• টইপত্তর  অন্যান্য

    Share
  • লকডাউনে অর্থনীতি নিয়ে দু’পয়সাঃ ৩ এবং ৪

    রঞ্জন
    অন্যান্য | ১২ জুলাই ২০২০ | ২৫৪ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন
  • লকডাউন অর্থনীতিঃ ৩ – চলতি বছরের বাজেট
    আমরা, মধ্যবিত্তরা, প্রত্যেক মাসের শেষে আগামী মাসের জন্যে পারিবারিক বাজেট বানাই। তাতে কত মাইনে আসবে, বাড়িভাড়া-বিজলি-মাসের বাজার-ডাক্তার- টিভি-খবরের কাগজ-বিয়েবাড়ি এবং কার কার ধার শোধ করতে হবে, কাকে এইমাসে না দিলেও চলবে, দরকার পড়লে কার থেকে নতুন করে ধার পাওয়া যাবে –সব বিবেচনা করি।
    একই ভাবে সরকার নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার দু’মাস আগে কত আমদানি/আয় হয়েছে বা হবে এবং কি কি খরচা আগের থেকে ঠিক করা আছে আর দেশের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী নতুন কী করা উচিত সেটা ভেবে বাজেট বানায়। এবং রসদে টান পড়লে ধার নেয়।
    বাজেটের সংক্ষিপ্ত চেহারায় চারটে জিনিস থাকবে ।(নীচের তালিকা দেখুন)।
    আয়ের নীচে পুঁজিগত আয়প্রাপ্তি এবং রাজস্ব আয়প্রাপ্তি। ব্যয়ের নীচে পুঁজিগত ব্যয় এবং রাজস্ব ব্যয়।
    ক্যাপিটাল রিসিট বা পুঁজিগত আয় = কোন পুঁজি নিবেশ থেকে প্রাপ্ত লাভাংশ ও সুদ এবং সরকারের ঋণ ও বিদেশি পুঁজিনিবেশ।
    রেভিনিউ রিসিট বা রাজস্ব আয় = প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর (তাতে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের অংশটুকু ) + কর ছাড়া অন্য স্রোত থেকে আমদানি।
    পুঁজিগত ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার)= সরকারের যে খরচা শুধু স্থায়ী সম্পত্তি নির্মাণে খরচ হবে। ধরুন , রাস্তা নির্মাণ, রেল লাইন এবং নতুন রেলগাড়ির ইঞ্জিন ও কোচ এবং নতুন স্টেশন , বিজলী উৎপাদনের সংযন্ত্র স্থাপন, হাসপাতাল , আই আই টি, আই আই এম, গবেষণাকেন্দ্রের ভবন এবং মেশিনারি কেনা। অথবা ডিফেন্সএর জন্যে ট্যাংক, বিমান, মিসাইল, জাহাজ কেনা।
    রাজস্ব ব্যয় (রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার)= যা দিয়ে কোন সম্পত্তি নির্মাণ হবে না, কিন্তু যে খরচা প্রশাসন এবং আর্থিক উৎপাদন চক্র চালু রাখতে আবশ্যক। যেমন মন্ত্রী—সাংসদ, আমলাতন্ত্র, বিচারবিভাগ , মিলিটারি, এইমস,আই আই টি ইত্যাদির অধ্যাপক/কর্মচারি—সবার মাইনে। খাদ্য , বিদ্যুৎ, কৃষিতে ভর্তুকি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় যোজনার বিত্তপোষণ ইত্যাদি।
    রাজকোষীয় ঘাটতি বা ফিস্কাল ডেফিসিট= বাজেটে সরকারের সমগ্র ব্যয় যদি সমগ্র আয়ের থেকে বেশি থাকে তাহলে সমগ্র ব্যয় থেকে সরকারের ঋণ ছেড়ে বাকি মোট আয় বিয়োগ করলে যা থাকে। এটি মাপা হয় জিডিপি’র প্রতিশত হিসেবে। অর্থাৎ সূচকটি ইঙ্গিত দেয় বিত্তীয় স্থিতি কতটা সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বা কতটা আগামী দিনে চিন্তার কারণ হতে পারে।
    আসুন, আমরা ভারতের ২০২০-২১ সালের হাতে গরম বাজেটের উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করি।

    কেন্দ্রীয় বাজেট (সংক্ষিপ্ত), বর্ষ ২০২০-২১
    (কোটি টাকায়)
    ১ রাজস্ব প্রাপ্তি ২০, ২০, ৯২৬
    যার মধ্যে কর থেকে আমদানি ১৬, ৩৫, ৯০৯
    (শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ )
    অন্য স্রোত থেকে ৩, ৮৫, ০১৭

    ২ পুঁজিগত প্রাপ্তি ১০, ২১, ৩০৪
    ২.১ যার মধ্যে, ঋণ আদায় ১৪, ৯৬৭
    ২.২ অন্য প্রাপ্তি ২, ১০, ০০০
    ২.৩ সরকারি ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৭, ৯৬, ৩৩৭
    (এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৪৬২১.৬৫ কোটি)
    ৩ সরকারের মোট প্রাপ্তি (১+২) ৩০, ৪২, ২৩০

    ৪ সরকারের মোট ব্যয় ( ৪.১+ ৪.২) ৩০, ৪২, ২৩০
    যার মধ্যে
    ৪.১ রাজস্ব খাতে ২৬, ৩০, ১৪৫
    ৪.২ পুঁজি খাতে ৪, ১২, ০৮৫
    ৫ তাহলে রাজস্ব ঘাটতি বা রেভিনিউ ডেফিসিট (৪.১—১) ৬,০৯, ২১৯ (২.৭%)*
    ৬ রাজকোষীয় ঘাটতি বা ফিস্কাল ডেফিসিট [৪—(২.১+২.২)] ** ৭,৯৬,৩৩৭ (৩.৫%)*
    নোটঃ * বন্ধনীর মধ্যে জিডিপি’র প্রতিশত দেখানো হয়েছে।
    ** হরেদরে ফিসক্যাল ডেফিসিট সরকারকে বাজেটেড খরচা পুরোতে কত ধার করতে হবে তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    *** খেয়াল করুন; বিদেশি ঋণ মাত্র ৪৬২১.৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ছোটবেলায় প্রতিটি ভারতের নাগরিকের ঘাড়ের উপর বিদেশি ঋণের বিরাট বোঝা চেপে আছে বলে যে জুজুর ভয় দেখতাম তা আজ অনেকটাই অমূলক মনে হয়।
    তথ্যসূত্রঃ ভারত সরকারের বিত্তমন্ত্রকের পোর্টাল।
    এই স্বল্প পরিসরে বাজেটের কিছু ব্যয়-বরাদ্দ একনজরে দেখা যাক। বর্ষ ২০২০-২১ আর্থিক বছরের জন্য বাজেটের ব্যয়-বরাদ্দ হল ৩০, ৪২, ২৩০ কোটি টাকা বা ৩০.৪২ লক্ষকোটি টাকা।
    স্বাস্থ্যঃ
    ভারতে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় ২০১৯-২০ সালে ছিল জিডিপির ১.২৮%, যেখানে বিশ্বের গড় খরচ হল জিডিপির ৬%; এমনকি এশিয়ার গরীব দেশগুলো—নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ড এর চেয়ে বেশি খরচ করে। ওদের গড় জিডিপির ১.৫৭% । অন্য কিছু দেশের এই খাতে খরচা দেখুনঃ
    জাপান (৯.২%), ব্রাজিল (৩.৯%), চিন (২.৯%)।
    এ’বছর পাবলিক হেলথ কেয়ারে বাজেট বরাদ্দ ১.৯% যার বড় অংশ প্রধানমন্ত্রীর আয়ুষ্মান ভারত যোজনায়, যা একটি স্বাস্থ্যবীমা যোজনা যাতে গরীব মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে বিনে পয়সায় দামি চিকিৎসা করাতে পারে ? কিন্তু নতুন সরকারি হাসপাতাল খুলে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত করা?
    সরকার ঘোষণা করেছিলেন আগামী ২০২৫ নাগাদ জনসাহারণের জন্যে স্বাস্থ্যপরিষেবায় সরকারি বরাদ্দ বেড়ে জিডিপি’র ২.৫% হবে যা বিশেষজ্ঞদের মতে অপর্য্যাপ্ত।
    ভারতের স্বাস্থব্যবস্থা এখন অনেকটাই প্রাইভেট সেক্টর এবং স্বাস্থ্যবীমা নির্ভর। তাই বরাদ্দও গত বছরের তুলনায় ১০% বেড়ে মাত্র ৬৯,০০০ কোটি হয়েছে। কিন্তু ডিসেম্বর ২০১৯শে মুদ্রাস্ফীতি দর ছিল ৭.৫%; তাই এতে আমরা ২০১১ সালে প্ল্যানিং কমিশনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্থাৎ জিডিপি’র ২.৫% বরাদ্দ থেকে দূরেই রয়ে গেলাম।
    কৃষিঃ
    গত কয়েকবছর ধরেই কৃষি সংকটের মুখে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে চলেছে কিন্তু বাজারে কৃষকেরা পণ্যের যে দাম পাচ্ছেন তাতে পড়তা পোষাচ্ছে না। কথা ছিল সরকার বড় ফসলগুলোর সমর্থন মূল্য—যে দামে সরকারি কৃষি উপজ মন্ডী (আড়ত ) এবং ফুড করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া কেনে—তা স্বামীনাথন কমিটির রিপোর্ট মেনে উৎপাদন ব্যয়ের ১৫০% বা দেড়গুণ করে দেবে। সরকার যা করলেন তাতে কৃষকেরা খুশি হলেন না । ওঁদের মতে যে ফর্মূলায় উৎপাদন ব্যয় হিসেব করা হয়েছে সেটাই ভুল। তাই ২০১৭ থেকে নিয়মিত কৃষকদের প্রদর্শন আমরা খবরে দেখেছি। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ তামিলনাড়ু কেউ বাদ যায়নি।
    যদিও ভারতের জিডিপিতে কৃষিক্ষেত্রের অবদান ১৬%, তবু সবচেয়ে বেশি কাজ যোগায় কৃষিক্ষেত্র। ২০১৯ সালের হিসেবে এখনও জনসংখ্যার ৪৩’২৫% কৃষিকাজে নিযুক্ত।
    এই বাজেটে নির্মলা কিসানের আয় দুগুণ করার লক্ষ্যে ১৬ বিন্দু অ্যাকশন প্ল্যান দিয়েছেন। কিন্তু কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩% বাড়িয়ে ১.৪৩ লক্ষকোটি বা ১.৪৩ ট্রিলিয়ন করেছেন।এর মধ্যে মুখ্য হল পিএম-কিসান যোজনা খাতে ৭৫,০০০ কোটি টাকা যাতে সব কিসান বছরে তিন কিস্তিতে মোট ৬০০০ টাকা পাবে।এর বরাদ্দ গত বছরের মতই রয়েছে। আর রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় ১৫, ৬৯৫ কোটি টাকা। বিশেষ বরাদ্দ হল কৃষকদের জন্যে পেনশন যোজনায় ২২০ কোটি টাকা।
    শিল্পঃ
    আগেই বলেছি যে শিল্প, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প, এখন এক বিশ্বজোড়া সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। ইদানীং উপভোগ বস্তুর চাহিদা বিস্ময়কর ভাবে কমে যাওয়ায়—মোটরগাড়ি হোক কি পার্লে বিস্কুট—এবং ফ্রড ও অনাদায়ী লোনে বিপর্যস্ত ব্যাংকের লোন দিতে অনীহা ভারতে সমস্যাকে আরও তীব্রতর করেছে।
    জিডিপিতে শিল্পক্ষেত্রের অবদান ৩১% এবং এতে নিযুক্ত জনসংখ্যার ২৪.৮৯%।
    শিল্প এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্যে বরাদ্দ হয়েছে ২৭৩০০ কোটি।
    সার্ভিস বা পরিষেবাঃ
    ভারতের অর্থনীতিতে পরিষেবা বা টার্শিয়ারি সেক্টরের অবদান সবচেয়ে বেশি। জিডিপি’র সিংহভাগ, জিডিপির ৫৩% আসে এই ক্ষেত্র থেকে। জনসংখ্যার প্রায় ৩২% এই সেক্টরে কাজ করে। ভারতে ২০১৭-১৮ সালে চালু হওয়া জিএসটি বা গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স ক্রমাগতঃ ধারা-উপধারায় পরিবর্তন, কিছু অস্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সমস্যার ফলে এই সেক্টরের সমস্যা বেড়েছে।
    বাজেটে জিএসটি স্ল্যাবে কিছু পরিবর্তন, লাভাংশের পর ট্যাক্স এবং নতুন স্টার্ট আপ, রপ্তানি ইত্যাদির জন্য আংশিক ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে।
    এম এস এম ই
    এবার বিশেষভাবে বলতে হবে সবচেয়ে সংকটগ্রস্ত এম এস এম ই বা মাইক্রো,স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ) নিয়ে। শিল্পের এই অংশ গাঁয়ে বেশি, এবং বেশিরভাগই পারিবারিক শ্রমে সামান্য পুঁজি ও নামমাত্র মুনাফায় চলে । অনেকক্ষেত্রেই এরা বড় শিল্পের অ্যানসিলিয়ারি ইউনিট বা ছোট ছোট যন্ত্রাংশ বানিয়ে যোগান দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু এদের সংখ্যা ৬৩.৪ মিলিয়ন ইউনিট। শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৪৫% এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে ৪০% এদের অবদান। শিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ৮০% কাজ এবং শ্রমিকদের ২৫% এই ক্ষেত্র থেকে আসে।
    এদের অবদান জিডিপির ২৯.৭% এবং রপ্তানির ৪৯.৬৬% বা সিংহভাগ। অথচ এরা ব্যাংক থেকে প্রত্যক্ষভাবে লোন পায় খুব কম। এদের বেশির ভাগ টাকা যোগায় এন বি এফ সি (নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কর্পোরেশন) যারা নিজেরাই এখন সংকটে ধুঁকছে। ব্যাংকের পাওনা চোকাতে পারছে না।
    এবারের বাজেটে এম এস এম ই বা মাইক্রো,স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ এর বরাদ্দ গতবারের চেয়ে ৮% বেড়ে ৭৫৭২ কোটি টাকা হয়েছে। কিন্তু খুঁটিয়ে দেখলে চোখে পড়ে যে মোট বরাদ্দ বাড়লেও অনেকগুলো উপখাতে বরাদ্দ আগের চাইতে কমেছে; যেমন ব্যাজ অনুদান পাত্রতা যোজনায় বরাদ্দ ৩১ কোটির বদলে এবার শূন্য।
    টাকা জোগাবে কে? কোথায় গৌরী সেন?
    এই বাজেটে ভারত সরকারের সামনে সব চেয়ে বড় সমস্যা ছিল শিল্পে মন্দা, ব্যাংকের ক্রমাগত বেড়ে চলা এনপিএ বা অনাদায়ী লোন এবং কৃষকদের অসন্তোষ। ওরা ফসলের নায্য দাম পাচ্ছে না । এই প্রেক্ষাপটে এল ২০২০-২১ এর বাজেট ১লা ফেব্রুয়ারিতে। কেরালায় ৩০শে জানুয়ারি ভারতের প্রথম করোনা কেস ধরা পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই তারিখেই করোনাকে বিশ্বস্তরে পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে।
    তাই এসব সামলাতে সরকারকে অনেক খরচা করতে হবে—পুরনো এবং নতুন খাতে। টাকা কোথায়?
    একনজরে চোখে পড়ছে সরকারের আয়ের চেয়ে প্রস্তাবিত ব্যয় বেশি, তাই ঘাটতির বাজেট । মানে সরকারের ভাঁড়ারে টান পড়েছে। কর আদায়—আয়কর সম্পত্তি কর আদি প্রত্যক্ষ কর এবং জিএসটি আদি অপ্রতক্ষ কর— আশার অনুপাতে বেশ কম।অন্ততঃ ৭.৫ লক্ষকোটি টাকা জোগাড় করা দরকার। কীভাবে?
    আমাদের দেশে তো জন্ম থেকে ঘাটতি বাজেটই শুনে আসছি। তবে বিত্তমন্ত্রী বলেছেন যে গতবারে ফিস্ক্যাল ডেফিসিট জিডিপির ৩% এ ধরে রাখার কথা ছিল , অথচ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি জনকল্যাণকারী যোজনাতে খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে সেটা ৩.৮% হয়ে গেছে। কিন্তু এ’বছর রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারী খরচে নিয়ন্ত্রণ রেখে ওই ডেফিসিট বা ঘাটতি ৩.৫% রাখা হয়েছে এবং খবরের কাগজে ও বিভিন্ন চ্যানেলে লোকে ধন্য ধন্য করছে –এর মানে কি ?
    হ্যাঁ, এ নিয়ে ইকনমিস্টদের মধ্যে দুইখান কথা আছে। একদল মনে করেন সরকারের ধার একটা সীমার মধ্যে থাকা উচিত । উন্নয়নের নামে ধারের পর ধার করা কোন কাজের কথা নয়। তাই ভারতের ক্ষেত্রে রাজকোষীয় ঘাটতি ৩% ধারেকাছেই থাকা উচিত । তাই তাঁরা প্রশংসা করছেন—নির্মলা খরচ বাড়িয়ে এই ঘাটতি ৪% এর উপরে যেতে দেবেন না বলে।
    বিশেষ করে আন্তার্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলো।
    কিন্তু নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর রঘুরাম রাজন তথা অমর্ত্য সেন এই সময়ে বাজারে চাহিদা বাড়াতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কাজ খোয়ানো মানুষের হাতে টাকা দেবার পক্ষে সওয়াল করছেন। তাতে সরকারকে যদি ধার করতে হয় বা টাকা ছাপাতে হয় তাই সই।
    কথা হল--এই ৩ বা ৪% এর মধ্যে রাজকোষীয় ঘাটতিকে বেঁধে রাখলে মোক্ষপ্রাপ্তি হবে এটা কে ঠিক করেছে? করেছে উন্নত অর্থনীতির আন্তর্জাতিক বাজার এবং ওই রেটিং সংস্থাগুলো। বলা যেতে পারে এটা হল বিশ্বায়নের একটি প্রতিফল।
    বিগত ২৬ অগাস্ট, ২০০৩ তারিখে তৎকালীন বিত্তমন্ত্রী যশবন্ত সিনহার সময়ে সংসদে ফিসক্যাল রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট( এফ আর বি এম) নামে একটি আইন পাশ হয় । এর উদ্দেশ্য আর্থিক অনুশাসন এবং পাবলিক ফান্ড ম্যানেজমেন্টে উন্নতির মাধ্যমে ক্রমশঃ ব্যালান্সড বাজেটের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই আইন অনুযায়ী বর্তমানে ভারতে ঘাটতি জিডিপি’র ৩% এর বেশি হওয়া উচিত নয়। এটাই রাজ্যগুলোর ঘাটতি মিলিয়ে ৬% অব্দি যেতে পারে—ওটাই লক্ষ্মণরেখা।
    কিন্তু সেদিন ১লা মে, ২০২০ তারিখে ভারতের প্রাক্তন আর্থিক উপদেষ্টা এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডঃ কৌশিক বসু ইন্ডিয়া টুডের রাজদীপ সরদেশাইয়ের সঙ্গে আলোচনায় জানালেন যে ওই আইনে দুটি উপধারা আছে যাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে ( যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় সংকট ইত্যাদি) লক্ষ্মণরেখা ডিঙোনোর নিদানও দেওয়া আছে। কোবিদ -১৯ অবশ্যই অমন একটি পরিস্থিতি।
    তা এই ঘাটতি মেটাতে সরকার কী কী করতে পারে?
    একঃ জনতার উপর নতুন ট্যাক্স চাপাতে পারে, যেমন এখন যদি করোনা সেস চাপায় তাহলে সরকারের কিছু আয় বাড়বে। কিন্তু দেশের এই অবস্থায় যখন করোনার চোটে কাজকর্ম বন্ধ, লোকের মাইনে কমছে, ইনফর্মাল সেক্টরে কাজ বন্ধ হয়য়ে যাচ্ছে, ট্যুরিজম -হস্পিটালিটি মার খাচ্ছে, কোর ইন্ডাস্ট্রিতে উৎপাদন কমছে, তখন নতুন ট্যাক্স বসিয়ে খুব একটা লাভ হবে না । জিএসটি এবং আয়কর আদায় কমে গেছে।
    দুইঃ অন্য রাস্তা হচ্ছে বাজারে সরকারি বন্ড বা ঋণপত্র ছেড়ে টাকা তোলা। কিন্তু লোকের সেভিংস কমে গেছে, আয় কমছে, বন্ড কিনবে কে ? বিত্তমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবারের বাজেটে আন্তর্জাতিক বাজারে সরকারি বন্ড ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। এছাড়া বিদেশি পুঁজির ক্ষেত্রে ৩১ মার্চ ২০২৪ এর আগে পরিকাঠামো এবং কিছু নির্দিষ্ট সেক্টরে বিনিয়োগ করলে সুদ ও লাভের (ডিভিডেন্ডের) উপর ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ১০০% ছাড় দেবার কথাও ঘোষণা করেছেন। তবে সময়টা খারাপ--বিশ্ব বাজারেও মন্দা চলছে।
    তিনঃ ব্যাংকের কাছে বন্ড রেখে ধার নেওয়া। এটাও মুশকিল। সরকারি ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভাল নয় । এন পি এ বাড়ছে, বড় বড় ব্যবসায়ীরা লোন পরিশোধ করছে না । বেশ কিছু বিদেশে পালিয়েছে। ফ্রড/ঘোটালা/ ধোঁকাবাজির ঘটনা একের পর এক সামনে আসছে। ফলে এই বন্ডে সুদের হার বেশি, অন্ততঃ ৬% না হলে ব্যাংকগুলো কিনবে কেন?
    এদিকে গত বছরই বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার রিজার্ভ ব্যাংকের ”ডিভিডেন্ড এন্ড সারপ্লাস রিজার্ভ ফান্ড” থেকে গত বছর ১.৭৬ লাখ কোটি টাকা বা ১.৭৬ ট্রিলিয়ন নিয়ে নিয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোন কেন্দ্রীয় সরকার এমন পদক্ষেপ নিল যা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে।
    চারঃ বিলগ্নীকরণ (ডিস-ইনভেস্টমেন্ট) অর্থাৎ অলাভজনক সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা তোলা। এটা গত কয়েকবছর ধরেই সরকারবাহাদুর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেমন এয়ার ইন্ডিয়া, যেমন ভারত এবং মহানগর টেলিফোন ( বিএসএনএল , এমটিএনএল ইত্যাদির জমি, বাড়ি) এবং এ’বছর বাজেটে যুক্ত হয়েছে জীবন বীমা কোম্পানির একটু শেয়ার বেচার পরিকল্পনা। কিন্তু বাজার খারাপ, কেনার লোক জুটছে না। যেমন এয়ার ইন্ডিয়ার জন্যে প্রতিবার নতুন করে লাভজনক শর্তে টেন্ডার হচ্ছে। কিন্তু অবস্থাটা হল ‘আমারে কে নিবি ভাই বিকাতে চাই আপনারে’।
    এ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রভাত পটনায়েক বলেছেন এই সরকার পাবলিক সেক্টরের গুরুত্ব না বুঝে একে অল্পদামে বেচে ওই ফিসক্যাল ডেফিসিটকে কম দেখিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নাম কিনতে চাইছে। কারণ উন্নত দেশের অর্থনীতিতে এটাই বাজেটের একটি বিশেষ গুণ বলে ধরা হয় । পটনায়েকের প্রশ্ন যদি প্রাইভেট সেক্টর এয়ার ইন্ডিয়া ইত্যাদি কিনে লাভজনক সংস্থা হিসেবে এদের ভোল পাল্টাতে পারে তো সরকার কেন সেটা করতে পারবে না?
    পাঁচঃ নোট ছাপানো-- তাহলে হাতে রইল পেনসিল। রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে অল্পকালীন ট্রেজারি বিল বা সরকারি বন্ড গচ্ছিত রেখে নতুন ছাপানো নোট নেওয়া। আর সেই নোট দিয়ে এই মন্দা এবং কর্মহীনতার বাজারে গরীবের হাতে সেই নোট গুঁজে দেওয়া । মানুষ খেয়ে পরে বাঁচবে। তাই সেই পয়সা দিয়ে খাবার, জামাকাপড়, ওষূধপত্তর কিনবে। বাজারে এই সব জিনিসের চাহিদা বাড়বে। ফলে চাহিদা মেটাতে যোগান বাড়বে ,অর্থাৎউৎপাদন বাড়বে, লোকের কর্মসংস্থান হবে। অভিজিতবাবু এবং রঘুরাম রাজনদের এটাই বক্তব্য।
    এই টাকা ছাপিয়ে দেশ চালানো নিয়ে ইকনমিস্টদের মধ্যে সোজাসুজি দুটো মত বা দুটো দল। এটা বোঝার জন্যে দরকার ধার করে দেশ চালানো বা ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং এর শাস্ত্রটিকে বোঝা এবং মহাজনরা কী বলে গেছেন তা শোনা—যা করোনা মহামারীর সময় রিলিফ জোগাতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক আলোচনা। এছাড়া রয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা—রেপো রেট, রিভার্স রেপো এইসব। এ নিয়ে আগামী কিস্তিতে বিশদ হবে।
    (চলবে)

    লকডাউনে অর্থনীতিঃ ৪ রিলিফ প্যাকেজ এবং কার টাকা, কে জোগায়?

    মা যা হইয়াছেনঃ
    গত ২৯শে মে ভারত সরকারের মিনিস্ট্র অফ স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন ( এমওএসআইপি) ঘোষণা করেছে যে বর্ষ ২০১৯-২০তে ভারতের অর্থনীতি বেড়েছে ৪.২% হারে। জিডিপি বৃদ্ধির এই দর গত কয়েকবছরের মধ্যে নিম্নতম।
    লকডাউন শুরু হয়েছে মার্চের ২৪ তারিখ। স্পষ্টতঃ ওই এক সপ্তাহে ইকনমির বৃদ্ধি ফোরকাস্টের আদ্দেক হতে পারেনা। অর্থাৎ সরকার আগে মন্দার কথা জোরগলায় অস্বীকার করলেও লুকোনো ঘা এখন ফুটে উঠেছে। করোনাজনিত লকডাউন তাকে চলতি বছরে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে মাত্র।
    যদি লকডাউনের ফলে ঘর থেকে বেরোনো, রেল-বাস- মোটর- বায়ুযান সবই বন্ধ থাকে, অফিস কারখানায় তালা পড়ে, দোকান – রেস্তরাঁ-হোটেলে খদ্দের আসা সন্দিগ্ধ হয়, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে হবে বলে সিনেমা-থিয়েটার-শপিং মল-পার্ক সবই বন্ধ হয় তাহলে যা হবার তাই হয়েছে। সমস্ত বিজনেস সেক্টরে রেভিনিউয়ে টান পড়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী যতই বলুন কারও যেন চাকরি না যায়, সেই সদিচ্ছার বাষ্প বাস্তবের কড়া রোদ্দুরে শুকিয়ে যায়। আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্ট থেকে পাড়ার চায়ের দোকান বা মোটরবাইকে খাবার পৌঁছানো সুইগি/জোম্যাটোর ছেলেরা, মলে ইউনিফর্ম পরে মাল গুছিয়ে দেওয়া, বিল বানানো বা ফ্লোর পরিষ্কার করার ছেলেমেয়েরা—সবার কপাল পূড়লো। কারণ দেশের শ্রমশক্তির ৯০% প্রতিশত মানুষ হলেন ইনফর্মাল শ্রমিক—যাদের নিয়োগপত্র, স্টাফ রুল বা শ্রম আইনের কোন রক্ষা কবচ নেই ।
    বেকারত্বের দরঃ
    সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যারা প্রতি সপ্তাহে ভারতের ইকনমির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি প্রকাশিত করে। ওদের হিসেবে লকডাউন শুরু হওয়ার সময় এই দর ছিল ৮.৮%; পরবর্তী আট সপ্তাহে , ধরুন ২৪ মে তারিখে এই সংখ্যাটি হল ২৪.২%।
    ওদের একটি অধ্যয়ন অনুযায়ী অন্ততঃ ২৭ মিলিয়ন বা ২.৭০ কোটি তরুণ ( ২০-৩০ বয়সের) এপ্রিল মাসেই কাজ হারিয়েছেন। এবং এপ্রিলে মোট কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা ১২.২ কোটির কম নয়।
    এদের কারও কাছে টাকা নেই
    পনের বছর আগে বাবার হাত ধরে বিহার থেকে কোলকাতায় আসা সুরজ থাকেন সল্টলেকের খাল পাড়ে একটি ঝুপড়িতে। সেখানেই একটি ঠেলার উপর গরম কয়লার সেকেলে ইস্তিরি দিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নগদ পয়সা পান। আজ দু’মাস হল কোন কাজ নেই, হাতে পয়সা নেই। কারণ কেউ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না, তাই কাপড় ইস্ত্রিও করাচ্ছে না । একই অবস্থা বাঙ্গুরের প্লাম্বার কালিপদর বা গলফ গ্রীনের ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি নিরঞ্জনের। কেউ ডাকে না । কোন আবাসনে ঢুকতে মানা।
    নাকতলার সেকেন্ড স্কীমের সুবলচন্দ্র দু’পুরুষের পরামানিক। দু’মাস হল দোকানের ঝাঁপ খোলা নিষেধ। বাঁশদ্রোণীর বিরজু মুচির আদিবাড়ি ঝারখন্ডে। ফুটপাথের এককোণে বসে জুতোয় পেরেক ঠোকেন, সুকতলা পালটে দেন। ছাতু আর জল খেয়ে পেট ভরালেও ঘরে কি মানিঅর্ডার করবেন? এসি’র মিস্ত্রি রহমান মার্চের শুরু থেকেই ব্যস্ত থাকেন। মোবাইলে কল আসতে থাকে। ঘরে ঘরে এসি মেরামত, গ্যাস ভরা এবং কোথাও নতুন মেশিন ফিট করা। এই সাতটা মাসের রোজগার থেকে গোটা বছরের খরচা চলে। আজ মোবাইল রিচার্জ করা সমস্যা। সোনারপুরের গৌরী আগে বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। এখন মোবাইলে ডাক পেলে ঘরে গিয়ে বাড়ির মেয়ে ও বৌদিদের ফেশিয়াল, হেয়ার ট্রিটমেন্ট ও পেডিকিওর করেন। দু’মাস হল কোন রোজগার নেই।
    ঠনঠনে কালীবাড়ির কাছের পাড়া থেকে স্মৃতি আসেন আমহার্স্ট স্ট্রীটের একটি সেলুনে। সেখানে উনি গ্রাহকদের ছ’ থেকে আটঘন্টা মালিশ করেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন । প্রতিদিন হাজার বারোশো আয় হয়। তাতে চারজনের সংসার চলে। এখন ঘরেই থাকেন।
    এঁরা কেউ ভিখিরি ন’ন; সবাই কাজ করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে চান। কিন্তু এই অকালবৈশাখী তৈরি হবার সময় দেয় নি। এক রাত্তির আটটায় মাত্র চারঘন্টার নোটিশে আছড়ে পড়েছে। এদের সঞ্চয় নেই হাতে নগদ টাকা চাই ; কে দেবে? সরকার।
    সরকার কেন ? কেন নয়? ‘জীব দিয়েছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি’। যখন দেশের স্বার্থে উনি আমাদের ঘরে বন্ধ করেছেন, তো খাবার দেবেন না? উনি যে আমাদের বিপত্তারণ মধুসূদন দাদা! ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’।
    এই গল্প শুধু কোলকাতার নয়, এই গল্প দিল্লির, গুরগাঁওয়ের, মুম্বাই,চেন্নাই , বেঙ্গালুরু এবং সমস্ত মহানগর ও শিল্পনগরীর। সবাই অপেক্ষায় ছিল, --কিছু একটা হবে। ‘মেলাবেন তিনি, মেলাবেন’।
    সরকারের কি টাকার গাছ আছে?
    রিলিফ প্যাকেজগুলো আসার আগে এই টাকার ব্যাপারটা বুঝে নেওয়া যাক। দেশের উন্নয়নের এবং সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্যে সরকার খরচ করে। কিন্তু টাকা কোত্থেকে আসে? মূলতঃ আয়কর, সম্পত্তি কর ইত্যাদি প্রত্যক্ষ কর এবং জিএসটি (পণ্য এবং পরিষেবা কর) ইত্যাদি থেকে। কম পড়লে? বাজারে বন্ড ছেড়ে বা ব্যাংকের কাছে বেশি সুদে বন্ড বিক্রি করে। তাতে না কুলোলে? রিজার্ভ ব্যাংকের থেকে ট্রেজারি বিল বা অল্পকালীন ঋণপত্র গচ্ছিত রেখে টাকা ছাপিয়ে নিয়ে । এই হল ফিস্ক্যাল পলিসি বা রাজকোষ নীতি যার মাধ্যমে সরকার ঠিক করে টাকা কতটা চাই, কতটুকু এবং কোথা থেকে ধার নেবে এবং নোট ছাপাবে কিনা।এটা অর্থমন্ত্রীর কাজ।
    আর রিজার্ভ ব্যাংকের কাজ হল দেশের মুদ্রা নীতি বা মানিটরি পলিসি পরিচালনা করা। অর্থাৎ, বাজারে কত টাকাপয়সা আছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কত থাকা উচিৎ এবং সুদের হার কী হবে তা ঠিক করা। যেমন মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের সময় বাজারে টাকার জোগান কমানো এবং মন্দার সময় বাড়ানো। এগুলো রিজার্ভ ব্যাংক করে মূলতঃ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। কীভাবে?
    রিজার্ভ ব্যাংক এবং ব্যাংকিং পরিবারের ডায়নামিক্স—রেপো এবং রিভার্স রেপো ইত্যাদি
    ব্যাংকের কাজ লোকের থেকে অল্প সুদে টাকা জমা নিয়ে চড়া সুদে ধার দেওয়া—ঠিক যেভাবে সোনার দোকানে গয়না কেনাবেচা হয়। বাজার চড়লে বেশি লোক ও সংস্থা ধার চাইবে, মন্দার সময় কম। মাঝখানে যে লাভের গুড় (ফিনানশিয়াল মার্জিন) তাই দিয়ে ব্যাংকের ঘর খরচা (স্টাফের মাইনে, অফিসের ভাড়া ইত্যাদি) চলে । লাভ বেশি হলে ব্যাংক সেই টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি বন্ড কিনে বা পাবলিক সেক্টরের বীমা ও বন্ড কিনে।
    টাকায় বড় রকম টান পড়লে? রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে ধার নেয়। রিজার্ভ ব্যাংক তখন যে হারে সুদ নেয় তার নাম রেপো রেট। আবার ব্যাংকের সিন্দুকে টাকা খুব বেশি হলে অল্পসময়ের জন্যে সেই টাকা ওরা রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে জমা রাখে। বদলে রিজার্ভ ব্যাংকের থেকে যে হারে সুদ পায় তার নাম রিভার্স রেপো। এখানেও সোনার দোকানের হিসেব—রেপো রেট সবসময় রিভার্স রেপোর চেয়ে বেশি।
    মে মাসে রেপো রেট ৪.৪০% থেকে কমে ৪% হয়েছে এবং রিভার্স রেপো হয়েছে ৩.৭৫% থেকে ৩.৩৫%।
    শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর দাবি মেনে রিজার্ভ ব্যাংক গত এক বছরে ক্রমাগতঃ রেপো রেট কমিয়ে গেছে যাতে ব্যাংকের লোন দেবার ফান্ডের খরচা কমে এবং ব্যাংকও গ্রাহকদের কম সুদে ঋণ দিতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। ব্যাংক এই পড়তি বাজারে শিল্প-ব্যবসায়ে শস্তায় ঋণ দেবার বদলে বাড়তি টাকা হয় বিভিন্ন সরকারি বন্ডে লাগিয়েছে অথবা খুব কম সুদে মানে রিভার্স রেপোতে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে জমা রেখেছে। এনপিএ বা অনাদায়ী ঋণ বাড়ার রিস্ক নেওয়ার চেয়ে এই ভাল ভেবে।
    সমস্যা কোথায়?
    সবাই দেখতে পাচ্ছে মন্দা এবং করোনা গোটা বিশ্বেই ধুন্দুমার লাগিয়ে দিয়েছে । মন্দা মানে দোকানে জিনিস আছে,গুদামে মাল পড়ে আছে শুধু ক্রেতার সংখ্যা দিনের পর দিন কমছে। ফলে লোক ছাটাই হচ্ছে। ফলে বাজারে চাহিদা আরও কমছে। এই চক্র সমানে ঘুরছে। চাকাটা উলটো দিকে ঘুরিয়ে বাজারে তেজী আনতে গেলে লোকের হাতে সোজা টাকা পৌঁছনো দরকার। রিজার্ভ ব্যাংক দেখে বাজারে যোগানের দিকটা। কীকরে ব্যাংকের হাতে সস্তা দরে টাকা দিয়ে ওদের সুলভে ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের ঋণ দিয়ে চাঙ্গা করা যায় । তাহলে উৎপাদন বাড়বে, বেশি লোক চাকরি পাবে।এই মুদ্রা নীতি কাজ করে অপ্রত্যক্ষ ভাবে, কিছু সময় নিয়ে ।
    কিন্তু মন্দার সমস্যা হল চাহিদার সমস্যা, মানে লোকের হাতে টাকা চাই।
    এই সময়ে কাজ করে সরকারের রাজকোষ নীতি। অর্থাৎ সরকার সিধে খরচ করুক, সেই টাকা ঘুরপথে না এসে সোজা লোকের হাতে আসবে। যেমন এই করোনার সময় ইউরোপ আমেরিকার মত আমাদের সরকারও যদি কাজ হারানো গরীবদের বেকার ভাতা দেয় , পরিযায়ীদেরও চাল-ডালের অতিরিক্ত কয়েকমাস নগদ টাকা দেয় তো এরা খেয়েপরে বাঁচবে, খাবার, জামাকাপড় ওষূধপত্তরে বাজারে কেনাকাটা করবে। ফলে চাহিদা বাড়ায় যোগান দিতে কলকারখানা দোকানপাট সব জেগে উঠবে।
    এছাড়া সরকার যদি এখন রাস্তাঘাট, হাসপাতাল এসব বানাতে গিয়ে লেবার ও কাঁচামালের জন্যে খরচা করে তাতেও লোকের হাতে পয়সা আসবে যা বাজারে খরচ হবে এবং চাহিদা বারবে। অর্থাৎ মুদ্রানীতি যদি ভিটামিন হয় তো সরকারের রাজকোষ নীতি হল কোরামিন বা অ্যান্টিবায়োটিক।
    অর্থনীতিবিদরা কী বলছেন?
    হালে নোবেল পাওয়া অভিজিত বিনায়ক ব্যানার্জি বলছেন – এই অবস্থায় সরকারের উচিত মনিটারি বা ফিস্কাল ডিসিপ্লিন নিয়ে বেশি চাপ না নিয়ে সোজা নোট ছাপিয়ে গরীবদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া।
    উনি বাজেট পেশ করার আগে একটি প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলেন উনি এই অবস্থায় সরকারের ‘ফিস্কাল টাইটেনিং’ বা হাতের মুঠো চেপে রাখার ওকালতি করবেন না । বরং সরকার এই অবস্থায় দরাজ হাত করলে ভালো হয় । সরকার যতই ৩% এর কাছাকাছি রাজকোষীয় ঘাটা ধরে রাখার কথা বলুন না কেন, বাস্তবে সেটা অনেক আগেই উপে গেছে। আরেকটু ঢিলে হলে কোন মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।
    রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন বলছিলেন—ফিস্ক্যাল ডেফিসিট নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বাস্তব অর্থব্যবস্থাকে রক্ষা করার কথা ভাবা উচিত। যেমন গরীবদের খাবার, চাকরি বাঁচানো, বেকার ভাতা, এমএসএমই ইউনিটগুলোকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া ইত্যাদি। এতে খুব বিরাট একটা টাকা লাগবে না । সরকার ঋণ নিতে পারে।
    অভিজিত ব্যানার্জি আবারও বললেন—সরকার নির্দ্বিধায় টাকা ছাপিয়ে নিক আর ক্যাশ সোজা সব চেয়ে যাদের দরকার সেই গরীবদের হাতে পৌঁছে দিক।
    মুখ খুললেন অমর্ত্য সেন। ইন্ডিয়া টুডে’র রাজদীপ সরদশাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিত এবং রঘুরাম রাজনদের মতই বললেন যে সরকারের উচিত এখন ব্যয় সংকোচ না করে খাস্য, বাসস্থান এবং হেলথকেয়ারে খরচা করা। আরও বললেন যে এই ব্যতিক্রমী অবস্থায় রেশনকার্ড না থাকলেও অভাবী লোকের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

    অবশেষেঃ
    এসেছে রিলিফ প্যাকেজ—একটা নয়, দু‘দুটো। আসুন, একটু খুঁটিয়ে দেখি।
    প্রথমটি ২৬মার্চ, ২০২০ তারিখে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের ১.৭ লক্ষকোটি টাকার প্যাকেজ।
    দ্বিতীয়টির ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ১২ই মে তারিখে—কথিত রূপে ২০ লক্ষকোটি টাকার বা ২০ ট্রিলিয়নের প্যাকেজ , যা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে আত্মনির্ভর করবে এবং যা নাকি দেশের জিডিপি ২০০ ট্রিলিয়ন টাকার ১০%। এটির পাঁচদিন ধরে বিস্তৃত বিবরণ দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
    প্রথম প্যাকেজঃ ১.৭০ লক্ষকোটি টাকা
    সরকারের হিসেবে প্রথম প্যাকেজটি লকডাউন -১ শুরু হওয়ার পর গরীব মানুষের বেঁচে থাকার রসদ। নির্মলা বললেন যে এই প্যাকেজের লক্ষ্য পরিযায়ী শ্রমিক এবং শহুরে ও গ্রামীণ শ্রমিক। এই ১.৭ ট্রিলিয়ন প্যাকেজের ফলে এঁরা কেউ অভুক্ত থাকবেন না ।
    ১ পিএম গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনায়.৮০ কোটি মানুষ রেশন কার্ডের মাধ্যমে আগামী তিনমাস ধরে প্রতিমাসে প্রতি ব্যক্তি অতিরিক্ত ৫ কেজি চাল বা গম এবং প্রতি পরিবার ১ কেজি ডাল বিনামূল্যে পাবেন। এতে ৪৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে ।
    ২ জনধন যোজনায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা.২০ কোটি মহিলারা আগামী তিনমাস প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন।
    ৩ প্রায় তিনকোটি সিনিয়র সিটিজেন,দিব্যাংগ এবং বিধবা মহিলা দুই কিস্তিতে ১০০০ টাকা করে আগামী তিনমাস পাবেন।
    ৪উজ্বলা যোজনায় যে বিপিএল পরিবার গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছেন তাঁদের বিনামূল্যে আরও তিনমাস সিলিন্ডার দেওয়া হবে।
    ৫ কিসান সম্মান নিধি থেকে ৮.৬৯ কোটি কৃষকের খাতায় বছরে তিনকিস্তিতে ২০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা । তার প্রথম কিস্তি এপ্রিলে রিলিজ করা হবে।
    ৬ এছাড়া আছে ‘মনরেগা’ যোজনায় দৈনিক মজদুরি ২০ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়া।
    ৭ কোবিদ-১৯ পরিচর্যায় নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের তিনমাসের জন্যে ৫০ লাখ করে স্বাস্থ্যবীমা।
    ৮ দীনদয়াল ন্যাশনাল লাইভলিহুড মিশনের অন্তর্গত মহিলা সেলফ-হেল্প -গ্রুপকে বিনা কোন গ্যারান্টি ২০ লাখ অবধি ঋণ দেওয়া যাতে নাকি ৭ কোটি মহিলা উপকৃত হবেন ইত্যাদি।
    বিশ্লেষণঃ
    প্রথম ছ’টি যোজনায় লোকের হাতে অবশ্যই পয়সা আসবে যা বাজারে খরচ হয়ে কিছু চাহিদা বাড়াবে। কিন্তু কতটুকু? কারণ, বেশির ভাগ পরিযায়ী শ্রমিকদের রেশন কার্ড আছে গাঁয়ের বাড়িতে , কাজের জায়গায় নয়। আর যারা এখানে সপরিবারে আছে এবং কাজ হারিয়ে মাইনে না পেয়ে ঘরছাড়া হচ্ছে তারা রেশন ধরবে কীভাবে? মাসে ৫০০ বা হাজার টাকায় এই বাজারে কারও সংসার চলে? এই বাজারে তাই এই প্যাকেজ ঘোষণার পনের দিনের মধ্যেই দেখা গেল যারা দিল্লি মুম্বাই লুরু বা কোলকাতায় সরকারি, আধাসরকারি এবং কিছু এনজিও’র প্রচেষ্টায় আয়োজিত লঙ্গরখানায় দু’বেলা দুমুঠো খাওয়ার জন্যে নিরন্ন মানুষের ্লাইন এবং রাস্তায় ট্রাকে বাসে সাইকেলে বা পায়ে হেঁটে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল।
    কিসান সম্মান নিধির পয়সা এবং মনরেগায় দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির বরাদ্দ গত বাজেটেই ধরা হয়েছে। করোনা না হলেও নিয়মমাফিক এপ্রিলে দিতে হত ।
    ৭ এবং ৮ নম্বরে সরকারের বিশেষ খরচা নেই; কারণ সরকারকে মাত্র তিনমাসের প্রিমিয়াম দিতে হবে। ৮ নম্বরে কোন ব্যাংক এই সময় সেলফ হেল্প গ্রুপকে ২০ লাখ লোন দেবে না ।
    কিন্তু সীতারমন এটা বললেন না যে অদক্ষ মজুরের দৈনিক মজুরি তখন ৩০০ থেকে ৩৩৩ টাকা; অথচ এই প্যাকেজে মনরেগায় বর্ধিত মজুরি হয়য়ে গেল ২০২ টাকা। অর্থাৎ ন্যূনতম মজুরি থেকেও কম।
    দ্বিতীয় প্যাকেজঃ আত্মনির্ভর ভারত যোজনাঃ ২০ ট্রিলিয়ন বা ২০ লক্ষকোটি টাকা

    আত্মনির্ভর ভারত যোজনা
    ভাগ (কোটি টাকায়)
    প্রথম ৫,৯৪,৫৫০
    দ্বিতীয় ৩,১০, ০০০
    তৃতীয় ১.৫০, ০০০
    চতুর্থ এবং পঞ্চম ৪৮, ১০০
    উপ- যোগ ১১.০২.৬৫০
    আগের পিএম গরীব কল্যাণ যোজনা ১,৯২,৮০০
    রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকার যোগান ৮,০১,৬০৩
    উপ-যোগ ৯,৯৪,৪০৩
    মোট যোগ ২০,৯৭,০৫৩

    বিশ্লেষণঃ এই প্যাকেজে সরকারের কোষ থেকে কত খরচা হবে? জিডিপি’র ১০%?
    প্রথম ভাগঃ ইকনমিস্টদের মতে এমএসএমই সেক্টরে কে দেওয়া ৬ লক্ষকোটি টাকা আসলে ওদের ব্যাংক লোন দেওয়ার গ্যারান্টি। ওই লোন পুরোপুরি এনপিএ বা অনাদায়ী হলে ব্যাংক সরকারের কাছে টাকা চাইবে। স্বভাবতঃই এ’বছর এই বাবদ সরকারের কোন চাপ নেই। ভবিষ্যতে ২০ থেকে ৫০ হাজারের বেশি কোষাগারে চাপ পড়বে না।
    দ্বিতীয় ভাগঃ এই ভাগে পরিযায়ী শ্রমিক, কৃষক,ছোট ব্যাপারী এবং ফেরিওয়ালাদের জন্যে যে ৩.১ লক্ষকোটি বরাদ্দ হয়েছে তাতে সরকারের কোষ থেকে খরচা হবে খুব বেশি করে ১৬,০০০ কোটি যা ওদের তিনাওমাস ধরে যা প্রতি ব্যক্তি বিনামূল্যে ৫ কিলো চাল বা গম এবং এবং পরিবার পিছু ১ কিলো চানা দেওয়ায় ব্যয় হবে।
    তৃতীয় ভাগঃ এতে কিসান ক্রেডিট কার্ডে লোন সাবসিডি এবং কৃষি পরিকাঠামোতে পরিবর্তন বাবদ যে ১.৫ লক্ষকোটি বরাদ্দ হয়েছে তাতে সরকারের বাজেট থেকে ক্যাশ খরচা হবে মাত্র ৬,০০০ কোটি।
    চতুর্থ ভাগঃ এ দিনে বেশির ভাগই গেল কয়লা, লোহা, বক্সাইট ইত্যাদি খনিজ উৎখনন এবং বিমান পরিষেবা ও প্রতিরক্ষায় প্রাইভেটাইজেশনের এবং বিদেশি প্রাইভেট বিনিয়োগের (এফ ডি আই) জন্যে দরজা খুলে দেওয়ার নীতি ঘোষণা করতে । এতে সরকারের বাজেট থেকে খরচা হবে খুব বেশি হলে ৮.১০০ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য ইস্যু হল প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের অংশীদারী ৪৯% থেকে বাড়িয়ে ৭৪% করা।
    পঞ্চম ভাগে নির্মলা যে মনরেগা যোজনায় ৬৫% বরাদ্দ বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৪০,০০০ কোটি টাকা ঘরে ফেরা প্রবাসী মজদুরের ১০০ দিন কাজ দেবার জন্যে ঘোষণা করলেন তা অবশ্যই বাজেট থেকে সোজা ক্যাশ খরচা হবে।
    আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
    অডিট এবং কন্সাল্টিং জায়ান্ট ইওয়াই ইন্ডিয়ার মতে এই ২০ ট্রিলিয়ন প্যাকেজের মাত্র ২ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ জিডিপি’র ১% খালি সরকারের বাজেট থেকে খরচা হবে। বার্ক্লের মতে এটা ১.৫ ট্রলিয়ন বা জিডিপির ০.৭৫%, এডেলওয়াইস সিকিউরিটিজ এর মতে ০.৮%, স্টেট ব্যাংকের মুখ্য ইকনমিস্ট সৌম্যকান্তি ঘোষের মতে এই প্যাকেজে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ জিডিপি’র ১%এরবেশি নয়। সবার মতে গোটা প্যাকেজে মনরেগার ০.৪ ট্রিলিয়ন এবং গরীব মানুষদের তিন মাস চাল/গম/চানা বাবদ বিনামূল্যে দেওয়া বাবদ ১৬০০০ কোটি ব্যয় সত্যিই বাজারে চাহিদা সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ সাহায্য করবে।
    দেখাই যাচ্ছে সরকারের থিংক ট্যাংক অভিজিত-রাজন- কৌশিক- অমর্ত্য সেনদের চিন্তার উলটো দিকে হেঁটেছেন। এ নিয়ে ১৭ই মে প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী বলেছেন –অনেক পরামর্শই তো আসে। আমরা যেটা কাজে দেবে মনে হয়েছে তাই করেছি।
    আর এই রিলিফ প্যাকেজের অতিরিক্ত ব্যয়ের টাকা কোত্থেকে আসবে জানতে চাওয়ায় উনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন এখন টাকা কোত্থেকে আসবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কোথায় যাচ্ছে সেটা দেখুন।
    তাহলে রিজার্ভ ব্যাংক যে ৮ কোটি টাকা আর্থিক সিস্টেমে ‘ইনফিউজ’ করল বা স্যালাইন চড়ালো তার কী হল? সেটাকা কোথায় গেল?
    [ আগামী সংখ্যায় আমরা কথা বলব এগুলো নিয়ে আর খুঁটিয়ে দেখব সরকারের নোট ছাপানো মানে কি শুধুই ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?]
  • বিভাগ : অন্যান্য | ১২ জুলাই ২০২০ | ২৫৪ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন
    Share
আরও পড়ুন
- - স। র। খান
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Rahat | 43.246.202.154 | ১৬ জুলাই ২০২০ ০৩:২৫732406
  • I'm feeling lucky to say that, Today, I found something special for me. Many thanks for this.

  • রঞ্জন | 122.162.196.19 | ১৭ জুলাই ২০২০ ১৯:০৯732411
  • থ্যাংকস, বাট ডোন্ট হেজিটেট টু পয়েন্ট আউট মিস্টেকস।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত