথে সাথে শতাব্দীটির বয়স হ'লো উনপঞ্চাশ-- যখন ক্যুওমিনটাং-কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হ'লো-- আর যখন মৃত্যু, যুদ্ধ, এবং ভাঙা দেশের অরাজকতা পিকিং-অপেরার বিকৃতানন প্রেতটির মত দেশবাসীকে আর ভয় দেখাতে পারলো না-- তখন সকলের মনে হ'লো, দেশটি প্রায় পঞ্চাশ বছরের অসুস্থতা কাটিয়ে উঠবে এবারে।
    চেয়ারম্যান মাও সামনে আছেন।

    দেশটি বেশ পুরোনো। দেশের ভাষাটিও। হাজার পাঁচেক আগে এই দেশের মানুষ নতুন রকম ভাবতে শুরু করে। সভ্যতার ক্যালিগ্রাফিতে আঁচড় পড়তে থাকে ... মিলেনিয়ার পর মিলেনিয়া যায়। আস্তে আস্তে রাজপাট বসে ... হান-মিং-তান-মাঞ্চু ..
    মানুষ বানিয়ে ফেলে লেখার কাগজ থেকে রেশম--আইসক্রীম থেকে বারুদ।
    আর সে বানায় জীবন, সমাজ। ঈশ্বরপ্রতিম সম্রাট থেকে ধাপে ধাপে নেমে, একেবারে শেষ ধাপে চাষি। দেশ-গাঁ এ জলছবির মত চৌখুপী জমীনে ধান বোনে তারা, বা কখনও কখনও যোয়ার। তোরণ-ওলা পরিপাটি শহরের বুদ্ধমন্দিরের টালি-বসানো ছাদে থাকে পাথরের ড্রাগন।
    শিশুরা শুনতে লাগলো বানর-রাজা আর চাঁদ-রাজকন্যার কাহিনি। কন্‌ফুসিয়াস-প্রতীতি আর তাও-তত্ত্ব, প্রতিদিনের জীবনের মাপ-জোক নিয়ে নিতে লাগলো।

    বিশ-শতকের প্রথম বছরগুলিতে, সম্রাট থেকে চাষি--মান্দারিন কর্মী থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু -- ইয়াং সে নদীর মাঝি থেকে জমিদারের চতুর্থ উপপত্নী-- এই 'যে যেখানে দাঁড়িয়ে-টাইপ সোসিও-পোলিটিক্যাল স্থিতি ভাঙ্গতে লাগলো, যখন সম্রাটের অবস্থান-ই বদলে গেল। পাঁচ বছরে গৃহবন্দী সম্রাট পু ই- এর কিশোর বেলা কাটতে লাগলো ফরবিড্‌ন সিটির বিশাল চত্বরে সাইকেল চালিয়ে আর ষোল বছরের মহিষীর সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলে। ১৯১১তে সান-ইয়াৎ সেনের রিপাবলিক ফর্মুলা ভাঙ্গনকালকে রুখতে পারেনি, কোনোমতেই। সমস্ত দেশ জুড়ে বড়-মেজ-সেজ ওয়ারলর্ড-রা দাপিয়ে বেড়াতে থাকে। পাশের প্রতিবেশী, দ্বীপভূমি- দেশটি এই সুযোগে ছেঁড়াখোড়া দেশটির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। ফরবিড্‌ন সিটির কিশোর, এক্ষণে যুবক, পু ই হলেন জাপান-অধিকৃত মাঞ্চুরিয়ার পুতুল-রাজা।
    ... মহাযুদ্ধ আছড়ে পড়ে, মানচিত্রগুলি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুড়ে খাক হতে থাকে শহর , মরতে থাকে মানুষ।
    জাপান দেশটির হৃদয় খোবলায়-- ধর্ষণে, হত্যায় ...
    পৃথিবীর যুদ্ধ একদিন শেষ হয়, দেশটির যুদ্ধ থামেনা ..
    ক্যুওমিনটাং পেছনের দরজাটি বেছে নেয়, কমিউনিস্টরা সামনের ...

    একদিন ... দেশটির আকাশে লাল রঙের তারা ফুটে ওঠে।

    কিন্তু, দেশের ইন-চিহ্নধারিণীরা, এই নতুন তারা-ওঠা সময়ে কি ভাবছিলো?
    সহস্রাধিক বছর ধরে তাওতত্ত্ব, কনফুসিয়াসের জীবনবিষয়ক বাক্যগুলি নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদের --' ভালো মেয়ে হও ... ভালো বউ হও ... সোনার চাঁদ ছেলে পেটে ধর ... কাপড়ে বাঁধা তিন-ইঞ্চি পায়ের পাতা ব্রোকেডের জুতোয় ঢেকে, টলোমলো হেঁটে বুদ্ধ-মন্দিরে পুজো দিয়ে এসো ... বরের চার নম্বর উপপত্নী হয়ে তার বিছানায় শোবার আগে আভূমি কো-টাও কর ... অবসর সময়ে সখীদের সঙ্গে মা-জং খেল ... আর এত কিছু করার পর মন ভালো না থাকলে আফিমের নেশা ধর ...

    'তোমার যদি মোরগের সঙ্গে বিয়ে হয়, মোরগকে মান্য কর। তোমার যদি কুকুরের সঙ্গে বিয়ে হয়, কুকুরকে মান্য কর।'---- প্রাচীন চৈনিক প্রবাদ।

    উত্তাল কমিউনিস্ট-ঝড়ে দেশের অনেক সামাজিক ইমারত চূর্ণ-বিচূর্ণ হলো। গাঁয়ে-গঞ্জে জমিদারি-প্রথা ধুয়ে-মুছে সাফ হলো। কঙ্কুবাইনেজ গেল,নিরক্ষরা চাষি-বউ থেকে সাংহাই-এর কনভেন্টে পড়া, প্রাক্তন পুঁজিপতির মেয়ে এক সঙ্গে পার্টিতে যোগ দিলো। তাদের স্বামীরা হলো তাদের কাঁধে-কাঁধ মেলানো কমরেড। চেয়ারম্যান যে-ভাবে নতুন চিন গড়তে চলেছেন, তার সেই রোড-ম্যাপটি কিশোরী-তরুণীদের কোটের পকেটে রইলো।
    সেই কোটের ছাঁট ক্রমে হলো ঢলঢলে, কাপড়ের রঙ হোমোজেনিয়াস ধূসর অথবা নীল।
    প্রসাধনের কৌটো গেল, জেড-পাথরের দুলটি গেল।

    চেয়ারম্যান মাও বলেছেন তাদের অর্ধেক আকাশ হতে--- তাই তারা হতে চায়।

    ১৯৯১ সালে একটি বই প্রকাশিত হয়---' ওয়াইল্ড সোয়ানস্‌- থ্রি ডটার্স্‌ অফ চায়না।' লেখক, ইউং চ্যাং। পরবর্তী দশক জুড়ে, এবং বর্তমান কাল অবধি বইটির বিক্রী হবে প্রায় দশ মিলিয়ন কপি। তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হবে ' ওয়াইল্ড সোয়ানস্‌'। এবং এই বইটি হবে পাবলিশিং জগতের কাল্ট-ফিগার।
    বইটিতে কি আছে?
    একটি চিনা পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনি।
    বনহংসিনীদের কথা, যারা উড়েছিলো এবং উড়তে চেয়েছিলো ... অর্ধেক আকাশে কিম্বা পুরো আকাশে-ই ...
    একটি বিক্ষত দেশ, তার কমিউনিজ্‌ম-দীক্ষা, দুর্ভিক্ষ, কালচারাল রেভল্যুশনের দশকব্যাপী হরার-কাহিনি -- এই সবকিছুর মধ্যে একটি পরিবার, তার মেয়েরা , কিভাবে বাঁচবে এবং বাঁচাবে---তার সোজা ভাষার তীব্র আলেখ্য, 'ওয়াইল্ড সোয়ানস্‌'।
    বইটির কথাকার, তৃতীয় প্রজন্ম -- ইউং চ্যাং। যে-মেয়েটির জন্ম ১৯৫২ তে, সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন শহরে।
    কিন্তু ইউং-এর দিদিমার জন্ম আরও অনেক আগে, ১৯০৯ এ। ভয়ঙ্কর শীত আর রুক্ষ মাটির দেশ, মাঞ্চুরিয়ার এক ক্ষুদ্র জনপদে। সাধারণ চিনা পরিবার, যারা বংশগত ভাবে 'হান' চিনা , কিন্তু চাকুরি-সূত্রে মাঞ্চুরিয়ার অধিবাসী।
    নবজাতা কন্যাটি'র দু'বছর বয়সে পা-বাঁধা শুরু হবে। কুড়ি ফুট কাপড়ের ফালিতে পায়ের আঙ্গুলগুলিকে দুমড়ে বেঁধে রাখা হবে, পায়ের মাংস পচে দুর্গন্ধ বেরোবে, যন্ত্রণায় চিৎকার করবে শিশুটি, তবু পা-বাঁধা চলবে, যাতে মেয়েটির পা- দু'টি দেখায় 'তিন- ইঞ্চির সোনার কুমুদ ফুল'-এর মতন। যা চিনা পুরুষের কাছে চূড়ান্ত এরোটিক।
    ১৯২৪ এ, পনেরো বছর বয়সে মেয়েটি ভেট-প্রদত্ত হয় পঞ্চাশের কাছাকাছি এক সামন্তপ্রভুর হাতে, তার অগণিত কঙ্কুবাইনের মধ্যে একজন হতে।
    ১৯৩১ এ তার একটি মেয়ে হয়। ইতিমধ্যে সামন্তপ্রভুটি মারা যান, মাঞ্চুরিয়ায় জাপানি পুতুল-রাজ্যটি অধিষ্ঠিত হয়। ইউং চ্যাং এর দিদিমা পুনর্বিবাহ করেন এক সদাশয়ী ডাক্তারকে। শিশুকন্যাটির নাম হয় ' দে- হং'। 'হং' শব্দটির অর্থ, বনহংসিনী।
    বনহংসিনীটি আকাশে উড়তে শিখবে … সে, তার মা আর স্নেহময় সৎ পিতার বাড়ীটি আনন্দের ... নববর্ষের সন্ধ্যায় আকাশ হাউই-বাজির আলোয় আলোময় ... ড্রাগন রাস্তায় নাচে এঁকেবেঁকে ... কাগজের লণ্ঠন সন্ধ্যাবাতাসে কাঁপতে থাকে।
    কিন্তু অচিরেই এই শিশু বনহংসিনীটির শহরে অগ্নিবলয় ঘিরে আসে। প্রথমে, জাপ-শাসনের বর্ণনাতীত নিষ্ঠুরতা, পরে মহাযুদ্ধের আঁচ। যুদ্ধের শেষের প্রহরে শহরটি আকাশে চক্কর দেবে আমেরিকান বি-২৯ ফাইটার প্লেন।
    চোদ্দ বছরের নির্ভীক স্কুলছাত্রীটি বিপ্লবের দিকে এগোতে থাকবে ... ক্যুওমিনটাং-কমিউনিস্ট লড়াই চলছে প্রতিটি শহরে ... দেশটিকে ঘিরে আছে মৃত্যু,অনাহার আর লাখে লাখে নারীধর্ষণ।

    পার্টির কাজ করতে করতে ' কমরেড ওয়াং' এর সঙ্গে দে- হং এর আলাপ। 'কমরেড ওয়াং' বিপ্লবের জন্য নেওয়া নম দ্য গ্যের। শেষ-কুড়ির এই শান্ত যুবকটি সিচুয়ান প্রদেশের। তিরিশের দশক থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মী। এবং এক সঙ্গে চিরন্তনী চৈনিক সাহিত্য এবং মার্ক্স-লেনিনের মনোযোগী পাঠক।
    পার্টির কাজ করতে করতেই বিবাহটি সংঘটিত হলো। এই বিবাহে নেই বরের বাড়ী থেকে পাঠানো লাল সিল্কে মোড়া সেডান-চেয়ার, জেড-পাথরের গয়না বা কারুকার্যখচিত চার-ছত্রির খাট। পুরাতন বুর্জোয়া-রীতিগুলিকে ঝাঁট-পাট দিয়ে সরিয়ে রেখে-ই আঠারো বছরের তরুণীটির বিবাহ হলো তার কমরেডের সঙ্গে। একটিমাত্রই কাজ ছিলো এই বিবাহে, রেজিস্ট্রেশনটি পার্টি অফিস থেকে সংগ্রহ করা।
    এর মধ্যেই কমিউনিস্ট-উত্থানটি সারা দেশ ছেয়ে ফেলে। কমরেড বর-বধূ পার্টির আদেশে সিচুয়ানের দিকে আরেক 'লং মার্চে' যোগ দেয়। এই বিশাল , বন্ধুর যাত্রাপথে মুষলধারার বৃষ্টি আর খরস্রোতা নদী পেরিয়ে আঠারো বছরের গর্ভবতী মেয়েটি আর হাঁটতে পারে না ... পথেই তার গর্ভপাত হয়। এক সময় তারা পৌঁছয় ছোট্টো শহর ইবিন এ।
    এই শহরেই 'বনসংসিনী'টি তার বাসা বাঁধে, পরপর হয় দুই মেয়ের মা।
    দ্বিতীয় কন্যাটির নাম রাখা হয় ,'এর- হং' -- দ্বিতীয় বনহংসিনী। মেয়েটি যখন একটু বড় হবে, ষাটের দশকে-- তখন সে তার নামের ওপর একটু জঙ্গি প্রলেপ দিতে চাইলে মেয়েটির বাবা নার নাম রাখলেন, 'ইউং। ইউং শব্দটির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের আভাস।

    সিচুয়ানের চেংডু শহরে ইউং চ্যাং বড় হতে থাকেন। একদিন দেশের বিধাতা মাও জারি করলেন ' গ্রেট লিপ ফরোয়াড'-এর হুকুম। ইস্পাত-উৎপাদনে দেশকে এগোতে হবে পুঁজিবাদী দেশগুলির অনেক আগে। আট বছরের ইউং-এর কাজ হয় স্কুলে যাবার রাস্তায় খুচরো পেরেক, ভাঙ্গা লোহার টুকরো কোঁচড় ভরে সংগ্রহ করা। কমিউনের বিশাল ফার্নেসে যা নিক্ষিপ্ত হয়, প্রতিদিন। রান্নাঘরের কড়াই, লোহার বাসনও ফেলা হয় ফার্নেসে ... বাড়ীতে রান্না করা নিষিদ্ধ হয় ... সবাই খায় কমিউনের রান্নাঘরে।
    এইসময়েই এল চড়াই পাখি-বিলোপের হাওয়া। মাও বলেছেন, চড়াই পাখি শ্রেণীশত্রু, তারা ফসল খেয়ে নষ্ট করে-- অতএব চেংডু শহরের ছোটো মেয়েটি আর তার বন্ধুরা কমিউনের মাঠে চড়াই পাখিদের তাড়ায়, রোজ বিকেলে ... যেহেতু চড়াই পাখিরা বিপ্লবের শত্রু ...
    চড়াই পাখিতে শস্যদানা খাক আর না খাক, বিকট এক দুর্ভিক্ষ এসে দাঁড়ায় দেশটির সামনে। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬১। ইয়ুং যখন বালিকা। বাড়ীতে তাদের খাওয়ার অসুবিধে হয় না। বাবা-মা দুই পার্টিকর্মীর ফুড কুপনের খাদ্য একত্রিত করে বাবা-মা দিদিমা আর ছেলেমেয়েদের খাওয়া হয়।
    ঘরের বাইরে লোক মরতে থাকে, শুকোতে থাকে উইলো গাছের শুকনো পাতার মতন ... বালিকাটি বড় হয়ে জানতে পারে দুর্ভিক্ষে মারা যান মৃত চড়াই পাখিদের থেকে বেশী সংখ্যায় সাধারণ চিনা নাগরিক।
    ইয়ুং-এর বালিকাবেলাটি এগোয় ....
    ষাটের দশকের শুরুতে-শুরুতেই মাওতন্ত্রের ফাঁস তীব্র হয়ে আসে। ইউং আর দেখতে পায় না মায়ের নীল-সাদা চেক স্কার্ট, ব্লাউসের ছাঁট হয় ঢলঢলে।
    চড়াইপাখি থেকে বাগানের ঘাস, ফুল, পোষা পশু-পাখি, সবাই হতে থাকে ঘৃণ্য বুর্জোয়া-অভ্যাসের চিহ্ন।

    চারিদিকে তখন 'ডাইনি-খোঁজা'র হিড়িক। কে 'পুঁজিপন্থার প্রছন্ন শরিক', কে 'ছায়াবৃত দক্ষিণপন্থী', কে 'মাও-বিরুদ্ধ চিন্তাবাদী'---ওলোট-পালট করে খোঁজা চলে দেশটিতে।
    ইউং-এর শুদ্ধাচারী কমিউনিস্ট বাবা বিষাদে ডুবতে থাকেন ... পবিবারটি কোনক্রমে গুছিয়ে রাখেন মা-দিদিমা।
    এবং একদিন শহরে এসে পড়ে কালচারাল রেভোল্যুশনের কঙ্কাল-নৃত্য ... ইউং-এর দু' হাজার বছরের পুরোনো স্কুল-বাড়িতে ভাঙ্গা হয় যাবতীয় অ্যান্টিক, ক্লাসিকাল চিনা সাহিত্য-সমৃদ্ধ লাইব্রেরিটির পাঁজর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ধূপ জ্বালানোর বিশাল তাম্রপাত্রটি কিশোর রেড গার্ডদের প্রস্রাবে ভরে যায়।
    ইয়ুং -এর স্কুলে পড়াশোনা নেই, শিক্ষক-নির্যাতনই একমাত্র সিলেবাল। সরু বেঞ্চির ওপর একটানা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন ... মাথা অর্ধেক করে কামিয়ে থুতু ছেটানো হয়, ইংরেজি শিক্ষকের গালে চড় মারে তের বছরের কিশোর ...

    ইয়ুং-এর বাড়িটি ক্রমে অন্ধকারে ডুবতে থাকে। জানলা-দরজাগুলি হঠাৎ কেমন বন্ধ হয়ে আসে .... ভয়,বিষাদের আলো-হীনতায় নি:শ্বাস যেন নেওয়া যায় না আর। ইয়ং-এর বাবা, মাও-কে সরাসরি সম্বোধন করে একটি চিঠি পাঠান--- ঠিঠিতে লেখেন এই আতঙ্ক-রাজের নিরর্থকতার কথা। এই 'চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল' কাজের জন্য প্রতিদিন অমানুষিক শারীরিক নিগ্রহের সহ্য করতে হয় ইউং-এর বাবা কে, এবং বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মাকে। সকালে বেরিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ে ফেরেন তাঁরা, বাবার পাঁজর প্রায় দুমড়ে যায় একদিন মার খেয়ে ... পার্টির শাস্তিবিধানের মিটিং-এ মাকে হাটু গেড়ে বসতে হয় ভাঙ্গা কাচের টুকরো'র ওপর ..... ইউং-এর দিদিমা,এখন মধ্যবয়সিনী--- শান্ত স্টোয়িসিজমে একটি একটি করে তুলে আনেন কাচের টুকরোগুলি, জামাতার পাঁজরের আঘাতে দেন চৈনিক ওষুধের পুলটিশ .... রাস্তায় গাধার টুপি পরিয়ে ইউং-এর মাকে ঘোরানো হয় , গলায় ঝোলানো থাকে সুন্দর ক্যালিগ্রাফিতে নির্মম অপমান ... শুদ্ধাচারী কমিউনিস্ট বাবার চেতনা আস্তে আস্তে ডুবতে থাকে তীব্র মানসিক অবসাদে ...

    এইভাবেই পরিবারটি আঁধারে ... আরও আঁধারে সমাছন্ন হয়। পাঁচটি ভাই-বোনের ছেলেবেলা, কিশোরবেলা বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। ষাটের দশকের শেষ-বছরগুলিতে পরিবারের এক-এক সদস্য এক-এক স্থানে প্রক্ষিপ্ত হয়। ষোলো বছরের ইয়ুং-কে পাঠানো হয় 'চাষির জীবনে বাঁচা' শিখতে-- দূর প্রান্তের গ্রামে। শুয়োর-খোঁয়াড়ে কাজ করতে করতে, ধান রুইতে রুইতে ইউং মনে করেন লু শুনের কবিতার লাইন, চেষ্টা করেন বাবার কাছে শেখা ক্লাসিক্যাল চিনা ভাষায় মিতাক্ষর পদ ভাঁজতে ..
    মা-বাবা থাকেন দু'টি আলাদা আলাদা গুলাগে, যেখানে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় তাঁরা ইঁট ব'ন, শুয়োর-এর খোঁয়ার পরিস্কার করেন, দিনান্তে একটি নুড্‌লের বাটি পান।
    একদিন খবর আসে , দিদিমা নেই। প্রায় অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা গেছেন।
    'চাষির জীবন' শেখার পর ইউং উৎক্ষিপ্ত হন আরও বিভিন্ন জীবিকায় ... নগ্নপদ চিকিৎসক থেকে ফ্যাক্টরি'র ইলেক্ট্রিশিয়ান।
    বাহাত্তরের মাঝামাঝি গুলাগ থেকে ছাড়া পান ইউং-এর বাবা-মা।
    এরমধ্যে, লিন বিয়াও মারা যান। নিক্সন চিনে আসেন। এই নতুন বদলের উঠবো-উঠবো সময়ে স্কুল-কলেজের পড়াশোনা শুরু হতে থাকে। কিন্তু স্কুল বা কলেজে প্রবেশের জন্য তখনও দরকার প্রোলেতারিয়ান অভিজ্ঞতা। প্রাক্তন 'চাষি' এবং 'কারাখানা কর্মী' হিসেবে সিচুয়ান ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি পড়তে আসেন ইউং।

    ... এরপরে 'বনসংসিনী'টি শুধু উড়বে, উড়তেই থাকবে ... একদিন সে পৌছে যাবে অন্য দেশের আকাশে ...

    ছ'শো ছিয়াত্তর পাতার 'ওয়াইল্ড সোয়ান শেষ করে তার মুখবন্ধে ইউং লিখেছেন, ''Much of the book is the story of my mother. I hope I have done her justice."

    ইউং-এর মায়ের প্রজন্ম, আর তার পরের, প্রায় নব্বই-এর দশক পর্যন্ত চিনা মেয়েদের নিয়ে লেখা আরেকটি বই ভীষণ , ভীষণ হৃদয়স্পর্শক। শিনরানের লেখা , 'দি গুড উইমেন অফ চায়না'। বইটি অপেক্ষাকৃত নবীন। ২০০২ সালে প্রকাশিত। ইউং 'ওয়াইল্ড সোয়ানস্‌' লেখেন ইংরেজিতে, শিনরান লিখেছেন চিনা-তে। এবং ইংরেজি অনুবাদ করিয়েছেন। নিজের পরিবারের কথা দু'টি পরিচ্ছদে থাকলেও, বইটি সকল স্তরের চিনা মেয়েদের জীবনের উদ্বেলিত ঋজুকথন। উনপঞ্চাশের বিপ্লবের পর থেকে নব্বই-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত। আশির দশকের শেষে শিনরান একটি রেডিও-প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতে শুরু করেন, 'রাতের বাতাসে শব্দেরা'। যেখানে মেয়েরা তাদের কথা বলতো। শিনরান তাদের সাক্ষাতকার নিতেন, আবার তাদের পাঠানো চিঠিপত্রও পড়তেন। ... আর এইভাবেই উঠে আসতো চিনের শিষ্ট মেয়েদের কাহিনি। মেয়েরা নানা বয়সের। পঞ্চাশের দশকে যাদের তরুণীবেলা কেটেছে পার্টি-নিয়ন্ত্রিত হয়ে-- পোষাক থেকে স্বামীনির্বাচনে, ষাট-সত্তরের দশকে যারা কালচারাল রেভোল্যুশনের আশাহীন-স্বপ্নহীন বছরগুলি কাটিয়েছেন, আশি-নব্বই-এর দশকে যারা 'খোলা খিড়কি' দিয়ে একটু উড়তে চাইছেন দূরের নীলাকাশের দিকে ...
    শিনরানের ক্যানভাসটি বেশ বড়।
    কাহিনিগুলি শিনরান জমিয়ে রেখেছিলেন । একটি খেরোর খাতায় এবং মনের মধ্যে। এবং ইয়ুং-এর 'ওয়াইল্ড সোয়ানস্‌'-এর মত একদিন বই হয়ে বাইরে এল তারা। লুকোনো কণ্ঠস্বরের বই হয়ে। হং শু, যে মেয়েটিকে তার বাবা দিনের পর দিন ধর্ষণ করে, বারো বছরের যে মেয়েটি- বিক্রীত বধূ হিসেবে এক প্রান্ত-গ্রামে থাকতে আসে, উচ্চপদের পার্টি ব্যাক্তিত্বের কাগজকুড়ানী-মা আর ক্যুওমিনটাং জেনারালের মেয়ে, যে বালিকা বয়স থেকে অত্যাচারিত হতে থাকে শুধু 'ক্যুওমিনটাং' শব্দটি তার পরিবারের সংযুক্ত হয়েছিলো বলে। শি-লিন নামের এই মেয়েটি কে 'চাষি' হিসেবে এক সুদূর গ্রামে থাকতে পাঠানো হয়। নব্বই-এর দশকে মেয়েটির খোঁজ পায় তার পরিবার--তখন সে মধ্যবয়সিনী, মানসিক বিকারে আচ্ছন্ন। তার এক স্তনবৃত্ন ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে, যোনি ক্ষতবিক্ষত। আন্টি চেন এবং মিসেস তাং-এর মতন মায়েদের কথা উঠে এসেছে শিনরানের বই-তে , যে মায়েরা পরম যত্নে-ভালোবাসায় পালন করেন ১৯৭৬-এর তাংসাং ভূমিকম্পে অনাথ ছেলেমেয়েদের। যে ভূমিকম্পে তাঁরা নিজের ছেলেমেদের হারিয়ে ছিলেন, যে ভূমিকম্পে তি ন লাখ মানুষের প্রাণহানি হয় আর যে ভূমিকম্পের খবর বেজিং পৌছয় বিদেশি সংবাদসংস্থার মাধ্যমে। কিম্বা, 'শাউটিং হিল' নামের প্রত্যন্ত গ্রামটির কথা-- যেখানে একটি পাজামা বাড়ির আটটি মেয়ে ভাগাভাগি করে পরে, বিক্রীত বধূ হিসেবে অন্য গ্রামে যায়, ঋতুরক্ত শোষণের জন্য একফালি কাপড়ও তারা পায়না, ব্যব্যহার করে গাছের পাতা। এই মেয়েদের শিনরান দেখেছেন ১৯৯৬-তে, যখন চিনের জিডিপি বছরে নয় দশমিক হারে বাড়ছে।
    শিনরান এই ভাবেই লিখেছেন চিনের শিষ্ট মেয়েদের কাহিনি।
    দু'টি পরিচ্ছদে এসেছে নিজের বালিকাবেলার কথা, মায়ের কথা ....

    ১৯৫৮-এ জন্ম শিনরানের। কালচারাল রেভোল্যুশনের বিষবাস্পে শুকিয়ে যায় ছেলেবেলা। ১৯৪৯-এর আগে বাবা এবং মা-- দু'জনের পরিবার-ই ছিলো ধনী ব্যাবসায়ীর। এই অপরাধে ষাটের দশকে তাঁরা দু'জনেই অন্তরীণ হন। সাত বছর বয়সে প্রথম বাবা-মার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। একদিন তাদের বাড়ীতে আসে রেড গার্ড-রা, বুর্জোয়া স্মৃতিচিহ্নগুলি আগুনে পোড়াতে .... বই, অ্যান্টিক ইত্যাদি পোড়ানোর সঙ্গে বালিকা শিনরানের সিল্কের রিবন-বাঁধা জোড়া-বিনুনি কাঁচিতে কেটে উঠোনের বন -ফায়ারের নিক্ষিপ্ত করা হয় ... বালিকাটিকে বলা হয়, এমন বুর্জোয়া হেয়ার- স্টাইলের দু:সাহস আর না করতে।
    শিশুরা তখন 'রেড', 'ব্ল্যাক' বা 'গ্রে' এই তিনটি পরিবারের হতে পারতো। শিনরান ছিলেন ' ব্ল্যাক' পরিবারের, যেহেতু তাঁর পরিবারের আগের পুরুষরা ছিলেন ব্যবসায়ী। বাবা-মা আবার জেল-এ গেলে অন্যান্য অস্পৃশ্য শিশু বা 'ব্ল্যাকদের' স্কুলে পাঠানো হয় তাকে, তিন বছরের ভাই-এর সঙ্গে। পাঁচ বছর সেখানে থাকেন তারা। ইয়ুং-এর মতন এই পরিবারটিও ছিঁড়ে-খুঁড়ে যায়।

    ছেষট্টি থেকে ছিয়াত্তর। এই মৃত্যুদশকে নারীজীবন ঘিরে থাকে শুধু ভাঙ্গাচোরা দু:স্বপগুলি। মাও-এর সময় থেকে "যৌনতা' শব্দটি ছিল 'পুঁজিবাদ', 'প্রতিক্রিয়াশীলতা', 'দক্ষিণপন্থার' মতন অরুচিকর শব্দ। যেন যৌনতা এক দু:সহ রোগের জীবাণুবহনকারী--- যার ছোঁয়াচ পেলে বিপ্লব দৃকভ্রান্ত হবে। তাই যৌনতার সমস্ত ক্যাপিটালিস্ট চিহ্নগুলি ঘষে ঘষে তুলে ফেলা হয়। যৌনতা কে রুখতে নীরক্ত করা হয় নারীত্বকে, যাতে নিরীহ পুরুষটি বিপথে না যায়। তাই ইউং-এর মায়ের নীল-সাদা চেক স্কার্টের বদলে আসে ধূসর রঙের মাও-স্যুট, শিনরানের সিল্ক-রিবনে বাঁধা বিনুনি আগুনে পোড়ে। বালিকারা নিজের শরীর,এবং যৌনতা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অবচেতন থাকতে থাকে। শেষ-সত্তরে উনিশ বছরের শিনরান, কলেজের এক অনুষ্ঠানে এক শিক্ষকে হাত ধরার পর ভয় পেয়েছিলেন-- তিনি গর্ভবতী হবেন না তো , এ-জন্য?
    আর বালিকারা, যারা নিজেদের শরীর চেনে নি, রাষ্ট্র যাদের বালিকাবেলাতেই শিখিয়েছে, নারীচিহ্নগুলি এক অশুভ শক্তির প্রতীক-- হং শু, শি-লিনদের মতন বালিকারা-- বারবার ধর্ষিত হয়েছে বাবা, ভাই, মাস্টারমশাইদের দ্বারা।
    চিনে, বহুদিনের বিশ্বাস, বিবাহের পূর্বে মেয়েরা কোনোক্রমে পুরুষ-সংসর্গে আসলে তারা 'ছেঁড়া জুতো'তে পর্যবসিত হয়। আর 'ছেঁড়া জুতোরা' থাকবে সমাজের ছাইগাদায়, বা তারা মৃত্যু বেছে নেবে , তাদের পরিবারটিকে শুদ্ধ রাখতে। কিশোরীরা ধর্ষিত হবার পর, অর্থাৎ 'ছেঁড়া জুতো' হবার পর প্রায়শই আত্মহত্যা করতো। সাধারণত, এটাই কন্‌ফুসিয়াসের বিধান।
    কালচারাল রেভোল্যুশনে, পুরোনো চিনের 'চার প্রতীক', যথা-- পুরোনো ধারণা, পুরোনো সংস্কৃতি, পুরোনো বিধি এবং পুরোনো আচার চূর্ণ করার আদেশ সহর্ষে স্বীকৃত হলেও এই 'ছেঁড়া জুতোর' আইডিয়াটি থেকে যায় বেশ ভালো রকম। রেড গার্ডরা বিলক্ষণ বিশ্বাস করতেন এই পুরোনো বিধিটিতে। যে কিশোরীরা ' বিপ্লবের দ্বারা ধর্ষিত' হতো, অনেক সময়ই তারা বেছে নিত আত্মহনন। যাতে তাদের পরিবারটিকে 'ছেঁড়া জুতোর পরিবার হিসেবে , এবং এইজন্যই মাত্র, 'প্রতিবিপ্লবী পরিবার' হিসেবে চিহ্নিত না করা হয়।

    দেশটিতে মেয়ে-সন্তান বরাবরের অনাদরের। কনফুসিয়াসিত বিধানে মেয়ে-সন্তানটি অবহেলার। গরিব চাষি পরিবারে অনেক সময় কন্যাসন্তানটির নাম রাখা হতো না। 'একনম্বর মেয়ে', 'দু'নম্বর মেয়ে' -- এইভাবে তারা পরিচিত হতো। কোলে খোকা আসার জন্য বুদ্ধমন্দিরে ধুপ-বাতি জ্বলতো।
    উনপঞ্চাশের বিপ্লবের পর খুকীরা তেমনই ব্রাত্য থেকেছে। মাও পরিবার-পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন। তার মতে, তাঁর দেশের জনসংখ্যা যত বাড়বে, ক্যাপিটালিস্ট দেশগুলি ততই ভীত হবে পিপল্‌স্‌ রিপাবলিকের শক্তিসমাহারে। মাও অস্ত যাবার পর সত্তরের দশকের শেষ থেকে পরিবার পরিকল্পনার কঠোর নীতিটি নেওয়া হয়। এবং এই সময়ই চিনে আলট্রা-সাউন্ডের ব্যবহার শুরু হয়। পরের দশকের শেষে দেখা যায়, আলট্রা-সাউন্ডের গিয়োতিনে লাখে লাখে কন্যাভ্রুণ নিহত হয়েছে।
    সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্তফ ১৯৯৩ তে ফুজিয়ান প্রদেশের এক চাষির সঙ্গে কথা বলে জানছেন, গ্রামটিতে সে বছরে একটি মাত্র কন্যা জন্মেছে, বাকি সব পুত্রসন্তান। চাষিটি আরও জানান, কন্যাভ্রুণ নিধনের খরচা,দু'শো থেকে তিনশো ইউআন। ১৯৯৩ থেকে এখন পর্যন্ত , হারানো খুকীদের হিসেব হাতের কাছে নেই। কত হবে সেই সংখ্যা ?

    দেশটির দুই মেয়ে-সন্তান, দু'টি বই-এর মাধ্যমে দরজা খুলেছেন একটি দু:সহ কষ্টের অতীতের দিকে। আরও মেয়েদের বই, যেমন তিং- শিং ইয়েহ-এর থ্রো অ্যাওয়ে ডটার, আইপিং মু'র ভারমিলিয়ন গেট, আনহুয়া গাও'র টু দ্য এজ অফ দ্য স্কাই--- মাও-এর চিনের এবং তার পরের কাহিনি শুনিয়ে চলছে, একধরণের পরিশ্রুত স্ত্রী-অনুভবে।

    এইভাবেই দরাজা-জানালা, এবং ঘুলঘুলিগুলিও আসতে আস্তে খুলে যেতে শুরু করছে।

    যে দু'টি বই এই লেখাটি লিখিয়েছে :

    Wild Swans-- Three Daughters of China.
    Jung Chang.
    1991

    The Good Women of China
    Hidden voices
    Xinran. 2003

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৩ জুন ২০০৮ | ৫১৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন