• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  দোতলার এগজিট

  • দোতলার এগজিট - ৬

    মিঠুন ভৌমিক
    ধারাবাহিক | ২৫ জুলাই ২০২০ | ৬১৯ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আজি দখিন দুয়ার পর্ব-৩

    জর্ডন (সাড়ে ছ-লাখ) এবং লেবানন (নয় লাখ) উদ্‌বাস্তুদের সর্বঅর্থেই নতুন জীবন দিয়েছে যা কিনা নথিভুক্ত23। তুরস্ক অতটা না করলেও ছত্রিশ লাখ শরণার্থীকে নথিভুক্ত করেছে, তাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা সম্পর্কিত কিছু প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। সব কাজই যে ভালো হচ্ছে তা নয়, সুবিধাবাদী কাজকর্মের ইঙ্গিতও যথেষ্টই, এবং যতটা করা হচ্ছে তার থেকে ঢের বেশি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে এও ঠিক—তবু এইসব দেশগুলো মোটের ওপর ভালো-মন্দ যাই হোক একটা ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা সিরিয়া-সংকটের ফলে ঘর ছেড়ে আসা মানুষের কাজে লাগতে পারে24, 20। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় থাকা একমাত্র উপসাগরীয় দেশ, যারা সরকারি ভাবে বলতে পারছে ঠিক কতজন তাদের দ্বারা উপকৃত।


    তাদের ‘উপকার’ মোটের ওপর ভিসার মেয়াদবৃদ্ধি আর টাকাপয়সা দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ25:
    • ২০১১ সালে সিরিয়া-সংকটের শুরুর সময় থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ১০০,০০০ জনেরও বেশি সিরিয়া নাগরিকের রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে মোট বসবাসকারী সিরিয়া নাগরিকের সংখ্যা ২৪২,০০০।
    • ২০১২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত UAE ৫৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য করেছে: সিরিয়া-সংকটের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানবতাবাদী খাতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ও জার্মানির মিলিত প্রয়াসে তৈরি সিরিয়া রিকভারি ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে।
    • সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে আরও ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের অঙ্গীকার করেছে, যার মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    • উদ্‌বাস্তুসমস্যায় সাহায্যের জন্য UAE জর্ডনের Marajeeb Al Fhood উদ্‌বাস্তুশিবিরে অর্থসাহায্য করছে। শিবিরটিতে ৪০০০ সিরিয়া-আগত উদ্‌বাস্তু বাস করেন।
    • জর্ডন, লেবানন, ইরাক এবং তুরস্কের উদ্‌বাস্তু শিবিরগুলিতে গত দু-বছর* ধরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রায় ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য করেছে।
    • সংযুক্ত আরব আমিরশাহি রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন UNHCR প্রোগ্রামগুলিতে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য করেছে।
    • গ্লোবাল কোয়ালিশন এগেইনস্ট দয়েশ (ISIL)-কে সমর্থনের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সিরিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এ ছাড়াও কোয়ালিশন ওয়ার্কিং গ্রুপগুলিতে যৌথ নেতৃত্ব দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
    * ২০২০ সালের জুন মাসের হিসাব

    কয়েক বছর আগের কথা। সদ্য অধ্যাপনার চাকরি নিয়ে মধ্য এশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি, যার আপাদমস্তক ‘এক্সপ্যাট’ দিয়ে গড়া, শুধু মাথায় বসে আছে একটি দেশজ কমিটি। সেই কমিটি লেখাপড়া ও গবেষণা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো হয় বুঝত না বা বুঝতে চাইত না। মনে আছে, সায়েন্স ডিনের সঙ্গে একটি আলোচনায় আমি যখন ল্যাবরেটরির অভাব ও অতিরিক্ত পড়ানোর চাপে কীভাবে গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে সেকথা জানাই তিনি একটি অবিশ্বাস্য ‘ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়’ টাইপের স্টেটমেন্ট দেন, শুনলে অনেকটা “আগামী এতদিনের মধ্যে আপনারা কোভিডের ভ্যাকসিন বের করে ফেলুন, আমরা ১৫ আগস্ট এর উদ্বোধন করব”-র মতোই হাস্যকর লাগবে। বামপন্থী ও লিবেরাল রাষ্ট্রনেতারা অনেকটা সেই সায়েন্স ডিনের মতো করছেন। খুব ভালো ভালো, গোল গোল মানবতাবাদী কথা বলছেন তাঁরা, যেগুলোর সঙ্গে দ্বিমত হওয়ার অবকাশই নেই। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো কীভাবে করা হবে সেবিষয়ে খুব স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা উপযুক্ত সংগতি নেই। অবস্থা অনেকটা ওই ‘লাও তো বটে, কিন্তু আনে কে?!’

    আগের পর্বেই লিখেছিলাম, ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জর মানুষ ঘৃণার রাজনীতিতে সরে গেলে তাকে ক্ষমা করে দিতে হবে, এমনটা নয়। এতক্ষণ ধরে রাষ্ট্রনেতাদের যেসমস্ত ‘গুণপনা’র কথা বলা হল, সেই একই ছাঁচের মানুষ তাঁদের পক্ষে-বিপক্ষে ছড়িয়ে আছেন। কারা কখন কাকে মাথায় তুলে নেবেন তার বেশ খানিকটাই আইডেন্টিটি পলিটিক্স। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা আজকের ভোটে দাঁড়ানো নেতা ধুরন্ধর স্পোর্টস কোচের মতো অঙ্ক করে নেন, কোন্‌ এলাকার জন্য কোন্‌ ছক। টাকা, চাল, টিভি, মদ, (ফাঁকা) প্রতিশ্রুতি, নিম্নবর্ণ তাস, সংখ্যালঘু তাস, সংখ্যাগুরু তাস, দাঙ্গার তাস—যে যে খোপে ঢ্যাঁড়া পড়লে তাঁর নির্বাচন পাকা, তিনি সেই সেই খোপ ধরে খেলেন। সেইসব খোপে খোপে প্রচণ্ড ভালোমানুষি ও জঘন্য বদমায়েশির বিভিন্ন অনুপাতে তৈরি হওয়া লোক, ভোট দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এসবই আমাদের কাছে পুরোনো তথ্য। অসহায় মানুষের দুঃখকষ্ট আমরা মোটের ওপর মনেই রাখি, কিন্তু, অসহায় মানুষের স্বার্থপরতা, অসহায় মানুষের অন্য অসহায়দের প্রতি জান্তব নিষ্ঠুরতা—এইসব মনে না রাখলে পৃথিবী জুড়ে ঘটে চলা অমানবিক ঘটনাসমূহের গোড়ার কথা বোঝা যাবে না। সাধারণভাবে যাঁদের চারপাশে দেখি—পথেঘাটে, গণপরিবহনে, প্রতিবেশী ও সহকর্মী হিসেবে—তাঁদের মধ্যে সমস্ত ছাপিয়ে এক-একজন ভালোমানুষ টিঁকে আছেন দেখি। কিন্তু এই দেখার বাইরেও অনেকেই আছেন। ষাট বছরের বৃদ্ধার পায়ের ওপর নির্বিকারে অটো পার্ক করে দেওয়া মানুষ, জালিয়াতির ব্যাবসা খুলে সচ্ছল মধ্যবিত্ত থেকে ধনী হওয়ার পথে দু-দশটা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া মানুষ, স্বজনপোষণের জন্য দূর্নীতির চাষ করতে করতে ‘এগিয়ে’ চলা মানুষ, স্রেফ অপছন্দের জন্য একে অন্যের পেছনে কাঠি করা থেকে শুরু করে খুন করতে পারা মানুষ—জয় বাবা ফেলুনাথের ক্যাপ্টেন স্পার্কের মতো করে বলতে গেলে—সব সত্যি। বুঝে বা না বুঝে দেওয়া, বৈচিত্রময় জনসাধারণের এই সব ভোট গণতন্ত্রের মিনারে মণিমুক্তোর মতো ঝকমক করে।

    সুতরাং এটা মোটের ওপর বোঝা যাচ্ছে যে কেন একদল মিথ্যাবাদী, জেনোফোবিক, ক্ষেত্রবিশেষে ইসলামোফোবিয়ায় অভিযুক্ত, ক্ষেত্রবিশেষে অমানবিক, প্রগতিবিরোধী, ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষিত সমাজের বিরোধিতা করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে দূর্নীতিগ্রস্ত নেতারা (ও তারা যে দলের মুখ সেইসব দল) এত কিছুর পরেও সমর্থন পেয়ে যাচ্ছেন। ২৮ মে ২০১৯ ওয়াশিংটন পোস্টের একটা রিপোর্টে দুনিয়া জুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থার রবরবা সম্পর্কে বলা হয়, এই দলগুলি সুষ্ঠুভাবে সরকার চালানোর উপযুক্ত নয় কিন্তু এঁদের আবেদন সে কারণে কমবে না3। বলা হয়, এক-আধটা ছোটোখাটো অঘটন ঘটলেও এরা এখন বেশ কিছুদিন রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী থাকবে। যে দলগুলির (এদের মধ্যে নিও-নাজি দলও আছে) ক-দিন আগেও জামানত জব্দ হয়ে যেত, এখন তাদের আর যাই হোক ভোটের অভাব নেই। কেন নেই তার কিছুটা আন্দাজ আমরা ওপরের আলোচনা থেকে পেলাম।

    এর আগে লিখেছিলাম শুধু কট্টর দক্ষিণপন্থী নয়, বামপন্থী রাষ্ট্রনেতাদের কেউ কেউও অনায়াসে ম্যানড্রেকের গল্পের ভিলেনদের টেবিলে বসতে পারেন। এবার একটু বামশিবিরের প্রতিনিধিদের নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে। যেহেতু এখনও আমরা ইউরোপেই আছি, সেখান থেকেই শুরু করা যাক।

    ফ্রান্সের জঁ লুক মেনোশোঁ একজন অভিজ্ঞ ও পরিচিত বামপন্থী মুখ, দীর্ঘদিনের সাংসদ। নিও-লিবেরালিজমের কট্টর সমালোচক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বিরোধী, সম্পদের পুনর্বণ্টনের সমর্থক, অর্থনৈতিক গ্লোবালাইজেশন বা ভুবনায়নের বিরোধী। তাঁর অবস্থান নিয়ে সমালোচকরা আপত্তি করেছেন এই বলে যে তিনি আসলে বামপন্থী পপুলিজম-এর লোক। মেনোশোঁ নিজেও বলেছেন, বামপন্থী আদর্শের সঙ্গে যায় এমন পপুলিজম তাঁর পছন্দের। মেনোঁশোর আর-একটি বিতর্কিত অবস্থান হল রিইউনিয়ানিজম বলে বেলজিয়ামের ওয়ালোনিয়া প্রদেশের একটি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন। ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত ওয়ালোনিয়ায় ফরাসি ভাষাভাষি মানুষ থাকেন, এবং তাঁরা বেলজিয়াম থেকে বেরিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্ত হতে চান। অনুরূপ আর-একটি আন্দোলন চলছে ফ্ল্যান্ডার্সদের নিয়ে—তাঁরা ডাচ বলেন এবং তাই বেরিয়ে গিয়ে নেদারল্যান্ডের সঙ্গে জুড়ে যেতে চান। চরিত্রে ও ইতিহাসে আলাদা, কিন্তু একটি রাষ্ট্রের নেতা অন্য রাষ্ট্রের একটি প্রদেশের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছেন—এটা ভাবলে ভারতীয় উপমহাদেশের সীমান্ত সমস্যা বা রাশিয়া-ইউক্রেন তিক্ত লড়াই মনে পড়তে বাধ্য।

    সাধারণভাবে পশ্চিম ইউরোপে পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১৯৯০-এর দশক থেকে বেড়ে গিয়েছে বলে গবেষণায় প্রকাশ, যদিও দক্ষিণপন্থী দলগুলির কার্যকলাপ বা বাড়বাড়ন্ত নিয়ে আলোচনাই বেশি নজরে পড়ে31। এই দলগুলির মধ্যে এজেন্ডাগত কিছু অদ্ভুত মিলও রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান হল রাষ্ট্রবাসীকে দুই তরফে ভাগ করে ফেলা। একদল হল ‘pure people’, অন্য দলটি ‘corrupt elite’। পপুলিস্ট নেতারা আশ্বাস দেন, তাঁরা ‘এলিট’দের মতো হবেন না, নিজেদের কথা রাখবেন31

    খেয়াল করে দেখুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প, ভারতের মোদী, ইউরোপের বিস্তারিত তালিকায় থাকা পপুলিস্ট দক্ষিণ্পন্থীরাও এইভাবেই মেরুকরণের রাজনীতি করে এসেছেন, এবং সেখানেও অ্যান্টি-এলিটিজম একেবারে ওপরের দিকে। সঠিক হিন্দু আর pure people-এর মধ্যে কোনো তফাত নেই।

    জার্মানির পিডিএস (Party of Democratic Socialism) আগের নাম, এখন পিডিএস লেফট পার্টির সঙ্গে মিশে গিয়েছে) একটি বামপন্থী পপুলিস্ট দল হিসেবে পরিচিত, যার শিকড় পূর্ব জার্মানিতে। অ্যান্টি-এলিটিজম ছাড়াও ইমিগ্রেশন-বিরোধিতা এঁদের কর্মসূচিতে রয়েছে। এই দলের নেতা অস্কার লাফন্টেন প্রচারের আলোয় রয়েছেন উগ্র ইমিগ্রেশন-বিরোধিতা, উদ্‌বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়ার বিরোধিতা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতার জন্য। নির্বাচনি প্রচারে তিনি এমনকি একদা নাতসিদের ব্যবহৃত কথা ‘Fremdarbeiter’ (‘foreign workers’) ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ32। সমাজবাদী নেতা লাফন্টেন একটি প্রাসাদোপম অট্টালিকায় থাকেন, যার নাম প্যালেস অফ সোশ্যাল জাস্টিস33। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন সমাজবাদী আদর্শের পরিপন্থী কি না, তিনি বলেন, বামপন্থী রাজনীতিকদের গরিব হওয়ার দরকার নেই, তাঁদের দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করলেই চলবে33।

    এইরকম করে আমরা যদি ইতালি (জিউসেপ কন্তে), স্পেন (পাবলো ইগলেশিয়াস), গ্রিসের পার্টি সিরিজা, এবং নেদারল্যান্ডের সোশ্যালিস্ট পার্টির কার্যকলাপ দেখি, তাহলে শুধু ইউরোপেই বেশ কয়েকটি নাম পাওয়া যাবে। জিউসেপ (জোসেফও বলা যায়) কন্তে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন ইতালির এত মানুষের করোনা ভাইরাসে মৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক হলেও এর থেকে ভালোভাবে তাঁরা কোভিড-১৯ সামলাতে পারতেন না। আরও আগে লকডাউন করে দিলে মানুষ তাঁকে ‘পাগল’ বলত। খেয়াল করে দেখুন, এইই হল পপুলিজমের বৈশিষ্ট্য, যেখানে সঠিক-বেঠিকের হিসেবের থেকেও মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা বেশি প্রয়োজনীয়। কন্তের বিরুদ্ধে একগাদা বিতর্ক, মূলত তাঁর সিভিতে যেসব ডিগ্রির উল্লেখ আছে সেগুলো নিয়ে। মোদীর entire political science-এর মতো মোটা দাগের মিথ্যা না, মমতা ব্যানার্জির জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হাস্যকর দাবি নয়, সুচারু অর্ধসত্য আর মিথ্যা দিয়ে সাজানো কন্তের ফোলানো সিভি34। অন্যদিকে স্পেনের পাবলো ইগলেশিয়াসের Podemos পার্টি আঞ্চলিক রাজনীতি (যার শিকড় কিনা ভাষা ও সংস্কৃতিগত ভাবে স্বীয় স্বীয় অঞ্চলের এবং আলাদা) হাইজ্যাক করে নির্বাচনে কিস্তিমাত করেছে35, 36। তারা এখন তৃতীয় বৃহত্তম দল। যেসব আঞ্চলিক, প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট নিজেদের দিকে টেনে এনে তারা জিতেছে সেই ইস্যুগুলো তাদের নিজস্ব কর্মসূচির নয়, সেই আন্দোলনগুলিতে তারা কস্মিনকালেও অংশ নেয়নি। এরপরেও Podemos-এর পপুলিস্ট স্ট্যান্ড নিয়ে যদি সন্দেহ থাকে তাহলে আমাদের অন্যতম নেতা Íñigo Errejón-এর বক্তব্য জানতে হবে। জ্যাকোবিন পত্রিকার সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন37, “Podemos requires a new ‘national-popular’ strategy in order to win more elections।”

    এই তালিকা লম্বা করে লাভ নেই। বরং বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতিতে পপুলিজমের যে গুরুত্বপূর্ণ ছাপগুলো দক্ষিণপন্থী ও বামপন্থী—দুই তরফেই রয়েছে সেইটা বুঝে নিতে পারলেই আমাদের পক্ষে মঙ্গল। Podemos-এর মতো বামপন্থী আদর্শের দল, যারা পরিবেশ বাঁচানোর কথা বলে, মানুষের ভালোর কথা, অর্থনৈতিক সাম্যের কথা বলে—তাদের উত্থানের জন্যও দরকার হয় সোশ্যাল মিডিয়া সেল, মিডিয়ার অকৃপণ সাহায্য, ভেনেজুয়েলার ‘বিতর্কিত’ বিনিয়োগ35। ইউরোপের সমাজবাদী দলগুলো নিয়ে একটু ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যায় দক্ষিণপন্থী পপুলিস্ট মানেই খারাপ, বা নিও-লিবেরাল মানেই সন্দেহজনক আর বাম বা লিবেরাল দল মানেই স্বচ্ছ ও আপসহীন সৎ নেতৃত্ব—এইরকম মনে করলে বিপদ আছে।


    কথায় কথায় ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ এসে পড়ল। এবার আমরা ইউরোপ থেকে বেরোব।


    https://www.washingtonpost.com/world/2019/05/29/global-far-right-is-here-stay/

    23. https://en.wikipedia.org/wiki/Refugees_of_the_Syrian_Civil_War
    24. https://www.unhcr.org/tr/en/refugees-and-asylum-seekers-in-turkey
    25. https://www.uae-embassy.org/syrian-refugee-crisis-%E2%80%93-uae-contribution
    26. https://www.theatlantic.com/ideas/archive/2019/07/european-left-trouble/593506/
    27. https://en.wikipedia.org/wiki/Jeremy_Corbyn
    28. https://en.wikipedia.org/wiki/Alexis_Tsipras
    29. https://en.wikipedia.org/wiki/Jean-Luc_M%C3%A9lenchon
    30. https://en.wikipedia.org/wiki/Rattachism
    31. Otjes, S. & Louwerse, T., Political Studies.63, 1, p. 60-7920 p. (2015).
    32. https://en.wikipedia.org/wiki/Left-wing_populism#European_countries
    33. https://en.wikipedia.org/wiki/Oskar_Lafontaine
    34. https://en.wikipedia.org/wiki/Giuseppe_Conte#Controversies
    35. https://en.wikipedia.org/wiki/Podemos_(Spanish_political_party)#Ideologies_and_policies
    36. https://en.wikipedia.org/wiki/Pablo_Iglesias_Turri%C3%B3n
    37. https://www.jacobinmag.com/2018/11/podemos-inigo-errejon-psoe-populism
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৫ জুলাই ২০২০ | ৬১৯ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৯:৫২95508
  • অসম্ভব ভাল হচ্ছে এই সিরিজটা। তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, একবার পড়ার পরে আরো কয়েকবার পড়তে, নিজের ভাবনা চিন্তার সাথে মিলিয়ে ঘেঁটে দেখতে ভাল লাগে।
  • স্বাতী রায় | 117.194.33.65 | ২৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৯95517
  • খুব ভালো লাগছে এটা পড়তে। মুখিয়ে বসে থাকছি পড়ার জন্য।
  • সুকি | 49.207.203.64 | ২৬ জুলাই ২০২০ ০৫:৫৫95529
  • পড়ছি কিন্তু, আসলে রাজনীতি নিয়ে খুব বেশী ক্রিটিক্যালি কিছু বলার ক্ষমতা নেই, তাই মন্তব্য করা হয় না 

  • শক্তি | 2401:4900:1047:f538:0:6c:2459:d401 | ২৯ জুলাই ২০২০ ০৬:৪২95648
  • তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ দৃষ্টি নিরপেক্ষ খুব মনোযোগ প্রত্যাশী লেখা 

  • একক | ২৯ জুলাই ২০২০ ২০:৫৫95663
  • পড়ছি | মাঝে তিনটে বাদ গেসলো | ফিরে গিয়ে আবার পড়লুম |
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত